একযোগে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থানে পাল্টা হামলা ইরানের

একযোগে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার রাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ঘটনা ঘটে।

জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। এতে কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত এবং কারিগরি অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে যায় বলেও দাবি করা হয়।

তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান। এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’-এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করেছিল আইআরজিসি। সংস্থাটির দাবি, ওই হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ক্যাম্পটির কয়েকটি স্থাপনা ও শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস হয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাবেই এসব পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথে ধ্বংস করা হয়।

জর্ডানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক মুখপাত্র বলেন, বাকি তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতি থেকে দূরে প্রত্যন্ত এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একটি মার্কিন সূত্রও জানিয়েছে, ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন সেনাদের ব্যারাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। মার্কিন বাহিনী হামলাটি প্রতিহত করেছে বলেও দাবি করেছে সূত্রটি।

এদিকে, উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, হামলায় একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম রাখার গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে।

এ ছাড়া ঘাঁটির একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।

অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ হামলা প্রতিহত করেছে। ঘটনাটিকে ইরানের আগ্রাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানায়, বিভিন্ন স্থানে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত করার কারণে হয়েছে।

এছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন ছোড়ার কথা জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, হামলাটি তাদের ‘অপারেশন থান্ডার’-এর ২৯তম ধাপের অংশ। তাদের দাবি, শেখ ইসা বিমানঘাঁটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোনের যন্ত্রপাতি এবং নজরদারি উড়োজাহাজ পরিচালনায় ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত জুলাইয়ের পর রোববার রাতে প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবার ইরানে নতুন করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

ফার্সের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এসব হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানলে দেশটির ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।




পুতিনের সাথে পেজেশকিয়ানের সাক্ষাৎ

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজকের নির্ধারিত একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের অংশ হিসেবে দুই নেতার মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে পুতিন এসসিও সম্মেলনের বিভিন্ন মূল কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি ওভারচুক, প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের উপ-প্রধান মাকসিম ওরেকশিন, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এবং প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ।

এছাড়া পরিবহন মন্ত্রী আন্দ্রে নিকিতিন, অর্থনীতি বিষয়কমন্ত্রী মাকসিম রেশেতনিকভ, জ্বালানিমন্ত্রী সের্গেই সিভিলেভ, সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সংক্রান্ত ফেডারেল সার্ভিসের পরিচালক দিমিত্রি শুগায়েভ, রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি ও আরডিআইএফ প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ এবং রসাটমের প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ বৈঠকে অংশ নেন।

সূত্র: তাস




সিলেট-মাস্কট ফ্লাইটের উদ্বোধন

প্রায় আট বছর পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডানা মেলল বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ। মঙ্গলবার থেকে সিলেট-মাস্কট রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে ওমানভিত্তিক এয়ারলাইন্স ‘সালামএয়ার’। সপ্তাহে তিন দিন এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইন্সটি।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্রথম বিদেশি বিমান সংস্থা হিসেবে রেকর্ড গড়ল ‘সালামএয়ার’।

‘সালামএয়ার’-এর সিলেট এরিয়া ইনচার্জ সেলিম আল রাজি জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে মাস্কট থেকে সালামএয়ারের একটি উড়োজাহাজ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করে। ওই ফ্লাইটে ১৩৩ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু ছিলেন। ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজটিকে ‘ওয়াটার ক্যানন স্যালুট’ দিয়ে স্বাগত জানায় সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে ওসমানী বিমানবন্দরে অভিষেক হলো বিদেশি এয়ারলাইন্সটির।

সেলিম আল রাজি আরও জানান, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে পূর্ণ আসনের যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি মাস্কটের উদ্দেশে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। ওই ফ্লাইটে ২৩৩ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু ছিলেন।

উদ্বোধনী ফ্লাইট উপলক্ষে ‘সালামএয়ার’-এর উদ্যোগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিলেটের এরিয়া ইনচার্জ সেলিম আল রাজির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘সালামএয়ার’-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্টিভ অ্যালেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওমান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ফাতিহা আহমেদ আল বালুশি।




লোহাগড়ায় বিদ্যুতের ‘লুকোচুরি’, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক; সাব-স্টেশনে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি: বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই, কখন বিদ্যুৎ যাবে কিংবা কখন ফিরবে—তারও নেই স্পষ্ট তথ্য। ফলে নড়াইলের লোহাগড়ায় অনিয়মিত লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি বিভ্রাটের কারণ ও সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে সঠিক তথ্য না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, লোহাগড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে অনেক সময় আগাম কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবীরাও সমস্যায় পড়ছেন।

দায়িত্বে থাকা কর্মী ঘুমিয়ে ছিলেন—এমন অভিযোগ

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই পরিস্থিতির মধ্যেই লোহাগড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাব-স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারী ইমন নামে এক কর্মীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন গ্রাহক।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার সময় সমস্যার বিষয়ে জানতে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, দায়িত্বে থাকা ওই কর্মী ঘুমিয়ে ছিলেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিভ্রাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর পক্ষ থেকে ‘ঘুমিয়ে গেলে কিছু করার নেই’—এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে ওই কর্মী সত্যিই দায়িত্ব পালনের সময় ঘুমিয়ে ছিলেন কি না এবং তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট কী ছিল—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন উঠছে জবাবদিহি নিয়ে

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাজই হলো নির্ধারিত দায়িত্ব পালন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা। সেখানে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একজন কর্মীর আচরণের প্রশ্ন নয়; বরং পুরো সেবা ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

গ্রাহকদের প্রশ্ন—কোন এলাকায় কখন লোডশেডিং হবে, এর কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা আছে কি না এবং হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্রাহকদের তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব কার?

একই সঙ্গে আরও প্রশ্ন উঠেছে, দায়িত্ব পালনরত কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠলে সেটি যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কোনো তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে কি না।

গ্রাহকদের ভোগান্তির শেষ কোথায়?

স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু সমস্যা হলে তার সঠিক কারণ, সম্ভাব্য স্থায়িত্ব এবং সমাধানের উদ্যোগ সম্পর্কে গ্রাহকদের জানানো জরুরি।

তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় কোথায় যোগাযোগ করতে হবে কিংবা কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে সাধারণ মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ী, অনলাইনভিত্তিক কাজ করা ব্যক্তি এবং বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের জন্য দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর্থিক ও দৈনন্দিন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

গ্রাহকদের দাবি, লোহাগড়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি কার্যকর পর্যালোচনা করা দরকার। লোডশেডিংয়ের বাস্তব চিত্র, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের উপস্থিতি এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

একই সঙ্গে সাব-স্টেশনে দায়িত্বে থাকা কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাঁদের।

বিদ্যুৎ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে এর পেছনে ব্যবস্থাপনাগত কোনো দুর্বলতা আছে কি না—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

এখন দেখার বিষয়, লোহাগড়ার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।




নড়াইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে নড়াইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল শহরের চৌরাস্তা থেকে জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালিতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, নড়াইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান অলেকসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে নড়াইল পৌরসভার পুকুরপাড়ে বৃক্ষরোপণ এবং পৌর পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার ইজাজুল হাসান বাবু, অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ জাপল, নগর বিএনপির সভাপতি মো. তেলায়েত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফসিয়ার রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি মো. মশিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক সায়াদত কবির রুবেল, গোবরা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সুলতান মোল্যা, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খন্দকার মাহমুদুল হাসান সনি, সদস্যসচিব মামুন গাজীসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেত্রকোনায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোনায় বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার নেত্রকোনা জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও নেত্রকোনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালির নেতৃত্বে দুপুরে শহরের ছোটবাজারে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আনন্দ র‍্যালিটি বের হয়। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বিভিন্ন ইউনিটের শত শত নেতাকর্মী র‍্যালিতে অংশ নেন।

এর আগে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে এবং ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে ছোটবাজারের দলীয় কার্যালয়ে এসে জড়ো হন। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়।

পরে আনন্দ র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মোক্তারপাড়া পাবলিক হল মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিএনপির আন্দোলন, সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও সাফল্যের ৪৮ বছর উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।




বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

আন্দা ফিলিপ আরো বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি। সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর। ১৯৭৮ সালের এই দিনে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

তিনি বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তারেক রহমান।

একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপি-কে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, তিনি সকল পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

বাণীতে তিনি বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।

দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপি-কে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।

এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। গত বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘গণতন্ত্রের মা’ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ এতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পোস্টার প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

অনুরূপভাবে সারাদেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

দেশের স্বাধীনতার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে তিনি প্রেরণা জুগিয়েছিলেন।

দেশের এক ভয়াবহ ক্রান্তিকালে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে দেশে যে অনাচার, অবিচার, গণতন্ত্র হরণ, হত্যা এবং মানুষের কথা বলা ও চলাচলের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তিনি সেগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও গণতন্ত্র এই তিনটি প্রত্যয় সামনে রেখে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ চেতনাকে ধারণ করে তিনি দেশকে উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।




বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ নিতে সকাল থেকে জিয়া উদ্যান এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। খণ্ড খণ্ড মিছিলের জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।

নেতারা বলেন, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। একইসঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হু্ইপ নুরুল ইসলাম মনি, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ আরো অনেকে।




সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন, তিন ধাপে বাস্তবায়ন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুগোপযোগী করতে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ এবং সংশ্লিষ্ট যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট বেতন কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সচিব কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের আর্থিক সক্ষমতা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কিছুটা কমানো হয়েছে। বর্তমানে এ অনুপাত ১:৯.৯৪ থেকে কমিয়ে ১:৭.৮ করা হয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

তিন ধাপে বাস্তবায়ন

অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বিবেচনায় নিয়ে সরকার একসঙ্গে পুরো বেতনস্কেল বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে কার্যকর হবে। তবে ভাতাসমূহ ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকার বেতনস্কেল বাস্তবায়নে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

নতুন বেতনস্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হবে।

পেনশনেও পরিবর্তন

নতুন বেতনস্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা One Rank One Pension (OROP) ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রে এটি একসঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে বয়স্ক পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার মান ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফলে যারা দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হবে।

সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা

সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদা পূরণে প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য থাকলেও নতুন বেতনস্কেলে সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।

সরকারের হিসাবে, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্যম বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।