প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক চলছে।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়।

এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ।

বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে, সকালে নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে এবং এর ফলে বাজেট ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে এর আগে জানানো হয়েছিল।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হতে পারে। তবে পুরো বেতন কাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।




চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবিকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কাজের প্রশংসা করে বাহিনীকে চোরাচালান, মাদকপাচার, পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সাক্ষাৎকালে বিজিবি মহাপরিচালক দায়িত্বভার গ্রহণ করায় রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

তিনি এ সময় বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বাহিনীতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি সন্নিবেশের উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার বন্ধে অতন্দ্র প্রহরী বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় রাষ্ট্রপতি সীমান্ত রক্ষায় বাহিনীতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনে বিজিবির উদ্যোগের প্রশংসা করেন।  তিনি এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন মিরপুর সেনানিবাসস্থ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) এর আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে অংশগ্রহণকারী ৬২ জন সামরিক কর্মকর্তা।

সোমবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরস্থ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন তারা।

এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হেড অব ডেলিগেশন হিসাবে ব্রি. জে. মোহাম্মদ নাজমুল হক, বিএসপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, ফ্যাকাল্টি মেম্বার ও স্টাফ অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রশ্ন-উত্তর পর্বে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।




বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শুভেচ্ছা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক জোট জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শীর্ষ নেতারা।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) সভাপতি ব্যারিস্টার নাসিম খান, জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাৎ, গণদল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এম এন শাওন সাদেকী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ-আল-হারুন (সোহেল), ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, জাগপা সভাপতি জাকির হোসেন রিয়াজ, এনডিপি মহাসচিব জামিল আহমেদ, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারেক, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব সাইফুল ইসলাম, বিএমএল মহাসচিব রেজওয়ান মর্তুজা, ডিএলের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম ও এনপিপির যুগ্ম-মহাসচিব সোহেল রানা প্রমুখ।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে থেকে আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে বর্তমানে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট পূর্বের মতো বিএনপির পাশে থেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ব্যারিস্টার নাসিম খান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট বিএনপির পাশে থাকবে।




সিএনএন’র বিশ্লেষণ হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব হারাচ্ছে ইরান?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিয়ে ‘ইরান জিতছে’—এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরানের দর-কষাকষির ক্ষমতা ততই কমে আসছে। এমন বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং তেহরানের ওপর নানা ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু ইরান আত্মসমর্পণ করেনি। দেশটির সরকার এখনও ক্ষমতায় রয়েছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও আঞ্চলিকভাবে হুমকি হয়ে আছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে।

তবে সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এখন আগের মতো নেই। যুদ্ধ মূলত দর-কষাকষির ক্ষমতা ও দীর্ঘ সময় চাপ সহ্য করার সক্ষমতার পরীক্ষা। সেই প্রতিযোগিতায় বর্তমানে ইরানের ওপরই চাপ বাড়ছে।

যুদ্ধের চতুর্থ পর্ব

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাসের সংঘাতটি চারটি পর্বে ভাগ করা যায়।

প্রথম পর্ব শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাপক মার্কিন বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এবং প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চলে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার মাধ্যমে। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরিত হয়।

তৃতীয় পর্ব শুরু হয় কয়েক সপ্তাহ পর, যখন ইরান আবার হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি ও হামলা শুরু করে। এর জেরে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যত হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বানও ওঠে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে সরে যায়নি।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে সামরিক অবরোধ এবং দেশটির তেল বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করে। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে নৌপথ পরিষ্কার করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

এর ফলে ইরানের তেল রফতানির ওপর কার্যকর চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। সিএনএনের উদ্ধৃত তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে ফিরে এসেছে।

ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের ওপরই চাপ বেশি বাড়ছে। আর হরমুজ প্রণালীকে জিম্মি করে রাখার সক্ষমতা যদি তেহরান হারায়, তাহলে তার দর-কষাকষির ক্ষমতাও দ্রুত কমে যাবে।

দুর্বল অর্থনীতি আরও চাপে

বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্বল অবস্থায় ইরান এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে ইরানের অর্থনীতি ৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। একই সময়ে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানি মুদ্রার মূল্যও ব্যাপকভাবে কমেছে। বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। ইরানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম তিন মাসেই দেশটিতে ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হয়েছে।

এসব পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর নির্ভর করছে না; এর সঙ্গে অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ নিয়ে ইরানের কৌশল

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের কৌশল ছিল হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন করে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ানো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনকে পিছু হটতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হতে পারে।

ইরান পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালাতে পারে। পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিরাও লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত করার হুমকি দিতে পারে।

তবে এসব পদক্ষেপ ইরানের ওপর আরও সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে তেহরানের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—হরমুজকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যাবে, নাকি আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে সমঝোতার পথে যাবে।

সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব কমে গেলে দেশটির হাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর-কষাকষির কার্যকর হাতিয়ারও খুব বেশি থাকবে না।




আইপিইউ মহাসচিবের সাক্ষাৎ বাংলাদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচার সমর্থন করেনি : স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রকামী এবং তারা গণতন্ত্রের মহান আদর্শ রক্ষায় বারবার জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করতে পিছপা হননি। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে স্পিকার বলেন, বর্তমানে এই সংসদ জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

বৈঠকে আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি শক্তিশালী ও কার্যকারী সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও সাধারণ পরিষদে বাংদেশেলার ইতিবাচক ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধের সফল নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইপিইউ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার: ইসি সচিব

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ভোটার দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। যারা সবাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

সচিব জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর হয়েছে, তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। হালনাগাদে ভোটার বেড়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৩ জন।

১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৬৭ জন।

তিনি আরও জানান, ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফরম-৬ এর মাধ্যমে দাবি, ফরম-৭ এর মাধ্যমে আপত্তি এবং ফরম-৮ এর মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে।

ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করে তা ২৭ আগস্টের মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আবেদনগুলোর ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত ২৮ আগস্টের মধ্যে তালিকায় সংযোজন করে আজ ৩১ আগস্ট হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণার নিয়ম অনুযায়ী, নভেম্বরে ভোট হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও আয়োজন করা হতে পারে।

এরপর উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।




তরুণ ক্রিয়েটর, ট্রেন্ডসেটার ও চেঞ্জমেকারদের ক্ষমতারয়নের লক্ষ্যে ১৫ জন ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর অনবোর্ড করেছে অপো

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে ১৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে। তরুণদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, মেধা ও সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের নতুন কিছু শেখা, তৈরি করা, সংযোগ স্থাপন ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতেই ব্র্যান্ডটি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামকে মূলত এমন এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সাজানো হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, কমিউনিকেশন, লিডারশিপ ও কমিউনিটি-বিল্ডিং দক্ষতার বিকাশ ঘটবে। অপোর প্রতিনিধি হিসেবে এই অ্যাম্বাসেডররা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে সহপাঠী ও তরুণদের সাথে যুক্ত হবেন, আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করবেন ও অপো লাইফস্টাইল অভিজ্ঞতায় অন্যদের উদ্বুদ্ধ করবেন।
এই উদ্যোগটি গতানুগতিক ব্র্যান্ড প্রচারণার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডররা উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি ক্রমবর্ধমান কমিউনিটির অংশ হয়ে উঠবেন, যেখানে নিজ নিজ চিন্তা, কার্যক্রম ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারা অপো ও নতুন প্রজন্মের তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অর্থবহ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি, এই প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন যাত্রার সূচনা করবে; যেখানে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি তারা ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শেখা, সমমনা তরুণদের সাথে নেটওয়ার্কিং, নিজস্ব সৃজনশীলতা চর্চা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশের অথরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড্যামন ইয়াং বলেন, “অপো বিশ্বাস করে, তরুণদের মাঝে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও সুপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করার একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম। আমরা চাই, আমাদের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডররা কেবল ব্র্যান্ড প্রতিনিধি হিসেবে নয়; বরং ক্রিয়েটর, চেঞ্জমেকার ও ইউথ লিডার হিসেবে নিজেদের মেধা, প্রযুক্তি ও স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাজকে অনুপ্রাণিত করুক।”
উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া বৈশ্বিক স্মার্ট ডিভাইস ব্র্যান্ড অপো বিশ্বাস করে, তাদের দায়িত্ব শুধু স্মার্টফোন বা স্মার্ট গ্যাজেট তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তরুণ সমাজ যেন প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করে নিজেদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি, স্মরণীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যে ব্র্যান্ডটি নিয়মিত নানা সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শেখা, যৌথ উদ্যোগ ও নিজস্ব দক্ষতার বিকাশে উপযোগী পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে ‘ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম’ অপোর সেই বৃহত্তর লক্ষ্যকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
নতুন নির্বাচিত হওয়া এই অ্যাম্বাসেডররা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা হলেন – আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) মো. রফিজুরজ্জামান রফি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসের (বিইউপি) মো. মারুফ আহমেদ সিনহা, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির (ইডব্লিউইউ) আবদুল্লাহ শরীফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মহিমা আমিন মৌ ও মো. আশরাফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামিয়া জান্নাত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা রানী দাস, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) নুঝাত নাওয়ার ও চৌধুরী আসিফ আবদুল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুবাসশির তাহমিদ ভূঁইয়া, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হামিম আহমেদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. ইউসুফ আলী, ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) উম্মায়া হাবিবা সুজানা, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাব্বির আহমেদ কাব্য এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আবু সাঈদ।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে অ্যাম্বাসেডরদের অপোর ব্র্যান্ড ফিলোসফি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল অপো ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি মোবাইল ফটোগ্রাফি সেশন, যা পরিচালনা করেন পাঠশালার ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রধান খন্দকার তানভীর মুরাদ। অনুষ্ঠানে অপো বাংলাদেশের অথরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের হেড অব মার্কেটিং মো. নাজিমুদ্দৌলা নিলয় উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামের মাধ্যমে অপো বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটির সাথে আরও শক্তিশালী ও সুনিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। অ্যাম্বাসেডররা নিজেদের সৃজনশীলতা, চিন্তা ও স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এই প্রোগ্রামে অবদান রাখার পাশাপাশি সহপাঠীদের নতুন কিছু আবিষ্কার ও তৈরি করতে এবং নিজেদের বিকশিত করতে উৎসাহিত করবেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে অপো এমন একটি কমিউনিটি গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তরুণরা কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে নতুন কিছু তৈরির সক্রিয় অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে—যা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উভয় ক্ষেত্রে বিকশিত হতে সাহায্য করবে। ‘অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম’ মূলত এ প্রজন্মের তরুণদের নতুন নতুন বিষয় জানা, তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি, প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং ও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতি অপোর অব্যাহত প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।



জিসান হত্যা মামলা: হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় আব্দুর রহমান জিসানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মশিউর রহমান সজল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান।

আজ রবিবার যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউছার হুসাইন গত ৮ জুলাই আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ৬ অক্টোবর মামলার চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইলে আন্দোলনে অংশ নেন জিসান। তিনি আন্দোলনকারীদের পানি পান করাচ্ছিলেন। এ সময় আসামিদের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় জিসানের বাবা বাবুল মিয়া ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।




এনবিআরে বড় রদবদল, ৩৬ অতিরিক্ত কর কমিশনারকে বদলি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিসিএস (কর) ক্যাডারের ৩৬ জন অতিরিক্ত কর কমিশনার পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। বদলি করা এসব কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।

রবিবার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের কর প্রশাসন-১ শাখা থেকে প্রথম সচিব ওয়াকিল আহমদ স্বাক্ষরিত ও জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া ৩৬ জন কর্মকর্তা ও তাদের নতুন কর্মস্থল হলো- দীপক কুমার চক্রবর্তীকে কর আপিল অঞ্চল-চট্টগ্রামের আপিলাত রেঞ্জ-১ থেকে চট্টগ্রাম কর আপিল অঞ্চল-০২-এর আপিলাত রেঞ্জ-১ এ বদলি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-১১-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ বদলি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে ঢাকা কর অঞ্চল-২২ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-০৪-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ, মোহাম্মদ মঈনুল হাসানকে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-০১-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ; ইভানা আফরোজ সাঈদকে উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট থেকে কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে; মুরাদ আহমেদকে যশোর কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-০৩-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ; মো. শহিদুল ইসলামকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-০৩ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ থেকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-০১-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ, মাসুদুল করিম ভূঁইয়াকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৮ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-০২-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া হাছিনা আক্তারকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৬ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ থেকে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে, রিগ্যান চন্দ্র দে-কে ঢাকা কর অঞ্চল-০৬ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৩-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ, ফারজানা নাজনীনকে ঢাকা কর অঞ্চল-০১ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-০১-এর আপিলাত রেঞ্জ-২ এ বদলি করা হয়েছে।

ঢাকা কর অঞ্চল-২২ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে সুলতানা হাবীবকে একই অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ বদলি করা হয়েছে।

কামরুল হাসানকে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৮-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ, শেখ মো. কামরুজ্জামানকে কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৬-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ, আরিফুল হককে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-০১ এর আপিলাত রেঞ্জ-২ থেকে এনবিআরের প্রথম সচিব (কর) পদে, তানিয়া সুলতানাকে (চলতি দায়িত্ব) ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-০৩ এর আপিলাত রেঞ্জ-২ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-২২ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ এ, মো. মারুফ উল আবেদীনকে (চলতি দায়িত্ব) ফরিদপুর কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ থেকে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-০৩ এর আপিলাত রেঞ্জ-২ এ, মো. তানভীর মোর্শেদকে (চলতি দায়িত্ব) চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-০২ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ থেকে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে, তাছলিমা ইসলামকে (চলতি দায়িত্ব) চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-০২ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে একই অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ বদলি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-০২ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে মুহা. রাশেদুল হাসানকে (চলতি দায়িত্ব) একই অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ, মো. সাইফুর রহমান রাসেল (সদ্য চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত) ঢাকা কর অঞ্চল-০১ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-০৪ থেকে এনবিআরের আন্তর্জাতিক কর ইউনিটে, মুসতবা ইশতিয়াক আহমদকে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের যুগ্ম কর কমিশনার থেকে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-০২ এর আপিলাত রেঞ্জ-১ এ, দীপক কুমার পালকে কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিচালক থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-০৬ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ এ, তরঙ্গ কুমার মন্ডলকে ঢাকা কর অঞ্চল-০৫ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-০৩ থেকে নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ, ফারহানা শেখ কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিচালক থেকে উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার হিসেবে, অমিত কুমার দাসকে উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট থেকে এনবিআরের প্রথম সচিব (কর) পদে, মো. ফারজানুল ইসলামকে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের যুগ্ম পরিচালক থেকে কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে, সোনালী বিশ্বাস (সদ্য চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত) ঢাকা কর অঞ্চল-২৪ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-৩ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-০৯ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ এ, প্রণব সরকারকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৭ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-৩ থেকে রংপুর কর আপিল অঞ্চলের আপিলাত রেঞ্জ-১। আর মো. আবুল কালাম আজাদ ঢাকা কর অঞ্চল-১৫ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-৩ থেকে যশোর কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ বদলি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ দাউদ হোসেনকে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট থেকে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-০৬ এর আপিলাত রেঞ্জ-১ এ, মো. এনামুল কবির কুমিল্লা কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-৩ থেকে ঢাকা বিসিএস (কর) একাডেমির পরিচালক হিসেবে, বাপন চন্দ্র দাসকে নোয়াখালী কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-০৩ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ, মহিদুল ইসলামকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-০২ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-০৪ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ, মো. শফিউল ইসলামকে ঢাকা কর অঞ্চল-০২ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-৩ থেকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-০৬ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ এ এবং এস এম গালিব ফারুক (সদ্য চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত) ময়মনসিংহ কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-৪ থেকে পাবনা কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এ।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব কর্মস্থলে কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে, সেখানে আগে থেকে কেউ অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। বদলি করা কর্মকর্তারা তাদের আগের দায়িত্বভার হস্তান্তর করে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।