জাপানি ঘাঁটি থেকে ইরানে মার্কিন হামলা: টোকিওকে জবাবদিহির আহ্বান তেহরানের

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ব্যবহৃত হলে এর দায় জাপান সরকারকেও নিতে হবে। এ বিষয়ে জাপানের জনগণকে তাদের সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

আরাগচি বিশেষ করে জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনা কীভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সম্প্রতি জাপানের মিসাওয়া বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো ইরানে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে—এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় আরাগচি এসব মন্তব্য করেন।

ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আরাগচির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, “জাপানে অবস্থিত স্থাপনাগুলোর ব্যবহারের জন্য টোকিও দায়ী।”

জাপানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপানের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা অন্য দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হলে টোকিওর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জাপান সরাসরি জড়িত না থাকলেও তার ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

আরাগচি জাপানের জনগণের উদ্দেশে বলেন, তাদের সরকারের ‘মার্কিন অপরাধে অংশগ্রহণের’ বিষয়টি নিয়ে জবাবদিহি দাবি করা উচিত।

তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মিত্রদেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনতে চাইছে। বিশেষ করে জাপানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা পরিচালিত হলে তার রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক দায় কার—সেই প্রশ্নই তুলেছেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক।

মিসাওয়া ঘাঁটি ঘিরে বিতর্ক
জাপানের উত্তরাঞ্চলের আওমোরি প্রিফেকচারে অবস্থিত মিসাওয়া বিমানঘাঁটি মার্কিন ও জাপানি সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ স্থাপনা। এখান থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান পরিচালিত হয়ে থাকে।

ইরানে হামলার জন্য এই ঘাঁটি থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর খবর সামনে আসার পর জাপানের ভূখণ্ড কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে। বিশেষ করে জাপানের সংবিধানের শান্তিবাদী অবস্থান এবং দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ।

এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা জোট বিদ্যমান। জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা, বিমান ও সামরিক স্থাপনা রয়েছে। পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই এসব ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তবে এসব স্থাপনা জাপানের ভূখণ্ডে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনও সামরিক অভিযানে সেগুলো ব্যবহৃত হলে জাপানের ভূমিকা ও দায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে আরাগচির মন্তব্য সেই পুরোনো প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে—মিত্রদেশের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশটি কতটা দায় বহন করবে।

ইরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের মিত্রদের ভূমিকারও সমালোচনা করে আসছে। আরাগচির সর্বশেষ বক্তব্যে জাপানকে সরাসরি লক্ষ্য করা সেই কূটনৈতিক চাপেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা




জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমানকে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের উপদেষ্টা মনোনীত করে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমানকে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্ট কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের উন্নয়ন, সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণে তার দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

এ উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের লোগো উন্মোচন ও অভিষেক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে খান সেলিম রহমানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খান সেলিম রহমান দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও গণমাধ্যমের প্রতি দায়বদ্ধতা সাংবাদিক সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন। খান সেলিম রহমানের মতো অভিজ্ঞ ও সংগঠক নেতৃত্ব ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্মাননা স্মারক গ্রহণের পর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে খান সেলিম রহমান বলেন,
“আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্ট আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করায় আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। এই সম্মান আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। একই সঙ্গে এটি আমার দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা, অধিকার ও কল্যাণে আমি সবসময় কাজ করে যেতে চাই। সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকাশে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের সঙ্গে থেকে গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজের কল্যাণে আমার অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”

খান সেলিম রহমান আরও বলেন, “সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একজন সাংবাদিককে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়। মানুষের অধিকার, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সমাজের অসংগতিগুলো তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজই গণমাধ্যমের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকদের কল্যাণে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্ট যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসনীয়।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ খান সেলিম রহমানকে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের উপদেষ্টা মনোনীত করায় অভিনন্দন জানান। তারা বলেন, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী, স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্ট ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের চেয়ারম্যানসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ খান সেলিম রহমানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা খান সেলিম রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাংবাদিকতা জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রমের সফলতা কামনা করা হয়।




শপথ নিলেন আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি হাবিবুল গনি

আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি শপথ নিয়েছেন। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আরশাদুর রউফ এবং সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেট প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




নড়াইলে দুই দিনব্যাপী সুলতান উৎসব

নড়াইলে দুই দিনব্যাপী ‘সুলতান উৎসব’ সমাপ্ত হয়েছে। এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শনিবার রাতে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চ চত্ত্বরে সুলতান উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হায়দার আলী দেওয়ান, এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব সসীম সরকার প্রমুখ।

সমাপনী দিনে ‘আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে’ অংশ নেয়া গণমাধ্যমকর্মী ফরহাদ খানসহ শ্রেষ্ঠ ৫ জনকে পুরষ্কৃত করা হয়। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে মোট ৫৫ জনের আঁকা ছবি স্থান পায়। এছাড়া রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চ চত্ত্বরে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।




“গণপূর্তের পাঁচ প্রকৌশলীকে ঘিরে আবাসন ব্যবসার অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি”

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাঁচ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আবাসন ও ডেভেলপার ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার বিষয়টি নথিপত্র ও আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এর আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মিজান, উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনু, সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) আবুল বাসার, উপসহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) আব্দুর রউফ এবং সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) গুলনাহারের বিরুদ্ধে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে। তাঁদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মিজানুর রহমান মিজান। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর পরিবারের সদস্যরা ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিষ্ঠানটির প্রচারসামগ্রী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, মিজানুর রহমানের দুই ভাই প্রতিষ্ঠানটির বিপণন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়ে পরবর্তীতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। মোহাম্মদপুরের বসিলা-ওয়াশপুর, মিরপুর-১-এর গৈলারটেক, উত্তরা দিয়াবাড়ি এবং সাভার ডিওএইচএস-নবীনগরসহ বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে কোম্পানির মালিকানা, পরিচালনা, আর্থিক লেনদেন এবং প্রকৃত ব্যবসায়িক ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন।

আবুল বাসার ও গুলনাহারকে ঘিরেও অভিযোগ

গণপূর্তের সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) আবুল বাসারের বিরুদ্ধে ডালাস ডেভেলপারস অ্যান্ড প্রপার্টিজ লিমিটেড-এর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর ভাই ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ-উল আলমের মাধ্যমে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, আবুল বাসারের স্ত্রী সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) গুলনাহারের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নথি, মালিকানা কাঠামো এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।

আব্দুর রউফের বিরুদ্ধেও আবাসন ব্যবসার অভিযোগ

উপসহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) আব্দুর রউফের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ভবনের ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির বিষয়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আবাসন ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় কোনো কর্মকর্তা যদি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যবসায় প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখেন, তাহলে সেখানে সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

আনোয়ার খান আনুকে ঘিরে ভিন্ন অভিযোগ

উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার খান আনুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন সাভার গণপূর্ত ডিভিশনে কর্মরত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মূল্যায়ন ও জমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

এ ছাড়া সাভার এলাকার সরকারি জমিতে দোকানপাট ভাড়া বা পজিশন দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর বিরুদ্ধে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়নি।

মূল প্রশ্ন আচরণবিধি ও স্বার্থের সংঘাত

সরকারি কর্মচারীর ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে প্রচলিত আচরণবিধিতে বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট পাঁচ প্রকৌশলী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সত্য হলে তাঁরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েছিলেন কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষ করে কোনো সরকারি কর্মকর্তা তাঁর দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত খাতের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকলে স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। তাই শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোম্পানির মালিকানা, পরিচালক বা অংশীদারিত্ব, ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তি, ব্যবসায়িক চুক্তি এবং ফ্ল্যাট বিক্রির নথি পর্যালোচনা করা জরুরি।

অভিযোগের নিষ্পত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

অভিযোগকারীরা বলছেন, গণপূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কি না—এ বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী, কোম্পানির মালিকানা ও পরিচালক তালিকা, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রকল্পের নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি দীর্ঘদিন অভিযোগের পর্যায়ে ঝুলিয়ে না রেখে প্রমাণভিত্তিক তদন্ত করা উচিত। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অবসান—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তেই

এ পর্যন্ত আলোচিত অভিযোগগুলোর কোনোটি আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখানে নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে সরকারি দায়িত্ব পালনরত কোনো কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বেসরকারি ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন কি না, থাকলে সে বিষয়ে অনুমোদন ছিল কি না এবং সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে ওই ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কোনো স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাই।

ফলোআপ প্রতিবেদনের মূল প্রশ্ন এখন একটাই—অভিযোগ, নাকি প্রমাণ?

আর সেই উত্তর বেরিয়ে আসতে পারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নথি, সরকারি রেকর্ড, সম্পদ বিবরণী ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছ পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে।




আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।’

সরকারের পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সাথে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’

শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাঁদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত তারা কোথায় কি অবস্থায় আছে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্যে দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল-এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। যারা আছে তাদের বলবো, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।’

সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলব-আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’

শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের উৎসাহ দেবেন। যাতে আমরা শহীদসহ সকল আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধা যারা আছেন তাদের যে প্রত্যাশা দেশ ও জাতিকে নিয়ে সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি। আপনার সর্বাত্মক সমর্থন যেনো আমরা পাই।’

অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।




ডিলারদের একাংশ সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও মজুদ রয়েছে। তবে কৃষকের কাছে সঠিকভাবে সার পৌঁছাতে নানা সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ডিলারদের একটি অংশ কৃষকদের মধ্যে যথাযথভাবে সার বিতরণ না করায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রশাসন ও জেলার নিবন্ধিত রাসায়নিক সার ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ সভার আয়োজন করে।

ক্ষুদ্র কৃষকদের দিনের পর দিন, এমনকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার বিতরণ ব্যবস্থার সংকট কাটাতে শূন্য পদে নতুন ডিলার নিয়োগ এবং ইউনিয়নভিত্তিক ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পঞ্চগড়ে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে চা চাষ হয়। ফলে জেলার চা বাগানগুলোতে বাড়তি সারের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে জেলায় আলু চাষও বেশি হওয়ায় এসব ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সার সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সার নিয়ে গুজব কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

তিনি বলেন, সারের সরবরাহ, মজুদ, বিতরণসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতেই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন। এ সময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু এবং সার ডিলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।




পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা স্থগিত রাখার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা বিশ্বাস বিনষ্ট করে তাই বিশ্বের সমস্ত পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে পরীক্ষা স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শনিবার (২৯ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় গুতেরেস জানান, অতীতের পারমাণবিক পরীক্ষার প্রভাব নিয়ে বেঁচে থাকা জনগোষ্ঠীকে পারমাণবিক পরীক্ষাগুলো প্রতারিত করে। তিনি সার্বিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি (সিটিবিটি) অবিলম্বে কার্যকর করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি তাগিদ দেন।

রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করার পর জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে এই আহ্বান এল।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরখাংগেলস্ক অঞ্চলের প্লেসেটস্ক কসমোড্রোম থেকে উৎক্ষিপ্ত কঠিন জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্রটি দূর প্রাচ্যের কামচাতকার কুরা প্রশিক্ষণ এলাকায় তার নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছায়। ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কারিগরি ও উড্ডয়ন সক্ষমতা যাচাই করতে এই পরীক্ষাটি চালানো হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে মস্কো।

পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে গ্রহণ করা হলেও সব দেশের স্বাক্ষরের অভাবে সিটিবিটি চুক্তিটি এখনও পূর্ণ আইনি রূপ পায়নি। চুক্তির ‘অ্যানেক্স ২’ তালিকাভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ নয়টি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইরান, ইসরায়েল, মিসর, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার অনুমোদন না মেলায় এটি ঝুলে রয়েছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৮টি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং ১৭৯টি দেশ তা অনুমোদন করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




গুম-খুন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গুম-খুনের শিকার ও জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে করবী হলে এক অনুষ্ঠানে এই নিয়োগ পত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, আজকে গুম-খুন শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়োগপত্র তুলে দেন।

চাকরির নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন ‘গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা।

জুলাই অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা দৃষ্টিশক্তি হীন আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ  এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলম প্রমূখের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

নিয়োগ পাওয়া জুলাই অভ্যুত্থান ও গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ইশফাক আহমেদ, শাম্মী সুলতানা, আলাল আহমেদ, শহীদ আনভীর বাবা মমতাজ হোসেন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, জুলাই যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এই নিয়োগপত্র প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা গুম-খুনের সাথে জড়িতদের দোষীদের বিচার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রি পরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধান মন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারি প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, বিএনপি আমার পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব আইরিন জুবাইদা খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে আইরিন খান তার পরিচয়পত্র পেশ করেন।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, শরণার্থী সুরক্ষা, আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইরিন খানের কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইরিন খান ২০২০ সাল থেকে মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষা ও প্রসারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথম নারী মহাসচিব।

২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইরিন খান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে (ইউএনএইচসিআর) ২১ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতে চিফ অব মিশন এবং ডিভিশন অব ইন্টারন্যাশনাল প্রটেকশনের উপ-পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আইরিন খান ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ সিডনি পিস প্রাইজে ভূষিত হন। তিনি দ্য আনহার্ড ট্রুথ: পভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস গ্রন্থের লেখক। আইরিন খান ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার ও হার্ভার্ড ল’ স্কুলে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।