প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, বৈঠকে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বৈঠকে সংসদ অধিবেশন পরিচালনা ও দলীয় কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

চলমান বৈঠকে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।




আইআরজিসির নতুন প্রধান কে এই ওয়াহিদি

১৯৭৯ সালের শেষের দিকে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন সূচিত হয়। সেই ঐতিহাসিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই বুঝেছিলেন, নতুন এই মতাদর্শিক ব্যবস্থায় আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও জাতীয় গৌরব অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে রাষ্ট্র গঠনের তাড়না এবং প্রতিষ্ঠার মাত্র দশ মাসের মাথায় সাদ্দাম হোসেনের ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমণের ফলে জাতীয়তাবাদী চেতনার এক প্রবল জোয়ার তৈরি হয়। এই আবহে সিরাজ শহরের শাহ চেরাগ নামে খ্যাত স্থান থেকে উঠে আসা আহমদ শাহচেরাগি নতুন গঠিত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) যোগ দেন।

ইরানের নীতি ও শাসনব্যবস্থা রক্ষায় নিবেদিত এই আদর্শিক বাহিনীতে যুক্ত হয়ে নিজের নাম পরিবর্তন করে তিনি রাখেন ওয়াহিদি, যার অর্থ এক বা প্রথম। সম্প্রতি তিনি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই নিয়োগ এমন এক প্রেক্ষাপটে হলো, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং ৪৭ বছর আগের ইরাক যুদ্ধের সেই জাতীয়তাবাদী উদ্দীপনা পুনরায় স্মরণে আনছে। মার্চ মাস থেকে আইআরজিসির কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওয়াহিদি নতুন সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতারোহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ক্যারিয়ারে ওয়াহিদি বহু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অংশ ছিলেন। সামরিক নেতৃত্বের পদে নানা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গিয়ে মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৯৮১ সালে তিনি আইআরজিসির গোয়েন্দা ডেপুটি নিযুক্ত হন। ১৯৮৮ সালের মধ্যে তিনি আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। জেরুজালেমকে মুক্ত করার লক্ষ্যে গঠিত এই বহিরাগত অভিযানিক বাহিনীটি বিদেশের মাটিতে সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন, সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে। যদিও পরবর্তীতে কাসেম সোলাইমানির (১৯৯৮-২০২০) আমলে বাহিনীটি খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছায়, ওয়াহিদিই এর প্রাথমিক কর্মকাণ্ড ও ভাবনার ভিত গড়ে দিয়েছিলেন, বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহর গঠনমূলক দিনগুলোতে।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তাকে প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলে তিনি হন ইন্টারপোল রেড নোটিশ থাকা অবস্থায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়া প্রথম ব্যক্তিত্ব। কনজারভেটিভ সরকারের সঙ্গেই তিনি বেশি কাজ করেছেন, আহমাদিনেজাদের প্রথম মেয়াদে প্রধান উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং ২০২১ সালে ইব্রাহিম রাইসির অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা এবং ২০১০ সাল থেকে অস্ত্র প্রসারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।

আহমদ ওয়াহিদির ক্যারিয়ার শুধু সাফল্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, নানামুখী জটিলতাও পার করেছেন তিনি। তিনি যেমন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের কেন্দ্রে ছিলেন, তেমনি বিভিন্ন বিতর্ক থেকে পুনরুত্থানের ঝুঁকি নেওয়া জেনারেল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইরাক যুদ্ধের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সময়েই ওয়াহিদি যুদ্ধকালীন তৈরি হওয়া বহির্মুখী উদ্যমকে কাজে লাগাতে কুদস ফোর্সকে প্রথম বড় অভিযানে পাঠান; বসনিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজেতবেগোভিচের পক্ষে। তবে বোসনিয়ায় আল কায়েদার মতো দলগুলোর আধিপত্য এবং শিয়াদের প্রতি তাদের বিদ্বেষের কারণে হিজবুল্লাহর মতো সাফল্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সোলাইমানির অধীনে আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযানে ইরানের কৌশলগত সাফল্য অর্জিত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমিত গোয়েন্দা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছিল।

বসনিয়া অভিযানে আশানুরূপ ফল না পেলেও ওয়াহিদি লেবানন ফ্রন্টে সক্রিয় থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেন। ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ  ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে হিজবুল্লাহর হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনা ওয়াহিদিকে অভিযুক্ত করে। এ ঘটনা ইরান ও আর্জেন্টিনার সম্পর্কের মধ্যে স্থায়ী সংঘাত তৈরি করলেও ওয়াহিদির অবস্থানকে আইআরজিসির অভ্যন্তরে দুর্বল করেনি বরং আন্তর্জাতিক এই অভিযোগগুলোকে বাহ্যিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে তেহরান তার নেতৃত্বকে আরও সংহত করে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন ওয়াহিদি সবসময়ই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার মনে করতেন। ২০১২ সালে তিনি ফাতাহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারে উন্নীত করার কর্মসূচির তদারকি করেন। ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কার মুখেই তিনি স্পষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের বিকাশকে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন এবং ঘোষণা দেন যে ইরানে আক্রমণ চালানো হবে ইসরায়েলের জন্য আত্মঘাতী। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন বাভার-৩৭৩) গড়ে তোলার কাজেও সক্রিয় ছিলেন। পাশাপাশি, দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতার তদারকি করেন এবং ২০০৭ সালে ইসরায়েলি হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গঠিত ওঘাব-২ সংস্থার দায়িত্ব নেন।

ওয়াহিদির ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈপরীত্য ছিল তার চরম আদর্শিক অবস্থান সত্তেও কৌশলগত নমনীয়তা দেখানো। ১৯৮৫-৮৭ সালের বহুল আলোচিত ‘ইরান-কনট্রা অ্যাফেয়ার’-এ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের গোপন অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ওয়াহিদির হিজবুল্লাহর ওপর প্রভাবই তেহরানকে সাহায্য করেছিল লেবাননে জিম্মি আমেরিকানদের মুক্ত করে ইসরায়েলের মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র সংগ্রহ করতে। তবে ক্ষমতার এই দীর্ঘ যাত্রায় তাকে বিপদেও পড়তে হয়েছিল; ১৯৮৮ সালে কেরমানশাহ প্রদেশে ইরাক সমর্থিত কমিউনিস্টদের (এমইকে) আক্রমণের দায় তার ওপর চাপানো হলে তৎকালীন আইআরজিসি প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। পরে আলি আকবর হাশেমি রফসানজানির মধ্যস্থতায় তিনি বড় শাস্তি থেকে রক্ষা পান এবং পরবর্তীতে কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। অতি সম্প্রতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি ২০২২ সালের মাহসা আমিনী কেন্দ্রিক আন্দোলন শক্ত হাতে দমন করেন এবং আন্তর্জাতিক চাপকে ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন, যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রশমনে নিজের রাজনৈতিক ডেপুটি মোহাম্মদ-রেজা গোলামরেজাকে অপসারণ করার মতো কৌশলগত নমনীয়তাও দেখান।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আহমদ ওয়াহিদি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির অধীনে কাজ করছেন। তার সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই এখন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি। দুজনেরই ইতিহাস দীর্ঘ এবং দুজনেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত হলেও তারা আইআরজিসির শক্তি সংহত করতেই কাজ করে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালে এসে তেহরানের এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তি ওয়াহিদির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাটি একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ইউনিট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের মোকাবিলা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির মুখে ইরানের যুদ্ধকালীন প্রশাসনে রিভোলিউশনারি গার্ডসের প্রভাব চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হোরমুজ প্রণালীতে ভূরাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার এমন এক জটিল ও সংকটাপন্ন সময়ে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে ওয়াহিদির মতো অভিজ্ঞ ভেটেরানের উত্থান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিজস্ব শক্তির চাহিদাকেই প্রতিফলিত করে।

সূত্র: এনডিটিভি




নেপাল বিপর্যয়, কি এই ইনল্যান্ড সুনামি?

প্রকৃতির ভয়াল থাবায় ফের তছনছ হিমালয়ের কোলে গড়ে ওঠা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল। দেশটির রসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় ভোটে কোশি এবং ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ প্লাবনে তৈরি হয়েছে এক মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয়। কেবল আবহাওয়ার কোনো সাময়িক পরিবর্তনের কারণে এই ভয়াবহ বন্যা নয় বরং কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসা ভূ-প্রাকৃতিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের জটিল এক চক্রের বলি হয়েছে দেশটি।

গত বছরের জুলাইয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে ঠিক ১৩ মাসের মাথায় আবারও ভেসে গেছে এই নির্দিষ্ট অঞ্চলটি। আন্তর্জাতিক সীমা পেরিয়ে তিব্বত থেকে নেমে আসা প্লাবনের তোড়ে রসুয়াগাড়িতে চীন-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে গেছে এবং দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চার শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ চরম ব্যাহত হচ্ছে, যা হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত তিব্বত সীমান্তে জমে থাকা ক্ষণস্থায়ী বা অস্থিতিশীল হিমবাহিক হ্রদ ভেঙে গিয়ে বা হিমবাহে ধস নেমে এই বিপর্যয়ের সূচনা হয়েছে। নেপাল সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো শক্তিশালী ভূ-কম্পন বা পাহাড়ি ভূমিধসের কারণে একটি প্রধান নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সাময়িকভাবে রুদ্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ পানি সেই বাঁধ ভেঙে প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে, যাকে বিজ্ঞানীরা অভিহিত করছেন ‘ইনল্যান্ড সুনামি’ হিসেবে।

নদীমাতৃক এই সরু উপত্যকায় পানির উচ্চতা এবং বেগ এতই বেশি ছিল যে তীরবর্তী লোকালয়, শুকনো বন্দর, কাস্টমস অফিস এবং অসংখ্য অবকাঠামো মুহূর্তের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হিমালয় অঞ্চলের বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বরফ গলনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যার কারণে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হাজার হাজার বিপজ্জনক হিমবাহিক হ্রদ তৈরি হয়েছে। অত্যন্ত নাজুক এই হ্রদগুলো যেকোনো ছোটখাটো ভূ-কম্পন বা ভূমিধসে ভেঙে পড়ে তলদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভাসিয়ে নিতে পারে।

এই সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পেছনে পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত গতিশীলতা এবং মানবসৃষ্ট অপরিকল্পিত উন্নয়নকেও সমানভাবে দায়ী করছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। নেপাল একটি অত্যন্ত সক্রিয় টেকটোনিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি বছর ভূ-ভাগ কয়েক মিলিমিটার করে ওপরে উঠছে, যার ফলে এখানকার পাহাড় ও মাটির বাঁধন অত্যন্ত দুর্বল। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য জোরদার করতে নদীর তীরবর্তী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নিচু অঞ্চলে অবাধ নির্মাণকাজ এবং বেশ কয়েকটি হাইড্রোইলেক্ট্রিক বা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন।

নদীর গতিপথ আটকে অবকাঠামো তৈরির ফলে পানির ধাক্কায় ধ্বংসস্তূপের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে গেছে, এমনকি এই একক দুর্ঘটনায় দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিব্বতের হিমবাহ অঞ্চল নিয়ে চীনের সাথে দ্রুত ও সমন্বিত আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের ব্যবস্থা না থাকায় বারবার একই ধরনের ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নেপালের পাহাড়ি উপত্যকা অতিক্রম করে এই জলচ্ছ্বাস এখন ভারতের সমতল ভূমির দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্যই একটি চিরস্থায়ী প্রাকৃতিক সতর্কবার্তা।




শেওড়াপাড়ায় ৫ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে মুকুল আমিনের প্রশাসনের দ্বারস্থ আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ; সরেজমিনে গিয়ে বাধার মুখে সংবাদকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শেওড়াপাড়ার ৫৯৩/এ এলাকায় মেট্রোরেলের ৩২০ নম্বর পিলারের পাশে প্রায় ৫ কাঠা জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আলহাজ্ব মো. মুকুল আমিনের অভিযোগ, তার আপন ছোট ভাই মো. আলমগীর ওরফে অ্যাপোলো প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি দখল করে রেখেছেন।

মুকুল আমিনের দাবি, তাদের পিতা মৃত আলহাজ্ব আব্দুল মালেকের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ হিসেবে তিনি ওই জমির বৈধ মালিক। তার কাছে জমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে তাকে জমি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুকুল আমিন আরও অভিযোগ করেন, অ্যাপোলোর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি—আব্দুস সালাম, আরিফ, রুহুল আমিন, আব্দুল আলিম ও আতিকসহ আরও কয়েকজন—তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। তাদের মাধ্যমে জমিটি দখলে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।

এদিকে জমিটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন প্রতিবেশীর দাবি, রাতের বেলায় ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। সেখানে মাদক বা ইয়াবাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মুকুল আমিনের আরও অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অ্যাপোলো স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পদে ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করেছেন। এছাড়া ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এবং ৭ আগস্ট তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলেও মুকুল আমিন দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে মুকুল আমিন থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান। তার দাবি, একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জমিতে কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে সেখানে তাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ সময় দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তিকে ফোন করা হলে তিনি সেখানে সংবাদকর্মীদের প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানান এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটির কথোপকথন সংবাদকর্মীরা রেকর্ড করেছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেও জমি দখল ও রাতের বেলায় কথিত কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে।

মুকুল আমিন বলেন, “আমার জমির কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও আমি আইনগত সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমি চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নির্ধারণ করুক।”

অভিযোগের বিষয়ে মো. আলমগীর ওরফে অ্যাপোলোর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হোক এবং যদি মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




চট্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুসে লাখো মানুষের ঢল

লাখো আশেকে রাসুলের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম জশনে জুলুস। এবার জুলুসে নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ)।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জুলুস শুরুর আগে আল্লামা সাবির শাহ সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন এবং দোয়া ও মোনাজাত করেন।

ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা থেকে বের হয়ে জুলুস মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, লালখান বাজার হয়ে টাইগারপাস পর্যন্ত সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর একই পথে দুপুরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে ফিরে আসে।

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় জলুসকে ঘিরে দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ আশেকে রাসুলের সমাগম হয় জুলুসে। এবার জুলুসকে ঘিরে নগরীর কয়েক কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ট্রাক, বাস, পিকআপযোগে হাজার হাজার মানুষ জুলুসে যোগ দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাইরে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক জলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়। এরপর প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ আয়োজন হয়ে আসছে।




কাল বসছে তৃতীয় অধিবেশন : ইস্যুভিত্তিক বিতর্কে উত্তপ্ত হবে সংসদ

আগামীকাল বিকেল ৩টায় বসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিরোধী দলের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিংসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয় সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থায় দলীয় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও তারা সরব হতে পারেন।

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা জানান, এরই মধ্যে সরকার ছয় মাস পূর্ণ করেছে। এখন আর তারা বলতে পারবে না যে সরকারের হানিমুন পিরিয়ড চলছে। দেশ গঠনে তাদের কোথায় দুর্বলতা তা আমরা সংসদে উত্থাপন করব। সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইব। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যে ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করা দরকার তা করা হবে। কারণ জনগণের কাছে এজন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

বিরোধী দলের এ ধরনের অবস্থান প্রসঙ্গে সরকারদলীয় এমপিরা জানান, দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দল বিতর্ক করবে, ইস্যু উত্থাপন করবে এটাই তো সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সংবিধান সংশোধন, সংসদীয় কমিটি গঠন, গণভোটের বিধান, জুলাই সনদ-এ চার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর বিপরীত অবস্থান ও নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে সংসদের অধিবেশনে তীব্র বিতর্ক হতে পারে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোয় বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা ও সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হতে পারে।

অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনসহ যেকোনো ধরনের জনসমাগমমূলক কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ রাত ১২টা থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে এবং অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট এবং নজরদারি ক্যামেরার আওতা বাড়ানো হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, শেরেবাংলা নগর এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়। বিশেষ করে ফার্মগেট, বাংলামটর, বিজয় সরণি, শ্যামলী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।




মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) শুধু সব নবী ও রাসুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন; বরং গোটা সৃষ্টির মধ্যেও তিনি সর্বাধিক মর্যাদাশীল এবং আল্লাহর কাছে সম্মানিত। এখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কিছু প্রমাণ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো—

১. সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’
(সুরা : আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)। মহানবী (সা.) সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, এতে তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়।

২. নাম, সম্মান ও স্মরণে অমর : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনার মর্যাদা ও স্মরণকে সমুন্নত করেছি।’ (সুরা : আশ-শরহ/আলাম নাশরাহ লাকা, আয়াত : ৪)। এর একটি প্রকাশ হলো আল্লাহ তাঁর নামকে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। শাহাদাত, আজান, ইকামত ও তাশাহহুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে আল্লাহর নামের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হয়।

৩. আল্লাহ তাআলা নবীজির আনুগত্যকে নিজের আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন : আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে প্রকৃত পক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ৮০)। এবং তাঁর হাতে বায়াতকে আল্লাহ নিজের হাতে বায়াতের সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে বায়াত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়াত গ্রহণ করে।’ (সুরা : আল-ফাতহ, আয়াত : ১০)

৪. স্থায়ী মুজিজা লাভ : পূর্ববর্তী অনেক নবীর মুজিজা ছিল নির্দিষ্ট সময়ে সংঘটিত দৃশ্যমান ঘটনা, যা পরবর্তী সময়ে প্রত্যক্ষভাবে বিদ্যমান থাকেনি। পক্ষান্তরে মহানবী (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা কোরআন আজও বিদ্যমান এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। অতএব, তাঁর মুজিজা এমন একটি স্থায়ী নিদর্শন, যা প্রত্যেক যুগের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং যার চ্যালেঞ্জ আজও বহাল রয়েছে।

৫. জিন ও ইনসানের নবী : তিনি সমগ্র মানব ও জিন জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ২৮)। পূর্ববর্তী অনেক নবী নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর দাওয়াতের ব্যাপ্তি তাই সর্বজনীন।

৬. তাঁর নিয়ে আসা ধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন : ইসলাম পূর্ববর্তী শরিয়তগুলোর বিধানকে পরবর্তী সময়ে রহিত করেছে এবং সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে দ্বীন হলো ইসলাম।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯)।  অতএব, যে নবীর মাধ্যমে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁর বিশেষ মর্যাদা থাকা স্বাভাবিক।

৭. মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত সর্বোত্তম উম্মত : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)

এই উম্মত ঈমান, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানের মাধ্যমে এই মর্যাদা লাভ করেছে। আর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত নবীজির অনুসরণের ফল।

৮. তিনি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা হবেন : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আদম এবং তাঁর পরবর্তী সবাকেই আমার পতাকার অধীনে থাকবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬১৫)

৯. তাঁকে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে, যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে, যা আমার আগে কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২১৪৭২)

এর মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন—তাঁকে সমগ্র মানবজাতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে, সমগ্র পৃথিবীকে তাঁর জন্য মসজিদ ও পবিত্রতার উপায় করা হয়েছে, এক মাসের দূরত্ব থেকেও শত্রুর অন্তরে ভয় সঞ্চার করে তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে, তাঁর জন্য গনিমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে, তাঁকে শাফাআত প্রদান করা হয়েছে, যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। এগুলো তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন।

১০. তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা : আল-কলম, আয়াত : ৪)

১১. তিনি নবুয়ত ভবনের শেষ ও পূর্ণ ইট : সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত এমন এক ব্যক্তির মতো, যে একটি সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ করেছে; কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের স্থান খালি রয়েছে। মানুষ ভবনটি দেখে বিস্মিত হয় এবং বলে—এই একটি ইট এখানে বসানো হলো না কেন? আমি সেই ইট।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৩৫)

১২. মেরাজের রাতে তিনি সব নবীর ইমামতি করেন : মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) বাইতুল মুকাদ্দাসে সমবেত নবীদের ইমামতি করেন। সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সেখানে মুসা (আ.), ঈসা (আ.) ও ইবরাহিম (আ.)-সহ অন্যান্য নবীকে দেখতে পান এবং নামাজের সময় তাঁদের ইমামতি করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

১৩. কিয়ামতের দিন তিনি সর্বপ্রথম শাফাআতকারী ও সর্বপ্রথম সুপারিশকৃত : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানের নেতা। আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যার জন্য কবর বিদীর্ণ হবে; আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম যার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’

(তিরমিজি, হাদিস : ৩১৪৮)। এটি তাঁর কিয়ামতের দিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নেতৃত্বের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণ।

১৪. ইসরা ও মেরাজের মুজিজা : মহানবী (সা.)-এর ইসরা ও মেরাজ তাঁর বিশেষ মর্যাদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এই ঘটনায় আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন বহু বিশেষ সম্মান ও নিদর্শন দান করেছেন, যা অন্য কোনো নবীর ক্ষেত্রে এভাবে একত্রিত হয়নি। ইসরা ও মেরাজের ঘটনায় তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আসমানসমূহ অতিক্রম করেন, বহু নবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়, তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে নবীদের ইমামতি করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য সালাতের বিধান লাভ করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের একটি অনন্য নিদর্শন।

১৫. তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করাকে ইবাদত ও নৈকট্যের মাধ্যম করা হয়েছে : এটি তাঁর বিশেষ মর্যাদার এক অসাধারণ নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।’ (সুরা : আল-আহজাব, আয়াত : ৫৬)। অর্থাৎ আল্লাহ নিজে তাঁর ওপর রহমত ও সম্মান বর্ষণ করেন, ফেরেশতারাও তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং মুমিনদেরও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৬. সব নবী-রাসুলের কাছ থেকে তাঁর প্রতি ঈমান ও সাহায্যের অঙ্গীকার গ্রহণ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন—আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে এমন একজন রাসুল আসেন, যিনি তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়ন করেন, তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৮১)

এই আয়াত মহানবী (সা.)-এর বিশেষ মর্যাদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কারণ পূর্ববর্তী নবীদের কাছ থেকে তাঁর আগমন সত্য বলে স্বীকার করা এবং তাঁকে সাহায্য করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহানবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বের আরো বহু প্রমাণ আছে।




বিশ্বজুড়ে ভিসা ইন্টারভিউ কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা সাক্ষাৎকারের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত এবং পুনর্বিন্যাস করতে শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মিশনগুলোতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিস্তৃত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারীদের মার্কিন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা কঠোরভাবে যাচাই করা এবং একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ভিসা মূল্যায়নের প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত ও ধারাবাহিক রূপ দেওয়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎকার নির্ধারিত থাকা বেশ কিছু ভিসা আবেদনকারী ইতিমধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে তাদের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ বাতিলের বার্তা পেয়েছেন। বার্তায় জানানো হয়েছে, পরবর্তীতে তাদের নতুন সাক্ষাৎকারের তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে বিশ্বজুড়ে ভিসা পরিষেবার এই স্থগিতাদেশ ঠিক কতদিন বলবৎ থাকবে, সে বিষয়ে আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করেনি।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করছে। শুধু অবৈধ অভিবাসী নিধন বা দেশত্যাগেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ বা প্রফিলিংসহ নানান ইস্যুতে ইতোমধ্যে অনেক ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং নতুন আবেদন প্রত্যাখান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রায় ২ লাখ পর্যটক ও ব্যবসায়ী ভিসাধারী, যারা পরবর্তীতে আশ্রয়ের আবেদন করে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করছেন, তাদের ভিসাও বাতিলের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

এদিকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় পেশাজীবীদের বহুল ব্যবহৃত এইচ-ওয়ানবি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের ওভারহোল বা সংস্কার প্রস্তাব বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। এই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক রূপরেখা প্রায় ১০ কোটি ডলার সমপরিমাণ বা তারও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উপরন্তু, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির কাজের ভিসায় অতিরিক্ত ফি যুক্ত করে আইনি পথে আসা অভিবাসীদের পথও কিছুটা কঠিন করে তোলা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ভিসা সাক্ষাৎকারের এই সাম্প্রতিক স্থগিতাদেশের ঠিক আগেই এক মার্কিন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর অভিবাসী ভিসা স্থগিতা সংক্রান্ত পূর্বের নীতিকে বাতিল বলে রায় দেন। ওই রায়ে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র সচিবের আইনগত ক্ষমতার সীমাকে অতিক্রম করেছিল। মার্কিন প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার স্বার্থে এসব কঠোর উদ্যোগের যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে বৈষম্যমূলক এবং বাকস্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সূত্র: এনডিটিভি




ভুটানের রাজার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে বুধবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে।

বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন। এসময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।

আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।

বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভকামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

ভুটানের রাজা তাঁর দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।




রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

তাঁরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাৎকালে তাঁরা স্ব স্ব বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির দিক-নির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।