নিত্য-পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও কিনবে সংস্থাটি।

প্রাথমিকভাবে এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ তুলনামূলক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে কেনার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরের জন্য একটি ক্রয় পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। এ পরিকল্পনার আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনা হবে।

পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও ভোক্তাদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে টিসিবি।

মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে গুদাম সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে টিসিবির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। এসব গুদামের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিজস্ব গুদামের ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামের ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।

চলমান কার্যক্রমের জন্য টিসিবির বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে, বিশেষ করে সরকারি সহায়তায় পণ্য পাওয়া ভোক্তাদের জন্য ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে।

সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে আরও দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি।

ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও পরিবারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবি সরবরাহ করে, যা এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তা করে বলে জানান তিনি।

পণ্যের তালিকাও বাড়াচ্ছে টিসিবি। ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে সরবরাহ করা হবে, তবে এর জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।’

বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।

স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে একটি গতিশীল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যু, স্থানান্তর বা অন্য কোনো কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত, নাম বাদ বা পরিবর্তন হতে পারে।

টিসিবি সরবরাহব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার দিকেও এগোচ্ছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভোক্তারা লেনদেনের রসিদ পান।

পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালভাবে তাদের স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

ফয়সল আজাদ বলেন, টিসিবি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি ভিন্ন কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে।

নিজস্ব গুদাম সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। টিসিবি প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা তৈরি করতে চায়, যাতে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমে।

তিনি বলেন, ‘পণ্য ক্রয় বাড়ানো এবং বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হলে লজিস্টিক সক্ষমতা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।’

ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী দামে তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি ভোক্তার চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের তালিকা বাড়ানোই সংস্থাটির লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘নতুন কোনো পণ্য চালুর আগে আমরা জরিপ করি। ভোক্তারা যদি জানান কোন পণ্য তাদের প্রয়োজন, তাহলে আমরা তা সরবরাহের চেষ্টা করি। আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের জীবনকে সহজ করা।’

নতুন যুক্ত হওয়া পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘পণ্যের মানের সঙ্গে আমরা কোনো আপস করব না।’




ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সারাদেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) র‌্যাব সদর দফতর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে র‍্যাবের নিয়মিত টহল জোরদার করার পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক র‍্যাব সদস্যের পাশাপাশি ঝুঁকি বিবেচনায় পূর্ব থেকেই স্কেলিটন ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

নিরাপত্তা বজায় রাখতে এলাকার স্থানীয় মসজিদের ইমাম, সামাজিক ও নাগরিক নিরাপত্তা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সার্বিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

কোনও স্বার্থান্বেষী বা সন্দেহভাজন গোষ্ঠী যেন কোনও ধরনের হামলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো বিতর্কিত বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড রোধে রাখা হচ্ছে সতর্ক দৃষ্টি।

যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাবের ‘বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট’ এবং ‘ডগ স্কোয়াড’কে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী তথ্য, গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর উসকানিমূলক পোস্ট নজরদারিতে সাইবার পেট্রোলিং বিশেষভাবে জোরদার করা হয়েছে।

দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে র‍্যাব। একই সঙ্গে কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হলে তা দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।




আইভরি কোস্টে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর ২০তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালনকালে আত্মোৎসর্গকারী ছয়জন বীর বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর আজ ২০তম শাহাদাত বার্ষিকী।

২০০৬ সালের ২৫ আগস্ট আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে দেশটির বিমানবন্দর থেকে আবিদজানে নিজ নিজ ক্যাম্পে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন সদস্য শাহাদাত বরণ করেন।

newspictureশাহাদাত বরণকারী সেনাসদস্যরা হলেন—ল্যান্স কর্পোরাল এস এম মিরাজ আহমদ, ল্যান্স কর্পোরাল মোঃ আব্দুস সাত্তার, সৈনিক মোঃ মিজানুর রহমান, সৈনিক আব্দুল হালিম, সৈনিক মোহাম্মদ শহিদ মিয়া এবং সৈনিক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান খান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে।




শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রসফায়ারে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ চার আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

একই মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বেনজীরসহ সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো বাকি তিন আসামি হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান। মিফতাহসহ চারজনকে আজ সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা রুহুল আমিন, আশেকুর রহমান ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব মাহমুদ।




সংসদ অধিবেশন: ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে। অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সইকৃত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৭ আগস্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশন নির্বিঘ্নে চলা নিশ্চিত করতে শেরেবাংলা নগরস্থ জাতীয় সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট (বুধবার) রাত ১২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যে–কোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে— ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামটর ক্রসিং পর্যন্ত এলাকা, বাংলামটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত, পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত এবং মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ (পুরাতন ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত এলাকা।

এছাড়া, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন ৯ম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি, পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।




কানাডাকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার পুরোনো প্রস্তাব আবারও সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের সুবিধা নিতে চায়।

রবিবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর কানাডাকে নিয়ে এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে আসছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা পেতে চায়। শুল্ক প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা- ‘আর নয়’।

এদিকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর শনিবার থেকে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মার্কিন শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

নতুন শুল্ক আরোপের ফলে উত্তর আমেরিকার প্রতিবেশী দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কানাডার রপ্তানি খাত ও সীমান্তবর্তী ব্যবসায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ইচ্ছার কথা বলে আসছেন। তার সর্বশেষ মন্তব্যে সেই পুরোনো অবস্থানই আবারও সামনে এসেছে।

তবে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যের বিষয়ে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ায় ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।




গ্রাম আদালত সক্রিয় করতে ‘সেরা ইউপি-চেয়ারম্যান’ পুরস্কার

গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে দেশের প্রতিটি জেলায় ‘সেরা গ্রাম আদালত কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিয়ন পরিষদ ও সেরা চেয়ারম্যান’ নির্বাচন করবে সরকার।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভালো কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে সই করেন বিভাগের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান।

পরিপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ’ প্রকল্পের আওতায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে উৎসাহজনক অর্জনকারী ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে চিহ্নিত করে স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়া হবে। এর ফলে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদও গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ও মানসম্মতভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত হবে।

জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ জেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্য থেকে নির্ধারিত বহুসূচক ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে সেরা গ্রাম আদালত কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিয়ন পরিষদ ও সেরা চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে বলা হয়েছে।

নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যানকে স্থানীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে উৎসাহিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সেরা নির্বাচন করতে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দায়ের হওয়া মোট মামলার সংখ্যা, নারী আবেদনকারীর সংখ্যা, মামলা নিষ্পত্তির হার, সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, ফি ও জরিমানা আদায়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান অনুসরণের সক্ষমতা এবং গ্রাম আদালত পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ফান্ড বা অনুদানের যথাযথ ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এ ছাড়া মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ, লিখিত তথ্য সংরক্ষণ এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় দক্ষতাকেও মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।

পরিপত্রে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে সহায়তাকারী ইউপি সচিব এবং হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের মাসিক সম্মানী ও যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে পরিপত্রটি পাঠানো হয়েছে।




জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের শ্রদ্ধা

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কোনো নেতা দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সভাপতি বাকসু’র সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার এই দায়িত্ব পাওয়ায় দলটির সাবেক এবং বর্তমান তরুণ নেতাকর্মী বিশেষ করে অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের মাঝে বাড়তি উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

সোমবার নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর শেরে-ই বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এদিন এ উপলক্ষে সকাল থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা জিয়া উদ্যানে আসতে থাকেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় দল থেকে বহিষ্কৃত সাইফুল আলম নীরবও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রুহুল কবির রিজভী। সেই সময় পুরো এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড় জমে।

শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রিয় নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।




স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের সরকার। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী আরও বলেন, নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরেন। তিনি এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহও ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থানীয় সরকার খাতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করতে পারে বলে বৈঠকে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।

দুই দেশের এই পারস্পরিক সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




স্বামীবাগে খাটের নিচে ৪ বিদেশি পিস্তল, গ্রেফতার ৬

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. সজীব (২৮), মো. হিমু (৩২), মো. তুষার (২৫), মো. জয় (২৫), মো. টুটুল (৩৩) ও মো. ইমরান (৩৪)।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে অবৈধ মাদক ঢাকায় আনা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ মাতুয়াইল ইউটার্নসংলগ্ন মুক্তি পেট্রল পাম্পের সামনে চেকপোস্ট বসায়। পরে ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-৩৬৪৬ নম্বরের একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। গাড়িতে থাকা পাঁচজনকে আটক করা হলেও তাঁদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে মাদক থাকার কথা জানান। পরে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সজীব ও হিমুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের খাটের নিচে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ছয়টি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার সজীবকে ওয়ারী বিভাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র-মাদকের কারবারে জড়িত হিসেবে পরিচিত সজল ওরফে অটো সজলের ছোট ভাই বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, গত ২ মার্চ অবৈধ মাদক উদ্ধারের অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় মামলা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৩২ বোর রিভলবার, একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ও ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ওই ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সজল ওরফে অটো সজল সরবরাহ করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।

এরপর গত ১৮ জুন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে সজলকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগে তাঁর ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে দুটি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন তৈরির উপকরণ, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ টাকা ও চারটি ফোন উদ্ধার করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ওই ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

আজকের অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে আগের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।