ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি করার প্রত্যয় ডিএনসিসি প্রশাসকের

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়নে কাজ করছি, যার মূল লক্ষ্য শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ব্যাপক সবুজায়ন করা।

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটির কর্পোরেশন পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরইমধ্যে ৫৫ হাজার বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

একদিনে এক লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ক্লেমন-এর পরিবেশবান্ধব প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রিন ওয়েভ’-এর দেশব্যাপী সর্ববৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‘এক লক্ষ্যে এক লাখ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

এসময় ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, পুরো দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসাথে, ঢাকাকে পরিছন্ন রাখার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সিটি কর্পোরেশন। পাশাপাশি, নগরবাসীকে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা একটি অত্যন্ত জীবন্ত শহর, যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। আমরা যদি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য না ফেলে যত্রতত্র ফেলি, তবে এই শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত কঠিন। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা প্রতিদিন তাদের নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী কাজ করছেন এবং নির্দিষ্ট স্থান থেকেই বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। কিন্তু শহরকে সুন্দর রাখতে হলে সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য।’




ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু-শিখ-জৈনদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত

বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের সরিয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে ভারতের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন অমিত শাহ।

তিনি জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের ক্ষমতা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অমিত শাহ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বাধ্য হয়ে পালিয়ে আসা সব হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীকে অবশ্যই মর্যাদার সঙ্গে এখানে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।”

তিনি দাবি করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সিএএতে কারা নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন?
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ( সিএএ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

আইনটির আওতায় হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ নির্যাতন বা নিপীড়নের কারণে ওই তিন দেশ থেকে ভারতে এসেছেন এবং ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এই আইন নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে এর আওতায় না রাখার বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি সরকারের দাবি, প্রতিবেশী তিন দেশে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই এই আইন করা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি
শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন অমিত শাহ।

তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’- অর্থাৎ শনাক্ত করা, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর নীতি অনুসরণ করবে।

পশ্চিমবঙ্গের জনগণের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, “আমি আবারও বাংলার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই- প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।”

তার এই মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে স্পর্শকাতর ইস্যু
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত পারাপার ও অভিবাসনের বিষয়টি বহু বছর ধরেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো এবং সিএএ কার্যকর করার বিষয়কে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধীরা সিএএ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

শিলিগুড়ির বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি আক্রমণ করেন অমিত শাহ।

তিনি বলেন, “মমতা দিদি, আপনি এটি গ্রহণ করেননি। কিন্তু আপনার সরকারও নেই, আপনিও নেই। এখন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার।”

অমিত শাহের এই বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিএএ, নাগরিকত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ অভিবাসন- এই চারটি ইস্যু নতুন করে সামনে চলে আসতে পারে।

আট জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে ক্ষমতা
অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএএর অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ ও চূড়ান্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর ফলে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন, তাদের মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা বাড়াতে পারে।

তবে নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

অমিত শাহের বক্তব্যে একই সঙ্গে দুটি পৃথক নীতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে- একদিকে সিএএর আওতায় যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা, অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে এই দুই বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরে আসছে।

ফলে আগামী দিনে রাজ্যে নাগরিকত্বের আবেদন, সিএএ বাস্তবায়ন এবং অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিন নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে প্রদর্শনীতে বক্তব্য
অমিত শাহ এসব মন্তব্য করেন শিলিগুড়িতে ভারতের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে।
আইন তিনটি হলো-
•    ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)
•    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)
•    ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ)
পুরোনো ভারতীয় দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি ও ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তে নতুন এই তিন আইন কার্যকর করেছে ভারত সরকার।

প্রদর্শনীতে এসব আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইস্যুতেও নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তার বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি করতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু




ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৭৩২ মামলা

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ১৭৩২টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৮টি বাস, ২টি ট্রাক, ৮টি কাভার্ডভ্যান, ৯টি সিএনজি ও ৩৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪৪টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ৮টি বাস, ৭টি ট্রাক, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ১০১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৬টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২৫টি বাস, ১টি ট্রাক, ২২টি কাভার্ডভ্যান, ৬৮টি সিএনজি ও ১৫৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩২২টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩৫টি বাস, ১৯টি ট্রাক, ৫টি কাভার্ডভ্যান, ৭টি সিএনজি ও ৩১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৩৫টি মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১২টি বাস, ২টি ট্রাক, ৪ টি কাভার্ডভ্যান,১৫টি সিএনজি ও ৭৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৫ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১৯টি বাস, ৩১টি ট্রাক, ৪৬টি কাভার্ডভ্যান, ২৯টি সিএনজি, ১৪৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৬৯ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৩৮টি বাস, ১৪টি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ডভ্যান, ৩০টি সিএনজি ও ৭১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৫২টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৫৭টি বাস, ৩টি ট্রাক, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ১৮টি সিএনজি ও ৪৪ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৯৯টি মামলা হয়েছে। এছাড়াও অভিযানকালে মোট ৫৪৩ টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৩৪৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

বুধবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করা হয়।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




খাগড়াছড়িতে হঠাৎ অতি ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কয়েক ঘণ্টার টানা অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপজেলায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। হঠাৎ অতি ভারী এ বৃষ্টিতে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা বলেন, ‘শুক্রবার রাতে মাত্র তিন ঘণ্টায় উপজেলায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত কম সময়ে এমন বৃষ্টি আর হয়নি।’

স্থানীয় সূত্র জানায়,  রাতে ভারীবৃষ্টির কারণে খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে শহরের কাঁচা মেহেদীবাগ ফুড বিল বাজার, মুসলিম পাড়া, গরু বাজার, শান্তিনগর, খাগড়াছড়ি গেট সংলগ্ন আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি বাড়ায় অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থান ও সড়কে আশ্রয় নিয়েছে।

পানিবন্দি মানুষগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশেপাশের স্কুলের আশ্রয়গুলোতে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। জেলা বিএনপি দুপুরে আক্রান্তদের মাঝে খাবার ব্যবস্থা করেছে।




নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এ অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ফেসবুকে লেখেন, ‌‘গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মর্যাদা ও জনগণের প্রত্যাশাকে ধারণ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার দায়িত্বশীল, সফল ও মর্যাদাপূর্ণ পথচলার জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।




ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর ফলে সংবিধান অনুযায়ী তার ওই সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

শনিবার (২২ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের (আইন প্রণয়ন শাখা-২) সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা ৩ ঠাকুরগাঁও-১ আসন হতে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করায় ওই আসনটি সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে শূন্য হলো।

বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শূন্য হওয়া আসনটিতে উপ-নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।




জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অগণিত বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে স্বাক্ষর করেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।




ফখরুলকে জারদারির অভিনন্দন, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে তাঁকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

আজ শুক্রবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিনন্দনবার্তায় জারদারি আস্থা প্রকাশ করেন যে রাষ্ট্রপতি ফখরুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে এবং জনগণের কল্যাণে আরও অগ্রগতি অর্জন করবে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিকে স্বাগত জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে।

জারদারি বলেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি ফখরুলকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সহযোগিতা গভীর করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রেসিডেন্ট জারদারি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে তাঁর দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য শুভকামনা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।




নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে দেশটি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন দেশটির মুখপাত্র লিন জিয়ান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চীনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

লিন জিয়ান আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং।

চীনা মুখপাত্র বলেন, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কাজ করবে চীন।

নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশের অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গঠনে আরও অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।




নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে তাকে শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ গ্রহণের পরপরই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

অভিনন্দন বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় আমি আপনাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে আপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় কাজে দেবে।’

দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারত্বকে সুদৃঢ় করার বার্তা দিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে এক অনন্য সম্পর্ক, যার মূলে রয়েছে আত্মত্যাগের অভিন্ন ইতিহাস, নিবিড় সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং বন্ধুত্বের উষ্ণ বন্ধন। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুব বিষয়ক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত প্রসারিত হয়েছে। আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার এই অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।’

সবশেষে তিনি যোগ করেন, ‘আপনার অব্যাহত সুস্বাস্থ্য ও সুখ, সফলভাবে আপনার দায়িত্ব পালন এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য আমার আন্তরিক শুভকামনা গ্রহণ করুন।’