রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫০৬, মাদক-অস্ত্র উদ্ধার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় বিভিন্ন অভিযোগে ৫৫টি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের চোরাই মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

নিয়াজ মেহেদী আরও জানান, বিভাগভিত্তিক গ্রেপ্তারের মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বাধিক ১২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া গুলশান বিভাগে ৯৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ৬৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৭ জন, লালবাগ বিভাগে ৪৫ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৪১ জন, রমনা বিভাগে ২৫ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানে দুটি সুইচ গিয়ার, ২৭ কেজি ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ২৩১ পিস ইয়াবা ও ৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি বাস, একটি ট্রাক, ১৭টি মোটরসাইকেল, আটটি মোবাইল ফোন, প্রায় ৫৯৭ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং আরও ৪ ভরি ১৫ আনা ৫ রতি চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় দুইজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।




তেল বিক্রির আয় দেড় গুণ বেড়েছে ইরানের

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি করে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই প্রায় ৭৫০ কোটি (৭.৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার আয় করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। তেল রফতানি থেকে আসা এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ইতোমধ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের আয় প্রায় দেড় গুণ বেশি। বিশ্বজুড়ে নানামুখী অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও তেলের এই বাড়তি আয় দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, প্রথম চার মাসের এই শক্তিশালী আর্থিক প্রবাহ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার যাবতীয় ব্যয় নির্বিঘ্নে মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে দেশের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে এবং আমদানি ব্যয় মেটানোও সরকারের জন্য বেশ সহজ হবে।

সূত্র: দ্য ডন




বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বারবার কাঁদলেন ও চোখ মুছলেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। দুপুর ২টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্যের পর বক্তব্য রাখেন বিএনপির বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্মরণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার থেকে পাঁচবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মির্জা ফখরুল। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি শেষ বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আর অংশ নেবেন না। বিএনপির সংসদীয় দলের আজকের বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আবেগঘন বিদায় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সাংগঠনিক বার্তা- মিলিয়ে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার বিষয়টিই গুরুত্ব পায়।

মির্জা ফখরুল আবেগ জড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই দলের সঙ্গে যুক্ত আছি। অনেক বিপদ-আপদ, ঝড়-ঝঞ্ঝা, সুখ-দুঃখ, জেল-জুলুম, মামলা-হামলার সম্মুখীন হয়েছি। সবকিছুতেই আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু কখনো দল ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তাও করিনি। কিন্তু আগামীকাল হয়তো এই দল থেকে আমাকে পদত্যাগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি যেনো রাষ্ট্রপতি পদে থেকে সকলের মাঝে থেকে একটি সুন্দর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকা রাখতে পারি এজন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চাই।

সভায় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট চান। তিনি সভায় জানান, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হয়ে যাবে। শুক্রবার নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন। পরে সকলের অংশগ্রহণে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস কাতারের

বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি। আজ বুধবার দোহায় নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এ আশ্বাস দেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কাতারের নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেন। তিনি কাতারের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন এবং অঞ্চল ও এর বাইরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাতারের গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব সফলভাবে পালনে সমর্থন ও সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। পরে কাতারের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকগুলোয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং উভয় দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




ভেন্টিলেটর বা আইসিইউ দিয়ে নয়, হাম ঠেকাতে টিকাই একমাত্র পথ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর দিয়ে নয়, সঠিক সময়ে কার্যকর টিকাদানের মাধ্যমেই কেবল হামের মতো মারাত্মক সংক্রামক রোগের বিস্তার ও মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

আজ সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ বিষয়ক কর্মশালা এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বির যৌথ উদ্যোগে এ গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, ‘২০২৪ সালের টিকাদান ক্যাম্পেইনে সময়মতো উদ্যোগ না নেয়া এবং নীতিগত গাফিলতির কারণে যে অনাক্রম্যতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তারই ফল আজকের এই মহামারি। হাজারটা ভেন্টিলেটর বা আইসিইউ বেড বসিয়ে এই মৃত্যুর ঢল থামানো যাবে না। প্রতিরোধ এবং টিকাদানই এর একমাত্র সমাধান।’

অবাস্তব আশ্বাসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে— তিনি বলেন, টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ালেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো দুই-তিন মাস সময় লাগবে। তবে এ সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারির মাধ্যমে শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে।

শিশু স্বাস্থ্যসেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত ঘোষণা করেন আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের ৫টি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত ৫টি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে। তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দেশের প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে শিশু স্বাস্থ্য (পেডিয়াট্রিকস), মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি—এই চার মূল বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে এই গবেষণার মূল ফলাফল ও তথ্য-উপাত্ত যৌথভাবে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে ছড়িয়ে পড়া হামের মূল কারণ ভাইরাসের নতুন কোনো রূপ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে প্রচলিত তীব্র সংক্রামক ‘বি৩’ ধরনের বিস্তার এবং টিকাদান ও মাতৃদুগ্ধের অ্যান্টিবডির ঘাটতি। বিশেষ করে ৯ মাস বয়সের আগেই মায়ের দেয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত কমে যাওয়ায় এবং নিয়মিত টিকাদানে অবহেলার ফলে ৬-৯ মাস বয়সী অপুষ্ট শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছে।




বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে বৈঠক

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত গতকাল মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের (মোটাক) উপমন্ত্রী চিউ চুন মানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদারের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশের পর্যটকদের জন্য বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় পর্যটন অভিজ্ঞতা সৃষ্টির পাশাপাশি পর্যটন খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ উন্মোচনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময়, দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইটের সংখ্যা ও ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি, দক্ষতা ও সক্ষমতা উন্নয়ন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও প্রি-ভেরিফিকেশন এবং পর্যটন খাতে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সাফল্যের মডেল বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ওঠে আসে।

এছাড়া হসপিটালিটি বা আতিথেয়তা খাতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করে। মালয়েশিয়ার পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদা পূরণ এবং যোগ্য বাংলাদেশী কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ পর্যটন উন্নয়ন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরো গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরো নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার পর্যটনবিষয়ক উপ-মহাসচিব চুয়া চুন হোয়া, ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার এশিয়া ও আফ্রিকা বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রচার বিভাগের পরিচালক নুওয়াল ফাদিলাহ কু আজমি, মোটাক ও ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মাত শাহানারা মনিকা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (কমার্শিয়াল) প্রণব কুমার ঘোষ।




একনেক সভায় ১০ হাজার কোটি টাকার ১১ প্রকল্প উত্থাপন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভা শুরু হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

শের-ই-বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে আজ সকালে এ সভা শুরু হয়। এটি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় সভা। এটি বিএনপি সরকারের সপ্তম একনেক। বণিক বার্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিকল্পনা কমিশনের পাবলিক রিলেশনস অফিসার মো. জসিম উদ্দিন।

একনেকের এ সভায় মোট ১১টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়— পাঁচটি নতুন এবং বাকিগুলো সংশোধিত প্রকল্প। উত্থাপিত ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৪৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮ হাজার ৭৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান থেকে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।




হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। একইসঙ্গে দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। তবে এর বিপরীত দাবি করেছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য, জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি এখনো বন্ধ রয়েছে। খবর রয়টার্স।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ছয় মাস ধরে সংঘাত চলছে। চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত অবসানের সম্ভাবনা কমে আসায় গতকাল ফের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় অর্থনীতিগুলোর ঋণের সুদহার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট মূল্যস্ফীতি ও সরকারি অর্থব্যবস্থায় কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

সোমবার দেশ দুটির মধ্যে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এর পর ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইরান এখন ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে যাচ্ছে। তবে মঙ্গলবার কোনো পক্ষের নতুন হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না, এমনকি কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। হরমুজ প্রণালি খোলা ও সচল। সব নৌমাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে অথবা ধ্বংস করা হয়েছে।’

তবে এর এক দিন আগে ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তা ‘সম্ভবত আরো জোরালো’।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও বিভিন্ন দেশ জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির নতুন ঘটনার কথা জানিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। ৪ মে ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার পর এটিই এ ধরনের প্রথম ঘটনা।

পরে মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ‘সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ’ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে দুটিই সমুদ্রে পড়ে যায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আরব আমিরাতের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’।

এদিকে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, লেনদেন ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে—এই কারণ দেখিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে আরব আমিরাতের সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মাত্র জুনের শেষ দিকে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর দিয়ে আবার শুরু হয়েছিল। যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর, মার্চের শুরুতেই ইউএই সরাসরি জাহাজ চলাচল বন্ধ করেছিল।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের গতকাল বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় এখনো আগ্রহী। তবে আলোচনাকে আত্মসমর্পণের সঙ্গে গুলিয়ে দেখা উচিত নয়। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

মোখবের বলেন, সামরিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা ইরানের মনোবল ভাঙতে পারবে না। যুদ্ধ না চাইলেও নিজেদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মিত্রদের রক্ষায় ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দগ্ধ হয়ে নয়, কলকাতার হোটেলে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান ৯ বাংলাদেশী

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, নিহত সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, আগুনে দগ্ধ হয়ে নয়, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টার দিকে নিউ মার্কেট থানার অন্তর্গত মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন নামের হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। পরে ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ওই পাঁচতলা ভবনে একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। আগুনের সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত ২টা ৭ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলটি পশ্চিমবঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের কাছেই হওয়ায় দ্রুত সেখানে পৌঁছান দমকলকর্মীরা। পরে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন।

তবে ভবনটি সরু গলির মধ্যে হওয়ায় গাড়ি খুব বেশি ভেতরে ঢুকতে পারেনি। প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পরে দমকলকর্মীরা ভবনের ভেতরে ঢুকে অতিথিদের উদ্ধারে অভিযান চালান। ধোঁয়ায় সিঁড়িঘর ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে তাদেরও সমস্যায় পড়তে হয়।

পুলিশের দাবি, ভবনটির বিভিন্ন হোটেল থেকে ৬৫ জনের মতো অতিথিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় তলার হোটেল থেকে ১৫ জনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা নয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আরো ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের শরীরে গুরুতর দগ্ধ বা ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন তেমন পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ঘন ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আগুন লাগার পর হোটেলের লিফট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অতিথিদের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু সিঁড়ি ও প্রবেশপথ সংকীর্ণ হওয়ায় অনেকেই আটকা পড়েন। ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকজন হোটেল কক্ষের ভেতরেই অচেতন হয়ে পড়েন।

অতিথিদের অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ভবনটিতে জরুরি বহির্গমন পথ বা পর্যাপ্ত বিকল্প বের হওয়ার ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। ধোঁয়ায় পথ দেখা না যাওয়ায় অনেকে কীভাবে বাইরে বের হবেন, তা বুঝতে পারেননি। কেউ কেউ বাথরুমে ঢুকে জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

হোটেলের এক অতিথি ইজাজ আহমেদ জানান, তিনি ও তার এক বন্ধু মঙ্গলবার রাতেই রামপুরহাট থেকে সেখানে উঠেছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাওয়াদাওয়া শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সোয়া ২টার দিকে দুই নারীর চিৎকারে তাদের ঘুম ভাঙে। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ধোঁয়া ঢুকে পড়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘর থেকে বের হওয়ার বারান্দাটিও ছিল খুব সরু এবং ধোঁয়ায় সেটি ঢেকে গিয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলগুলোয় সাধারণত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা ভিনরাজ্য ও বিদেশী নাগরিকরা থাকেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিরা কীভাবে ওই হোটেলে উঠেছিলেন, তাদের পরিচয় ও স্বজনদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরীক্ষা করবেন। হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এবং ভবন ব্যবহারের অনুমোদন ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসছে।

বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ভবনটি মূলত আবাসিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও পরে সেখানে একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস চালু করা হয়। এতে ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকও অভিযোগ করেছেন, ভবনটি বিধি মেনে ব্যবহার করা হচ্ছিল না। তার দাবি, মূলত আবাসিক ভবনটিকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত কক্ষ তৈরির জন্য ভবনের কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

ঘটনার পর হোটেল ও আশপাশের এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ফায়ার সার্ভিসের ডিজি অনুজ শর্মাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুন লেগে নয়জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচজন ছিলেন। তারও আগে গত বছরে এপ্রিল মাসে কলকাতার বড়বাজারের মেছুয়া ফলপট্টি এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।




নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলার যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত

কেমিক্যাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের আভিযানিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ উদ্যোগে একটি ‘সিচুয়েশন্যাল ট্রেনিং এক্সারসাইজ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বানৌজা ঈসা খান এ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত মহড়াটিতে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪১ জন সদস্য এবং নৌবাহিনীর ৪৫৫ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি) বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিতভাবে ‘Basic Assistance and Protection Course for Responders (BAPCOR)’ প্রশিক্ষনের আয়োজন করে থাকে।

মহড়ায় রাসায়নিক দুর্ঘটনাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিক পদার্থের বিস্তার রোধ, আক্রান্ত ও বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরসহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম অনুশীলন করা হয়। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধারকারী সদস্যদের নিরাপত্তা এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সংস্থাসমূহের সদস্যরা পারস্পরিক যোগাযোগ, দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত রাসায়নিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন করেন। এর মাধ্যমে নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় এবং দ্রুত সাড়া প্রদানের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশেষ করে বন্দর, জাহাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য রাসায়নিক দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে প্রাণহানি, সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’