নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গঠিত ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।

রবিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এর উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

নির্বাচনী পর্ষদ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে এডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। র‌্যাংক ব্যাজ পরিধান শেষে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।




উপকূলের প্রত্যেকটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুপেয় পানির কষ্ট লাঘবে উপকূলের প্রত্যেকটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে। রবিবার সকালে দিগরাজ এলাকায় বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নবাসীদের মাঝে ট্যাংক বিতরণ করার সময় তিনি এ কথা বলেন।

পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে চিলা, চাঁদপাই, সোনাইলতলা, মিঠাখালী ও সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে ট্যাংক বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এদিন ৬টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তীব্র লবণাক্ততা অধ্যুষিত উপকূলীয় মোংলাসহ আশপাশ এলাকায় সুপের পানির মারাত্মক সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা দিয়ে চাহিদা পূরণে উপকূলের জনগোষ্ঠীর মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপকূলের প্রত্যেকটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সুপের পানির উৎস সৃষ্টিতে সরকারী পুকুরগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপকূলের কোন মানুষ যেন সুপেয় পানির জন্য কষ্ট না পায় সেজন্য যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই এ সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।

ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোংলার উপ-সহকরাী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান জনি।




রিজভীর নেতৃত্বে শহীদ জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন জহির উদ্দিন স্বপন

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রবিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এসময় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এসময় বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জহির উদ্দিন স্বপনের নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন।




বঙ্গভবনে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রিপাড়ার বাসা ছেড়ে বঙ্গভবনে উঠেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে ওঠেন তিনি।

বেলা ১১টায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে এসে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এখন থেকে তিনি বঙ্গভবনে বসবাস এবং এখন থেকে দাপ্তরিক কাজ করবেন।

দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে ওঠার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।




আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে উত্তপ্ত তালতলী বিএনপি, শহিদুল হকের অপসারণ দাবি তৃণমূলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার তালতলী উপজেলা বিএনপিতে সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল হককে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট সাবেক উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের একটি বক্তব্যের পর শহিদুল হক সাংবাদিক সম্মেলন করে পাল্টা বক্তব্য দেওয়ায় দলটির স্থানীয় রাজনীতিতে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই পক্ষের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

১৯ আগস্ট সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল হকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে ‘পুনর্বাসনের’ চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বলে দাবি করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শহিদুল হক সাংবাদিক সম্মেলনে পাল্টা বক্তব্য দেন। এতে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ

শহিদুল হকের বিরুদ্ধে বিএনপির তৃণমূলের একাংশের অন্যতম অভিযোগ, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাদের দাবি, ২০১৮ সালে তালতলী উপজেলা যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি মনিরুজ্জামান মিন্টুর আনারস প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় একটি সমাবেশে শহিদুল হক বক্তব্য দেন এবং মিন্টুর পক্ষে ভোট চান।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, ওই সময় বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছিল এবং দলের অনেক নেতাকর্মী মামলা-মোকদ্দমার কারণে আত্মগোপনে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির স্থানীয় আহ্বায়ক হিসেবে শহিদুল হকের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছিল।

তাদের আরও দাবি, ওই বক্তব্যের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও বরগুনা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নারী ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ

শহিদুল হকের বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিষয় এবং মাদক সেবনের অভিযোগও তুলেছেন তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা নথি প্রতিবেদকের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।

এ ছাড়া তার পারিবারিক জীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।

১৯ আগস্টের বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা

শহিদুল হকের ১৯ আগস্টের সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে করা বক্তব্য নিয়েও স্থানীয় বিএনপিতে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়ার আগে ‘ড্রপ টেস্ট’ করার বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন।

তবে বক্তব্যটির পূর্ণাঙ্গ ভিডিও বা লিখিত বক্তব্য প্রতিবেদকের কাছে না থাকায় উদ্ধৃতির বাইরে এর বিস্তারিত প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

তৃণমূলের দাবি, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার

তালতলী উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে শহিদুল হক স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজনীতি করেছেন এবং এর ফলে উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা তাকে দলীয় পদ ও দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের আরও অভিযোগ, ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে শহিদুল হক বিভিন্ন সময়ে দলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার কথিত সমঝোতা ছিল।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযোগকারীদের দাবির সমর্থনে কোনো নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা

সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বক্তব্য এবং এর জবাবে শহিদুল হকের সাংবাদিক সম্মেলনের পর তালতলী উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়েছে। দুই পক্ষের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির গুরুত্বকেও সামনে এনেছে।

শহিদুল হকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির আনুষ্ঠানিক অবস্থানও জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অভিযোগকে কেন্দ্র করে তালতলী উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে দলীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়—সেদিকেই নজর স্থানীয় নেতাকর্মীদের।




বিমান বাহিনী ও সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় IHRO’র নতুন দায়িত্বে মোঃ শাহীনুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের (IHRO) বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে “Director, Community Outreach & Social Integration” পদে মনোনীত হয়েছেন মোঃ শাহীনুজ্জামান।

নতুন এ দায়িত্বে তিনি জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। সম্প্রতি নিজের নতুন দায়িত্বের বিষয়টি জানিয়ে মোঃ শাহীনুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন (IHRO) তাকে গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্বে মনোনীত করায় তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

মোঃ শাহীনুজ্জামানের কর্মজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে। তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় ২০০৪ ও ২০০৭ সালে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর মানুষের কল্যাণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর মধ্যে দৈনিক আমার দেশ-এ স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক একুশের বাণী ও দৈনিক সবুজ বিপ্লব-এ স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক মাতৃভূমির খবর-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্বে তার কাজের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক তৈরি করা। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয়, সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা, পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনায় ভূমিকা রাখবেন তিনি।

এছাড়া NGO, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের সমস্যা, মতামত ও প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার বিষয়টিও তার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানানো হয়েছে। মোঃ শাহীনুজ্জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন দায়িত্বের মূল লক্ষ্য হবে জনগণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করা। একই সঙ্গে সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সামাজিক সংহতির মাধ্যমে মূলধারায় সম্পৃক্ত করার জন্য কাজ করা।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং সাংবাদিকতা জীবনে অর্জিত জনসম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে। নতুন দায়িত্ব পালনে তিনি সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও ভালোবাসা কামনা করেছেন। সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।




রূপনগরে ওয়াকফ স্টেটের জমি নিয়ে বিক্ষোভ-মানববন্ধন, দখল ও বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ স্টেটের প্লট মালিকরা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালাল ও ভূমিদখলকারীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।

শনিবার অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্লট মালিক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ৪৮ একর জমি নিয়ে গঠিত সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ সম্পত্তিতে বৈধ মোতাওয়াল্লি হিসেবে আবুল কালাম আনসারী জামাল দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা ও জমির আইনগত অবস্থান উপেক্ষা করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন নামে-বেনামে এবং বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পত্তি বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফলে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ভূমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও আইনগত বিরোধ চলমান থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণ, জমির কাঠামোগত পরিবর্তন এবং প্লট দখল ও বিক্রির তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এতে প্রকৃত প্লট মালিক ও সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ সম্পত্তির স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

প্লট মালিকদের দাবি, এ ভূমি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল মামলা নং ১৫২১/২০২১ বিদ্যমান। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দখল ও অবস্থানের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন, নির্মাণ বা দখল কার্যক্রম চালানো হলে তা আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

মানববন্ধনে কয়েকজন ব্যক্তি, এর মধ্যে ড্যাফোডিল মান্নান ও মোক্তার হোসেন-এর বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ তোলা হয়। প্লট মালিকরা জানান, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ ও বিভিন্ন পর্যায়ে নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

এদিকে ইমন নামে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও প্লট মালিকরা গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ স্টেটের প্রায় ৯০ কাঠা জমি বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং এ সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান মানববন্ধনকারীরা।

প্লট মালিকদের আরও দাবি, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ভবনে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা নং ৬২/২০২৪-এর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় যদি কেউ জোরপূর্বক জমি দখল, নির্মাণকাজ, প্লট হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করে থাকে, তাহলে তাদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

এ সময় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কীভাবে বিতর্কিত ওয়াকফ সম্পত্তিতে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দিয়েছে—সেটিও তদন্তের দাবি জানান তারা। বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়।

প্লট মালিকরা আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ভূমির দখল বা কাঠামোগত পরিবর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত মালিকানা, ওয়াকফ সম্পত্তির আইনগত অবস্থান এবং আদালতের আদেশ যাচাই করে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে ভূমি দখল, অবৈধ নির্মাণ ও কথিত দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।




মির্জা ফখরুলকে ইরানের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন, সম্পর্ক গভীর করার প্রত্যয়

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক অভিনন্দন বার্তায় ইরানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও গভীর করার গভীর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শুভেচ্ছা বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের এই আস্থা প্রকাশ মির্জা ফখরুলের দূরদর্শিতা, প্রতিশ্রুতি এবং গণতন্ত্রকে সংহত করার ক্ষেত্রে তার প্রশংসনীয় অবদানেরই প্রতিফলন।

নতুন এই নেতৃত্বের সূচনা বাংলাদেশের জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অভিনন্দন বার্তায় ইরানি প্রেসিডেন্ট দু’দেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের বহুমুখী সহযোগিতা সম্প্রসারণের পূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

বার্তায় নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্রমবর্ধমান সাফল্য কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র : ইরনা




ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি করার প্রত্যয় ডিএনসিসি প্রশাসকের

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়নে কাজ করছি, যার মূল লক্ষ্য শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ব্যাপক সবুজায়ন করা।

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটির কর্পোরেশন পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরইমধ্যে ৫৫ হাজার বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

একদিনে এক লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ক্লেমন-এর পরিবেশবান্ধব প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রিন ওয়েভ’-এর দেশব্যাপী সর্ববৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‘এক লক্ষ্যে এক লাখ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

এসময় ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, পুরো দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসাথে, ঢাকাকে পরিছন্ন রাখার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সিটি কর্পোরেশন। পাশাপাশি, নগরবাসীকে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা একটি অত্যন্ত জীবন্ত শহর, যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। আমরা যদি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য না ফেলে যত্রতত্র ফেলি, তবে এই শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত কঠিন। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা প্রতিদিন তাদের নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী কাজ করছেন এবং নির্দিষ্ট স্থান থেকেই বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। কিন্তু শহরকে সুন্দর রাখতে হলে সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য।’




ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু-শিখ-জৈনদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত

বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের সরিয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে ভারতের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন অমিত শাহ।

তিনি জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের ক্ষমতা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অমিত শাহ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বাধ্য হয়ে পালিয়ে আসা সব হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীকে অবশ্যই মর্যাদার সঙ্গে এখানে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।”

তিনি দাবি করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সিএএতে কারা নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন?
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ( সিএএ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

আইনটির আওতায় হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ নির্যাতন বা নিপীড়নের কারণে ওই তিন দেশ থেকে ভারতে এসেছেন এবং ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এই আইন নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে এর আওতায় না রাখার বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি সরকারের দাবি, প্রতিবেশী তিন দেশে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই এই আইন করা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি
শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন অমিত শাহ।

তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’- অর্থাৎ শনাক্ত করা, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর নীতি অনুসরণ করবে।

পশ্চিমবঙ্গের জনগণের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, “আমি আবারও বাংলার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই- প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।”

তার এই মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে স্পর্শকাতর ইস্যু
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত পারাপার ও অভিবাসনের বিষয়টি বহু বছর ধরেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো এবং সিএএ কার্যকর করার বিষয়কে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধীরা সিএএ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

শিলিগুড়ির বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি আক্রমণ করেন অমিত শাহ।

তিনি বলেন, “মমতা দিদি, আপনি এটি গ্রহণ করেননি। কিন্তু আপনার সরকারও নেই, আপনিও নেই। এখন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার।”

অমিত শাহের এই বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিএএ, নাগরিকত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ অভিবাসন- এই চারটি ইস্যু নতুন করে সামনে চলে আসতে পারে।

আট জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে ক্ষমতা
অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএএর অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ ও চূড়ান্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর ফলে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন, তাদের মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা বাড়াতে পারে।

তবে নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

অমিত শাহের বক্তব্যে একই সঙ্গে দুটি পৃথক নীতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে- একদিকে সিএএর আওতায় যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা, অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে এই দুই বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরে আসছে।

ফলে আগামী দিনে রাজ্যে নাগরিকত্বের আবেদন, সিএএ বাস্তবায়ন এবং অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিন নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে প্রদর্শনীতে বক্তব্য
অমিত শাহ এসব মন্তব্য করেন শিলিগুড়িতে ভারতের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে।
আইন তিনটি হলো-
•    ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)
•    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)
•    ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ)
পুরোনো ভারতীয় দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি ও ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তে নতুন এই তিন আইন কার্যকর করেছে ভারত সরকার।

প্রদর্শনীতে এসব আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইস্যুতেও নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তার বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি করতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াদ্য হিন্দু