এইচএসসির ফল: কোন বোর্ডে পাসের হার কত?

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে এই ফলাফল প্রকাশিত হয়।

 

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। গড় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। মোট পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।

 

কোন বোর্ডে পাসের হার কত?

 

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড: ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড: ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড: ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ

যশোর শিক্ষা বোর্ড: ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড: ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড: ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ

সিলেট শিক্ষা বোর্ড: ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড: ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড: ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ

 

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ

 

পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd ও https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাচ্ছে। এছাড়া যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে নির্ধারিত নিয়মে এসএমএস পাঠিয়ে মুহূর্তেই ফল জানা যাচ্ছে।

 

আগামী ১ নভেম্বর থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পদ্ধতিতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

 

এর আগে, গত ২ জুলাই সারাদেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।




সাগরে নতুন লঘুচাপ, রাজধানীতে বৃষ্টি

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ দুর্বল হতে না হতেই সাগরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন লঘুচাপ। এর প্রভাবে সকাল থেকে মেঘলা আকাশ থাকার পর রাজধানী ঢাকায় ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ বেশ মেঘলা ছিল। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে গুলিস্তানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। শুরুতে বৃষ্টির পরিমাণ হালকা থাকলেও পরে তা ভারি বৃষ্টিতে রূপ নেয়।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়েছে। এটি প্রথমে স্থল গভীর নিম্নচাপ ও পরে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। বর্তমানে এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে ভারতের ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। তবে দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। এ সময় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রাও প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।




মরদেহ উদ্ধার: থানায় তাহসিফের বাবার হত্যা মামলা

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন তিনি।

 

থানার ডিউটি কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি নৌ-পুলিশ তদন্ত করবে। তাহসিফে ব্যবসায়িক পার্টনার ও এলাকার ছোট ভাই শাহরিয়ার রেজ দীপের বিষয়েও নৌপুলিশ দেখছে।’

 

নৌ-পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেয়া হয়। পরে খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের পকেটে থাকা আইফোনে একটি কল এলে তাহসিফের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষ করে বাসায় ফেরেন তাহসিফ। কিছু সময় পর দ্বীপ নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তিনি আবার বাসা থেকে বের হন। এরপর ২৮ অক্টোবর ‘আম্মু আমি আসছি’ লিখে শেষ একটি খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

 

এদিকে, ঘটনার দিন মধ্যরাত পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে থাকার আলোচনায় আসার পর দীপকে গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআই। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। যা তাহসিফের বলে নিশ্চিত করেন দীপ।

 

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে দীপের এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পিবিআই তার বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতি যাচাই করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে দীপকেও নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।




রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী ৩টি বিশেষায়িত লরি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তিনটিসহ মোট চারটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

এর আগে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছিল, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরো দুটি কার্গোতে অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট নয়টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি আনা হবে।

রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান প্রথম ইউনিটে স্টেজ-সি কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।

স্টেজ-সি পর্যায়ে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর, পরিচালন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাকে বলা হয় ‘সিনক্রোনাইজেশন’।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নভেম্বর মাসে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে তা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন হবে।




এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এ জন্য ওয়েবসাইটের ‘Result’ বিভাগে গিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) নম্বর দিয়ে ফল ডাউনলোড করতে হবে।

অন্যদিকে পরীক্ষার্থীরা eduboardresults.gov.bd, educationboardresults.gov.bd অথবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফল জানতে পারবেন।

এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘HSC DHA 123456 2026’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। এখানে DHA-এর জায়গায় নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর এবং 123456-এর জায়গায় পরীক্ষার রোল নম্বর বসাতে হবে।

উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। এসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে। অংশ নেয় ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত ২ জুলাই পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।




হারতায় ক্যামেরা চুরির ঘটনায় জাহিদ গ্রেপ্তারের দাবি, জাকিরকে নিয়ে প্রশ্ন

নিজেস্ব প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি থেকে ছয়টি সিসি ক্যামেরা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাহিদ বালী (২০), জাকির বালী (৪৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে অভিযুক্ত করে এজাহার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। তবে এ দাবির সঙ্গে ক্যামেরা চুরির সরাসরি যোগসূত্র এখনো প্রমাণিত হয়নি।

অভিযোগকারী বাংলাদেশ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান বর্তমানে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় কর্মরত। তাঁর দাবি, উজিরপুরের হারতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত তাঁর মালিকানাধীন একতলা ভবনের নিরাপত্তার জন্য ছয়টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ক্যামেরাগুলো HIKVISION ব্র্যান্ডের।

রাতের কোনো একসময় চুরির অভিযোগ

এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ২১ অক্টোবর ভোর ৪টার মধ্যে কোনো একসময় ভবন থেকে ক্যামেরাগুলো চুরি হয়। পরদিন সকালে বাড়ির ম্যানেজার সুমিত বরালের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন বাড়ির মালিক। চুরি হওয়া ক্যামেরাগুলোর আনুমানিক মূল্য ২৪ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এসআই জিয়াউর রহমানের অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে মাদকদ্রব্য বিক্রির কর্মকাণ্ড তাঁর নজরে আসে। নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা স্থাপনের পর ফুটেজে কয়েকজনকে দেখতে পেয়ে তিনি তাঁদের ওই পথ ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। এরপর বিরোধের সূত্রপাত বলে দাবি তাঁর।

জিয়াউর রহমানের আশঙ্কা, মাদক কারবারের কর্মকাণ্ড আড়াল করা অথবা বাড়ির নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ক্যামেরাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে চুরির ঘটনায় কারা জড়িত এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

জাহিদ গ্রেপ্তারের দাবি, জাকিরকে নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারী পক্ষের সর্বশেষ দাবি, এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাহিদ বালীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর গ্রেপ্তারের তারিখ, কোন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আদালতের নথি এই প্রতিবেদনের জন্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, জাকির বালী এখনো পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে অভিযোগকারী পক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ১০টি মামলার তথ্য থাকার কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব মামলার নম্বর, বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা প্রয়োজন।

কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকার তথ্যই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করে না। তাই সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, আদালতের আদেশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি।

২০২২ সালের মাদক মামলার প্রতিবেদনে একই নাম

জাকির বালীকে ঘিরে আলোচনার মধ্যে ২০২২ সালের একটি পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদনও সামনে এসেছে। এনটিভি অনলাইনে ওই বছরের ১৭ মার্চ প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছিল, বরিশালের উজিরপুরের হারতা এলাকায় র‍্যাবের অভিযানে জাকির হোসেন বালী (৪৫) ও সমীর হালদারকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের কথা জানায় র‍্যাব-৮। ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল।

তবে পুরোনো প্রতিবেদনে উল্লিখিত জাকির হোসেন বালী এবং বর্তমান ঘটনায় অভিযুক্ত জাকির বালী একই ব্যক্তি কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নাম, এলাকা ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নথি যাচাই ছাড়া তাঁদের একই ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।

একইভাবে, জাকির বালীর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা থাকার দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট থানার মামলা-সংক্রান্ত তথ্য ও আদালতের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এসব মামলার কোনোটির সঙ্গে বর্তমান ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাদক কারবারের অভিযোগের সঙ্গে চুরির যোগসূত্র কী?

ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ক্যামেরা চুরির অভিযোগের সঙ্গে মাদক কারবারের বিরোধের সম্ভাব্য সম্পর্ক। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আশপাশে মাদক বিক্রির বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি কয়েকজনকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর ধারণা, এরপরই বিরোধ তৈরি হয়।

তবে এই বক্তব্যের বাইরে চুরির সঙ্গে মাদক কারবারের সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করে—এমন কোনো যাচাই করা প্রমাণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ক্যামেরাগুলো কে বা কারা নিয়েছে, কী উদ্দেশ্যে নিয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের বিষয়।

এলাকায় মাদক বিক্রি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রতিবাদকারীদের হুমকি দেওয়ার যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্তের প্রত্যাশা

একজন পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি থেকে নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত ছয়টি সিসি ক্যামেরা চুরির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে হারতা এলাকায় মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ থাকলে সেগুলোও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য, পুলিশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং মামলার নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আনা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করা এবং নির্দোষ ব্যক্তির হয়রানি এড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, হারতায় সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং এর সঙ্গে মাদক কারবারের বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়। এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্ভরযোগ্য নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে।




নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নিখোঁজ প্রতিবন্ধী কিশোরী উদ্ধার, মোটরসাইকেল চালক আটক।

লোহাগড়া প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া সুহানা (১৪) নামে এক বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় তাকে বহনকারী মোটরসাইকেল ও চালককেও উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বেলা ১১টার দিকে বাড়ির সামনে থেকে মোটরসাইকেলে করে সুহানাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সে মোঃ এনামুল বিশ্বাস ও আন্নি খানমের মেয়ে। তাদের বাড়ি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ ঠাকুরের বাড়ির পাশে।

ঘটনার বিষয়টি লোহাগড়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম নড়াইল জেলা ট্রাফিক টিমকে বিষয়টি জানান। পরে সমন্বিত তৎপরতায় নড়াইলের ভূমদদিয়া এলাকা থেকে কিশোরী সুহানাকে মোটরসাইকেল ও চালকসহ উদ্ধার করা হয়।




রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পাওয়ার স্টার্টআপ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন পায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। এদিন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ- বায়েরা এর অনুমোদন দেয়।

এই ধাপে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হবে। অর্থাৎ, চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আগের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। সবশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কেটে গেছে। এর পরের ধাপ ‘বি টু’। এই ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপরই শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি।

এটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এখানে ধাপে ধাপে সফলভাবে এগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত এলে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।




ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন মিষ্টি নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর বাসায় মির্জা ফয়সল আমীন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে মিষ্টি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ারের বাসায় গেলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে জেলা শহরের হাজীপাড়ায় অবস্থিত দেলাওয়ারের বাসায় গিয়ে এলাকার উন্নয়নে সহযোগিতা চান ফয়সল আমীন। পরে কুশল বিনিময় করে একে অপরের মুখে মিষ্টি তুলে দেন।

 

এরআগে, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ারের বাসায় প্রবেশ করেই মির্জা ফয়সল আমীন হাত চেপে ধরে বলেন, এই জেলার মানুষের জন্য দুজনকেই কাজ করতে হবে। এমপির ছায়া হিসেবে রাখতে চাই, চাই সহযোগিতা। কারণ নির্বাচনের আগে উভয়েই ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

 

এ সময় জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, অবশ্যই একে একে সহযোগিতা করবো। তবে ভোট শেষ হয়েছে, এবার যেন বিরোধীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন না হয়।

 

পরে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

 

গতকাল ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।




এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর পেল বাংলাদেশ, জাতিসংঘের অনুমোদন

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর মাসে এলডিসি উত্তরণ হবে বাংলাদেশের। একই সময় পেয়েছে নেপালও।

উত্তরণের আগে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও নেপাল সরকার অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল।

নিউইয়র্কে আজ অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের দুই দিনের মাথায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) কাছে চিঠি দিয়ে উত্তরণের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানায়।

সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সামনে থাকা গুরুতর চ্যালেঞ্জগুলোর কথা স্বীকার করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সৃষ্ট বিঘ্নের কারণে অনিশ্চিত মাত্রার ঝুঁকি বেড়েছে।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, সাম্প্রতিক অভিঘাতের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং দেশের অভ্যন্তরীণ দীর্ঘদিনের দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছরের প্রস্তুতিকাল দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ আরও উল্লেখ করেছে, ইউএনসিডিপির মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিদ্যমান এলডিসি উত্তরণ কাঠামোয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের জটিলতা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিবেচনার দাবি রাখে।

সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় বহিরাগত অভিঘাতের প্রভাব বাড়িয়ে দেয় এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।

জাতিসংঘের প্রস্তাবে বর্ধিত প্রস্তুতিকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া ও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ কৌশল বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে ইউএনসিডিপির কাছে বার্ষিক প্রতিবেদনে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের চিঠি পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউএনসিডিপির ২৮তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এ অনুরোধ মূল্যায়নের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়। পরে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার জন্য সাধারণ পরিষদে সুপারিশ করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি জানান, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সময় বাড়ানোর আবেদন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

জি-৭৭ভুক্ত দেশগুলো এ আবেদনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) বাংলাদেশের অনুরোধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তিন বছর সময় বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানিতে গড়ে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আশঙ্কা থেকে আপাতত স্বস্তি মিলবে। উত্তরণের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রক্রিয়াটি মসৃণ করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরকারকে সময় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের পণ্য প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

বর্তমানে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকেরা ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্য জোটে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের মোট রপ্তানির ৭৩ শতাংশ এলডিসিভিত্তিক বিশেষ বাণিজ্য সুবিধার আওতায় রয়েছে।

মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক (ইভিআই)-এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করায় চলতি বছর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল। ২০১৮ সালের পর জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বাংলাদেশকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য দুই বছর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) উত্তরণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩০৭ ডলার। ওই সময় বাংলাদেশের মাথাপিছু জিএনআই ছিল ২ হাজার ৬৮৪ ডলার।

একই পর্যালোচনায় এলডিসি উত্তরণের জন্য মানবসম্পদ সূচকের (এইচএআই) ন্যূনতম মান নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৯ দশমিক ৬। বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৭ দশমিক ৫। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের (ইভিআই) সীমা ছিল ৪০ দশমিক ৬। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২১ দশমিক ৯।

সব কটি মানদণ্ড পূরণ করলেও উত্তরণ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং অর্জিত উন্নয়ন ধরে রাখাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের বৃহত্তম এলডিসি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে জটিল। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হচ্ছে, যা কয়েক দশকের উন্নয়ন অগ্রগতিকে চাপে ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২১ সালের ২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউএনসিডিপির দ্বিতীয় ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশকে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো দেশটি উত্তরণের তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছিল।

জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের জন্য একটি দেশকে অন্তত দুটি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যে তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে। তবে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের পরও পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় এ অবস্থান ধরে রাখতে হয়।

২০১৯ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) ছিল ১ হাজার ৮২৭ ডলার, যা জাতিসংঘ নির্ধারিত ১ হাজার ২২২ ডলারের সীমার চেয়ে বেশি। মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৫ দশমিক ৩, যেখানে জাতিসংঘের নির্ধারিত সীমা ছিল ৬৬। আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৭ দশমিক ৩, যা উত্তরণের জন্য নির্ধারিত ৩২-এর সীমার নিচে।