নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দগ্ধ হয়ে নয়, কলকাতার হোটেলে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান ৯ বাংলাদেশী

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, নিহত সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, আগুনে দগ্ধ হয়ে নয়, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টার দিকে নিউ মার্কেট থানার অন্তর্গত মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন নামের হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। পরে ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ওই পাঁচতলা ভবনে একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। আগুনের সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত ২টা ৭ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলটি পশ্চিমবঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের কাছেই হওয়ায় দ্রুত সেখানে পৌঁছান দমকলকর্মীরা। পরে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন।

তবে ভবনটি সরু গলির মধ্যে হওয়ায় গাড়ি খুব বেশি ভেতরে ঢুকতে পারেনি। প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পরে দমকলকর্মীরা ভবনের ভেতরে ঢুকে অতিথিদের উদ্ধারে অভিযান চালান। ধোঁয়ায় সিঁড়িঘর ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে তাদেরও সমস্যায় পড়তে হয়।

পুলিশের দাবি, ভবনটির বিভিন্ন হোটেল থেকে ৬৫ জনের মতো অতিথিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় তলার হোটেল থেকে ১৫ জনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা নয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আরো ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের শরীরে গুরুতর দগ্ধ বা ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন তেমন পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ঘন ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আগুন লাগার পর হোটেলের লিফট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অতিথিদের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু সিঁড়ি ও প্রবেশপথ সংকীর্ণ হওয়ায় অনেকেই আটকা পড়েন। ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকজন হোটেল কক্ষের ভেতরেই অচেতন হয়ে পড়েন।

অতিথিদের অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ভবনটিতে জরুরি বহির্গমন পথ বা পর্যাপ্ত বিকল্প বের হওয়ার ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। ধোঁয়ায় পথ দেখা না যাওয়ায় অনেকে কীভাবে বাইরে বের হবেন, তা বুঝতে পারেননি। কেউ কেউ বাথরুমে ঢুকে জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

হোটেলের এক অতিথি ইজাজ আহমেদ জানান, তিনি ও তার এক বন্ধু মঙ্গলবার রাতেই রামপুরহাট থেকে সেখানে উঠেছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাওয়াদাওয়া শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সোয়া ২টার দিকে দুই নারীর চিৎকারে তাদের ঘুম ভাঙে। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ধোঁয়া ঢুকে পড়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘর থেকে বের হওয়ার বারান্দাটিও ছিল খুব সরু এবং ধোঁয়ায় সেটি ঢেকে গিয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলগুলোয় সাধারণত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা ভিনরাজ্য ও বিদেশী নাগরিকরা থাকেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিরা কীভাবে ওই হোটেলে উঠেছিলেন, তাদের পরিচয় ও স্বজনদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরীক্ষা করবেন। হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এবং ভবন ব্যবহারের অনুমোদন ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসছে।

বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ভবনটি মূলত আবাসিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও পরে সেখানে একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস চালু করা হয়। এতে ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকও অভিযোগ করেছেন, ভবনটি বিধি মেনে ব্যবহার করা হচ্ছিল না। তার দাবি, মূলত আবাসিক ভবনটিকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত কক্ষ তৈরির জন্য ভবনের কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

ঘটনার পর হোটেল ও আশপাশের এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ফায়ার সার্ভিসের ডিজি অনুজ শর্মাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুন লেগে নয়জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচজন ছিলেন। তারও আগে গত বছরে এপ্রিল মাসে কলকাতার বড়বাজারের মেছুয়া ফলপট্টি এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।




নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলার যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত

কেমিক্যাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের আভিযানিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ উদ্যোগে একটি ‘সিচুয়েশন্যাল ট্রেনিং এক্সারসাইজ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বানৌজা ঈসা খান এ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত মহড়াটিতে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪১ জন সদস্য এবং নৌবাহিনীর ৪৫৫ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি) বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিতভাবে ‘Basic Assistance and Protection Course for Responders (BAPCOR)’ প্রশিক্ষনের আয়োজন করে থাকে।

মহড়ায় রাসায়নিক দুর্ঘটনাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিক পদার্থের বিস্তার রোধ, আক্রান্ত ও বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরসহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম অনুশীলন করা হয়। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধারকারী সদস্যদের নিরাপত্তা এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সংস্থাসমূহের সদস্যরা পারস্পরিক যোগাযোগ, দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত রাসায়নিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন করেন। এর মাধ্যমে নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় এবং দ্রুত সাড়া প্রদানের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশেষ করে বন্দর, জাহাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য রাসায়নিক দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে প্রাণহানি, সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’




তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যদের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্য। তারা হলেন- রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিহ উল্লাহ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতের সময় দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানিয়েছেন।

এর আগে সকালে স্থায়ী কমিটির এই চার সদস্য শেরে বাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান।

গত ১৫ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে এই চার সদস্যকে মনোনীত করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়াতে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার নেতাকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।”

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরে সদস্যদের মৃত্যু ও পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য হয়। বিভিন্ন সময়ে এসব পদে নতুন সদস্য যুক্ত করেছে দলটি। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হয়।

স্থায়ী কমিটিতে আগে থেকে ১৩ জন ছিলেন। তারা হলেন- তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। ২০ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর তিনি দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

নতুন চার সদস্য যুক্ত হওয়ায় স্থায়ী কমিটির সদস্য দাঁড়াতে যাচ্ছে ১৬ জনে।




এআই’র অপব্যবহার রোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব ও অপব্যবহার রোধে নীতি নির্ধারণ এবং সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির এই আশীর্বাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে জনকল্যাণমুখী করতে না পারলে তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের মতো মানবসভ্যতার জন্যই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।’

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে নরওয়ে সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

সেমিনারে ইউএনডিপি ও নরওয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি বা তথ্যের সততা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার বিষয়টি এখন কেবল সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টেক জায়ান্টদের একার বিষয় নয়। এটি আমাদের সম্পূর্ণ একটি নতুন ইকোসিস্টেমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাঠামোগত জটিলতা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্ম মূলত ব্যবসার উদ্দেশে পরিচালিত হয়, জনকল্যাণের জন্য নয়। সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা ইন্টারনেট এবং সামাজিক মাধ্যমের এই ব্যবসায়িক স্বার্থ একত্রে এক জটিল বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। এই ইকোসিস্টেমের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলার মাধ্যম আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আজকাল অনেক পেশাজীবী বা তরুণ নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতা ব্যবহারের চেয়ে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা কাজের মৌলিকত্ব ও সততাকে ব্যাহত করছে। প্রযুক্তি আমাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও কাজের দক্ষতাকে বৃদ্ধি করবে ঠিকই, তবে তা যেন আমাদের চোরাবালির দিকে নিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আইটি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কান্ডজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নীতি নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশ থেকে অপতথ্য প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে গণমুখী করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফোরাম ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা আশা করেন তথ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ায় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।

সেমিনারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের প্রতিনিধিবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




‘গ্যাস সংকট কাটাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে’- উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

দেশের চলমান গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার ফল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্রেটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে জ্বালানি খাতে স্বস্তি ফিরতে অন্তত আরও দুই বছর সময় প্রয়োজন। এ সময়ের মধ্যে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ বলেন, বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে- এটি সরকার স্বীকার করছে। প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া সংকটের দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানো সঠিক নয়।

বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধী দল সরকারের ওপর দায় চাপাবে, সেটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো উচিত নয়। তাদের রাজপথের পরিবর্তে সংসদে গিয়ে যুক্তি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে আন্দোলন করলে মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।

গ্যাসের ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান চাহিদার তুলনায় প্রতিদিনই বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এমনকি কয়েকটি কারখানা চালু হলেও চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের ব্যবধান পুরোপুরি দূর হবে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ডা. জাহেদ বলেন, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বিষয়েও কাজ চলছে। স্থলভাগে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এ কাজে নতুন দুটি রিগ কেনার পাশাপাশি বিদ্যমান রিগগুলো সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থলভাগে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে দেশের স্থলভাগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস মজুত থাকার ধারণা রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগানোর মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকার এখন অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কয়লা ব্যবহারের বিষয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সংকট পুরোপুরি কাটতে সময় লাগলেও এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে ডা. জাহেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব এখনকার পরিস্থিতিতে পড়েছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তাও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজার আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

সভায় দেশের প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

ডা. জাহেদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে হবে। হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন গতি আনতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

এ সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব দীপংকর বিশ্বাস, রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসি সচিব

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুইজন প্রার্থীর কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ আগস্ট (বৃহম্পতিবার) প্রায় ৩৫ বছর পরে দেশে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়।

বিকেল চারটার পরে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে ভোটের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।

ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ প্রতদ্বিন্দ্বিতা করছেন।

ইসি সচিব বলেন, আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে এই ভোটগ্রহণ হবে। ভোট গ্রহণের শুরুতে নির্বাচন কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের (ভোটার) ভোটগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানাবেন।

ইসি সচিব জানান, আজই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপার তৈরি করা হবে। ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করে সংসদ সদস্য ব্যালট গ্রহণ করবেন।

ইসি সচিব বলেন, একটা স্পেসে সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটটা গ্রহণ করবেন। ডান পাশের অংশে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো হবে। সেই অনুযায়ী তাদের নাম প্রিন্ট করা থাকবে এবং প্রিন্টের পাশে ডান দিকে স্পেস থাকবে যেখানে তারা সংসদ সদস্যরা তাদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপরে নির্ধারিত ব্যালট বক্সে তারা ব্যালট পেপারটা জমা দেবেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। ৫টার পরে ব্যালট কাউন্ট করা হবে। ব্যালটের রঙটা হচ্ছে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার ৩৪৯ জন এমপি। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদকক্ষেই গণনা করা হবে। পরে সেখানে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে গেজেট প্রকাশ করা হবে।




রোহিঙ্গার সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের বিভ্রান্তিকর তথ্যে ক্ষুব্ধ ঢাকা

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নিয়ে দেশটির সাম্প্রতিক বিভ্রান্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ বিবৃতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোর সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান।

বৈঠকে গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রোহিঙ্গা বিষয়ক বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, ওই বিবৃতির অনেক তথ্যই ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের দেওয়া তথ্য সঠিক নয় বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তিনি জোরালোভাবে বলেন যে, জাতিসংঘ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত তথ্যই একমাত্র সঠিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিসংখ্যান, যা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রকৃত জনসংখ্যাকে প্রতিফলিত করে।

বৈঠকে মহাপরিচালক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার জন্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে চাপ দেন। বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় আশ্রয়শিবিরে জন্ম নেয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের সংকটের পর রাখাইন থেকে বাধ্য হয়ে পালিয়ে আসা নতুন সংখ্যানুপাতকেও অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে এই জনগোষ্ঠীর নিবন্ধন প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তা যথাসময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মহাপরিচালক এই অতিরিক্ত তথ্যগুলো যাচাই প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ভুলভাবে সংজ্ঞায়িত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ঢাকা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাষ্ট্রদূতকে তৌফিক-উর-রহমান মনে করিয়ে দেন যে, রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই ‘বাঙালি’ নয়। তাদের একটি নিজস্ব ও সুনির্দিষ্ট জাতিগত পরিচয় রয়েছে, যা অতি সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত মিয়ানমার রাষ্ট্র নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করত।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেন যে, ঢাকার এই গভীর উদ্বেগ এবং পর্যবেক্ষণগুলো তিনি দ্রুত তার দেশের রাজধানীতে পৌঁছে দেবেন। একই সঙ্গে তিনি যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করতে তার সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মহাপরিচালক বৈঠক শেষ করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।




শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সাবেক স্বামী সাদ্দামের হোসেন জয়ের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি ও অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নারীর বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখানো, অর্থ আদায়, হত্যার হুমকি এবং অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছেন এক নারী। একই সঙ্গে তার বর্তমান স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গরম ডালের পাতিল ছুড়ে গুরুতর আহত করারও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই নারী। সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার মিরপুর-১০ এর সেনপাড়া পর্বতা  এলাকায় অবস্থিত মিরপুর প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার সাবেক স্বামী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন জয় ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। ওই নারীর দাবি, কয়েক বছর আগে সাদ্দাম হোসেন জয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি বিদেশে গিয়ে উপার্জন করেন এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশে একটি বাড়ি নির্মাণ ও ক্রয় করেন। ওই অর্থের বড় অংশই তিনি তৎকালীন স্বামী শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন জয়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে সাদ্দাম হোসেন জয় বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে তার কাছ থেকে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা নিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদক সেবন এবং বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিকভাবে চলাফেরার অভিযোগও করেন তিনি। তাদের সংসারে দুই সন্তান থাকলেও সাবেক স্বামী সন্তানদেরও দেখাশোনা করেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

পরিস্থিতির একপর্যায়ে প্রায় নয় মাস আগে ওই নারী সাদ্দাম হোসেন জয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। এরপর প্রায় এক মাস আগে তিনি রবিউল ইসলাম রবু নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।

অভিযোগকারী নারীর ভাষ্য, বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই সাদ্দাম হোসেন জয় বিভিন্নভাবে তাকে চাপ দিতে থাকেন। তার মালিকানাধীন বাড়িটি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং বাড়িটি না লিখে দিলে তার বর্তমান স্বামী রবিউল ইসলাম রবুকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন জয় বিদেশে চলে যান। পরবর্তীতে দেশে ফিরে তিনি আবারও ওই নারীকে টাকা এবং বাড়ীর জন্য  বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকেন। মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন জয় ওই নারীকে তার এক বন্ধুর বাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে তাকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে কথিত চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয় এবং তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

ওই নারীর দাবি, পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগকারী জানান, একপর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন জয় তার কথিত সহযোগীদের নিয়ে টাকা নিতে ওই নারীর বাড়িতে আসেন। এ সময় তার বর্তমান স্বামী রবিউল ইসলাম রবু একটি দোকানে ছিলেন। স্ত্রীর ফোন পেয়ে বাড়িতে কোনো বিপদ হয়েছে জানতে পেরে তিনি দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসেন। বাড়িতে এসে তিনি সাদ্দাম হোসেন জয় ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে দেখতে পান বলে অভিযোগ করা হয়।

এ সময় রবিউল ইসলাম রবুকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। অভিযোগকারী নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় দুপুর হওয়ায় তিনি রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একপর্যায়ে তার বর্তমান স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে রান্না করা গরম ডালের একটি পাতিল ছুড়ে মারা হয়। এতে রবিউল ইসলাম রবু গুরুতর আহত হন এবং পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

আহত হওয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ ঘটনার বিভিন্ন প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

তবে অভিযোগকারীর দাবি, থানায় বিষয়টি জানিয়ে জিডি করা হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের হামলা বা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী বলেন, তিনি তার নিজের উপার্জনে তৈরি করা সম্পদ রক্ষা, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং সাবেক স্বামী ও তার সহযোগীদের কথিত সন্ত্রাসী বাহিনী হুমকি-ধামকি থেকে মুক্তি চান।

একই সঙ্গে তার কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অর্থ, অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, হত্যার হুমকি এবং তার বর্তমান স্বামীকে আহত করার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তিনি।

তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।




জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্যের শ্রদ্ধা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির নবনিযুক্ত ৪ সদস্য।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় তারা সেখানে যান। প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং পরে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

তারা হলেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, আমান উল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিউল্লাহ ও অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব ও মীর সরাফত আলী সফুসহ নেতাকর্মীরা।

এর আগে গত ১৫ আগস্ট স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান তারা।




দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর পর কিমের সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন তার সাম্প্রতিক যোগাযোগের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর এক দিন পর ট্রাম্প এ কথা বলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সম্পর্কেরও প্রশংসা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতিকে ‘আরও নিরাপদ’ করছেন। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে থাকার সময় কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এখনো তাঁদের মুখোমুখি সাক্ষাৎ বা বৈঠক হয়নি।

পরমাণু অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রশংসা করলেও ট্রাম্প তার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সমালোচনা করেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করার জন্য তিনি সিউলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান যাতে পরমাণু বোমা তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই যুদ্ধ চালানো হচ্ছে।

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কিম কেন তার সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধে সাড়া দেননি—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি কীভাবে জানলেন যে তিনি সাড়া দেননি?’

কিম সত্যিই সাড়া দিয়েছেন কি না, আবার জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি সাড়া দিয়েছেন।’ কিমের সঙ্গে যোগাযোগ কোন পর্যায়ে রয়েছে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি ‘খুবই ইতিবাচক’। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।

এরপর কিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের আরও প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, এই সম্পর্ক উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করছে। ট্রাম্প বলেন, ‘দেখুন, আমি আসলে পরিস্থিতিকে আরও নিরাপদ করে তুলছি। কিম জং উন সবসময় আমার প্রতি অত্যন্ত সম্মান দেখিয়েছেন। আমি তাঁকে বুঝি, তিনিও আমাকে বোঝেন।’