যে সমীকরণে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে পারে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। হবে না-ই বা কেন, যেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বড় বড় দল গিয়ে হাঁসফাঁস করে, সেখানেই বাংলাদেশ দেখাল নতুন দিনের আলো। সাড়ে তিন দিনে হওয়া ১১টি সেশনের মধ্যে সবগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

টেস্টের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলেও উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ৫টি ম্যাচ খেলে ৩টিতে জয় ও সমান ১টি করে ড্র ও হারে বাংলাদেশের পয়েন্টের শতকরা হার (পিসিটি) ৬৬.৬৭।

এমন সাফল্যে টাইগাররা পেছনে ফেলেছে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দলকে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে কেবল অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, টেবিলের শীর্ষ দুই দল সরাসরি ফাইনাল খেলার সুযোগ পাবে। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ কী ফাইনালের মঞ্চে উঠতে পারবে?

পরিসংখ্যান ও অতীতের সমীকরণ বলছে, লর্ডসে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে একটি দলকে সাধারণত টুর্নামেন্ট শেষে অন্তত ৬৫ শতাংশের বেশি পয়েন্ট ধরে রাখতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ এই গণ্ডির মধ্যেই আছে। তবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান সিরিজে এখনো আরও একটি ম্যাচ বাকি বাংলাদেশের। এই চক্রে বাংলাদেশের অপেক্ষা করছে আরও কয়েকটি কঠিন পরীক্ষা। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ রয়েছে টাইগারদের। এই সিরিজগুলোতে প্রতিটি দলের সঙ্গেই দুটি করে টেস্ট খেলার কথা বাংলাদেশের। ফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচগুলোতে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পয়েন্ট নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলগুলোর দিকেও নজর রাখতে হবে বাংলাদেশকে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড যখন নিজেদের মধ্যে মুখোমুখি হবে, তখন পয়েন্ট হাতবদলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও ওপরে ওঠার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে। এছাড়া স্লো ওভার রেটের কারণে যেন কোনো পেনাল্টি পয়েন্ট কাটা না যায়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে টাইগারদের।

ডারউইনের এই ঐতিহাসিক জয় প্রমাণ করে দিয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন আর কেবল অংশ নেওয়া দল নয়। এই ছন্দ ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ২০২৭ সালের লর্ডস ফাইনালের দৌড়ে শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষ হিসেবেই লড়বে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৭ চক্রের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের কাছে হেরে কিছু পয়েন্ট হারালেও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া (৭৭.৭৮ শতাংশ)। দুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৫.০০ শতাংশ) এবং তিনে রয়েছে নিউজিল্যান্ড (৭২.২২ শতাংশ)।

এরপরই চার নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ (৬৬.৬৭%), টাইগারদের নিচে রয়েছে যথাক্রমে ভারত (৪৮.১৫%), শ্রীলঙ্কা (৪১.৬৭%), ইংল্যান্ড (২৪.৩৬%), পাকিস্তান (২২.২২%) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০.৮৩%)।




বিআইডব্লিউটিএতে ‘রহিম সিন্ডিকেটের’ দাপট ভুয়া বিল, জ্বালানি তেল লোপাট ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ; ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় শতকোটি টাকার সম্পদের দাবিও

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতার প্রভাব, কথিত রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের নিয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট—এসবের সমন্বয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সরকারি অর্থের অপব্যবহার, জাহাজের জ্বালানি ব্যবহারে কারসাজি এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক হিসাব, সম্পদের মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই ছাড়া কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ, পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আব্দুর রহিম পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং সাবেক নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁর প্রশাসনিক প্রভাব অক্ষুণ্ন রয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের।

সম্প্রতি তাঁকে বরিশালের ডিইপিটিসিতে প্রিন্সিপাল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন।

তাঁদের প্রশ্ন, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকলে সেগুলোর তদন্ত ও নিষ্পত্তি না করে তাঁকে এক পদ থেকে অন্য পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে কেন?

অভিযোগকারীদের মতে, এ ধরনের পদায়ন যদি তদন্তের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

অলস জাহাজ কাগজে সচল, জ্বালানি খরচের বিলও সচল!

আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর বিষয়গুলোর একটি নারায়ণগঞ্জের নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা দপ্তরকে ঘিরে।

সূত্রের দাবি, ২৫০ টন উত্তোলনক্ষম উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদীতে দীর্ঘদিন অলস অবস্থায় পড়ে থাকলেও সরকারি নথিতে সেটিকে সচল দেখানো হয়েছে। একই সময়ে জাহাজটির নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের বিল তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে একই সময় আরেকটি উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’ বরিশাল থেকে পরিচালিত হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এ ক্ষেত্রে জাহাজটি বাস্তবে কতদিন ও কত ঘণ্টা চলেছে, কত পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করেছে এবং নথিতে উল্লেখ করা জ্বালানি খরচের সঙ্গে বাস্তব ব্যবহারের মিল রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানেও নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের নথিপত্রে জ্বালানি খরচের গরমিল ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান নথি ও সরকারি রেকর্ড স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

‘বাহার সিন্ডিকেটে’ বয়া–বিকনের কোটি টাকার কাজ?

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আন্তর্জাতিক প্রকল্পের আওতায় আমদানি করা বয়া-বিকন বাতির কাজকে ঘিরে।

অভিযোগকারীদের দাবি, আব্দুর রহিমের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত ‘বাহার’-এর সঙ্গে যোগসাজশে একটি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে অন্য ঠিকাদারদের কার্যত প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এসব কাজের ক্ষেত্রে ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে।

অভিযোগে উল্লিখিত কয়েকটি বিলের তথ্য হলো—

  • আখি এন্টারপ্রাইজ: টিপি-১৩৫-এর ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
  • তানিয়া এন্টারপ্রাইজ: এমপি-১২-এর ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং স্পিডবোট-১ মেরামতের নামে ৮ লাখ ৮১ হাজার ১০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
  • তানজিল ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস: টিপি-৮০-এর ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৫২ টাকা এবং টিপি-১৭৩-এর নামে ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
  • আলিফ এন্টারপ্রাইজ: টিপি-৪৫-এর ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৫১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

তবে এসব অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, মাপজোক বই, কাজের পরিমাপ, মেরামত-সংক্রান্ত নথি, জাহাজের লগবুক এবং বাস্তবে কাজ সম্পন্ন হয়েছিল কি না—এসব নথি পর্যালোচনা করা জরুরি।

ঢাকা–সাভারে ‘সম্পদের পাহাড়’, অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ

অভিযোগকারীদের দাবি, ভুয়া বিল-ভাউচারসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে আব্দুর রহিম ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ এবং তাঁর নিজ জেলা পাবনায় বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদগুলোর মধ্যে রয়েছে—

 উত্তর মুগদা: ‘আলিফ গার্ডেন’ (৫৮/৩০/গ)-এ দুটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট এবং ঝিলপাড় রোডের ৫৪ নম্বর বাড়িতে দুটি ফ্ল্যাট। অভিযোগকারীদের হিসাবে এসব সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

কেরানীগঞ্জ: ফতুল্লা লঞ্চঘাটের বিপরীতে ঠিকাদার বাহারের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় একটি বড় ডকইয়ার্ড থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে এর মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলা হয়েছে।

আশুলিয়া: ইসলামনগরে আরএস দাগ-১৮৩৩-এর ১০ কাঠা জমির ওপর আব্দুর রহিম ও লিমা তাবাসসুমের নামে পাঁচতলা ভবন রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগিত মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

সাভার: কাঠগড়ায় চার ইউনিটের সাততলা ভবন এবং সাভার বাজারের অন্ধ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় দুটি দোকান থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের হিসাবে এসব সম্পদের মূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি।

মোহাম্মদপুর: হাউজিং এলাকায় প্রায় ৬ শতাংশ মূল্যবান জমি থাকার অভিযোগ রয়েছে, যার অভিযোগিত মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা।

এ ছাড়া রামপুরা ও হাতিরপুলে একাধিক ফ্ল্যাট-বাড়ি এবং ঢাকা ও সাভারে নিজের ও বেনামে আরও জমি ও প্লট থাকার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস কিংবা কোনো সম্পদ বেনামে রাখা হয়েছে কি না—এসব নিশ্চিত করতে ভূমি রেকর্ড, দলিল, নামজারি, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সম্পদ বিবরণী যাচাই করা প্রয়োজন।

পাবনায় ‘শতকোটি টাকার’ সম্পদের অভিযোগ

আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশ তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনাকে ঘিরে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নিজ গ্রামের আশপাশে প্রভাব খাটিয়ে একটি বড় সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের বাড়ি দখল অথবা ক্রয়ের মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে ওই সম্পদের মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, মালিকানা রেকর্ড, ক্রয়-বিক্রয়ের নথি, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেই কেন?

আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

তাঁদের অভিযোগ, এত গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পরও দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বদলি কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তদন্তের পরিবর্তে যদি শুধু পদায়ন বা দায়িত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা অনিয়ম বন্ধের বদলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার প্রশাসনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার বার্তা দিতে পারে।

প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়

আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রতিটি দিক নথিভিত্তিক ও স্বাধীন তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে—

  • জাহাজের লগবুক ও জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব;
  • জ্বালানি ক্রয় ও সরবরাহের নথি;
  • ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগ;
  • ঠিকাদারি কার্যাদেশ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া;
  • প্রকল্পভিত্তিক অর্থ ব্যয়ের হিসাব;
  • সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও পারস্পরিক সম্পর্ক;
  • কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না;
  • আব্দুর রহিম ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা সম্পদের বৈধ উৎস;
  • ব্যাংক লেনদেন, আয়কর নথি ও সম্পদ বিবরণী—

এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। আবার অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন

বিআইডব্লিউটিএর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের দাবি, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রশাসনিক প্রভাবের ভিত্তিতে নয়—প্রমাণ ও নথির ভিত্তিতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি অর্থ ও সম্পদের ওপর কোনো ব্যক্তি বা সিন্ডিকেটের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া যায় না।




আইইবির ফ্যামিলি লাউঞ্জে পরিবারসহ জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনার অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ইআরসি ফ্যামিলি লাউঞ্জে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানের সামনে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার ফজলে রাব্বী রনিকে লাঞ্ছনা, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম ও সুজাউদ্দিন সুজন নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আইইবির ইআরসি ফ্যামিলি লাউঞ্জে যাওয়ার পর সেখানে উপস্থিত নজরুল ইসলাম তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। রনি নিজেকে আইইবি ঢাকা সেন্টারের কাউন্সিল মেম্বার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁকে অপমান ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর ঘটনার প্রতিবাদ করেন রনি। তাঁর দাবি, এ সময় নজরুল ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনকি তাঁকে উদ্দেশ করে ‘আগামীকালের মধ্যে তোকে খেয়ে ফেলবো’—এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

‘থাপ্পড় দিয়ে দাঁত খুলে ফেলার’ হুমকির অভিযোগ : ঘটনার একপর্যায়ে সুজাউদ্দিন সুজন নামের আরেক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন রনি। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে তাঁকে ‘থাপ্পড় দিয়ে দাঁত খুলে ফেলার’ হুমকি দেন। একটি পেশাজীবী সংগঠনের ফ্যামিলি লাউঞ্জে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এমন আচরণের অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে আইইবির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও।

প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহারের অভিযোগ : ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় নজরুল ইসলাম নিজেকে এ্যাবের সদস্য সচিব শোয়েব বাঁশরী হাবলুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেন। রনির দাবি, নজরুল ইসলাম নিজেকে হাবলুর ‘গুরু ও বড়ভাই’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সংগঠনের ওপর নিজের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। তবে এ বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সালিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন : ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসায় সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফজলে রাব্বী রনি। তবে প্রস্তাবিত সালিশের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রনির অভিযোগ, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় অনুষ্ঠেয় সালিশে এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। ভুক্তভোগী ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সরাতে চাপের অভিযোগ : ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার চেয়ে দেওয়া পোস্ট মুছে ফেলতে তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন রনি। তাঁর দাবি, শাহাদাত মাছুম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁকে মানসিক চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিন দফা দাবি : ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে নজরুল ইসলাম ও সুজাউদ্দিন সুজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ; পক্ষপাতমুক্ত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট মুছে ফেলতে চাপ বা হুমকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

ফজলে রাব্বী রনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। পরিবার নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের ফ্যামিলি লাউঞ্জে গিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত অপমানজনক ও উদ্বেগজনক। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নজরুল ইসলাম, সুজাউদ্দিন সুজন, শোয়েব বাঁশরী হাবলু ও শাহাদাত মাছুমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি।




এমপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

ঘটনার পর এমপির সঙ্গে থাকা ফয়সল বিশ্বাস নামের একজনের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এমপি আইনুল হক বলেন, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যে তারা বের হয়েছিলেন। এ সময় কিছু দুষ্কৃতকারী হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। একজন সংসদ সদস্য হয়েও তিনি বর্তমানে নিরাপদে নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় এমপির সঙ্গে থাকা ফয়সল বিশ্বাস ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর ইন্ধনে ছাত্রশিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীরা এমপির গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে।’

রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের রায়গঞ্জে একটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের জন্য কয়েকটি স্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে জোড় দাবি জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের জন্য।

এমন পরিস্থিতিতে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের স্থান নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনার জন্য রায়গঞ্জ পৌর বিএনপি একটি সভার আয়োজন করে। আজ শনিবার বিকেলে ধানগড়া বাজারে পৌর বিএনপির সভাপতি হাতেম আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান মিরনের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য আয়নুল হক।

শামসুল ইসলামের অভিযোগ, সভায় স্থানীয় বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত, শিবির নেতাকর্মী ও সাবেক সমন্বয়কেরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত, শিবির নেতাকর্মী ও সাবেক সমন্বয়কেরা সভার শুরুতেই ধানগড়ায় সেন্টারটি নির্মাণের দাবিতে স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় সংসদ সদস্য এটির স্থান নির্বাচনে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বক্তব্য শেষ করে চলে যাওয়ার মুহূর্তে আচমকা তার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে তারা নিজেরাই নিজেদের গাড়ি ভাঙচুর করে এর দায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা এ ধরনের নোংরা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’




রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই আজ

আগামী ২০ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১৩ আগস্ট শেষ দিনে দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আজ রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ৪টা পর্যন্ত শেষ সময় ছিল। বিকেল ৪টা পর্যন্ত আমরা তিনটা মনোনয়নপত্র পেয়েছি। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি মনোনয়নপত্র পেয়েছি। আর কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র পেয়েছি।

তিনি বলেন, তাদের মনোনয়নপত্রগুলো যথাযথ আছে কি না, তা আজ যাচাই-বাছাই করা হবে। এই যাচাই-বাছাইয়ে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে একজন কর্মকর্তা আসবেন এবং ওনাদের স্বাক্ষরগুলো ভেরিফিকেশন করবেন।

তিনি জানান, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।




কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা ইউনিয়নে জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এসব কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।’ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কিশোরগঞ্জে এটি তারেক রহমানের প্রথম সফর।

প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর অনুযায়ী বেলা সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রক্ষপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান, দুপুর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদি কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন, ১টায় আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জাতীয় মৎস্য পদক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং আড়াইটায় শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন।

দুপুর সোয়া ৩টায় সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্ন ভোজ এবং ৪টায় পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত-ভিক্ষু-পার্দীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানী প্রদানের অনুষ্ঠানে যোগদান। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।




চট্টগ্রাম বন্দরে আলফা অ্যাংকরেজে দুই বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম বন্দরের আলফা অ্যাংকরেজে নোঙর করে থাকা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সঙ্গে চলাচলরত আরেকটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রায় ৩৫ হাজার ৩৫০ টন স্ল্যাগ বহনকারী আনাসা জাহাজের সঙ্গে নোঙর করা জাহাব জাহানের এ সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর দুই জাহাজই নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছে। তবে আনাসার ডান পাশের কাঠামোয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় নেভিগেশন ও পাইলটেজ সহায়তা নিয়ে চলাচলের সময় আনাসা নোঙর করে থাকা জাহাব জাহানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর দুই জাহাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণের কাজ শুরু হয়।

জাহাজ দুটির মধ্যে ২০০০ সালে নির্মিত বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাব জাহান ১৯০ মিটার দীর্ঘ। অন্যদিকে সংঘর্ষে জড়িত আনাসা ২০১১ সালে জাপানের ইওয়াগি শিপবিল্ডিংয়ে নির্মিত। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটির এর আগের নাম ছিল নিও বিচউড ও আইভিএস বিচউড।

জাহাজটির সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আনাসা বর্তমানে নিরাপদে ভাসমান রয়েছে। জাহাজটিতে কোনো ফ্লাডিং বা পানি ঢোকার ঘটনা ঘটেনি। তেল বা পানির অনুপ্রবেশেরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে জাহাজটি কোনো একদিকে কাত হয়নি। এর সামনের অংশের ড্রাফট ১১ দশমিক ৪০ মিটার, মধ্যভাগে ১১ দশমিক ৪৫ মিটার এবং পেছনের অংশে ১১ দশমিক ৫০ মিটার। অর্থাৎ তিন অংশের ড্রাফট প্রায় সমান রয়েছে। সংঘর্ষের পর ড্যামেজ স্ট্যাবিলিটি বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় জাহাজের স্থিতিশীলতার হিসাব করা হয়েছে। এতে জাহাজটি নিরাপদ সীমার মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের পর জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিন, স্টিয়ারিং গিয়ার ও বিভিন্ন পাম্প পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা সচল রয়েছে। জরুরি ব্যবস্থাগুলোও কার্যকর রয়েছে বলে জাহাজটির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শক্তিশালী স্রোতের মধ্যেও জাহাজটির অ্যাংকর নিরাপদে ধরে রয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর জাহাজটির তাৎক্ষণিক ডুবে যাওয়ার বা স্থিতিশীলতা হারানোর কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মাত্রা জানতে আরো বিস্তারিত পরিদর্শন প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ইস্পাতের আবরণ ও কাঠামোগত অংশের ক্ষতি কতটা গভীর এবং জাহাজটি পরবর্তী সময়ে সমুদ্রযাত্রার উপযোগী কি না, তা সার্ভে শেষে স্পষ্ট হবে।

এদিকে সংঘর্ষে জাহাব জাহানের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

তথ্যানুযায়ী, আনাসার সামনের অংশ দিয়ে জাহাব জাহানকে আঘাত করার কথা জানা গেছে। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট আঘাতের স্থান, কোন কোণে সংঘর্ষ হয়েছে এবং দুই জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে জানা যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ এবং নেভিগেশনের সময় দুই জাহাজের অবস্থান, গতি, স্রোতের পরিস্থিতি ও পাইলটেজ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আসবে। দুর্ঘটনার পর সহায়তা দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগ কান্ডারি-৮ এবং বিএলভি লুসাই ঘটনাস্থলে রয়েছে।’




বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণের জন্য, বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য নয়।

তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রাস্তায় বসে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা তৈরির রাজনীতি ছেড়ে জনগণের জন্য কাজ করুন। আপনাদের কাছে যদি জ্বালানি বা বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে, তবে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। যদি আপনাদের পরিকল্পনা ৬ মাসের মধ্যেও সমস্যার সমাধান করতে পারে, তবে সরকার তা সানন্দে বাস্তবায়ন করবে।’

শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মহাপ্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় রূপান্তর করা হবে। এতে করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা ও শিশুরা নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে স্বাস্থ্যসেবা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো যাতে মানুষ বিদেশে যেতে বাধ্য হয়, কিন্তু বর্তমান সরকার দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার দেনা রেখে গিয়েছে এবং জ্বালানি আমদানির অবকাঠামো তৈরি করেনি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাপেক্সকে দেশের মাটিতে গ্যাস খননের নির্দেশ দিয়েছি। দুর্ঘটনাজনিত কারণে একটি এলএনজি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে, যা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’

সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদের ধরণ নিয়ে সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘কিছু দলকে দেখা যাচ্ছে হারিকেন সামনে নিয়ে প্রতিবাদ করছে, অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে। এই হঠকারিতা জনগণ এখন আর পছন্দ করে না। ১৭ বছর যখন মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে, তখন এসব নেতাকে রাজপথে দেখা যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের যে ৪০ কোটি হাত আছে, সেগুলোকে শ্রমিকের নয় বরং দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমি নিজে কী পেলাম সেটি বড় কথা নয়, আমি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করতে পারলাম—সেটিই বড় সার্থকতা।’

বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং  বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেমের পথ ধরে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার শপথ ব্যক্ত করেন।




শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার বেলা পৌনে ১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশ গড়ার কারিগর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মানসূচক অবসর ও কল্যাণ ভাতার চেক তুলে দেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অবসর সুবিধা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন।




ডিএসসিসির হেরিটেজ রানে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ার আহ্বান

রাজধানী ঢাকার সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন নাগরিকদের কাছে তুলে ধরে ঢাকার প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ঐতিহাসিক ‘ঢাকা হেরিটেজ রান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি এবং ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ডিএসসিসির উদ্যোগে ১ আগস্ট হতে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী “হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬” উৎসবের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।

শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিল থেকে শুরু হওয়া এই র‍্যালি প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হামিদুর রহমান, সংসদ সদস্য, ঢাকা-৭। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।

১ হাজারের অধিক নাগরিক এই হেরিটেজ রানে অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে ‌মতিঝিল শাপলা চত্বর হতে কাকরাইল মোড় হয়ে →রমনা → শাহবাগ মোড় → কাটাবন মোড় → ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় → পলাশি মোড় → লালবাগ কেল্লা → শহিদনগর মোড় → সোয়ারিঘাট (লঞ্চঘাট) এসে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যক রানারকে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পদক ও সনদ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন এই বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে যেভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, একইভাবে আমাদের ঐতিহ্যগুলোকে ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অত্যন্ত যথাযথ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে আরও পরিচিত হয়ে উঠবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল- আমার শহর ঢাকা, যাকে নিয়ে আমার গর্ব করা উচিত। আজকের হেরিটেজ রানে অংশ নিয়ে আপনারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাস্তব চিত্র দেখেছেন। কোথাও ভালো রাস্তা, কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত- এটাই ঢাকার বাস্তবতা। এই বাস্তবতার মধ্যেই নগরবাসীর জীবনযাত্রা আরও সুন্দর করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। নগরবাসী যত্রতত্র ময়লা না ফেললে এবং ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা সহযোগিতা করলে ঢাকাকে আরও সুন্দর রাখা সম্ভব। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুলত্রুটি থাকতেই পারে। পরবর্তী সময়ে তা সংশোধন করে প্রতি বছর এ ধরনের আয়োজন করা হবে। পুরান ঢাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন এবং হাঁটা ও দৌড়ের উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমার দায়িত্ব আমি পালন করবো, আপনার দায়িত্ব আপনি পালন করবেন। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে এই ঢাকা শহর আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। আসুন, দেখি- এটাই আমার ঢাকা শহর। এই শহরেই আমাকে থাকতে হবে, তাই শহরটাকে আরও সুন্দর করতে হবে।’

‘হ্দয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের পরবর্তী আয়োজনসমূহের মধ্যে রয়েছে-

• ১৬-২২ আগস্ট: জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তন, সূত্রাপুরে ঢাকার উপর নির্মিত মঞ্চ নাটক( নাট্যোৎসব)
• ২১ আগস্ট: খোলামোড়া ঘাট হতে ওয়াইজ ঘাটে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ
• ২১ আগস্ট: সদরঘাটে শতবছরের পুরাতন বিশেষ হেরিটেজ ক্রুজযোগে পর্যটকদের ভ্রমণ
• ২২ আগস্ট: মধুমিতা সিনেমা হলে, ঢাকা নিয়ে নির্মিত পুরাতন চলচিত্র প্রদর্শন
• ২১-৩০ আগস্ট: ঢাকার বিপনীবিতানে দি গ্রেট ঢাকা সেল
• ২১-৩০ আগস্ট: লাভ লেটার টু ঢাকা (ঢাকা নিয়ে নাগরিকদের আবেগ ও ভালোবাসার চিঠি আহবান)
• ২১-২৮ আগস্ট: শিল্পকলা একাডেমিতে, ঢাকার উপর নির্মিত মঞ্চ নাটক
• ২৩-২৯ আগস্ট: বিটিভিতে, ঢাকা নিয়ে নির্মিত পুরাতন নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচার
• ২৪ আগস্ট: জয়নুল হক শিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল হেলিপাড উত্তর ধানমণ্ডিতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পাখির চোখে হৃদয়ে ঢাকা উৎসব প্রদর্শন
• ২৮ আগস্ট: লক্ষ্মীবাজার থেকে নগরভবন ঢাকা শোভাযাত্রা (ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি, পালকিসহ)
• ২৯ আগস্ট: বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। একই সাথে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হবে।
• ৩০ আগস্ট: লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, বিশেষ ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালীসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
• ০১ সেপ্টেম্বর: শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী ও দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পীদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত আর্ট ক্যাম্প
• ০৫ সেপ্টেম্বর: আলমগঞ্জ জেটিতে পুরান ঢাকার পঞ্চায়েতি আড্ডা।

ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝে উৎসবে-গর্বে-দায়িত্বে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উদযাপনে নাগরিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।