এনডিটিভির প্রতিবেদন আগামী সপ্তাহে দুদিনের সফরে ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান। আগামী সপ্তাহে তার সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সফর সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুদিনের সফরটিকে দুই প্রতিবেশী দেশের সুসংহত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে সফরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও আনুষ্ঠানিক রূপরেখা চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি এবং জ্বালানি খাতের সহযোগিতাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু স্থান পেতে পারে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। আগামী সেপ্টেম্বরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

ঢাকা এবং নয়াদিল্লি উভয়ই প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং তারেক রহমানের মধ্যকার বৈঠকটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে তারেক রহমানের ক্ষমতায় ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। সেইসঙ্গে ভারতকে ঢাকার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নতুন করে পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য করেছে।

এনডিটিভির বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে দৃশ্যমান টানাপড়েন তৈরি হয়। ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক দাবির কারণে দুদেশের কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়ছিল।

তবে গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি দায়িত্ব নেয়ার পর ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের গতি বেড়েছে। এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। সর্বশেষ ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপক্ষীয় পরিবেশ স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে হাসিনার প্রত্যর্পণ, পানি বণ্টন ও বাণিজ্য ইস্যু

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এ সফরে সব অমীমাংসিত সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান না এলেও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সরাসরি বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সংকট নিরসনে একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ তৈরি করবে। এ বৈঠকে বিশেষ অগ্রাধিকার পেতে যাচ্ছে পানি বণ্টন ইস্যু। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক ‘গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি’র মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি দুদেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

তাছাড়া শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটিও আলোচনার টেবিলে উঠতে পারে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়া নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা এবং কৌশলগত ভূ-রাজনীতির কারণে ঢাকার সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা দিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ঢাকার জন্য দিল্লির সহযোগিতা প্রয়োজন। ফলে আগামী সপ্তাহের এ বহুল প্রতীক্ষিত সফরটি দুদেশের নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।




১৭ দেশে ২৫ বার ভ্রমণ, ১৭ বছর পেকুতে—গণপূর্ত প্রকৌশলী কাজী ফিরোজকে ঘিরে প্রশ্নের পাহাড়

# দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ক্রয়সংক্রান্ত ইউনিটে অবস্থান # সরকারি অর্থে ধারাবাহিক বিদেশ সফর ও প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ # ২০২৩ সালে বিদেশ সফরে ‘নিজের নাম নিজেই’ পাঠানোর অভিযোগ 

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন ও সমন্বয়) কাজী মো. ফিরোজ হাসানের দীর্ঘ চাকরিজীবন ঘিরে যেন প্রশ্নের শেষ নেই। প্রায় ২৮ বছরের চাকরিতে দীর্ঘ সময় ঢাকাকেন্দ্রিক দায়িত্ব, গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ইউনিটে প্রায় ১৭ বছরের অবস্থান, সরকারি অর্থায়নে একাধিক দেশে ধারাবাহিক বিদেশ সফর এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের নানা অভিযোগ—সব মিলিয়ে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিস্তর আলোচনা ও সমালোচনা ।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের পোস্টিং ও বিদেশ সফরসংক্রান্ত নথির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর কর্মজীবনের বড় একটি সময় তিনি ঢাকায় কাটিয়েছেন। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পেকু-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে পিপিসি বিভাগেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে পিপিসি ও পেকু মিলিয়ে প্রায় ১৭ বছর একই ধরনের ক্রয় ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায়। অন্যদিকে সরকারি নথিতে মালয়েশিয়া, জাপান, মিসর, ইতালি, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়া, স্পেন, ভারত, তুরস্ক, বেলজিয়াম, গ্রিস, ফিনল্যান্ড ও বুলগেরিয়াসহ ১৭টি দেশে প্রশিক্ষণ ও সরকারি সফরের তথ্য পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন নথির হিসাবে সফরের সংখ্যা ২৫টির কাছাকাছি বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে কাজী ফিরোজ হাসানের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি এতগুলো প্রশিক্ষণে যাননি এবং গণপূর্তে তার চেয়েও বেশি বিদেশ সফর করেছেন—এমন কর্মকর্তাও রয়েছেন। ফলে প্রশ্ন এখন একটাই—সরকারি নথি ও কর্মকর্তার বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত সত্য কোনটি ? চাকরির প্রায় পুরো সময় ঢাকায়, পেকুতেই দীর্ঘ অধ্যায় : নথি অনুযায়ী, কাজী মো. ফিরোজ হাসান ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১-এ স্টাফ অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। দেড় মাসের মাথায়, ১৬ মার্চ, তাকে সাভার গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হয়। ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ঢাকার পিপিসি বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন।

এরপর একই বিভাগে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের নভেম্বরে মাত্র প্রায় এক মাসের জন্য নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯-এ ফের ঢাকায় পেকু বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। এরপর শুরু হয় দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের অধ্যায়। নথি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পেকু সার্কেলে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন ও সমন্বয়) হিসেবেও দায়িত্ব পান। অর্থাৎ প্রায় ১৬ বছর একই পেকু কাঠামোর সঙ্গে এবং আগের পিপিসি-পেকু সংশ্লিষ্ট দায়িত্বসহ প্রায় ১৭ বছর একই ধরনের ক্রয় ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠছে। গণপূর্তের অভ্যন্তরে এ কারণেই সহকর্মীদের একটি অংশের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘পেকু ফিরোজ’ নামে। গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে এত দীর্ঘ সময়—প্রশ্ন বদলি নীতিতেও গণপূর্তের পেকু বিভাগ ক্রয় ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে একজন কর্মকর্তার দীর্ঘ সময় একই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই বদলি নীতি, প্রশাসনিক ভারসাম্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন সামনে আনে।

সহকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই কাঠামোয় থাকার কারণে তার প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব ক্রমে শক্তিশালী হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কাজী ফিরোজ হাসান বলেছেন, তিনি মূলত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে যুক্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ‘ওয়ার্কিং’ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর এসব কাজ ছিল ‘নন-প্রফিটেবল’। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন—একজন কর্মকর্তাকে একই গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কাঠামোয় এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের অনুমোদন কে দিয়েছেন, কী যুক্তিতে দিয়েছেন এবং প্রচলিত বদলি নীতির সঙ্গে তা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল ? ১৭ দেশে সরকারি সফর—প্রশিক্ষণ, সফর ও ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব কোথায় ? কাজী ফিরোজ হাসানের বিদেশ সফরের তালিকাও কম চমকপ্রদ নয়।

২০০৯ সালের জুনে মালয়েশিয়ায় ‘ফ্যাসিলিটি মডার্নাইজেশন’ শীর্ষক ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে বিদেশ সফরের ধারাবাহিকতা শুরু হয়। ১৪ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে তিনি সেখানে প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এরপর তালিকায় যুক্ত হয় জাপান, মিসর, ইতালি, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়া, স্পেন, ভারত, তুরস্ক, বেলজিয়াম, গ্রিস, ফিনল্যান্ড ও বুলগেরিয়া। নথিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী— ২০১২ সালে জাপানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট প্রশিক্ষণ; ২০১৫ সালে মিসরে মেরিন টেকনোলজি; একই বছরে ইতালিতে ভোকেশনাল এডুকেশন; ডেনমার্কে অকুপেশনাল সেফটি; ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরে লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট; ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডসে মেরিন টেকনোলজি; ২০১৮ সালে রাশিয়ায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সফর; ২০১৯ সালে স্পেনে সেফটি ডিভাইস কোয়ালিটি; ভারতে রবীন্দ্রনাথ গ্যালারি; তুরস্কে ‘Panorama 1453’; বেলজিয়ামে জেনোসাইড মিউজিয়াম; ২০২১ সালে গ্রিসে সেন্টেনিয়াল স্কুল; ২০২২ সালে ফিনল্যান্ডে লিফট পারফরম্যান্স; ২০২৫ সালে বুলগেরিয়ায় ওয়াটার ফাউন্টেনসংক্রান্ত সফর। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সরকারি অর্থে এসব সফরের প্রতিটির মোট ব্যয় কত ছিল, কী প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন হয়েছে, একই ধরনের প্রশিক্ষণে অন্য কর্মকর্তাদের সুযোগ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সফর শেষে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে গণপূর্তের কাজে কতটা প্রয়োগ হয়েছে—এসব তথ্য জনসমক্ষে কতটা স্বচ্ছ? রাশিয়া সফরের নথিতেও অস্বাভাবিক তারিখ বিদেশ সফরসংক্রান্ত নথিতে রাশিয়া সফরের সময়কাল ১৯ জুন ২০১৮ থেকে ২৫ জুন ২০২৮ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের বর্তমান সময়ের তুলনায় ২০২৮ সাল ভবিষ্যৎ হওয়ায় নথির এই তারিখে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। এটি নিছক টাইপিং বা নথি প্রস্তুতের ভুল, নাকি তথ্য সংরক্ষণে অন্য কোনো সমস্যা—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ছাড়া এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে না। যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা ছিল, বিমানবন্দর থেকেই ফেরত : চলতি বছর সেন্ট্রাল এসি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা ছিল কাজী ফিরোজ হাসানের। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি ওই সফরে যেতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন আরও স্পষ্ট—সরকারি নথিতে প্রস্তাবিত সফর, অনুমোদন, মনোনয়ন, ব্যয় এবং শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল হওয়ার বিষয়টি কি যথাযথভাবে হিসাব ও নথিতে প্রতিফলিত হয়েছে ? ২০২৩ সালের বিদেশ সফর নিয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ : কাজী ফিরোজ হাসানকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি ২০২৩ সালের একটি বিদেশ সফরের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে।

অভিযোগ রয়েছে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বিদেশ সফরের জন্য প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তিনি নিজের নাম নিজেই মনোনয়ন দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তা বিদেশ সফরের জন্য মনোনীত হলে প্রথমে সংস্থাপনের মাধ্যমে ফাইলে নোট উপস্থাপন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং পরবর্তী সময়ে সংস্থাপনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর স্বাক্ষরে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথা। অভিযোগ হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাজী ফিরোজ হাসান সরাসরি নিজের নাম এবং তৎকালীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কায়কোবাদ-এর নাম সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন। তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার এবং তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কায়কোবাদ-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও তখন আলোচনায় আসে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

ঘটনাটি নিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ/ব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং সে যাত্রায় সংশ্লিষ্টরা পার পেয়ে যান—এমন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। এই অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্নটি শুধু একজন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের নয়; এটি সরকারি মনোনয়ন ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ‘ওয়ার্কিং’ অভিজ্ঞতা নিয়ে সহকর্মীদের প্রশ্ন : কাজী ফিরোজ হাসানের দীর্ঘ কর্মজীবন নিয়েও সহকর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

তাদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘ সময় মূল ‘ওয়ার্কিং’ বিভাগে দায়িত্ব পালন না করায় মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রকৌশল ও নির্মাণকাজের অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের সীমাবদ্ধতা আড়াল করতে বিভিন্ন সময় তিনি ওয়ার্কিং বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ অভিযোগ এবং প্রমাণ এক বিষয় নয়। রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘আমলনামা’ তৈরির অভিযোগ : ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাজী ফিরোজ হাসান একটি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এমনকি গণপূর্তের বিভিন্ন কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য বা কথিত ‘আমলনামা’ গোপনে সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছে দেওয়া এবং পরে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন দাবিও রয়েছে। কর্মকর্তাদের পদায়নে লটারির পদ্ধতি চালুর পেছনেও তার ভূমিকা ছিল—এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রেও নথিভিত্তিক তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

প্রশ্নের মুখে ‘পেকু ফিরোজ’ অধ্যায় : সব অভিযোগ ও নথির তথ্য পাশাপাশি রাখলে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে— এক. একজন কর্মকর্তা কীভাবে প্রায় ১৬ বছর একই গুরুত্বপূর্ণ পেকু কাঠামোয় দায়িত্ব পালন করলেন ? দুই. দীর্ঘদিন একই ক্রয় ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ইউনিটে অবস্থানের ক্ষেত্রে বদলি নীতির ব্যতিক্রম হয়েছিল কি না ? তিন. ১৭টি দেশে সরকারি অর্থায়নে সফর বা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রকৃত সংখ্যা কত ? চার. প্রতিটি সফরের পেছনে সরকারি ব্যয় কত ? পাঁচ. কারা তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং মনোনয়নের মানদণ্ড কী ছিল ? ছয়. ২০২৩ সালের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সফরের ক্ষেত্রে নিজের নাম নিজে পাঠানোর অভিযোগ সত্য কি না ? সাত. সে ঘটনায় মন্ত্রণালয় কেন ব্যাখ্যা চেয়েছিল এবং পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল ? আট. বিদেশ প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান গণপূর্তের কাজে কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে ? নয়. রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের কোনো লিখিত প্রমাণ আছে কি না ? দশ. বদলি-পদায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ভূমিকা ছিল কি না? এখন প্রয়োজন নথিনির্ভর স্বাধীন তদন্ত : বিদেশে সরকারি প্রশিক্ষণে যাওয়া কোনোভাবেই নিজে অনিয়মের প্রমাণ নয়। বরং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাগত উন্নয়নের স্বীকৃত মাধ্যম।

একইভাবে দীর্ঘদিন একটি প্রকল্পে কাজ করাও সবসময় অপরাধ বা অনিয়ম নয়। কিন্তু যখন একই কর্মকর্তাকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন, ধারাবাহিক সরকারি বিদেশ সফর, মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের দাবি—সবগুলো বিষয় একই সঙ্গে সামনে আসে, তখন নীরবতার সুযোগ থাকে না। গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সততা বা দক্ষতার দাবি যেমন যাচাইযোগ্য হওয়া প্রয়োজন, তেমনি তার দায়িত্ব পালনের প্রশাসনিক বৈধতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও হতে হবে স্বচ্ছ। তাই এখন সবচেয়ে জরুরি হলো—কাজী ফিরোজ হাসানের বিদেশ সফরের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস, প্রতিটি সফরের অনুমোদন ও মনোনয়ন ফাইল, সরকারি ব্যয়ের হিসাব, প্রশিক্ষণ-পরবর্তী প্রতিবেদন, দীর্ঘমেয়াদি পেকু পদায়নের প্রশাসনিক অনুমোদন এবং ২০২৩ সালের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট ঘটনার নথি প্রকাশ্যে এনে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা। কারণ প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি কাজী ফিরোজ হাসানকে নিয়ে নয়। প্রশ্নটি হলো—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ, সরকারি অর্থ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহারে নিয়ম কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কোনো অদৃশ্য দরজা খোলা থাকে ? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরের অনেক কর্মকর্তা।




চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে হতাহতের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালের এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরূপণে এ কমিটি করেছে জাহাজভাঙা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)।

বিএসবিআরএর সভাপতি মো. মহসিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সংগঠনের সদস্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিএসবিআরএর কারিগরি উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাজমুল ইসলামকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন বিএসবিআরএর উপদেষ্টা মো. নাঈম শাহ ইমরান, কারিগরি পরামর্শক ক্যাপ্টেন সিরাজুল মওলা এবং এইচআর শিপ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান।

চিঠিতে তদন্ত কমিটিকে জরুরি ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্যও বলা হয়েছে।




বিআইডব্লিউটিএতে ‘রহিম সিন্ডিকেট’: ভুয়া বিল, জ্বালানি তেল লোপাট ও শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতার প্রভাব, কথিত রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেট—এসবের সমন্বয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, বছরের পর বছর প্রভাব খাটিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জাহাজের জ্বালানি ব্যবহারে কারসাজি এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলেছেন তিনি। আব্দুর রহিমকে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও সাবেক নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁর প্রশাসনিক প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকার বিষয়টি নিয়েও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি তাঁকে বরিশালের ডিইপিটিসি-তে প্রিন্সিপাল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় নতুন করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির পরিবর্তে তাঁকে এক পদ থেকে অন্য পদে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে কার্যত ‘পুরস্কৃত’ করা হচ্ছে।

অলস জাহাজ কাগজে সচল, তেল খরচের বিলও সচল! সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জের নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা দপ্তরকে ঘিরে।

সূত্রের দাবি, ২৫০ টন উত্তোলনক্ষম উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদীতে দীর্ঘদিন অলস অবস্থায় পড়ে থাকলেও নথিপত্রে সেটিকে সচল দেখিয়ে বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের বিল তোলা হয়েছে। অথচ একই সময়ে অন্য উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’ বরিশাল থেকে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজ বাস্তবে কতটুকু চলেছে, কত জ্বালানি ব্যবহার করেছে এবং কাগজে দেখানো জ্বালানি খরচের সঙ্গে বাস্তবতার কতটা মিল রয়েছে—এসব বিষয়ে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানেও নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের নথিপত্রে জ্বালানি খরচের গরমিল ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

  • ‘বাহার সিন্ডিকেটে’ বয়া-বিকনের কোটি টাকার কাজ?

অভিযোগের আরেকটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক প্রকল্পের আওতায় আমদানিকৃত বয়া-বিকন বাতির কাজকে ঘিরে। অভিযোগকারীদের দাবি, আব্দুর রহিম তাঁর অনুগত ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত ‘বাহার’-এর সঙ্গে যোগসাজশে একটি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে অন্য ঠিকাদারদের কার্যত বাইরে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের জন্য ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগে উল্লিখিত কয়েকটি বিলের তথ্য হলো—

আখি এন্টারপ্রাইজ: টিপি-১৩৫-এর ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। তানিয়া এন্টারপ্রাইজ: এমপি-১২-এর ভুয়া বিলে ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং স্পিডবোট-১ মেরামতের নামে ৮ লাখ ৮১ হাজার ১০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। তানজিল ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস: টিপি-৮০-এর ভুয়া বিলে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৫২ টাকা এবং টিপি-১৭৩-এর নামে ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। আলিফ এন্টারপ্রাইজ: টিপি-৪৫-এর ভুয়া বিলে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৫১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের কার্যাদেশ, মেরামত-সংক্রান্ত নথি, বিল-ভাউচার, মাপজোক বই, জাহাজের লগবুক এবং বাস্তবে কাজ হয়েছে কি না—এসব নথি স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ঢাকায়-সাভারে সম্পদের পাহাড়

অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, ভুয়া বিল-ভাউচার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে আব্দুর রহিম ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ এবং নিজ জেলা পাবনায় বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

  • অভিযোগে উল্লেখ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে

উত্তর মুগদা: ‘আলিফ গার্ডেন’ (৫৮/৩০/গ)-এ দুটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট এবং ঝিলপাড় রোডের ৫৪ নম্বর বাড়িতে দুটি ফ্ল্যাট—অভিযোগকারীদের হিসাবে মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

কেরানীগঞ্জ: ফতুল্লা লঞ্চঘাটের বিপরীতে ঠিকাদার বাহারের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় বিশাল ডকইয়ার্ড—অভিযোগে যার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলা হয়েছে।

আশুলিয়া: ইসলামনগরে আরএস দাগ-১৮৩৩-এর ১০ কাঠা জমির ওপর আব্দুর রহিম ও লিমা তাবাসসুমের নামে পাঁচতলা ভবন—অভিযোগিত মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

সাভার: কাঠগড়ায় চার ইউনিটের সাততলা ভবন এবং সাভার বাজারের অন্ধ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় দুটি দোকান—অভিযোগিত মূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি।

মোহাম্মদপুর: হাউজিং এলাকায় প্রায় ৬ শতাংশ মূল্যবান জমি—অভিযোগিত মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা।

এ ছাড়া রামপুরা ও হাতিরপুলে একাধিক ফ্ল্যাট-বাড়ি এবং ঢাকা ও সাভারে নিজের ও বেনামে আরও জমি ও প্লট থাকার অভিযোগও রয়েছে। পাবনায় ‘শতকোটি টাকার’ সম্পদের অভিযোগ অভিযোগের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশটি তাঁর গ্রামের বাড়িকে ঘিরে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, পাবনায় নিজ গ্রামের আশপাশে প্রভাব খাটিয়ে একটি বড় সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের বাড়ি দখল বা ক্রয়ের মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস এবং প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে ভূমি রেকর্ড, দলিল, নামজারি, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন ও সম্পদ বিবরণী যাচাই প্রয়োজন। অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেই কেন? আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। কিন্তু অভিযোগের পরও কার্যকর ও দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এত গুরুতর অভিযোগের পরও যদি শুধু বদলি কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে সেটি অনিয়ম বন্ধের বদলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী করারই বার্তা দেয়। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয় আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিটি দিকই নথিভিত্তিক ও স্বাধীন তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।

বিশেষ করে জাহাজের লগবুক ও জ্বালানি হিসাব, ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগ, ঠিকাদারি কার্যাদেশ, প্রকল্পভিত্তিক অর্থ ব্যয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং তাঁর ও পরিবারের নামে থাকা সম্পদের বৈধ উৎস—সবকিছু খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হবে। আর কোনো অভিযোগ অসত্য হলে তদন্তের মাধ্যমেই তা পরিষ্কার হওয়া উচিত। বিআইডব্লিউটিএর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, ক্ষমতার প্রভাব নয়—প্রমাণের ভিত্তিতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের ভাষ্য, সরকারি সম্পদ ও অর্থের ওপর কোনো কর্মকর্তা বা সিন্ডিকেটের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া যায় না। নোট: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ, সম্পদের মালিকানা, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা, ভুয়া বিল এবং আত্মসাতের অভিযোগগুলো অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি, দুদকের অনুসন্ধান-সংক্রান্ত তথ্য এবং আব্দুর রহিমের বক্তব্য যাচাই করে প্রকাশ করা সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ডের জন্য অপরিহার্য।




ডারউইন টেস্ট: দেড়শ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। সফরকারীদের লিড ৪ উইকেট হাতে রেখে ১৫৩ রান।

তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি (১০১) ও নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটিতে (৮৪) ভর করে সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। মুমিনুল হক সৌরভের সঙ্গে ১৮৯ বলে ১০২ ও শান্তর সঙ্গে ১৫৭ বলে ৯৩ রান যোগ করে তানজিদ দলের সংগ্রহটা বড় করতে সাহায্য করেন। বামহাতি ওপেনার তানজিদ ১৯৭ বলে ১০১ রান করে আউট হওয়ার পর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৯৮ বলে ৬৬ রান যোগ করেন শান্ত। একটি সময় থামতে হয় শান্ত ও মুশফিককেও। শান্ত ১২৬ বলে ৮৪ ও মুশফিক ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন।

তারকাদের মধ্যে ব্যর্থ হয়েছেন লিটন দাস। তিনি ১২ বলে শূন্য রান করে তিনি মিচেল স্টার্কের বলে আউট হয়েছেন। পরের ওভারে মুশফিককে ফরান প্যাট কামিন্স। ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে দেখতে না দেখতেই ৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। এরপর সপ্তম উইকেটে দুর্দান্ত লড়াই করে ১৪৭ বল মোকাবেলা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। দুজন বোর্ডে ৪৩ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন থেকে মাঠ ছাড়েন।

মিচেল স্টার্ক ও জস হ্যাজেলউড দুটি করে এবং প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন একটি করে উইকেট নেন।




কে এই মাজহারুল ? বদলি–কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএর ‘স্বঘোষিত’ সিবিএ সভাপতিকে ঘিরে তোলপাড় ! 

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিনই যেন বদলে যায় পরিচয়। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত মাজহারুল ইসলাম রাতারাতি আবির্ভূত হন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা হিসেবে।
এরপর নিজেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ও সিবিএর (রেজি. নং-২১৭৬) ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ দাবি করে মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দলীয় পরিচয় বদলের পাশাপাশি বদলে গেছে তাঁর ক্ষমতার পরিধিও। বদলি, পদায়ন, কমিটি নিয়ন্ত্রণ, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং আর্থিক লেনদেন—বিভিন্ন অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। মাজহারুল নিজেও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
  • ৫ আগস্টেই সিবিএ কার্যালয় দখলের অভিযোগ  : 
কর্মচারীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন সংগ্রামের ফলে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের মধ্যে  রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন বিআইডব্লিউটিএ ভবনের নিচতলায় সিবিএর প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে সেটি দখলে নেন মাজহারুল ইসলাম ও তাঁর অনুসারী কয়েকজন কর্মচারী।
এরপর কোনো কাউন্সিল বা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নিজেকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা এবং সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন তিনি—এমন অভিযোগ করেছেন সংগঠনের একাধিক কর্মী। অথচ সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২২ সালে বিআইডব্লিউটিএতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অনুমোদিত কমিটি ছিল। ফলে নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ছাড়া নতুন করে নেতৃত্ব দাবি করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
  • আওয়ামী আমলে শ্রমিক লীগের নেতা, এখন শ্রমিক দলের নেতৃত্বে  :
  মাজহারুলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর সহকর্মীরা। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিআইডব্লিউটিএ জাতীয় শ্রমিক লীগের ১ নম্বর সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে টাঙ্গাইল-২ আসনের তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছোট মনির বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর একটি সুপারিশপত্র দেন। সেখানে মাজহারুলকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে প্রধান কার্যালয়ে বদলির সুপারিশ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথির বরাতে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে তিনি প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—যে ব্যক্তি আওয়ামী লীগ আমলে দলটির শ্রমিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর কীভাবে তিনি এত দ্রুত নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা হয়ে গেলেন ? মাজহারুলের দাবি অবশ্য ভিন্ন। তাঁর ভাষ্য, তিনি ২০১৫ সাল থেকেই শ্রমিক দল করেন এবং ২০১৬ সালে সংগঠনের পদে আসেন। তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রমিক লীগের পদ দেওয়া হলে তা জানার পর তিনি লিখিতভাবে অব্যাহতি নিয়েছিলেন।
  • বদলি কি এখন ‘বাণিজ্যের’ হাতিয়ার ?
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, বদলি এবং পুনঃবদলি না করার আশ্বাসকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছে।  অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামীপন্থী সিবিএ নেতাসহ সাধারণ কর্মচারীদের কাছ থেকেও বদলি ঠেকানো বা কাঙ্ক্ষিত স্থানে বদলির আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ—সিবিএর তিন নেতার কাছ থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এই অর্থ লেনদেনের স্বাধীন প্রমাণ বা ব্যাংক লেনদেনের নথি প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। মাজহারুল অবশ্য সরাসরি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক নিয়মেই বদলি করা হয়েছে এবং এসব বদলির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
  • বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলার অভিযোগ মাজহারুলকে ঘিরে :
বিরোধ আরও তীব্র হয় সিবিএর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৬ নভেম্বর এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান তাঁকে ঊর্ধ্বতন সহসভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেন।
এরপর ১১ নভেম্বর মজিবুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজুল হক বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়ে গেলে মাজহারুল ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁদের মতিঝিল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গভীর রাতে মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং পরদিন তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় আজিজুল হক থানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মাজহারুলের বক্তব্য, তিনি কাউকে মারধর করেননি; মজিবুর ও আজিজুল ইউনিয়নের ব্যানার খুলতে এলে তিনি শুধু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। মজিবুর রহমানকে তিনি কারাগারে পাঠাননি বলেও দাবি করেছেন।
  • চিকিৎসাধীন থেকেও মামলার আসামি ?
সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুমার দাসের বিরুদ্ধেও মামলা  হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সঞ্জীবের দাবি, ঘটনার সময় তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগে তিনি এ বিষয়টি তুলে ধরে মামলা প্রত্যাহার এবং মাজহারুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বলে জানা গেছে।
সঞ্জীবের আরও অভিযোগ, তিনি শ্রম আদালতে নিজের বদলি স্থগিত এবং মাজহারুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাওয়ায় তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
মাজহারুলের পাল্টা অভিযোগ—সঞ্জীব কিছু কর্মকর্তাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছেন এবং এ কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অর্থাৎ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন আদালত ও প্রশাসনের দরজায় পৌঁছেছে।
  • সাবেক সিবিএ নেতাকেও হামলার অভিযোগ  :
সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও তাঁর ছেলের ওপরও কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে মাজহারুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম সিএমএম আদালতে মামলা করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে বলেও জানা গেছে। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠছে—একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কীভাবে হামলা, মামলা ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের পর্যায়ে পৌঁছাল ?
  • ভাইয়ের বিরুদ্ধেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ  : 
মাজহারুলের বিরুদ্ধে শুধু নিজের ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগই নয়, পরিবারের সদস্যদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, তাঁর দুই ভাই বিআইডব্লিউটিএতে চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের একজন জাহিদুল ইসলাম তৃতীয় শ্রেণির ‘ষাট মুদ্রাক্ষরিক’ পদে নিয়োগ পেলেও গত কয়েক বছর ধরে নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের পরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের সুযোগ কীভাবে পেলেন—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ, পদায়ন ও দায়িত্ব অর্পণের সরকারি নথি প্রকাশ্যে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
  • সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন  :
 আওয়ামী লীগ আমলে ঢাকার সাভারে মাজহারুলের একটি তিনতলা বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাড়িটির মালিকানা নিজের নামে না রেখে শ্বশুরের নামে দেখানো হয়েছে এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ আড়াল করতেই এমন কৌশল নেওয়া হয়েছে। তবে মাজহারুলের দাবি, বাড়িটি তাঁর শ্বশুর নিজের অর্থে নির্মাণ করেছেন।
এক্ষেত্রে বাড়িটির জমির দলিল, নির্মাণ ব্যয়, অর্থের উৎস, মালিকানা এবং আয়কর নথি যাচাই করলেই অভিযোগের সত্যতা সহজে নির্ণয় করা সম্ভব।
  • পুরোনো ব্যক্তিগত অভিযোগও সামনে :
মাজহারুলের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে চাঁদপুরে কর্মরত অবস্থায় এক কর্মচারীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগও সামনে এনেছেন তাঁর বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, প্রভাব ও অর্থের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। তবে এটি একটি পুরোনো ও গুরুতর ব্যক্তিগত অভিযোগ; এর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ বা আদালতের রায় ছাড়া এটিকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রশ্ন এখন একটাই—‘মাজহারুল’ কীভাবে এত ক্ষমতাবান  ? বিআইডব্লিউটিএর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে বিষয়টি কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বদলের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশ্ন উঠছে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংগঠনকে ঘিরে বদলি, পদায়ন, কমিটি নিয়ন্ত্রণ, মামলা এবং আর্থিক লেনদেনের একটি প্রভাববলয় আদৌ তৈরি হয়েছে কি না।
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে শ্রমিক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কীভাবে ক্ষমতার পালাবদলের পর এত দ্রুত নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সংগঠনের নেতৃত্বের কেন্দ্রে চলে এলেন?
অভিযোগকারীরা তাঁকে আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী ও রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। অন্যদিকে মাজহারুল নিজেকে শ্রমিক দলের পুরোনো কর্মী দাবি করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
সুতরাং এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, নথিভিত্তিক তদন্ত।
  • তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল চিত্র :
বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, মাজহারুলের রাজনৈতিক পরিচয়, সিবিএর নেতৃত্ব দাবি, কার্যালয় দখলের অভিযোগ, বদলি-পদায়নে প্রভাব, কথিত ৭০ লাখ টাকার লেনদেন, মামলা ও হামলার অভিযোগ, ভাইদের চাকরি ও পদায়ন এবং সাভারের বাড়ির অর্থের উৎস—সবকিছু একসঙ্গে খতিয়ে দেখা হোক।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, বদলি আদেশ, সিবিএর কমিটি ও কাউন্সিলের কাগজপত্র, ব্যাংক লেনদেন, সম্পদের বিবরণ, নিয়োগ-পদায়নের নথি এবং আদালতের মামলার কাগজপত্র যাচাই করে তদন্ত করা যেতে পারে। কারণ, একজন কর্মচারী সত্যিই যদি রাজনৈতিক পরিচয় বদলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংগঠনের ওপর ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে থাকেন এবং বদলি-পদায়নকে আর্থিক লেনদেনের হাতিয়ার বানিয়ে থাকেন, তবে সেটি শুধু শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নয়—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার জন্যও গুরুতর সংকেত। আর যদি অভিযোগগুলো মিথ্যা হয়, তাহলেও তদন্তের মাধ্যমে মাজহারুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অবসান হওয়া জরুরি। বিআইডব্লিউটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কে কোন দলের—সেটি নয়; কে নিয়ম ভেঙেছে, কে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং কোথায় অর্থের লেনদেন হয়েছে—তার নিরপেক্ষ জবাবই এখন সবচেয়ে জরুরি।



দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে কাটানোর পর নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। হংকং হয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

নেপালে ফিরে দেউবা সরাসরি মহারাজগঞ্জে তার ভাড়া করা বাসভবনে উঠবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউবা। দেশ ছাড়ার আগে যে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন, দেশে ফিরে সেখানেই থাকবেন তিনি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা জানিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে নেপাল ছাড়েন দেউবা। এরপর প্রায় পাঁচ মাস তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তবে তার দীর্ঘ বিদেশ অবস্থান এবং চিকিৎসার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

দেউবা কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুরে গেলেও তার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা নয়াদিল্লি হয়ে সিঙ্গাপুরে যান। পরে দেউবা, রানা ও তাদের ছেলে জয়বীর কখন সিঙ্গাপুর থেকে হংকংয়ের উদ্দেশে রওনা হন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার দেউবা দেশে ফিরলেও তার স্ত্রী আরজু রানা ও ছেলে জয়বীরের বর্তমান অবস্থান এখনো জানা যায়নি।

দেউবা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। তবে কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন কিংবা কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য চিকিৎসা করিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে অবস্থানের সময় দেউবা, তার স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা, যাতায়াত এবং অন্যান্য ব্যয়কে বহন করেছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

৮০ বছর বয়সী শের বাহাদুর দেউবা নেপালের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া নেপালের জেন-জি আন্দোলন দ্রুত দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে আন্দোলন তীব্র হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।




ইরান যুদ্ধে দিশাহারা মার্কিন নৌ সেনারা, রণতরি থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা

সমুদ্রে দীর্ঘ ৯ মাস, টানা ২৫০ দিন ডাঙার স্পর্শ না পাওয়া এবং একে একে একাধিকবার মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ তৈরি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। জাহাজে থাকা প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিন সেনার জীবন বিষিয়ে উঠেছে।

পচা খাবার, অস্বাস্থ্যকর বাথরুম, সুপেয় পানির সংকট আর অকেজো শৌচাগারের মধ্যে দিন কাটাতে গিয়ে ভেঙে পড়েছে সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য সাগরে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘মিলিটারি টাইমস’। 

গত বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোতে আয়োজিত এক আবেগঘন গণশুনানিতে ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হাং কাও-এর মুখোমুখি হন জাহাজে থাকা সেনাদের প্রায় ২০০ স্বজন। জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক স্ত্রী জানান, তার স্বামী লাফ দেওয়ার দিনই মেসেজ পাঠিয়ে বলেছেন—‘তিনি আশা করেন কাল সকালে যেন তার আর ঘুম না ভাঙে!’ আরেকজন স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবিবেচক সিদ্ধান্ত নেতৃত্ব ও সাধারণ সেনাদের পরিবারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।

 

মিলিটারি টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারবার মেয়াদের মেয়াদ বাড়ানোয় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আনাবেল লোমা নামে এক নারীর স্বামী জাহাজ থেকে সাগরে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ওই নারী জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছেন এবং ১৩ বছরের ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার ভয়ে চরম আতঙ্কে আছেন। অন্য আরেকটি ঘটনায়, এক সেনাসদস্য তার এক সহকর্মীকে সাগরে লাফ দেওয়া থেকে টেনে ধরে প্রাণ বাঁচান।

গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল যুদ্ধজাহাজটি।

তবে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে টানা ৯ মাস ধরে তারা সমুদ্রে। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে গুয়ামে এবং জুলাইয়ে ওমানে মাত্র দুই দিনের জন্য ডাঙায় নামার সুযোগ পেয়েছিলেন সেনারা। মে মাসে ফিরে আসার কথা থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বারবার তাদের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ইরানবিরোধী সামরিক অপারেশনের পঞ্চম মাসে রয়েছে বিমানবাহী রণতরিটি।
 

দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পাশাপাশি জাহাজের অমানবিক জীবনযাত্রা সেনাদের ঠেলে দিয়েছে এক চূড়ান্ত নরকে। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসমেম্বার মাইক লেভিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জাহাজের বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাজে রয়েছে ছত্রাক ধরা বাথরুম, দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট পড়ে থাকা টয়লেট ও ওয়াশিং মেশিন এবং গরম পানির প্রচণ্ড অভাব। এমনকি খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র আধা কাপ ভাত ও দুটি রুটি। সাবান, পেস্ট ও ডিওডোরেন্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে।

এর আগে এপ্রিলে নিম্নমানের খাবার ও পানির সংকটের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সেটিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

তবে এবার হেগসেথকে কড়া জবাব দিয়েছেন লেভিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই তরুণ-তরুণীরা দেশের সেবা করতে এসেছে। রাষ্ট্র হিসেবে তাদের ন্যূনতম পাওনা—একটি ভাল টয়লেট, গরম পানি আর পেটে চারটে ভালো খাবার দেওয়া। হেগসেথ তার ব্যবস্থাপনাটুকুও করতে ব্যর্থ হয়েছেন, অথচ স্বজনদের চোখের দিকে তাকিয়ে তাদের মিথ্যাবাদী বলতে তার বাঁধছে না!’




রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির সভায় নাম চূড়ান্ত করা হয়। দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা। ইসির তফসিল অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দল, অর্থাৎ ১১ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী করা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন জোট নেতারা।

ইসির তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ রেখে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

এক প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন, বাছাইয়ে একটি চূড়ান্ত হবে। ভোট হবে ২০ আগস্ট সংসদ অধিবেশন কক্ষে।



১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র দাখিল

১১ দলীয় ঐক্যজোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করে ড. হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।

এ সময় জোটের শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন। 

পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম)।

আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ জন্য বৃহস্পতিবার নিজেদের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেবে সরকারি দল ও বিরোধী দল।

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। 

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ১৮ আগস্ট। আগামী ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।