প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ত্রুটি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন

জাপান থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। চার সদস্যের কমিটিকে চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

আজ শুক্রবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক এয়ার কমোডর মো. নিয়ামুল কবীর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে বিমানের চিফকে (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং) সভাপতি করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন), ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি) এবং সদস্যসচিব হিসেবে আছেন ব্যবস্থাপক (আইনবিষয়ক)।

কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত কারণ ও ধরন উদ্ঘাটন, উড্ডয়ন উপযোগিতা নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপ পর্যালোচনা এবং এর ফলে ফ্লাইটের বিলম্ব, যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিমানের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির ওপর সৃষ্ট প্রভাব নিরূপণ করতে বলা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটে এ ত্রুটি দেখা দেয়।




টঙ্গীতে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার: পিবিআই

গাজীপুরের টঙ্গী মাজার বস্তি হোন্ডা রোড এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে সিবিআই।

তাহসিফের বন্ধু শাহারিয়ার জামান দ্বীপের দেয়া তথ্য মতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করে। এর আগে গত বুধবার বিকালে টঙ্গী তুরাগ নদী থেকে তাহসিফ সাউরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আজ শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা উত্তর এর পরিদর্শক সাজেদুর রহমান তাহসিফের গাড়ি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, টঙ্গীতে তার গাড়ি উদ্ধারের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।




সফরসঙ্গীদের সবাইকে নিয়েই দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী: আতিকুর রহমান রুমন

বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাপান থেকে ফিরতে দেরি হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরসঙ্গীদের সবাইকে সাথে নিয়েই দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘জাপান থেকে ফেরার আগে বিমানে সামান্য ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে জাপান থেকে প্রধানমন্ত্রী চাইলেই অন্য কোনো বিমানে দেশে ফিরতে পারতেন। কিন্তু সবাইকে সেখানে ফেলে তিনি সেটি করতে চাননি। ওই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বিমানের অন্য যাত্রীদের কাছে গিয়ে কথা বলেছেন, তাদের আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে নিয়েই দেশে ফিরেছেন।’

জাপানে চারদিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘জাপান থেকে বিমান ছাড়ার আগে পযর্বেক্ষণের সময় সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়। এটি বড় কোনো সমস্যা ছিল না। পরে সফটওয়্যার দিয়ে দ্রুত সেটির সমাধান করা হয়।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন বলে জানান আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘তিনি তাৎক্ষণিক বিমানের যাত্রীদের অভয় দেন। বিশেষ করে বাচ্চারা যেন কান্নাকাটি না করে, তারা যেন ভালোভাবে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন।’

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপান সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চারদিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া তিনি জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।




জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শুক্রবার রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ অন্য কর্মকর্তারা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপান সফর করেন তারেক রহমান। সফরকালে তিনি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন, জাপানের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করেন।




তাহসিফের সেই ‘বন্ধু’কে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই

তুরাগ নদী থেকে বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এবার তার সেই বন্ধু  রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের ডাকেই বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন তাহসিফ। সে কারণেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

তাকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ। তিনি শুক্রবার সকালে জানান, ‘গত রাতে তাকে সেখানে নেওয়া হয়। দুজন একসঙ্গে ছিলেন বলে তারা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে রেজা দ্বীপের দেওয়া কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই দ্বীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়েছে।

তাহসিফ সাউরীর ভাসমান মরদেহ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তারা বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বীপের ফোন কলেই তাহসিফ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটা বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন।

বিমান বাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ মোবাইল ও মানিব্যাগ পেলেও বাইকটির সন্ধান পায়নি। তাহসীফকে ডেকে নেওয়া বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই দ্বীপের সঙ্গে পরিবারের তরফে কথা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানান এক স্বজন। তার ভাষ্য, দ্বীপ তাদের বলেছেন, তারা একসঙ্গে রাতে খাওয়াদাওয়া করেছেন। পরে তাহসিফকে তার বাসার এলাকাতেই রেখে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন দ্বীপ।

গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।




চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ, দুই কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্তের দাবি

নিজেস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে আমদানি করা পণ্য খালাস ও আনস্টাফিং কার্যক্রম পরিচালনায় বিলম্ব, ফাইল আটকে রাখা এবং সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সহকারী কমিশনার (এসি) ওমর কাউসার ও রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসকে ঘিরে এসব অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের একাংশ।

তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এই প্রতিবেদনের জন্য সরবরাহ করা হয়নি। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফাইল আটকে রাখা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

খসড়ায় উল্লেখিত পূর্ববর্তী সংবাদসূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটিসহ পাঁচটি আনস্টাফিং গেটকে কেন্দ্র করে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রতিটি গেট থেকে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা করে ঘুষ আদায় করা হচ্ছিল। তবে এই অর্থের হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, কারা অর্থ দিয়েছেন, কারা গ্রহণ করেছেন কিংবা লেনদেনের পক্ষে কোনো নথি রয়েছে কি না—তা সরবরাহ করা তথ্যে স্পষ্ট নয়। তাই অর্থ আদায়ের এই দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বাণিজ্যিক পণ্য খালাসের সময় গেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পণ্য পরীক্ষা করার পরও অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট ফাইল সহকারী কমিশনার ওমর কাউসারের কার্যালয়ে পাঠানো হতো। সেখানে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো বলে তাঁদের অভিযোগ।

ব্যবসায়ীদের আরও দাবি, রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস ও সহকারী কমিশনার ওমর কাউসারের কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় ফাইল আটকে রাখা, পরদিন পুনরায় পরীক্ষার কথা বলা এবং দিনের শেষভাগে কাজ স্থগিত করার ঘটনা ঘটত। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাত ১০টা থেকে ১১টার দিকে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হতো।

অভিযোগকারীদের মতে, পণ্য খালাসে বিলম্বের ফলে আমদানিকারকদের ডেমারেজ বা বিলম্বজনিত অতিরিক্ত মাশুলের ঝুঁকি বাড়ে। সেই আর্থিক চাপকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায়ের পরিস্থিতি তৈরি করা হতো বলেও তাঁদের দাবি। তবে কতটি চালান আটকে ছিল, কত টাকা ডেমারেজ দিতে হয়েছে কিংবা এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো কর্মকর্তার সরাসরি আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এমন তথ্য বা নথি পাওয়া যায়নি।

সংবাদ প্রকাশের পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দাবি, অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও তাঁরা কাস্টম হাউস বা এনবিআরের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাননি। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যান্য প্রশাসনিক ঘটনায় শোকজ বা বদলির মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এই ক্ষেত্রে তেমন পদক্ষেপের তথ্য তাঁদের জানা নেই।

তবে সংশ্লিষ্ট সংবাদগুলোর প্রকাশের তারিখ, কর্তৃপক্ষের কাছে সেগুলো পৌঁছানোর তথ্য, কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে কি না এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়েছে কি না—এসব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে কর্তৃপক্ষ আদৌ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, নাকি কোনো প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের একাংশের প্রশ্ন, অভিযোগের পরও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না থাকার পেছনে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কোনো প্রভাব রয়েছে কি না। এটি তাঁদের সন্দেহ ও প্রশ্ন; এর সমর্থনে কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ সরবরাহ করা হয়নি। তাই কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি বর্তমানে নেই।

তিন দফা দাবি ব্যবসায়ীদের

অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা তিনটি দাবি তুলেছেন।

প্রথমত, এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অভিযোগে নাম আসা দুই কর্মকর্তাকে স্পর্শকাতর দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখা অথবা প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

তৃতীয়ত, অভিযোগের পেছনে অন্য কোনো কর্মকর্তা বা প্রশাসনিক পর্যায়ের ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা প্রমাণ ও নথির ভিত্তিতে খতিয়ে দেখতে হবে।

এগুলো অভিযোগকারীদের উত্থাপিত দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত ও জবাবদিহি কেন গুরুত্বপূর্ণ

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক বিলম্ব হলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ব্যয় বাড়তে পারে এবং সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, যাচাই ছাড়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রচার করাও ন্যায্যতা ও সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী।

এ কারণে অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তিতে আনস্টাফিং গেটভিত্তিক কার্যক্রমের রেকর্ড, পণ্য পরীক্ষার সময়, ফাইল নিষ্পত্তির সময়, অনুমোদনসংক্রান্ত নথি, ডেমারেজের হিসাব এবং অভিযোগকারীদের সরবরাহ করা সম্ভাব্য প্রমাণ পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লিখিত বক্তব্য এবং কাস্টম হাউস ও এনবিআরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেওয়া প্রয়োজন।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘুষ আদায়, ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রাখা কিংবা ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের যোগসাজশের অভিযোগ প্রমাণিত বলা যাচ্ছে না। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনাই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তদন্তে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের নির্দোষ বলে গণ্য করার নীতি বজায় রাখা জরুরি।




ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। পোস্টাল ভোটসহ ১৮৫টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মো. কামরুল ইসলাম। এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রের তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটসহ ১৮৬টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। অর্থাৎ, ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ভূমিধস জয় পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী।

নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্য তিন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৯ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) পেয়েছেন ৪৫০ ভোট।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া তথ্যমতে, ৫ লাখ ১৬ হাজার ৪৫১ জন ভোটারের এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩০টি, যা মোট ভোটারের ৬৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫টি এবং বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৩২৫টি ভোট।

ভোটগ্রহণের দিন আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকলেও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না, যা উদ্বেগজনক। তিনি ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছিলেন।

ভোট চলাকালে একটি কেন্দ্রে প্রক্সি বা জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে প্রতীকসহ ভোটারের স্লিপ বিতরণের দায়ে এক জামায়াত নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচন শতভাগ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে এবং কমিশনকে উদ্বিগ্ন করার মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার ও পোলিং অফিসারদের পরিচয় ডেটাবেজের তথ্য মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের বিষয়টি বুঝিয়ে সমাধান করা হয়েছে।

উপনির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আসনটিতে ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ২৫১ সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের মনিটরিং টিমের পাশাপাশি ৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ দেশি-স্থানীয় ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক পুরো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।




ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয় গণনা।

 

এর আগে সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।

 

এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। নির্বাচনে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফয়সল আমিন, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকে মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকে হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।

 

নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ২৫১ সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৪৬৫ সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

 

নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে জয়ের আশাবাদ জানান বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের।

এদিকে, যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তৎপর ছিলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে আটক হয় ৩ জন।

প্রতীকসহ ভোটারদের স্লিপ দিয়ে নির্বাচনী নীতিমালা অমান্য করায় এক জামায়াত নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।




ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে ঢাকার পথে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে দেশটির নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন তিনি।

 

গত ২৬ অক্টোবর জাপান যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন।

 

এছাড়া জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

 

জাপান সফরকালে তারেক রহমান দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।




দক্ষ জনশক্তি ও একাধিক ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও একাধিক ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিকুলাম প্রস্তুত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবনে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. জি. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পৃথক দুটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মমুখী শিক্ষা, সিলেবাস ও সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) প্রতিনিধিদল জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২ (এসডিজি-২: ক্ষুধামুক্তি বা “জিরো হাঙ্গার”) অর্জনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৫৭তম স্থান লাভ করেছে। এ সাফল্যের কথা শুনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক জানান, তাদের শিক্ষার্থীরা দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সুনামের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান করে নিচ্ছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় রাষ্ট্রপতি আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশংসা করেন।

আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য (চ্যান্সেলর) হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয় দুটির উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ট্রেজারাররা উপস্থিত ছিলেন।