মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন জনগণ মেনে নেবে না: জামায়াত আমির

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনগণ তা মেনে নেবে না। এ বিষয়ে কী হচ্ছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন। পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

শফিকুর রহমান লেখেন, অতীতেও বাংলাদেশের স্বার্থের কথা বলে ট্রানজিট, করিডোর ইত্যাদি বিভিন্ন নামে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হলেও কার্যত বাংলাদেশ তার কোনো সুফলই পায়নি।

তিনি লেখেন, জাপান, চীন বা যেকোনো বন্ধুরাষ্ট্রই হোক না কেন, সবার আগে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও লিখেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ব্যর্থতা কিংবা আপোসকামিতা জনগণ একেবারেই দেখতে চায় না।




বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা জানান তিনি।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী এলাকার তুরাগ নদের ঘাট থেকে তাহসিফ সৌরি মরদেহটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। সৌরি উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় বসবাস করতেন।

নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় চাকরি ফিরে পাওয়া ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের প্রশিক্ষণ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ শেষে তাহসিফ সৌরির মৃত্যু নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এই বিষয়ে এখনই কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না, কারণ একটা প্রাথমিক তদন্ত হতে হবে এবং লাশের পোস্টমর্টেম হচ্ছে। তারপরে আমরা সব বিষয় জেনে বলতে পারব।

তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা নাই যা সংঘটিত হওয়ার পর অপরাধীদের শনাক্ত করা, গ্রেফতার করা, তদন্ত করা এবং বিচার সম্পন্ন করার কাজ সফলভাবে করা হয়নি; দুই-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে এখন একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল। তারা একটি স্বৈরতান্ত্রিক ও মাফিয়া শক্তি ছিল এবং অরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণিত করে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা বাংলাদেশে ১৪০০-এর বেশি (জাতিসংঘের হিসাব মতে) এবং আমাদের হিসাব মতে ২০০০-এরও বেশি মানুষ হত্যা ও গণহত্যা চালিয়েছে। তারা এখনো পর্যন্ত কোনো ক্ষমা প্রার্থনা বা দুঃখ প্রকাশ করেনি। উল্টো তারা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে জঙ্গিবাদী তকমা দিতে চেয়েছিল। তারা যে আবার গণতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করতে আসতে চায়, এ দেশের জনগণ কখনো তা গ্রহণ করবে না এবং সে সুযোগ দেবে না।

শেখ হাসিনার দেশে আসার ঘোষণা নিয়ে তিনি বলেন, কে কখন আসতে চাচ্ছে না চাচ্ছে, তা নিয়ে আমরা মোটেও বিচলিত নই। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর; যে-ই আসুক না কেন, তাদেরকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতা নেয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বোমার ঘটনা বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

সব ধরনের ভয়ভীতি, পক্ষপাতিত্বকে উপেক্ষা করে জনমানুষকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ, মানবপাচার এবং সংবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা পুলিশের জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যে কোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলার জন্য সংবিধান এবং দেশের মৌলিক আইনে পুলিশকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের ন্যায় পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ক্রমান্বয়ে পুলিশ উন্নীত হচ্ছে।




ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন বিপুল ভোটে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ১১ দল মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‍

কয়েকটি কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থীর পুলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

দেলাওয়ার বলেন, মাগুড়া মার্কা নির্বাচন হলে আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেবো নির্বাচন বয়কট করবো কিনা। ভোট সুষ্ঠু হলে ফলাফল মেনে নেবো।

 

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ভোট চলছে ।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ভোটাররা।




কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে অন্য তিন আসামি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে হানিফসহ চার আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

 

হানিফসহ ৪ জনের সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

এর আগে, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

১০ জুন এ মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২।

আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।




জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী, তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত: মির্জা ফয়সল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘ভোট দিলাম। এখনই পরিবেশ নিয়ে কিছু বলা সমীচীন হবে না। তবে মনে হচ্ছে, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়েদারটা একটু খারাপ, তারপরও আশা করি ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত। সেটা প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস নেই।’

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ভোট নেয়া হচ্ছে। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

নির্বাচনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তারা।




ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন: ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ চলছে

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ভোট নেয়া হবে।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা।

 

সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘ভোট দিলাম। এখনই পরিবেশ নিয়ে কিছু বলা সমীচীন হবে না। তবে মনে হচ্ছে, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়েদারটা একটু খারাপ, তারপরও আশা করি ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত। সেটা প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস নেই।’

এদিকে ভোট সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রির্টানিং কর্মকর্তা। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কাজ করবেন ১৯০ এসআরবি সদস্য, প্রায় আড়াই হাজার আনসারসহ পুলিশ সদস্যরাও।




বিআরটিএ উত্তরা মেট্রো-৩: ঘুষ দাবির অভিযোগে প্রশ্নের মুখে সেবা কার্যক্রম, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উত্তরা মেট্রো-৩ কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন (প্রাইভেট) শাখাকে ঘিরে ঘুষ দাবির অভিযোগ, কথিত দালালচক্রের তৎপরতা এবং ফাইল নিষ্পত্তিতে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, নিবন্ধন ও বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের মতো নিয়মিত সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।

অভিযোগকারীদের বক্তব্যে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) বশির উদ্দিন আহমেদ এবং মোটরযান পরিদর্শক কাউসার আলমের নাম উঠে এসেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা, কথিত মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো তদন্ত হয়েছে কি না—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সরকারি ফি জমার রসিদ, অর্থ দাবির প্রমাণ এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য যাচাইয়ের পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা ব্যক্তিরা।

মালিকানা পরিবর্তনে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ

গাজীপুর থেকে আসা আনোয়ার হোসেন নামের এক সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেছেন, বিআরটিএ উত্তরা মেট্রো-৩ কার্যালয়ে তাঁর প্রাইভেটকারের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য গেলে দালালের মাধ্যমে তাঁর কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তাঁর দাবি, কম টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাতে রাজি হননি।

আনোয়ার হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে অর্থ দাবিকারী ব্যক্তির পরিচয়, অর্থ চাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আবেদনসংক্রান্ত নথি, নির্ধারিত সরকারি ফি, জমার রসিদ, সম্ভাব্য সাক্ষী এবং অর্থ দাবির কোনো রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।

সরকারি ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ সত্য হলে তা জনসেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।

কথিত দালালচক্রে কয়েকজনের নাম

কার্যালয়কে ঘিরে মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতার অভিযোগে দুলাল, হানিফ, সোহেল, জীবন, সবুর ও জিকো নামের কয়েকজনের কথা উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, এসব ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা হয়।

তবে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের প্রকৃত ভূমিকা, অর্থ লেনদেনে সংশ্লিষ্টতা কিংবা বিআরটিএর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে তাঁদের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

কথিত মধ্যস্থতাকারীরা কীভাবে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট অফিস বা যোগাযোগকেন্দ্র রয়েছে কি না এবং তাঁদের মাধ্যমে করা আবেদনগুলোর নিষ্পত্তির ধরন অন্য আবেদনগুলোর তুলনায় আলাদা কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ফাইল নিষ্পত্তিতে বৈষম্য হচ্ছে কি?

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যোগাযোগ করলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কোনো কোনো ফাইল আটকে রাখা বা দিনের পর দিন ঘোরানোর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে তাঁদের দাবি।

এসব অভিযোগ যাচাইয়ে আবেদন গ্রহণ থেকে ফাইল নিষ্পত্তি পর্যন্ত সময়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, নথির গতিবিধি এবং আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই ধরনের সেবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আবেদন নিষ্পত্তিতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে কি না, তা-ও পর্যালোচনার দাবি রাখে।

তবে কোনো আবেদন বিলম্বিত হলেই অনিয়ম হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অসম্পূর্ণ কাগজপত্র, বিধিবদ্ধ যাচাই কিংবা অন্য প্রশাসনিক কারণেও বিলম্ব হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথি মিলিয়ে দেখা জরুরি।

দালালবিরোধী অভিযান কতটা কার্যকর?

বিআরটিএ কার্যালয়গুলোতে দালালবিরোধী কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, অভিযান পরিচালিত হলেও কথিত চক্রের মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অভিযানের আগাম তথ্য পেয়ে কেউ কেউ সরে যাওয়ার সুযোগ পান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা অন্য কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযানের কার্যকারিতা মূল্যায়নে কতজনকে আটক বা জরিমানা করা হয়েছে, কী ধরনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, পুনরায় একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে কি না এবং অর্থ লেনদেনের সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে কোনো অনুসন্ধান হয়েছে কি না—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অভিযোগের উৎস শনাক্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনে বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়েই এ ধরনের কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা সম্ভব।

দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী?

সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) বশির উদ্দিন আহমেদ ও মোটরযান পরিদর্শক কাউসার আলমকে ঘিরে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা প্রয়োজন। তাঁদের বিরুদ্ধে আগে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে কি না, কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার ফল কী—এসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথি মিলিয়ে দেখা জরুরি। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করেই প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করতে হবে।

বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও জানতে হবে, এ বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান কমিটি গঠন, অভিযোগ যাচাই কিংবা সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে বিশেষ নজরদারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না।

সম্পদের উৎস নিয়ে অভিযোগ, প্রমাণভিত্তিক যাচাই জরুরি

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়েও কিছু অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীদের কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য আর্থিক নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

কারও সম্পদ বা জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জন প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে বৈধ আয়ের উৎস, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং প্রাসঙ্গিক আর্থিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণে অনুসন্ধানের ভিত্তি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে।

জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন

বিআরটিএ উত্তরা মেট্রো-৩ কার্যালয়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন—

  • আনোয়ার হোসেনের কাছে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগের কোনো লিখিত বা ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে কি?
  • কথিত মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে কি? পড়ে থাকলে সেগুলোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
  • বশির উদ্দিন আহমেদ ও কাউসার আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ যাচাইয়ে কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে কি?
  • আবেদন নিষ্পত্তিতে অস্বাভাবিক বিলম্ব বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ যাচাই করা হয়েছে কি?
  • কার্যালয়ের আশপাশে দালালদের তৎপরতা বন্ধে কী ধরনের নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রয়েছে?
  • অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি

বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত হওয়া প্রত্যাশিত। সেখানে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, কথিত দালালচক্রের প্রভাব কিংবা ফাইল নিষ্পত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে সরকারি ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রকাশ, আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা জানানো, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু রাখা এবং আবেদনকারীদের ফাইলের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মতো পদক্ষেপ সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

অভিযোগ নয়, প্রমাণেই নির্ধারিত হোক দায়। বিআরটিএ উত্তরা মেট্রো-৩ কার্যালয়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র সামনে আনা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ও ন্যায্য অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি সেবাব্যবস্থা যেন কোনো কথিত মধ্যস্থতাকারীর নিয়ন্ত্রণে না যায়—এটাই সেবাপ্রার্থীদের প্রত্যাশা।




লোহাগড়ায় জমি নিয়ে বিরোধ, ছোট ভাইকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ বড় ভাই ও ভাবীর বিরুদ্ধে!

মো: শওকত হোসেন: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইকে লোহার রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

​বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে আড়পাড়া গ্রামে ভুক্তভোগীর নিজ বাড়িতে এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

​আহত ব্যক্তির নাম রেজাউল শেখ (৪৮)। তিনি আড়পাড়া গ্রামের মৃত সানোয়ার শেখের ছেলে। এই ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—তাঁর বড় ভাই সাহীদুল শেখ ও সাহীদুলের স্ত্রী চায়না বেগম।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার সকালে সাহীদুল শেখ ও তাঁর স্ত্রী চায়না বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে রেজাউল শেখের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাঁরা লোহার রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে রেজাউলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে একপর্যায়ে পানিতেও ফেলে দেওয়া হয়।

​পরে পরিবারের চিৎকার ও আশপাশের লোকজনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।




বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছিল: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিলো বিগত আওয়ামী সরকার৷ জবাবদিহিতা থাকায় বর্তমান সরকারের আমলে সেই সুযোগ নেই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ডিআরইউ মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক গণ সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন৷

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনার সুযোগ থাকায় জাপানসহ উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান রিজভী৷

তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যে বৈঠক হয়েছে সেখানে আলোচনার সবচেয়ে বড় একটি ইস্যু হলো এনার্জি সেভিং। গ্লোবাল ক্রাইসিস চলছে, বাংলাদেশ এর জন্য দায়ী নয়। আমাদের রান্নাঘরের চুলা জ্বলা শুরু হয়েছে। হতাশার কিছু নাই। আমরা এগিয়ে যাবো। চাহিদা মিটিয়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে সংকট কাটবে বলেও জানান রিজভী।

তিনি বলেন, অনেক চরাঞ্চল বিদ্যুতের আওতার বাইরে আছে। বস্তিতে রিকশাওয়ালা ছেলে-মেয়েকে বিদ্যুৎ শেয়ার করে পড়াশোনা করাচ্ছেন। ক্যাবের প্রচেষ্টা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে ভাবনা দারুণ।




নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ভাগ্য বদলে দেয়ার দাবি ট্রাম্পের

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্বাচনী অবস্থান বদলে দেওয়ার কৃতিত্ব নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানানোর পর নির্বাচনের পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। যে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বড় পরাজয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেখানে এখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই কিংবা জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন ট্রাম্প। খবর দ্য জেরুজালেম পোস্টের।

পোস্টে ট্রাম্প ইরভিং সি. শোয়ার্টজের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেন। সেখানে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বিবি নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান, তখন পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। মহান এই প্রধানমন্ত্রীর নিশ্চিত পরাজয়ের পরিবর্তে এখন মনে হচ্ছে, তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে সমানে সমান লড়াই করছেন, এমনকি জিতেও যেতে পারেন।’

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘এসবই ঘটেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন ঘোষণার পর। তিনি শুধু মধ্যপ্রাচ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো কিছু চান।’

পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানের পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। ইসরাইলের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জনমত জরিপের ফল সঠিক ছিল না বলে তিনি শুনেছেন। নেতানিয়াহু প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সমর্থন ঘোষণা তাকে অনেক সাহায্য করেছে।’

তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষ্য, ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলছেন, নেতানিয়াহু অনেকের ধারণার চেয়ে ভালো করেছেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অমীমাংসিত অবস্থায় থাকতে পারে, আবার নেতানিয়াহু জিততেও পারেন।

নির্বাচনে কেন অনিশ্চয়তা

ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান দেখা যায়নি।

এ পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই সহজে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ছোট দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নেতানিয়াহুর দল লিকুদ সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হওয়া আর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া এক বিষয় নয়।

ফলে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি জোট গঠনের আলোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহুর পক্ষে ট্রাম্পের সমর্থন

ইসরাইলের নির্বাচনের আগে গত ১৮ অক্টোবর নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান ট্রাম্প। তিনি নেতানিয়াহুকে সাহসী ও দক্ষ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্যও তার প্রশংসা করেন।

নেতানিয়াহুকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের আগে দেওয়া এই সমর্থনকে এখন নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন ট্রাম্প।

তবে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী অবস্থানের উন্নতির পেছনে ট্রাম্পের সমর্থন কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো প্রমাণও সামনে আসেনি।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট