মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর শুরু

মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা আগামী ৩১ অক্টোবর শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে এই পরীক্ষা শুরু হবে।

সরকারের দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতায় উন্মুক্ত হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। গত ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটিতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এছাড়া, বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিপুলসংখ্যক কর্মী সেখানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তাই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় কার্যকর করা এবং একটি স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেয়া হবে না। আমরা চাই, কর্মীরা যেন সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কোনো ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান।

 

যেভাবে পরিচালিত হবে নিয়োগ ব্যবস্থা

জব অর্ডার সংগ্রহ

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে জব অর্ডার বা ডিমান্ড সংগ্রহ করতে পারবে।

কর্মী নির্বাচন

যে এজেন্সি জব ওর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিজের কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নিজের কাছেই থাকবে।

 

মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রসেসিং

যেখানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিং প্রয়োজন হবে, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেখানে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-সহ তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসিসিং ও সার্ভিস এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

 

বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স

মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রসেসিং সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি তার নিজের রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমেই তার নিজস্ব কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। অর্থাৎ, জব ওর্ডার যে এজেন্সি সংগ্রহ করবে এবং কর্মী যে এজেন্সি নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সি নিজের লাইসেন্সের অধীনেই তার কর্মীদের বাংলাদেশের সরকারি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে।

সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের কাজ করবে। বিএমইটি-এর ছাড়পত্রের জন্য তারা অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।




রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

রংপুরের মিঠাপুকুরে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা মোজাফফর (৪০), গোলাপি (৩৫), আলমগীর (৪০) (তারা তিনজনই ঢাকায় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন) ও বাসের হেলপার আপেল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে বৈরাগীগঞ্জ শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে মাজার মসজিদের সামনে মাটিভর্তি একটি ডাম্প ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী ‘খান এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই হেলপারের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযানে নামেন। বাসের ভেতর থেকে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়।

মিঠাপুকুরের বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় মোট চারজন মারা গেছেন। আহত অন্তত ১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।




স্থানীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: মীর শাহে আলম

সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন যেভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, একই ধারাবাহিকতায় জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, তেমনি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলো শান্তিপূর্ণ করাবে সরকার। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার।




আবারও বাড়ছে এলপি গ্যাসের দাম?

দফায় দফায় বাড়ছে এলপি গ্যাসের দাম। এরপরও নির্ধারিত মূল্যে মিলছে না এই জ্বালানি। এমন পরিস্থিতিতে আবারও বিভিন্ন চার্জ ও দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। সব মিলিয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার দাবি তাদের। এ আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টার দাবি, ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর গণশুনানি আয়োজন ভোক্তা স্বার্থের পরিপন্থি।

দফায় দফায় দাম বাড়ার পর বর্তমানে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু এ দামেও নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জ্বালানি পাওয়া কঠিন। স্থানভেদে গ্রাহকদের ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, তারা কখনোই সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস পান না। বর্তমানে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়েও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

তাদের দাবি, কোনো পণ্যের দাম একবার বাড়লে তা আর কমে না। দাম কমলেও সেই সুবিধা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছায় না। সরকার দাম কমালে বিক্রেতারা আগের দামে কেনা পণ্যের অজুহাত দেন, আর দাম বাড়লে বলেন, বেশি দামে কিনতে হয়েছে।

এলপি গ্যাসের বাজারে এমন অস্থিরতার মধ্যেই আবারও বিভিন্ন চার্জ ও দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এলপিজি আমদানিতে জাহাজভাড়া, সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণসহ বিভিন্ন খরচ দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কয়েকটি কোম্পানি।

সব মিলিয়ে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের নির্ধারিত দাম ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার দাবি জানিয়েছে আমদানিকারকদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। একই সঙ্গে পরিবেশক পর্যায়ে ১০০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে কমিশন ২০ টাকা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটররা।

লোয়াবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, পরিবহন খরচ বেড়েছে। ডিজেল দিয়ে জাহাজে জ্বালানি সরবরাহের ব্যয়ও বেড়েছে। এ ছাড়া পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের খরচও বেড়েছে। সব খরচ বিবেচনায় নিয়ে যুক্তিসংগত সমন্বয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় বিস্ফোরক লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্সের পাশাপাশি টিআইএন, ভ্যাট নিবন্ধন এবং সরকারি কর পরিশোধ করতে হয়। এসব খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যয়ও বেড়েছে। এ কারণে দাম বাড়ানোর দাবি যুক্তিসংগত।

এর আগে, চলতি মাসের মাঝামাঝি ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিলেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর গণশুনানি আয়োজন করা হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের স্বার্থ কতটা রক্ষা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এলপি গ্যাসের বাজারে বিভিন্ন সময়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতা অনেক পক্ষের কাছে দাবি আদায়ের সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়। এবারও ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, খুচরা বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের হুমকির মুখে তাদের চার্জ বাড়ানোর আবেদনের ওপর বিইআরসির গণশুনানি আয়োজনের বিষয়টি বিস্ময়কর। এ ধরনের ভূমিকার কারণে ভোক্তাদের জ্বালানি অধিকার বিপন্ন হচ্ছে এবং তারা জ্বালানি খাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এলপি গ্যাসের বিভিন্ন চার্জ ও দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার গণশুনানি করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। শুনানি শেষে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করা হতে পারে।




জাতীয় গ্রিড সচল, স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

জাতীয় গ্রিডের পুনরুদ্ধার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দেশের সব গ্রিড লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্র চালু রয়েছে।

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করায় উৎপাদন বাড়তে আরও কিছুটা সময় লাগবে। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং কমে আসবে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)।

এর আগে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। এতে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে কী কারণে এই বিভ্রাট ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা।

পিজিসিবি জানায়, জাতীয় গ্রিড পুনরুদ্ধারের সময় প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করেন। পুরো গ্রিড ব্যবস্থাটি ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক ছিল। গ্রিডের পুনরুদ্ধার কাজ শেষ হওয়ায় এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করে উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরলে বিক্ষিপ্ত লোডশেডিংও কমে আসবে।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনসাধারণের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।




রাশিয়া-ইউক্রেনের রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহত ১৭

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষে অন্তত ২ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মস্কো-নিয়োজিত গভর্নর জানিয়েছে, রুশ-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সিমফেরোপল থেকে মস্কোগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

রুশ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ম্যাক্সে ইয়েভগেনি বালিতস্কি জানিয়েছেন, সিমফেরোপল-মস্কো রুটে চলাচলোকারী একটি যাত্রীবাহী বাস শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ৩১ জন যাত্রী ছিল বাসটিতে। তাদের মধ্যে ১ জন নিহত হয়েছেন। হামলাটি প্রিমোর্স্ক শহরের কাছে ঘটেছিল। আহত সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সরাসরি জরুরি সেবা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি জানিয়ে তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন হয়নি, তাদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় একজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের সামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কিয়েভের পরিবহন অবকাঠামো, খারকিভ অঞ্চলের একটি লজিস্টিক সেন্টার এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত নৌযান লক্ষ্য করে স্থলভিত্তিক অস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এখন অত্যন্ত জটিল মোড় নিয়েছে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে। যুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই উভয়পক্ষের সামরিক কৌশল ও লক্ষ্যবস্তু প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় মিত্রদের সরবরাহ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া তাদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিধি বিস্তৃত করেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো ইউক্রেনের দূরবর্তী এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর হামলার মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যাকে ‘শহরের যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

যুদ্ধের প্রথম কয়েক বছরে রাশিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের প্রাথমিক সামরিক ঘাঁটি এবং ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র কারখানাগুলো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের অস্ত্র উৎপাদন ও ড্রোন সংযোজন কেন্দ্রগুলো দেশের বিভিন্ন ছোট-বড় শিল্প কারখানা এবং সাধারণ গুদামঘরে ছড়িয়ে দেয়। ইউক্রেনের এই কৌশলগত স্থানান্তরের জবাবে রাশিয়াও তাদের আক্রমণের নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যেকোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক স্থাপনা যা ইউক্রেন সামরিক ড্রোন বা সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারে, তা সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বহু শিল্পকারখানা হামলার মুখে পড়েছে এখন।

অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে যেসব কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগারে গোলাবারুদ রাখা হতো, সেগুলো ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হওয়ায় ইউক্রেন তাদের গোলাবারুদের মজুদ দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় স্থানান্তর করেছে। এমনকি পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আসা আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রও এ ধরনের অস্থায়ী কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে এসব স্থানে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের আঘাতে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে, তা অনেক সময় পাশের আবাসিক এলাকার জন্য তৈরি করছে মারাত্মক ঝুঁকি।




মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ শিগগিরই : শ্রমমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যকার এ সুসম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে চীন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে ড. লিউ ইউইন বাংলাদেশ পুলিশের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক সামর্থ্য বৃদ্ধিতে চীন সরকারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যকার এ সুসম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে চীন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে ড. লিউ ইউইন বাংলাদেশ পুলিশের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক সামর্থ্য বৃদ্ধিতে চীন সরকারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আজ স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। এছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।’

এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

গবেষণা প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান।

এ সময় রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।’

যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।’

দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত ও সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।




জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তাঁর সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের দুই মহান দেশের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেলপথ ও অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করেছে।

দুই দেশের আলোচনার ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে।

উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপানের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘শান্তিপ্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

সরকারি সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট—দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা।’

জাপান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলি, যা আমাদের জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাবে।’

এর আগে বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।