৫ খুনের ঘটনায় পলাতক ফোরকানকে আসামি করে মামলা

ডেস্ক নিউজ :গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ সদস্যকে খুনের ঘটনায় পলাতক স্বামী ফোরকানকে আসামি করে থানায় মামলা রজু করা হয়েছে। এ মামলায় আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহত শারমিন খানমের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পরে পুলিশ দুপুরে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে মাদকাসক্তি, পরকীয়া ও আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খুন হওয়া পাঁচজন হলেন গোপালগঞ্জ সদর থানার মেরী গোপীনাথপুর এলাকার মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তার তিন মেয়ে মিম খানম (১৪), উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।

কাপাসিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম জানান, ফোরকানকে আসামি করে শারমিন খানম ও রসুল মিয়ার বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ঘাতককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




১০ শর্তে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি ইরান

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেল। আজ শনিবার ইরানের ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তাদের জাতীয় দল আসন্ন বিশ্বকাপে খেলবে।

গ্রুপ ‘জি’তে ইরানের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে দলটি।

গত মাসে ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিতে ইরানের ফেডারেশন প্রধানকে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল কানাডা। যে কারণে তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান।

ইরানিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মাহদি তাজ রাষ্ট্রায়ত্ব টিভিকে গতকাল জানান, বিশ্বকাপে অংশ নিতে ১০টি শর্ত দিয়েছে তারা। দেশটির প্রতি তাদের সদাচরণের আশ্বাস চেয়েছেন তিনি।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- টুর্নামেন্ট চলাকালে ভিসা প্রদান, জাতীয় দলের স্টাফ, দলের পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান এবং বিমানবন্দর, হোটেল ও স্টেডিয়ামে যাওয়ার আসার সময় রাস্তায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

ইরানিয়ান ফেডারেশন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলেছে, ‘আমরা ২০২৬ বিশ্বকাপে অবশ্যই অংশ নেবো। কিন্তু আয়োজকদের আমাদের উদ্বেগগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে।’

তারা আরও বলেছে, ‘আমরা বিশ্বকাপে অংশ নেবো, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও দৃঢ় প্রত্যয় থেকে এতটুকু বিচ্যুত না হয়ে।’

ইরানিয়ান ফুটবল প্রধান বলেন, ‘সব খেলোয়াড় ও টেকনিক্যাল স্টাফ, বিশেষ করে যারা আইআরজিসিতে সামরিক দায়িত্ব পালন করেছে, যেমন মেহদি তারেমি ও এহসান হাজসাফি। তাদের সবাইকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভিসা প্রদান করতে হবে।’




লাইফ সাপোর্টে থাকা কারিনার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা কায়সার হামিদ

বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদের মেয়ে ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভোগার পর হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শোনা যাচ্ছিল, লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন।

বিষয়টি শনিবার (৯ মে) গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কারিনা কায়সারের বাবা জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। কারিনার অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার (৮ মে) রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

কায়সার হামিদ বলেন, ‘অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। ওর আগে একটু ফ্যাটি লিভার ছিল, কিন্তু অবহেলা করেছে, ওষুধ ঠিকমতো খায়নি। তো হঠাৎ ইনফেকশন হয়ে গেছে, এর মধ্যে আবার হেপাটাইটিস এ–তে আক্রান্ত হয়েছে। আইসিইউতে ছিল, গতকাল (শুক্রবার) লিভার ফেইলিউর হলে লাইফ সাপোর্টে দেওয়া হয়েছে।’

মেয়ের জন্য দোয়া চেয়ে কায়সার হামিদ আরও বলেন, ‘সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

উল্লেখ্য, কনটেন্ট ক্রিয়েশনের পাশাপাশি অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কারিনার পরিচিতি আছে। তিনি ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’ নামের চরকি অরিজিনাল সিরিজের মাধ্যমে পরিচিতি পান।




জনগণ এমন রাষ্ট্র চায়, যেখানে অবিচার অনাচার থাকবে না

ডেস্ক নিউজ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
আগামীকাল (১০ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (৯ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি এবং স্বস্তি ফিরেছে। জনগণ এখন গুম, অপহরণ আর ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র এবং সমাজ দেখতে চায়, যেখানে জানমালের ভয় থাকবে না; অবিচার, অনাচার কিংবা নির্যাতন-নিপীড়নের ভয় থাকবে না। এমন একটি প্রত্যাশিত পরিস্থিতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশের ভূমিকাই সর্বাধিক।’
তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে পুলিশ যদি জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, তাহলে পুলিশের দায়িত্ব পালনের পথ অনেকটা সহজ এবং সুগম হয়ে যায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহ হয়ে উঠুক নিজেদেরকে জনগণের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পূরণের একটি মুহূর্ত। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। তবে ঘরে-বাইরে জনমনে নিরাপত্তা, স্বস্তি না থাকলে লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার। এই প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি প্রয়োজনে ও সংকটে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা প্রমাণ করেছে, একটি উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশে তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সক্ষম।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দেশেই নয়, বাংলাদেশ পুলিশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। তাই পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।’
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।