জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালা নিয়ে বিভ্রান্তি, যা বলছে মন্ত্রণালয়

ডেস্ক নিউজ : বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নিয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালা সম্পর্কে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অনুমাননির্ভর ও অসত্য’ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। শনিবার মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানো এ নীতিমালার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের পর নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। সম্প্রতি প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমাননির্ভর ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টিকে ‘অনভিপ্রেত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।




জাপানে তাণ্ডব চালিয়ে চীনের দিকে অগ্রসর টাইফুন ডলফিন, ফ্লাইট ও বন্দর বন্ধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাপানে আঘাত হানার পর টাইফুন ডলফিন এখন চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ওকিনাওয়ায় ছয়জন আহত হয়েছেন, আর দেশজুড়ে পঞ্চাশ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চীনের পূর্ব উপকূলে বন্দর বন্ধ, ফেরি স্থগিতসহ নানা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাপানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওকিনাওয়ায় পাঁচজন বয়স্ক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন তীব্র বাতাসে পড়ে গিয়ে আহত হন। তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। কাগোশিমায়ও একজন আহত হয়েছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কাগোশিমায় প্রায় ৩৯ হাজার এবং ওকিনাওয়ায় ১২ হাজারের বেশি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলো আর জাপান এয়ারলাইনস ওকিনাওয়াগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

টাইফুনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে ওকিনাওয়া আর কাগোশিমার আমামি দ্বীপপুঞ্জে। কেন্দ্রস্থলে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। ঝোড়ো হাওয়ায় তা আরও বেড়ে ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

স্থানীয় সময় রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে টাইফুনটি চীনে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চীন একে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতার ‘অরেঞ্জ’ ক্যাটাগরিতে রেখেছে। বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় জরুরি তৎপরতার মাত্রা বাড়িয়ে লেভেল ৩ করা হয়েছে।




আরাকান আর্মি ধরে নিল ৩ জেলেকে, সাগরে ঝাঁপ দিয়ে ফিরলেন দুজন

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে নাফ নদীর মোহনা থেকে তিন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ)। এ সময় নৌকা থেকে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে এক ঘণ্টা সাঁতার কেটে ফিরে এসেছেন আরও দুই জেলে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন—টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া এলাকার জসিম উদ্দিন (৪০), মোহম্মদ ইসমাইল (৪৫) এবং হারুন (৩৭)। সাঁতরে পালিয়ে আসা দুজন হলেন- জালিয়াপাড়া এলাকার নুর আলি ও মো. শরীফ।

শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া নৌঘাট কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি বলেন, সকালে পাঁচ জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরে আসার সময় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে একটি স্পিডবোট তাদেরকে ধাওয়া করলে দুজনে সাগরে ঝাপ দিয়ে সাঁতার কেটে বাংলাদেশের ভূখণ্ড গোলারচরে আসে। বাকি তিন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর আগেও ওই এলাকা থেকে ২০-২৫ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক জেলে মো. শরীফ বলেন, ‘সাগর থেকে মাছ ধরে আসার সময় এক সঙ্গে ছয়-সাতটি নৌকাকে ধাওয়া করে আরাকান আর্মি। আমাদের নৌকাটি ছোট হওয়ায় স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করে ধরে ফেলে।’

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘জালিয়াপাড়া এলাকার তিন জেলেকে আরাকান আর্মি নাফ নদীর মোহনা থেকে ধরে নিয়ে গেছে। তাদের ফিরে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, ‘বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে আরাকান আর্মির সদস্যরা জেলেদের ধাওয়া করেছে। এ সময় কয়েকজন জেলে নৌকা থেকে লাফ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেন। দুজন নৌকাসহ পালিয়ে আসতে পারলেও তিনজনকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জেলেদের ফেরত আনার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




বাংলাদেশের ক্যাম্পে যোগ দিলেন অ্যাডাম আব্বাস

ক্রীড়া ডেস্ক : বর্তমানে বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় ফুটবল দলে খেলছেন বেশ কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক দলেও আসছেন প্রবাসী ফুটবলাররা। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশ দল যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে অনুশীলন করছে। সেই ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন ইংলিশ প্রবাসী ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে বেড়ে উঠেছেন অ্যাডাম আব্বাস। সেখানে চার বছর তিনি ছিলেন। মূলত ম্যানইউতেই তার ফুটবলের হাতেখড়ি। ম্যানইউ থেকে পরবর্তীতে বার্নলি অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলেন। ইনজুরির জন্য বার্নলির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন হয়নি।

অ্যাডামের নানা-নানি বাংলাদেশি। তার মা ব্রিটিশ নাগরিক। বাবা জ্যামাইকান। অ্যাডামের শারীরিক গড়নেও বাবার জ্যামাইকান ধাঁচ রয়েছে। যা ফুটবলের জন্য বেশ সহায়ক।

অ্যাডাম আব্বাস আক্রমণভাগে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি নিজে গোলের পাশাপাশি গোলের ভালো যোগানদাতাও। বাংলাদেশের যুব ফুটবল দলে ফরোয়ার্ড পজিশনে অ্যাডামকে ভাবছে কোচিং স্টাফ।




থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করলেন স্ত্রী

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তার স্ত্রী সঙ্গীতা স্বর্ণালিঙ্গম। শুক্রবার আদালতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি আবেদনটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান। এর পর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ুর চেঙ্গালপট্টুর পারিবারিক আদালতে বিজয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন সঙ্গীতা। আবেদনে তিনি দাম্পত্য সম্পর্কে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন। একই সঙ্গে স্থায়ী ভরণপোষণ এবং চেন্নাইয়ের নীলাঙ্কারাইয়ে অবস্থিত বাড়িতে বসবাসের অনুমতিও চেয়েছিলেন।

বিজয় ও সঙ্গীতার দাম্পত্য-সংক্রান্ত মামলার শুনানি এ বছর কয়েক দফা পিছিয়েছে। গত ১৫ জুনের শুনানিতে সঙ্গীতা আবেদনটি প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেদিনের শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি আদালতকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এরপর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ৭ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে গত মাসের শুনানিতে বিজয় ও সঙ্গীতা—কেউই আদালতে উপস্থিত হননি। এর আগের শুনানিতেও দুজনের অনুপস্থিতির বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। তাদের আইনজীবীরা সশরীরে শুনানিতে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সঙ্গীতা তার আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর আদালত মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেন।

বিজয় ও সঙ্গীতার সম্পর্ক প্রায় তিন দশকের। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট চেন্নাইয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। ২০০০ সালে তাদের ছেলে এবং ২০০৫ সালে মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়।

২০২৩ সালে বিজয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় সঙ্গীতার অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তাদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। যদিও সে সময় এসব দাবি অস্বীকার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালে টিভিকে আয়োজিত দলের দ্বিতীয় রাজ্য সম্মেলনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সঙ্গীতার উপস্থিতি না থাকায় বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে।




রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করল পুলিশ

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ বিষয়ে জানানো করা হয়। বার্তায় বলা হয়, সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পাশাপাশি অন্যায় তদবির গ্রহণ না করায় অসন্তুষ্ট একটি মহল মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকা, সরকারি দপ্তরে অনৈতিক তদবির এবং অপপ্রচার বন্ধের শর্তে অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।




বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার ঘোষণা করল সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটেরকমান্ডার হিসেবে সৌদি আরবের রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ আছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, কমান্ডার হিসেবে আল-শেহরি যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়, অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সহযোগিতা এবং জোটের সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত বিভিন্ন মিশনের নেতৃত্ব দেবেন।

এই নিয়োগ এমন এক সময় এলো, যখন লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এডেন উপসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। গত ৩০ জুলাই সৌদি আরবের উদ্যোগে ১৪টি দেশের অংশগ্রহণে এই সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা।

বর্তমানে জোটে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, বাংলাদেশ, বাহরাইন, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক, ইয়েমেন, জিবুতি, সোমালিয়া, সুদান ও কোমোরোস।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ জোটে যোগদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। কেউ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে, আবার কেউ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দিতে ঘোষণাপত্র ও জোটের সনদে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এটি একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট। জোটের উদ্দেশ্য ও নীতির সঙ্গে একমত যে কোনো দেশ এতে যোগ দিতে পারবে। নতুন সদস্যদের আবেদন গ্রহণও অব্যাহত রয়েছে। যেসব দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদের স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, তাদের নাম পরে পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১২-১৩ আগস্ট জোটের একটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে জোটের সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা এবং আরও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশের পশ্চিমমুখী রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রগামী পণ্য, লোহিত সাগর হয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তিতে সইকারী তিন দেশই সুন্নি–প্রধান। তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইরান ও তার মিত্ররা সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তারা এসব দেশের জ্বালানি রপ্তানির পথও অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

চুক্তি সইয়ের পর তিন দেশ যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করতে সম্মিলিত প্রতিরোধের সক্ষমতা জোরদার করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। এর আওতায় প্রতিটি দেশ কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা দায়িত্ব নিয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এতে বলা হয়েছে, সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অঞ্চল ও এর বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার একটি ধারা রয়েছে। এটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক। এতে শুধু আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তার অঙ্গীকার করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা জানান, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এটি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তি বাতিল বা প্রতিস্থাপন করে না।

চুক্তিতে সইকারী তিন দেশের আরেকটি সাধারণ অবস্থান হলো—তারা ইসরায়েল ও বিপ্লবী শিয়া রাষ্ট্র ইরানের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী সামরিক অবস্থান নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এমন এক সময়ে এই চুক্তি করা হলো, যখন তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে।




বগুড়ার এরুলিয়ায় ফের দুর্ঘটনা, একসঙ্গে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়ায় দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহতের রেশ না কাটতেই ফের প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের সাত বছর বয়সী নাতি আহত হয়েছে। তবে শিশুটি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার এরুলিয়া বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার আটাপাড়া এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিন মোল্লার ছেলে বাবুল হাসান (৫০) এবং তার স্ত্রী জেসমিন বিবি (৪৫)। বাবুল হাসান পেশায় একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাবুল হাসান স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বগুড়ার কাহালুর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে এরুলিয়া বিমানবন্দর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা বগুড়াগামী একটি প্রাইভেটকার অটোভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।

এতে মোটরসাইকেল আরোহী বাবুল হাসান ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত স্ত্রী জেসমিন বিবি ও নাতি জুলকার নাইনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জেসমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারের চালক একজন নারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।




ভিসা আবেদনে তথ্য গোপন, দুই বছর নিষিদ্ধ পাকিস্তানের ক্রিকেটার

ক্রীড়া ডেস্ক : ভিসা আবেদনের সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় পাকিস্তানের উদীয়মান অলরাউন্ডার হামজা নাজারকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পিসিবি জানায়, বোর্ডের মাধ্যমে বিদেশ সফরের জন্য ভিসা আবেদনের সময় হামজা নাজার যে তথ্য ও নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন, সেগুলো নিয়ে তদন্ত চালানো হয়। তদন্তে উঠে আসে, আবেদনপত্রে তিনি সম্পূর্ণ ও সঠিক তথ্য দেননি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য গোপন করার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্যও উপস্থাপন করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পিসিবি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলাকালে হামজা নাজারকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেয়া হয়। তার বক্তব্য, জমা দেয়া নথি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর কমিটি একটি প্রতিবেদন তৈরি করে বোর্ডের কাছে জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পিসিবি জানিয়েছে, আগামী দুই বছর হামজা নাজার ঘরোয়া কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো ধরনের স্বীকৃত ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি তাকে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানাও গুনতে হবে।

পিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন করা কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দেওয়ার বিষয়কে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। এ ধরনের আচরণ পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সততা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষা করা বোর্ডের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো খেলোয়াড় বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণের কারণে দেশের ক্রিকেট কিংবা কোটি সমর্থকের আস্থার ক্ষতি হোক, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।