জামায়াতপন্থী আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগকে ‘পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি’ বলছে বিএনপি

ডেস্ক নিউজ : জামায়াতপন্থী ১৮ আইন কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগকে রাজনৈতিক স্টান্টবাজি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা বাদল। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘যখনই সরকার পরিবর্তন হয়, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পদে থাকা ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে যান, এটাই বাংলাদেশে সবসময় হয়ে এসেছে। ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, যে বন্ধুরা গতকাল পদত্যাগ করেছেন, উনারা এই সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে চার মাস কাজ করেছেন, বেতন নিয়েছেন, সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারেস্টিং বিষয় হল, যে বন্ধুরা গতকাল পদত্যাগ করেছেন, উনারা এই সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে চার মাস কাজ করেছেন, বেতন নিয়েছেন, সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন। চার মাস পরে উনাদের মনে হল যে এখন তো আসলে পদত্যাগ করা দরকার অথবা রিমুভড হবেন। এইজন্য উনারা রাজনৈতিক কিছু বিষয় নিয়ে এসেছেন, যেটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।’

একযোগে এই পদত্যাগের বিষয়টিকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যায়িত করে বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘উনাদের ওই বক্তব্যটা টোটালি পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে আচরণই করত, তারা যদি সরকারের সুযোগ-সুবিধাই না নিত, তাহলে সরকার গঠন হওয়ার পরদিনই তাদের পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা।”

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেবকে আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই যে, এই চার মাস উনারা সরকারের পক্ষে কাজ করেছে, নাকি সরকারের বিপক্ষে স্যাবোটাজ করেছে? এই চার মাসের যতগুলো ফাইল ছিল, সবগুলো ফাইল যেন উনারা একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা সব নিয়ে, আর চার মাস কাজ করে, দিনশেষে পদত্যাগ করে আবার সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেবে; এতে মনে হচ্ছে তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে সরকারের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করেনি। আপিলের ক্ষেত্রে তারা কী নোট দিয়েছেন বা সরকারের স্বার্থ রক্ষা করেছেন কি না, সেটি এখন দেখা দরকার।’

প্রসঙ্গত, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ পাস না করার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রের ১৮ জন আইন কর্মকর্তা।

তাদের মধ্যে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) । জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক এই আইন কর্মকর্তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পেয়েছিলেন।

পদত্যাগকারী সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) হলেন— মো. ইউসুফ আলী, মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, মুহাম্মদ আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, মো. আসাদ উদ্দিন ও মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) হলেন— ইমরুল কায়েছ, মো. হুমায়ুন কবির, মো. আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, মো. জোবায়দুর রহমান, মোহাম্মদ শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলী, মীর এ কে এম নূরুননবী, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম ও মো. জাকির হোসেন।




জিতলে জাপান, ড্র-তে নেদারল্যান্ডস আর হারলে জার্মানি—কী করবে ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আগামিকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় মাঠে নামবে ব্রাজিল। আর এই ম্যাচ দিয়ে অপেক্ষার অবসান হতে পারে নেইমার ও তার ভক্তদের।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নেইমারকে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ব্রাজিল কোচ।

তবে দলের সেরা খেলোয়ারকে মাঠে দেখার আনন্দের মাঝে এক কঠিন সমীকরণ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে ব্রাজিল ভক্তদের। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে দলটির নকআউট পর্বের প্রতিপক্ষ।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সম্ভাব্য তিন ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে রাউন্ড অফ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ কারা হবে। এখন পর্যন্ত অন্যান্য গ্রুপের যে অবস্থা ব্রাজিল যদি তাদের পরবর্তী ম্যাচে জয়ী হয় তাহলে তারা পাবে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানকে, আর যদি ড্র করে তাহলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস। তবে কোনোভাবে যদি স্কটল্যান্ডের কাছে তারা হেরে যায় তাহলে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ২০১৪ সালে ভুলে যাওয়ার মতো এক ইতিহাস উপহার দেওয়া জার্মানির।

তবে প্রতিভা, সামর্থ্য আর রাঙ্কিং হিসেবে ব্রাজিলের সামনে বড় বাধা হওয়ার কথা না স্কটল্যান্ডে। আর এটাই দলটি ও তাদের ভক্তদের জন্য সুখবর হওয়ার কথা। তাই ব্রাজিল আশা করতেই পারে শেষ ম্যাচে জিতে পরের পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ জাপানের মুখোমুখি হওয়ার




৬ মাসের মধ্যে শেষ হবে কাঁচপুর টার্মিনালের কাজ, যানজটমুক্ত হবে ঢাকা

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরে নির্মাণাধীন এই বাস টার্মিনাল প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে যানজটমুক্ত রাখার সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালের চাপ কমাতে এর কিছু অংশ কেরানীগঞ্জ ও কাঁচপুরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে টার্মিনালটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে হাবিবুর রশীদ বলেন, আগের সরকারের আমলে চারটি বাস টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বর্তমান সরকার রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট কমাতে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই পরিদর্শন।

সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলমান উন্নয়নকাজের ৪৮ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের সব মহাসড়কের কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকার সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে পর্যায়ক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ ময়নুল হাসান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এবং সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে শিক্ষার ওপর জোর ডেপুটি স্পিকারের

ডেস্ক নিউজ : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে।

বুধবার ডেপুটি স্পিকার রাজধানীর ডন বস্কো স্কুল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের মনোযোগসহকারে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডন বস্কো স্কুলে বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করছে, যা সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি শিশুদের বাংলাদেশি কৃষ্টি-সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডেপুটি স্পিকার শিশু-কিশোরদের মাদকের কবল থেকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরকারি সহায়তার আশ্বাসও দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের অটোগ্রাফ দেন। এ সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক প্রতিনিধি, সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




যে কারণে মানচিত্র থেকে সরে গেল জাপান, কী বলছে গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাপান আগের অবস্থানে নেই—এমনই এক বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। গবেষকদের দাবি, ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রায় ১৫ মিনিট পর দেশটির ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে পূর্ব দিকে সরে যায়।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন  ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ভূ-পদার্থবিদ সানইয়ং পার্ক। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন।

২০১১ সালের ১১ মার্চ স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে জাপানে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। জিপিএস তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভূমিকম্পের কিছু সময় পর হোক্কাইডো থেকে কিউশু পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল প্রায় একই সময়ে পূর্ব দিকে স্থানচ্যুত হয়।

প্রথমে বিজ্ঞানীরা এটিকে তথ্যগত ত্রুটি বা যন্ত্রের ভুল বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের বিশ্লেষণের পর গবেষকেরা নিশ্চিত হন, ঘটনাটি বাস্তব ছিল এবং এর পেছনে কাজ করেছে এক বিরল ভূ-ভৌত প্রক্রিয়া।

গবেষণা অনুযায়ী, ভূমিকম্পে সৃষ্ট শক্তিশালী ভূকম্পন তরঙ্গ পৃথিবীর গভীরে থাকা তরল ধাতব বহিঃকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে সেখান থেকে প্রতিফলিত হয়ে আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ফিরে আসা এই তরঙ্গের প্রভাবে জাপানের নিচে থাকা চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটে সামান্য নড়াচড়া সৃষ্টি হয়।

গবেষক পার্কের ভাষায়, সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল যে জাপানের প্রায় পুরো ভূখণ্ড একই সময়ে প্রায় সমানভাবে সরে যাচ্ছিল। এই নড়াচড়া মূল ভূমিকম্প বা বড় কোনো আফটারশকের সঙ্গে ঘটেনি বরং সেগুলোর আগেই এটি সংঘটিত হয়।

ভূকম্পনবিদেরা আগে থেকেই জানতেন যে বড় ভূমিকম্পের তরঙ্গ পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রতিফলিত হতে পারে। তবে এত গভীর থেকে ফিরে আসা কোনো তরঙ্গের ভূপৃষ্ঠে এত স্পষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে—এমন প্রমাণ আগে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ গোরান একস্ট্রম জানান, ২০১১ সালের মূল ভূমিকম্পে জাপানের নিচের দুটি টেকটোনিক প্লেট প্রায় ১০ মিটার সরে গিয়েছিল। এর ফলেই সুনামির সৃষ্টি হয় এবং জাপানের প্রধান দ্বীপ হনশু প্রায় ২০ সেন্টিমিটার পূর্ব দিকে সরে যায়। তবে নতুন গবেষণায় যে স্থানচ্যুতির কথা বলা হয়েছে, তা মূল কম্পনের পরবর্তী ঘটনা।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই দেশব্যাপী মৃদু স্থানচ্যুতির পেছনে যে শক্তি কাজ করেছে, তা প্রায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের সমতুল্য। তবে শক্তিটি বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব দেখা যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর কেন্দ্র ঘুরে ফিরে আসা এই ধরনের তরঙ্গ ভূত্বকের বিভিন্ন ফল্টকে পুনরায় সক্রিয় করতে পারে এবং দূরবর্তী প্লেট-সংযোগস্থলেও নড়াচড়ার সূচনা ঘটাতে সক্ষম।

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ভূতাত্ত্বিক অধ্যাপক ভেদরান লেকিচ বলেন, জাপানের অত্যাধুনিক ভূকম্পন ও স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকায় এত সূক্ষ্ম ঘটনা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রযুক্তির অভাবে তা নজরে আসছে না।

গবেষণায় যুক্ত না থাকলেও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ভূ-পদার্থবিদ আমান্ডা থমাস এই গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, বড় ভূমিকম্পের প্রভাব শুধু মূল কম্পন বা আফটারশকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অনেক সময় পরে ফিরে আসা গভীর ভূকম্পন তরঙ্গও ফল্ট সিস্টেমে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পৃথিবীর গভীরের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে ভূমিকম্প-পরবর্তী ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




যুক্তরাজ্যে এক হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যজুড়ে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের এক হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ রয়েছে বা সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। তবে তা আরও বেশি মাত্রায় অনুভূত হতে পারে।

তীব্র গরমের কারণে ইংল্যান্ডের ৮৩৭টি স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে, অথবা অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের আগেভাগে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু অংশে তীব্র তাপপ্রবাহের জন্য জারি করা রেড অ্যালার্ট বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেই সতর্কতা দক্ষিণ ইংল্যান্ডের আরও বেশি এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। এটি আবহাওয়া অফিসের সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর এবং এর ফলে জীবনহানির ঝুঁকি ও পরিবহনে বিলম্ব হতে পারে।

দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডে শনিবারের জন্য নতুন অ্যাম্বার তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি হওয়ায় রেলযাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

লন্ডনের একজন নির্মাণকর্মী জনি বলেছেন, গরম ‘ভয়াবহ’ কিন্তু ‘কাজ তো করতেই হবে।’




বজ্রপাতে ময়মনসিংহে কলেজ শিক্ষার্থীসহ নিহত ২

ডেস্ক নিউজ : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় বজ্রপাতে কলেজ শিক্ষার্থীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যার এই ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। নিহতরা হলেন- স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী তুলি ও আব্দুল খালেক।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের দেবগ্রামে পুকুর পাড়ে বসে মোবাইলে কথা বলার সময় বজ্রপাতে ওই শিক্ষার্থীর আহত হন। তাকে চিকিৎসার জন্য ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বজ্রপাতে নিহত তুলি ফুলবাড়ীয়া সরকারি মহিলা কলেজের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

অন্যদিকে, কালাদহ গ্রামের নিচপাড়ায় একই সময়ে বজ্রপাতে আ. খালেক নামের এক কৃষক নিহত হয়েছে। আছরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বাড়িতে আসার সময় ওই কৃষক বজ্রপাতে আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানান, বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এ ব্রাজিল গ্রুপ সেরা হলে নকআউটে প্রতিপক্ষ কারা?

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত ভালো অবস্থানে থাকলেও এখনও নিশ্চিত হয়নি নকআউট পর্বের টিকিট।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল স্বাভাবিকভাবেই ফেভারিট। তবে এই ম্যাচের ফল এবং একই সময়ে মরক্কো-হাইতি ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে গ্রুপ ‘সি’-এর চূড়ান্ত চিত্র।

বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, ব্রাজিল যদি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় বা ড্র করে, তাহলে তাদের নকআউট নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া বা না হওয়া নির্ভর করবে মরক্কোর ফলাফলের ওপর।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ

ব্রাজিল ও মরক্কো উভয় দলই যদি শেষ ম্যাচে জেতে, তাহলে দুই দলের পয়েন্ট হবে ৭। সে ক্ষেত্রে মুখোমুখি লড়াই ও গোল ব্যবধানের হিসাব নির্ধারণ করবে শীর্ষস্থান।

ব্রাজিল যদি ড্র করে এবং মরক্কো জিতে যায়, তাহলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে মরক্কো। তবে ব্রাজিল ড্র করলেও এবং মরক্কোও ড্র বা হারলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে সেলেসাওরা।

অন্যদিকে ব্রাজিল হেরে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাবে। মরক্কো জিতলে ব্রাজিল নেমে যেতে পারে তৃতীয় স্থানে। তখন পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নকআউটে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে ব্রাজিলকে খেলতে হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ দলের বিপক্ষে। বর্তমানে সেই অবস্থানে আছে জাপান।

আর যদি ব্রাজিল রানার্সআপ হয়, তাহলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন, যেখানে আপাতত শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস।

তৃতীয় স্থান নিয়ে নকআউটে উঠলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। সেরা তৃতীয় দলগুলোর মধ্যে জায়গা করে নিলে ব্রাজিলকে গ্রুপ ‘ই’, ‘এ’ বা ‘আই’-এর শীর্ষ দলের বিপক্ষে খেলতে হতে পারে। যেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে জার্মানি, ফ্রান্স বা মেক্সিকোর মতো শক্তিশালী দলও থাকতে পারে।

শেষ ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, রানার্সআপ হবে, নাকি তৃতীয় স্থান নিয়ে কঠিন নকআউট পথ পাড়ি দিতে হবে।




স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যা: ২ দিনের রিমান্ডে অভিনেতা জাহের আলভী

বিনোদন ডেস্ক : ঢাকার মিরপুরে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুন) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এই আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামি আলভী তার স্ত্রী ইকরাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন এবং ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দিতেন। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও অন্য নারীর সঙ্গে ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার মাধ্যমে আলভী ইকরাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন অভিনেতা আলভী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ১ মার্চ সকালে মিরপুরের বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আলভীর স্ত্রী ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।




শততম ম্যাচে রেকর্ডের ঝড় তুললেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস গড়লেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফ্রান্স শুধু জয়ই পায়নি, বরং একের পর এক রেকর্ডও নতুনভাবে লিখেছে।

এমবাপ্পে এখন বিশ্বকাপে ১৬ গোল করে ইতিহাসের যৌথ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতায় উঠে এসেছেন। তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সমান হয়েছেন। তার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি, যার গোল ১৮টি।

তিনি আরও একটি বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন—বিশ্বকাপে টানা তিনটি বা তার বেশি ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করা মাত্র চতুর্থ পুরুষ খেলোয়াড় তিনি। এর আগে এই কীর্তি ছিল ১৯৫৪ সালে সান্দোর ককিস, ১৯৩০ সালে গুইলিয়ের্মো স্তাবিলে এবং সাম্প্রতিক সময়ে মেসির।

বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের ষষ্ঠবারের মতো এক ম্যাচে একাধিক গোল করার ঘটনা—এর মধ্যে পাঁচটি ডাবল এবং একটি হ্যাটট্রিক।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান হলো, তার শেষ তিনটি বিশ্বকাপ গোলের মধ্যে দুটি এসেছে বক্সের বাইরে থেকে, যেখানে শুরুতে এমন গোল ছিল খুবই কম।

এই ম্যাচের মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সের হয়ে শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। মাত্র ২৭ বছর ১৮৪ দিন বয়সে তিনি ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছানো খেলোয়াড়দের একজন।

তার সতীর্থ মাইকেল ওলিসে একটি ম্যাচে দুইটি সহায়তা করে নজর কেড়েছেন। তিনি চলতি বিশ্বকাপে সর্বাধিক সহায়তাদাতাদের তালিকায় শীর্ষে চলে এসেছেন।

অন্যদিকে ওসমান দেম্বেলে দীর্ঘ সময় পর বড় টুর্নামেন্টে গোলের দেখা পান, যা ছিল তার বহু ম্যাচ পর প্রথম গোল।

ফ্রান্স টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ধারাবাহিকতা।

আরও একটি পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রান্স টানা চারটি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতেছে—যা তাদের স্থায়ী শক্তিমত্তার প্রমাণ।

এছাড়া বিশ্বকাপে এশীয় দলের বিপক্ষে ফ্রান্সের অপরাজিত থাকার রেকর্ড আরও দীর্ঘ হলো, যা এখন ছয় ম্যাচে পৌঁছেছে।

সব মিলিয়ে, এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স এবং ফ্রান্সের দলগত সাফল্য এবারের বিশ্বকাপকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।