কুমিল্লায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজ : কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মফিজুল ইসলাম মফু নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

আদালত ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের খেয়াইশ গ্রামের ৯ বছরের ওই শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নির্ধারিত সময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার একটি ধানক্ষেতে ঝুমুরের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ  ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি মফু। এ ঘটনার ৩ দিন পর র‍্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টেও আসামি ওই শিশুকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব বিষয় আনা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১ এর পিপি মো. বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পর আসামি মফুকে আদালত থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।




বিশ্বকাপ ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে পিটিশন, হাজার হাজার ভক্তের স্বাক্ষর

ক্রীড়া ডেস্ক : নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত ১৯ জুলাই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার হারের মাধ্যমে পর্দা নেমেছে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বিশ্বকাপ আসরের। তবে ম্যাচটি যথাযথ নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়নি দাবি করে ফাইনালে রেফারির কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় ক্ষোভ বাড়ছে। খেলাটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতে দেশটিতে শুরু হওয়া একটি অনলাইন ক্যাম্পেইনে ইতিমধ্যে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চেঞ্জডটওআরজিতে ওই পিটিশন চালু করেছেন গিসেলা সানচেজ নামে এক ফুটবলভক্ত। যেখানে তারা ফিফার কাছে স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিসের পারফরম্যান্স এবং ভিএআরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি তোলা হয়েছে।

এই ক্যাম্পেইনের উদ্যোক্তার দাবি, ম্যাচটিতে গতিপ্রকৃতি প্রভাবিত করার মতো রেফারিং হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো যাচাইকৃত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এমন আবেদনের অবশ্য কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিধিবদ্ধ বৈধতা নেই এবং আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতার ফলাফল পরিবর্তন করতে বাধ্য করার ক্ষমতা নেই।

খেলা পুনরায় আয়োজন কেবল তখনই সম্ভব, যখন ক্রীড়া-সংক্রান্ত বিধিমালার আওতায় কোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয় অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আর্জেন্টিনার এই উদ্যোগটি ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে সামনে আসা অন্যান্য প্রতিবাদেরই একটি অংশ। এর আগে ফ্রান্সে ৮২০০০–এরও বেশি স্বাক্ষরসহ একটি ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে দাবি করা হয়েছিল, স্পেন যে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল তার ঠিক আগের একটি ঘটনার জেরে স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচটি পুনরায় খেলা হোক। তবে তাদের সেই আবেদনের ফলাফল শূন্য!

প্রসঙ্গত, ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের গোলে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়। এর পরই হাজার হাজার আর্জেন্টাইন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমে আসেন। ফাইনালে ওঠা এবং টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছায় তারা লিওনেল মেসিদের প্রতি সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর বাইরে ফাইনালে হারের পর বুয়েন্স আয়ার্সে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো ঘটনাও ঘটে।




দিল্লিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতকে আতিথ্য দেবে আফগানিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক : চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজন করতে যাচ্ছে আফগানিস্তান। ক্রিকইনফোর তথ্যমতে, সিরিজটি ১৩, ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সূচিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

নিজ দেশের মাটিতে কোনো দলের ভারতের বিপক্ষে স্বাগতিক হিসেবে খেলার ঘটনা এটিই হবে প্রথম। কারণ আফগানিস্তান বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতে তাদের ‘হোম’ ম্যাচগুলো খেলে আসছে। এর আগে তারা লখনউ, দেরাদুন ও গ্রেটার নয়ডায় নিজেদের হোম ম্যাচ খেললেও ভারতের বিপক্ষে কখনো খেলেনি।

শুভমান গিলদের বিপক্ষে এই সিরিজটি শ্রীলঙ্কা সফর(টেস্ট সিরিজ) এবং এশিয়ান গেমসের মধ্যবর্তী সময়ে নির্ধারিত হয়েছে। জাপানে এশিয়ান গেমস শুরু হবে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টটি শেষ হওয়ার কথা ২৭ আগস্ট। যা আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে। অন্যদিকে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এক সপ্তাহ পর ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এশিয়ান গেমস।

এর আগে গত জুনে আফগানিস্তান ও ভারত একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল, যা ছিল আফগানিস্তানের জন্য একটি ‘অ্যাওয়ে’ সিরিজ। নিউ চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত টেস্টটিতে ভারত তৃতীয় দিনেই ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। এরপর ওয়ানডে সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয় শুভমান গিলরা।

বর্তমান টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক ফলাফল খুব একটা ভালো নয়। জুনের শেষ সপ্তাহে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের কাছে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হারার পরপরই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত ৪-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। এরপর ওয়ানডে সিরিজেও ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারীরা। বর্তমানে ভারত জিম্বাবুয়ে সফরে রয়েছে, যেখানে তারা তিন ম্যাচের একটি সিরিজ খেলছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে আফগানিস্তান আর কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেনি। সেই বিশ্বকাপে তারা চারটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয় পেলেও ‘সুপার এইট’-এ জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।




সালমান শাহ হত্যা মামলা: ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

বিনোদন ডেস্ক : চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ দিন ধার্য করেন।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।

ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে– এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।

তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত।

দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।

সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

মামলাটি এরপর তদন্ত করে র‌্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র‌্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন।

তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি।

পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।

ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট নন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।

২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।

গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।

এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।




তেলের সংকট নেই, গুজবে কান দেবেন না: পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন

ডেস্ক নিউজ : দেশের কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলে জানিয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার (২২ জুলাই) সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেল ক্রেতা ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, বাংলাদেশের সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে, তেলের কোনো সংকট নেই।

আপনাদের চাহিদা মোতাবেক সব পেট্রোল পাম্প থেকেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, এই অবস্থায় কোনো গুজবে কান না দিয়ে স্বাতাবিকভাবে যার যেটুকু প্রয়োজন সেটুকই গ্রহণ করুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল কিনে দেশে কোনো বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুুরোধ করছি।




তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন নিয়ে আগামী মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : জ্বালানি সংকট কাটাতে আগামী মাসের মধ্যেই তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যার ফলাফল আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সাংবাদিকদের বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন সংকট ও সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। বিশেষ করে শিল্পকারখানায় তীব্র জ্বালানি সংকট এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অডিট ব্যবসায় কোন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে সমাধান চেয়েছি। 
তিনি বলেন, আসন্ন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে (স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ) সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো প্রধান রপ্তানি বাজারে ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ (এফটিএ) স্বাক্ষরের জন্য সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে এক্সচেঞ্জ রেট ফ্লেক্সিবল রাখা এবং পোশাক রপ্তানিতে প্রণোদনার হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন, এমন প্রশ্নে বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, জ্বালানি সংকট এক বছরের মধ্যে কিছুটা কমবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে এবং আগামী মাসের মধ্যে আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হবে।

বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, পোশাক খাতের সমস্যাগুলোর মধ্যে কোনগুলো এনবিআর এবং কোনগুলো বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত সমাধানের সুপারিশ দেওয়ার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, যোগ করেন বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট।




ইরানের পিকঅ্যাক্স পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতে নির্মীয়মাণ কথিত পারমাণবিক কেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই নতুন ঘোষণা এল। ‘কুহ-এ কোলং গাজ লা’ নামে পরিচিত এই কেন্দ্রটি তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রের পাশে পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত। ২০২৫ সালে ইরান ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় মার্কিন হামলায় নাতাঞ্জ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পিকঅ্যাক্স পর্বতের এই গভীর কেন্দ্রটি অক্ষত ছিল।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরান হয়ত পাহাড়ের অত গভীরে সেনট্রিফিউজ সরিয়ে নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী বোমার ধ্বংসক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তা সত্ত্বেও খুব শীঘ্রই সেই এলাকায় হামলা চালানো হবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে পিকঅ্যাক্স পর্বতের কেন্দ্রটিতে আসলে কী রাখা হয়েছে তা এখনও অস্পষ্ট, কারণ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এখনও সেখানে প্রবেশের সুযোগ পায়নি।

প্রায় ২.৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি ঘিরে রয়েছে বিমান বিধ্বংসী কামান, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর। উপগ্রহ চিত্রে দেখা একাধিক প্রবেশপথ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই সুবিধাজনক কেন্দ্রটি মাটির অন্তত ১০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। ২০২০ সালে নাতাঞ্জ কেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর ইরান পাহাড়ের গভীরে এই আধুনিক ও বিশাল কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভূগর্ভস্থ এই সুরক্ষার সুযোগ নিয়ে ইরান সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং সেনট্রিফিউজ তৈরির কাজ চালাতে পারে।

ইরানের এই ধরনের গভীর ভূগর্ভস্থ সামরিক ও পারমাণবিক আস্তানাগুলো ধ্বংস করতেই যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছিল ‘জিবিইউ-ফিফ্টি সেভেন’ বোমা, যা মাটির অন্তত ৬০ মিটার গভীরে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। মার্কিন কর্মকর্তারা আগে পর পর দুটি এমন বোমা ফেলে গভীর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করলেও পিকঅ্যাক্স পর্বতের মতো গভীর কোনো কেন্দ্র আদৌ এই বোমায় ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।




সরকারি নির্দেশেই দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ, দাবি টেলিকম সংস্থাগুলোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের দিল্লিতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ‘চলো সংসদ’ মিছিলের কারণে সরকার আংশিক ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল বলে জানিয়েছে টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো। অপরদিকে এই সাময়িক স্থগিতাদেশের কোনো কপি সরকারের পক্ষ থেকে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, সকাল ১০টার দিকেই মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ারটেল, জিও এবং ভি (Vi)-সহ বিভিন্ন টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে (TSP) এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দুটি বড় টেলিকম সংস্থার কর্মকর্তারা সরকারি নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়। তবে, কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ জারি করেছিল, তা জানা যায়নি।

ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন’ (IFF) ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে টেলিকম পরিষেবা স্থগিত করার প্রতিটি আদেশ অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে। এর কারণ লিখিতভাবে নথিবদ্ধ করতে হবে। বিধিনিষেধটি আনুপাতিক হতে হবে এবং সম্ভাব্য সবচেয়ে কম কঠোর পদক্ষেপটিই গ্রহণ করতে হবে। এটি অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। এটি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা এবং একটি পর্যালোচনা কমিটির দ্বারা যাচাই-বাছাইয়ের আওতাভুক্ত। আজকের এই ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাটিকে যদি আমরা আইনি কাঠামোর নিরিখে বিচার করি, তবে দেখা যায়—আদেশটি অপ্রকাশিত রাখা হয়েছে, যা ‘অনুরাধা ভাসিন বনাম ভারত সরকার’ মামলা এবং ‘সাসপেনশন রুলস, ২০২৪’-এর লঙ্ঘন।

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে যে, সরকার যদি আদেশটি জনসমক্ষে প্রকাশ না করে, তবে কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ আদেশটি জারি করেছে কি না এবং পর্যালোচনা কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা খতিয়ে দেখবে কি না—তা যাচাই করা সম্ভব নয়।

আইএফএফ (IFF)-এর মতে, অপ্রকাশিত আদেশ মানেই জবাবদিহিহীন আদেশ। আদালতের সামনে একে চ্যালেঞ্জ করা যায় না এবং সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিশ্চিত করা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার বিষয়টি তখন অর্থহীন বা অলীক হয়ে পড়ে।

ভারতে ইন্টারনেট বন্ধের ইতিহাস-

আইএফএফ (IFF)জানায়, নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দিল্লির বেশ কিছু এলাকায়—যেমন জামিয়া নগর, সিলমপুর এবং মান্ডি হাউসে মোবাইল সেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। সেটাই ছিল দেশের রাজধানীতে ইন্টারনেট বন্ধের তখনই প্রথম ঘটে।

এরপর একইভাবে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কৃষকদের আন্দোলনের সময় গাজিপুর, টিকরি, সিংঘু,  মুকারবা চক, নাংলোই এবং এর আশেপাশের এলাকায় অনুরূপ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

হ্যাশট্যাগ কিপইটঅন (#KeepItOn) জোটের ২০২৬ সালের মার্চ মাসের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ভারতে ৬৫ বার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের ঘটনা ঘটেছে এবং ২০১৬ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে নথিভুক্ত ২,১০২টি ইন্টারনেট বিভ্রাটের ঘটনার মধ্যে ৯২০টির জন্যই দায়ী ভারত।




করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পূর্বপাড়া শ্মশানঘাট-সংলগ্ন করতোয়া নদীর ভাঙন রোধ এবং বসতবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের চকরহিমাপুর পূর্বপাড়া শ্মশানঘাট এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাপমারা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সায়োয়ার মণ্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মনির হোসেন সরকার, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম সরদার, জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সদস্য ও প্রভাষক সজল দেবনাথ এবং সহকারী শিক্ষক নিকুঞ্জ দেবনাথ।

বক্তারা বলেন, করতোয়া নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে একটি মাদ্রাসাসহ শতাধিক বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে ঢাকা–দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ঈদগাহ মাঠ, শ্মশানঘাট, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি হিন্দুপাড়া এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরও বলেন, ভাঙন রোধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা গাছের ডালপালা ও বাঁশ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। তবে এতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীপাড়ের গ্রামটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।




বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের কাতারে রাখছে দক্ষিণ আফ্রিকা

ক্রীড়া ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়া যা, ইংল্যান্ড যা, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাংলাদেশও তা। বিশেষ করে বাংলাদেশের যে পেস ইউনিট, টাইগারদের আর এখন খাটো করে দেখার কোনো সুযোগই নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার অ্যাইডেন মারক্রাম তাই ‘তিনটি বড় সিরিজ’ এর সামনে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সমান সম্মান দিলেন বাংলাদেশকে।

সামনে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর। এরপর টাইগাররা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে, খেলবে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সিরিজ আছে দক্ষিণ আফ্রিকারও। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে লড়তে হবে প্রোটিয়াদের।

সব মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জই দেখছেন মারক্রাম। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বাংলাদেশকে একটু বিশেষভাবেই সমীহ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি আছে টাইগারদের। বাকি দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল ইদানীং দারুণ পারফর্ম করছে, সাম্প্রতিক জিম্বাবুয়ে সফরে হারারে টেস্টের ব্যর্থতা বাদ দিলে; যে ম্যাচে পরীক্ষানিরীক্ষার আশ্রয় নিয়েছিল টাইগাররা।

টানা কয়েকটি হোম সিরিজ শুরুর আগে মারক্রাম বলেছেন, ‘আমরা অবশেষে আবারও ঘরের মাঠে সব ফরম্যাটে- সাদা বল ও লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছি। ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ঘরের মাঠে পাওয়াটা একটি রোমাঞ্চকর সিরিজ উপহার দেবে। ইংল্যান্ড সবসময়ই এমন এক দল যাদেরকে হারানোর পথ খোঁজাটাই আনন্দের।’

এরপরই প্রোটিয়া তারকা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের কথা। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলামদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশের পেস আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর। এ কারণে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাতারেই রাখলেন মারক্রাম।

তিনি বলেন, ‘আর বাংলাদেশও দেখিয়ে দিয়েছে যে তাদের নতুন পেস আক্রমণ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে। তাই সামনে তিনটি বড় সিরিজ রয়েছে আমাদের।’

এদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা ধরে রাখতে এবারো তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মারক্রাম বলেন, ‘আমরা স্পষ্টতই আবারও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। ঘরের মাঠে এই গ্রীষ্মটা যদি আমরা খুব ভালোভাবে কাটাতে পারি, তবে আমার মনে হয় ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে আমাদের দারুণ সুযোগ থাকবে।’

এ সময় মারক্রামের কাছে জানতে চাওয়া হয়- জ্যাক ক্যালিস ও বেন স্টোকসের মধ্যে কে সেরা অলরাউন্ডার। জবাবে স্বদেশী পূর্বসূরিকে এগিয়ে রেখে তিনি বলেন, ‘জ্যাক ক্যালিস- তিনিই আসল রাজা। আমার মতে, তিনি এযাবৎকালের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার, আর হ্যাঁ, এখানেই সব কথার শেষ।’