আবারও বিয়ে করছেন আমির খান, কনে কে

বিনোদন ডেস্ক : জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জীবনের তৃতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। আগামী ৫ জুলাই একটি ঘরোয়া ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন এই সুপারস্টার।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

রীনা দত্ত এবং কিরণ রাওয়ের সঙ্গে দাম্পত্যজীবন অবসানের পর আমিরের জীবনে গৌরীর আগমন ঘটে। গত বছর নিজের ৬০তম জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্তে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রথমবার গৌরীকে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আমির। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, গৌরী বর্তমানে তার প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গেই কাজ করছেন।

আমির এবং গৌরীর এই সম্পর্কের শুরুটা কিন্তু বেশ গোপনেই হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের নজর থেকে নিজেদের আড়াল রাখতে প্রায় দেড় বছর ধরে সম্পর্কটি গোপন রেখেছিল এই জুটি। গত বছর এক প্রেস মিটে রসিকতা করে আমির বলেছিলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমকে বিন্দুমাত্র টের পেতে দেননি। আমির আরও জানান, গৌরী আগে বেঙ্গালুরুতে থাকতেন এবং তার সঙ্গে দেখা করতে আমির প্রায়ই সেখানে উড়ে যেতেন। বেঙ্গালুরুতে সংবাদমাধ্যমের নজরদারি কিছুটা কম থাকায় দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে তারা নিজেদের সম্পর্ককে লাইমলাইটের আড়ালে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির তার বর্তমান জীবন নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গৌরীর আগমনে তিনি জীবনে এক পরম শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। রীনা এবং কিরণের সঙ্গে সম্পর্কগুলো গভীর হলেও তা স্থায়িত্ব পায়নি উল্লেখ করে আমির আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, গৌরীর জীবনে আসার পর অবশেষে তিনি নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে অনুভব করছেন। গত এক বছরে এই জুটিকে চিনের ম্যাকাও ইন্টারন্যাশনাল কমেডি ফেস্টিভ্যালসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মঞ্চে একসঙ্গে দেখা গেছে।

আমিরের হবু স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাট আদতে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা এবং তার জীবনের সিংহভাগ সময় সেখানেই কেটেছে। গৌরীর মা রীতা স্প্র্যাট বেঙ্গালুরুতে একটি নামী সেলুনের মালিক ছিলেন। গৌরীর পেশাগত জীবনের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, ব্লু মাউন্টেন স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ২০০৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস লন্ডন থেকে ফ্যাশন ও ফটোগ্রাফির ওপর একটি বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ে একটি নামী সেলুন পরিচালনা করছেন এবং তিনি সাত বছর বয়সী এক সন্তানের জননী।

অন্যদিকে, এটি আমিরের তৃতীয় বিয়ে হতে চলেছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে শৈশবের বান্ধবী রীনা দত্তকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আমির, যার কোল আলো করে আসে জুনায়েদ ও ইরা। দীর্ঘ ১৬ বছরের সংসার জীবনের পর ২০০২ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন আমির, যার সঙ্গে ২০২১ সালে তার বিচ্ছেদ ঘটে। কিরণ ও আমিরের সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান আজাদের সহ-অভিভাবক হিসেবে তারা এখনো যুক্ত রয়েছেন।

তবে জীবনের সমস্ত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জুলাইয়ের এই নতুন সূচনার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন আমির-অনুরাগীরা।




নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : নেপালকে ১-২ গোলে হারিয়ে সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী দল। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে নাম লেখাল বাংলাদেশ।

বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে দু’টি গোল করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাগরিকা।

ফাইনালের লক্ষ্যে মাঠে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। রক্ষণভাগ বেশ কিছুক্ষণ চাপ সামাল দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

ম্যাচের ২৩তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে যায় নেপাল। বাংলাদেশের ডি-বক্সের ভেতর তৈরি হওয়া জটলা থেকে বল ক্লিয়ার করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া দারুণ এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান নেপালের গিতা রানা।

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠের বদলে দুই উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরানোর চেষ্টা করতে থাকে তারা। তবে নেপালের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ফরোয়ার্ডদের।

অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। দুর্দান্ত এক ‘অলিম্পিক গোলে’ (সরাসরি কর্নার থেকে গোল) নেপালের জালে বল জড়িয়ে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই অবিশ্বাস্য গোলে সমতায় ফিরে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে বাংলাদেশ।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালের দিকেই পাঠিয়েছিলেন। সেটা ঠেকানোর ছিলেন না কেউই। কিন্তু বলটি জালে না জড়িয়ে লেগে যায় গোলপোস্টে।

এদিকে, ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু নেপালের গোলকিপার সুব্বার দৃঢ়তায় সেই যাত্রায় বেঁচে যায় নেপাল। বাংলাদেশের সাগরিকার নেওয়া দুর্দান্ত শটটি লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি।

১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ৯০ মিনিটের খেলা। যোগ করা ৬ মিনিটের খেলারও প্রায় তিন মিনিট শেষ হওয়ার পথেই ছিল। আর এমন মুহূর্তে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাসে মেতে ওঠান সামসুন্নাহার-সাগরিকারা। ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। তাতেই ২-১ ব্যবধান জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

এর আগে দুইবার বাংলাদেশ শুধু ফাইনালেই উঠেনি, দুবারই জিতেছে শিরোপা। এই নেপালকে হারিয়েই দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।




‘শত্রুর কৌশল এখন আমাদের নখদর্পণে’, যুদ্ধবিরতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং যেকোনো ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)।

মঙ্গলবার ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি আবারও সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নেয়, তবে এবার তাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন যুদ্ধকৌশল ও ভিন্ন ধরনের অস্ত্রের মুখোমুখি হতে হবে। বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইআরজিসি যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

আইআরজিসির এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময়টিকে ইরান তাদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবহার করেছে। পশ্চিমা প্রচারণাকে নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো এই যুদ্ধবিরতির সময়ে আমাদের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৭ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোটের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে অন্তত ১০০ দফা পাল্টা আঘাত হানার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মোহেব্বী আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো শত্রুর শক্তি ও কৌশল সম্পর্কে একটি গভীর ও বাস্তবসম্মত ধারণা লাভ করা। এর আগে যা কেবল গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং গণমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা হতো, এখন তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা দিয়ে ঝালাই করে নেওয়া হয়েছে। ফলে ইরানি বাহিনী এখন শত্রুপক্ষের সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, অপারেশনাল বেস এবং যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত জ্ঞান রাখে। শত্রুর আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক সরঞ্জাম এবং তাদের প্রতারণামূলক কৌশল এখন তেহরানের কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

ইসলামিক রিপাবলিকের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এই মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, দেশের যুদ্ধ সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর প্রচারণার বিপরীতে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংসও হয়নি এবং এর কার্যক্ষমতাও হ্রাস পায়নি। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিরবচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেন। মোহেব্বী বলেন, সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পুরো সময়জুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বিশাল সামরিক বহর ব্যবহার করেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করতে পারেনি। এই কৌশলগত নৌপথের ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় রয়েছে, যা মূলত আইআরজিসির শক্তিরই এক অনন্য প্রতীক।




কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও মেসির রুম ঘিরে কৌতূহল

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আর্জেন্টিনা দল। মাঠের বাইরে দলীয় ক্যাম্পেও চলছে নানা গল্প, ছোট ছোট মুহূর্ত- যা ভক্তদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির রুম নিয়ে এক মজার বিষয়।

কানসাসে দলের ক্যাম্পে এবারও একাই রুমে থাকছেন মেসি। বিষয়টি নতুন নয় বরং বহুদিন ধরেই এটি তার অভ্যাস। সাবেক সতীর্থ সের্হিও আগুয়েরো জাতীয় দল ছাড়ার পর থেকেই মেসি তার রুমে আর কোনো রুমমেট নেন না। কাতার বিশ্বকাপেও একই নিয়ম মেনেছিলেন তিনি।

দলের অন্যান্য সিনিয়র ফুটবলাররা অবশ্য আগের মতোই রুম ভাগাভাগি করে থাকছেন। মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু রদ্রিগো দে পল রয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে একই রুমে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কারণে তাদের এই জুটি বেশ স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে একা রুমে থাকলেও মেসি কখনোই বিচ্ছিন্ন নন। সতীর্থদের কাছে তার রুম যেন এক ধরনের আড্ডাখানা। ফাঁকা সময় পেলেই সেখানে জড়ো হন সবাই- কার্ড খেলা কিংবা গল্পে মেতে ওঠেন দীর্ঘ টুর্নামেন্টের চাপ ভুলে থাকতে।

মেসির রুম নিয়ে আরেকটি বিষয়ও সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার রুম নম্বর। কাতার বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন ২০১ নম্বর কক্ষে। সেই সংখ্যা ঘিরে সমর্থকরা ‘২+১=৩’ মিলিয়ে আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপার প্রতীক খুঁজে পেয়েছিলেন। এবার কানসাসে মেসির রুম নম্বর ২০২। সেটিও দ্রুত ভক্তদের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। কেউ কেউ মজা করে ‘২+২=৪’ মিলিয়ে সম্ভাব্য চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের ইঙ্গিত খুঁজছেন।

যদিও এ ধরনের ব্যাখ্যার কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই, তবুও আর্জেন্টিনা দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে ছোট ছোট বিশ্বাস, রীতি ও মানসিক দিকগুলো যে ভূমিকা রাখে- তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই মেসির রুম নম্বর নিয়েও কৌতূহল আর আলোচনা থামছে না।




বিতর্কের মুখে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে রদবদল, সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি

বিনোদন ডেস্ক : বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে অবশেষে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় বড় ধরনের সংশোধন এনেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। গত ২৯ জানুয়ারি চূড়ান্ত বিচারকাজ শেষে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হলেও বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো তালিকাটি পর্যালোচনা করা হয়।

দীর্ঘ রিভিউ প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার (২ জুন) মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যেখানে আজীবন সম্মাননা এবং সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে আনা হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

জানা যায়, জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে আজীবন সম্মাননার জন্য বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চুর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, আজীবন সম্মাননার জন্য কেবল জীবিত ব্যক্তিদেরই বিবেচনা করার নিয়ম রয়েছে। পুরস্কার ঘোষণার আগেই এই দুই গুণী ব্যক্তিত্ব প্রয়াত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত মার্চ মাসে জুরি বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে মৌখিকভাবে যোগাযোগ করে মতামত নেয় মন্ত্রণালয়। নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই ভুলের সংশোধন করে জানানো হয়েছে, চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তারেক মাসুদ ও আবদুল লতিফ বাচ্চুকে মরণোত্তর পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। আর ২০২৩ সালের আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী শবনম এবং গুণী চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জুরি বোর্ডের শুরুর সুপারিশেই অভিনেত্রী শবনমের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আজীবন সম্মাননার পাশাপাশি সেরা চিত্রনাট্য বিভাগেও একটি বড় জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। ২৯ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের জন্য নিয়ামুল মুক্তাকে সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। তবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরপরই অভিযোগ ওঠে যে, নিয়ামুল মুক্তা আদতে এই সিনেমাটির চিত্রনাট্য রচনাই করেননি। এই গুরুতর অভিযোগটি খতিয়ে দেখে এবং যথাযথ পর্যালোচনা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে নিয়ামুল মুক্তার নাম বাদ দিয়ে এই বিভাগে প্রকৃত চিত্রনাট্যকার তাসনীমুল হাসানের নাম ঘোষণা করেছে।

এর মাধ্যমে বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত পেশাদারদের কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করল মন্ত্রণালয়।




জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

ডেস্ক নিউজ : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভোটে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছে ৯১ ভোট। এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

এই সাফল্য বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয়; বরং এটি বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সীমিত সময়ে বাংলাদেশের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং প্রার্থী ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা—এই তিনটি বিষয় মূল ভূমিকা পালন করেছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নির্বাচনের জন্য মাত্র তিন মাসের মতো সময় অবশিষ্ট ছিল। সেই সীমিত সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে বিজয়ের ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয়টি স্মরণ করেন। সেই সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সীমিত সময়ে পরিচালিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ তৎকালীন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী জাপানকে পরাজিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। এই নির্বাচনেও বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তখনই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়ের সীমাবদ্ধতা। মাত্র তিন মাস সময় হাতে পেয়ে বাংলাদেশকে এমন এক বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করতে হয়েছে, যা সাধারণত কয়েক বছরব্যাপী প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশ কার্যত মাত্র তিন মাসের প্রচারণার মধ্যেই পাঁচ বছরের সমপরিমাণ কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পন্ন করেছে।

বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনজিএ সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে দেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ না থাকায় এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ও কৌশলগত প্রচারণা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সফল হয়েছে।

অপরদিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালেই তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং গত এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরে দেশটি অত্যন্ত বিস্তৃত ও সুসংগঠিত কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করেছে।

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এত অল্প সময়ে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা নিঃসন্দেহে খুবই কঠিন ও কৌশলগতভাবে চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনসমূহ সমর্থন আদায়ে সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশের প্রার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা এ বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত ড. খলিলুর রহমানের ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি আনালেনা বায়েরবকের সভাপতিত্বে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ওই সংলাপে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান তাঁর ভিশন স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করেন এবং নির্বাচিত হলে সাধারণ পরিষদ পরিচালনায়ডের অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। কূটনৈতিক মহলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সংলাপ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এই সংলাপের পর কার্যত বাংলাদেশের পক্ষে প্রায় ৩০টি দেশ তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে এবং স্পষ্টত বাংলাদেশ বিজয়ের পথে সুনিশ্চিতভাবে এগিয়ে যায়।

বাংলাদেশের প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কার্যকর বহুপাক্ষিকতা, জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশসমূহের স্বার্থ সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়ন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো। বাংলাদেশের প্রচারণা ছিল বিষয়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে বাংলাদেশ সংলাপ, সহযোগিতা এবং ঐকমত্যভিত্তিক কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।




নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন কত?

ডেস্ক নিউজ : দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বা বেসিক একলাফে ২০ হাজার টাকা করার এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কমিটি এখন জোরেশোরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, নতুন এই বৈপ্লবিক পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু মূল বেতনই বাড়বে না, বরং এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আবাসন, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা এবং আর্থিক সুবিধাতেও একটি বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সব গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধি করার এই জোরালো সুপারিশ দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ, উদ্দীপনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন এই নবম পে-স্কেলেও সরকারের বর্তমান ২০টি গ্রেডের প্রশাসনিক কাঠামোটি সম্পূর্ণ বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে গ্রেড অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিটি গ্রেডের আর্থিক মানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন এই কাঠামোতে সর্বশেষ তথা ২০তম গ্রেডের (সর্বনিম্ন স্তর) একজন কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে সরাসরি ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। একই সাথে বৈষম্য দূরীকরণে প্রথম গ্রেডের (সর্বোচ্চ স্তর) কর্মকর্তাদের মূল বেতন বর্তমানের ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার দূরদর্শী প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বিশাল বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবনাটি দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখেই তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাস্তবায়নের মুখে থাকা এই নবম পে-স্কেলের খসড়া প্রস্তাবনাটি এখন সরকারের সর্বোচ্চ মহলের আনুষ্ঠানিক নীতিগত অনুমোদন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত এবং চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ের লাখ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী আশা করছেন, আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই এই প্রস্তাবনাটি পাস হয়ে একটি ঐতিহাসিক প্রজ্ঞাপনে রূপ নেবে।




জেট ফুয়েল বিক্রি সাময়িক বন্ধ করলো রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া বিমান চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানি রপ্তানির বা বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশজুড়ে তেল শোধনাগার এবং অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের হামলার ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

সোমবার ক্রেমলিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে, যা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

রাশিয়া মূলত রেলপথে মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানে জেট ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানি রপ্তানি করে থাকে।

রুশ সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পণ্য বিনিময়ের উদ্দেশ্যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কেনা জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রেও এই নতুন বিধিনিষেধ সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

ক্রেমলিন স্পষ্ট করেছে, ‘এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।’

তবে রুশ প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিশেষ ছাড় বা ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পূর্বে সম্পন্ন হওয়া শুল্ক প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে থাকা জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।




শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত কামরুদ্দীন আবসার

বিনোদন ডেস্ক : সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী কামরুদ্দীন আবসার।

গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাসদ মার্কসবাদী, ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চা, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমগীত, সমাজ চিন্তা ফোরাম, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্র, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আনু মোহাম্মদ, প্রয়াত শিল্পীর ছেলে আদনান মুকিত এবং ডা. হারুন অর রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামশেদ আনোয়ার তপন।

বক্তারা বলেন, কামরুদ্দীন আবসার শৈশব থেকেই গণসংগীতকে সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মার্কসবাদী সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি সারাজীবন সক্রিয় ছিলেন। তার হাত ধরে অনেক শিল্পী গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, সভা-সমাবেশ ও গণআন্দোলনে তিনি সংগ্রামের গান গেয়ে মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

গত শনিবার (৩০ মে) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন কামরুদ্দীন আবসার।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর কুমারখালীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল। ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ, মুন্সি রইসউদ্দীন এবং সুরকার আলতাফ মাহমুদ-এর কাছে সংগীতে তালিম গ্রহণের পর ১৯৭২ সালে আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যানিকেতনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি সেগুনবাগিচা মিউজিক কলেজে অধ্যয়ন করেন।

একসময় তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন-এর সংগীত ও পরিচালনা বিভাগে সহকারী হিসেবে কাজ করলেও গণসংগীত শিল্পী হিসেবেই সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন। ‘চল রে ভাই, উজান বেয়ে যাই’, ‘আমি কোনো ভালোবাসার গল্প জানি না, যেটুকু জেনেছি সবটুকুই যুদ্ধের’ এবং ‘তোমরা যদি বলো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়, আমি মানবো না’-এ ধরনের গান মানুষের সংগ্রামী চেতনা জাগ্রত করেছে। তার প্রকাশিত অ্যালবামের মধ্যে ‘মে দিবসের গান’ এবং ‘বাংলার কমরেড বন্ধু’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন সংগঠনটির সংগীত ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। সত্তরের দশকের দুর্ভিক্ষের সময় গান গেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন, গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।




সান মারিনোতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল

ক্রীড়া ডেস্ক : দীর্ঘ বিমান ও সড়কযাত্রা পেরিয়ে সোমবার সান মারিনোতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। একই দিনে স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন প্রবাসী ফুটবলার সামিত সোমও।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সামিত জানান, যাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল এবং সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। কোচিং স্টাফের সঙ্গে আলাপও হয়েছে তার। আগামী ৫ জুনের ম্যাচে দলের হয়ে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

নতুন কোচ থমাস ডুলির নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৫ জুন ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলবে সান মারিনোর বিপক্ষে। এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক ম্যাচ। কারণ, এই প্রথম ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ দল। প্রথমে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় পৌঁছে কয়েক ঘণ্টা ট্রানজিটে অবস্থান করে তারা। পরে সেখান থেকে ইতালির রাজধানী রোমে উড়ে যায় দল।

রোমে পৌঁছানোর পর বাসে করে সান মারিনোর উদ্দেশে রওয়ানা হলে গন্তব্যে পৌঁছাতে চার ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ভ্রমণে কাটাতে হয়েছে ফুটবলারদের। সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দল তিন দিনের প্রস্তুতির সুযোগ পাবে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২১১তম স্থানে থাকা সান মারিনো বিশ্বের সর্বনিম্ন র‌্যাঙ্কধারী দল। বাংলাদেশ তাদের চেয়ে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকলেও এই সফরকে অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে দল।