লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার ঘোষণা আইএফএফএইচএসের

ক্রীড়া ডেস্ক : সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সুবাদে অনন্য এক স্বীকৃতি পেলেন লিওনেল মেসি। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলেও, পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্স সূচকের ভিত্তিতে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মেসিকে ঘোষণা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)।

ফিফা অবশ্য অফিসিয়াল গোল্ডেন বলের পুরস্কার দিয়েছিল স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিকে, যেখানে মেসি পান সিলভার বল এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে পান ব্রোঞ্জ বল।

গত সোমবার এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে আইএফএফএইচএস জানায়, কোনো খেলোয়াড়ের আবেগ বা খ্যাতির ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তাদের নিজস্ব তথ্যনির্ভর বৈজ্ঞানিক সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। ম্যাচ রেটিং, গোল, অ্যাসিস্ট এবং বিশেষ করে নকআউট পর্বে দলের জয়ে প্রভাব—এই বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট ওজনের ভিত্তিতে হিসাব করেই মেসিকে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
টুর্নামেন্টে ৩৯ বছর বয়সী মেসি ৭টি ম্যাচে মোট ৬২৬ মিনিট মাঠে থেকে ৮টি গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন আরও ৪টি, অর্থাৎ তিনি সরাসরি ১২টি গোল বা গোলে অবদান রেখেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার প্রতি ম্যাচের গড় রেটিং ছিল ৮.৩৩। বিশেষ করে নকআউট পর্বের কঠিন ম্যাচগুলোতে দলের জন্য তিনি যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন, সেটিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে পরিসংখ্যানভিত্তিক এই সংস্থাটি।
আইএফএফএইচএস স্পষ্ট জানিয়েছে, মেসির এই স্বীকৃতি কোনো এক-দুটি ম্যাচের ঝলক নয়, বরং গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত টানা সর্বোচ্চ মানের পারফরম্যান্সের নিখুঁত পরিসংখ্যানগত প্রতিফলন। ১৯৯১ সাল থেকে ফুটবলের ইতিহাস ও পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটির মানদণ্ডেই প্রমাণিত হলো, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক মঞ্চে সেরা প্রভাবটি রেখেছেন খোদ লিওনেল মেসিই।



বিয়ে করলেন ইউটিউব তারকা মিস্টার বিস্ট

বিনোদন ডেস্ক : অবশেষে বিয়ে করলেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও শীর্ষ উপার্জনকারী ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট (আসল নাম জিমি ডোনাল্ডসন)। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকান কনটেন্ট ক্রিয়েটর থিয়া বয়সেনের সঙ্গে নতুন জীবনে পা রাখলেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা। ব্রিটিশ ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসনের ব্যক্তিগত নেকার দ্বীপে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ ৭০ জন অতিথির উপস্থিতিতে অত্যন্ত গোপনীয় ও ঘরোয়া পরিবেশে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

গত ১৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে সপ্তাহজুড়ে চলে এই রাজকীয় বিয়ের উদযাপন। ৭৪ একরের এই দ্বীপে বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি অতিথিদের জন্য কাইটসার্ফিং, স্নরকেলিং এবং বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো নানা আনন্দদায়ক ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল। পারিবারিক এক বন্ধুর উপস্থিতিতে তারা একে অপরের কাছে আমৃত্যু পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিয়ের বিশেষ এই দিনে মিস্টার বিস্ট বেছে নিয়েছিলেন রালফ লরেনের স্যুট, আর কনে থিয়া বয়সেনের পরনে ছিল নিকোল প্লাস ফেলিসিয়া কুচারের নজরকাড়া ওয়েডিং ড্রেস।

অঙ্গীকার পর্ব শেষে নবদম্পতি লেডি গাগা ও ব্রুনো মার্সের জনপ্রিয় গান ‘ডাই উইথ আ স্মাইল’-এর তালে তাদের প্রথম নাচ পরিবেশন করেন। জমকালো এই আয়োজনে অতিথিদের জন্য সুশি, ওয়াগিউ বিফসহ বাহারি খাবারের পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় কনের পছন্দের ক্যারেট কেক। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই পার্টিতে লাইভ ব্যান্ডের পরিবেশনার পাশাপাশি তাস ও বিভিন্ন বোর্ড গেমসের মতো ঘরোয়া খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আনন্দের সময় পার করেন অতিথিরা।

নিজেদের পরিচয় ও সম্পর্কের বিষয়ে জানা যায়, ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময় এক যৌথ বন্ধুর মাধ্যমে থিয়া বয়সেনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয় জিমির। প্রথম দেখাতেই তাদের মধ্যে এক দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের বড়দিনে নিজেদের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে থিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন মিস্টার বিস্ট। পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও নিজের বিয়ের মূল দিনটি ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে রেখে কেবল প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটাতে চেয়েছেন এই ইউটিউবার।

বিয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে থিয়া বয়সেন অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, এটি ছিল একদম স্বর্গের মতো এক অভিজ্ঞতা। কাজের ব্যস্ততার কারণে সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া যায় না, তাই সব প্রিয়জনকে এক জায়গায় পেয়ে তাদের ভীষণ ভালো লেগেছে। এখন থেকে তারা প্রতি বছর অন্তত এক সপ্তাহের জন্য হলেও সব বন্ধুবান্ধব ও পরিবারকে নিয়ে এমন আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে দুজনেই নতুন উদ্যমে নিজেদের কাজ ও পরবর্তী জীবনের অ্যাডভেঞ্চার শুরু করার কথা ব্যক্ত করেছেন।




ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি বাজেটে প্রতিফলিত

ডেস্ক নিউজ : সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি প্রণয়নের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘বেইলা ফিউচার সামিট-২০২৬’ এর সমাপনী অধিবেশনে মাহ্দী আমিন একথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যার নীতি ও পরিকল্পনাগুলো দেশের সবচেয়ে বড় অংশ—তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে ভূমিকা রাখবে। তরুণ প্রজন্ম প্রকৃতপক্ষে কী চায়? তারা প্রথমত এমন একটি পরিবেশ প্রত্যাশা করে যেখানে তাদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বিকশিত করার মতো উপযোগী নীতি থাকবে। সকলেই এমন একটি শাসনব্যবস্থা চায়, যা ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি প্রণয়ন করবে। এর প্রতিফলনস্বরূপ সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে কীভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্সের (বেইলা) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রায় দেড় হাজার অংশগ্রহণকারী, পাঁচ শতাধিক শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা (সিএক্সও), পোশাক খাতের উদ্যোক্তা, শিল্পনেতা এবং দেশি-বিদেশি অতিথি অংশ নেন।

নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মৌলিক দাবি হলো এমন একটি সমন্বিত পরিবেশ বা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, বন্ডেড সুবিধার প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে এবং ব্যবসা পরিচালনায় সহজলভ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে। দুর্ভাগ্যবশত, বিগত বহু বছর ধরে আমরা এই সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত ছিলাম। তাই নতুন সরকার হিসেবে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের পক্ষ থেকে এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো আনয়নে সর্বোচ্চ প্রয়াস থাকবে।

রাজস্ব সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে গভীর কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে সুশাসনের দুটি মূল ভিত্তি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আমরা কীভাবে নিশ্চিত করতে পারি, সেটাই মূল বিষয়। আমরা এমন উন্নয়ন চাই যা সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে গ্রাম ও শহরের মধ্যকার বৈষম্য ও ব্যবধান দূর করা সম্ভব হবে। বৈষম্য নিরসনে আমাদের প্রকল্পগুলোতে অধিকতর ন্যায্যতা ও সমতা থাকতে হবে, প্রকল্পগুলোকে হতে হবে ন্যায়বিচারমুখ। মেগা প্রকল্পের অন্তরালে যে মেগা দুর্নীতির সংস্কৃতি আমরা বিগত সময়ে দেখেছি, তা থেকে আমাদের পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে হবে। এ কারণেই সরকারের মূল নীতি অবকাঠামোগত, নিছক ইট, কাঠ, রড বা সিমেন্টে বিনিয়োগ করা নয়।

সরকারের মূল বিনিয়োগ তরুণ মানবসম্পদের পেছনে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যেই আমরা বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। যারা তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে যুক্ত তারা সকলেই অবগত আছেন যে, সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের তুলনায় আমাদের দক্ষতার ঘাটতি। কীভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের কর্মীদের দক্ষতা আরও উন্নত করতে পারি, যেন আমরা সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারি সেটিই আমাদের লক্ষ্য। উপরন্তু, বহু ক্ষেত্রে আমাদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বেশি।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের হয়তো একমাত্র সুবিধা হলো তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয়। তবে সময়ের পরিক্রমায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানাবিধ কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। আমাদের বর্তমান মেয়াদে ধাপে ধাপে এই ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করব।

মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা এমন এক যুগে বসবাস করছি যেখানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে প্রদর্শিত উদ্ভাবনী ধারনার প্রশংসা করেন‌ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

তিনি বলেন, আমরা যেমন এক সময়ের বৃহদাকার মুঠোফোন থেকে আজকের আধুনিক স্মার্টফোনে রূপান্তরিত হয়েছি, যা ছিল একটি সময়োপযোগী উদ্ভাবন, ঠিক তেমনি আমাদের পোশাক তৈরির কারখানাগুলোও একসময় ফ্যাক্স বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হতো, যা এখন হোয়াটসঅ্যাপে রূপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরও নতুন প্রযুক্তি আসবে, যার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই তথ্যের আদান-প্রদান সম্ভব হবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, একইভাবে আমাদের প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তিকে সাদরে গ্রহণ করতে হবে তা প্রসেস বা প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন হোক কিংবা পণ্যের উদ্ভাবন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন হোক না কেন। একটি অর্ডার চূড়ান্ত করার পূর্ববর্তী ধাপসমূহ যেমন প্রকল্প ও পণ্য পর্যায়ে পোশাকের নকশা, গবেষণা ও উন্নয়ন থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন, লজিস্টিকস এবং পরিশেষে, বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া শেষে অর্থপ্রাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সংযুক্তি অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু আমাদের একটি ব্যয়গত সুবিধা রয়েছে, তাই জনবল বা কর্মীদের এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে যেন প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে আমাদের সেই মূল সুবিধাটি নস্যাৎ না হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমাদের একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে দক্ষতা বাড়াতে এবং একই সাথে যেন কোনো বেকারত্ব সৃষ্টি না হয়। মূলত, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রধান লক্ষ্যই হলো দক্ষতা ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করা, যেন বৈশ্বিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। একই সাথে আমরা চাই ব্যবসায়ের সার্বিক পরিধি ও ব্যাপ্তি এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে, যাতে করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

সরকার নীতিগত দিক থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউজের নবায়ন সংক্রান্ত যে জটিলতা পূর্বে বিদ্যমান ছিল, নতুন উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের জন্য আমরা তা অত্যন্ত সহজ করে দিচ্ছি। একই সাথে বিদ্যমান নিয়মকানুন শিথিল করা হচ্ছে এবং শুল্কসংক্রান্ত নানান সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, পূর্বে প্রণোদনা বা ইনসেন্টিভ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হতো, কিন্তু প্রথমবারের মতো আমরা দ্রুততম সময়ে এই প্রণোদনা হাতে পৌছানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যার মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ী, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন তাদের জন্য ব্যয়সংকোচন ও সহায়ক নীতি গ্রহণ করা।

মাহ্দী আমিন বলেন, সার্বজনীন বা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো সেটি হতে পারে তৈরি পোশাক শিল্প, বস্ত্র কিংবা আমাদের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্পই হোক না কেন পুনঃরায় চালু করা এবং সৎ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করা। সরকার হিসেবে আমরা

দিকনির্দেশনামূলক নীতি নির্ধারণ করতে পারি, তবে আসল উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি হতে হবে বেসরকারি খাত কেন্দ্রিক। আমরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই এবং প্রয়োজনবোধে বেসরকারীকরণের দিকেও অগ্রসর হতে চাই। আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। আপনারা যত বেশি যৌথ উদ্যোগের প্রকল্প গ্রহণ করবেন, আমরা মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজতর করেছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করা।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের তিনটি অনন্য সুবিধাজনক দিক রয়েছে। প্রথমত, বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী তথা আমাদের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজার, যেখানে যেকোনো শিল্প কারখানা সহজেই তাদের পণ্য বিপণন করতে পারে। এবং তৃতীয়ত, বহু বছর পর অর্জিত একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, যেখানে নীতির ধারাবাহিকতা ও জাতীয় স্বার্থ বজায় থাকবে।

এই তিনটি সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আরও যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে, তা হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। বহু কারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট বিদ্যমান। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া আমরা যে বন্দর ব্যবস্থাপনা পেয়েছি, তা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে পণ্য খালাস এবং আমদানিরীতি সম্পূর্ণ করতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগে। আমরা এই ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছি। সার্বিকভাবে আমরা এমন একটি গতিশীল ইকোসিস্টেম বা পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যা আপনাদের উদ্যোক্তাসুলভ আচরণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ সমর্থনের পাশাপাশি উৎসাহিত করবে। আমরা এমন একটি যৌথ যাত্রা শুরু করতে চাই, যেখানে দেশের তরুণ সমাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের তরুণ-তরুণীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারের উন্নয়ন নীতিতে নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা সকলে মিলে একযোগে একটি সর্বজনীন, ন্যায্যতা, সমতা ও ন্যায়বিচারপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।




মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে গিয়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এসময় রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত ​​ঝরতে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন কংগ্রেস নেতারা। তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছিলেন।

ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখে মিছিলের একদিন পর কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাতভর বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাকে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অন্যান্য নেতাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

এ সময় লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা গান্ধী রাস্তায় বসে পড়েন। তিনি সরতে অস্বীকার করলে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে ধরে। পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তখন তার নাক দিয়ে রক্ত ​​ঝরতে দেখা গেছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেছেন, সোমবার তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তার জবাব চাইতেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এসেছি। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।




রাজশাহীতে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের আরিফপুর গ্রামের নিজ ঘরের বিছানা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

এসময় বিছানার একপাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি খালি বিষের বোতলও। এদিকে পুলিশের ধারণা, তারা বিষ পান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে কেন তারা আত্মহত্যা করেছে তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া বিস্তারিত কিছুই বলতে পারছে না পুলিশ।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৪৫) ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩৮)।মনিরুল পেশায় একজন ভ্যানচালক। দীর্ঘ প্রায় একযুগ আগে বিয়ে করলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার পরও মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠতে না দেখে প্রতিবেশী ও আশেপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। কয়েক দফা ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় ওই ঘরের পাশের একটি কক্ষের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর ১টার দিকে এই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন বলেছেন, ‘প্রায় ১ যুগ আগে তারা বিয়ে করেছে। তবে তাদের কোনো সন্তান হয়নি। মনিরুল ভ্যান চালাত। দাম্পত্য জীবনেও তাদের কোনো মনোমালিন্য দেখিনি। তবে হঠাৎ কেন তারা এমন আত্মহত্যার পথ বেছে নিল তা বুঝতে পারছি না।’

স্বপ্না বেগমের ভগ্নিপতি ঈমাম উদ্দিন বললেন, ‘বেলা ১১টার দিকে খরব পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো। তখন পাশের কক্ষের দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি, তাদের মরদেহ বিছানায় পড়ে আছে। পাশেই বিষের একটি খালিত বোতল। পুরো রুমে বিষের গন্ধ ছিল। আমরা মনে করছি যে, তারা হয়তো আত্মহত্যাই করেছে। তবে কেন আত্মহত্যা করেছে সেটি আমরা বুঝতে পারছি না।’

নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী পাখি খাতুন বলেন, ‘আমার ভাসুর আলাদা ঘর করে সেখানে থাকতেন। আশেপাশে কোন বাড়ি নেই। হঠাৎ কেন এমন ঘটনা ঘটলো আমরা বুঝতে পারছি না। আমার জা-ও আমাকে কখনো কিছু বলেনি। তাদের সন্তান হয় না এটি একটি কষ্ট ছিল। তবে এই কষ্টে মারা যাওয়ার কথা না।’

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেরাজুল হক বলেছেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহের মুখে বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।’

তিনি আরও বললেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’




মিরপুরের মাঠে ক্রিকেটারদের জন্য ‘টাইগার্স ডেন’

ক্রীড়া ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য নির্মিত নতুন লাউঞ্জ ‘টাইগার্স ডেন’ ঘুরে দেখান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। লাউঞ্জটির কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে বলে জানান তিনি।

মিরপুর স্টেডিয়ামের ম্যানুয়াল স্কোরকার্ডের পাশে নির্মিত এই লাউঞ্জটি জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান নারী-পুরুষ ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতদিন ম্যাচ চলাকালে অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স বক্স’ থাকলেও অন্য ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা ছিল না। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই ‘টাইগার্স ডেন’ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিসিবি।

এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘টাইগার্স ডেন এমন একটি জায়গা, যেখানে বাংলাদেশের হয়ে একদিনের জন্যও প্রতিনিধিত্ব করা সব নারী ও পুরুষ ক্রিকেটার খেলার দিনে বসে ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া অফিস সময়ের মধ্যে তারা এসে সময় কাটাতে পারবেন। তাদের জন্য একটি নিজস্ব পরিসর তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান ও সাবেক—সব ক্রিকেটারকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের অংশ হিসেবে সম্মান দিতে হবে। তাদের মধ্যে মালিকানাবোধ তৈরি করতে বোর্ডের যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করার চেষ্টা করব। অধিনায়কদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাপ্টেন্স বক্স রয়েছে, কিন্তু অন্য ক্রিকেটারদের জন্য তেমন কিছু ছিল না। এটি সেই জায়গা থেকে একটি ছোট উদ্যোগ।’

তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লাউঞ্জটি চালু করা হয়নি। তামিম জানান, বাংলাদেশের ক্রিকেটের গৌরবময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরতে সেখানে বিভিন্ন স্মারক ও ছবি সংযোজনের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়, নারী এশিয়া কাপ শিরোপা, বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়—এমন অনেক স্মরণীয় অর্জনের স্মৃতি আমরা এখানে তুলে ধরতে চাই। এসব কাজ শেষ হলে ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে টাইগার্স ডেন উদ্বোধন করা হবে। বর্তমানে কাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, শুধু ছবিগুলো স্থাপনের কাজ বাকি আছে।’




তাহসান ভক্তদের জন্য সুখবর

বিনোদন ডেস্ক : অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার পর নতুন গান থেকেও অনেকটা দূরে আছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। এবার হাজির হচ্ছেন উপস্থাপক হিসেবে। এর আগেও একাধিক অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করে দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। এবার আন্তর্জাতিক সংগীত প্রতিযোগিতা ইউরোভিশন সং কনটেস্টের বাংলাদেশ পর্ব ‘ভয়েজ অব বাংলাদেশ’র সঞ্চালক হিসেবে দেখা যাবে এই গায়ককে।

প্রতিযোগিতার বিচারকের আসনে থাকছেন দেশের সংগীতাঙ্গনের পাঁচ পরিচিত মুখ। তারা হলেন- ফাহমিদা নবী, হামিন আহমেদ, বাপ্পা মজুমদার, শওকত আলী ইমন এবং আঁখি আলমগীর।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘতম লাইভ মিউজিক প্রতিযোগিতা ইউরোভিশন সং কনটেস্ট ১৯৫৬ সাল থেকে আয়োজন করে আসছে ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (EBU)। এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোভিশনের আঞ্চলিক সংস্করণ ‘ইউরোভিশন সং কনটেস্ট এশিয়া’-তে অংশ নিতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচন করতেই আয়োজন করা হয়েছে ‘ভয়েজ অব বাংলাদেশ’। প্রাথমিক বাছাই শেষে বর্তমানে সেরা ১২ প্রতিযোগীকে নিয়ে চলছে বিশেষ গ্রুমিং পর্ব। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে বাংলাদেশের চূড়ান্ত প্রতিনিধি।

নির্বাচিত শিল্পী আগামী ১৪ নভেম্বর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোভিশন সং কনটেস্ট এশিয়া ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এশিয়ার এই আসরে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেবে দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া ও লাওস।

এদিকে, আগামীকাল বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। একই অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে উপস্থাপক তাহসান ও পাঁচ বিচারককে।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব ও গ্র্যান্ড ফিনাল সম্প্রচার করবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ এবং এনটিভি।




ছয় বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টি, মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকতে পারে বর্ষণ

ডেস্ক নিউজ : রংপুর, সিলেট, খুলনাসহ দেশের ছয় বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় ঢাকা বিভাগেও দিনভর মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবারও দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায়।

এ ছাড়া সিলেটে ৮৪ মিলিমিটার, চাঁদপুরে ৯৪ মিলিমিটার, খুলনার মোংলায় ১০০ মিলিমিটার, বরিশালে ৬৩ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ৬২ মিলিমিটার এবং ঢাকায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।




সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরো উন্নত এবং সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে যেন সবাই চিকিৎসা পায়। গ্রামের মানুষের চিকিৎসার জন্য যেন অন্য কোথাও যেতে না হয়। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।

একইসঙ্গে চিকিৎসকরা যেন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো আন্তরিক হন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অডিটোরিয়ামে গিয়ে বৈঠক করলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতে গত ৫ মাসের অর্জন সম্পর্কে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তারা সেগুলো উপস্থাপন করেন।

তারা জানান, বিগত সরকার স্বাস্থ্যখাত একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

বৈঠকে আলোচনা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ দেখা যায় যে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে আসে। এ ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেভাবে হোক গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। তাদের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা এবং পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে যেন সবাই চিকিৎসা পান। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।

উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা বলেন, কিডনি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। তিনি কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, সেগুলো ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

এর মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫১ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলেও জানান উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা।

এ সময় গণপূর্তের প্রকোশলীরা অবকাঠামোর নকশাসহ খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিতসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




৪০ বছরের মধ্যে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সোমবার (২০ জুলাই) ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রথম ভাষণ দিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসে রাজার কাছ থেকে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি এই ভাষণ দেন।

ভাষণে বার্নহাম স্পষ্টভাবে বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে তার সরকার। তিনি স্বীকার করেন, গত এক দশকে বারবার প্রধানমন্ত্রী বদল হওয়ায় জনগণ রাজনীতির প্রতি ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এতদিন যথেষ্ট ভালো করতে পারিনি। এবার আমাদের আরও অনেক ভালো হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্ষমতা আর শুধু লন্ডনকেন্দ্রিক রাখা হবে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ক্ষমতা পৌঁছে দেওয়া হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা এবং সরকারি আবাসন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্নহাম। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশের জন্য ১০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন। তবে জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় আগামীকাল থেকেই জরুরি কিছু পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম কাজ হিসেবে দেশ থেকে গৃহহীনতা ও রাস্তায় ঘুমানোর সমস্যার পুরোপুরি অবসান ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম।

ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়ে প্রবেশের আগে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, সব বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করি। এই মুহূর্ত থেকেই ব্রিটেনকে আবার বিশ্বাস করতে শেখাই এবং দেশে নতুন আশার আলো ফিরিয়ে আনি।

এই ভাষণে তিনি বারবার জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন।