দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস, মৃত্যু বেড়ে ৯৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাস ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯৩০-এ দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও অন্তত ২,৩৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

সোমবার(২০ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার থেকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। যা ১৫ মে ডিআরসিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির ঘটনাগুলোর একটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত সপ্তাহে সতর্ক করেছিল,গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাস আগের যেকোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

ডব্লিউএইচও-র প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুস সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮-২০২০ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় ২,০০০ নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হতে ১০ মাসেরও বেশি সময় লেগেছিল। অথচ এবার ২,০০০ নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হতে সময় লেগেছে মাত্র দুই মাস। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর অন্তত দ্বিগুণ হতে পারে।

টেডরস আরও বলেন, এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা ইবোলার তৃতীয় বৃহত্তম প্রাদুর্ভাব। গত এক মাসে এটি আগের যেকোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়েছে। ডিআরসিতে ইবোলার ১৭তম এই প্রাদুর্ভাবটি প্রথম শনাক্ত হয় খনিজ-সমৃদ্ধ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ইতুরিতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর। এলাকাটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে।

ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ও আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ইবোলার সংক্রমণ এখন পর্যন্ত ডিআরসির পাঁচটি প্রদেশ এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় শনাক্ত হয়েছে। টেডরস জানান, উগান্ডা এখন ‘ভাইরাস-মুক্ত’ হওয়ার পথে থাকলেও ডিআরসিতে ইবোলা নজিরবিহীন হারে ছড়িয়ে পড়ছে।

ইতুরিতে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেন এবং বুনিয়া জেনারেল হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরোধ করেন। কর্মীদের অভিযোগ, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে কঠিন ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রোগীদের সেবা দেওয়া সত্ত্বেও তারা কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক বা ক্ষতিপূরণ পাননি।

টেডরস উল্লেখ করেন, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৮০শতাংশেরও বেশি রোগী ‘পরিচিত বা শনাক্তকৃত সংস্পর্শের তালিকার বাইরে’ পাওয়া যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় সংক্রমণের উৎস বা শৃঙ্খলগুলো এখনো শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, বর্তমানে ৭২৪ জন রোগী হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জন রোগী সুস্থ হয়ে ওঠায় রোগীদের সেবা ও সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা আরও সুসংহত হচ্ছে।




কক্সবাজারে আবারও পাহাড়ধস, তরুণীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিন বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ইস্টের ব্লক ডি/৫ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত একটি শেল্টারের ওপর মাটি ধসে পড়লে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তরুণীর নাম বিবি হাফসা (১৮)।

তিনি সুমি উল্লাহর মেয়ে। আহত শিশু আব্দুল মজিদ (৩) নুর ইসলামের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাহাড়ধসের সময় শেল্টারের ভেতরে অবস্থান করছিলেন বিবি হাফসা ও আব্দুল মজিদ। মাটিচাপায় বিবি হাফসা ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন পাহাড়ধসে এক রোহিঙ্গা তরুণী মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




মেসি ছাড়াই দেশে ফিরছেন আর্জেন্টাইনরা

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হতাশাজনক হারের পর নিরবেই দেশে ফিরছেন আর্জেন্টিনা দলের সদস্যরা। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মেসিসহ দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এই ফিরতি ফ্লাইটে ছিলেন না।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন(এএফএ) আগের রাতেই জানিয়েছিল, দলের কয়েকজন সদস্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হবেন। এর মধ্যে কেউ ক্লাবে যোগ দিতে, আবার কেউ বিশ্রামের সময় কাটাবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

দেশটির গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামিতে সতীর্থ অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলের দেশে ফেরার কথা ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিদের কোচ লিওনেল স্কালোনিও বুয়েনস এইরেসগামী ফ্লাইটে ছিলেন না।

অ্যারোলিনিয়াস আর্জেন্টিনাস এএফপি-কে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ শেষে ফেরার পর আর্জেন্টিনার দলের জন্য কোনো সংবাদ সম্মেলন বা বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন রাখা হয়নি। ফাইনালে হারের কারণে হতাশ হলেও হাজার হাজার আর্জেন্টাইন বুয়েনস এইরেসের ঐতিহ্যবাহী উদযাপনের স্থান ‘ওবেলিস্ক’-এর দিকে ছুটে যান।

সেখানে আতশবাজি ফোটানো এবং দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে তারা দীর্ঘ সময় ধরে উৎসব করেন। তবে গভীর রাতে ওই স্মৃতিস্তম্ভের কাছে ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ উল্লাসকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

অনেকেই এএফপি-কে জানিয়েছিলেন, তারা দলকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় নামার পরিকল্পনা করছেন। ফাইনালের পর প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্স উদযাপনের জন্য দলের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে একটি দিনকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে ২০২২ সালে কাতার জয়ের পর ‘আলবিসেলেস্তে’রা বীরোচিত সংবর্ধনা পেয়েছিল। সে সময় খোলা ছাদের বাসে তাদের ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রার পথে লাখ লাখ মানুষ ভিড় করেছিল; কিন্তু জনসমুদ্রের কারণে বাসটি একপর্যায়ে থমকে যায় এবং নিরাপত্তার খাতিরে শোভাযাত্রাটি মাঝপথেই বাতিল করতে হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত কয়েকজন খেলোয়াড় হেলিকপ্টারে করে মূল শোভাযাত্রার স্থানগুলোর ওপর দিয়ে ঘুরেছিলেন।




বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের তকমা নিয়ে দেশে ফিরলো স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক : আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বজয়ের গৌরব অর্জন করেছে স্পেন। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববারের রোমাঞ্চকর ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে উল্লাসে মেতে ওঠেন রদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, পাউ কুবারসি ও গাভিরা। নিউইয়র্কের সেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের রেশ ধরে আজই সোনালী ট্রফিটি নিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখলেন বিশ্বজয়ী স্প্যানিশ তারকারা।

ইয়ামাল-রদ্রিরা কখন মাদ্রিদে পা রাখবেন-ভক্ত-সমর্থকেরা এ নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে আজ দেশে ফিরল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। মাদ্রিদে স্পেনের ফুটবল দলের বিমান অবতরণ করতেই একে একে বেরিয়ে এলেন অধিনায়ক রদ্রি ও কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেসহ আরও অনেকেই। রদ্রি বিমান থেকে নামার আগেই উঁচিয়ে ধরলেন শিরোপা। নামার পর স্প্যানিশ অধিনায়ক, কোচ দে লা ফুয়েন্তে, কুকুরেয়া, কুবারসিরা ফটোসেশন করেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর কোচ, ফুটবলার, সাপোর্টিং স্টাফদের মুখে দেখা গেছে হাসি। তবে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয় বলে কথা। রাজকীয় বরণ না হলে কি চলে! ছাদখোলা বাসে পুরো মাদ্রিদ ঘোরার আগে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের সংবর্ধনা দেবেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে।

নিউজার্সিতে গতকাল আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর স্প্যানিশ ফুটবলাররা শুরু করেন উদযাপন। ইয়ামালের ভাইও গাভি, পাউ কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়াদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছে। বড় ভাইয়ের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই ট্রফি হাতে নিয়ে উদযাপনও করেছে কেইন। কখনো লাফ দিয়ে ভাইয়ের কোলে উঠেছে কেইন। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলে কথা। ইয়ামাল ও তাঁর ভাইয়ের এমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস তো শিরোপাজয়ীদেরই মানায়।

১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে উদযাপন করতে গিয়ে স্পেনের পশ্চিমাঞ্চলে একটি ফোয়ারা ধসে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আজ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম জানিয়েছে। এর আগে নিউজার্সিতে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেন।




জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে আবেগাপ্লুত ইয়ামি, বললেন ‘স্বপ্ন সত্যি হয়’

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মাননা জিতে নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম। ক্যারিয়ারের এই অন্যতম সেরা ও গৌরবময় অর্জনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি।

দীর্ঘ ১৪ বছরের অভিনয়জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের কথা স্মরণ করে ইয়ামি প্রকাশ করেছেন তার গভীর কৃতজ্ঞতা ও উচ্ছ্বাস। এই স্বীকৃতিকে তার কঠোর পরিশ্রম ও সিনেমার প্রতি অবিচল ভালোবাসার ফল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিটি মানুষের জীবনে এমন একটি মুহূর্ত আসে যা তাকে মনে করিয়ে দেয় যে কেন সে কখনো হাল ছেড়ে দেয়নি; আজ তার জীবনে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয়েছে। ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়াটা তার জীবনের এমন এক সম্মান, যা তিনি চিরকাল হৃদয়ে লালন করবেন।

বিগত চৌদ্দ বছর ধরে পুরস্কারের আশা না করে কেবল সততার সঙ্গে নিজের কাজটুকু করে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে জানান এই অভিনেত্রী। ইয়ামি তার বার্তায় লেখেন, এই সম্মাননাটি বছরের পর বছর ধরে বুকে বয়ে বেড়ানো একটি স্বপ্ন পূরণের মতো, যা আজ তিনি অত্যন্ত বিনম্রতা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছেন। ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমাটি তার হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান জুড়ে রয়েছে, কারণ এতে ইন্টেলিজেন্স অফিসার জুনি হাকসারের চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি এটি নির্মিত হয়েছিল তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে। সিনেমার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে গল্পটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন এবং প্রতিটা দিনের শুটিং সেই প্রতিজ্ঞাকে আরও শক্তিশালী করেছিল। পুরস্কারের জুরি বোর্ড, পরিচালক আদিত্য সুহাস জামভালে, লেখক, সহশিল্পী, কলাকুশলী এবং দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই ভালোবাসাই অর্থপূর্ণ গল্প বলার প্রতি তার আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য পরিবার, বন্ধু এবং পেশাদার টিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইয়ামি আরও বলেন, এই পুরস্কার কোনো স্বপ্নের শেষ নয়, বরং এটি গল্প বলার ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। সবশেষে নতুন এবং সংগ্রাম করে যাওয়া শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে তিনি লেখেন, স্বপ্ন সত্যি হয় তখনই যখন আবেগ কখনো হাল ছাড়তে রাজি হয় না। তাই এখনো যারা নিজের সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন, তারা যেন কখনো নিজের ওপর বিশ্বাস না হারান।

আদিত্য সুহাস জামভালের পরিচালনায় এবং আদিত্য ধর প্রযোজিত এই সফল সিনেমার পর ইয়ামিকে সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমায় পর্দায় দেখা গিয়েছিল।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া




পাবনা গণপূর্তে কোটি টাকার বিল বিতর্ক: নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক : পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রকল্পে অগ্রিম বিল প্রদান, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। এ কারণে তাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাশেদ কবির এর আগে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগের ধানমন্ডি সাবডিভিশনে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকার বিভিন্ন কাজের বিল প্রদান প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই সময়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পরবর্তীতে শাহ আলম ফারুক চৌধুরীর দেশত্যাগের বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান কর্মস্থল পাবনা গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাশেদ কবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।

চাকরিচ্যুত প্রকৌশলীকে ১৮ লাখ টাকার বেশি বেতন-ভাতা প্রদান নিয়ে প্রশ্ন :
দপ্তরসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পাবনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শাহীন উদ্দিন ও মো. ফজলে হক অসদাচরণের অভিযোগে দীর্ঘদিন সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পৃথক আদেশে তাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এরপর শাহীন উদ্দিন বকেয়া বেতন-ভাতার আবেদন করলে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির তা সুপারিশসহ জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসে পাঠান। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর শাহীন উদ্দিনকে ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৪২ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিঠি দেওয়া হয়।

পাবনা মেডিকেল কলেজ প্রকল্পে অগ্রিম বিলের অভিযোগ : পাবনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের রিমেইনিং ওয়ার্কের দরপত্র এবং বিল পরিশোধ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ দিকে প্রকল্পের একটি কাজে ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার বিল কাজের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে পরিশোধ করা হয়েছে অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম অর্থ প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বুয়েটের অধ্যাপক এ কে এম আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার একটি ভবন নির্মাণ কাজের বিল অগ্রিম পরিশোধ করা হলে একটি জেলা শহরে বাস্তবায়ন করতে সময়ের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।

দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন : ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গণপূর্ত বিভাগের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা অমান্য করে কিছু কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এতে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কয়েকটি দরপত্রের আইডি নম্বর— Id No: 1297074
Id No: 1396658
Id No: 1295473
Id No: 1295309
Id No: 1286844
Id No: 1283767
Id No: 1286240

এসব কাজের দরপত্র খোলা, মূল্যায়ন ও বিল পরিশোধের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, জুন মাসে অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকটি বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাবনা নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সমাপ্ত কাজের পর পুনরায় ‘রিমেইনিং ওয়ার্ক’ দেখিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে।

তদন্ত দাবি, বক্তব্য মেলেনি রাশেদ কবিরের :
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, বিল পরিশোধের যৌক্তিকতা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা স্পষ্ট হবে।

তাদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অতীতে আলোচিত কয়েকজন প্রকৌশলীর মতো রাশেদ কবিরও দেশত্যাগ করতে পারেন। তবে দেশত্যাগের আশঙ্কার বিষয়ে কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য প্রতিবেদনটিতে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।




রাজউকের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ: উত্তর কাফরুলে বহুতল নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, ভুক্তভোগীদের আইনি পদক্ষেপের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর উত্তর কাফরুল এলাকার এজার সিয়া গলি, বাড়ি নং–৫১২-এ একটি বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে অবৈধ নির্মাণ, জমি দখল, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থার নোটিশ ও স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি, যাকে তারা স্থানীয়ভাবে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করছেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধিমালা অনুসরণ না করেই পনে তিনকাটা জমির উপর (ফাউন্ডেশন) ভবন ১০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্লট-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের জোন-৩ (মহাখালী) কার্যালয় থেকে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরুর অন্তত ১৫ দিন আগে নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি এবং ভবনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সাইনবোর্ডও প্রদর্শন করা হয়নি।

এছাড়া, অভিযোগে বলা হয়েছে যে, রাজউক অবৈধ নির্মাণ ঘোষণা করে কেন ভবনটি অপসারণ করা হবে না—সে বিষয়ে মালিকপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি এবং নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনেননি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ভবনের ওপর থেকে ইট পড়ে পাশের একটি বাড়ির এক নারী বাসিন্দার চোখে আঘাত লাগে। পাশাপাশি ভবনের চারপাশে অন্যের জমির অংশ দখল করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এলাকার মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধানের উদ্যোগ নিলেও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। বরং প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে আওয়ামীঃ ফ্যাসিবাদের রাজ্জাক প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে কারও কথা আমলে নেন না এবং সামাজিক বা প্রশাসনিক উদ্যোগকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাজ্জাকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।




রোববার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং’

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং-২৬’ রোববার (১৯ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। এবারের মহড়ায় দুই দেশের ১৬০ জনের বেশি সামরিক সদস্য অংশ নেবেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই যৌথ মহড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা, পারস্পরিক সমন্বয় এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহড়ায় জঙ্গলাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের কৌশলগত চিকিৎসা (ট্যাকটিক্যাল কমব্যাট ক্যাজুয়ালটি কেয়ার) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের সেনাসদস্যরা একে অপরের কৌশল, দক্ষতা ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে আরও সম্যক ধারণা লাভ করবেন।

মার্কিন দূতাবাস জানায়, ‘টাইগার লাইটনিং’ ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের থিয়েটার আর্মি ক্যাম্পেইন প্ল্যান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ। এর মূল লক্ষ্য দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পেশাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, প্রস্তুতি ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবিলিটি) উন্নত করা।

২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘টাইগার লাইটনিং’ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিয়মিত আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় যৌথ সামরিক মহড়া। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবার নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।

মহড়াটি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অনুশীলনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজ অনুষ্ঠিত হবে।




যুক্তরাজ্যে শিশু যৌন নিপীড়ন চক্রে ৩ বাংলাদেশিসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে একটি সংঘবদ্ধ শিশু যৌন নিপীড়ক ও গ্রুমিং গ্যাংয়ের আটজন সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। ভয়ংকর এই অপরাধী চক্রের অভিযুক্ত আট সদস্যের মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন তদন্তের পর এই চক্রের সন্ধান মেলায় দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) এই আটজনের বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি অভিযোগ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ১৭টি অভিযোগই ধর্ষণের।

‘অপারেশন ওক’ নামে পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা শৈশব ও কৈশোরে এই চক্রের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন। অভিযুক্তরা অপরাধের সময় নিজেরাও অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্ত করছে গোয়েন্ট পুলিশ।

ল্যাঙ্কাশায়ারের স্থানীয় পত্রিকা ল্যাঙ্কসলাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই ল্যাঙ্কাশায়ার, নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, এডিনবরা এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল ও বুট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের জামিন দেওয়া হয় এবং আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়।

গোয়েন্ট পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আটজনই ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাদের বয়স ৫৪ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিনজন ৫৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, ৭৩ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং ৫৮ বছর বয়সী আমিনুর রহমান চৌধুরী।

হান্নানের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীকে দু’বার ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণে তিনবার সহায়তা ও উসকানি এবং ধর্ষণের জন্য দু’বার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাহির উল্লাহর বিরুদ্ধে এক নারী ও এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

বাকি পাঁচ আসামি: শাকিল বাবর, শফাক আহমেদ, আশান তাকভি, মুরাদ আলী ও কেভিন লরেন্স। কেভিন ছাড়া বাকি চারজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।

শাকিল বাবরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে চারবার যৌন নির্যাতন, শফাক আহমেদের বিরুদ্ধে এক নারী ও কিশোরীকে সাতবার ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং যৌন পেশায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। আশান তাকভির বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে তিনবার ধর্ষণ এবং মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে দু’বার ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেভিন লরেন্সের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র ও যৌন পেশায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ‘গ্রুমিং গ্যাং’ নিয়ে আগেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। সরকারি তথ্য অনুসারে, গত এক দশকে এসব চক্রের হাতে আড়াই লাখের বেশি ব্রিটিশ তরুণী ও শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোয়েন্ট পুলিশের ডিটেক্টিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ড্রু টুর্ক বলেন, অপারেশন ওক সাউথ ওয়েলসে দলবদ্ধ শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত। সিপিএসের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি। ভুক্তভোগীদের সহায়তা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের তদন্ত সমাজে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে, তবে ভুক্তভোগীদের স্বার্থে তদন্ত অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো পোস্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন যা আদালতের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে।




জানাজারত অবস্থায় গাজায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষ একটি জানাজার নামাজ ও দাফনের সময় হামলার শিকার হন।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার নয় মাস পেরিয়ে গেলেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই চুক্তি ভঙ্গ করে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় একটি সমাবেশে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সেখানে ইসরায়েলের হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজার নামাজ শেষে মরদেহ বহন করে বের হওয়ার সময় এই হামলা চালানো হয়। আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে শোকাহত মানুষের ওপর ড্রোন থেকে সরাসরি বোমা ফেলা হয়।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, মধ্য গাজায় একটি সন্ত্রাসী সেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের খবর জেনেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে বলেও জানিয়েছে।

হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীদের সামনেই ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে।

শুক্রবারের (১৭ জুলাই) এই ঘটনার পাশাপাশি গাজার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় আবু তামাম স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ-জাওয়ায়দা, নুসেইরাত ও গাজা সিটিতেও আলাদা আলাদা হামলায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতি থাকলেও মে মাস থেকে ইসরায়েলের হামলা বেড়েছে। গত মাসে ৪০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, যা যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বেশি।

ইসরায়েলের সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় শিশুদের নিয়মিত হত্যা করা হচ্ছে। গত নয় মাসে অন্তত ২৭৪ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু।

গাজাজুড়ে ড্রোনের অবিরাম গুঞ্জন আর ধ্বংসের ছবি সেখানকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সব আশা নষ্ট করে দিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা