ভাঙনে কুতুবদিয়ায় বাড়ছে ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা, আতঙ্কে উপকূলবাসী

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় সাগরের ভাঙন ও জোয়ারের পানিতে প্রতিবছরই বসতভিটা হারাচ্ছেন শত শত মানুষ। বর্ষা মৌসুম এলেই তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দেয় নতুন আতঙ্ক। অকার্যকর জিও ব্যাগ ও ভাঙাচোরা বেড়িবাঁধের কারণে ভাঙন রোধ সম্ভব না হওয়ায় দিন দিন ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে সাগরভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য বসতভিটা বিলীন হয়েছে। সরকারি হিসাবের চেয়েও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে দাবি স্থানীয়দের। একসময় স্বচ্ছল থাকা অনেক পরিবার এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

গত বছর আলী আকবর ও বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুস্তফা, বদর উদ্দিন, মো. বাবুল, আব্দুল গফুর, জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদ আলম, গোলাম মোস্তফা ও মোক্তার আহমেদসহ অনেকেই ভিটেমাটি হারিয়ে ভূমিহীন হয়েছেন। চলতি বর্ষায় একই এলাকার আব্দুল কাদের, আব্দু শুক্কুর, রুবেল, জসিম উদ্দিন, নুরুল হোছাইন, আমির হোছাইন, আবুল হোছাইন ও শাহাবুদ্দিনসহ প্রায় শতাধিক পরিবার নতুন করে ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। একই পরিস্থিতি উত্তর ধূরুং, দক্ষিণ ধূরুং, কৈয়ারবিল ও লেমশীখালী ইউনিয়নেও।

ভুক্তভোগী মোস্তফা বেগম (৬০) বলেন, ‘সাগর আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে আছি। নিজের কোনো ঘর নেই, নেই কোনো ঠিকানা। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা চাই।’

আরেক ভুক্তভোগী আব্বাস উদ্দিন বলেন, দুই বছর আগে একবার ভিটেমাটি হারিয়েছিলেন। অনেক কষ্টে নতুন করে ঘর তুললেও এবার সেটিও সাগরে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহিদ উদ্দিন ছোটন বলেন, ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২০টি বসতবাড়ি সাগরগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ সরবরাহের পাশাপাশি কুতুবদিয়াকে রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সাগরভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।




ইয়ামালের সাফল্য চাই, তবে ফাইনালে থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে: মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক : নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আয়োজিত ফিফার ‘ফ্যানাটিক ফেস্ট’ যেন পরিণত হয়েছিল ফুটবলের এক মহা উৎসবে। সংবাদ সম্মেলন, আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জমে ওঠা এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির মন্তব্য।

বার্সেলোনার এই তরুণ ফুটবলারের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ইয়ামাল ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। শৈশবে ইয়ামালের সঙ্গে তোলা নিজের সেই বহুল আলোচিত ছবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন ছবিটি আরও বিশেষ মনে হয়। সামনে ইয়ামালের ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও মনে করিয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। হাসিমুখে মেসি বলেন, ‘আমি চাই ইয়ামাল অনেক সাফল্য অর্জন করুক। কিন্তু এই ফাইনালে তাকে থামাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাড়তি চাপের বিষয়েও কথা বলেন মেসি। তাঁর মতে, ফুটবলকে উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ারে জয়ের চেয়ে হার থেকেই তিনি বেশি শিক্ষা পেয়েছেন, আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও পরিণত করেছে।

ফিফার আয়োজনে নিউইয়র্কের জাভিটস সেন্টারে সকাল থেকেই ছিল হাজারো সমর্থকের ভিড়। আর্জেন্টিনা ও স্পেন দুই দেশের সমর্থকেরাই প্রিয় তারকাদের একনজর দেখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি, গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস, স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও অধিনায়ক রদ্রি। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ, হলিউড অভিনেতা কেভিন হার্ট এবং বাস্কেটবল তারকা কেভিন ডুরান্ট।

অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে স্কালোনি ও দে লা ফুয়েন্তের করমর্দন, মেসি ও রদ্রির শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিশ্বকাপ ট্রফির সামনে দুই দলের তারকাদের একসঙ্গে তোলা ছবি যেন মনে করিয়ে দিল ফাইনালের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের আগে ফুটবল আসলে বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করারই সবচেয়ে বড় উৎসব।




হাফটাইম শো কতোটা দীর্ঘ হচ্ছে?

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নামতে চলেছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন এই ফাইনাল ঘিরে।

তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এবারের ফাইনাল আলোচনায় রয়েছে একটি ভিন্ন কারণে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে আয়োজন করা হচ্ছে ফিফার আনুষ্ঠানিক হাফটাইম শো বা বিরতিকালীন সংগীতানুষ্ঠান। গ্লোবাল সিটিজেনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই নতুন ফরম্যাটটি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠবে বলে আশা করছে ফিফা।

এবারের এই জমকালো আয়োজনে পারফর্ম করবেন ক্রিস মার্টিন, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, বিটিএস এবং শাকিরার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। সংগীতানুষ্ঠানটি নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছিল যে, এবারের হাফটাইম শো হতে পারে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দীর্ঘ। তবে শেষ পর্যন্ত ফিফা জানিয়েছে, পুরো বিরতির সময়সীমা আগের মতোই ১৭ মিনিট থাকবে, যার মধ্যে মূল সংগীতানুষ্ঠানটি হবে মাত্র ১১ মিনিটের।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এর আগে তো বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে সংগীত পরিবেশনা দেখা গেছে, তাহলে একে কেন প্রথম আনুষ্ঠানিক শো বলা হচ্ছে? এর উত্তর হলো, এর আগে মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে মানার পারফরম্যান্সটি ছিল মূলত মেক্সিকো সিটির বিদায়ী সংবর্ধনার অংশ। কিন্তু এবারের ফাইনালের এই অনুষ্ঠানটি বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে ফিফার নিজস্ব ব্র্যান্ডিংয়ে, যা সরাসরি বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। ফুটবল ও বিনোদনের এই মিলনমেলা আজ খেলাটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী হলেন যারা

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের ২০২৪ সালের সেরা চলচ্চিত্র ও কলাকুশলীদের নাম ঘোষণা করেছে দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। শনিবার (১৮ জুলাই) নয়াদিল্লিতে ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৪’-এর বিজয়ীদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

সেরা অভিনেতার পুরস্কার যৌথভাবে জিতেছেন প্রবীণ মালয়ালম তারকা মামুট্টি ও বলিউড অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান। অন্যদিকে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ইয়ামি গৌতম।

চলচ্চিত্র নির্মাতা জয়রাজের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জুরি বোর্ড বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করে বিজয়ীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। হরর ঘরানার মালয়ালম সিনেমা ‘ব্রহ্মযুগম’-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য মামুট্টি এবং স্পোর্টস ড্রামা ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমার জন্য কার্তিক আরিয়ান যৌথভাবে সেরা অভিনেতার গৌরব অর্জন করেন। এটি কার্তিক আরিয়ান ও ইয়ামি গৌতমের ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অভিনয়ের পাশাপাশি ইয়ামি অভিনীত ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমাটি সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সম্মাননাও লাভ করেছে।

ঘোষিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরির মধ্যে ‘ভক্ষক’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সঞ্জয় মিশ্র সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন। ‘অমরন’ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছেন রাজকুমার পেরিয়াসামি। এ ছাড়া ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ সিনেমার মাধ্যমে সেরা নবাগত পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন অভিনেতা ও নির্মাতা রণদীপ হুদা।

ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)- ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সার্টিফাইড বা অনুমোদিত চলচ্চিত্রগুলো এবারের পুরস্কারের জন্য বিবেচিত করেছে। ফিচার ও নন-ফিচার মিলিয়ে মোট ৪৩টি শাখায় এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও ভারতের এই রাষ্ট্রীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ঘোষণা চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।




নৌবাহিনীর নতুন প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

ডেস্ক নিউজ : রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিজবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

বর্তমানে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে থাকা মিজবাহ উল আজীম নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মিজবাহ উল আজীমকে বাহিনী থেকে সরিয়ে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে মাস্কাটে পাঠানো হয়েছিল।

বর্তমান বিএনপি সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে তার হাতে নৌবাহিনীর নেতৃত্ব তুলে দিল।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রাতে এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, মিজবাহ উল আজীমকে তিন বছরের জন্য নৌবাহিনী প্রধান করা হয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই তিনি দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সপ্তদশ ব্যাচের ছাত্র মিজবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন পান।

চাকরি জীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ডেন্টের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।




‘এআই’ দিয়ে তালিকা বানিয়ে ছুটিতে থাকা কর্মীদের ছাঁটাইয়ের অভিযোগ, মেটার বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেছে বেছে কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ডজনখানেক কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, মাতৃত্বকালীন বা অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদন করার পরই মেটার এআই প্রযুক্তি তাঁদের বিশেষভাবে নিশানা করে ছাঁটাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

গত সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ফেডারেল আদালতে এই মামলা করা হয়। এতে মেটার চলতি বছরের শুরুর দিকের কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান হলো মেটা। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছাঁটাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট কর্মী বেছে নিতে প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ ‘এআই ব্যবস্থার একটি সমাহার’ ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে এআইভিত্তিক কাজের রেটিং ও কর্মীদের কি–বোর্ড ব্যবহার ও সক্রিয়তা নজরদারির তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আদালতের ৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘কর্মীদের কাজ সম্পর্কে জানেন, এমন ব্যবস্থাপকদের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে মেটা এই ছাঁটাইয়ের তালিকা তৈরি করেনি।’ মামলার বাদী ২৬ কর্মী অভিযোগ করেছেন, মেটা এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মীদের ‘স্কোর, র‍্যাঙ্কিং ও বাছাই করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে’।

মামলার বাদী কর্মীরা ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করার আগেই তা বন্ধ করতে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন, ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কর্মক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কর্মীরা এখন পক্ষপাতিত্ব, গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও আস্থার সংকটের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও এ ধরনের প্রযুক্তির আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখছে। এআইয়ের পক্ষপাত ও ‘স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত’ থেকে কর্মীদের রক্ষা করতে আইন পাস করেছে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, ইলিনয়সহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে তারা এই আইন বা বিধিমালা কার্যকর করেছে।

মেটার বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির এআই প্রযুক্তি কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন ও উৎপাদনশীলতার ওপর নজর রাখে। কিন্তু কোনো কর্মী যখন মাতৃত্বকালীন বা অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকেন, তখন সিস্টেমে এই তথ্যগুলো জমা হয় না। এ ছাড়া শারীরিকভাবে অক্ষম কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই মূল্যায়নের মান কমে যায়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এর ফলে যাঁরা ছুটি নিয়েছিলেন, তাঁদের ছাঁটাই করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এআই প্রযুক্তির এই স্কোরিংয়ের ব্যবস্থা ছুটি কাটানোর বিষয়টিকে বিবেচনায় তো নেয়নি, উল্টো আইনি অধিকার প্রয়োগ করার জন্য কার্যত তাঁদের শাস্তি দিয়েছে।’

মামলার বাদী বিজ্ঞানীদের একজন সন্তান প্রসবের আগে ছুটিতে ছিলেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র দুই দিন আগে তিনি ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান। আরেক বাদী পেশায় প্রকৌশলী। তিনি চোটের কারণে ছুটি নেওয়ায় মেটার সিস্টেমে তাঁর ‘রেটিং কমে গিয়েছিল’। এ ছাড়া অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকা এক ব্যবস্থাপক জানান, ছুটি শুরুর মাত্র ১৬ দিনের মাথায় তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

মেটার এক মুখপাত্র অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দ্য গার্ডিয়ানকে পাঠানো এক ই–মেইলে তিনি বলেন, ‘এসব দাবির কোনো ভিত্তি নেই এবং এগুলোয় কোনো সত্যতা নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘কর্মী ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলো মানুষের মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে। এখানে এআই কাজ করেনি।’

মেটা চলতি বছরের শুরুর দিকে কর্মীদের ওপর নজরদারি করার এআই প্রোগ্রাম চালু করে। মূলত কর্মীরা কম্পিউটারের কোন বোতাম চাপছেন, মাউসের ব্যবহার কেমন, কোন ব্রাউজার ব্যবহার করছেন—সবই ট্র্যাক করা এই প্রোগ্রামের লক্ষ্য ছিল। পাশাপাশি অফিসের ডিভাইসে পাঠানো বার্তা, ই–মেইল ও ব্যবহারকারীর অবস্থানও এটি পর্যবেক্ষণ করতে পারত।

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জানান, কর্মীদের কাজের ধরন বিশ্লেষণ করে কোম্পানির এআই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছিল।

প্রযুক্তিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার একটি অভ্যন্তরীণ সভায় মার্ক জাকারবার্গ এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের এআই মডেলগুলো অত্যন্ত মেধাবী মানুষের কাজ দেখে শেখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্য সাধারণ কর্মীদের তুলনায় এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের গড় বুদ্ধিমত্তা অনেক বেশি।’

মামলায় দাবি করা হয়েছে, কর্মীদের সম্মতি ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে মেটা এই নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছিল। জ্যেষ্ঠ কোনো কর্মকর্তার পরিবর্তে সাধারণ একজন প্রকৌশলীর মাধ্যমে একটি কম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ পোস্ট দিয়ে কর্মীদের বিষয়টি জানানো হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেশ কিছু টিমের কর্মীদের কোনো পূর্বানুমতি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। এমনকি প্রথম দিকে এই নজরদারি এড়ানোর কোনো সুযোগও (অপট–আউট) কর্মীদের দেওয়া হয়নি।

গত কয়েক মাসে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মীদের ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুনে মার্ক জাকারবার্গ এই নজরদারি প্রকল্প সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন। কোম্পানির ১ হাজার ৬০০–এর বেশি কর্মী একটি গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন। যেখানে তাঁরা অভিযোগ তোলেন, এই কর্মসূচি তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে।

সোমবারের মামলায় বাদীদের আইনজীবীরা মেটার এআই প্রযুক্তিগুলোর ওপর তাৎক্ষণিকভাবে একটি স্বাধীন নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই নিরীক্ষা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কেন ছুটিতে থাকা বা বিশেষ সুযোগ–সুবিধা পাওয়া ২৬ কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তা জানা যাবে। এক ই–মেইল বার্তায় আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ‘মেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের মূল প্রক্রিয়াটি গোপন রেখেছে।’

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুত কর্মীদের প্রত্যেকেই ২২ জুলাই পর্যন্ত মেটার তালিকাভুক্ত কর্মী হিসেবে বহাল থাকবেন। এরপর তাঁদের বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নেবে। তবে মেটা যেন কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারে, সে বিষয়ে আইনজীবীরা সতর্কতা চেয়েছেন। তাঁরা আবেদন করেছেন, যেন বাদীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়। এ ছাড়া বিষয়টির আইনি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের বহাল রাখার নির্দেশ চেয়েছেন।

আইনজীবীরা বলেন, ‘একবার ছাঁটাই চূড়ান্ত হয়ে গেলে এর ক্ষতি আর পূরণ করা যাবে না।’ গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর কর্মীরা যে স্বাস্থ্যবিমা পেতেন, তা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের ছুটির অধিকার বাতিল হবে। তাঁদের শেয়ারের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। এমনকি অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এটি।




বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া তৈরির জন্য বিএসএফকে ১০০০ একর জমি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে মে মাসে ক্ষমতায় আসার পরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য দেশটির সীমন্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) ১০০০ একরের বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

যেসব জেলায় বিএসএফকে জমি দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের এমন একটি জেলা, যেখানে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ।

শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং সীমান্তকে শক্তিশালী করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় বেড়া নির্মাণের জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আমরা দ্রুত সম্পন্ন করেছি। আজ পর্যন্ত ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

বিএসএফের কাছে জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তরের তালিকাও দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই তালিকায় ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটারের জন্য ৩৩৭ একর জমি দিয়ে মুর্শিদাবাদ সবার ওপরে রয়েছে। অর্থাৎ মোট যা জমি দেওয়া হয়েছে, তার ৩৩ শতাংশ এসেছে মুর্শিদাবাদ থেকে। এরপরে ৪২ দশমিক ৭ কিলোমিটারের জন্য ২৪১ দশমিক ০৩ একর জমি দিয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

এরপরে যথাক্রমে রয়েছে কোচবিহার (৩৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটারের জন্য ১৩৫ দশমিক ৩৩ একর), মালদা (২০ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের জন্য ১৭৬ দশমিক ৭৮ একর), নদীয়া (১৪ দশমিক ৭৯ কিলোমিটারের জন্য ৯৫ দশমিক ১১ একর), দক্ষিণ দিনাজপুর (৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটারের জন্য ২৬ দশমিক ৪১ একর), দার্জিলিং (১ দশমিক ৪৫ কিলোমিটারের জন্য ৪ দশমিক ৩১ একর), উত্তর দিনাজপুর (১ দশমিক ২৮ কিলোমিটারের জন্য ৬ দশমিক ৬১ একর) এবং জলপাইগুড়ি (০ দশমিক ৩১ কিলোমিটারের জন্য ২ দশমিক ১৭ একর)।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘আমাদের নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুনিশ্চিত পরিবেশ তৈরি করতে এই প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অবিচল রয়েছি।’

অতীতে পশ্চিমবঙ্গের জমি কেন্দ্র সরকারের হাতে তুলে দিতে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল রাজ্যের সরকার। পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজের একাংশও বরাবরই বলেছে, রাজ্যের জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, বিশেষত এমন একটি রাজ্যে, যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অন্য রাজ্যের চেয়ে অনেকটাই বেশি।

এ নিয়ে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন অতীতে বিবৃতি দিয়েছে, আন্দোলনও করেছে। ২০১৫ সালে যখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তচুক্তি হয়, সে সময় ১০ হাজার একরের কিছু বেশি জমি বাংলাদেশকে দিয়ে দেয় ভারত, তখন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজ। কিন্তু এখন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে পশ্চিমবঙ্গের জমি দিয়ে দেওয়া হলেও কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।




শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিকের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ : নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলায় ১১টার দিকে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার ফায়ার সার্ভিস জেটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ শেখের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন অভিজ্ঞ ডুবুরি ছিলেন এবং বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পদক অর্জন করেছিলেন।

জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সদস্য সাদিক, শামসুল ও স্পিডবোটচালক সজল মিলে জেটিতে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় হঠাৎ স্পিডবোট থেকে নদীতে পড়ে গিয়ে তলিয়ে যান সাদিক। ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে পড়ার সময় তিনি মাথায় বা শরীরের অন্য কোথাও আঘাত পেয়ে দ্রুত তলিয়ে যান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ-এর ডুবুরিদল উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ তল্লাশির পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিতাইগঞ্জের কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।




আর্জেন্টিনার জয়ে সামনে এল যে ৫টি বিষয়

ক্রীড়া ডেস্ক : এটাই যেন আর্জেন্টিনার অভ্যাস! নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছেন আর্জেন্টিনা। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন গতরাতে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২–১ গোলের জয়ের ম্যাচে অন্তত পাঁচটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে।

রদ্রিগো ডি পলে আর আস্থা নেই

নকআউট পর্বের আগের তিন ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা দিতে হলেও স্কালোনি তাঁর মূল একাদশে বড় পরিবর্তন করতে চাননি।

তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি শেষ পর্যন্ত কৌশল বদলেছেন। রদ্রিগো ডি পলকে শুরুর একাদশ থেকে বাদ দিয়ে তিনি জুলিয়ানো সিমিওনেকে একাদশে নিয়ে আসেন। পূরণ করেছেন ডি পলের জায়গাটাও।

টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসির প্রথম গোলে ডি পলের অ্যাসিস্ট থাকলেও পুরো বিশ্বকাপে তিনি খুব সাধারণ ফুটবলই খেলেছেন। অবশ্য আর্জেন্টিনার পুরো মিডফিল্ডই এই বিশ্বকাপে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দাপট তারা এবার দেখাতে পারছে না। দায়টা এনজো ফার্নান্দেজ এবং আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারেরও আছে। তবে সেটা বেশি ডি পলেরই।

গতকাল সিমিওনেও স্কালোনির সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছেন। দলে গতি ও কাউন্টার অ্যাটাকের শক্তি বাড়িয়েছেন।

দক্ষিণ আমেরিকার পুরোনো কৌশলে আর্জেন্টিনা

ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই দুই দলের মধ্যকার বৈরিতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। মাঠের লড়াই শুরু হতেই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। এমনকি দুই দেশের সমর্থকেরাও একে অপরের জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় দুয়ো ধ্বনি দেন।

খেলার শুরু থেকেই বল ছাড়া আর্জেন্টিনার কৌশল স্পষ্ট ছিল, তা হলো প্রতিপক্ষকে ‘বিধ্বস্ত’ করা। মনে হচ্ছিল প্রত্যেক আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় শতবছরের পুরোনো সেই দক্ষিণ আমেরিকান কৌশলই ব্যবহার করছেন, ‘হয় বল পার হবে, না হয় খেলোয়াড় পার হবে, কিন্তু দুটো একসঙ্গে কখনোই নয়।’

ম্যাচের শুরুটা ইংল্যান্ড ভালোই করেছিল। কিন্তু আলবিসেলেস্তেরা একের পর এক ফাউল করে ম্যাচের গতি কমিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডও আর্জেন্টিনার পাতা ফাঁদে পা দেয়।

এই কৌশলে আর্জেন্টিনার অন্যতম সেনাপতি ছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার এমন পরিস্থিতিতেই ভালো খেলেন। জুড বেলিংহাম এবং নিচে নেমে আসা হ্যারি কেইনকে একাই আটকে রাখার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। তিনি সেটা করেছেনও।

রক্ষণে দুর্বলতা এখনো কাটেনি

কাতারে বিশ্বকাপ জেতা দলটার ওপরই মূলত এবার ভরসা রেখেছে আর্জেন্টিনা। তবে দলে রাইটব্যাক পজিশনে কোনো ভালো বিকল্প না থাকাটাকে আগে থেকেই বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেমিফাইনালে নাহুয়েল মলিনা সেই ভয়টাকেই সত্যি প্রমাণ করেছেন।

টুর্নামেন্ট জুড়েই এই পজিশনে রিভার প্লেটের গঞ্জালো মন্তিয়েল ও মলিনাকে বারবার অদলবদল করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। অথচ মলিনা গত মৌসুমে আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে লা লিগায় মাত্র ১৩টি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন।

স্কালোনি যাঁকে দিয়েই খেলা শুরু করিয়েছেন, তিনিই মাঠে ভুগেছেন। উল্টো বদলি হিসেবে যিনি পরে নেমেছেন, তিনিই ভালো খেলেছেন! এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও মিম বানাতে ছাড়েননি আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।

সেমিফাইনালে মলিনা শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাচের ৫৫ মিনিটে তিনি এক মারাত্মক ভুল করে বসেন, যা আর্জেন্টিনার রক্ষণের আসল কঙ্কালটা বের করে আনে।

মর্গান রজার্সের বাড়ানো ক্রসের সময় মলিনা কেবল বলের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। নিজের পেছনে থাকা খেলোয়াড়কে মার্ক করতে পুরোপুরি ভুলে যান তিনি। এই সুযোগে অ্যান্থনি গর্ডন তাঁর পেছন থেকে এসে আলতো ছোঁয়ায় ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন।

আলবিসেলেস্তেরা শেষ পর্যন্ত মলিনার ভুল সামলে নিয়ে ম্যাচ জিতেছে। তবে এটা পরিষ্কার যে ফাইনালে স্পেন নিশ্চিতভাবেই আর্জেন্টিনার ফুলব্যাকদের চেপে ধরবে। বিশেষ করে স্কালোনির অরক্ষিত ডান দিকটাই হবে স্প্যানিশদের প্রধান লক্ষ্য।

 

ইংল্যান্ড দরজা খুলে দিল, সুযোগ নিলেন মেসি

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও প্রথমে গোল খাওয়াটাই আর্জেন্টিনার জন্য শাপেবর হয়েছে। ইংল্যান্ড কোচ গোল পাওয়ার পর দলকে পুরোপুরি ডিফেন্সিভ ও লো ব্লকে নিয়ে যান এবং রক্ষণাত্মক বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে আর্জেন্টিনার চাপকে আমন্ত্রণ জানান।

টুখেলের এই জুয়া মেক্সিকোর বিপক্ষে কাজে লেগেছিল। তবে আর্জেন্টিনা পুরোপুরি ভিন্ন দল, এই দলে মেসি ছিলেন। গোল হজমের পরই মেসি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং আর্জেন্টিনার পাল্টা–আক্রমণ পরিচালনা করতে শুরু করেন। তাঁর কিছু ক্রস থেকে আরও আগেও গোল আসতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত দুটি গোলে তিনিই সহায়তা করেন।

মেসির দ্বিতীয় অ্যাসিস্টটা ছিল দুর্দান্ত। ৩৯ বছর বয়সী মেসি উইং ধরে দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যান। এরপর ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে মার্তিনেজের জয়সূচক গোলের জন্য একটি নিখুঁত ক্রস ভাসিয়ে দেন।

দেখে মনে হবে মেসি যেন ২০০৬ সালে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপে খেলা ১৯ বছর বয়সী সেই তরুণ! আর্জেন্টিনার আরও একটি অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের জন্য হয়তো এ রকম কিছুরই প্রয়োজন ছিল।

পথের কাঁটা ফার্নান্দেজ

শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এনজো ফার্নান্দেজ মাঠে আগুন ঝরাবেন। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই এলিয়ট অ্যান্ডারসনের মাথায় আঘাত করে নিজের আগ্রাসী রূপ দেখিয়েছেন তিনি। প্রথম ২৫ মিনিট এই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে ফার্নান্দেজ একমুহূর্তও শান্তিতে থাকতে দেননি। অন্যদের জন্যও হয়েছেন বিরক্তির কারণ।

গোলের আগেও বেশ কয়েকবার দূর থেকে শটের চেষ্টা করেছেন ফার্নান্দেজ। তবে আসল ম্যাজিকটা দেখান ম্যাচের ৮৪ মিনিটে। তাঁর উদ্‌যাপনটাও ছিল দেখার মতো।

ফার্নান্দেজের পাশাপাশি তাঁর মিডফিল্ড সঙ্গী আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারও জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত তাঁর দুটি দুর্দান্ত শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে তাঁর এই আক্রমণগুলোই ম্যাচের গতি বাড়িয়ে দিতে আর্জেন্টিনাকে তাতিয়ে দিয়েছিল।




গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে শীর্ষে মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ বিশ্বকাপে চোখধাঁধানো গোল, অবিশ্বাস্য অঘটন আর রোমাঞ্চকর ম্যাচের অভাব ছিল না। তবে পুরো আসরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত লড়াই হয়ে উঠেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সেরা গোলদাতার পুরস্কারের প্রতিযোগিতা।

এবার সেই লড়াইয়ে নতুন মোড় এসেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে গোল করতে পারেননি মেসি। তবুও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে তারই।

ম্যাচে দুটি অসাধারণ গোলের সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়ক হন তিনি। ৩৯ বছর ২১ দিন বয়সে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক মাঠের খেলোয়াড়ের রেকর্ডও গড়েন মেসি।

৮৫তম মিনিটে এনসো ফের্নান্দেসের সমতাসূচক গোল এবং যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেসের জয়সূচক গোল—দুটিই এসেছে মেসির নিখুঁত পাস থেকে। এই জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

গোল না করেও এই দুই সহায়তার সুবাদে আবারও গোল্ডেন বুটের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন মেসি। তার গোলসংখ্যা এখনো আটটিতেই রয়েছে।

মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই গোল আটটি করে। তবে সমান গোল হলে প্রথমে বিবেচনায় আসে কতটি গোলে সহায়তা করেছেন, সেই হিসাব। আর সেখানেই এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

পুরো বিশ্বকাপজুড়েই এই দুই তারকার লড়াই ছিল দারুণ উপভোগ্য। এক ম্যাচে মেসি এগিয়ে গেছেন, পরের ম্যাচেই জবাব দিয়েছেন এমবাপ্পে। তাদের এই দ্বৈরথ টুর্নামেন্টে বাড়তি রোমাঞ্চ যোগ করেছে।

এখন আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি। ফলে লড়াইও পৌঁছে গেছে শেষ অধ্যায়ে।

রোববারের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি। সেখানে গোল কিংবা সহায়তার সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। সেখানে এমবাপ্পেও জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনো পুরোপুরি খোলা। যদি শেষ পর্যন্ত গোল ও সহায়তা—দুই দিক থেকেই সমতা থাকে, তাহলে পুরস্কার নির্ধারণ হবে মাঠে খেলা মোট সময়ের ভিত্তিতে। সেই ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। তিনি খেলেছেন ৬৬৬ মিনিট, আর মেসি খেলেছেন ৭১২ মিনিট। তাই গোল ও সহায়তায় সমতা থাকলে কম সময় খেলায় এগিয়ে থাকায় সোনার জুতা জিতবেন ফরাসি তারকা।

তবে পরিসংখ্যান দিয়ে মেসির প্রভাব পুরোপুরি বোঝানো যায় না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি যেন একজন সুরকারের মতো পুরো আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ পরিচালনা করেছেন। তার নিখুঁত পাসে এসেছে সমতাসূচক গোল, আর অসাধারণ ক্রসে হয়েছে জয়সূচক গোল। এই দুই সহায়তায় ফুটে উঠেছে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সেই চিরচেনা দৃষ্টি, সৃজনশীলতা ও অসাধারণ দক্ষতা।

অন্যদিকে এমবাপ্পেও এমন লড়াইয়ের সঙ্গে পরিচিত। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে সেরা গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এবারও আরেকটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁকে সেই সম্মান আবার এনে দিতে পারে।

প্রায় এক মাসের বিশ্বকাপ শেষে এসেও মেসি ও এমবাপ্পের এই দ্বৈরথ ঠিক ততটাই রোমাঞ্চকর, যতটা বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াই।