এমপি পদ ছেড়েই বিজেপি নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ তৃণমূলের কোয়েল মল্লিকের

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য তথা টালিউড তারকা কোয়েল মল্লিক। তবে ইস্তফা দেওয়ার পরেই তিনি বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে গিয়ে দেখা করেডন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আর এই সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে কি এবার বিজেপির পথে যাচ্ছেন অভিনেত্রী?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, পদত্যাগের পর বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের দলীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছেন কোয়েল মল্লিক। এরপরই তার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দলবদল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি অভিনেত্রী।

এর আগে তিনি ১১ জুন ই–মেইল করে উপরাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠালেও তা গৃহীত হয়নি। তাকে জানানো হয়, পদত্যাগপত্র সশরীর হাজির হয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও ভারতের উপরাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দিতে হবে। পরে আজ বৃহস্পতিবার উপরাষ্ট্রপতির কাছে সরাসরি পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত মার্চ মাসে কোয়েল মল্লিককে এই রাজ্যের কোটায় রাজ্যসভার সংসদ সদস্য করেন। সঙ্গে আরও সংসদ সদস্য হন তিন তৃণমূল প্রার্থী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাবেক ডিজি রাজীব কুমার, সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ দেওয়া তৃণমূলের এটি চতুর্থ ঘটনা। এর আগে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক একে একে সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন। পরে তারা বিজেপিতে যোগ দিয়ে চলতি মাসের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হতে চলা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীও হয়েছেন। এর মধ্যেই কোয়েলের পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার জন্ম দিয়েছে।

তবে এবার কি দলবদল করছেন কোয়েলও? জল্পনা থাকবে এবং নজর থাকবে কোয়েলের রাজনীতির সফরের আগামী পরিকল্পনার দিকে।

কোয়েল মল্লিক পশ্চিমবঙ্গের বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের মেয়ে হিসেবে চলচ্চিত্র পরিবারে বেড়ে ওঠা কোয়েল ২০০৩ সালে ‘নাটের গুরু’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক করেন। এরপর ‘বন্ধন’, ‘শুভদৃষ্টি’, ‘প্রেমের কাহিনি’, ‘মন মানে না’, ‘পাগলু’, ‘হেমন্তের পাখি’, ‘অরুন্ধতী’, ‘ছায়া ও ছবি’সহ একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে টালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। দুই দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল তারকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।




আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগ হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি পেশাদার বাহিনীতে পরিণত করা। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগেই আমরা উল্লেখ করেছি, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং সেটিরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সরকার কোনও ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না।’

আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি দুর্নীতি দমনের বিষয়েও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার। বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সময় কিভাবে প্রতি বছর এই দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতিকে যেকোনোভাবেই হোক, সেটি হাত বেঁধেই হোক, টুঁটি চেপেই হোক, যেকোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সরকারের প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের অন্যতম চাওয়া হচ্ছে একটি নিরাপদ পরিবেশ। একজন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী—যেই হোক না কেন, প্রত্যেক মানুষ চায় দিনশেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে এবং পরিবার নিয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে।

তিনি বলেন, জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

 




কেন ইরানের ‘রহস্যময়’ পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দিতে চান ট্রাম্প?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন ও অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রহস্যময় পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্থাপনাটি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

কোথায় অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন?
‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত একটি পাহাড়ি এলাকা, যেখানে পাহাড়ের গভীরে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি ভূগর্ভস্থ টানেল কমপ্লেক্স। স্থাপনাটি শত শত মিটার পুরু কঠিন গ্রানাইট শিলার নিচে অবস্থিত হওয়ায় প্রচলিত বাঙ্কার-ভেদী শক্তিশালী বোমা দিয়েও এটি পুরোপুরি ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হয়।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাহাড়ের গভীরে এই স্থাপনা নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য সম্ভাব্য বিমান হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সুরক্ষা দেওয়া।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহ- ইরান এখানে একটি গোপন, ঘোষণাবহির্ভূত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে, যা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি কৌশলগত বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে তেহরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানের দাবি, ২০২০ সালে শুরু হওয়া নির্মাণকাজের উদ্দেশ্য কেবল উন্নতমানের সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও উৎপাদনের জন্য একটি নিরাপদ শিল্প স্থাপনা তৈরি করা; সেখানে কোনও গোপন পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে না।

ট্রাম্পের হুমকি
মার্কিন রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করব। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ওপর খুব নিবিড় নজর রাখছি। সেখানে এখন কোনও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম দেখছি না। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। যখনই আমরা কিছু শুনি, তখনই সেটি ধ্বংস করে দিই। তাই তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চায় না। খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সেও হামলা হতে পারে।”

তবে ট্রাম্প তার দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ট্রাম্পের এই হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় সামরিক অভিযান চালায়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা তৃতীয় রাতের মতো পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।

সেন্টকমের দাবি, পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে ‘নির্ভুল নির্দেশিত’ অস্ত্র ব্যবহার করে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং নৌ-সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে আবারও অস্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনছে।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

কোথায় কোথায় বিস্ফোরণের খবর?
ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে- কিশ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ, আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও জাম এলাকা।

বার্তা সংস্থা ফার্স স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এসব এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে।

মেহর নিউজ এজেন্সিও কিশ ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, বন্দর আব্বাসে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কিশ দ্বীপে দুটি বিস্ফোরণের কথা জানালেও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি।

মেহরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের ওমিদিয়েহ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

এছাড়া নূর নিউজ জানিয়েছে, সোমবার রাতের হামলার পর কিশ দ্বীপের বন্দরে তিনটি নৌযানে আগুন ধরে যায়।

কূটনীতির পথ কি এখনও খোলা?
সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা ‘অবশ্যই সম্ভব’। তবে একই সময়ে ওয়াশিংটন একদিকে নতুন সামরিক হামলা অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধও পুনর্বহাল করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সামরিক চাপ বাড়ানো এবং অন্যদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘চাপ সৃষ্টি করে সমঝোতায় বাধ্য করার’ কৌশল অনুসরণ করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাই বেশি বলে মনে করছেন তারা। 




বিশ্বকাপ সেমিতে হারের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার ১৬০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ম্যাচ শেষ হতেই প্যারিস, লিওসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের অভিযানে দুই শহর মিলিয়ে অন্তত ১৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভি জানিয়েছে, শুধু রাজধানী প্যারিসেই গ্রেফতার হয়েছেন ১৪১ জন। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্য অনুসারে, অধিকাংশ গ্রেফতারের কারণ ছিল পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়া।

অন্যদিকে লিওর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখতে জড়ো হয়েছিলেন শত শত সমর্থক। খেলা শেষের পরও অনেকে সেখানে অবস্থান নেন। পরে কয়েকটি ছোট দল পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি ছুড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা দমন ইউনিট সিআরএস ৮৩-কে ডাকা হয়। যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সংঘর্ষে কেউ গুরুতর আহত হননি। সরকারি বা বেসরকারি কোনো সম্পত্তির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।




থানা প্রাঙ্গণে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা ৭ মামলার আসামির

ডেস্ক নিউজ : নারায়ণগঞ্জের বন্দরে থানা প্রাঙ্গণে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রমজান আলী (৩৫) নামে এক যুবক। রমজান তালিকাভুক্ত মাদক মামলার আসামি এবং তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় বন্দর থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। রামজান আলী বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানী বাজার এলাকার হাবিবুর রহমান হবির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে এলাকাবাসী তার মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয় এবং তাকে এলাকা থেকে বিতারিত করে। গত তিনদিন আগে সে এলাকায় ফিরে এলে স্থানীয়রা তাকে মাদক বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করে। বুধবার বিকেলে হঠাৎ সে ৫ লিটারের বোতলে কেরোসিন নিয়ে থানায় গিয়ে নিজ শরীরে কেরোসিন ঢেলে ‘ওসি.. ওসি..’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এসময় তাকে বলতে  শোনা যায়, ‘আমি মাদক ব্যবসায়ী। আমি মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাই। তবু এলাকায় আমাকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমি নিজ শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যা করব।’
পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে গোসল করিয়ে থানা হাজতে আটক রাখে।

বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, রমজান আলী একজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। বুধবার হঠাৎ থানা প্রাঙ্গনে এসে সে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমরা তাকে নির্বৃত্ত করি। পরে তাকে আটক করে হাজতে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




ইয়ামাল-মেসির যে ছবি দেড়যুগ পর আলোচনায়

ক্রীড়া ডেস্ক : সময়টা ২০০৭ সালের ডিসেম্বর। বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের এক ড্রেসিংরুমে তখন রচিত হচ্ছিল ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে পরাবাস্তব এক মহাকাব্য। কে জানত, সেদিন এক লাজুক তরুণের কোলে পরম নিশ্চিন্তে খেলা করা পাঁচ মাসের সেই শিশুই একদিন বিশ্বমঞ্চে কাঁপন ধরাবে! হ্যাঁ, নিয়তি যেন নিজের হাতে লিখেছিল এই চিত্রনাট্য। আজ থেকে দীর্ঘ ১৯ বছর আগে, যখন লিওনেল মেসি নামক এক জাদুকর বিশ্বজয়ের পথে কেবল পা বাড়িয়েছেন, ঠিক তখনই তার স্পর্শ পেয়েছিলেন আজকের স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন বিস্ময়; লামিন ইয়ামাল!

এটি কোনো পরিকল্পিত ফটোশুট ছিল না, ছিল স্রেফ ভাগ্যের এক অদ্ভুত খেলা। ইউনিসেফ এবং কাতালুনিয়ার স্থানীয় সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’-এর যৌথ চ্যারিটি লটারিতে বিজয়ী হয় মাতারো অঞ্চলের এক স্বল্প আয়ের পরিবার। আর পুরস্কার? বার্সেলোনার এক উদীয়মান তারকার সাথে ছবি তোলার সুযোগ! সেই লটারির টিকিটই যেন বদলে দিয়েছিল ফুটবলের ইতিহাসকে। মাত্র ২০ বছর বয়সী লাজুক মেসি সেদিন জলভর্তি প্লাস্টিকের টাবে থাকা ছোট্ট ইয়ামালকে কোলে নিতে বারবার দ্বিধায় ভুগছিলেন। শেষে মা শেইলা ইবানার পরম মমতায় অভয় দেওয়ার পর ক্যামেরা বন্দি হয় সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্টও হয়তো ভাবেননি, তার ক্যামেরার শাটার ক্লিকের সাথে সাথে ফ্রেমবন্দি হচ্ছে ফুটবলের দুই প্রজন্মের এক স্বর্গীয় মিলনমেলা।

কিন্তু এই মহামূল্যবান স্মৃতি কেন দীর্ঘ ১৭ বছর আড়ালে পড়ে রইল? উত্তর লুকিয়ে ছিল এক বাবার গভীর ভালোবাসায়। ইয়ামালের বাবা খুব ভালো করেই জানতেন, এই ছবি প্রকাশ পেলে ছোট্ট ইয়ামালের ওপর চেপে বসবে লিওনেল মেসির সাথে তুলনার এক পর্বতসম মানসিক চাপ। তাই বছরের পর বছর ধরে তিনি বুকের গভীরে চেপে রেখেছিলেন এই পরম সত্য। অবশেষে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালীন, যখন ইয়ামাল নিজের পায়ে ইতিহাস লিখছেন, ঠিক তখনই তার বাবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন এই ছবি। মুহূর্তের মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো ফুটবল বিশ্ব! বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর আলোচনা। রসিক ফুটবলপ্রেমীরা তো বলেই বসলেন, মেসি যেন নিজের অজান্তেই তার ফুটবল প্রতিভার সেই ঐশ্বরিক জাদু সেদিন পানি ছিটিয়ে স্পর্শ করিয়ে দিয়েছিলেন ছোট্ট ইয়ামালের গায়ে।

ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে স্পেনের ইউরো জয়ের সেই নায়ক লামিন ইয়ামাল এখন আর কোনো কাকতালীয় নাম নন। ১৭ বছর আগের সেই লাজুক মেসির কোল থেকে উঠে আসা শিশুই আজ বিশ্বফুটবলের ধ্রুবতারা।




এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হার দিয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩২ রানে হেরে গেছে তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল। জয়ের জন্য ১৮ বলে প্রয়োজন ছিলো ৪১ রান। হাতে ৪ উইকেট।

বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটা একটু কঠিন। সেটা আরো ভালোভাবে বোঝা গেল রিচার্ড এনগারাভার বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ইয়াসির আলির আউট হওয়াতে। ব্র্যাড ইভান্স ক্যাচ ধরতেই থেমে যায় তার ৫৪ রানের ইনিংসটি। সঙ্গে বাংলাদেশের জয়ের পথও থেমে যায়।

কেননা ওই ওভারেই আরেক স্বীকৃত ব্যাটার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও আউট হন। পরে ইনিংস দ্রুতই গুটিয়ে যায়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৩৮ রানে অলআউট হয়। এতে করে ৩২ রানের ব্যবধানে সংক্ষিপ্ত সিরিজও হার দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ।

১৭১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে নির্ধারিত ওভারের ছয় বল বাকি থাকতেই সবকয়টি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৮ রান করে সফকারীরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন ইয়াসির আলী। ৩৮ বল খেলে এই রান করেন তিনি। তার এই ইনিংসে দুইটি চার ও তিনটি ছক্কার মার রয়েছে। রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি চারটি করে উইকেট নেন।

বুধবার বুলাওয়েতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি উড়ন্ত সূচনা এনে দেন জিম্বাবুয়েকে। ৯ বলে ১৪ রান করে মারুমানি বিদায় নিলেও বেনেট রানের চাকা সচল রাখেন।

ডিওন মেয়ার্স একপ্রান্ত আগলে রাখতে গিয়ে ২০ বলে ২০ রান করে বিদায় নিলে বোলারদের ওপর চড়াও হন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ১৩ বলে ২০ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরার আগে অবশ্য বেনেটকে বিদায় নিতে হয়। তার আগে ৩০ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন এই ওপেনার।

শেষদিকে ২৫ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন রায়ান বার্ল। ১০ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ব্র্যাড ইভান্স।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে অগ্নিঝরা পারফরম্যান্স করেছেন নাহিদ রানা। মাত্র ৩ রান খরচ করে চারটি উইকেট শিকার করে ফেলেন তিনি। যদিও শেষ ওভারে খরচ করেন ১৮ রান। তবে ৪ ওভারে মোটমাট খরচ করেন মাত্র ২৬ রান।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৩৫ রান খরচ করে জোড়া উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৭০ রান করে জিম্বাবুয়ে।

এর আগে অন্য সংস্করণে শুধু হার দিয়ে শুরু করেনি, জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই সিরিজই খুঁইয়েছে।

বাংলাদেশ:

তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, ইয়াসির আলী চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

জিম্বাবুয়ে:

সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, ব্র্যাড ইভান্স, ক্লাইভ মাডান্ডে, টাডিওয়ানাশে মারুমানি, তাশিঙ্গা মুসেকিয়া, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিওন মেয়ার্স, রিচার্ড এনগারাভা, মিল্টন শুম্বা।




প্রতারণা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিলেন নায়িকা ববি

বিনোদন ডেস্ক : ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইটুই সলিউশনস লিমিটেডের কাছ থেকে ব্যাটারি কিনে মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি।

তার পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। শুনানি শেষে আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গেল ১২ জুলাই ইটুই সলিউশনস লি. এর সিনিয়র ম্যানেজার মেহেদি আলম প্রিন্স গুলশান থানায় ববিসহ চার জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। অপর আসামিরা-বিটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা আবুল বাশার, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আহাদ মিয়া ও অ্যাডমিন সোহেল রানা।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গেল বছরের ১২ নভেম্বর বিকাল ৬টার দিকে আবুল বাশার ইটুই সলিউশনস লি. এর যোগাযোগ করে তার কোম্পানীর জন্য লিথিয়াম আয়রন ব্যাটারী সরবরাহ করার অনুরোধ করেন। সেই মোতাবেক ২০ নভেম্বর গুলশানের বিটিএল অফিসে পাঁচটি ৬৪ ভোল্টের ১৭০ অ্যাম্পিয়ার সরবরাহ করেন মেহেদি আলম প্রিন্স। যার মূল্য ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা। ব্যাটারীর মূল্য পরিশোধের কথা থাকলেও তারা যথাসময়ে টাকা পরিশোধ না করে তালবাহানা করে।

গত ১১ জানুয়ারি সকাল ১১ টার দিকে মেহেদি আলম প্রিন্স তাদের অফিসে গিয়ে পাওনা টাকা চান। তারা কোনো টাকা দিবে না বলে জানিয়ে দেয়। তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়। আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যাটারীর ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা আত্মসাৎ করেন মর্মে মামলায় অভিযোগ করেন ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা।




শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

ডেস্ক নিউজ : অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং নিজের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছানো সম্ভব না হওয়ার পেছনে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন করেন, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা এক বা দুই দিন পেছানোর দাবি জানালেও তা করা হয়নি। তিনি জানতে চান, এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছাতে কী ধরনের সমস্যা ছিল।

তিনি বলেন, সারা দেশে ৬৪টি জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই তখন জানিয়েছিলেন যে আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, পরদিন সকালে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু করা হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময়ও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।




এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নে ত্রুটি, ৪ শিক্ষককে শোকজ

ডেস্ক নিউজ : এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নে ত্রুটি ও অসঙ্গতির ঘটনায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের দায়িত্বে থাকা ৪ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড।

সোমবার সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীনের সই করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

নোটিশ পাওয়া শিক্ষকরা হলেন-শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান ও সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

নোটিশে বলা হয়, ১৩ জুলাই (সোমবার) সকালের পরীক্ষা চলাকালীন পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১ম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নং প্রশ্নে মারাত্মক ত্রুটি ও অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ত্রুটি ও অসঙ্গতি থাকায় পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের চরম মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক ও পরিশোধক হিসেবে প্রশ্নপত্রে এই ধরনের ত্রুটি ও অসঙ্গতি যাওয়া চরম দায়িত্বহীনতা এবং পেশাগত কর্তব্যে অবহেলার শামিল এবং এ ধরনের কাজে সিলেট বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

প্রশ্নপত্র পরিশোধনে এমন গুরুতর ত্রুটি ও অসঙ্গতি থাকার কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এর জবাব পত্র প্রাপ্তির তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।