ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল

ক্রীড়া ডেস্ক : দাপুটে এক জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার ইরেনে কাউন্ট্রি ক্লাব মাঠে ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস সাউথ আফ্রিকা (ইউএসএসএ) দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে টাইগাররা।

এই জয়ে চার ম্যাচে দুই জয় থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল ইউএসএসএ। ডেভিড টীগারের ৫৭ বলে ৭২ এবং লুডউইচ স্কুল্ডের ৫৭ বলে ৫১ রানের ইনিংসে একসময় দলটির সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১২৬ রান। তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ ৯ উইকেট মাত্র ৪০ রানের মধ্যে হারিয়ে ১৬৬ রানে অলআউট হয় ইউএসএসএ।

বাংলাদেশের হয়ে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪টি উইকেট নেন। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও রহনতদৌলা বর্ষণ দুটি করে এবং ইকবাল হোসেন ইমন ও সামিউন বশির রাতুল একটি করে উইকেট শিকার করেন।

১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন (৮) ও হাবিবুর রহমান সোহান (০) দ্রুত ফিরলেও এরপর ইনিংস সামাল দেন শাহাদাত হোসেন দিপু ও ইফতিখার হোসেন ইফতি। ইফতি ১৭ রান করে বিদায় নেওয়ার পর ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন দিপু।

শুক্কুর ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৮ এবং দিপু ৫৬ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস খেললে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।

অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচের সবকটিতে হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে ইউএসএসএ। দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে এবং বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠেছে।




ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্য দোয়া চাইলেন রোজিনা

বিনোদন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তাকে দেখতে তার গুলশানের বাসায় গিয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রোজিনা। সেখানে অভিনেতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খবরাখবর নেন তিনি।

পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে সেই সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করে ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রোজিনা।

ফেসবুকে অভিনেতার সঙ্গে একাধিক ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেতা কাঞ্চন। কয়দিন আগেই লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছে। কাঞ্চনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম তার গুলশানের বাসায়। কাঞ্চন এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি, ইনশাআল্লাহ অতি দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবেন।

অভিনেতার চিকিৎসা-সংক্রান্ত আপডেট জানিয়ে এই অভিনেত্রী আরও লেখেন, লন্ডনের ডাক্তাররা বলেছে এই মাসে ১২ তারিখে আবার লন্ডনে চলে যাবে কাঞ্চন চিকিৎসার জন্য। আপনারা সবাই দোয়া করবেন কাঞ্চনের জন্য, মহান আল্লাহ পাক যেন তাকে তাড়াতাড়ি সুস্থতা দান করেন।

উল্লেখ্য, ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে তার চিকিৎসা চলছে। সে বছরের আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হলেও জটিলতার কারণে টিউমারটি পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। যার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিন ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় শ খানেক কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। দীর্ঘ চিকিৎসায় আশানুরূপ উন্নতি না হলেও কয়েক দিনের জন্য ঢাকায় এসেছেন তিনি। উপলক্ষ দেশের মাটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো।




র‍্যাব বিলুপ্ত করে আনা হচ্ছে নতুন বাহিনী

ডেস্ক নিউজ : দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত ও সমালোচিত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন আইনে বাহিনীর দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন বিধান।

প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো, এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ বা হয়রানির অভিযোগ সরাসরি করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং নিষ্পত্তির জন্য পৃথক একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়ায় র‌্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসআরবির দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

সেখানে অনুমোদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট।

এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। বাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকায় থাকলেও দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এসআরবি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধকে এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে।

আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার করতে পারবেন এসআরবির সদস্যরা।

মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে ইউনিটটির।

তদন্তের ক্ষেত্রে অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। এ জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। নতুন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত এবং বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই কমিটি কাজ করবে।

কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, পদায়ন, পদোন্নতি বা বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়ও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে।

খসড়া আইনে এসআরবির সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা করা এবং জুয়া বা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করার সুযোগ থাকবে।

খসড়া অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।

নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যবিধিও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।

খসড়া আইনের বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও তদন্তের মতো মৌলিক ক্ষমতার বড় অংশই নতুন বাহিনীর জন্য বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি এবং সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট শৃঙ্খলাবিধি যুক্ত করা হয়েছে।




মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্ল্যাকআউটের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালালে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিদ্যুৎহীন বা ‘ব্ল্যাকআউট’-এর কবলে ফেলবে। একইসঙ্গে তারা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি সুনির্দিষ্ট তালিকাও তুলে ধরেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে গত সপ্তাহে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের অনুরোধ এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশার কথা উল্লেখ করে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা এএফপি-কে বলেন, ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালান, তবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা ‘ব্ল্যাকআউট’ করার হুমকি দিয়েছে। অঞ্চলের আরেক কর্মকর্তা এই বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে উভয় কর্মকর্তাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

ট্রাম্প বলেছিলেন, পরিকল্পিত হামলাটি হতো ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’। মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিনি জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার কথা বিবেচনা করছিলেন। তিনি এরও আগে এমসন হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

কর্মকর্তারা জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান বার্তা দিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনো হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের একই ধরনের স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। উপসাগরীয় ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান আগেও প্রকাশ্যে এমন হুমকি দিয়েছে। তবে এবারের হুমকিটি ছিল ‘অত্যন্ত গুরুতর’। কারণ এবার হামলা চালানোর মতো লক্ষ্যবস্তুর একটি দীর্ঘ তালিকা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর প্রতিটি হামলার জবাবে ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। এর জবাবে তেহরান ‘চোখের বদলে চোখ’ বা কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

উপসাগরীয় কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানের বার্তায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডেসালিনেশন) কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানার কথা বলা হয়েছিল; অথচ মরুভূমিপ্রধান এই অঞ্চলটি পানীয় জলের জন্য মূলত এসব কেন্দ্রের ওপরই নির্ভর করে।

ট্রাম্প হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করার পর সৌদি আরব ঘোষণা করেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সময় ইরানের হামলার মূল ধকল উপসাগরীয় অঞ্চলকেই সইতে হয়েছে; এসব হামলায় মার্কিন স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি কেন্দ্র, বন্দর ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে যথাক্রমে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পরেও বিক্ষিপ্ত হামলা অব্যাহত ছিল। তবে জুলাই মাসে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর গোলাগুলির ঘটনা ও তীব্রতা বেড়ে যায় এবং মূলত কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে থাকে।




যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও গাজায় দৈনিক এক শিশুর প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে  জাতিসংঘ শিশু তহবিল(ইউনিসেফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর থেকে গত ৩০০ দিনে গাজায় অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানিয়েছে, একই সময়ে শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের জন্য ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশু প্রাণ হারায়, তা শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। গাজার শিশুরা এখনও সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় আছে, যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল।

সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিবারগুলো এখন অবরুদ্ধ এই অঞ্চলের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনার স্তূপের মাঝে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। শিশুরা তীব্র অপুষ্টি, রোগব্যাধি, অনিরাপদ পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকটের মুখে রয়েছে। পাশাপাশি ইনকিউবেটরের অভাবে অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়া একাধিক নবজাতককে একই মেশিন ভাগ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধে ৭৩,৩০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ৫৮,০০০-এরও বেশি শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজনকে বা উভয়কেই হারিয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি শিশুর সুরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। সংস্থাটি এর আগে অনুমান করেছিল, প্রায় ১৭,০০০ শিশু অভিভাবকহীন বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বড় শিশু সুরক্ষা সংকট। অনেক পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুতি, আয়-রোজগার হারানো এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষার সীমিত সুযোগের মধ্যে জীবনযাপন করছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ আগস্ট পশ্চিম গাজা সিটিতে চালানো এক হামলায় এক গর্ভবতী নারী, তার স্বামী ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে নিহত হন; হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই নারীর গর্ভস্থ অনাগত সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

শারীরিক ঝুঁকির পাশাপাশি ত্রাণকর্মীরা এমন এক প্রজন্মের কথা তুলে ধরেছেন যাদের শৈশব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের তৃতীয় গ্রীষ্মকাল চলছে; অথচ খেলাধুলার বদলে অনেক শিশুকেই পানি সংগ্রহ, খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়ানো এবং জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের কাজে দিন কাটাতে হচ্ছে। ইউনিসেফ ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার মতে, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরগুলোতে গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প, ছবি আঁকার সরঞ্জাম, এমনকি কাগজ ও কলমেরও তীব্র সংকট রয়েছে।

মে মাসে ইউনিসেফের এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, গাজায় ছোট শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ ও উদ্দীপক পরিবেশের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি, স্কুল-বয়সী শিশুরা দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনায় ব্যাঘাতের শিকার হচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট সহায়তা ছাড়া এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

ইউনিসেফের ফিলিস্তিন বিষয়ক যোগাযোগ প্রধান জোনাথন ক্রিক্স চলতি বছরের শুরুর দিকে বলেছিলেন, যুদ্ধ শিশুদের কাছ থেকে যা কেড়ে নিয়েছে, খেলাধুলার মাধ্যমেই তারা তা ফিরে পায়। ​​তিনি খেলাধুলাকে বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন।

সংঘাত অবসানের পদক্ষেপ এবং ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে সাম্প্রতিক ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন বেইগবেডার। তিনি বলেন, গাজার শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই সহজ। হত্যাযজ্ঞ কি থামবে? তাদের কাছে কি পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাবে? হাসপাতালগুলো কি আবার চালু হবে এবং পানি সরবরাহ কি স্বাভাবিক হবে?

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউনিসেফ চলতি সপ্তাহে ৬০০ প্যালেটেরও বেশি স্কুল-সামগ্রী ও সাবান সরবরাহ করেছে।




টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, লাইনম্যানকে বেধড়ক পিটুনি

ডেস্ক নিউজ : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ অফিসে ঢুকে আব্দুল লতিফ (৩৩) নামে এক লাইনম্যানকে বেধড়ক পিটুনির খবর পাওয়া গেছে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাব-স্টেশন অফিসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

জামুর্কি বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, বৃহস্পতিবার লাইনম্যান আব্দুল লতিফ অফিসে কাজ করছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে অফিসে ঢুকে হামলা চালায়। একপর্যায়ে লাইনম্যান আব্দুল লতিফের ওপর হামলা চালায় তারা। এতে তিনি আহত হন।

এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী মির্জাপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত আব্দুল লতিফকে উদ্ধার করে প্রথমে জামুর্কি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের অধীনে সব সাব-অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে।

এদিকে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মির্জাপুরে গত কয়েক মাস ধরে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। দিন রাত মিলে ৭-৮ ঘন্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। মিলকারখানায় উৎপাদন ঠেকেছে তলানিতে। লোডশেডিং কমানোর দাবিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন গ্রাহকরা। তবে লোডশেডিংয়ের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে কি-না কিংবা এই হামলার ঘটনায় কারা তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মির্জাপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, বিক্ষুব্ধ লোকজন লাঠিসোঁঠা নিয়ে অফিসে ও কর্মীর উপর হামলা চালিয়েছে। আহত কর্মী আব্দুল লতিফকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান এই কর্মকর্তা।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা এবং কর্মী মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। মামালর জেরে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




কবে ফিরছেন শরিফুল জানাল বিসিবি

ক্রীড়া ডেস্ক : চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে খেলতে পারছেন না শরিফুল ইসলাম। তবে বাংলাদেশ দলের জন্য সুখবর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত উন্নতি করছেন বাঁহাতি এই পেসার। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডে জায়গা পেতে পারেন তিনি।

জিম্বাবুয়ে সফরে হ্যামস্ট্রিংয়ের গ্রেড-১ চোটে আক্রান্ত হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল শরিফুলকে। বিশ্রাম শেষে গত ২৯ জুলাই থেকে মিরপুরে বোলিং অনুশীলন শুরু করেন তিনি। ধাপে ধাপে তার বোলিংয়ের চাপ বা ওয়ার্কলোড বাড়ানো হচ্ছে।

বিসিবির ফিজিও মুজাদ্দেদ আলফা সানি জানিয়েছেন, ফিটনেস পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ও এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচের জন্য যে পরিমাণ বোলিং ওয়ার্কলোড দরকার, সেটি পূরণ না হলে তাকে ছাড়তে পারছি না। ফিটনেস কোনো সমস্যা নয়, মূল বিষয় হলো ওয়ার্কলোড। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১০ আগস্টই তার ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। না হলে ১১ বা ১২ আগস্ট নেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, শরিফুল এখন শতভাগ তীব্রতায় বোলিং করতে পারছেন। বোলিংয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সে ভালো বোলিং করছে এবং ইনটেনসিটিও শতভাগ।

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট। আর সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেই ম্যাচেই জাতীয় দলে ফিরতে পারেন ২৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসার।




দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে পুলিশের অভিযান

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলের কোচ নিয়োগের বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে সিউল পুলিশ।

পুলিশ কেএফএর কার্যালয়ে তল্লাশির পর বেশ কিছু নথি জব্দ করেছে। সাবেক কোচ হং মিয়ং-বোর নিয়োগ কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন পুলিশের এক মুখপাত্র।

৫৭ বছর বয়সী হং গত জুনে পদত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় দক্ষিণ কোরিয়া।

২০২৪ সালে হংকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তবে দলটি শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর সেই সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

সিউল পুলিশ জানিয়েছে, আর্থিক অপরাধ তদন্তকারীরা হং মিয়ং-বোকে নিয়োগের সময় কাজে বাধা দেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কেএফএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ নিয়ম লঙ্ঘন করে হংকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনুচিতভাবে হস্তক্ষেপ করেছিলেন কি না, তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ২০২৬ বিশ্বকাপের দলটিকে “সোনালি প্রজন্ম” হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। সাবেক টটেনহ্যাম হটস্পার তারকা সন হিউং-মিন, বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার কিম মিন-জে এবং সাবেক প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই মিডফিল্ডার লি কাং-ইনকে নিয়ে গড়া দলটির কাছ থেকে ছিল অনেক প্রত্যাশা।

জুলাইয়ের শেষ দিকে আইনপ্রণেতাদের একটি কমিটির সামনে হাজির করা হয় হংকে। সেখানে তিনি দলের বাজে পারফরম্যান্সের পুরো দায় নিজের কাঁধে নেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক বিবৃতিতে দলের ব্যর্থতার জন্য নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়ী করেন। তার বক্তব্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে আনুগত্য ও গোষ্ঠীবাদ প্রভাব ফেলছে বলেও ইঙ্গিত ছিল।

এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কেএফএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রথমার্ধে সনকে বেঞ্চে রাখার হংয়ের সিদ্ধান্ত অনেক সমর্থককে হতবাক ও ক্ষুব্ধ করেছিল।

জুনে বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে হংকে সমর্থকদের “হং আউট!” স্লোগান ও দুয়োধ্বনি শুনতে হয়। তার পেছনে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসা খেলোয়াড়দের অবশ্য সমর্থকরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। কী ভুল হয়েছিল, তা বুঝতে নিজেরও সমস্যা হচ্ছে বলে স্বীকার করেছিলেন হং।

গত মাসের সংসদীয় শুনানিতে আইনপ্রণেতারা আরও অভিযোগ তোলেন যে হংয়ের বেতন ছিল ৩৮০ কোটি ওন (২৬ লাখ মার্কিন ডলার)। জাতীয় দলের কোচদের ক্ষেত্রে যা তুলনামূলকভাবে উচ্চপর্যায়ের বেতন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তখন হং দাবি করেছিলেন, এই অঙ্কটি সঠিক নয়। তবে প্রকৃত বেতনের পরিমাণ প্রকাশ করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।




‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’ খ্যাত গায়ক স্বাগত দে মারা গেছেন

বিনোদন ডেস্ক : ওপার বাংলার লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী স্বাগত দে আর নেই। সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এই সংগীতশিল্পী ‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’ এবং ‘সোনা বন্ধু রে’র মতো অসামান্য সব জনপ্রিয় লোকগানের মাধ্যমে বাংলা গানের জগতে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

পরিবার জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) তিনি সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই গুণী শিল্পী।

স্বাগত দে জাদুকরী ও প্রাণবন্ত কণ্ঠে বাংলা লোকসংগীত নতুন প্রজন্মের কাছেও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। বিশেষ করে সুরেলা কণ্ঠ ও আবেগঘন পরিবেশনার মাধ্যমে শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সদ্য প্রয়াত এই শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওপার বাংলার গায়িকা জোজো লিখেছেন, ‘তারাদের দেশে ভালো থেকো স্বাগতদা। ওম শান্তি।’

অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী স্মৃতিচারণ করে লেখেন, খবরটা শুনে ছোটবেলার অনেক স্মৃতি ফিরে এলো। বিশ্বাসই করতে পারছি না, স্বাগতদা আর নেই।

আরেক লোকসংগীতশিল্পী দেব চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, স্বাগত আমাদের সমসাময়িক ছিল। খবরটা মেনে নিতে পারছি না। বাংলা লোকগানের জন্য এটি বড় ক্ষতি।




সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশা কারাগারে

ডেস্ক নিউজ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা, পেপার স্প্রে করার মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

জগলুল পাশাকে বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী রবিবার দিন ধার্য করেন আদালত।

গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন এ কথা জানান।

এর আগে, মঙ্গলবার দিকাগত রাতে জগলুল পাশাকে  রাজধানীর তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামিসহ অজ্ঞাত ২৫০/৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্র-সস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে সারা দিন অবস্থান করে। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করে। আসামিরা রাস্তার উপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করে রাস্তা বন্ধ করে। খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগ না দিতে পারেন সে জন্য রাস্তার উপর ত্রাস সৃষ্টি করে। কর্মসূচি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেয়। বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক রাস্তায় রেখে ব্যারিকেড দেয়। খালেদা জিয়া বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩৪১/৩৪২/৩৪৩/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৯৭৪ এর ১৫(১)বি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।