মুক্তিপণ দাবির পর পুকুরে মিলল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মরদেহ

ডেস্ক নিউজ : টাঙ্গাইলের সখিপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর সেঁজুতি নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবার দাবি করেছে, তাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সখিপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুর থেকে সেঁজুতির (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফালু চন্দ্র মালু ও শোভা চন্দ্র দম্পতির মেয়ে এবং স্থানীয় আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার পর থেকে সেঁজুতি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে শনিবার রাতেই সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, গতকাল রোববার রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের কাছে ফোন ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে সেঁজুতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই উপজেলা পরিষদের পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।

শিশুটির রহস্যজনক মৃত্যু এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সখিপুরজুড়ে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন পুকুরে একটি শিশুর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মেয়ের মৃত্যুতে শোকাহত বাবা ফালু চন্দ্র মালু বলেন, ‘আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

মা শোভা চন্দ্র কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সন্তানের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হোক। আমার ছোট্ট মেয়েটিকে কে বা কারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’

এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. আহমেদ আযম খান নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সখিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




কাতারে ভারত ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ১৩ জন নিহত, বাংলাদেশিসহ আহত ৬৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে জানান দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সাদ বিন শ্রেদা আল-কাবি।

সোমবার  (২২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে আল-কাবি, যিনি একই সঙ্গে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহীও, জানান যে রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় রাস লাফান শিল্পনগরীর বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে পরিচালন কার্যক্রম শুরু করার সময় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় ৬৬ জন আহতও হয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে ভারত, কাতার, তানজানিয়া, পাকিস্তান, গিনি, নেপাল, বাংলাদেশ, কেনিয়া ও নাইজেরিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

আল-কাবি জানান, নিহত ১৩ জন ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হলেও, এর মধ্যে ঠিক কতজন কোন দেশের নাগরিক, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে, দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস বলেছে, ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।’ 

 

নিহত ও আহতদের পরিবারের সহায়তার জন্য দূতাবাস দুটি হেল্পলাইন নম্বর (+974-55647502, +974-55384683) এবং ই-মেইল (cons.doha@mea.gov.in) চালু করেছে।

এর আগে ভারতীয় দূতাবাস ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে জানায়, এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এই কঠিন সময়ে কাতার সরকারের পাশাপাশি দেশটির জনগণের প্রতি ভারতীয় দূতাবাস ও কাতারে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায় পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। আমরা আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং নিখোঁজদের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছি।’

কাতারএনার্জি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি পরিষেবার দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।



মেসির ম্যাজিকে অষ্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক : মেসির ম্যাজিকে অষ্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে অসাধারণ এক গোল করলেন মেসি। আর্জেন্টিনাও এগিয়ে গেলের ২-০ ব্যবধানে। এবার বিশ্বকাপে ২ ম্যাচে ৫ গোল দিলেন মেসি। এখন পর্যন্ত মেসিই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

পেনাল্টি মিসের পর অসাধারণ এক গোল করলেন আর্জেন্টিনার নির্ভরযোগ্য খেলোয়ার লিওনেল মেসি।৩৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার ক্রসে ডামি করেন থিয়াগো আলমাদা। এরপর মেসির বাঁ পায়ের শট চলে যায় অস্ট্রিয়ার জালে। এই গোলে প্রথমার্ধেই ১-০ তে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে এককভাবে সিংহাসনে বসলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপে মেসির এখন ২৮ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১৭টি।

এদিকে লিওনেল মেসি এবার এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়লেন। বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড মেসির দখলে। সোমবার আর্জেন্টিনা গ্রুপ জে-তে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি একটি পেনাল্টি মিস করেন। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় পেনাল্টি মিস। শুটআউটের পেনাল্টি এই হিসাবের মধ্যে নেই।

১৯৬৬ সাল থেকে ফিফা বিশ্বকাপে পেনাল্টির রেকর্ড রাখা শুরু হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় বিশ্বকাপে তিনটি পেনাল্টি মিস করেননি। মেসিই প্রথম। এর আগে ঘানার সাবেক স্ট্রাইকার আসামোয়া গিয়ান বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন। সেটিই ছিল সর্বোচ্চ। এখন মেসি সেই রেকর্ড ভেঙে এগিয়ে গেছেন।

মেসির বয়স এখন ৩৮ বছর। এই ম্যাচে তিনি আরেকটি ইতিহাস গড়তে নেমেছিলেন। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য তার মাত্র একটি গোল দরকার ছিল। কিন্তু পেনাল্টি শটটি পোস্টের বাইরে চলে যায়। ফলে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের সমান ১৬ গোলেই আটকে আছেন।




আপত্তিকর কনটেন্টে ক্ষুব্ধ জাহিদ হাসান, নিচ্ছেন আইনি ব্যবস্থা

বিনোদন ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমে নিজের বক্তব্য বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ইতিমধ্যে আইনজীবী ও ডিজিটাল টিমকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির নির্দেশও দিয়েছেন।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন ও সংগ্রামের প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান বলেছিলেন, ‘আমি কষ্টে মরে যাচ্ছি, তবু মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করি।’ তবে সেই বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে কয়েকটি ফেসবুক পেজ ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিওর সঙ্গে এটি জুড়ে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর শিরোনামে প্রচার করে।

বিশেষ করে প্রয়াত অভিনেতা শামস সুমনের জানাজার একটি ভিডিওর সঙ্গে ওই বক্তব্য যুক্ত করে প্রকাশিত কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিনেতা।

জাহিদ হাসান বলেন, ‘যা দেখছি, সভ্যতা-ভব্যতার সব সীমা অতিক্রম করছে এসব ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ। দিন দিন এদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। এভাবে তো চলতে পারে না।’

তিনি জানান, তার আইনজীবী ও ডিজিটাল টিম ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজগুলোর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।কারা পরিকল্পিতভাবে এসব বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দিচ্ছে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য জোগাড় করা হয়েছে। শিগগিরই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানান জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এরপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে ছাড় দেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

শুধু আইনগত পদক্ষেপই নয়, এ ঘটনায় সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছেন এই অভিনেতা।




আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচের যে ভবিষ্যদ্বাণী করল এআই

ক্রীড়া ডেস্ক : ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়ায় জয়েরআত্মবিশ্বাস বেড়েছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। সোমবার রাত ১১টায় অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা।

ছন্দে থাকা প্রিয় দলকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যেও উন্মাদনা বাড়ছে প্রতি ঘণ্টায়। অস্ট্রিয়া ম্যাচে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স কেমন হবে, ফলাফল কী হবে- সেসব নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কৌতূহল বিরাজ করছে।

প্রতিটি বিশ্বকাপ ম্যাচের আগেই বেশকিছু ভবিষ্যদ্বাণী সামনে আসে। অনেক ক্ষেত্রে সেসব ভবিষ্যদ্বাণী মিলেও যায়। যেমন আর্জেন্টিনা-আলজেরজ্যামর গত ম্যাচে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এআইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছিল। ঐ ম্যাচে আর্জেন্টিনার ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পূর্বাভাস সঠিকভাবে দেওয়ার পর এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে এআই। এআইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হারাবে অস্ট্রিয়াকে।

মূলত দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিচারে এই ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকে এআই। সেই বিশ্লেষণে একটা বিষয় পরিষ্কার, আলজেরিয়া ম্যাচের মতো সহজ জয় পেতে যাচ্ছে না আর্জেন্টিনা। কিন্তু অস্ট্রিয়ার দুর্বলতাও আমলে নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারালেও রক্ষণে কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে দলটির। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে শক্তির দিক দিয়েও কিছুটা পিছিয়ে তারা।

অবশ্য অস্ট্রিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডেভিড আলাবার অভিজ্ঞতা, রোমানো স্মিডের সৃজনশীলতা এবং রালফ র‍্যাংনিকের কৌশলগত পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই ম্যাচে আর্জেন্টিনার আধিপত্য থাকলেও অস্ট্রিয়ার গোল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে পূর্বাভাস সত্যি হলে শেষ পর্যন্ত জিতবে মেসিরাই।

এদিকে, এই ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে অপ্টা সুপার কম্পিউটারও। এই কম্পিউটারের মতে, আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৬১.১ শতাংশ; পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ আর অস্ট্রিয়ার অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনা আছে ১৭.০ শতাংশ।

যদি এই ম্যাচে অস্ট্রিয়া আর্জেন্টিনাকে হারায় এবং জর্ডান আলজেরিয়ার বিপক্ষে জিততে না পারে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে যাবে আর্জেন্টিনা।




প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ : দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক, প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা এবং উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

সফরকে ঘিরে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের শ্রমবাজারকেন্দ্রিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো নতুন ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে শনিবার পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর)-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়েও আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
তিনি জানান, দুই দেশের সরকারপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টরসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পাবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনার বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার মালয়েশিয়া। দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার এবং একই সঙ্গে জ্বালানি, পাম অয়েল, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়লেও দুই দেশের বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগোলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বাসসকে বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনা পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জনশক্তি খাত ছাড়া বর্তমানে বড় কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজারই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা ও হালাল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আনোয়ার শহীদের ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হলেও বাংলাদেশের রপ্তানির অংশ তুলনামূলক কম। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং অন্যান্য মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

মালয়েশিয়াপ্রবাসী ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সাবেক পরিচালক মাহবুব আলম শাহ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে। তার মতে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং হালাল শিল্পে আগ্রহ রয়েছে। সফরের পর সরকারি পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সেই আগ্রহ বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নিতে পারে।

তিনি একটি সরকারি সংবাদসংস্থাকে জানান, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই শুধু শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে প্রশিক্ষিত কর্মী, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন রেমিট্যান্স আয় বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে।

মাহবুব আলম শাহ বলেন, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর এটি উপযুক্ত সময়।

মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। এ খাতে প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদায়নে সহযোগিতা জোরদার করা গেলে বাংলাদেশের খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। যৌথ গবেষণা, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা গেলে তা উভয় দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সফর-পরবর্তী বাস্তবায়নের ওপর। এফটিএ-সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, বিনিয়োগ সহজীকরণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্ব বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এবারের সফরকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা।




ট্রাম্প বললেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার পদত্যাগ করবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়ে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন—অভিবাসন এবং জ্বালানি (উত্তর সাগরের তেল উন্মুক্তকরণ!)। আমি তার মঙ্গল কামনা করি!

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর রোববার স্টারমার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন—এমন খবর প্রকাশিত হয়। এরপরই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। বার্নহ্যামের এই জয় ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অনেক মন্ত্রী ও এমপিদের মধ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই সময়েই স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো।




কাতারে অবরুদ্ধ ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পেতে যাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাতারে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ শিগগিরই তেহরানের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (২১ জুন) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেই কাতারে আটকে থাকা অর্থ মুক্ত করা হবে এবং তা ইরানে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে সম্ভাব্য সমঝোতার মধ্যেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে ইরান কোনোভাবেই সরে আসবে না এবং আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোকে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।

পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লক্ষ্য কখনোই অস্ত্র তৈরি করা নয়। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বা উৎপাদনের কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই এবং এ অবস্থান বহু বছর ধরে দেশটির নীতির অংশ হিসেবে বহাল রয়েছে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেডি ভ্যান্স। অপরদিকে ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং আব্বাস আরাগচি।

আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন বিরোধ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যার আতঙ্কে হাজারো মানুষ

ডেস্ক নিউজ : উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রধান নদী ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এখনও সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চরসোনাইকাজী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ধরলা নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ধরলা নদীর তালুক শিমুলবাড়ী (ফুলবাড়ী ধরলা সেতু) পয়েন্টে পানির উচ্চতা সামান্য কমেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদ-নদী পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ এলাকায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রোববার সকাল ৬টায় তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৭৮ মিটার, যা সকাল ৯টায় কমে ২৯ দশমিক ৭৫ মিটারে নেমে আসে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার।

বিকেল ৩টায় শিমুলবাড়ী পয়েন্ট পানি সমতল ২৯ দশমিক ৬৮ মিটার, (বিপদসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার) যা বিপদসীমার ১১৯ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কখনও বাড়ছে আবার কখনও কমছে। তবে গতকালের চেয়ে রোববার বারোমাসিয়া নদীর পানি কমে যাওয়ায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পাট ও ভুট্টা ক্ষেতের পানি নেমে যাচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।

ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ধরলা নদীর তীরবর্তী চরসোনাইকাজী এলাকার বাসিন্দা জহুরুল হক ও ওবায়দুল হক জানান, গত চার দিন ধরে নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আমন ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই এলাকার কৃষক জরিতুল্লা আলী বলেন, ধরলার পানি বৃদ্ধির কারণে আমার আমনের বীজতলা ও পাটক্ষেত ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে আমন চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া পানি আরও বাড়লে বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে বর্তমানে সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।




বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক ফুটবলের ঐতিহ্যকে নষ্ট করছে

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপে ফিফার চালু করা ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতির কড়া সমালোচনা করেছেন উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। তাঁর মতে, এই নিয়ম ফুটবলে নতুন কিছু যোগ করছে না; বরং খেলাটির ঐতিহ্যগত কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার গরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে চলমান বিশ্বকাপে প্রতি অর্ধে একবার করে হাইড্রেশন ব্রেকের ব্যবস্থা করেছে ফিফা। এই বিরতির সময় খেলোয়াড়রা পানি পান করার পাশাপাশি কোচিং স্টাফের কাছ থেকে কৌশলগত নির্দেশনাও নিতে পারছেন।

তবে নতুন এই নিয়ম নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সমালোচকদের দাবি, দুই অর্ধের ৯০ মিনিটের ম্যাচ কার্যত চার ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা খেলার স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি এই বিরতি সম্প্রচারকারী টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সুযোগ করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ভার্জিল ফন ডাইকও হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নেদারল্যান্ডস অধিনায়কের মতে, এটি মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য পূরণের একটি উপায়।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিয়েলসা বলেন, ‘ফুটবল দীর্ঘদিন ধরে দুই অর্ধের খেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সেটিকে চার ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। এতে নতুন কিছু যোগ হচ্ছে না, বরং খেলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ ফুটবলের প্রেমে পড়েছিল এর স্বতন্ত্র চরিত্রের কারণে। কিন্তু এখন সেই বৈশিষ্ট্য বদলে দেওয়া হচ্ছে। ভিএআরের মতো প্রযুক্তি খেলাকে আরও নিখুঁত করতে সাহায্য করেছে, তবে এই বিরতির পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে হয়।’

বিয়েলসা দাবি করেন, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত মত নয়; ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যেই একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।