এবারের বিশ্বকাপে গোলের নতুন মাইলফলক

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফুটবল এখন কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ২০২৬ সালের আসরে প্রতি ম্যাচে গড়ে যত গোল হয়েছে, তা ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর যেকোনো বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি। আর এ কারণেই এবারের আসরটি দর্শকদের জন্য এতটা উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।

এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৯৬টি ম্যাচে মোট ২৮০টি গোল হয়েছে, অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৯২টি গোল। ১৯৭০ সালের পর অনুষ্ঠিত প্রতিটি বিশ্বকাপের গড় গোলসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে এবারের টুর্নামেন্ট।

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে অবশ্য ম্যাচ ছিল মাত্র ৩২টি, কিন্তু সেখানে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৯৭টি গোল হয়েছিল। গত ৫৬ বছরে সেই গড় আর কোনো বিশ্বকাপে অতিক্রম করা যায়নি। এছাড়া ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৭৮টি গোল হয়েছিল, যা এবারের আসরও ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলের দিক থেকে এখনও সেরা আসর ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে মাত্র ২৬টি ম্যাচে ১৪০টি গোল হয়েছিল, অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে ৫.৩৮টি গোল। এমন রেকর্ড ভবিষ্যতে ভাঙা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হয়।

অন্যদিকে প্রতি ম্যাচে সবচেয়ে কম গোলের বিশ্বকাপ ছিল ইতালিয়া ’৯০। সেই আসরে গড়ে মাত্র ২.২১টি গোল হয়েছিল। সর্বশেষ তিনটি ৬৪ ম্যাচের বিশ্বকাপে গোলের গড় ছিল বেশ কাছাকাছি- ২০১৪ সালে ২.৬৭, ২০১৮ সালে ২.৬৪ এবং ২০২২ সালে ২.৬৯।

বিশ্বকাপে দলসংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা এবং তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর অংশগ্রহণও হয়তো গোলের সংখ্যা বাড়ার একটি কারণ। তবে আগের আসরগুলোর তুলনায় এবারের এই বৃদ্ধি সত্যিই উল্লেখযোগ্য।

এবারের বিশ্বকাপ আরেকটি বড় মাইলফলকও স্পর্শ করা করেছে। মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজের নাটকীয় জয়সূচক গোলটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৩০০০তম গোল।

এদিকে, লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার নিজের রেকর্ড আরও বাড়িয়ে ২১ গোলে নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করার রেকর্ডও এখন মেসির দখলে।

তাঁর ঠিক পেছনেই রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেই তিনি মেসির রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারেন। বর্তমানে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১৯।

এমবাপ্পে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করেছেন। নকআউট ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১১, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে গতিময় শট থেকে গোল করেছেন সেনেগালের পেপে গুয়ে। ইরাকের বিপক্ষে তাঁর শটের গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৩১.৯ কিলোমিটার।

আর সবচেয়ে দূর থেকে গোল করেছেন বেলজিয়ামের হান্স ভানাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তাঁর গোলটি এসেছিল ৩২.৪৫ মিটার দূর থেকে।




টানা দুই হারে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হলো বাংলাদেশকে। হারারেতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাঝপথে লড়াইয়ের আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি টাইগাররা। ফলে ম্যাচ হেরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও খুইয়েছে বাংলাদেশ।
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই সতর্ক ছিল বাংলাদেশের দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান। প্রথম তিন ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ওঠে ১৩ রান, তখনও কোনো উইকেট হারায়নি টাইগাররা। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সৌম্য। ব্লেসিং মুজারাবানির অতিরিক্ত বাউন্স পাওয়া বলে ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ১৩ রানেই প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।
সৌম্যর বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন তানজিদ। কিন্তু সেই জুটিও বড় হয়নি। নিজের প্রথম ওভারেই বল হাতে এসে সাফল্য পান ক্রেইগ আরভিন। ১৬ বলে ৯ রান করা শান্ত ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ৯ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৮/২।
এরপর তাওহিদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তানজিদ। ধীরে ধীরে চাপে থাকা দলকে ম্যাচে ফেরান এই দুই ব্যাটার। পঞ্চাশ পেরোনোর পর তাদের জুটিতে বাড়তে থাকে জয়ের আশা। তানজিদ ফিফটি পূর্ণ করেন, আর হৃদয়ও খেলছিলেন আত্মবিশ্বাসী ইনিংস। দুজন মিলে ১০৭ বলে ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের লড়াইকে নতুন মাত্রা দেন।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ব্রায়ান বেনেটের হাত ধরে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মাত্র তৃতীয়বার বল করতে এসে প্রথম উইকেটের স্বাদ পান তিনি। তার বলেই বোল্ড হন সেট ব্যাটার তানজিদ। ২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১২৩/৩, তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ১২৫ রান।
তানজিদের বিদায়ের পরও আশা জিইয়ে রেখেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। দারুণ এক ফিফটি তুলে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। ফিফটির পর ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়। তখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৮০ বলে ৭৭ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট।
এরপর দ্রুতই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক হোসেন ৯ বলে ৭ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হলে পঞ্চম উইকেট হারায় সফরকারীরা। সেই সময় ৭৪ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭২ রান। শেষ ভরসা হয়ে ছিলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও নুরুল হাসান।
কিন্তু ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে চাপ। একে একে উইকেট হারিয়ে পথ হারায় বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেনও আউট হয়ে গেলে জয়ের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তখন ২৭ বলে প্রয়োজন ছিল ২৯ রান, কিন্তু হাতে ছিল মাত্র তিন উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন বেন কারান। ১৩৫ বলে অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংসে স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তিনি। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ৩৮ বলে ৫৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের শেষ ওভারে ২২ রান তুলে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৪৭-এ পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিল জিম্বাবুয়ে।



ঢাকায় গাইবেন আতিফ আসলাম, সঙ্গে ‘মেঘদল’ ও ‘লেভেল ফাইভ’

বিনোদন ডেস্ক : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও ঢাকা মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। ‘মেইন স্টেজ ফিচারিং আতিফ আসলাম’ শিরোনামের এই কনসার্ট আগামী ২৪ জুলাই রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) আতিফ আসলাম নিজেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে খবরটি নিশ্চিত করেছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা – জুলাই ২৪, ২০২৬’। একই সঙ্গে কনসার্টের টিকিট সংগ্রহের লিংকও শেয়ার করেন তিনি।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ’ জানিয়েছে, কনসার্টের সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থিত ‘ক্রিকেটারস একাডেমি’তে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন। আতিফ আসলামের পাশাপাশি মঞ্চে পারফর্ম করবে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মেঘদল’ ও ‘লেভেল ফাইভ’।

কনসার্টের টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। দর্শকরা তিনটি ক্যাটাগরিতে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলের গেট দুপুর ২টায় খুলে দেওয়া হবে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করা হবে। মূল কনসার্ট শুরু হবে বিকেল ৫টায়, যা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেইন স্টেজের প্রতিনিধি কাজী রাফসান বলেন, ‘এটি চলতি বছরের সবচেয়ে বড় সংগীত আয়োজনগুলোর একটি। পুরো টিম, শিল্পী এবং দর্শকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের বিশ্বাস, এটি শুধু একটি কনসার্ট নয়, বরং সংগীতপ্রেমীদের আবেগ, প্রত্যাশা ও ভালোবাসার এক মিলনমেলায় পরিণত হবে।’

এদিকে ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। তাদের শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Clam’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেয়া হবে।

যারা টিকিট ফেরত দিয়ে রিফান্ডের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে mainstage.show-এর মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করে বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, এই কনসার্টটি মূলত গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। টিকিট বিক্রিসহ প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ হলেও জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়। তখন আয়োজকরা জানিয়েছিলেন, কনসার্টটি বাতিল নয়; উপযুক্ত সময়ে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন।




রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সরকার : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের তারকা চিহ্নিত সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মো. সেলিম রেজার প্রশ্নটি ছিল, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা? থাকলে সেটা কী এবং কবে নাগাদ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে?

এ প্রশ্নের জন্য মো. সেলিম রেজাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত আমাদের এই সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বিগত দিনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতঃপূর্বে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সেই সময়ে উদ্ভূত রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করেছিলেন। তাদের সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় সেই সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দ্রুততম সময়ে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পেরেছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়েও পূর্বের সেই নীতির আলোকেই আমরা টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছি। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সব ফ্রন্টেই অত্যন্ত জোরাল কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করার লক্ষ্যে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএন এইচসিআর ইউ এন ওমেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রগ্রামের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহ পরিদর্শন করে এবং মানবিক সহায়তা আরও কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এই সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করি। এর পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণসমূহ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। আর তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার লক্ষে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সব পক্ষের সাথে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তাছাড়া, মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি কনফিডেন্স বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রক্রিয়া প্রয়োগের বিষয়টি আমাদের বিবেচনাধীন। একই সাথে প্রত্যাবাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ বা ভ্যারিফিকেশনের কাজ নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান আছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর। রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া গুরত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সাথে সংলাপ জোরদার করেছি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।




পাহাড়ধসে তিন দিনে ২২ জনের প্রাণহানি

ডেস্ক নিউজ : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে চার দিন টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় গত তিন দিনে এ অঞ্চলের তিন জেলায় ২২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে গতকাল বুধবার মারা গেছে সাত শিশু।

ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরপানি জমেছিল। রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, চট্টগ্রামে এবার যে পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, তা পুরোপুরি অস্বাভাবিক বলা যাবে না। তবে আবার স্বাভাবিকও নয়। কেননা এবার আষাঢ় মাসের প্রথম ২০ দিন প্রায় বৃষ্টি হয়নি। তাই এখন একসঙ্গে যে বৃষ্টি হয়েছে, তা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বর্ষাকালে সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্ট হলে এ ধরনের বৃষ্টি হয়ে থাকে। এখন তা–ই হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরে বৃষ্টি হচ্ছে চার দিন ধরে। গতকালও সকালে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এই বৃষ্টি চলবে আরও দুই দিন।

গতকাল বেলা তিনটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, যা ছিল ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল বলেন, এবার আষাঢ়ের ১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত কোনো বৃষ্টি হয়নি। এখন অতি বৃষ্টির প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ। তবে গত ৪৩ বছরে এত ব্যাপক পরিমাণে বৃষ্টি হয়নি। সে হিসাবে এবারের বৃষ্টিকে অস্বাভাবিক বলা যায়।

এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সমন্বয়হীনতা রয়েছে মন্তব্য করে অধ্যাপক অলক পাল বলেন, বর্ষার শুরুতে দুর্যোগ মোকাবিলায় যে রকম প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, প্রশাসন সেভাবে অনেক সময় নেয় না। শুরু থেকে সমন্বয় থাকলে অনেক প্রাণহানি কমানো যেত।

তবে আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে এমনিতেই বর্ষাকালে বৃষ্টি হয়। এ সময়ে দেশের উপকূলে কিংবা উপকূল ঘেঁষে কোনো লঘুচাপ সৃষ্টি হলে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হয়। এবার সে রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাহাড়ধসে তিন দিনে ২২ মৃত্যু

টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে তিন দিনে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় ৫ জনের মৃত্যু হয়। গত রোববার দিবাগত রাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ৮ জন, জেলা সদরে ১ জন, পেকুয়ায় ১ জনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সর্বশেষ গতকাল কক্সবাজারে ৫ জন ও চট্টগ্রামে ২ শিশু নিহত হয়।

কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) দেয়াল ও মাটিচাপার ঘটনায় পাঁচ ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে।

আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন নিহত চার ছাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তারা হলো ৫ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উন্মে নেজাতুল (১৩) ও উন্মে সালমা (১২) এবং মো. ইলিয়াছের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)।

গতকাল বেলা দুইটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে ৩০ জন শিশু ছিল। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। সন্ধ্যায় উদ্ধারকাজ শেষ হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় আশ্রয়শিবিরের কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তিন শিশু-কিশোরীকে। তারা হলো ৩ নম্বর ক্যাম্পের দিল মোহাম্মদের মেয়ে আসরা বেগম (৯), একই ক্যাম্পের এফ-১ ব্লকের নুরুল আমিনের মেয়ে বেগম জান (১৫) ও ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-৭ ব্লকের বশির আহমদের মেয়ে ফারেসা বিবি (১২)। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে চট্টগ্রামে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল নয়টায় জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ির ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় একটি পাহাড়ধসে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলাম মারা যায়। শিশুটির মা লামিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে আহত হন। দুপুরে নগরের চশমা হিলের মেয়র গলি এলাকায় পাহাড়ধসে সামিয়া ইসলাম (১৩) নামের এক শিশু মারা যায়।

টানা দ্বিতীয় দিন ডুবেছে চট্টগ্রাম

টানা ভারী বৃষ্টিতে আগের দিনের মতো গতকালও নগরের কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, বাদুড়তলা, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার, তিন পোলের মাথা, চান্দগাঁও, শমসেরপাড়া, খরমপাড়া, খাজা রোড, সুন্নিয়া মাদ্রাসা, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, উত্তর আগ্রাবাদ, রামপুরা, হালিশহর, আকবরশাহ সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। এসব এলাকায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি ছিল।

ভারী বর্ষণে নগরের মূল সড়কসহ বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচলের সংখ্যা ছিল কম। লোকজন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি ও পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের রামপুরা এলাকায় সড়কে হাঁটুপানি জমেছিল। এর মধ্যে লোকজন চলাচল করছেন। এখানে নিচতলার বাসা, আধা পাকা বসতঘর, দোকানে পানি ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ সারতে হয় পরিবারের সদস্যদের। পানিতে ঘরের আসবাব ভিজে যায়।

নুরজাহান বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে পানি জমে আছে ঘরে। বারবার পানি পরিষ্কার করতে হয়। আবার পানি উঠে যায়। কী যে কষ্ট হয়, তা বলার মতো নয়।’

নগরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার বিভিন্ন সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। সরকারি কমার্স কলেজের পাশে একটি খাবারের দোকানে জমে ছিল পানি। এর মধ্যে চলছিল বেচাবিক্রি।

খাবারের দোকানি মো. রাশেদ অভিযোগ করেন, এবার অনেক বেশি পানি হয়েছে। নালা-নর্দমাগুলো ঠিকভাবে পরিষ্কার করলে এ অবস্থা হতো না। বৃষ্টি হলে পানি ওঠে। জলাবদ্ধতার কারণে লোকজন কম বের হন। এতে বেচাবিক্রি কমে গেছে। দিনের খরচও উঠছে না।




মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ দেখানোর দায়িত্বে থাকা গাজার প্রবীণ নেতাকে হত্যা করল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর এক হামলায় মিসরীয় ত্রাণ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি নিহত হয়েছেন। তিনি সেখানে বড় পর্দায় মিসর-আর্জেন্টিনা ফুটবল ম্যাচ দেখানোর দায়িত্বে ছিলেন।

প্যালেস্টাইন ইনফরমেশন সেন্টার ও আরবি পোস্টের খবরে বলা হয়, গাজা সিটির আল-সাবরা এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে মঙ্গলবার এই হামলা চালানো হয়। এতে ওয়াহিদির পাশাপাশি এক শিশুসহ আরও দুজন নিহত হন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

মিসর ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার একটি বিশ্বকাপ ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওয়াহিদির কমিটি গাজা শহরে ম্যাচটি বড় পর্দায় সর্বসাধারণকে দেখানোর পরিকল্পনা করেছিল।

মিসরীয় ত্রাণ কমিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওয়াহিদি ত্রাণ কমিটির গাজা সিটি সদর দপ্তরে প্রবীণদের একটি সংস্থার কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবরা এলাকায় প্রশাসনিক ভবনের কাছে ওয়াহিদির গাড়িতে যখন হামলা হয়, তার ঠিক আগেই তিনি এলাকার একটি বিরোধ মীমাংসা বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

কমিটির মুখপাত্র ওয়াহিদিকে সমাজের একজন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি বলে জানান। তিনি বলেন, ‘যেকোনো বিরোধ মেটানো এবং মানুষের সেবা করার জন্য তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে তিনি সবার কাছে পরিচিত ছিলেন।’

এই হামলার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে অন্তত সাতে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

নাসের হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মী এবং স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, গাজার খান ইউনিস এবং উত্তর গাজায় আলাদা ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এই মিসরীয় ত্রাণ কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি গাজায় খাদ্য বিতরণ, ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ক্যাম্প পরিচালনাসহ বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকে।

গাজাজুড়ে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখানোর আয়োজনের জন্যও এই কমিটি বেশ পরিচিত।

কায়রোতে যখন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময়েই এই কমিটির ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।

হারেৎজ জানিয়েছে, এই হামলার বিষয়ে কায়রো কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এর জবাব চেয়েছে।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় বারবার হামলা চালিয়েছে। ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত আট মাসে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার ৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৪৬৩ জন আহত হয়েছেন।




ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তার মতে, তেহরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই এবং এ ধরনের প্রচেষ্টা শুধু সময়ের অপচয়।

তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, দেশটি ‘অশুভ মানুষদের’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের প্রশাসন ‘উন্মাদ’।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা শেষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আর তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। তারা নিকৃষ্ট। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয়, কারণ তারা মিথ্যাবাদী।’

এ বিষয়ে আরও প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প তার আলোচক দলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘তারা চাইলে কথা বলতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় তারা শুধু সময় নষ্ট করছে। সত্যি বলতে, আমি তাদের পেছনে আমার সময় নষ্ট করতে চাই না।’

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তবে তার মন্তব্যের পর এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান দুই দেশের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

এদিকে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা এবং অঞ্চলে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




ভুয়া বিল দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ, ৩ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ : অনুমোদন ছাড়াই ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) তিন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (সদর দপ্তর) আব্দুল হান্নান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত সোমবার বিএমপি সদর দপ্তরের উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল হান্নান এ সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করেন।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন বিএমপির হিসাব শাখায় কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর কনস্টেবল মো. মারুফ হাসান, নন-গেজেটেড ভ্রমণ ব্যয় বিল শাখার কনস্টেবল জয়দেব কুমার মজুমদার এবং মেট্রো কোর্ট পুলিশের কনস্টেবল মো. সঞ্জীব মিয়া।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিএমপির হিসাব শাখার তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, তিন কনস্টেবল যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই আইবাস প্লাস পদ্ধতিতে ভুয়া বিল তৈরি ও দাখিল করেন। ওই বিলের মাধ্যমে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ১৮৪ টাকা কমিউনিটি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়।

তবে ব্যাংকে অর্থ পরিশোধের আগেই বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে হিসাব শাখার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি পুলিশ কমিশনারের নজরে আনা হলে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরিশাল নগর পুলিশের উপকমিশনার আব্দুল হান্নান বলেন, ‘অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তিনজনকে আপাতত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ, তদন্তে এফবিআই

ক্রীড়া ডেস্ক : মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়ের অভিযোগ উঠেছে। সেটা নিয়ে সারা বিশ্বে তোলপাড় চলছে। এ অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ উঠলো।

যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।  আর্জেন্টাইন সংবাদপত্র লা নাসিওনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি স্পোর্টস ও স্পোর্টস মেক্সিকো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

অর্থ পাচারের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টাইন ফেডারেশনের বিরুদ্ধে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। ফেডারেল কৌঁসুলি ও এফবিআইয়ের এজেন্টরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন।

তদন্তকারীরা বুঝতে চাইছেন, এএফএ কীভাবে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েকশো মিলিয়ন ডলার সরিয়েছে এবং এসব লেনদেন যুক্তরাষ্ট্রের আওতায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্ম দিয়েছে কি না।

লা নাসিওন জানিয়েছে, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যটি দিয়েছেন ব্যবসায়ী গিয়েরমো টোফোনি। তিনি ওয়াশিংটন ও মিয়ামিতে অবস্থিত কৌঁসুলি ও এফবিআই এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিন ঘণ্টার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তাপিয়া ও পাবলো টোভিগ্গিনোর নেতৃত্বে এএফএর কার্যক্রমের পাশাপাশি ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসিও তদন্তের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। প্রযোজক হাভিয়ের ফারনির মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠান বিদেশে এএফএর বাণিজ্যিক চুক্তির অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করে।

লা নাসিওন আরও জানায়, বিচার বিভাগের তদন্তকারীরা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের সেসব সাবেক কর্মকর্তাকেও ডাকার কথা ভাবছেন, যারা এএফএর কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানতেন অথবা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটির কার্যক্রম তদারকিতে অংশ নিয়েছেন। ২০২৫ সালে এই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয় বলে সংবাদপত্রটি নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিগত কয়েক মাসে সংগৃহীত ও বিশ্লেষণ করা এবং ২০২৫ সালের শেষে ও চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, হাভিয়ের ফারনি এবং তার স্ত্রী এরিকা গিলেট সিটিব্যাংক, সিনোভাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান ও পিএনসি ব্যাংক এই পাঁচটি মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অন্তত কয়েকশো মিলিয়ন ডলার সরিয়েছেন।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসি এএফএ থেকে পাওয়া অন্তত ২৬ কোটি মার্কিন ডলার পরিচালনা করেছে। তবে ব্যাংকের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এই সংগঠনের সুনির্দিষ্ট পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে এর একটি অংশকেই সরাসরি সংযুক্ত করা যায়। আরও ৫ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বিভিন্ন কোম্পানি ও সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, যাদের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়। এসব স্থানান্তরের মধ্যে এমন কিছু কোম্পানিতে কয়েক কোটি ডলারের ওয়্যার ট্রান্সফার রয়েছে, যেগুলো কোনো শনাক্তযোগ্য সেবা দেয় না। এসব কোম্পানি এমন ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো যারা সরকারি নথি অনুযায়ী সামাজিক কল্যাণ ভাতা পেতেন এবং বারিলোচে বা বুয়েনস এইরেসে বসবাস করতেন।’

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাপিয়া এমন এক সংকটের কেন্দ্রে ছিলেন, যা আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দুর্নীতির তদন্ত, দেশিয় লিগে অজনপ্রিয় পরিবর্তন এবং র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে জনমত তাপিয়া ও এএফএর বিপক্ষে চলে যায়।

আর্জেন্টিনার ক্লাবগুলোর মালিকানা কাঠামো নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন ৫৮ বছর বয়সী তাপিয়া। গত মার্চের শেষদিকে মিলেই সরকারের দায়ের করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে তাপিয়ার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই বুয়েনস এইরেসে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের আগে মাঠে একটি ফলক নেয়ার সময় দর্শকদের দুয়োধ্বনির শিকার হন এই ফুটবল কর্মকর্তা।




আফ্রিকান দলগুলো শেষ মুহূর্তে হেরে যাচ্ছে কেন

ক্রীড়া ডেস্ক : গত নভেম্বরের কথা। ইতালির তৎকালীন কোচ জেন্নারো গাত্তুসো বলেছিলেন, ‘একটা সময় আফ্রিকা থেকে মাত্র দুটি দল খেলত। এই বিশ্বকাপে খেলবে ৯টি! আমরা বাছাইপর্বে রানার্সআপ হয়েও প্লে-অফ খেলতে হচ্ছে, অথচ আফ্রিকানরা টিকিট পাচ্ছে বিশ্বকাপের।’

নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিশ্বকাপে আফ্রিকা কোটা নিয়ে একপ্রকার ক্ষোভই ঝেড়েছিলেন গাত্তুসো। শেষ পর্যন্ত সেই ইতালি বিশ্বকাপের টিকিট পায়নি, কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠে আফ্রিকান দলগুলো দেখাচ্ছে চমক।

এবারের বিশ্বকাপে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নতুন দলগুলো। কেপ ভার্দে ও কুরাসাও যেমন আলো ছড়িয়েছে, তেমনি চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে আফ্রিকার দলগুলোও। বিশ্বকাপে এবার দল বেড়েছে ১৬টি। ফলে ৫টির বদলে আফ্রিকা থেকে সুযোগ পেয়েছে ১০টি দল। তিউনিসিয়া বাদে বাকি সবাই পেরিয়েছে গ্রুপ পর্বের বাধা।

কিন্তু নকআউটে এসেই একে একে ঝরে পড়েছে আফ্রিকান দলগুলো। ১০ দল থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরেছে শুধু মরক্কো। বাকি দলগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই বাদ পড়েছে শেষ মুহূর্তের গোল হজম করে।

মিসরের কথা দিয়েই শুরু করা যাক। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কী দুর্দান্ত শুরুই না করেছিল তারা! ২-০ গোলের লিড, লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস—সব মিলিয়ে ম্যাচ ছিল তাদের মুঠোয়। রেফারির প্রভাব একপাশে সরিয়ে রাখলেও মিসর মূলত খেই হারানো শুরু করে ৭৮ মিনিটে। এরপর ১৩ মিনিটের জাদুতে মিসরের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা।

এই আর্জেন্টিনাই শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হয়েছিল কেপ ভার্দের। আফ্রিকার এই ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ স্পেন ও উরুগুয়ের পর আর্জেন্টিনাকেও প্রায় ধরাশায়ী করে ফেলেছিল। ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়েও স্কোরলাইন ছিল ২-২। অবশেষে আর্জেন্টিনার জয় আসে ১১১ মিনিটে দিনেই বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলে। তা না হলে হয়তো আরেকটি ‘ভোজিনিয়া ম্যাজিক’ দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল সবাই।

আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে করুণ গল্পটা বোধ হয় সেনেগালের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে পুরো ৮৫ মিনিট আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল তারা। কিন্তু রোমেলু লুকাকু মাঠে নামার পরই বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। শেষ ৫ মিনিটে ম্যাচে ফিরল সমতা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে পেনাল্টি হজম করে বসে সেনেগাল। সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করে শেষ ষোলোতে পা রাখে বেলজিয়াম, আর সেনেগাল বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে।

দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরিকোস্ট আর ডিআর কঙ্গোও যেন একই দুর্ভাগ্যের শিকার। কানাডার বিপক্ষে ৯১ মিনিটে গোল হজম করে বাদ পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। নরওয়ের বিপক্ষে আইভরিকোস্ট দ্বিতীয় গোলটি হজম করে ৮৬ মিনিটে। এমনকি ইংল্যান্ডও কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচ পিছিয়ে ছিল। ৭৫ মিনিটের পর হ্যারি কেইনের একক নৈপুণ্যে উদ্ধার পায় তারা।

প্রতিটি ম্যাচের গল্পই যেন একই সুতোয় গাঁথা। ম্যাচের শুরু থেকে চালকের আসনে থাকছে আফ্রিকান দলগুলোই। কিন্তু শেষ মুহূর্তের গোল সব ভেস্তে দিচ্ছে। শেষ মুহূর্তের চাপ সামলানো কিংবা রক্ষণ ঠিক রেখে খেলার সময় আসলেই যেন তালগোল পাকিয়ে ফেলছে দলগুলো। তারা স্বাভাবিক খেলা হারিয়ে ছন্নছাড়া হয়ে পড়লেই সেই সুবর্ণ সুযোগ লুফে নিচ্ছে প্রতিপক্ষ। চাপের মুখে স্নায়ু ধরে রাখতে না পারায় ভালো খেলেও জয়টা তুলে নেওয়া হচ্ছে না তাদের। ফলে নকআউটে একঝাঁক দল নিয়ে এসেও কোয়ার্টার ফাইনালে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছে কেবল মরক্কো।