সুনামগঞ্জে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নে বজ্রপাতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নলুয়ারপাড় গ্রামে ধানের খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে আঁখি আক্তার (১৫) নামের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. রতন শেখ।

মৃত আঁখি আক্তার নলুয়ারপাড় গ্রামের জাহির উদ্দিনের মেয়ে। সে ইয়াকুব উল্লাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালে বৃষ্টি শুরু হলে ঘরের সামনে খলায় শুকাতে দেওয়া ধান আনতে যায় আঁখি। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।




ভয়াবহ সংকটে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির রোববার (১০ মে) এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক তৎপরতা এবং হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর জন্য অবিলম্বে অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন।

ইসরাইলের সংসদ নেসেটের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটির এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওত আহরনোতের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইয়াল জামির উল্লেখ করেন, গাজা ছাড়াও লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল বর্তমানে বহুমুখী ফ্রন্টে যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমানে এই সংঘর্ষগুলোতে বিরতি চলছে, তবুও ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত আছে।

জামির স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক বা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত নন, বরং তার পুরো মনোযোগ এখন শত্রুকে পরাজিত করার দিকে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বজায় রাখতে হলে এখনই নতুন জনবল নিয়োগ করা অপরিহার্য।

এর আগে গত মার্চ মাসে জামির সতর্ক করেছিলেন, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক সেবা এবং রিজার্ভ ডিউটি সংক্রান্ত আইন পাসে সরকারের ব্যর্থতা এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি না করায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে।

সেনাপ্রবক্তা ইফি দেফরিন জানান, সেনাবাহিনীর জন্য বর্তমানে আনুমানিক ১৫ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার হতে হবে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়ার মতো যোদ্ধা। এই সংকট নিরসনে দ্রুত একটি কার্যকর নিয়োগ আইন প্রণয়ন করাকে অপরিহার্য বলে মনে করছে সামরিক নেতৃত্ব।

ইসরাইলের প্রায় ৯৯ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের হার প্রায় ১৩ শতাংশ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা সামরিক সেবার পরিবর্তে কেবল তোরাহ পাঠে মনোনিবেশ করার সুযোগ পেয়ে আসছে, যা ইসরাইলি সমাজে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। যদিও ১৮ বছর ঊর্ধ্ব সকল নাগরিকের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক, তবুও হারিদিদের এই বিশেষ ছাড় পাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক এই দাবি সরকারকে নতুন করে চাপে ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




সন্তান নিয়ে একা ববিতার সংগ্রাম, যে কথাগুলো আগে বলেননি ববিতা

বিনোদন ডেস্ক : ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমকে ১৯৮২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে বিয়ে করেন অভিনয়শিল্পী ফরিদা আক্তার ববিতা। বিয়ের প্রায় সাড়ের ছয় বছর পর, ১৯৮৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সন্তান অনিক ইসলামের জন্ম। অনিকের জন্মের তিন বছর পর ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি মারা যান ববিতার স্বামী। এর পর থেকে তাঁর জীবনে অনেকে আসতে চেয়েছিলেন। পরিবার আর আত্মীয়স্বজনও চাপ দিচ্ছিলেন বিয়ের জন্য। কিন্তু অনড় ববিতা সন্তানের কথা ভেবে দ্বিতীয়বার সংসারজীবন শুরু করেননি। আজ মা দিবসে মা ববিতা বললেন তাঁর সংগ্রামী জীবনের গল্প।

সিনেমা ঘিরে স্বপ্ন ছিল ববিতার। স্বামী ইফতেখারুল আলমও তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। বলেছিলেন, বাড়ির কোনো কিছু নিয়ে ভাবতে হবে না তাঁকে, যেন শুধুই সিনেমা নিয়ে ভাবেন। তিনিও সেভাবেই জীবন পার করছিলেন। স্বামী আর পেশাগত জীবন দুটিই সুন্দরভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু কে জানত, এত অল্প সময়ের সংসারজীবন হবে তাঁর। ববিতার মতে, ‘মাত্র ১১ বছরের দাম্পত্য জীবন। হঠাৎ অনিকের বাবার মৃত্যুতে চারদিকে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। কী করব, কীভাবে জীবন চলবে, যেন দিশাহারা আমি। তবে মনোবল হারানোর মানুষ তো আমি নই। মনটাকে শক্ত করি। আমার সন্তান আছে, তাঁকে নিয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁকে গড়ে তুলতে হবে। আবার আমার ক্যারিয়ার। দুটোকে সমন্বয় করেই এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করি।’

অনিকের বাবা ইফতেখারুল আলম নানা ধরনের রোগে ভুগছিলেন। কিডনি, লিভার, হার্টের নানান রোগ ছিল তাঁর। তবে এত তাড়াতাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন, তা ভাবতে পারেননি ববিতা। মারা যাওয়ার পরের সময়টুকু তাই অকুলপাথারে পড়লেও সামলে নেন।

ববিতা বললেন, ‘পরিবারের কেউ আমাকে সারা দিন দেখাশোনা করত না। মাঝেমধ্যে করবে। কারণ, তাদের সবারও তো আলাদা সংসার, পেশাগত জীবন।। তাই সব আমাকে একাই করতে হতো। শুটিং, আয়রোজগার, সংসার চালানো, অনিককে দেখভাল—সব একাই করতে হতো।

অনিকের জন্মের আগে ‘লেডি স্মাগলার’ নামে একটি ছবির শুটিংয়ে ফিলিপাইনে যান ববিতা। নিজের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠানের এই ছবির বেশির ভাগ শুটিং হয় ফিলিপাইনে। অ্যানি সি স্কোভা নামের এক তরুণী ফিলিপাইনে ছবিটির শুটিংয়ের প্রোডাকশনে কাজ করতেন। সেই মেয়েটিকে পছন্দ হয় ববিতার। তাঁকে দেশে আনার পরিকল্পনা করেন, যাতে বাসার কাজে সহযোগিতা পাওয়া যায়। একটা পর্যায়ে প্রস্তাবও দেন। ফিলিপাইনের সেই তরুণী অনিকের জন্মের পর তাঁর দেখভালও করেছেন।

 

ববিতা বললেন, ‘ফিলিপাইনে “লেডি স্মাগলার” ছবির শুটিংয়ের সময়ে অ্যানিকে বলেছিলাম, তুমি কি বাংলাদেশে যেতে চাও? তখন কিন্তু অনিকের জন্ম হয়নি। সে বলে কি, আমার তো পাসপোর্ট নেই। তখন বলেছিলাম, আমি পাসপোর্ট করিয়ে নেব। আমি ভাবলাম, আমি একজন শিল্পী মানুষ, শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এমন একজন মানুষ দরকার, যে খুব বিশ্বাসী। তখন বাংলাদেশি, কাজ যারা করত, তাদের ওপর খুব একটা আস্থা রাখা যেত না। নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত। আবার তারা ঠিকমতো কাজ করত না। অ্যানিকে আনলাম, মেয়েটা এত বিশ্বাসী ছিল, আমার বাসার সবকিছু সামাল দিত। ঘরসংসার, বাজারসদাই, সব করত। আমার শুটিংয়ের কাজেও সহযোগিতা করত। শুরুতে টানা পাঁচ-ছয় বছর ছিল। এরপর একবার গিয়ে আবার এল। ফিরে এসে আবার পাঁচ-ছয় বছর ছিল। তারপর একদিন মেয়েটা বলল, বাবা-মায়ের বয়স হয়েছে, আমাকে একেবারে চলে যেতে হবে। মেয়েটা চলে গেল। এরপর আবার অন্য মিশন শুরু।’

ববিতার ছেলে অনিকের স্কুলজীবন শুরু বনানীর প্লে–পেন স্কুলে। ববিতা বললেন, ‘আমার ড্রাইভার অনিককে স্কুলে দিয়ে আসত। মেয়েটা নিয়ে আসত। ওই মেয়েটা আমি যখন ছবি বানাতাম প্রোডাকশনের কাজও করত। সব কাজ জানত। খুবই স্মার্ট ছিল। বাংলাদেশে তখন বাসাবাড়িতে বিদেশি কাজের লোক রাখা যেত না। আমি তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটা চিঠি লিখেছিলাম। লিখেছিলাম, আমি একজন শিল্পী মানুষ, দেশ-বিদেশ নানা জায়গায় শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। আমার সন্তানের বাবা বেঁচে নাই। আমার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গৃহপরিচারিকা রাখার অনুমতি দিলে ভালো হয়। অনুমতি পাই।’

প্লে–পেন স্কুলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ার পর অনিকের স্কুলজীবন শুরু স্কলাস্টিকায়। এখান থেকেই ও লেভেল আর এ লেভেল শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন কানাডার ওয়াটার লু ইউনিভার্সিটিতে। কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। এখন চাকরি করছেন।

ববিতা সেই সময়ের কথা মনে করে বললেন, ‘অনিক যখন বনানীর স্কুলে যাওয়া শুরু করে, তখন শুরুর দিকে আমি ওর ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পরীক্ষায় সময় এটা বেশি করতে হতো। ববিতা নায়িকা, ওসব বিষয়ে আমার মধ্যে কাজ করত না।’

ফিলিপাইনের গৃহপরিচারিকা অ্যানি চলে যাওয়ার পর ববিতার আবার চিন্তায় পড়ে যান। শুটিং করতে হলে তো বাসাবাড়ির কাজের সহযোগিতার জন্য গৃহপরিচারিকা লাগবে। এবার অনেকটা বাধ্য হয়ে দেশ থেকে নিলেন। তবে বাইরে গেলে মনটা পড়ে থাকত বাসায়। অনিক কী করছে, খাচ্ছে তো ঠিকমতো। ঘুম হচ্ছে কি? পড়াশোনা করছে কি?

এদিকে ববিতার স্বামীর মারা যাওয়ার একটা সময় পর তাঁর ওপর বিয়ের চাপ আসতে থাকে। পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন সবারই একটা চাপ ছিল। অন্যদিকে স্বামী যেহেতু নেই, প্রেমের প্রস্তাবও বাদ যায়নি। অনেকেই তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন, বিয়ে করে সংসারী হতে চেয়েছেন। কিন্তু ববিতা ছেলে অনিকের কথা ভেবে বিয়ের কথা ভাবেননি।

ববিতা বললেন, ‘আত্মীয়স্বজন আর অভিভাবকেরা বলত, তুমি এত অল্প বয়সে স্বামীহারা হলে, আবার বিয়ে করা উচিত। কারণ, আমি সব মিলিয়ে সংসার করেছি দশ-এগারো বছর। তারপর তো অনিকের বাবা মারাই গেল। আমি বললাম, বিয়ে আমি আর করব না। আমার সন্তান, আমার অভিনয়জীবন—এ নিয়েই আগামী জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। সন্তানের দেখভাল, শুটিং—একা জীবনে যতটুকু পারি করেছি। তবে ওই সময়টায় সিঙ্গেল মাদার হওয়ার কারণে অনেক স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছে। আউটডোর শুটিং পারতপক্ষে করতে পারতাম না। নিতাম না। ভাবতাম, আমি যদি ঢাকায় না থাকি, তাহলে বাসায় যদি কোনো সমস্যা হয়, কীভাবে সামাল দেব।

এফডিসিতে থাকলে তো গাড়ি টান দিয়ে বাসায় যেতে পারব। কিন্তু কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুরে যদি শুটিংয়ে থাকি, তাহলে তো ছেলের খোঁজখবর নিতে পারব না। এরপরও কতবার যে এমন হয়েছে, আমি শুটিংয়ে যাওয়ার সময় অনিক খুব কাঁদছিল। বলছিল, “আম্মা তুমি যেয়ো না, আম্মা তুমি যেয়ো না।” কিন্তু ছবিগুলো তো আমার সাইন করা। যেতেই হবে। শুটিং না করলে সংসারজীবনই–বা চলবে কী করে। এসব নিয়ে আমার পুরো জীবনটা কেটেছে।’

সিঙ্গেল মাদার হিসেবে যে জীবন কাটিয়ে এসেছেন, তা নিয়ে ববিতা বললেন, ‘আমার জীবনটা অনেক কঠিন ছিল, আবার শান্তিরও। অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে, কষ্ট স্বীকার করা লাগছে। কিন্তু সবকিছুর পর যখন সন্তানের মুখটা দেখতাম, শান্তিতে মনটা ভরে যেত।’ছেলে অনিক যখন ও লেভেলের শিক্ষার্থী তখন তিনি মায়ের বিয়ের ব্যাপারে কথা বলেন। সেই সময়ের কথা মনে করে ববিতা বললেন, ‘অনিক যখন বড় হয়েছে, বুঝতে শিখেছে, তখন আমাকে বলত, “আম্মা তুমি একা। তোমার অনেক কষ্ট হয়। তুমি একটা আব্বু নিয়ে আসো।” আমি সন্তানকে বুঝিয়েছিলাম, “না বাবা, এটা হয় না। তুমি থাকলে আমার কিছুই লাগবে না। তোমাকে নিয়েই তো আমি ভালো আছি।”

কথা প্রসঙ্গে ববিতা আরও বললেন, ‘সবাই যে এত বলত বিয়ে করো, বিয়ে করো, তখন এটাও ভাবতাম, আমি যদি একটা মানুষকে বিয়ে করি, সেই সংসারে হয়তো সন্তান হবে। আর সন্তান যদি হয়, কেমন হবে, কী হবে? অনিককে মেনে নেবে কি নেবে না। অনিক আবার তাদের সাথে অ্যাডজাস্ট করতে পারবে কি পারবে না, কত কি যে আমার মাথার মধ্যে চলত। কত মানুষ আমাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। চাইলে বিয়ে করতেই পারতাম, কিন্তু করিনি। আমাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন বিয়ে করেছে, সেটা একান্তই তাঁদের বিষয়। অনেক কিছু ভেবে আর দ্বিতীয়বার বিয়ের কথা ভাবিনি।’

দেশে আর দেশের বাইরে—সবার কাছে ববিতা তাঁদের প্রিয় একজন অভিনেত্রী, কিন্তু একমাত্র ছেলে অনিকের কাছে শুধুই ‘সংগ্রামী মা’। তাই তো সংগ্রামী মায়ের স্বপ্নপূরণে ছেলে অনিক পড়াশোনা ছাড়া আর কিছুই ভাবতেন না।

ববিতা দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ২৭৫টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। দেশের বিখ্যাত সব নির্মাতার পাশাপাশি কাজ করেছেন দেশের বাইরের বিখ্যাত নির্মাতার ছবিতেও। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ ছবির জন্য ববিতা দেশে ও দেশের বাইরে প্রশংসা কুড়ান।




পাকিস্তানের চেয়ে ৩৪ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৩৪ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে এক সেঞ্চুরি আর দুই ফিফটিতে বাংলাদেশ ৪১৩ রানে। জবাবে এক সেঞ্চুরি আর তিন ফিফটিতে ৩৬৮ রান করে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।

প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়ে রোববার তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৭ রান।

আগামীকাল চতুর্থ দিনে ফের ব্যাট করতে নামবেন ২ ও ০ রানে অপরাজিত থাকেন বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম অনিক।

গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তান করেছিল ১ উইকেটে ১৭৯ রান। আজ তৃতীয় দিনে ৯ উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা করে ২০৭ রান।

শনিবার ৮৫ রানে অপরাজিত থাকা আজান আওয়াইস আজ আউট হওয়ার আগে সেঞ্চুরি তুলে নেন। তিনি ১৬৫ বলে ১৪টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১০৩ রান করেন।

অভিষেক টেস্টে খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি এই টেস্টে অভিষেক হওয়া আব্দুল্লাহ ফজলকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ১০৪ রানের জুটি গড়েন আজান।

২ উইকেটে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২১০ রান। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমেই আউট হয়ে ফেরেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও সৌদ শাকিল। তারা দুই অঙ্কের ফিগার রান করতে পারেননি।

শনিবার ৩৭ রানে অপরাজিত থাকা আব্দুল্লাহ ফজল আউট হন দলীয় ২৩০ রানে। সাজঘরে ফেরার আগে ১২০ বলে ৭টি চার আর এক ছক্কায় করেন ৬০ রান।

৫ উইকেটে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২৩০ রান। এরপর দলের হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। তারা ষষ্ঠ উইকেটে ২৩০ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতে দুই জনে ফিফটি তুলে নেন।

দলীয় ৩৪৯ ও ৩৫৩ রানে ফেরেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। ৭৯ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৯ রান করেন রিজওয়ান আর ৯৪ বলে ৬টি চার আর এক ছক্কায় ৫৮ রান করে ফেরেন আগা সালমান। রিজওয়ান ও আগা সালমান আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের হারায় পাকিস্তান।

এরপর নোমান আলি, শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলি ও মোহাম্মদ আব্বাসরা স্কোর বোর্ডে ৩৩ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি। যে কারণে ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

বাংলাদেশ দলের হয়ে ১০২ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম।

শুক্রবার শুরু হয় দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

প্রথম দিনে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০১ রান করে বাংলাদেশ। আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনে আরও ১১২ রান করতেই ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪১৩ রান।

দলের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ১৩০ বলে ১২টি চার আর দুটি ছক্কায় ১০১ রান করেন। ২০০ বল খেলে ১০টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯১ রান করে সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ।

১৭৯ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৭১ রান করে ফেরেন জাতীয় দলের সাবেক আরেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ৬৭ বলে ৩৩ রান করেন লিটন দাস। মাত্র ১৯ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ২৮ রান করে ফেরেন পেস বোলার তাসকিন আহমেদ।

পাকিস্তানের হয়ে ৯২ রানে ৫ উইকেট নেন মোহাম্মদ আব্বাস। ১১৩ রানে ৩ উইকেট নেন পেস বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি।




সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ বাংলাদেশি হজযাত্রী

ডেস্ক নিউজ : এ বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে রোববার (১০ মে) পর্যন্ত ১৩০টি হজ ফ্লাইটে মোট ৫০ হাজার ৯০৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত জেদ্দায় মোট ১৩০টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।

হজ বুলেটিন অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং দুইজন নারী। এদের মধ্যে ১০ জন মক্কায় এবং দুজন মদিনায় মারা যান।

বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি মেডিকেল টিম গতকাল পর্যন্ত ২১ হাজার ১৪ জন হজযাত্রীকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। আর আইটি হেল্পডেস্ক ১৩ হাজার ৭৮০ জনকে সেবা দিয়েছে।

হজ অফিসের পরিচালক জানান, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।

মোট ৬৬০টি এজেন্সি হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০টি প্রধান এজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি।

এয়ারলাইনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬০টি ফ্লাইটে ২৩ হাজার ৯৬০ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪৮টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৪৮৮ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

বাকি ২৭ হাজার ৪৬৯ জন হজযাত্রী নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সৌদি আরব পৌঁছবেন বলে জানান হজ অফিসের পরিচালক।

এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাস এখন পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ৩৭৩টি ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৫৪টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯১৯টি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং ৩০ জুন পর্যন্ত তা চলবে।




৫ খুনের ঘটনায় পলাতক ফোরকানকে আসামি করে মামলা

ডেস্ক নিউজ :গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ সদস্যকে খুনের ঘটনায় পলাতক স্বামী ফোরকানকে আসামি করে থানায় মামলা রজু করা হয়েছে। এ মামলায় আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহত শারমিন খানমের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পরে পুলিশ দুপুরে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে মাদকাসক্তি, পরকীয়া ও আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খুন হওয়া পাঁচজন হলেন গোপালগঞ্জ সদর থানার মেরী গোপীনাথপুর এলাকার মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তার তিন মেয়ে মিম খানম (১৪), উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।

কাপাসিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম জানান, ফোরকানকে আসামি করে শারমিন খানম ও রসুল মিয়ার বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ঘাতককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




১০ শর্তে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি ইরান

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেল। আজ শনিবার ইরানের ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তাদের জাতীয় দল আসন্ন বিশ্বকাপে খেলবে।

গ্রুপ ‘জি’তে ইরানের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে দলটি।

গত মাসে ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিতে ইরানের ফেডারেশন প্রধানকে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল কানাডা। যে কারণে তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান।

ইরানিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মাহদি তাজ রাষ্ট্রায়ত্ব টিভিকে গতকাল জানান, বিশ্বকাপে অংশ নিতে ১০টি শর্ত দিয়েছে তারা। দেশটির প্রতি তাদের সদাচরণের আশ্বাস চেয়েছেন তিনি।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- টুর্নামেন্ট চলাকালে ভিসা প্রদান, জাতীয় দলের স্টাফ, দলের পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান এবং বিমানবন্দর, হোটেল ও স্টেডিয়ামে যাওয়ার আসার সময় রাস্তায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

ইরানিয়ান ফেডারেশন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলেছে, ‘আমরা ২০২৬ বিশ্বকাপে অবশ্যই অংশ নেবো। কিন্তু আয়োজকদের আমাদের উদ্বেগগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে।’

তারা আরও বলেছে, ‘আমরা বিশ্বকাপে অংশ নেবো, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও দৃঢ় প্রত্যয় থেকে এতটুকু বিচ্যুত না হয়ে।’

ইরানিয়ান ফুটবল প্রধান বলেন, ‘সব খেলোয়াড় ও টেকনিক্যাল স্টাফ, বিশেষ করে যারা আইআরজিসিতে সামরিক দায়িত্ব পালন করেছে, যেমন মেহদি তারেমি ও এহসান হাজসাফি। তাদের সবাইকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভিসা প্রদান করতে হবে।’




লাইফ সাপোর্টে থাকা কারিনার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা কায়সার হামিদ

বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদের মেয়ে ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভোগার পর হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শোনা যাচ্ছিল, লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন।

বিষয়টি শনিবার (৯ মে) গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কারিনা কায়সারের বাবা জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। কারিনার অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার (৮ মে) রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

কায়সার হামিদ বলেন, ‘অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। ওর আগে একটু ফ্যাটি লিভার ছিল, কিন্তু অবহেলা করেছে, ওষুধ ঠিকমতো খায়নি। তো হঠাৎ ইনফেকশন হয়ে গেছে, এর মধ্যে আবার হেপাটাইটিস এ–তে আক্রান্ত হয়েছে। আইসিইউতে ছিল, গতকাল (শুক্রবার) লিভার ফেইলিউর হলে লাইফ সাপোর্টে দেওয়া হয়েছে।’

মেয়ের জন্য দোয়া চেয়ে কায়সার হামিদ আরও বলেন, ‘সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

উল্লেখ্য, কনটেন্ট ক্রিয়েশনের পাশাপাশি অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কারিনার পরিচিতি আছে। তিনি ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’ নামের চরকি অরিজিনাল সিরিজের মাধ্যমে পরিচিতি পান।




জনগণ এমন রাষ্ট্র চায়, যেখানে অবিচার অনাচার থাকবে না

ডেস্ক নিউজ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
আগামীকাল (১০ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (৯ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি এবং স্বস্তি ফিরেছে। জনগণ এখন গুম, অপহরণ আর ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র এবং সমাজ দেখতে চায়, যেখানে জানমালের ভয় থাকবে না; অবিচার, অনাচার কিংবা নির্যাতন-নিপীড়নের ভয় থাকবে না। এমন একটি প্রত্যাশিত পরিস্থিতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশের ভূমিকাই সর্বাধিক।’
তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে পুলিশ যদি জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, তাহলে পুলিশের দায়িত্ব পালনের পথ অনেকটা সহজ এবং সুগম হয়ে যায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহ হয়ে উঠুক নিজেদেরকে জনগণের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পূরণের একটি মুহূর্ত। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। তবে ঘরে-বাইরে জনমনে নিরাপত্তা, স্বস্তি না থাকলে লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার। এই প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি প্রয়োজনে ও সংকটে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা প্রমাণ করেছে, একটি উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশে তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সক্ষম।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দেশেই নয়, বাংলাদেশ পুলিশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। তাই পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।’
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।