বাংলাদেশ-চীন যুদ্ধবিমান আলোচনা ও করিডোর প্রস্তাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শুক্রবার (৩ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে, চীনের প্রস্তাবিত জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার জন্য বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোরের জন্য বেইজিংয়ের প্রস্তাব বিবেচনা করছে-এমন দুটি পৃথক প্রশ্নের জবাবে রণধীর বলেছেন, ‘আমরা আমাদের এলাকার এই ধরনের সব ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে ঘিরে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই প্রকল্প বিষয়ে ভারতের মতামত ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রকল্পগুলোর জন্য আমাদের উন্নয়নমূলক সহায়তা একটি পারস্পরিকভাবে সম্মত রোডম্যাপের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।’

রণধীর আরও বলেন, সামগ্রিক নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সমস্ত ঘটনাপ্রবাহকেই বিবেচনায় রাখবে ভারত।

প্রসঙ্গত, ভারত থেকে প্রবাহিত তিস্তা ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ ও চীন সম্মত হওয়ার কয়েকদিন পর এই মন্তব্যগুলো এসেছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে চীন সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিস্তা ব্যারেজ মাস্টার প্ল্যান একটি ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ এবং এটি ‘যেকোনো মূল্যে’ বাস্তবায়ন করা হবে। তবে চীনা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সহযোগিতার লক্ষ্য কোনো তৃতীয় দেশ নয়।

এদিন, সিন্ধু পানিচুক্তি প্রসঙ্গেও ফের ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ইসলামাবাদের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে অব্যাহত পৃষ্ঠপোষকতার জবাবে সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত রয়েছে বলে আজ পুনরায় জানিয়েছেন তিনি। জয়সওয়াল বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানকে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্যভাবে এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি তার সমর্থন ত্যাগ করতে হবে।




এআই দিয়ে ৩০ পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পণ্যের মূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে। ভবিষ্যতে ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করা যায়।

তিনি বলেন, ‘এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।’

আজ শুক্রবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে। এর ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।’

পণ্যের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে, সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।’




দুই মাইলফলকের সামনে মেসি, সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ৪টায় নবাগত কেপ ভার্দের হচ্ছে বর্তমানচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে খেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচের আগে দেখে নেওয়া যাক কিছু পরিসংখ্যান:

২০১০ সালে স্লোভাকিয়ার পর কেপ ভার্দে প্রথম দল, যারা নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই নকআউট পর্বে উঠেছে। এ ছাড়া ২০০৬ সালে ঘানার পর, প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে মাত্র ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন ও ৬ লাখ জনসংখ্যার দেশটি।

১৯৯৮ সালে চিলির পর, প্রথম দল হিসেবে তিনটি ম্যাচ ড্র করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে কেপ ভার্দে। দলটির জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনা- নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই নকআউট পর্বে শিরোপাধারীদের মুখোমুখি হওয়া তৃতীয় দল তারা। এর আগে ১৯৩৮ সালে ইতালির বিপক্ষে নরওয়ে ২-১ গোলে ও ২০০৬ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ঘানা ৩-০ গোলে হেরেছিল।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এবার বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্তে। নকআউটে উঠতে পারা ক্ষুদ্রতম দেশ তারাই।

এই শতাব্দীতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা তৃতীয় দল আর্জেন্টিনা। তাদের আগে এই কৃতিত্ব আছে ব্রাজিল (২০০৬ সালে কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরেছিল) ও ফ্রান্স (২০২২ সালে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরেছিল)।

বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সবশেষ সাত ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতেছে আর্জেন্টিনা, তবে এমন প্রতিপক্ষের কাছে প্রথম ম্যাচেই হেরেছিল তারা, ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ১-০ গোলে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবশেষ ১৩টি নকআউট ম্যাচের সাতটিই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। এমনকি আলবিসেলেস্তেদের চেয়ে আর কোনো দলের এত বেশি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যায়নি (মোট ১১টি, যা জার্মানি ও ইতালির সমান)।

বিশ্বকাপে নিজের সবশেষ সাত ম্যাচেই গোল করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এমন কীর্তি গড়া প্রথম ফুটবলার তিনি। এই সাত ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন তিনি। আর নকআউটে নিজের সবশেষ পাঁচ ম্যাচে মোট ৯টি গোলে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি (পাঁচ গোল, চার অ্যাসিস্ট)।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে ২০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে তার প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল।বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারীও মেসি। এটি হবে তার ৩০তম ম্যাচ।

আসন্ন ম্যাচটি হবে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনির ১০০তম ম্যাচ, অর্থাৎ আর্জেন্টিনার হয়ে ডাগআউটে সেঞ্চুরি করবেন তিনি। আগের ৯৯ ম্যাচের ৭২টিতে তিনি জিতেছেন, ড্র ১৮টি, হার কেবল ৯টি।




হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি মদরিচের!

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার লুকা মদরিচের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো হৃদয়ভাঙা এক পরাজয়ে। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া।

৪০ বছর বয়সেও মাঠে ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা মদরিচ। পুরো ম্যাচে তিনি সর্বোচ্চ ৬৬ বার বল স্পর্শ করেন, তিনটি সফল ট্যাকল করেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে দুটি দারুণ আক্রমণাত্মক বল বাড়ান। তবে শেষ মুহূর্তে ইয়োশকো গভার্দিওলের সমতাসূচক গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় স্বপ্নভঙ্গ হয় ক্রোয়েশিয়ার।

ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ জানান, এটি সম্ভবত মদরিচের শেষ বিশ্বকাপ। তবে তিনি যোগ করেন, ‘আগামী চার বছরে কী হবে, তা শুধু সৃষ্টিকর্তাই জানেন। দেখা যাক, পরে ক্রোয়েশিয়ায় এ নিয়ে আমরা কথা বলব।’

মদরিচের প্রশংসা করে দালিচ আরও বলেন, ‘লুকা অসাধারণ খেলেছে। বরাবরের মতোই সে ছিল আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। তার জন্য এভাবে শেষ হওয়ায় আমার খুব খারাপ লাগছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে নিজের চরিত্র, নেতৃত্ব ও অসাধারণ সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।’

২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান এনে দেওয়া মদরিচ এবার খেললেন নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ। এবারের আসরে দলের চারটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি।

মদরিচকে নিয়ে তার সাবেক ক্লাব সতীর্থ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বলেন, ‘আমি বহু বছর লুকার সঙ্গে খেলেছি। আমাদের বয়সও প্রায় সমান। আমার কাছে সে ফুটবলের একজন কিংবদন্তি, এবং এখনও সে কিংবদন্তিই আছে।’

২০১৮ সালে বিশ্বের সেরা ফুটবলারের সম্মাননা জিতেছিলেন মদরিচ। ক্লাব ফুটবলে তিনি ছয়বার ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতার শিরোপা এবং চারবার স্পেনের শীর্ষ লিগের শিরোপা জিতেছেন। দীর্ঘ ২৩ মৌসুমের পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি মূলত দিনামো জাগরেব, টটেনহ্যাম হটস্পার ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন। সর্বশেষ মৌসুমে ইতালির একটি শীর্ষ ক্লাবের জার্সিতেও বল স্পর্শ, সফল পাস, সামনের দিকে বল বাড়ানো, বল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার দূরত্ব এবং বল পুনরুদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানে দলের সেরা ছিলেন তিনি।

পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেসও মদরিচের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘মদরিচ এমন একজন ফুটবলার, যিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ার পার করেও তরুণের মতো খেলেন, আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—তিনি অসাধারণভাবে খেলার পরিস্থিতি বুঝতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রায়ই কৌশল, কারিগরি দক্ষতা কিংবা শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু মাঠে কখন বল থামিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই বুদ্ধিমত্তার কথা খুব কমই বলা হয়। মদরিচ সেই বিরল উদাহরণগুলোর একজন। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে তিনি নিজের খেলার গতি ঠিক করেন এবং প্রায় প্রতিবারই সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।’




‘ব্যাক টু অরিজিন’ থিমে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল প্রেজেন্টস ‘মার্ভেল অব টুমরো’ সিজন ৫

বিনোদন ডেস্ক : ‘শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ, স্মৃতির সঙ্গে নতুনত্বের মেলবন্ধন’—এই ভাবনাকে ধারণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল প্রেজেন্টস ‘মার্ভেল অব টুমরো’-এর পঞ্চম আসর। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ব্যাক টু অরিজিন’, যেখানে নব্বইয়ের দশকের সংস্কৃতি, নস্টালজিয়া ও সৃজনশীল চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্ভাবনী ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পার্সোনাল কেয়ার ব্র্যান্ড মেরিল-এর টাইটেল স্পনসরশিপে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ভবিষ্যতের প্রতিভাবান কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বীকৃতি ও উদ্‌যাপনের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবারও নিজস্ব অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

এবারের আয়োজনে দেশের উদীয়মান ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বীকৃতি দিতে মোট ২৪টি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নিজেদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও ব্যতিক্রমী কাজের মাধ্যমে যারা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন এবং দর্শক ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব রাখছেন, তাদেরই এই আয়োজনের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়। প্রতিটি ক্যাটাগরি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের সৃজনশীল ক্রিয়েটরদের উদযাপন করেছে। মেরিল বিশ্বাস করে, নতুন কিছু সৃষ্টি করার শক্তি আসে নিজের গল্প, অভিজ্ঞতা এবং শেকড় বা অরিজিনের সঙ্গে গভীর সংযোগ থেকে।

মেরিলের পক্ষ থেকে অ্যাসপায়ারিং, কমেডি, কনটেন্ট ক্রিয়েশন (এন্টারটেইনমেন্ট), ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট প্রোডাকশন, ড্যান্স, ফ্যাশন ডিজাইনার, ইনস্পায়ারিং চিলড্রেন এবং পডকাস্ট—এই আটটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করতে মেরিল তৈরি করেছিল বিশেষ এক্সপেরিয়েন্স জোন। যেখানে ছিল দুটি নান্দনিক ফটো বুথ। ৯০-এর দশকের আবহে দর্শনার্থীরা তুলে রাখতে পেরেছেন নিজেদের বিশেষ মুহূর্ত। পাশাপাশি মেরিল প্রোডাক্ট এক্সপেরিয়েন্স জোনে অতিথিরা মেরিলের নতুন পণ্যগুলো সম্পর্কে পেয়েছেন কাছ থেকে জানার সুযোগ।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মেরিল বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ও মনে বিশ্বাস এবং যত্নের প্রতীক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মেরিল সবসময়ই আত্মপ্রকাশ, আত্মবিশ্বাস ও নিজস্বতার উদ্‌যাপনে বিশ্বাসী। ‘মার্ভেল অব টুমরো’র এবারের ‘ব্যাক টু অরিজিন’ থিমের মাধ্যমে মেরিল আবারও এই বার্তাই তুলে ধরেছে—আগামীর পথচলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হলো নিজের শেকড়, পরিচয় ও মূল্যবোধের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন জনপ্রিয় ডিজিটাল ব্যাক্তিত্ব রাফসান সাবাব ও আমিন হান্নান। মেরিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিতে সরব হয়ে উঠেছিলো অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ।




নতুন ভিসানীতি করছে সরকার, মন্ত্রিসভায় খসড়া উপস্থাপন

ডেস্ক নিউজ : নতুন ভিসানীতি প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। ২০০৬ সালে ভিসানীতি সংশোধন করে নতুন এই নীতি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভিসানীতির প্রণয়নের একটি খসড়া উপস্থাপন করা হয়।

এর খসড়া পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈঠকের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা, পারস্পরিকতা নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা করা এবং আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ভিসা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।




আরব সাগরে মার্কিন হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ, ক্রু নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ করেছে। এ ঘটনায় হেলিকপ্টারটির চারজন ক্রুর মধ্যে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে সমুদ্রে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে। বুধবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ-এ দায়িত্ব পালনরত একটি সি হক হেলিকপ্টার আরব সাগরে জরুরি অবতরণ করে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের শত্রুপক্ষের হামলা বা আক্রমণের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

উদ্ধার হওয়া তিন ক্রুকে দ্রুত বিমানবাহী রণতরীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

অন্যদিকে, নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করতে ওই এলাকায় নৌবাহিনীর একাধিক ইউনিট যৌথভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কী কারণে হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল, তা জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা হবে না।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে হরমুজ প্রণালিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মার্কিন বাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার সাগরে ডুবে যায়। তবে সে ঘটনায় পাইলট দুর্ঘটনার আগেই নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।




রুশ সেনাদের গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন, কী নিয়ে ছিল সেই প্রশিক্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত বছর রুশ বাহিনীকে গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন। খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই প্রশিক্ষণের অনুমোদন দেন। এতে দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্তত চার জেনারেল সরাসরি অংশ নেন। দুজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা ও রয়টার্সের দেখা কিছু নথিপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এমন প্রশিক্ষণে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি প্রমাণ করে, রাশিয়া ও চীন উভয় দেশই এই সহযোগিতাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। বেইজিং এই প্রশিক্ষণের কথা অস্বীকার করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

রয়টার্স রাশিয়ার একটি গোপন নথি হাতে পেয়েছে। সেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভের জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ ডিক্রির (আদেশ) কথা সরাসরি উল্লেখ আছে। ডিক্রিটি ২০২৫ সালের আগস্টে জারি করা হয়।

ওই নথিতে বলা হয়, বেলোসভের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল চীনে যায়। সেখানে তারা চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) স্থাপনায় সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।

তেজস্ক্রিয়, জৈব ও রাসায়নিক যুদ্ধবিদ্যার প্রশিক্ষণ

একই নথিতে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। বেইজিংয়ের একটি সামরিক স্থাপনায় নভেম্বরে তিন সপ্তাহের একটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মূলত তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈব সুরক্ষা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রথম ও দ্বিতীয় আরেকটি নথিতে প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বর্ণনা ও কিছু ছবি যুক্ত করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, এক চীনা প্রশিক্ষক রুশ সেনাদের ক্লাস নিচ্ছেন। সেনারা পারমাণবিক চুল্লির একটি মডেল দেখছেন। সেখানে তাঁদের ‘রাসায়নিক নজরদারি’, ‘তেজস্ক্রিয় নজরদারি’ ও দূষণ থেকে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা (ভেন্টিলেশন সিস্টেম) সুরক্ষার কৌশল শেখানো হচ্ছে।

ইউরোপের এক কর্মকর্তা বলেন, তেজস্ক্রিয়, জৈব ও রাসায়নিক যুদ্ধবিদ্যার অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে এই সামরিক আদান–প্রদান কতটা কৌশলগত। যেকোনো সামরিক বাহিনীর জন্যই এসব বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। তবে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইউক্রেন সংকটে তাদের অবস্থান আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

রয়টার্সের এই প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘এ–সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো যুদ্ধের বিষয়ে বেইজিং বরাবরই নিজেদের নিরপেক্ষ বলে দাবি করে আসছে। তারা নিজেদের শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরছে।

ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক নথির বরাতে গত মাসে রয়টার্স আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, নভেম্বরে চীন প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন।

গত মাসের ওই প্রতিবেদন নিয়ে ক্রেমলিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ‘ভুয়া খবর’ ছড়াচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়কের প্রধান কায়া কালাস গত ১৫ জুন একটি বিবৃতি দেন। তিনি জানান, ব্রাসেলস নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এখন তাঁরা এর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করে দেখছেন।

বেইজিং অবশ্য কায়া কালাসের এই মন্তব্যকে ‘স্রেফ অপবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

চীনকে মোকাবিলায় ইইউর ভাবনা

২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়াকে তাদের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন হলো ইইউর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। মস্কো ও বেইজিংয়ের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এখন ইউরোপ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

২৭ সদস্যের ইউরোপীয় জোটের ভেতরে এখন রুদ্ধদ্বার আলোচনা চলছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক মূলত বাণিজ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই বাণিজ্যিক অগ্রাধিকারের কথা মাথায় রেখে চীনের ওই প্রশিক্ষণের জবাবে আরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে নেতারা আলোচনা করছেন।

রাশিয়াকে যুদ্ধে সহায়তা করার অভিযোগে ইইউ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি চীনা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ব্রাসেলসের তৃতীয় এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, জোটের এখন চীনকে শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে দেখা বন্ধ করতে হবে; বরং রাশিয়ার যুদ্ধে চীন যে ‘নির্ণায়ক সহায়তাকারী’ হিসেবে কাজ করছে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

ইউরোপীয় ওই দুই কর্মকর্তা ২ জুলাই স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির কথা জানান। ওই চুক্তির ভিত্তিতেই প্রশিক্ষণটি পরিচালিত হয়েছে। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন রাশিয়ার মেজর জেনারেল রুস্তম খুসাইনভ ও চীনের সিনিয়র কর্নেল সান দায়ুন। তথ্যের সংবেদনশীলতার কারণে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আন্দ্রেই কার্তাপোলভ রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটিভিআই–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রশিক্ষণের এই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, চীনের কাছ থেকে রুশ সেনাবাহিনীর কিছুই শেখার নেই।

চীনের বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাব

ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে লড়াই করছে রাশিয়া। এতে তারা যুদ্ধের ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে চীনের বিশাল ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত আধুনিক সেনাবাহিনী থাকলেও কয়েক দশক ধরে তারা কোনো যুদ্ধ লড়েনি।

রয়টার্সের দেখা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সামরিক নথিতে এই প্রশিক্ষণের শক্তি ও দুর্বলতার দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

নানজিংয়ে হওয়া প্রশিক্ষণ নিয়ে নথিতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে চীনের আধুনিক সরঞ্জাম, সিমুলেটরের ব্যবহার ও প্রশিক্ষকদের উচ্চ স্তরের তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রশংসা করা হয়। তবে একই সঙ্গে চীনের বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাবের বিষয়টিও সেখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

অন্যান্য নথিতে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তিন জেনারেলের নাম রয়েছে।

রয়টার্সের দেখা রাশিয়ার একটি সামরিক নথিতে সব কোর্সে অংশ নেওয়া প্রত্যেক সদস্যের নামের তালিকা রয়েছে। সেখানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নামও আছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীর পদবি, জন্মতারিখ, কর্মস্থলের পরিচয় ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের স্তর উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকা ও রয়টার্সের দেখা দ্বিতীয় একটি সামরিক নথি অনুযায়ী, রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কর্নেল জেনারেল রুস্তম মুরাদভ। তিনি রাশিয়ার স্থলবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার–ইন–চিফ।

দ্বিতীয় নথিতে দেখা যায়, চীনের মেজর জেনারেল লি জিনসুন একটি কোর্সের উদ্বোধনে অংশ নেন। তিনি পিএলএর মিলিটারি একাডেমি অব রেডিওলজিক্যাল, কেমিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল ডিফেন্সের প্রধান।

এ ছাড়া তালিকা অনুযায়ী, রাশিয়ার মেজর জেনারেল ভিতালি গেরাসিমভ বেংবু শহরে হওয়া একটি কোর্সে অংশ নেন।




হাবিপ্রবির ৬ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার, ৬০ জনকে শাস্তি

ডেস্ক নিউজ : দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) দুইটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার এবং ৬০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর হাবিপ্রবির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে গতকাল বুধবার রাতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।’

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ২১ মে শহীদ আবরার ফাহাদ আবাসিক হল এবং নূর হোসেন আবাসিক হলে অবস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

আজীবন বহিষ্কার হওয়া ৬ শিক্ষার্থী হলেন অ্যাগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নাইমুর রহমান দুর্জয়, অর্থনীতি বিভাগের সাকির মাহমুদ, ইংরেজি বিভাগের আসিফ হোসেন, ফুড অ্যান্ড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আসাদুজ্জামান সাগর, ইসিই বিভাগের সৌরভ আহমেদ এবং হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তাসরিয়াফ ইসলাম প্রান্তিক।

এ ছাড়া ৮ জন শিক্ষার্থীকে ৬ মাসের জন্য আবাসিক হল থেকে বহিষ্কারসহ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এক সেমিস্টার একাডেমিক কার্যক্রম ও হল থেকে বহিষ্কার এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার সুপারিশ করা হয়েছে ৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

অস্ত্র হাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধনের দায়ে ৪৬ শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টার একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধসহ আজীবন হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও তাদের অভিমতের ভিত্তিতে এ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়েছে।’




ফ্রান্স আমাদের চেয়ে ভালো দল নয়, বললেন ইয়ামাল

ক্রীড়া ডেস্ক : সর্বশেষ দুই আসরেই ফাইনাল খেলেছে ফ্রান্স, একবার তো হয়েছে চ্যাম্পিয়নও। এবারও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ফেবারিট হিসেবে আসছে ফ্রান্সের নাম। গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে শেষ ৩২–এ উঠেছিল তারা, এই পর্বেও ফ্রান্স হারিয়েছে সুইডেনকে।

সব ম্যাচেই দিদিয়ের দেশমের দাপট দেখানো পারফরম্যান্স ছিল। সবারই তাই ফ্রান্সের প্রতি একটা আলাদা সমীহ আছে। তবে এ ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামাল। শেষ ৩২–এ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ফ্রান্সের চেয়ে স্পেনই ভালো দল।

তাঁর কথাগুলো ছিল এমন, ‘হারানো অসম্ভব এমন কোনো দল নেই। ফ্রান্স আমাদের চেয়ে ভালো দল নয়। ইউরোর পর থেকে ওরা আমাদের হারাতেও পারেনি। এখানে কেউ ফেবারিট নয়, কেউ আমাদের চেয়ে এগিয়েও নেই…যেকোনো টুর্নামেন্টে নামার আগে আমি সব সময় জয়ের কথাই ভাবি। এখন আমার মাথায় একটাই চিন্তা, আমি বিশ্বকাপ জিততে যাচ্ছি।’

২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। পরে তারা নেশন্স লিগেও হারিয়েছে ফ্রান্সকে। এখন তাই তাদের নিয়ে খুব ভাবার কারণও নেই ইয়ামালের। বরং বিশ্বজয়ের স্বপ্নেই তিনি বিভোর।