শিল্পকলায় আজ থেকে ‘নতুন নাটকের উৎসব ২০২৬’

বিনোদন ডেস্ক : দেশীয় নাট্য সংস্কৃতির বিকাশ ও নতুন সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে আট দিনব্যাপী নতুন নাটকের উৎসব। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। নতুন নাটক তৈরি এবং দর্শকদের নাটকের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।

এবারের উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট আটটি নাট্যদল তাদের নতুন নাটক মঞ্চায়ন করবে। উদ্বোধনী দিনে দিনাজপুর নাট্য সমিতির বিশেষ নাটক প্রদর্শিত হবে। এছাড়া বান্দরবানের একটি ঐতিহ্যবাহী দলসহ দেশের নামকরা বেশ কয়েকটি নাট্য সংগঠন এই উৎসবে অংশ নিচ্ছে, যা নাটকপ্রেমীদের মাঝে আলাদা উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মূল নাটক মঞ্চায়নের আগে থাকবে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাটকের গান পরিবেশনা। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের আটটি দল এই সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নেবে।

এছাড়া উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী ১৫ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত তরুণ ও উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালারও আয়োজন করা হয়েছে।




বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪০৪ মিলিয়ন ডলারের ঋণ-অনুদান চুক্তি

ডেস্ক নিউজ : দেশের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকাস্থ বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) অর্থায়নে ‘হেলথ, নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এইচএনপিএডিপি)’ বাস্তবায়নের জন্য এ অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে। ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ২৮৪ দশমিক ৭০ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) বা সমপরিমাণ ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে। পাশাপাশি, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (জিএফএফ) থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে মোট অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এ অর্থায়নের আওতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদে দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

এর মধ্যে ‘হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং প্রজেক্ট’ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো সারাদেশে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মান ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা জোরদার এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কার্যকারিতা উন্নয়ন।

অন্যদিকে, ‘ক্লাইমেট রেসপনসিভ রিপ্রোডাকটিভ হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং প্রজেক্ট ফর রেজাল্টস’ প্রকল্পটি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সেবার গুণগত সম্প্রসারণ, দক্ষতা ও সমতা বৃদ্ধি করা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৩৭৯ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ এবং ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অনুত্তোলিত ঋণের ওপর বার্ষিক ০ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য থাকবে।

তবে বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে চলতি অর্থবছরসহ এ কমিটমেন্ট ফি আদায় থেকে বিরত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।




৪৮ দলের বিশ্বকাপ: কোন গ্রুপে সবচেয়ে কঠিন লড়াই?

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ৪৮টি দল, ১২টি গ্রুপ এবং তিনটি আয়োজক দেশ—সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টটি কেবল ফুটবল নয়, এক বিশাল বৈশ্বিক মহাযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। গ্রুপ পর্বেই এবার দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যেখানে ফেভারিট দলগুলোর পাশাপাশি একাধিক ডার্ক হর্স তৈরি করছে অঘটনের সম্ভাবনা।

এবার গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘কোনো গ্রুপই সহজ নয়’। প্রতিটি গ্রুপেই অন্তত একটি করে দল রয়েছে, যারা বড় দলকে চাপে ফেলতে পারে বা অঘটন ঘটাতে পারে।

গ্রুপ A: আয়োজক মেক্সিকোর চাপ ও প্রত্যাশা

আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকো স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ ও প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচ তাদের জন্য বড় সুযোগ হলেও সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে যেতে না পারার ব্যর্থতা এখনো প্রশ্ন হয়ে আছে।

এ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে বড় মঞ্চে ভালো পারফর্ম করে আসছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ইউরোপিয়ান দল বড় ম্যাচে অঘটন ঘটাতে সক্ষম। ফলে এই গ্রুপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।

গ্রুপ B: কানাডার স্বপ্ন, সুইস বাধা

নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়ে নামছে কানাডা। তবে ইউরোপের অভিজ্ঞ শক্তি সুইজারল্যান্ড এই গ্রুপের ফেভারিটদের অন্যতম।

কাতার ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মধ্যম শক্তির দলগুলো এখানে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

গ্রুপ C: ব্রাজিলের সামনে কঠিন পরীক্ষা

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু গ্রুপ পর্বেই তাদের সামনে কঠিন বাধা।

২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো এখন আর কোনো আন্ডারডগ নয়, তারা এখন বিশ্ব ফুটবলের প্রতিষ্ঠিত শক্তি। স্কটল্যান্ডের শারীরিক ফুটবল এবং হাইতির অপ্রত্যাশিত আক্রমণ এই গ্রুপকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

গ্রুপ D: যুক্তরাষ্ট্রের হোম চ্যালেঞ্জ

আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী তরুণ স্কোয়াড নিয়ে খেলছে। তবে তাদের পথ সহজ নয়।

তুরস্ক ইউরোপের উদীয়মান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া এবং প্যারাগুয়ে, দুটি দলই শারীরিক ও দ্রুতগতির ফুটবলে ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ।

গ্রুপ E: জার্মানির পুনর্জাগরণের মঞ্চ

দুই বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর জার্মানি এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায়। কিন্তু আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট এবং লাতিন আমেরিকার ধারাবাহিক দল ইকুয়েডর তাদের জন্য বড় বাধা।

এছাড়া কুরাসাও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে এসে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্রুপ F: সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই

নেদারল্যান্ডস এখানে ফেভারিট হলেও জাপান সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে বড় দলকে হারানোর ইতিহাস তৈরি করেছে।

সুইডেন ও তিউনিসিয়া শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের জন্য পরিচিত। ফলে এই গ্রুপে পয়েন্ট হারালেই বিদায়ের ঝুঁকি।

গ্রুপ G: বেলজিয়ামের শেষ অধ্যায়?

বেলজিয়াম-এর ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর জন্য এটি শেষ বড় সুযোগ হতে পারে। তবে মিশর ও ইরান বড় অঘটনের ক্ষমতা রাখে। নিউজিল্যান্ডের মতো দলও এখানে সহজ প্রতিপক্ষ নয়।

গ্রুপ H: ইউরোপ-দক্ষিণ আমেরিকার শক্তির লড়াই

স্পেন ও উরুগুয়ে—দুটি বিশ্বকাপজয়ী শক্তি একই গ্রুপে। এখানে সৌদি আরব ইতিমধ্যেই বড় অঘটনের ইতিহাস লিখেছে। কেপ ভার্দেও নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত।

গ্রুপ I: সম্ভাব্য ‘গ্রুপ অব ডেথ’

বিশেষজ্ঞদের মতে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এখানে ফেভারিট হলেও তাদের পথ সহজ নয়।

সেনেগাল আফ্রিকার সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি। নরওয়ে-তে আছেন আরলিং হালান্ডের মতো বিশ্বমানের তারকা। ইরাকও লড়াইয়ের মাধ্যমে চমক দিতে পারে।

গ্রুপ J: আর্জেন্টিনার নতুন ইতিহাসের মিশন

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে। ১৯৬২ সালের পর কেউ এই কীর্তি করতে পারেনি।

অস্ট্রিয়া ও জর্ডান এই গ্রুপে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে প্রতিটি ম্যাচেই চাপ থাকবে আর্জেন্টিনার ওপর।

গ্রুপ K: পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়ার লড়াই

পর্তুগাল ও কলম্বিয়া—দুটি দলই আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত। উজবেকিস্তান প্রথমবার বিশ্বকাপে এসে নতুন ইতিহাস লিখতে চায়। কঙ্গোও দীর্ঘদিন পর ফিরে এসেছে, যা গ্রুপটিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

গ্রুপ L: ইংল্যান্ডের কঠিন পথ

ইংল্যান্ড ফেভারিট হলেও তাদের গ্রুপ মোটেও সহজ নয়।

ক্রোয়েশিয়া বড় টুর্নামেন্টে সবসময়ই শক্ত প্রতিপক্ষ। ঘানা আফ্রিকার অন্যতম বিপজ্জনক দল, আর পানামা প্রতিবারই উন্নতি করছে।

৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে গেছে এক নতুন উচ্চতায়। এখন আর কোনো গ্রুপই সহজ নয়। প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠতে পারে টার্নিং পয়েন্ট।

এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে ফেভারিটদের চাপ সামলানো এবং ডার্ক হর্সদের উত্থান। আর সেই অপ্রত্যাশিত গল্পগুলোই হয়তো আবারও বিশ্বকে মনে করিয়ে দেবে, বিশ্বকাপ কেন সত্যিই ‘The Greatest Show on Earth’।




ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠিন হামলা চালাতে যাচ্ছি: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কোনও শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠিন হামলা চালাবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১০ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানে হামলার বিষয়ে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পক্ষ থেকে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‌‌‘আমরা তাদের ওপর হামলা চালাতে যাচ্ছি, খুব জোরালো হামলা চালাব এবং আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করব।’

তিনি বলেন, বুধবারই ইরানে আঘাত হানা হবে। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তি চাই যা অর্থবহ, আমরা এমন একটি চুক্তি চাই, যা কার্যকর হবে।’

মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে ইরান ইতোমধ্যে সম্মতি জানিয়েছে। তবে চুক্তিটিতে এখনও স্বাক্ষর বাকি রয়েছে। দেখা যাক কী ঘটে। তবে আমরা গতকাল তাদের ওপর জোরালো আঘাত হেনেছি এবং আজ আবারও তাদের ওপর জোরালো আঘাত হানতে যাচ্ছি…।’

তিনি বলেন, আর চুক্তির ব্যাপারে কী হয় সেটিও আমরা দেখব। আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের শুধু ঝুলিয়ে রাখছে, আমাদের বোকা বানাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স।




স্পাই ইউনিভার্সে নতুন মিশন ‘আলফা’, চমকে দিলেন আলিয়া

বিনোদন ডেস্ক : বলিউডের জনপ্রিয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশ রাজ ফিল্মস আবারও তাদের স্পাই ইউনিভার্সে নতুন মাত্রা যোগ করল। প্রকাশ পেল তাদের নতুন সিনেমা ‘আলফা’র টিজার, যেখানে প্রথমবারের মতো এক ভয়ংকর ও প্রশিক্ষিত নারী ঘাতকের ভূমিকায় দেখা গেছে আলিয়া ভাটকে।

টিজারে অ্যাকশন, আবেগ ও রহস্যের মিশ্রণে গড়া এই চরিত্র ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। পরিচালনা করেছেন শিব রাওয়াইল এবং প্রযোজনা করেছেন আদিত্য চোপড়া।

টিজারে দেখা যায়, ছোটবেলা থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় আলিয়ার চরিত্রকে। তার ১৮তম জন্মদিনেই তাকে প্রথম হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা থেকেই শুরু হয় তার বিপজ্জনক যাত্রা। চরিত্রটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘আলফা’ নামের একটি গোপন প্রোগ্রাম, যেখানে ভবিষ্যৎ যোদ্ধাদের তৈরি করা হয়।

সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন ববি দেওল এবং অনিল কাপুর। পাশাপাশি আরেক প্রধান চরিত্রে রয়েছেন শর্বরী ওয়াঘ, যার ভূমিকা নিয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘আলফা’ মূলত নারীকেন্দ্রিক একটি অ্যাকশন থ্রিলার, যেখানে দুই নারী চরিত্রের শক্তি ও মানসিক দৃঢ়তাকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়েছে। ভিএফএক্স ও পোস্ট-প্রোডাকশনের কারণে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন করে সিনেমাটি ৩ জুলাই ২০২৬-এ বিশ্বব্যাপী মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, যশ রাজ ফিল্মস স্পাই ইউনিভার্স শুরু হয় ‘এক থা টাইগার’ দিয়ে, এরপর ‘পাঠান’, ‘ওয়ার’ এবং ‘টাইগার’ সিরিজের মাধ্যমে এটি বলিউডের অন্যতম সফল অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত হয়েছে। এবার সেই ইউনিভার্সে যুক্ত হচ্ছে আলিয়ার ‘আলফা’, যা ঘিরে ইতোমধ্যেই দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে।




৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে, লন্ডনে কেমন আছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন

বিনোদন ডেস্ক : চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে জীবনের এক কঠিন অধ্যায় অতিক্রম করছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবন ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার পর এখন তার সময় কাটছে চিকিৎসা, হাসপাতাল এবং পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন গত বছর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেখানে মেয়ের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করা সম্ভব হলেও জটিলতার ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরানো যায়নি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত। এরপর থেকেই তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চলমান রয়েছে। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করে যাচ্ছেন।

অস্ত্রোপচারের শেষে শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে চলছে দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি। পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় এরই মধ্যে প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি এখন দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিচ্ছেন।

তবে এত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। বুধবার (১০ জুন) সকালে তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। উন্নতিও নেই। বর্তমানে যে থেরাপি চলছে, তা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা কী, তা নতুন করে জানাবেন এবং পরবর্তী করণীয় কী, তা জানাবেন।

চিকিৎসকের বরাতে লিটন এরশাদ জানালেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। যদিও তা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা। তাদের আশা, দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ হলে শারীরিক অবস্থার কিছু উন্নতি দেখা যেতে পারে।

তবে প্রতিদিনের বাস্তবতা সহজ নয়। লিটন এরশাদ জানান, কাঞ্চন ভাই এখন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারেন, কিন্তু কথাবার্তায় জড়তা রয়েছে। অনেক সময় কয়েক মিনিট কথা বলার পর তিনি পুরো বাক্য শেষ করতে পারেন না। একটি পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও কষ্ট হয় তার। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটিও আগের মতো নেই।

একসময় চলচ্চিত্রের শুটিং, সামাজিক কর্মসূচি আর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে যার দিন-রাত কেটে যেত, সেই মানুষটির সময় এখন কাটছে হাসপাতালের ফলোআপ আর মেয়ের লন্ডনের বাড়ির চারদেয়ালের মধ্যে। স্বভাবতই এই পরিবর্তন তাকে অস্থির করে তোলে। তবু পরিবারের ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

মেয়ে, জামাতা এবং নাতি–নাতনিদের সঙ্গেই কাটছে তার বেশির ভাগ সময়। কখনো তাদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, কখনো পারিবারিক আড্ডা—এই ছোট ছোট মুহূর্তই কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে তার দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে। সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু হাসিমুখের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুস্থতার পথ এখনো দীর্ঘ।




মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দিয়ে তানিয়া বৃষ্টি নিজেই বললেন ‘ভালো আছি’

বিনোদন ডেস্ক : ছোটপর্দার আলোচিত অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন তানিয়া বৃষ্টি। গত কয়েক মাস ধরেই তার শারীরিক অবস্থা খারাপ। এরইমধ্যে হঠাৎ তার অসুস্থতা ও মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তার ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা। বিষয়টি জানতে পেরে গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে তানিয়া বৃষ্টি জানিয়েছেন, জীবিত আছেন তিনি, ভালো আছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় থেকে বিশ্রামে আছেন। বলেন, ‘মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। বাসাতেই আছি আমি। পরিপূর্ণ বিশ্রামে আছি।’

তানিয়া বৃষ্টি জানান-এখন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চেকআপও করাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডাক্তার রয়েছেন, সেখানে নিয়মিত চেকআপ করাতে হয়। আমি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চলছি।’

আগামী ২০ জুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তানিয়া বৃষ্টি। তিনি বলেন, ‘দুটি সার্জারি হয়েছে, তৃতীয় সার্জারি করাতে কিছুটা সময় লাগবে। মাথায় নতুন করে কোনো জটিলতা যেন না হয়, এ কারণে বাসায় বেশি থাকি। এখন খুব একটা বাইরে বের হই না।’

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এ অভিনেত্রী। পরে জানা যায়, মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হয়েছে। ওই মাসেই অস্ত্রোপচার করে টিউমার অপসারণ করা হয়। তারপর থেকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তারপর গত ৯ মার্চ ভারতের চেন্নাইয়ে যান উন্নত চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দেশে ফেরেন। এরপর থেকে বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন।

এ অভিনেত্রী ওই সময় দেশে ফেরার পর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক আরও একটি অস্ত্রোপচার করাতে হবে। কিন্তু সেটি এখনই করা যাবে না। এ জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তৃতীয় সার্জারিও করাতে হবে। যেহেতু কিছুটা সময় লাগবে, তাই এখন বিশ্রামে থেকে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ছোটপর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তানিয়া বৃষ্টি। ২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয়। পরে ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী।




হরমুজ প্রণালীতে ‘চুইয়ে’ বের হচ্ছে তেল: সিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের কারণে গত তিন মাস ধরে কার্যত অচল বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এর জেরে ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকট চলছে বিশ্বজুড়ে। কিন্তু তারপরও কেন তেলের বাজার এখনও তুলনামূলক শান্ত? এটি যেন এই মুহূর্তে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত তিন মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত চলছে। এর জেরে ইরান বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ। এতে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কার তুলনায় তীব্রভাবে বাড়েনি।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে এই পথে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল নেমে এসেছে মাত্র ১৫ শতাংশে।

তবে বিস্ময়করভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও বড় ধরনের সংকটের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একটি কারণ হতে পারে- হরমুজ প্রণালীর ওপর আরোপিত কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও কিছু পরিমাণ তেল গোপনে বা নজর এড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

‘গোপন প্রবাহ’ সামলাচ্ছে বাজারের ধাক্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু তেলবাহী জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে নজরদারি এড়িয়ে হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে। এসব তেল পরিবহনকে বলা হচ্ছে ‘ক্ল্যান্ডেস্টাইন ফ্লো’ বা গোপন প্রবাহ।

জেপি মরগানের তথ্যানুযায়ী, মে মাসের শেষ দুই সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল তেল এভাবে পরিবহন হয়েছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ব্যারেল তেল যেতো। সেই তুলনায় এই পরিমাণ কম হলেও বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা এক নোটে লিখেছেন, “নৌ অবরোধ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বড় পতন সত্ত্বেও আশ্চর্যজনক পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হচ্ছে।”

‘ভূতের মতো’ জাহাজ চলাচল
র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি বলেন, গোপন তেল পরিবহন সংকটকে কিছুটা বিলম্বিত বা কম তীব্র করতে পারে।

তিনি বলেন, “আমরা ধারণা করেছিলাম যুদ্ধের পর হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন শূন্য থেকে ১০ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু এই গোপন প্রবাহের কারণে প্রকৃত পরিমাণ কিছুটা বেশি হতে পারে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রবাহ সংকট পুরোপুরি এড়ানোর মতো যথেষ্ট নয়, বরং এটি শুধু বাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমাচ্ছে।

পাইপার স্যান্ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ও কৌশলবিদ জান স্টুয়ার্টের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে প্রতিদিন প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল এমন জাহাজ বহন করেছে, যেগুলো ইরানি সংস্থাকে ফি দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল ছিল ‘ভূতের মতো’ পরিবহন- অর্থাৎ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে অন্ধকারে চলাচল করা জাহাজ।

স্টুয়ার্ট বলেন, “এই গোপন প্রবাহ সংকট সামলাতে সাহায্য করছে। বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা আমার ধারণার চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।”

চীনের আমদানি কমানোও বড় কারণ
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারে নেমে আসে। যুদ্ধের আগে যেখানে দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, সেখানে এটি বেশি হলেও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারের তুলনায় কম।

তবে বাজার স্থিতিশীল থাকার পেছনে শুধু গোপন তেল পরিবহনই নয়, আরও কয়েকটি কারণ কাজ করছে।

পাইপার স্যান্ডলারের হিসাবে, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগর থেকে বিকল্প পথে বের হচ্ছে। এর বড় অংশ যাচ্ছে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে, যা দেশটির তেলক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এছাড়া বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে এবং নিজেদের বড় মজুত থেকে চাহিদা পূরণ করছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকটের চাপ কিছুটা কমেছে।

জেপি মরগানের কানেভা বলেন, চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মজুত পরিস্থিতি সামাল দিতে ভূমিকা রাখছে। তার মতে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকা মানে এই নয় যে সংকট ছোট; বরং বাজার ব্যয়বহুল উপায়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।

সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে
তবে কিছু জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, বাজার বর্তমানে বিকল্প ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত ঝুঁকি পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। যুদ্ধ শুরুর পর বাণিজ্যিক তেলের মজুত দ্রুত কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে।

জান স্টুয়ার্ট সতর্ক করে বলেন, “পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে যাচ্ছে।”

তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেছেন, জুলাই ও আগস্টে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ ডলারে উঠতে পারে। এমন হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালন ৫ ডলারের বেশি হতে পারে, যেখানে বর্তমানে তা প্রায় ৪ দশমিক ২০ ডলার।

স্টুয়ার্টের মতে, আরও জরুরি তেল ছাড়তে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহার কমাতে হলে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, “মানুষকে পরিবর্তনে রাজি করাতে হবে। আর দাম বেশি হলে সেটি করা অনেক সহজ হয়।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িকভাবে বাজারকে স্থিতিশীল রাখলেও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন




কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে যান চলাচল ব্যাহত

ডেস্ক নিউজ : কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও সিরাজদিখান উপজেলায় সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে সৃষ্টি হয় সাময়িক যানজট।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ও মানাবেরসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ের কারণে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ অপসারণ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, একই দিন বিকেল ৪টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া এলাকায় একটি মালবোঝাই অটোরিকশার ওপর গাছ পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সিরাজদিখান-নিমতলা সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

পরে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ অপসারণ করে সড়কটি পুনরায় যান চলাচলের উপযোগী করে তোলে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অটোরিকশার চালক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের ইউনিটগুলো সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।




২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ক্রীড়া ডেস্ক : দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালের কার্ডিফের স্মরণীয় জয়ের পর এবার আবারও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারাল টাইগাররা। বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

আজ মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে ২৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ। পরে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ থেমে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হয় ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রানে। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাংলাদেশকে জয়ী ঘোষণা করেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা।

অস্ট্রেলিয়া রান তাড়ায় নামলে শুরুতেই আঘাত হানে টাইগার পেসাররা। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাট শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়াকে আরও চাপে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

এরপর নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের আগুনে বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। কুপার কনোলি (৩৫), অ্যালেক্স ক্যারি (৪৭) ও ম্যাট রেনশসহ (২) একের পর এক ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

নাহিদ রানা ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স করেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগার এটি। মোসাদ্দেকও বল হাতে ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন।

এর আগে ব্যাট হাতে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর দলে ফিরে ছয় নম্বরে নেমে ৭০ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ৩ ছক্কা।

বাংলাদেশের পক্ষে নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৬৭ রান এবং তানজিদ হাসান তামিম করেন ৫৪ রান। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ১৫ বলে ২০ রান যোগ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। এছাড়া ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট নেন ২টি করে উইকেট।

এই জয়ের মাধ্যমে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় জয়, এবং ২০০৫ সালের কার্ডিফের পর প্রথম সাফল্য। একই মাঠে আগামী বৃহস্পতিবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।