ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ

ডেস্ক নিউজ : বিচারের আগেই কি কাউকে ফাঁসি দেওয়া যায়? এ প্রশ্ন শুনে অনেকেই অবাক হবেন হয়তো, ভাববেন, এটা কি কখনো সম্ভব নাকি? আমাদের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপযুক্ত আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা আইনের শাসনের অন্যতম মৌলিক শর্ত। কিন্তু ইউনূস সরকারের দেড় বছরের শাসনকালে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে প্রতি পদে।

ইউনূসের শাসনামলে সবচেয়ে বড় কালো আইন ছিল দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশোধন। এ আইন সংশোধন করে আন্ডার কাভার তদন্তের নামে হয়রানি, বিচারের আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, সম্পত্তি ক্রোক করার মতো স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দুদক সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দুদক আইন-২০০৪-এর অধিকতর সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ২৩ ডিসেম্বর। নতুন সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। এ দিনেই দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়। ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে পাস হয় ১১৩টি, বাতিল হয় সাতটি। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যে দুদক সংশোধন অধ্যাদেশও ছিল। আইন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ অধিবেশনে উত্থাপনের দিন থেকে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ দিন পার হওয়ার পর ওই ১৩টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। গত ১১ এপ্রিল থেকেই আগের দুদক আইন-২০০৪ পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ গ্রহণ না করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ ওই অধ্যাদেশ ছিল সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থি। এতে তদন্ত ও বিচার ছাড়াই সম্পদ জব্দ করাসহ চরম স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কাউকে বিনা বিচারে সাজা দেওয়া কেবল বেআইনি নয়, রীতিমতো অপরাধ। কিন্তু ইউনূস সরকার দেড় বছর ধরে এই কাজটি করছে এ অধ্যাদেশ জারি করে। ইউনূসের কালো আইন বাতিল হলেও এ আইনের আওতায় যারা হয়রানির শিকার হয়েছেন তাদের মুক্তি মেলেনি। অবৈধভাবে যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছিল, যাদের বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং যাদের সম্পত্তি বিচারের আগেই ক্রোক করা হয়েছিল, ইউনূসের কালো আইন বাতিলের ফলে সেসব কর্মকাণ্ড আপনাআপনিই আইনবহির্ভূত হয়ে যায়। তার পরও ভুক্তভোগীরা এখনো প্রতিকার পাননি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউনূসের এ কালো আইনে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী এবং নিরীহ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। তদন্তের আগেই প্রায় ১ হাজার শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ৫৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি। ইউনূসের এ কালো আইনের কারণে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দেন। ফলে নতুন করে বেকার হয়ে পড়ে কয়েক লাখ মানুষ। একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণে বহু ভালো ব্যবসায়ী নতুন করে ঋণখেলাপি হয়েছেন। খেলাপি ঋণের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরও চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১ তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এর আগে কখনো হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। কেবল দুর্বল ব্যাংক নয়, এবার আর্থিক সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক ও বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

এটি ইউনূসের কালো আইনের ফল। যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে তারা ঋণ পরিশোধ করবেন কীভাবে? আজ বিশ্বায়নের যুগে ব্যবসা করতে বিদেশ যেতেই হবে। কিন্তু বছরের পর বছর যদি উদ্যোক্তা, শিল্পপতিদের বিদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা থাকে তাহলে তারা ব্যবসা করবেন কীভাবে? বিদেশে যেতে না পারায় অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে আর্থিক খাতে এবং অর্থনীতিতে।

বেসরকারি খাত এ কালো আইনের কারণে বিপর্যস্ত। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। ইউনূসের এ কালো আইনে দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ হয়েছে। দুর্নীতি দমন এবং অর্থ পাচার এখন সব দেশেরই বড় সমস্যা। কিন্তু পৃথিবীর কোথাও এরকম নিকৃষ্ট কালো আইন নেই। ভারতে ১৯৮৮ সালে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়, যা ২০১৮ সালে সংশোধন করা হয়।

অন্যদিকে, অর্থ পাচার প্রতিরোধে ২০০২ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। ভারতে দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে বলা হয় সিবিআই (কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা)। অন্যদিকে অর্থ পাচার তদন্ত করে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)।

ভারতের আইনে তদন্তকারী সংস্থা আদালতের রায়ের আগে কারও সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে পারে না। শুধু চার্জশিট প্রদানের পর আদালতের অনুমতি-সাপেক্ষে লেনদেন সীমিত করতে পারে। যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি পুরো টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যেতে না পারে। ভারতে বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট প্রদান করতে হয়। কেবল অভিযোগ আছে এ কারণে বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায় না।

এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে। ভারতে বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই তা অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। এরকম নিষেধাজ্ঞা জারির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সময়কাল আদালতে পেশ করতে হয়। পাকিস্তানে এখনো ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন আইন কার্যকর। যে আইনে একমাত্র আদালতে দোষী প্রমাণিত হলেই কেবল তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা সম্পদ জব্দ করা যায়। পাকিস্তানে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায়। এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ উল্লেখ করতে হবে।

যুক্তরাজ্যে দুর্নীতি এবং অর্থ পাচার (Money Laundering) রোধে অত্যন্ত কঠোর আইনি কাঠামো রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ‘ক্লিন মানি’ বা স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করে। ব্রিবারি অ্যাক্ট-২০১০ (Bribery Act 2010), যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতিবিরোধী আইন, যা ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এ আইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার অধিকার নেই। শুধু ব্যাংক হিসাব বিবরণীর যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। প্রসিডিংস অব ক্রাইম অ্যাক্ট ২০০২ (Proceeds of Crime Act 2002-POCA) : এ আইনের অধীনে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ (যেমন- দুর্নীতি, মাদক বা অপরাধের অর্থ) এ আইনে প্রাথমিক তদন্তের পর যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ চিহ্নিত করে সাময়িকভাবে জব্দ করা যায়। কিন্তু এসব দেশে অন্তহীন সময়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান নেই।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তিকে অন্তহীন মেয়াদে বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোনো স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দুদক বনাম জি বি হোসেন মামলার ঐতিহাসিক রায়ে বলেছে, ‘একজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে শুধু এ যুক্তিতে তাকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া যায় না। কেবল ফৌজদারি মামলায় আছে এ অজুহাতে সংবিধানের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’ (৭৪ ডিএলআর)।

ইউনূস আমলে কেবল সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি আপিল বিভাগের রায় অমান্য করে আদালত অবমাননা করা হয়েছে। বিএনপি সরকার এ কালো আইন বাতিল করেছে। কিন্তু এ আইনের মাধ্যমে যাদের সীমাহীন দুর্ভোগ হয়েছে তাদের হয়রানি থেকে মুক্তি মেলেনি। অনতিবিলম্বে সরকার এ কালো আইনের আওতায় যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়াবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়ে, বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে দেশে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার আশা করি আর বিলম্ব করবে না।

 




৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ফিলিপাইনে নিহত বেড়ে ৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে সোমবার ভোরে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৩৪ জন। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে সরকার।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর কম্পন মিন্দানাওজুড়ে প্রবলভাবে অনুভূত হয় এবং প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও কাঁপুনি টের পাওয়া যায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মিন্দানাওয়ে ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে ৩২ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাসের শহর জেনারেল সান্তোস সিটি। সেখানে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু স্থাপনা ধসে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী জোজো কালমা বলেন, ‘এই প্রথম আমি এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখলাম। সত্যিই নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। আমি আমার সন্তান এবং ভাগ্নির কথা ভাবছিলাম, যদি তাদের কিছু হয়ে যেত?’ ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ভবনের সামনে মোটরচালিত থ্রি-হুইলার ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন। পরে ভবনটি ধসে পড়লেও তিনি অক্ষত থাকেন। তাঁর সন্তানরা তখন স্কুলে ছিল, তবে তারা নিরাপদ আছে। তাঁর ভাইয়ের বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সরকারের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে একটি ফাস্টফুড দোকানসংবলিত ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভবনটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকেন।

দীর্ঘ ছুটির পর স্কুল খোলার পরদিনই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে মোতায়েন করেছে সরকার।

ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগে ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের আট মাস পর এ দুর্যোগ আঘাত হানল। গত বছর মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হন। এর দুই সপ্তাহ পর মিন্দানাওয়ে ৭.৪ মাত্রাসহ আরও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল।




২৭ বছর পর আসছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’

বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার জনপ্রিয় সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ মুক্তির প্রায় ২৭ বছর পর নতুন রূপে ফিরছে পর্দায়। ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ নামে নির্মিত এই রিমেকটি পরিচালনা করেছেন কামরুজ্জামান।

তিনি জানান, প্রায় তিন মাস আগে সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে এটি সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্রও পেয়েছে। এখন সব কিছু ঠিক থাকলে আসন্ন দুর্গাপূজায় ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

রিমেক নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের ছবি রিমেক করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সময়ের কথা মাথায় রেখে আমরা কাজটা করেছি। ছবিটি দেখার পর বাকিটা সবাই বলবেন।’

১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ পরিচালনা করেছিলেন বাসু চ্যাটার্জি।

সিনেমাটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ফেরদৌস ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। নতুন সংস্করণে ফেরদৌসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিয়ান সারোয়ার এবং প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদীর চরিত্রে দেখা যাবে রাদিফা নারমিনকে।

এ ছাড়া ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, ক্রিস্টানো তন্ময়, কায়েস আরজু, মৌ খান ও ঝুনা চৌধুরীসহ অনেকে।

এটি আরিয়ান সারোয়ারের দ্বিতীয় সিনেমা হলেও প্রথমবার তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুটিংয়ের আগে পুরো ছবিটি দেখেছি একাধিকবার।

ফেরদৌস ভাইকে অনুসরণ করেছি, তবে অনুকরণ নয়, পরিচালকের নির্দেশনা ও আমার মতো করে চরিত্রটা পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। তবে অভিনয়জীবনের শুরুতে এটা বড় একটা প্রাপ্তি এমন চরিত্রে অভিনয় করতে পারা।’

‘হঠাৎ বৃষ্টি’ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার অন্যতম সফল সিনেমাগুলোর একটি। মূল ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছিল বাংলাদেশের আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও ভারতের গ্রামকো ফিল্মস। আর নতুন রিমেক ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ প্রযোজনা করেছে আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।




বিশ্বকাপে বেশি গোল করবেন মেসি না রোনালদো? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপ্পের

ক্রীড়া ডেস্ক : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র ৩ দিন বাকি। ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের। বিশ্বকাপ ঘিরে ইতোমধ্যেই চলছে নানা আলোচনা। কে হবেন সর্বোচ্চ গোলদাতা, তা নিয়েও চলছে জোর জল্পনা। এমন সময় নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর সেখানে লিওনেল মেসির চেয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেই এগিয়ে রেখেছেন তিনি।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এমবাপ্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আসন্ন বিশ্বকাপে কোন ফুটবলার সবচেয়ে বেশি গোল করতে পারেন। একের পর এক তুলনায় তিনি স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, মেমফিস ডিপাই, মোহাম্মদ সালাহ ও আর্লিং হালান্ডের চেয়ে এগিয়ে রাখেন।

এরপর নিজের ক্লাব সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বেছে নেন তিনি। এমনকি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের চেয়েও ভিনিসিয়ুসকে এগিয়ে রাখেন। তবে ভিনিসিয়ুস ও মেসির মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হলে এমবাপ্পে মেসির পক্ষেই মত দেন।

কিন্তু মেসি ও রোনালদোর তুলনা আসতেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন ফরাসি অধিনায়ক। তাঁর বিশ্বাস, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মেসির চেয়ে বেশি গোল করবেন রোনালদো। আর শেষ ধাপে যখন রোনালদো ও এমবাপ্পের মধ্যে তুলনা করা হয়, তখন তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকেই এগিয়ে রাখেন।

এবারের বিশ্বকাপ এমবাপ্পের তৃতীয় আসর। ২০১৮ সালে তিনি ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ২০২২ সালে ফ্রান্সকে ফাইনালে তুললেও শিরোপা জেতাতে পারেননি। অন্যদিকে, মেসি ও রোনালদো দুজনই রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। তাই অনেকের মতে, এটিই হতে পারে তাঁদের শেষ বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে আছেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি করেছেন ১৩ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৮ গোল। অন্যদিকে, পর্তুগালের হয়ে ২২টি ম্যাচে রোনালদোর গোল সংখ্যা ৮।

তবে রোনালদোর সামনে এবার একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখনো কোনো গোল করতে পারেননি তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ থাকবে পর্তুগাল অধিনায়কের সামনে।




তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান (তনু) হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।

কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা হলেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম।

মামলার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। শুরু থেকেই তনুর পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বে ছিলেন জাহিদ। বর্তমানে তার বয়স ৪৮ বছর। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন বা অবসরে পাঠানো হয়েছেন।

অপর আসামি শাহীন আলম হত্যার সময় ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার বয়স ৩৭ বছর এবং তিনিও অবসর নিয়েছেন বা অবসরে পাঠানো হয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন করে সন্দেহভাজন এই দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ চান। একই আবেদনে তিনি তনু হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত কোনো তদন্ত-তথ্য সেনাবাহিনীর কাছে থাকলে তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সরবরাহের অনুরোধ করেন। সোমবার মামলার ধার্য তারিখে আদালত এ আদেশ দেন।

তবে তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল। আমরা কুমিল্লায় যাইনি। আদালত কী নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি এখনো জানতে পারিনি। আদেশের কপি হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে সোমবার সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তার বয়স ৫২ বছর। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন বা অবসরে পাঠানো হন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

নতুন তথ্য ও তদন্ত অগ্রগতি
সম্প্রতি মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় আরও একজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে মোট চারজনের নমুনা মিলেছে। আগে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়া যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হলেও নতুন ব্যক্তির ক্ষেত্রে রক্তের নমুনা মিলেছে।

প্রেক্ষাপট
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছাকাছি ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।




জেট ফুয়েলের দাম লিটারে ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমালো বিইআরসি

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থার জন্য জেট এ-১ (জেট ফুয়েল) এর দাম কমিয়েছে।

রোববার (৭ জুন) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সংস্থাটি জানায়, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ০.১০ মার্কিন ডলার কমানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি’র সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার জানান, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের জন্য এই দাম লিটার প্রতি ০.১০১৫ ডলার কমিয়ে ১.০৮২৩ মার্কিন ডলার থেকে ০.৯৮০৮ মার্কিন ডলার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন এই মূল্য আজ ৭ জুন, ২০২৬ তারিখ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

বিইআরসি জানায়, গত ২২ মে, ২০২৬ থেকে ৪ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাটস রেটের গড় মূল্য বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল)-এর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ৩৪ (৪) এবং ৩৪ (৬) ধারা অনুযায়ী বিইআরসি আজ একটি গণশুনানি করে।

গণশুনানিতে ২২ মে ২০২৬ থেকে ৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত জেট এ-১ ফুয়েলের প্লাটস রেটের বিস্তারিত মূল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নিষ্পত্তিতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে জুনের জন্য এই মূল্য নির্ধারন করেছে বিইআরসি।




৭৩ কোটি টাকায় ফিফা বিশ্বকাপের স্বত্ব কিনছে বিটিভি

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সর্বমাধ্যম (অল মিডিয়া) সম্প্রচারস্বত্ব সরাসরি ফিফা থেকে ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে ফিফার কাছ থেকে এই সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের অনুমোদন চেয়ে কমিটির কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এ সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ে মোট চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

প্রস্তাবের আওতায়, বিটিভি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া রাইটস’ অর্জন করবে। যার ফলে রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচার মাধ্যমটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার ও অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিটি প্রস্তাবটির কারিগরি ও আর্থিক দিকসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে এটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা’র সাথে সরাসরি এই ক্রয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে।

সরকারি সম্প্রচার সেবার মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার বড় বড় আসর পৌঁছে দেওয়ার সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলনই এই উদ্যোগ।

প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর, দেশব্যাপী ফুটবলপ্রেমীরা বিটিভির মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সরাসরি সম্প্রচার এবং এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।




আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনীর মর্যাদা ফিরে পেয়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) তার মালিকানাধীন আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম এক লাফে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে।

বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র এক দিনেই গৌতম আদানির সম্পদ প্রায় ২৫০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভাবনীয় উত্থানের পর আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯২০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের আরেক শীর্ষ ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি এবং জাপানের সফটব্যাংক গোষ্ঠীর প্রধান মাসায়োশি সনকে পেছনে ফেলে ধনীর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করলেন। বর্তমানে আম্বানির সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, জাপানের শেয়ারবাজারে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের কারণে মাসায়োশি সনের সম্পদ কমে ৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে গৌতম আদানির এই আধিপত্য বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি পাওয়ার’ বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত আদানির ১৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

শুক্রবার আদানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে তাদের পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’। এটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া তাদের বিদ্যুৎ সঞ্চালন, মূল প্রতিষ্ঠান, বন্দর পরিচালনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সব মিলিয়ে আদানির ছয়টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য এখন প্রায় ১৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ আদানির বিরুদ্ধে আনা একটি বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই তার ব্যবসায় সুবাতাস বইতে শুরু করে। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর থেকে এ পর্যন্ত তার সম্পদ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বেড়েছে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে তার বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ডলারের একটি ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি পেতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছে এবং সেই তথ্য গোপন করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই আদানি ও তার সহযোগীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।

সূত্র: মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস




বিয়ের সাজে অপু বিশ্বাস, ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা

বিনোদন ডেস্ক : প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন কারণে আলোচনায় থাকেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। বিশেষ করে ব্যক্তিজীবন নিয়ে তাকে ঘিরে আলোচনা শেষ নেই। এবার অভিনেত্রীকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে তার সর্বশেষ ফেসবুক পোস্ট ঘিরে।

শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুকে বিয়ের সাজে কয়েকটি নতুন ছবি প্রকাশ করেন অপু। যার ক্যাপশনে তিনি লিখেন, সৌকর্যই মূলত ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়। এমন এক আভিজাত্য ধারণ করেছি, যেটা কোনো শব্দ না বলেও অনেক কিছু বলে দেয়।

ছবিগুলোতে তাকে গাঢ় বেগুনি রঙের শাড়িতে দেখা যায়, যেখানে সূক্ষ্ম জরি ও নকশার কাজ রয়েছে। পুরো সাজে গলা, কান ও হাতে মানানসই গয়না যুক্ত করে তাকে অভিজাত ও বিয়ের সাজের আদলে নিজেকে উপস্থাপন করতে দেখা যায়।

তার এই পোস্টে ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসা যেমন এসেছে, তেমনি দেখা গেছে নানা আলোচনা-সমালোচনাও। অনেকেই তার লুক ও স্টাইলের প্রশংসা করলেও কেউ কেউ সম্প্রতি শাকিব খান ও শবনম বুবলীর সন্তানের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করছেন।

এর আগে, শুক্রবার শবনম বুবলী এক ফেসবুক পোস্টে জানান, তার ও শাকিব খানের সংসারে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। তবে এ বিষয়ে শাকিব খানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, যেখানে শাকিব খানের সাবেক স্ত্রী অপু বিশ্বাসের প্রসঙ্গও উঠে আসছে। অপুর ব্যক্তিজীবন এবং শাকিব খানের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই দর্শক ও নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।




এবার বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হলেন তামিম ইকবাল

ক্রীড়া ডেস্ক : সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে জয় পান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এবার সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

অবশ্য সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তাই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহ-সভাপতি হয়েছেন আপতত একজন। তিনি ফাহিম সিনহা।

রোববার (৭ জুন) মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সকাল ১০টার দিকে শুরু ভোটগ্রহণ। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। প্রাপ্ত ভোটে ঢাকার ক্লাব থেকে জিতেছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা: মাহবুব শামীম, সাকেফ আহমেদ সালাম।
যেখানে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইশরাফিল খসরু। এরপর মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ফয়সাল ইয়াসির পেয়েছেন ৬৮ ভোট।
ফাহিম সিনহা এবং শানিয়ান তানিম ৬৬টি করে ভোট পেয়েছেন। আসিফ রাব্বানী ৬৪, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ৬৩টি ভোট পেয়েছেন। রফিকুল ইসলাম বাবু ৫৩ এবং ড. শামীম ৪১ ভোট পেয়েছেন । ক্লাব ক্যাটাগরিতে মোট ভোট ছিল ৭৬টি। এর মধ্যে ৭৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে।