নায়িকার বাসায় কোটি টাকার চুরি! আংশিক স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

বিনোদন ডেস্ক : ঢালিউড অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববির বাসায় সম্প্রতি চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর মণিপুর এলাকায় অবস্থিত তার বাসার জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা স্বর্ণের গয়না, নগদ অর্থ ও দামি ঘড়ি চুরি করে নিয়ে গেঠে। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন অভিনেত্রী।

ববি জানান, গত ২৭ মে কাফরুল থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন, চোরদের সাধারণ চোর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, এটি ছিল সংঘবদ্ধ, পরিকল্পিত এবং পেশাদার অপরাধীদের কাজ। তারা মানুষের কষ্টার্জিত সম্পদ মুহূর্তের মধ্যেই লুট করে নিয়ে যায়।

ববি আরও জানান, ঈদের আনন্দ তার জীবনে গভীর বেদনার কারণ হয়ে এসেছে। দুর্বৃত্তরা তার প্রয়াত বাবার স্মৃতি হিসেবে পাওয়া প্রায় ৩৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং বেশ কয়েকটি দামি ঘড়ি চুরি করে নিয়ে গেছে। এসবের সঙ্গে শুধু আর্থিক মূল্য নয়, জড়িয়ে ছিল বহু স্মৃতি, আবেগ ও পরিবারের ভালোবাসা।

চুরির ঘটনায় ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এখনো চুরি যাওয়া অধিকাংশ স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার হয়নি বলে জানান ববি।

বাকি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র দ্রুত উদ্ধারের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, জীবনে অর্থের চেয়ে স্মৃতির মূল্য অনেক বেশি। বাবার দেওয়া সেই স্মৃতিগুলো হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

এদিকে পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, স্বর্ণালংকার, দামি ঘড়ি ও নগদ টাকাসহ চুরি যাওয়া সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।




ডাচদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ

ক্রীড়া নিউজ : রেকর্ড গড়া এক ইনিংস খেললেন দিলারা আক্তার, আর তাতেই জয় দিয়ে স্কটল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সিরিজের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ১৩ রানে হারিয়ে রানার্সআপ হিসেবে প্রতিযোগিতা শেষ করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

বৃহস্পতিবার এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নেদারল্যান্ডস। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ওপেনার দিলারা আক্তার। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

অন্য প্রান্তে উইকেট ধরে রেখে তাকে ভালো সঙ্গ দেন সোবহানা মোস্তারী। ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ৮ বলে ১৩ রান করে ফিরলেও দিলারার ব্যাটে থামেনি রানের গতি। মাত্র ২২ বলে ফিফটি করে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম অর্ধশতকের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল রুমানা আহমেদের। তিনি ২৮ বলে ফিফটি করেছিলেন।

দিলারা শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে ৫১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আউট হন। তার ইনিংসে ছিল একের পর এক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। শেষ দিকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৪ বলে ৯ রান এবং সোবহানা মোস্তারী ৯ বলে ১১ রানে অপরাজিত থেকে দলের সংগ্রহকে আরও শক্তিশালী করেন।

৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করে নেদারল্যান্ডস। ওপেনার হেদার স্লেঙ্গার্স ও বাবেত্তে ডি লিডের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫২ রান। ম্যাচ একসময় ডাচদের দিকেই ঝুঁকে পড়েছিল।

তবে ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা এক ওভারে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেরান। হেদার ১৫ বলে ২১ এবং ডি লিডে ১৪ বলে ৩০ রান করে আউট হন। এরপর রিতু মনির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় নেদারল্যান্ডস।

শেষ দিকে রবিনে রিজ চেষ্টা করলেও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি ডাচরা। নির্ধারিত ৮ ওভারে ৫ উইকেটে ৮৫ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা। ফলে ১৩ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা ও রিতু মনি দুটি করে উইকেট শিকার করেন। যদিও স্কটল্যান্ড আগেই সিরিজের শিরোপা নিশ্চিত করেছিল, তবুও শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই ত্রিদেশীয় সিরিজের অভিযান শেষ করল টাইগ্রেসরা।




হাম ও উপসর্গে একদিনে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ৬০০ ছাড়াল

ডেস্ক নিউজ : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ জন।

আজ বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৬০১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫১১ জন।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৯ হাজার ১৯১ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৬৪ জনের ও আক্রান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৪৪৯ জন।

এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ বৃধবার (৩ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।




মায়ের প্রতি অবহেলা: যুগ্ম সচিব ছেলে আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসায় ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার।

বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, তাকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাকে ৪ জুনের মধ্যে (বৃহস্পতিবার) বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলি কর্মস্থলে যোগদান করবেন; অন্যথায় তিনি ৪ জুন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।

এর আগে দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বক্তব্য নেওয়াসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

গত ৩১ মে ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বরে একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি পচে গিয়ে পোকায় ধরেছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পুরো বাসাটি ছিল নোংরা ও অগোছালো। দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির বলেন, নুরজাহান বেগম যে বাসায় ছিলেন, সেটা তার মেয়ের বাসা। সেখানে তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। বাসাটি খুব নোংরা ছিল।

ওসি আরও বলেন, নুরজাহানের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

নুরজাহান বেগমের এমন মৃত্যুর ঘটনায় তার সন্তানদের অবহেলার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা সমালোচনা হচ্ছে।




কুয়েতে নজিরবিহীন হামলা: চরম আতঙ্কে জিসিসি দেশগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা শুধু কুয়েতের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এটিই সবচেয়ে তীব্র, দ্রুতগতির এবং সমন্বিত হামলার ঘটনা। শুধু বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়কাল নয়, আগের যুদ্ধবিরতির পরও এত বড় মাত্রার হামলা দেখা যায়নি।

তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে কুয়েতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছিল। এবারও একইভাবে কুয়েতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলায় ইরান থেকে কুয়েতের দিকে ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলার ধরন ও ব্যবহৃত অস্ত্রের সংখ্যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাতের শুরুর দিকে দেখা হামলাগুলোর সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। ফলে শুধু কুয়েত নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়েত বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো বিশ্বব্যাপী বিমান যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের হামলা বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশ এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, জাতীয় বিমান সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

তাদের মতে, কুয়েতে হামলার পর সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের বিমানবন্দর নিরাপত্তা এবং আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে তা শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান পরিবহন, জ্বালানি বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নতুন এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা




আবারও বিয়ে করছেন আমির খান, কনে কে

বিনোদন ডেস্ক : জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জীবনের তৃতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। আগামী ৫ জুলাই একটি ঘরোয়া ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন এই সুপারস্টার।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

রীনা দত্ত এবং কিরণ রাওয়ের সঙ্গে দাম্পত্যজীবন অবসানের পর আমিরের জীবনে গৌরীর আগমন ঘটে। গত বছর নিজের ৬০তম জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্তে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রথমবার গৌরীকে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আমির। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, গৌরী বর্তমানে তার প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গেই কাজ করছেন।

আমির এবং গৌরীর এই সম্পর্কের শুরুটা কিন্তু বেশ গোপনেই হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের নজর থেকে নিজেদের আড়াল রাখতে প্রায় দেড় বছর ধরে সম্পর্কটি গোপন রেখেছিল এই জুটি। গত বছর এক প্রেস মিটে রসিকতা করে আমির বলেছিলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমকে বিন্দুমাত্র টের পেতে দেননি। আমির আরও জানান, গৌরী আগে বেঙ্গালুরুতে থাকতেন এবং তার সঙ্গে দেখা করতে আমির প্রায়ই সেখানে উড়ে যেতেন। বেঙ্গালুরুতে সংবাদমাধ্যমের নজরদারি কিছুটা কম থাকায় দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে তারা নিজেদের সম্পর্ককে লাইমলাইটের আড়ালে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির তার বর্তমান জীবন নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গৌরীর আগমনে তিনি জীবনে এক পরম শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। রীনা এবং কিরণের সঙ্গে সম্পর্কগুলো গভীর হলেও তা স্থায়িত্ব পায়নি উল্লেখ করে আমির আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, গৌরীর জীবনে আসার পর অবশেষে তিনি নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে অনুভব করছেন। গত এক বছরে এই জুটিকে চিনের ম্যাকাও ইন্টারন্যাশনাল কমেডি ফেস্টিভ্যালসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মঞ্চে একসঙ্গে দেখা গেছে।

আমিরের হবু স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাট আদতে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা এবং তার জীবনের সিংহভাগ সময় সেখানেই কেটেছে। গৌরীর মা রীতা স্প্র্যাট বেঙ্গালুরুতে একটি নামী সেলুনের মালিক ছিলেন। গৌরীর পেশাগত জীবনের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, ব্লু মাউন্টেন স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ২০০৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস লন্ডন থেকে ফ্যাশন ও ফটোগ্রাফির ওপর একটি বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ে একটি নামী সেলুন পরিচালনা করছেন এবং তিনি সাত বছর বয়সী এক সন্তানের জননী।

অন্যদিকে, এটি আমিরের তৃতীয় বিয়ে হতে চলেছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে শৈশবের বান্ধবী রীনা দত্তকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আমির, যার কোল আলো করে আসে জুনায়েদ ও ইরা। দীর্ঘ ১৬ বছরের সংসার জীবনের পর ২০০২ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন আমির, যার সঙ্গে ২০২১ সালে তার বিচ্ছেদ ঘটে। কিরণ ও আমিরের সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান আজাদের সহ-অভিভাবক হিসেবে তারা এখনো যুক্ত রয়েছেন।

তবে জীবনের সমস্ত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জুলাইয়ের এই নতুন সূচনার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন আমির-অনুরাগীরা।




নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : নেপালকে ১-২ গোলে হারিয়ে সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী দল। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে নাম লেখাল বাংলাদেশ।

বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে দু’টি গোল করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাগরিকা।

ফাইনালের লক্ষ্যে মাঠে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। রক্ষণভাগ বেশ কিছুক্ষণ চাপ সামাল দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

ম্যাচের ২৩তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে যায় নেপাল। বাংলাদেশের ডি-বক্সের ভেতর তৈরি হওয়া জটলা থেকে বল ক্লিয়ার করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া দারুণ এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান নেপালের গিতা রানা।

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠের বদলে দুই উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরানোর চেষ্টা করতে থাকে তারা। তবে নেপালের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ফরোয়ার্ডদের।

অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। দুর্দান্ত এক ‘অলিম্পিক গোলে’ (সরাসরি কর্নার থেকে গোল) নেপালের জালে বল জড়িয়ে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই অবিশ্বাস্য গোলে সমতায় ফিরে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে বাংলাদেশ।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালের দিকেই পাঠিয়েছিলেন। সেটা ঠেকানোর ছিলেন না কেউই। কিন্তু বলটি জালে না জড়িয়ে লেগে যায় গোলপোস্টে।

এদিকে, ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু নেপালের গোলকিপার সুব্বার দৃঢ়তায় সেই যাত্রায় বেঁচে যায় নেপাল। বাংলাদেশের সাগরিকার নেওয়া দুর্দান্ত শটটি লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি।

১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ৯০ মিনিটের খেলা। যোগ করা ৬ মিনিটের খেলারও প্রায় তিন মিনিট শেষ হওয়ার পথেই ছিল। আর এমন মুহূর্তে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাসে মেতে ওঠান সামসুন্নাহার-সাগরিকারা। ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। তাতেই ২-১ ব্যবধান জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

এর আগে দুইবার বাংলাদেশ শুধু ফাইনালেই উঠেনি, দুবারই জিতেছে শিরোপা। এই নেপালকে হারিয়েই দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।




‘শত্রুর কৌশল এখন আমাদের নখদর্পণে’, যুদ্ধবিরতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং যেকোনো ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)।

মঙ্গলবার ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি আবারও সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নেয়, তবে এবার তাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন যুদ্ধকৌশল ও ভিন্ন ধরনের অস্ত্রের মুখোমুখি হতে হবে। বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইআরজিসি যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

আইআরজিসির এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময়টিকে ইরান তাদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবহার করেছে। পশ্চিমা প্রচারণাকে নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো এই যুদ্ধবিরতির সময়ে আমাদের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৭ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোটের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে অন্তত ১০০ দফা পাল্টা আঘাত হানার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মোহেব্বী আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো শত্রুর শক্তি ও কৌশল সম্পর্কে একটি গভীর ও বাস্তবসম্মত ধারণা লাভ করা। এর আগে যা কেবল গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং গণমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা হতো, এখন তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা দিয়ে ঝালাই করে নেওয়া হয়েছে। ফলে ইরানি বাহিনী এখন শত্রুপক্ষের সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, অপারেশনাল বেস এবং যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত জ্ঞান রাখে। শত্রুর আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক সরঞ্জাম এবং তাদের প্রতারণামূলক কৌশল এখন তেহরানের কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

ইসলামিক রিপাবলিকের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এই মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, দেশের যুদ্ধ সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর প্রচারণার বিপরীতে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংসও হয়নি এবং এর কার্যক্ষমতাও হ্রাস পায়নি। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিরবচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেন। মোহেব্বী বলেন, সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পুরো সময়জুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বিশাল সামরিক বহর ব্যবহার করেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করতে পারেনি। এই কৌশলগত নৌপথের ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় রয়েছে, যা মূলত আইআরজিসির শক্তিরই এক অনন্য প্রতীক।




কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও মেসির রুম ঘিরে কৌতূহল

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আর্জেন্টিনা দল। মাঠের বাইরে দলীয় ক্যাম্পেও চলছে নানা গল্প, ছোট ছোট মুহূর্ত- যা ভক্তদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির রুম নিয়ে এক মজার বিষয়।

কানসাসে দলের ক্যাম্পে এবারও একাই রুমে থাকছেন মেসি। বিষয়টি নতুন নয় বরং বহুদিন ধরেই এটি তার অভ্যাস। সাবেক সতীর্থ সের্হিও আগুয়েরো জাতীয় দল ছাড়ার পর থেকেই মেসি তার রুমে আর কোনো রুমমেট নেন না। কাতার বিশ্বকাপেও একই নিয়ম মেনেছিলেন তিনি।

দলের অন্যান্য সিনিয়র ফুটবলাররা অবশ্য আগের মতোই রুম ভাগাভাগি করে থাকছেন। মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু রদ্রিগো দে পল রয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে একই রুমে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কারণে তাদের এই জুটি বেশ স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে একা রুমে থাকলেও মেসি কখনোই বিচ্ছিন্ন নন। সতীর্থদের কাছে তার রুম যেন এক ধরনের আড্ডাখানা। ফাঁকা সময় পেলেই সেখানে জড়ো হন সবাই- কার্ড খেলা কিংবা গল্পে মেতে ওঠেন দীর্ঘ টুর্নামেন্টের চাপ ভুলে থাকতে।

মেসির রুম নিয়ে আরেকটি বিষয়ও সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার রুম নম্বর। কাতার বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন ২০১ নম্বর কক্ষে। সেই সংখ্যা ঘিরে সমর্থকরা ‘২+১=৩’ মিলিয়ে আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপার প্রতীক খুঁজে পেয়েছিলেন। এবার কানসাসে মেসির রুম নম্বর ২০২। সেটিও দ্রুত ভক্তদের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। কেউ কেউ মজা করে ‘২+২=৪’ মিলিয়ে সম্ভাব্য চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের ইঙ্গিত খুঁজছেন।

যদিও এ ধরনের ব্যাখ্যার কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই, তবুও আর্জেন্টিনা দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে ছোট ছোট বিশ্বাস, রীতি ও মানসিক দিকগুলো যে ভূমিকা রাখে- তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই মেসির রুম নম্বর নিয়েও কৌতূহল আর আলোচনা থামছে না।




বিতর্কের মুখে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে রদবদল, সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি

বিনোদন ডেস্ক : বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে অবশেষে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় বড় ধরনের সংশোধন এনেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। গত ২৯ জানুয়ারি চূড়ান্ত বিচারকাজ শেষে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হলেও বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো তালিকাটি পর্যালোচনা করা হয়।

দীর্ঘ রিভিউ প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার (২ জুন) মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যেখানে আজীবন সম্মাননা এবং সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে আনা হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

জানা যায়, জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে আজীবন সম্মাননার জন্য বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চুর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, আজীবন সম্মাননার জন্য কেবল জীবিত ব্যক্তিদেরই বিবেচনা করার নিয়ম রয়েছে। পুরস্কার ঘোষণার আগেই এই দুই গুণী ব্যক্তিত্ব প্রয়াত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত মার্চ মাসে জুরি বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে মৌখিকভাবে যোগাযোগ করে মতামত নেয় মন্ত্রণালয়। নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই ভুলের সংশোধন করে জানানো হয়েছে, চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তারেক মাসুদ ও আবদুল লতিফ বাচ্চুকে মরণোত্তর পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। আর ২০২৩ সালের আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী শবনম এবং গুণী চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জুরি বোর্ডের শুরুর সুপারিশেই অভিনেত্রী শবনমের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আজীবন সম্মাননার পাশাপাশি সেরা চিত্রনাট্য বিভাগেও একটি বড় জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। ২৯ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের জন্য নিয়ামুল মুক্তাকে সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। তবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরপরই অভিযোগ ওঠে যে, নিয়ামুল মুক্তা আদতে এই সিনেমাটির চিত্রনাট্য রচনাই করেননি। এই গুরুতর অভিযোগটি খতিয়ে দেখে এবং যথাযথ পর্যালোচনা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে নিয়ামুল মুক্তার নাম বাদ দিয়ে এই বিভাগে প্রকৃত চিত্রনাট্যকার তাসনীমুল হাসানের নাম ঘোষণা করেছে।

এর মাধ্যমে বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত পেশাদারদের কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করল মন্ত্রণালয়।