বিনামূল্যে বড়পর্দায় দেখা যাবে সালমান-শাবনূরের সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক : নব্বই দশকে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি ছিল সালমান শাহ ও শাবনূর। এমনকি এই জুটিকে দেশের বড়পর্দার ইতিহাসেরই অন্যতম দর্শকপ্রিয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন পর আবারও এই তারকা জুটির সিনেমা বড়পর্দায় দেখার সুযোগ পেয়েছে সিনেমাপ্রেমীরা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সালমান-শাবনূরের দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘তোমাকে চাই’-এর বিশেষ উন্মুক্ত প্রদর্শনী। দর্শকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সিনেমাটি উপভোগ করতে পারবেন।

মতিন রহমান পরিচালিত এই সিনেমাটি ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায়। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে সালমান শাহ ও শাবনূর ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন আনোয়ারা ও রীনা খান। মুক্তির পর ছবিটি দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক বাংলা সিনেমার অন্যতম আলোচিত কাজে পরিণত হয়।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে পুরনো দিনের জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্রগুলো নতুন করে বড় পর্দায় উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা বড় পর্দায় ‘তোমাকে চাই’ সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী, তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিজ দায়িত্বে মিলনায়তনে উপস্থিত হতে পারবেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতেই নিয়মিত এমন আয়োজন করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ সূত্রে জানা গেছে।




ব্যাডমিন্টনে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে হুমায়রা

ক্রীড়া ডেস্ক : নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে ফরিদপুর অঞ্চলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে মাদারীপুরের কৃতী শিক্ষার্থী হুমায়রা হাসান।

হুমায়রা প্রথম ম্যাচে গোপালগঞ্জের প্রতিযোগী পৌষিকে ২১-৮ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে। দ্বিতীয় ম্যাচে ফরিদপুরের আয়েশাকে ২১-১৩ পয়েন্টে পরাজিত করে। রোমাঞ্চকর ফাইনালে নীলা রানি মন্ডলকে ২১-১৫ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে হুমায়রা।

মাদারীপুর সদরের ঐতিহ্যবাহী ডনোভান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী হুমায়রা আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের আগ্রহ ও কঠোর পরিশ্রমে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে এসেছে।

ছোটবেলা থেকেই ব্যাডমিন্টনের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা। শৈশবে বাবার সাথে লিগ্যাল অফিসে খেলার মাধ্যমেই তার ব্যাডমিন্টনের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে নিজের দক্ষতা আরও ঝালিয়ে নিতে মাদারীপুর স্টেডিয়ামে নিয়মিত একক অনুশীলন শুরু করেন তিনি। অন্য কোনো খেলায় অংশ না নিয়ে শুধু ব্যাডমিন্টনেই নিজের পুরো মনোযোগ ধরে রেখেছিলেন এই খুদে তারকা।

হুমায়রার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন তার বাবা। তিনি মাদারীপুরের এক সম্ভ্রান্ত আইনজীবী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার পিতা অ্যাডভোকেট মুনির হাসান মিঠু, যিনি পেশায় একজন আইনজীবী। তার মাতাও একজন আইনজীবী, নাম অ্যাডভোকেট হাসিনা খাতুন।

ভবিষ্যতে ব্যাডমিন্টনকে ঘিরেই নিজের স্বপ্ন বুনছেন হুমায়রা। তার লক্ষ্য বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন আর দৃঢ় মনোবলকে পুঁজি করে জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের হয়ে সাফল্য বয়ে আনতে চান তিনি।




এখনও একদলীয় শাসনের ধারাবাহিকতা চলছে: রুমিন ফারহানা

ডেস্ক নিউজ : দেশে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা একদলীয় শাসনের ধারাবাহিকতা এখনও বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ইন্টারন্যাশনাল জুরিস্টস ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস নামে একটি সংগঠনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন একদলীয় শাসন দেখেছি, এখনও তার ধারাবাহিকতা চলছে। তখন বিএনপি-জামাতকে খেলার মাঠের বাইরে রেখে এককভাবে সংসদকে সাজানো হয়েছে, এখন আওয়ামী লীগ এবং বাম দলগুলোকে বাইরে রেখে আরেকভাবে সংসদকে চালানো হচ্ছে। দিস ইজ অল দ্য সেম। আমি আগেও যা দেখেছি একদলীয় সংসদ, এখনও আমি সেই একদলীয় সংসদই দেখছি এবং এটা আমি যেদিন সংসদে প্রথম যাই, আমি বলেছিলাম।

ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন জানান, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড এগ্রিমেন্ট (বাণিজ্য চুক্তি) নিয়ে সংসদে তিনি ছাড়া আর কোনো সদস্য প্রশ্ন উত্থাপন করেননি।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি বিষয়ে আলোচনার জন্য স্পিকারের কাছে নোটিশ দিতে ন্যূনতম পাঁচজন সংসদ সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন হলেও, পুরো সংসদে তিনি সেই পাঁচজন সদস্যকেও পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে হয়েছে। একইভাবে হামের প্রকোপ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে বেশি কথা বললে মানুষ ভয় পাবে বলে যুক্তি দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দিয়ে সারারাত ধরে গাড়ি এবং মোটরবাইকের চালকরা অপেক্ষা করেছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে পর্যাপ্ত তেল মিলতে শুরু করে। এই তেলগুলো এতক্ষণ কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হচ্ছে।

সরকার তথ্য লুকিয়ে নিজেদের কার্যক্রম আড়াল করতে পারবে না উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান যুগের মানুষ অত্যন্ত সচেতন এবং স্মার্ট। এখন সবার হাতে হাতে সেলফোন থাকায় মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে কী ঘটছে তা জানা সম্ভব। তাই তথ্য গোপন করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করাও সম্ভব নয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রায় দুই বছর পার হতে চলল। অথচ আমাদের কারাগারগুলোতে আজ ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বন্দী অমানবিক জীবন কাটাচ্ছেন। জামিন তো কোনো স্থায়ী খালাস বা মামলা থেকে অব্যাহতি নয়। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত একজন নাগরিক যাতে কারাবন্দী না থেকে বাইরে থাকতে পারেন, এটি তার আইনগত অধিকার। কারণ, পরবর্তীতে যদি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে তার জীবনের এই হারিয়ে যাওয়া কারাবাসের সময়টা রাষ্ট্র কীভাবে ফিরিয়ে দেবে? কিন্তু আমাদের এখানে কী হচ্ছে? প্রথম দিকে তো জামিন পাওয়াই যেত না। পরবর্তীতে যখন দুই-একজন বিচারক সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে জামিন দেওয়া শুরু করলেন, ঠিক তার পরের দিনই সেই কোর্টের বিচারিক এখতিয়ার বা পাওয়ার পরিবর্তন করে দেওয়া হলো! এগুলো কি আদালতের ওপর নির্বাহী বিভাগের নগ্ন কর্তৃত্বের প্রমাণ নয়? নিশ্চিতভাবেই তাই।

ইতিহাসের এক অদ্ভুত নিয়ম হলো—আপনি আজ অন্যের জন্য যা করে যাবেন, ভবিষ্যতে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আপনার ওপর ফিরে আসবে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন,  গত পরশু বা তার আগের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের একটি মিছিল হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ জন লোক মাথায় ক্যাপ এবং মুখে মাস্ক পরে সেই মিছিল করেছে। মাস্ক এবং ক্যাপ পরার কারণে কাউকে চেনা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানলাম, সেই ঘটনায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের নামে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে! ১৫ জনের মিছিলের বিপরীতে ১৫০ জন আসামি! কেন এই বিপুল সংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি? কারণ একটাই—‘মামলা বাণিজ্য’। স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশ করে এই বাণিজ্য চালাচ্ছে। ফোনে ভয় দেখানো হচ্ছে, ‘টাকা না দিলে কিন্তু তালিকায় নাম ঢুকিয়ে দেব।’ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে। বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন আমরা দেখতাম ‘গায়েবি মামলা’র উৎসব। ঘটনা ঘটেনি, আসামি ঘটনাস্থলে ছিল না, তাও মামলা হতো। আজ ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু কালচারের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং এখন গায়েবি মামলার সঙ্গে যোগ হয়েছে এই নিকৃষ্ট ‘বাণিজ্য’।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি একই ঘটনা, একই জুলুম এবং একই গায়েবি মামলার সংস্কৃতি আরও কুৎসিতভাবে চলতে থাকে, তবে এত বড় রক্তের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থানের দরকার কী ছিল? আমরা কোন ‘নতুন বাংলাদেশ’, কোন ‘নতুন রাজনীতি’ আর কোন ‘নতুন চিন্তা’র কথা মুখে বলছি? সব তো আগের মতোই চলছে, বরং ক্ষেত্রবিশেষে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই বৃত্ত থেকে বের হতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

অনুষ্ঠানে নবগঠিত সংগঠনের সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে সমরাস্ত্র কিনবে আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আরও কাছাকাছি এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরাইল। তারা যৌথভাবে একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ক্রয় করা।

রোববার বর্তমান ও সাবেক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একজন বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আওতায় দুই দেশ ‘যৌথভাবে অস্ত্র ক্রয়’ করবে। এর পাশাপাশি ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও বড় অঙ্কের অর্থায়ন করতে পারে ইউএই।

সূত্রটি জানায়, মার্কিন-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পায়। তবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইউএই ও ইসরাইলি দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তা যোগ করেছেন, দুই দেশ মূলত ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি যৌথভাবে তৈরি ও ক্রয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

তেল আবিবভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ’র উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়োয়েল গুজান্সকি মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, ‘ইউএই-ইসরাইল সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সেরা অবস্থানে রয়েছে। কোনো আরব দেশের সঙ্গে ইসরাইলের এত ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আগে কখনো হয়নি।’

ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরান পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইউএই; দেশটিকে লক্ষ্য করে প্রায় ৩,০০০ ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইল তার ‘আয়রন ডোম’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারি এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা ইউএই-তে মোতায়েন করেছিল, যা চলতি মে মাসে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি নিশ্চিত করেছেন।

গুজান্সকি বলেন, অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়নে যৌথ তহবিল গঠন দুই দেশের জন্যই একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের এখন ইউএই-এর অর্থের প্রয়োজন। আমাদের প্রযুক্তি আছে কিন্তু সম্পদের অভাব। অন্যদিকে ইউএই-এর সম্পদ আছে কিন্তু প্রযুক্তির অভাব।’




জন্মের পরই শিশুর থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি

ডেস্ক নিউজ : দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছে। আক্রান্তদের প্রতি সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই নারী। আবার আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ ভাগই চিকিৎসার আওতায় নেই।

বিশেষজ্ঞরা মনে করাছেন, শনাক্তকরণে গুরুত্বের অভাবে প্রতিদিনই এ রোগের ভুক্তভোগী বাড়ছে।

দীর্ঘমেয়াদি থাইরয়েডের জটিলতা থেকে বাঁচতে তাই জন্মের পরপরই শিশুর থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি (বিটিএস) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৬ ও ‘আন্তজার্তিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক ছিলেন সোসাইটির সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা, সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা জেসমীন ফেরদৌস, প্রকাশনা সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. পাপড়ি মুৎসুদ্দী, সাইন্টিফিক সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক ডা. তপতী মন্ডল, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সেক্রেটারি মুজাহিদ শুভসহ অনেকে।

থাইরয়েড দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে। আক্রান্ত ব্যক্তির ৬০ শতাংশই চিকিৎসা সেবার আওতার বাইরে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যার শিকার হচ্ছে। যাদের পরিবারে থাইরয়েড রোগী আছে তাদের পরিবারের সকল সদস্যকে থাইরয়েড স্ক্রিনিংয়ের (শনাক্তকরণ) মাধ্যমে রোগটি আছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য আহ্বান করা হয়।

বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, থাইরয়েড রোগীদের ৬ শতাংশ হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগছে। যারা ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ঠান্ডা সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু তারা এ সমস্যার কথা জানেনই না। রোগের শুরুতে থাইরয়েড নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগের সফল চিকিৎসা সম্ভব বলেও জানান চিকিৎসকেরা।

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, ‘থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের হরমোন নিঃসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীরের বিপাক হার, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কিন্তু এই ছোট্ট গ্রন্থিতে জটিলতা দেখা দিলে শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দেখা দিতে পারে হাইপোথাইরয়েডিজম, থাইরয়েড ক্যানসারের মত জটিলতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে থাইরয়েড সমস্যা নির্ণয় করা গেলে তা খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাব, উপসর্গ উপেক্ষা করা এবং সময়মতো পরীক্ষা না করানোর জন্য অনেক সময় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। থাইরয়েড সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা সময়ের দাবি।’

অধ্যাপক ডা. বারী বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকারি অর্থায়নে থাইরয়েডে বরাদ্দ নেই বললেই চলে। অথচ থাইরয়েড শনাক্তকরণে ও চিকিৎসায় বড় বাজেট দরকার। বর্তমানে এ রোগে কতজন ভুগছে, সেটি জানা জরুরি। কিন্তু এর জন্য নিজস্ব যে কর্মসূচি থাকা দরকার, সেটি নেই। ফলে অন্যান্য দেশের চিত্র দিয়ে বাংলাদেশের রোগীর হিসেব করা হচ্ছে। এতে করে প্রকৃত আড়ালেই থাকছে।’

ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, ‘বিশ্বে ৫৮৯ মিলিয়ন ডায়াবেটিসের রোগী আছে। থাইরয়েডের রোগীও প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু ডায়াবেটিসের রোগীর সংখ্যা যতটা সহজে বলা যাচ্ছে, থাইরয়েডের ক্ষেত্রে যাচ্ছেনা। কারণ আমাদের নিজস্ব কোনো গবেষণা নেই। আমরা বলছি বাংলাদেশে ২০ শতাংশের মত, সে অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ এতে ভুগছেন। বিএমইউ হাসপাতালে যেসব মায়েরা চিকিৎসা করাতে আসেন, তাদের অন্তত ৮ শতাংশ হাইপোথাইরয়েডের রোগী। এটির কারণে মস্তিষ্কের বুদ্ধিমত্তা কমে যায়। এখন দরকার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা। এজন্য ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

নিনমাসের অধ্যাপক ডা. কামালউদ্দিন আহমেদ অডিটোরিয়াম একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন করা হয়। এতে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা এফ.এম সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।




অর্থাভাবে ফুটপাতে প্রবীণ অভিনেত্রী, উদ্ধার করল পুলিশ

বিনোদন ডেস্ক : পর্দায় হাজারো দর্শককে হাসিয়েছেন তিনি। চিরঞ্জীবী, প্রভাস, আল্লু অর্জুনের মতো তারকাদের পাশে পর্দায় কমেডি চরিত্রে অভিনয় করে চার দশক ধরে মাতিয়ে রেখেছেন তেলুগু সিনেমা। অথচ বাস্তব জীবনের নির্মম পরিহাসে আজ চরম অবহেলা আর অর্থাভাবের শিকার সেই প্রবীণ তেলুগু অভিনেত্রী পাবলা শ্যামল।

সম্প্রতি অর্থাভাবের কারণে একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা না পেয়ে মাঝরাতে তাকে ফুটপাতে ফেলে যাওয়ার মতো এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান দিল রাজু।

জানা গেছে, সম্প্রতি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন পাবলা শ্যামল। কিন্তু চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি না নিয়ে একটি ট্যাক্সিতে করে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, ট্যাক্সি চালকও গভীর রাতে তাকে রাস্তার একটি মোড়ে ফুটপাতে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

ফুটপাতে একা ও অসহায় অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে ‘আরকে ফাউন্ডেশন’ নামের একটি দাতব্য সংস্থায় নিয়ে যায়।

আরকে ফাউন্ডেশনের ডক্টর রামকৃষ্ণ জানান, ‘বিগত দুই-তিন বছর ধরে আমাদের ফাউন্ডেশন থেকেই এই অভিনেত্রীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আমাদের এখানে হৃদরোগের বিশেষায়িত (কার্ডিও) চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় তাকে বাইরের হাসপাতালে যেতে হয়েছিল।’

এই চরম দুর্দশার খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি নজরে আসে খ্যাতনামা দক্ষিণী প্রযোজক দিল রাজুর। তিনি কালবিলম্ব না করে তার একটি বিশেষ টিমকে হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে পাবলা শ্যামলের প্রয়োজনীয় ও উন্নত চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা এবং ব্যয়ভার গ্রহণের দায়িত্ব নেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবীণ এই অভিনেত্রী ও তার কন্যা প্রযোজক দিল রাজু এবং তার টিমের এই তাৎক্ষণিক সাহায্যের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

পাবলা শ্যামলের আর্থিক ও শারীরিক সংকট অবশ্য নতুন কিছু নয়। ১৯৮৫ সাল থেকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি এবং তার পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে আর্থিক সংকটের কারণে তারা নিজেদের থাকার জায়গাটি হারান এবং রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে চরম কোনো পদক্ষেপ (আত্মহত্যা) নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে দাতব্য আশ্রমে পাঠায়।

এর আগে ২০২১ সালে বিখ্যাত পরিচালক জুটি রাজ অ্যান্ড ডিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবীণ এই অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারা একটি ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেন।

সে সময় জানা যায়, পাবলা শ্যামলের একমাত্র কন্যা যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী। চিকিৎসার খরচ চালাতে নিজের জীবনের সব পুরস্কার ও ট্রফি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী।

এছাড়াও এর আগে বিভিন্ন সময়ে মেগাস্টার চিরঞ্জীবী, পবন কল্যাণ, আল্লু অর্জুন এবং সাই দুর্গা তেজের মতো তারকারা তাকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সাহায্য করেছিলেন।

‘গোলিমার’, ‘খাড়গাম’, ‘আন্ধ্রাওয়ালা’ এবং ‘বর্ষম’-এর মতো জনপ্রিয় তেলুগু সিনেমায় কমেডি চরিত্রের জন্য পাবলা শ্যামল দর্শকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত নাম। এমনকি তার করা কিছু চলচ্চিত্রের দৃশ্য বর্তমান প্রজন্মের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ‘মিম’ হিসেবে ঘুরে বেড়ায়। ২০১৯ সালের ‘মাথু ভাদালারা’ সিনেমায় তাকে শেষবারের মতো বড় কোনো চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস




পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার পথে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চলতি সিরিজেই ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা।

সিলেটে চলমান টেস্টে জয় পেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।

দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ঢাকায় ১০৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টেও জয়ের অপেক্ষায় নাজুমল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি।

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৩ উইকেট। তবে পরাজয় এড়াতে হলে আরও ১২০ রান করতে হবে পাকিস্তানকে।

৭৫ রানে অপরাজিত আছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার পক্ষে টেলেন্ডার তিন ব্যাটসম্যান সাজিদ খান, খুররম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে পরাজয় এড়ানোয় লড়াই চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।

তিন বোলারকে নিয়ে পঞ্চম দিনে পুরো তিন সেশন তথা ৯০ ওভার প্রতিরোধ গড়ে তোলা রিজওয়ানের জন্য কার্যত অসম্ভব। শেষ দিনের খেলা বৃষ্টিতে ভেসে না গেলে; বাংলাদেশ ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে।

তবে শেষ দিনে রোমাঞ্চকর কিছু হবে না, এমনটিও হলফ করে বলা যায় না। দলটি যেহেতু ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান; তাদের দিয়ে সবকিছু্ই সম্ভব! তারা শেষ দিনে অবিশ্বাস্য কিছু দেখাতেও পারে!




কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটির উদ্যোগে ১৫৩ হৃদরোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

ডেস্ক নিউজ : জন্মগতভাবে হৃদরোগে (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) আক্রান্ত ১৫৩ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশন।

২ থেকে ৯ মে পর্যন্ত রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চ্যারিটি কার্ডিয়াক মিশনের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ সময় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রায় ১০৮ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর হার্টে ডিভাইস স্থাপন ও বিভিন্ন ইন্টারভেনশন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে রমজান উপলক্ষে এ উদ্যোগের আওতায় আরও ৩১ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এছাড়াও ১৪ শিশুকে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য নির্বাচন করা হয়। যার মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট নয়জন শিশুর সার্জারি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফাউন্ডেশনটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।

সর্বশেষ চ্যারিটি মিশনটি সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম।

বাংলাদেশ টিমের সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডা. আশিক মো. রায়হান চৌধুরী, ডা. প্রিয়াঙ্কা দাস, ক্যাথ ল্যাব চীফ টেকনিশিয়ান মো. আনোয়ার হোসেন, কালাম, নায়িম, আশরাফ, শাহ-আলম প্রমুখ।

কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসক মো. নোমান, জর্ডান থেকে ডা. ইয়াদ আল অমৌরি, ফিলিস্তিন থেকে ডা. হাসান, কাতার থেকে ডা. আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।
উল্লেখ জন্মগত হৃদরোগ (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) শিশুদের জন্য এক নীরব ঘাতক। বিশ্বব্যাপী প্রতি হাজারে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন শিশু জন্মগত হৃদরোগে নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশে এ হার আরও উদ্বেগজনক। প্রতি হাজারে প্রায় ১৮ থেকে ২৫ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চিকিৎসা বর্তমানে কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই ইন্টারভেনশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বহু পরিবার এ ব্যয় বহনে অক্ষম। ফলে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রাণ হারায়।



ট্রাম্পের পর এবার চীন যাচ্ছেন পুতিন, বৈশ্বিক কূটনীতিতে কী ঘটতে চলেছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় এবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। পরপর দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতার বেইজিং সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এ ঘটনা।

সোমবার (১৮ মে) চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

তথ্যমতে, আগামী ১৯ ও ২০ মে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। এ সফরের প্রাক্কালে গত রোববার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে অপরকে ‘অভিনন্দন বার্তা’ পাঠিয়েছেন।

শি জিনপিং তার বার্তায় উল্লেখ করেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের ৩০ বছর পূর্তির এ বছরে রাশিয়া ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ‘আরও গভীর ও সুসংহত’ হয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সফর স্নায়ু যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা এটিই প্রমাণ করে যে বেইজিং দ্রুত বৈশ্বিক কূটনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

এদিকে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর প্রতি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীনের কাছে রাশিয়ার গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর থেকে চীন রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বেইজিং রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি ক্রয় করেছে। চীন বর্তমানে রাশিয়ার মোট রপ্তানির চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি পণ্য একা ক্রয় করছে, যা ক্রেমলিনকে যুদ্ধের বিশাল ব্যয় মেটাতে সাহায্য করছে।

আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো জোসেফ ওয়েবস্টার তার এক বিশ্লেষণে জানিয়েছেন, পুতিন ও শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের মূল বিষয় হতে পারে ‘তাইওয়ান সংকট’। বেইজিং ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতের সৃষ্টি হলে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মস্কোর সঙ্গে আরও দীর্ঘমেয়াদি জীবাশ্ম জ্বালানি চুক্তি সই করতে চায়।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য চীনকে তাগিদ দিয়ে আসছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বছরে আরও ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে, যা রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো বৈশ্বিক সংকটে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করবে।




অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত

ডেস্ক নিউজ : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দ্রুতগতির সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় কুরী (১৬) নিহতের ঘটনায় ঘাতক চালক মো. নাজমুলকে (২০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

সোমবার দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার কলেজ গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নাজমুলের উপজেলার নাজিরপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে। নিহত কুরী বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী ডেলটা জুট মিল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। সে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

র‌্যাব জানায়, গত ৬ মে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিনিটে বেগমগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেটের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুত ও বেপরোয়া গতির একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা তন্ময় কুরী ও তার সহপাঠী জিৎ দেবনাথকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তন্ময়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নোয়াখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর। তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা কার্তিক কুরী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্ত চালককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।