ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানি র‍্যাপার হাসান রহিম

বিনোদন ডেস্ক : প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে কনসার্ট করতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় র‍্যাপার ও গায়ক হাসান রহিম। চলতি আগস্টে রাজধানী ঢাকার মঞ্চে পারফর্ম করবেন তিনি।

নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই শিল্পী।

বর্তমানে ‘দিল কে পারদে’ শিরোনামে বিশ্বসংগীত সফরে রয়েছেন হাসান রহিম। এরই মধ্যে উত্তর আমেরিকা, লন্ডন ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সফল কনসার্ট করেছেন তিনি। সেই সফরের অংশ হিসেবেই আগামী ২৮ আগস্ট ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে তার কনসার্ট।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে কেওয়াইএন আর্ট। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই অনলাইনে কনসার্টের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

আরঅ্যান্ডবি, হিপহপ ও ইন্ডি-পপ ঘরানার গানের জন্য পরিচিত হাসান রহিম। কোক স্টুডিও পাকিস্তানের ১৪তম আসরে প্রকাশিত ‘পিছে হাট’ গানটির মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এরপর ‘তুররি জান্দি’ গানটিও শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়।

তার জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে ‘পয়সা’, ‘রাধা’, ‘ফালতু পেয়ার’, ‘অ্যায়সে কেয়সে’ ও ‘মেহবুবা’। র‍্যাপ, আরঅ্যান্ডবি ও ইন্ডি-পপের মিশেলে তৈরি তাঁর গান তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই ঢাকায় কনসার্ট করেন পাকিস্তানের আরেক জনপ্রিয় শিল্পী আতিফ আসলাম। রাজধানীর ১০০ ফুট এলাকায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রায় দুই ঘণ্টা গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি।

অন্যদিকে, আজ (১ আগস্ট) ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী অনুপম রায়ের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে সেটি বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে।




রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় এবার হেভিওয়েট তিন নাম

ডেস্ক নিউজঃ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 
আলোচনায় থাকা তিন নেতা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দলীয় সূত্রের দাবি, শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি উত্থাপিত হতে পারে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে অতীতের মতোই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর সিদ্ধান্তের দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দলীয় আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার পাশাপাশি সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। এমন একজনকে মনোনয়নের চিন্তা করা হচ্ছে, যিনি অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য এবং বিতর্কমুক্ত হিসেবে বিবেচিত।
এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিজ্ঞান, পরিকল্পনা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।
অন্যদিকে হাফিজ উদ্দিন আহমেদের দীর্ঘ সাংবিধানিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষেত্রে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ বর্তমানে শূন্য। ভবিষ্যতে কে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যার বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য কোনো নেতিবাচক রেকর্ড বা দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যিনি রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তার মতে, অবসরপ্রাপ্ত কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারপতির মতো অভিজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কাউকে এ পদে বিবেচনা করলে রাষ্ট্র ও সরকার উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও এমন একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে বেছে নেওয়া উচিত, যার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে এবং যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই।




কক্সবাজার সৈকতে প্যারাসেলিং থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণ গেল পর্যটকের

ডেস্ক নিউজঃ কক্সবাজারের দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সমুদ্রে পড়ে অক্ষর শৌভিক রায় (৩১) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি খুলনা সদরের বানিয়াখামার এলাকার শেখর রায়ের ছেলে।

শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে কলাতলীর দরিয়ানগর এলাকায় ‘ফরিদের প্যারাসাইলিংয়ে’ এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শৌভিক রায় খুলনা জেলার বাসিন্দা। তিনি ৯ সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে শৌভিক ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ‘সি-স্পোর্টস’ প্যারাসাইলিং কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও সফরসঙ্গীদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করার সময় সমুদ্রে পড়ে ওই পর্যটক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মোহাম্মদ সহেল বলেন, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শৌভিককে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো নজরদারি নেই। একের পর এক দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। এর আগে আরও কয়েকটি দুর্ঘটনার পর প্রশাসন প্যারাসেলিং বন্ধে নোটিশ দিলেও পক্ষকাল না যেতেই রহস্যজনকভাবে ফের চালু হয় অনিরাপদ এ পর্যটন বিনোদন।




২২ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে অর্থ আদায়, নিম্নমানের কাজের বিল পরিশোধ এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি সরাসরি অর্থ গ্রহণ না করলেও অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কমিশন আদায়ের একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ, বিল প্রস্তুত, অনুমোদন ও চেক গ্রহণ—প্রায় প্রতিটি ধাপেই ঠিকাদারদের নির্ধারিত হারে অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ।

দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভাগের দুই উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) কাজের বিনিময়ে কমিশনের কথা বলেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিল সময়মতো পেতে হলে আগে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে চুক্তিমূল্যের ৫৭ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই অর্থের একটি অংশ নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছেও পৌঁছায়। তবে মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ, নিম্নমানের কাজ গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আবাসিক, অনাবাসিক, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে প্রায় ২২ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রকল্পের একটি অংশে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি এবং একই ধরনের অনিয়ম চলমান অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হাসপাতাল-২, ইন্টার্নি ছাত্র হোস্টেল, স্টাফ কোয়ার্টার, জরুরি বিভাগ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, ওপিডি ভবন, পানি সরবরাহ ও স্যুয়ারেজ লাইনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর সংস্কারকাজে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের ৩০৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এক রোগী আহত হওয়ার ঘটনাও রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ম্যানুয়াল কোটেশনের মাধ্যমেও সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের কিছু ফিনিশিং কাজেও অনিয়ম এবং অগ্রিম বিল পরিশোধের পর অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সরা।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় নির্বাহী প্রকৌশলীকে অফিসে পাওয়া যায় না। তবে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে তিনি নিয়মিত বৈঠক করেন এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা দেন। কমিশন না দিলে বিল, ফাইল ও প্রশাসনিক কাজ বিলম্বিত হওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, টেন্ডার বা বিল প্রক্রিয়ায় তিনি কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন না। তবে তাঁর নাম ব্যবহার করে এসডিইদের কমিশন আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য আর পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল পরিশোধ, কাজের মান এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।




জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩, শপিংমলে আটকা বহু মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নিশ্চিত করেছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও বিভিন্ন ভবনের ধ্বংস্তূপে অনুসন্ধান তৎপরতা জারি আছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর কুমামোতো শহরের একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, মঙ্গলবার রাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান, এমনকি এখনও বিভিন্ন ধ্বংস্তূপের তলায় আটকা পড়া লোকজন উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, কারণ এখন প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে আমরা আমাদের সমস্ত সক্ষমতা প্রয়োগ করবো।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৭.১ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, মনে হচ্ছিল শক্ত মাটি হঠাৎ করেই নড়তে শুরু করেছে।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শপিংমল থেকে প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার দূরের একটি দোকানের ভেতরে ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে শিশুরা আতঙ্কে কাঁদছে এবং দোকানের পণ্যসামগ্রী মেঝেতে ছিটকে পড়েছে।

সাগরের অগভীর অংশে ভূমিকম্প হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে এটির ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো জেলা।

আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ভূমিকম্পটি সম্ভবত ২০১৬ সালের ভূমিকম্পের পর অক্ষত থাকা একটি ফল্টের কারণে ঘটেছে।

এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিলে, দুই দিনের ব্যবধানে ৬.৫ এবং ৭.৩ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে ২৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।




গ্রামে ঢুকে বাড়িতে বাড়িতে আগুনের পর গুলি, শিশুসহ নিহত ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নাইজেরিয়ার একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৮ শিশুসহ ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

গত সোমবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কাডুনা রাজ্যের একটি গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

গ্রাম প্রধানের সচিব ডোগন রানা জানান, অতর্কিতভাবে বন্দুকধারীরা গ্রামের নিরীহ লোকদের ওপর হামলা চালায়। তারা এলোপাথারিভাবে গুলি ছুড়ে ও বাড়িগুলো জালিয়ে দেয়। এতে আটজন শিশু পুড়ে মারা যায়। এছাড়া চারজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

এই হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি বলে জানা গেছে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে। নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্য প্রদেশে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা নিরাপত্তার জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে কাডুনা প্রদেশের পুলিশের মুখপাত্র এই হামলার বিষয়ে কিছু জানাননি। তিনি বলেন, শিগগিরই এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।




শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সোমবার বিকালে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছো এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদেরকে আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই কাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলেন, ‘আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে, যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।’

ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সকলের দেশ। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি, তাহলে আমরা একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশেপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে, সেটি পুকুর হোক, নদীনালা হোক, বাসার আশেপাশে এখন থেকে যদি এরকম কোনো দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে, প্লিজ তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেইখানে ময়লা ফেলার জায়গা, নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি কাজ তোমাদের করতে হবে, কেউ যদি পুকুর নদীনালায় ময়লা ফেলে, যদি তুমি পারো’ বন্ধুদেরকে সাথে নিয়ে সেই ময়লাটিকে পরিষ্কার করবে। যাতে আমাদের পরিবেশটি আমাদের নদীর পানি, পুকুরের পানি যাতে পরিষ্কার থাকে, যাতে সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে পারে বা মানুষ সেখানে বসতে পারে।’

শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিবছর চেষ্টা করবে, তোমার বাড়ির আশেপাশে হোক, তোমার স্কুলের আশেপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে করো সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি, আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে, পরিষ্কার হবে। আমরা সকলে মিলে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব।’

কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতির প্রতি বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয় হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমার সকল ছোট বন্ধুদের আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশেপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে, আমরা চেষ্টা করব, এই যে প্রকৃতির, আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন নেওয়ার। যত্ন যদি নিতে না পারি, অন্তত আমরা চেষ্টা করব, তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।’

বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা যাই হোক না কেন সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

উপস্থিত সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রায়ই নানামুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক খবর লিড নিউজ হিসেবে প্রাধান্য পায়। তবে শিশুরা এবং তাদের এই আয়োজনই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ। তাই আগামীকালের পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদে শিশুদের এই উদ্যোগ ও তাদের সাফল্যকে যেন অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার বা ‌‘লিড নিউজ’ করা হয়, এটা আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকল।’




শাপলা চত্বর হত্যাকান্ডটি ছিল ‘গণহত্যা’: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে জেনোসাইড বা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (২৭ জুলাই) ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে একটি নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায়। তবে ঘটনার পর এ নিয়ে করা মামলাটির কোনো তদন্তকাজ চালানো হয়নি। বহু চেষ্টা করার পরও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত বা বিচার পায়নি হেফাজতে ইসলাম। অবশেষে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বভার নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা শিশুসহ আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এটি জেনোসাইড ছিল। দেশের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কখনো ঘটেছে বলে জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোট ৬১ জন মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি ঘটনার ওপর আমরা অভিযোগ দিয়েছি। একটি হলো শাপলা চত্বরে ৫ মে মধ্যরাতে নারকীয় ঘটনায় ৩২ জন শহীদ, আরেকটিতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা। এ সবকিছুই জেনোসাইড ছিল। এই দুটি অভিযোগে আমরা ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছি। তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।’

এর আগে শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর শাপলা চত্বরের ঘটনাকে জেনোসাইড আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অভিযানের আগে মন্ত্রী ও প্রশাসনের একটি বৈঠকে গ্রেনেড ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিশুসহ হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয় বলে আদালতে অভিযোগ উপস্থাপন করেন তিনি।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে প্রথমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। তিনি হেফাজতের নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে অভিযোগটি দাখিল করেন। প্রাথমিক অভিযোগে ২১ জনকে আসামি করা হলেও তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন আসামির সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।

শুনানি শেষে শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার থাকা ১০ আসামিকে পরবর্তী শুনানিতে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।




লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প রুটে জ্বালানি রফতানি অব্যাহত সৌদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হুমকি ও আক্রমণের মুখে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্য আরও অস্থির হয়ে ওঠার আশঙ্কা সত্ত্বেও, সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূল থেকে লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।

ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের ওপর অবরোধ (ব্লকেড) ঘোষণার কয়েক দিন পর, পশ্চিমা জাহাজ মালিকেরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের বাব এল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে চলার অথবা তাঁদের জাহাজের ট্রান্সপন্ডার (অবস্থান ট্র্যাকিং ব্যবস্থা) বন্ধ রেখে ওই প্রণালি অতিক্রম করার পরিকল্পনা করছেন বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে চীনসহ যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, সেসব দেশের মালিকানাধীন জাহাজগুলো রিয়াদের তেল বহন করে এখনও এই প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে।

গত সোমবার হুথিদের অবরোধ ঘোষণার যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, তার পরবর্তী সময়ে অন্তত একটি সৌদি জাহাজে হামলার ঘটনার পর—এই অঞ্চলে নৌ-পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলবাহী ট্যাঙ্কার মালিক ও ব্যবসায়ীরা চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান, আর এই পরিস্থিতির মাঝে আন্তর্জাতিক তেল বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে লোহিত সাগরে সৌদির ইয়ানবু বন্দর। অবরোধ ঘোষণার দুদিন পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেওয়া সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানির সাতটি বার্থের (জাহাজ ভেড়ানোর স্থান) মধ্যে চারটিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার নোঙর করে রাখা ছিল।

সৌদি অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি গ্রিক ট্যাঙ্কার সংকীর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণাল অতিক্রম করার সময় নিজের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে লোহিত সাগর থেকে বের হয়ে যায়। জাহাজ ট্র্যাকিং সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘মেরবাবু’ নামের এই ট্যাঙ্কারটি লোহিত সাগরে নিজের অবস্থান সম্প্রচার করার পর বৃহস্পতিবার আরব সাগরে দৃশ্যমান হয়। অর্থাৎ, যাত্রাপথের মাঝের সময়টায় বন্ধই ছিল জাহাজের ট্রান্সপন্ডার। ভেসেল চার্টারতালিকা থেকে জানা যায়, জাহাজটি ভারতের দিকে যাচ্ছে।

এ ছাড়া, সৌদি অপরিশোধিত তেল বহনকারী হংকংয়ের মালিকানাধীন সুপারট্যাঙ্কার ‘নিউ এক্সপ্লোরার’ গত মঙ্গলবার থেকে অলস বসে থাকার পর বাব এল-মান্দেব প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করে। এর আগে চীনের দুটি ট্যাঙ্কার একই পথে বের হয়ে যায়। তবে সৌদি আরব ব্যতীত অন্যান্য দেশের তেল পরিবহনে এই নৌপথে বেশ চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে; একাধিক জাহাজ রুশ তেল বহন করে ভারতসহ অন্যান্য গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে।

কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে জাহাজ মালিকদের

ঝুঁকি নিয়ে বাব এল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ পরিচালিত করবেন, নাকি এশিয়ার গন্তব্যগুলোতে পৌঁছাতে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে তুলনামূলক ব্যয়বহুল ও দীর্ঘ পথ বেছে নেবেন— সৌদি তেল পরিবহনকারী পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে মালিকদের এই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পথ পরিবর্তনের ফলে তাদেরকে সুয়েজ খাল হয়ে উত্তর দিকে ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা কোনো কোনো জাহাজের যাত্রার সময় প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

লোহিত সাগরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় ডেনমার্কের মালিকানাধীন ট্যাঙ্কার ‘টর্ম ইনোভেশন’ ইয়ানবু বন্দরে তেল লোড করার পর সুয়েজ খালের উত্তর রুটের দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয় বলে ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে। জাহাজ ভাড়ার তথ্য অনুযায়ী, এই ট্যাঙ্কারটির জাপানের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে।

‘টর্ম ইনোভেশন’ যদি সুয়েজ খাল হয়ে বের হয়, তবে তা এশিয়াগামী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী  জাহাজ ‘গ্যাস কিং’-এর নেওয়া পদক্ষেপের অনুরূপ হবে। দুদিন আগে পথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গ্যাস কিং এবং ইতোমধ্যেই ট্যাঙ্কারটি সুয়েজ খাল অতিক্রম করা শুরু করেছে।

লোহিত সাগরের এই অনিশ্চয়তার কারণে, কিছু এশীয় তেল ক্রেতা লোহিত সাগরের বাইরে থেকে সৌদির অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের কথা বিবেচনা করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। কেউ কেউ তেল পরিবহন আফ্রিকা হয়ে নতুন পথে ঘুরিয়ে দিতে সৌদি আরামকোর সঙ্গে আলোচনাও চালাচ্ছে।

ব্লুমবার্গের দেখা বুকিং সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিসরের উত্তর উপকূল থেকে তেল সংগ্রহ করে উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য অন্তত একটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজকে (ভিএলসিসি) সাময়িকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে এ ধরনের প্রথম চার্টার বা চুক্তি।




যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ছাড়া হচ্ছে ৬ লাখ মশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানো স্ত্রী মশার বিস্তার রোধ করতে চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ৬ লাখ পুরুষ মশা অবমুক্ত করা হচ্ছে। মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোল’ এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি এমন কিছু পুরুষ মশা ছাড়ছে, যেগুলো ‘ওলবাকিয়া’ নামের একটি বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। এই পুরুষ মশাগুলো পরিবেশ উন্মুক্ত করার পর প্রজননের জন্য কামড়ানো স্ত্রী মশাগুলোকে খুঁজে বের করবে। ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে স্ত্রী মশার দেওয়া ডিমগুলো থেকে আর কোনো বাচ্চা ফুটবে না। তাছাড়া পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না বিধায় সাধারণ মানুষের জন্য এর কোনো উপদ্রব বা স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।

বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোলের স্বত্বাধিকারী টড মন্টগোমারি সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিওপিকে জানান, এগুলো যখন স্ত্রী মশার সঙ্গে প্রজনন করে, তখন স্ত্রী মশাটিও মূলত সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যা হয়ে যায়। মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এই জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্যোগ এটিই প্রথম নয়; এর আগে দক্ষিণ আমেরিকা, সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়াতেও এ ধরনের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।