নদী খননের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ? বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমানকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ড্রেজিং বিভাগ যেন এখন দুর্নীতির অভয়ারণ্য। আর সেই সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সাইদুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, অনিয়ম, প্রকল্প লুটপাট, বদলি-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে বিতর্কিত এই কর্মকর্তা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন ভয়াবহ সব অভিযোগে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্রের অন্যতম সদস্য ছিলেন সাইদুর রহমান। ক্ষমতার পালাবদল হলেও রহস্যজনকভাবে বহাল তবিয়তেই রয়েছেন তিনি। বরং আগের মতোই কূটকৌশলে নিজের অবস্থান ধরে রেখে ড্রেজিং বিভাগকে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত আখের গোছাতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পে নদী খননের নামে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ভোগাই ও কংস নদ খননের কাজেও ব্যাপক অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং কাগুজে খননের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প এলাকায় বাস্তবে কাজ না করেই ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়—এমন বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

অভিযোগ আরও ভয়ংকর। বলা হচ্ছে, সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে ড্রেজিং বিভাগে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট। এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করে দরপত্র বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম। সিন্ডিকেটের বাইরে কেউ কথা বললেই তাকে হয়রানি, বদলি কিংবা পদোন্নতি আটকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র জানায়, নদী খননের নামে প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে কাগজে-কলমে শতভাগ বাস্তবায়নের রিপোর্ট তৈরি করা হতো। এরপর ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ তুলে ভাগ-বাটোয়ারা করতেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, এসব অপকর্মের মূল সমন্বয়ক ছিলেন সাইদুর রহমান নিজেই।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করলেও রহস্যজনক কারণে তা বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, সাইদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণী জমা পড়ার পরও তিন বছরেও যাচাই শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী মহল এবং কিছু অসাধু দুদক কর্মকর্তার সহায়তায় মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। জানা গেছে, এলজিইডি থেকে চাকরি বরখাস্ত হওয়ার তথ্য গোপন করে ২০০৩ সালে বিআইডব্লিউটিএতে যোগ দেন তিনি। অথচ সেই অভিযোগ তদন্তের বদলে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা হয়েছে তাঁকে।

বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “ড্রেজিং বিভাগ এখন সাইদুর রহমানের ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে নিয়ম নয়, চলে সিন্ডিকেটের নির্দেশ।” তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই পদে থেকে সরকারি চাকরি বিধিমালারও চরম লঙ্ঘন করেছেন তিনি।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত দুর্নীতিবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সময়েও তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি বহাল থেকে আগের মতোই প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সচেতন মহল বলছে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের দুর্নীতি এখন শুধু একটি দপ্তরের সমস্যা নয়; এটি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব, রাজি হবে কি ইরান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মূল মতবিরোধ এখনও পুরোপুরি মেটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে এবং একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগের দিন তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে শুরু করা সামরিক অভিযান “প্রজেক্ট ফ্রিডম” স্থগিত করেন।

কী আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে?
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, দুই পক্ষ ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে ইরান অন্তত ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় এবং ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ- এসব স্পর্শকাতর ইস্যু প্রাথমিক প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের অবস্থান কী?
এখনও আনুষ্ঠানিক জবাব না দিলেও ইরানি নেতারা প্রস্তাবটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ইবরাহিম রেজায়ি প্রস্তাবটিকে ‘বাস্তবতা বর্জিত মার্কিন স্বেচ্ছাচারি তালিকা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, এই পর্যায়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে না; তাদের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ তেহরান এটিকে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে দেখে।

হরমুজ ইস্যুই বড় বাধা
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এখন এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে এবং নতুন নিয়ম-কানুন আরোপের কথাও বলছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্ররা কোনও শর্ত ছাড়াই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে চায়। ফলে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের দূরত্ব এখনও অনেক।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার বিষয়ে দুই দেশ আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা




অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ঢাকার সহযোগিতা চেয়েছে দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার সহযোগিতা চেয়েছে দিল্লি।

বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬২টি নথি পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক মামলা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। বাংলাদেশ সরকারকে এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রনধীর জয়সওয়াল বলেন, “এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা আশা করছি বাংলাদেশ সরকার যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সহায়তা করবে। কারণ ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী যে দেশেরই হোক না কেন তাদের ফেরত পাঠানো দিল্লির নীতি।”

এছাড়া তিস্তা নদীর পানি বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যেগুলো দুই দেশই ব্যবহার করে থাকে। এসব নদী-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সুসংগঠিত দ্বিপাক্ষিক কাঠামো রয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমেই পানি–সংক্রান্ত যেকোনও ইস্যু সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

সূত্র: দ্য হিন্দুএএনআইদ্য প্রিন্ট




ঈদুল আজহায় সাত দিনের ছুটি ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে ঈদের আগের দুই দিন, অর্থাৎ ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা থাকবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ছুটির অনুমোদন দেওয়া হয়। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ২৩ ও ২৪ মে (শনি ও রবিবার) যথারীতি অফিস খোলা থাকবে।




৩ হাজার কোটি রুপি আয় করা ‘ধুরন্ধর ২’ ওটিটিতে মুক্তি পাবে কবে

বিনোদন ডেস্ক : বলিউডে কয়েক মাস ধরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। মুক্তির সাত সপ্তাহ পরও সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে। রণবীর সিং অভিনীত গুপ্তচরভিত্তিক এই অ্যাকশন থ্রিলার ইতিমধ্যেই একের পর এক বক্স অফিস রেকর্ড গড়েছে। ভারতীয় বক্স অফিসে এটি চলতি বছরের সবচেয়ে বড় বলিউড হিট, আর বিশ্বব্যাপী আয়ের দিক থেকেও অন্যতম সফল ভারতীয় সিনেমা।
তাই স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ওটিটিতে কবে আসছে ‘ধুরন্ধর ২’? যদিও নির্মাতারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেননি, তবু একটি আদালত মামলার শুনানিতে সিনেমাটির স্ট্রিমিং পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টে ‘ধুরন্ধর ২’-কে ঘিরে একটি কপিরাইট মামলা হয়। সিনেমাটির ক্লাইম্যাক্সে ব্যবহার করা হয়েছে জনপ্রিয় গান ‘তিরছি টোপিওয়ালে’-এর নতুন সংস্করণ। ‘রং দে লাল’ শিরোনামের এই রিমিক্স তৈরি করেছেন সংগীত পরিচালক শাশ্বত সচদেব। মূল গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল ১৯৮৯ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘ত্রিদেব’-এ।

সেই ছবির পরিচালক ও প্রযোজক রাজীব রাই অভিযোগ করেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া গানটি ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। প্রথমে দিল্লি হাইকোর্ট উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেন। কিন্তু বুধবার আদালতে জানানো হয়, সেই মধ্যস্থতা ব্যর্থ হয়েছে।

শুনানিতে সুপার ক্যাসেটস, যাঁরা ‘ধুরন্ধর ২’-এর অডিও ও মিউজিক স্বত্বের মালিক, তাঁরা মামলাকারীর অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনের বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বি৬২ ফিল্মস আদালতকে জানায়, সিনেমাটি ইতিমধ্যেই প্রেক্ষাগৃহে চলছে এবং মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগে এটি ওটিটিতে আসার সম্ভাবনা নেই।

এই তথ্য থেকেই মূলত ওটিটি মুক্তির সম্ভাব্য সময় নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বলিউডে এখন বড় সিনেমাগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের থিয়েটার উইন্ডো রাখা হচ্ছে। ‘ধুরন্ধর ২’ ১৪ মে আট সপ্তাহ পূর্ণ করবে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধেই সিনেমাটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আসতে পারে।

প্রথম ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটিও একই পথ অনুসরণ করেছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া সেই ছবি আট সপ্তাহ পর ওটিটিতে আসে। তবে প্রথম সিনেমাটি যেখানে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছিল, সিক্যুয়েলটি স্ট্রিম হবে জিওহটস্টার। তবে একই প্ল্যাটফর্ম চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিড ক্রিকেট বা আইপিএলও সম্প্রচার করছে। সে ক্ষেত্রে হয়তো আইপিপ্রল শেষ হওয়ার পর (ফাইনাল ৩১ মে) মুক্তি পেতে পারে।
আদিত্য ধরের এই গুপ্তচর থ্রিলারে রণবীর সিংকে দেখা গেছে করাচিতে মিশনে থাকা এক ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায়। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে জিও স্টুডিওস ও বি৬২ স্টুডিওস।

রণবীরের পাশাপাশি ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, সারা অর্জুন প্রমুখ।

দুটি ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আয় ছাড়িয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি রুপি। ‘ধুরন্ধর ২’ ইতিমধ্যেই বলিউডের সর্বোচ্চ ওপেনিং, সর্বোচ্চ দেশীয় আয়সহ একাধিক রেকর্ড নিজের দখলে নিয়েছে। এটিই প্রথম হিন্দি সিনেমা, যা ভারতে ১০০০ কোটির বেশি নেট আয় করেছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৮০০ কোটি রুপির আয় নিয়ে এটি বর্তমানে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী ছবিগুলোর একটি।




১৭ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৭ মে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইন্সটিটিউটের স্থান পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনসাধারণকে এ তথ্য জানান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে জনবল তৈরি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিভিন্ন ধরণের দুর্যোগের ওপর গবেষণা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ জনগণের দুর্যোগ লাঘব করার আনুষঙ্গিক কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে এ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তিনি জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কিত সকল সংস্থার সংশ্লিষ্ট সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণও এ ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

এটি দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ৮ দশমিক ২০ একর ভূমিতে একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন এবং আবাসিক প্রশিক্ষণের জন্য ০১টি ৬ তলা হোস্টেল ভবন নির্মাণ করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলের ৩য় তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব সাইদুর রহমান খান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




বিশ্বকাপের স্কোয়াড নিয়ে যত নিয়ম, কখন দিতে হবে চূড়ান্ত তালিকা

ক্রীড়া ডেস্ক :  আসছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। এরই মধ্যে দল ঘোষণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। সবার আগে প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে উজবেকিস্তান। তারা ৪০ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখান থেকে পরে চূড়ান্ত দল নির্বাচন করা হবে। অন্য দেশগুলোও এখন নিজেদের সেরা দল গঠনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত।

বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল নির্ধারণ করা সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। খেলোয়াড়দের বর্তমান ছন্দ, অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত পরিকল্পনা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দল সাজাতে হচ্ছে কোচদের।

কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ২৬ জন খেলোয়াড় নিয়ে চূড়ান্ত দল গঠন করতে পারবে। আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার নয় দিন আগে, অর্থাৎ ২ জুনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী ৪৮ দেশকে তাদের চূড়ান্ত দল জমা দিতে হবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে।

এর আগেই প্রতিটি দেশ ৩৫ থেকে ৫৫ জন খেলোয়াড়ের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিয়েছে। এই তালিকায় বাধ্যতামূলকভাবে চারজন গোলরক্ষক রাখতে হয়েছে। তবে এই প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে না।

চূড়ান্ত দলে অন্তত তিনজন গোলরক্ষক রাখতে হবে। ২৩ থেকে ২৬ জনের মধ্যে দল চূড়ান্ত করতে পারবে প্রতিটি দেশ। তবে দল ঘোষণার পর খেলোয়াড় পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত থাকবে। গুরুতর চোট কিংবা অসুস্থতার কারণেই কেবল খেলোয়াড় বদলের অনুমতি মিলবে। আর সেই বদলি খেলোয়াড়কে অবশ্যই প্রাথমিক তালিকা থেকে নিতে হবে।

এই পরিবর্তনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিশ্বকাপে সংশ্লিষ্ট দলের প্রথম ম্যাচ শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত।

গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। চূড়ান্ত দলে থাকা কোনো গোলরক্ষক টুর্নামেন্ট চলাকালে চোট বা অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে, প্রাথমিক তালিকায় থাকা অন্য গোলরক্ষককে যে কোনো সময় দলে নেওয়া যাবে।

জাতীয় দলগুলো নিজেদের সুবিধামতো যেকোনো সময় দল ঘোষণা করতে পারবে। তবে ২ জুনের আগে দেওয়া কোনো তালিকাই আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত দল হিসেবে গণ্য হবে না।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাব থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার বিষয়েও নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ক্লাবের হয়ে আনুষ্ঠানিক শেষ ম্যাচ খেলার পরের দিন থেকেই খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য বাধ্যতামূলক অব্যাহতি কার্যকর হবে। সেই হিসাবে ২৫ মে থেকে খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে পারবেন।

তবে যেসব খেলোয়াড় নিজেদের ক্লাবের হয়ে মহাদেশীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলবেন, বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে তাদের ৩০ মে থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের দল গঠন শুধু খেলোয়াড় বাছাইয়ের বিষয় নয়, বরং নিয়ম-কানুন, সময়সীমা ও কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ও বটে। তাই বিশ্বকাপ শুরুর আগেই প্রতিটি দেশের কোচিং দলকে পেরোতে হচ্ছে কঠিন হিসাব-নিকাশের পথ।




সাড়ে ১৬ কোটি টাকার ৪ তলা ভবন নিয়ে তোলপাড়, বান্দরবানে হর্টিকালচার সেন্টারে অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বান্দরবানের বালাঘাটা এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে নির্মাণাধীন একটি ৪ তলা “ল্যাবরেটরি কাম অফিস” ভবনকে ঘিরে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় ১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের তদারকিতে গাফিলতি এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যে ধরনের ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, সেই তুলনায় ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়েছে। ফলে পুরো প্রকল্প নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগসাজশের কারণেই কাজের মান ঠিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বেশিরভাগ সময় প্রকল্প এলাকায় দেখা যায় না। বরং ঢাকায় বসে মোবাইল ফোনের ভিডিও কলের মাধ্যমে নির্মাণকাজ তদারকি করা হচ্ছে। এতে করে বাস্তবে কী ধরনের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে বা কাজের গুণগত মান কেমন, সেটি সঠিকভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ থাকছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের বিভিন্ন অংশে এখন টাইলস, বিদ্যুৎ সংযোগ, স্যানিটেশন, ইন্টারনেট লাইন ও পাইপ ফিল্টারের কাজ চলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রেও কমদামি ও নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনের ফ্লোর ভরাটে বালির পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালি ও পাথর দিয়েই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভবনের রড ব্যবহারের বিষয়ে। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ওয়ার্ক অর্ডারে পিলারে ১৫ এমএম রড ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় ৪ বা ৫ সুতা রড ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময় ধরে লোড টেস্ট করার কথাও ঠিকভাবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিকদের অনেকে জানিয়েছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেসব সামগ্রী দিয়েছে, সেগুলো দিয়েই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় অভিজ্ঞ ঠিকাদারদের অনেকে বলছেন, আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ৪ তলা একটি ভবন নির্মাণে সাধারণত ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। সেখানে এই প্রকল্পে সাড়ে ১৬ কোটির বেশি টাকা ব্যয় দেখানোয় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, অতিরিক্ত বাজেট দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তারা মনে করছেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তাদের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের খরচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহন করে থাকে। এমনকি কাজের মান ভালো হয়েছে বলে রিপোর্ট দেওয়ার জন্যও প্রভাব খাটানো হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে প্রকল্পে প্রকৃত মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নির্মাণকাজ চলাকালে প্রকল্প এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রকৌশলীকে পাওয়া যায়নি বলেও জানা গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিজস্ব প্রকৌশল বিভাগ না থাকায় একটি বেসরকারি কনস্ট্রাকশন ফার্মের মাধ্যমে পুরো কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইরের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও প্রকল্প এলাকায় নিয়মিত যান না। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত স্বাধীনভাবে কাজ পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণেই তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন।

ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তালহা জুবাইর সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে অফিসে এসে কথা বলার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু বান্দরবান নয়, দেশের আরও কয়েকটি জেলাতেও একই ধরনের প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।




নৌ-প্রশিক্ষণ খাতে কোটি টাকার সিন্ডিকেটের অভিযোগ, কেন্দ্রবিন্দুতে প্রিন্সিপাল অফিসার সাব্বির মাহমুদ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ নৌ-প্রশিক্ষণ খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নতুন করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ, যিনি বিভিন্ন মহলে “সাব্বির মাদানি” নামেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি পদ-পদবি ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত একাধিক প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি এবং আর্থিক দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই চক্রের কারণে দেশের নৌ-প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেরিন একাডেমিতে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় থেকেই সাব্বির মাহমুদ আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তবে ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসানের কারণে তিনি কয়েক কোটি টাকার দেনায় পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে নৌ বাণিজ্য দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ার পরই তার আর্থিক অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, সিমুলেটর কেনাকাটা ও প্রশিক্ষণ প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন।

সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় সরাসরি ব্যবসা পরিচালনায় আইনগত বাধা থাকায় তিনি নিজের শ্যালক কাজী হাবিবুল হোসেনকে সামনে এনে “ইরেকটর্স” নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পেশায় আগে সাধারণ ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজ করলেও হঠাৎ করেই কাজী হাবিব বড় ঠিকাদার ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির আড়ালের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ছিল সাব্বির মাহমুদের হাতেই। টেন্ডারের কাগজপত্র তৈরি, ব্যাংকিং কার্যক্রম দেখা এবং বিভিন্ন নথিতে “পরামর্শক” পরিচয়ে স্বাক্ষর করার কাজও তিনি নিজেই করতেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।

সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের ডিইপিটিসি (ডেক ইঞ্জিন পার্সোনেল ট্রেনিং সেন্টার) প্রকল্প নিয়ে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের বিআরডব্লিউটিপি-জি৩সি টেন্ডারে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি প্রকল্পের কারিগরি স্পেসিফিকেশন তৈরি করার দায়িত্ব সরকারি কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এখানে টেন্ডারে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান “এআরআই-ইরেকটর্স” নিজেরাই সেই স্পেসিফিকেশন তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এমনভাবে শর্ত সাজানো হয়, যাতে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও কার্যত বাদ পড়ে যায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আইয়ুব আলীর সহযোগিতায় সাব্বির মাহমুদ এবং তার ভারতীয় সহযোগী অমিত ভট্টাচার্য পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি নরওয়ের বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান “কনসবার্গ” টেন্ডার নিয়ে আপত্তি তুললেও তা গুরুত্ব পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পাঠানো বিভিন্ন ই-মেইলের উত্তরও সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সাব্বির মাহমুদ নিজেই তৈরি করতেন, যা ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে কোনো সিল বা স্বাক্ষর ছাড়া দরপত্র জমা দেওয়া হলেও রহস্যজনকভাবে তা বাতিল করা হয়নি। পরে মূল্যায়নের আগ মুহূর্তে শতাধিক পৃষ্ঠায় গোপনে স্বাক্ষর সংযুক্ত করা হয়। কিছু নথিতে জাল স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করার বিষয়টিও সামনে এসেছে, যা পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, মেরিন একাডেমি ও এনএমআই-এর আরও কয়েকটি প্রকল্পেও একই ধরনের সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন এই চক্র নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিয়ম জানলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত কোনো প্রকল্পে এমন অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো প্রকল্প “মিস-প্রকিউরমেন্ট” হিসেবে ঘোষণা হতে পারে। এতে শুধু প্রকল্প বাতিল হওয়ার ঝুঁকিই নয়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভবিষ্যতে বিদেশি সহায়তা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের বা অনিয়মের মাধ্যমে কেনা সিমুলেটর ব্যবহারের কারণে দেশের নৌ-প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে সাব্বির মাহমুদ দাবি করেন, তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং এসব অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি “ইরেকটর্স” ও বিআইডব্লিউটিএ’র সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে পরবর্তীতে আর বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করলো সংযুক্ত আরব আমিরাত

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান।  জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুসারে, আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার (৬ মে) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, আরব জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিজ্ঞান ইউনিয়নেরও একজন সদস্য আল জারওয়ান।

আল জারওয়ান জানান, জিলহজ মাসের সূচনাসূচক অর্ধচন্দ্রটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় অনুযায়ী রোববার (১৭ মে) রাত ১২.০১ মিনিটে দেখা যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা অনুসারে, আগামী ১৮ মে, ১৪৪৭ হিজরি মাসের যুল-হিজ্জাহ (জিলহজ) মাসের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আরাফার দিবস হবে ২৬ মে (মঙ্গলবার) এবং পবিত্র ঈদুল আজহা ২৭ মে (বুধবার) অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, সেদিন সূর্যাস্তের প্রায় ৫৮ মিনিট পর চাঁদ অস্ত যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি দিগন্তের প্রায় ১০ ডিগ্রি উপরে থাকবে, ফলে অনুকূল পরিস্থিতিতে চাঁদ দেখা যাবে।

সেই হিসেবে আগামী ১৮ মে সোমবার জিলহজ মাসের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

সেটি হলে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফা দিবস পড়বে ২৬ মে, মঙ্গলবার। আর পরের দিন ২৭ মে, বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে।

উল্লেখিত তারিখগুলো বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত জানিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, তবে জিলহজ মাস, আরাফার দিন ও ঈদুল আজহার চূড়ান্ত তারিখ সরকারিভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।

সাধারণত, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়। সেই হিসাবে আগামী ২৮ মে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে। তবে দেশের আকাশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির চাঁদ দেখার ওপর দেশে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করছে।