পেজেশকিয়ান: সম্মানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে চায় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘সম্মানের সঙ্গে’ শেষ করতে চায় ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেহরানকে তার পারমাণবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার তিনি এ কথা জানান।

আইএসএনএ বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ে পরিদর্শনের সময় পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন ইরানের তাদের পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করা উচিত নয়, কিন্তু ইরান কী অপরাধ করেছে তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘রক্তপিপাসু ও নিষ্ঠুর শত্রুর বিরুদ্ধে জাতিকে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি ইরানকে এমনভাবে মোকাবিলা করতে হবে, যাতে আমাদের যুদ্ধবাজ হিসেবে তুলে ধরা না হয়। কারণ, আমরা শুধু নিজেদের রক্ষা করছি।’

গত মাসে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে অস্ট্রেলিয়া নারী ফুটবল দলের পারফরম্যান্স এবং আশ্রয় চাওয়া দুই খেলোয়াড়ের কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের মেয়েরা শত্রুকে শক্ত আঘাত করেছে। শত্রুদের মাধ্যমে বিভ্রান্ত হওয়া ওই দুই প্রিয় মেয়ে যখনই ফিরে আসতে চাইবে, তাদের সব সময় স্বাগত জানানো হবে; তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা আছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েলসহ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ রয়েছে এমন দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় গত ৮ এপ্রিল থেকে এই যুদ্ধ স্থগিত রয়েছে।

স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে গত সপ্তাহের শেষে পাকিস্তানে আলোচনায় বসেছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। এ ছাড়া ইসলামাবাদে আরও একটি বৈঠকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।




ইরান যুদ্ধের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার ব্যালেস্টিক মিসাইল পরীক্ষা, উত্তেজনা বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে ব্যালেস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। রোববার ভোরে দেশটির পূর্ব উপকূলের সিনপো শহর থেকে সমুদ্রের অভিমুখে এই মিসাইলগুলো ছোড়া হয়।

চলতি মাসে এটি পিয়ংইয়ংয়ের চতুর্থ এবং বছরের সপ্তম মিসাইল পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকটের এই সময়ে নিজেদের আত্মরক্ষা সক্ষমতা বিশ্বদরবারে প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাড়তি সুবিধা আদায় করাই উত্তর কোরিয়ার মূল লক্ষ্য।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে মিসাইলগুলো নিক্ষেপ করা হয়, যা প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সমুদ্রের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। জাপানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মিসাইলগুলো কোরিয়া উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে পতিত হয়েছে এবং তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।

এই ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ একটি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বান করে এবং উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশনের চরম লঙ্ঘন ও উসকানিমূলক কাজ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানায়।

উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক তৎপরতার পেছনে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিম কি-জং। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে পিয়ংইয়ং বিশ্বকে দেখাতে চায় যে, তাদের পারমাণবিক ও সামরিক আত্মরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অজেয়।

এছাড়া মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এশিয়া সফরের আগে উত্তর কোরিয়া কৌশলে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছে। যদিও ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং কিম জং উনের সাথে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রসি গত বুধবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় ‘মারাত্মক’ উন্নতি ঘটিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নতুন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র যুক্ত করেছে।

গত মার্চ মাসে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান এখন অপরিবর্তনীয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। ইরান যুদ্ধের আবহে কিমের এই মারমুখী অবস্থান এশীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে।




মশারিতে পুরো শরীর ঢেকে ডিউটি করছেন নিরাপত্তা প্রহরী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের হায়দরাবাদের একটি আবাসিক এলাকায় এক নিরাপত্তা প্রহরীকে মশারির ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে তার এই অভিনব পদ্ধতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের পালায় দায়িত্ব পালনরত ওই প্রহরী একটি চেয়ারে বসে আছেন, আর নিজেকে পুরোপুরি মশারির ভেতরে ঢেকে রেখেছেন। এ সময় এক নারীকে তার সঙ্গে কথা বলতেও শোনা যায়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন সুরজ কুমার বৌদ্ধ নামের এক ব্যক্তি। তিনি প্রশ্ন তোলে বলেন, যেখানে আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে ঘুমাচ্ছেন, সেখানে নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য ন্যূনতম নিরাপদ ও আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা কেন থাকে না।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা কেবল মশার সমস্যা নয় বরং সমাজে সহানুভূতির ঘাটতির প্রতিফলন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই নিরাপত্তা প্রহরীদের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ একে ‘আধুনিক দাসত্বের উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার অনেকে বলেছেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি চিত্র।

এই ঘটনাকে ঘিরে আবাসিক এলাকাগুলোতে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের জীবনযাত্রা ও কর্মপরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।




সংকট না থাকলে রাস্তায় তেলের জন্য ৩ কিমি লম্বা লাইন কেন, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

ডেস্ক নিউজঃ দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, অথচ বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাস্তায় তেলের জন্য ৩ কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। ড্রাইভাররা মাঝরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না।

রবিবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তার বক্তব্যে এমনটাই জানান। সরকার জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করছে দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের যদি কোনো সংকটই না থাকে, তবে এই লম্বা লাইন কেন? কেন তেলের দাম বাড়াতে হচ্ছে?

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, সরকার মার্কেটপ্লেস রাত ৮টার পরিবর্তে ৭টায় বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অদূরদর্শী। মানুষ কেনাকাটা সাধারণত সন্ধ্যার পরেই করে। এছাড়া অফিস-আদালতের কর্মঘণ্টা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সরকারের মন্ত্রীরা গণমাধ্যমে সংকট নেই বলে যে দাবি করছেন, তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি এই সংসদের মাধ্যমে জানতে চাই, বর্তমানে দেশে অকটেন ও ডিজেলের প্রকৃত মজুত কতদিনের আছে? পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল কেন সরবরাহ করা হচ্ছে না? তেলের মজুতদারি কারা করছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা পরিষ্কার করতে হবে। এরপরই সরকার দলীয় পক্ষ থেকে হট্টগোল শুরু হয়ে রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।




জ্বালানি তেল নিতে আজ থেকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা, কোনটায় দাম কত বাড়ল

ডেস্ক নিউজঃ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের অস্থিরতার মধ্যেই দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের নতুন দাম ঘোষণা দিয়েছে; যা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে।

গতকাল রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করে।

একনজরে নতুন দাম (প্রতি লিটার):

ডিজেল: ১১৫ টাকা (আগে ছিল ৯৯ টাকা, বৃদ্ধি ১৫%)

কেরোসিন: ১৩০ টাকা (আগে ছিল ১১২ টাকা)

অকটেন: ১৪০ টাকা (আগে ছিল ১২০ টাকা)

পেট্রল: ১৩৫ টাকা (আগে ছিল ১১৬ টাকা)

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ১১৪ টাকা করা হয়েছিল, যা ছিল সেই সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তবে এবার ১১৫ টাকা নির্ধারণের মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভেঙে গেল।

এদিকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমায় ফিলিং স্টেশনে ভিড় বেড়ে গেছে। এখন সরবরাহ বাড়িয়ে মানুষের ভোগান্তি কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির তিনজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বাড়তি তেল সরবরাহ করতে গতকাল রাতেই তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় তেলের চাহিদা হঠাৎ ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ‘বাজারে যে অস্বাভাবিক চাহিদা দেখা যাচ্ছে তা আসলে যৌক্তিক নয়। মানুষের ভোগান্তি কমাতে আমরা সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও মাঝে হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় দাম কিছুটা কমে ৯০ ডলারে এসেছিল, কিন্তু ইরান আবারও প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিপিসির তথ্যানুসারে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন ডিজেল মজুত আছে এবং পথে থাকা আরও জাহাজে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্ত হবে। এছাড়া পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আজ থেকে ডিজেলের দৈনিক সরবরাহ ১১ হাজার ১০৭ টন থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার ৪৮ টন এবং অকটেনের সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে আরও ২৩৭ টন করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩ শতাংশই হলো ডিজেল। তাই এর দাম বাড়ার প্রভাব গণপরিবহন এবং কৃষি খাতে পড়ার আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষ।




এসএসসি পরীক্ষায় সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজঃ চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

কেন্দ্রগুলোকে সিসি ক্যামেরা সংক্রান্ত তথ্য ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারী সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বোর্ডের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিসি টিভি ক্যামেরার আইডি ও পাসওয়ার্ড এবং ট্রেজারি থেকে যেসব শিক্ষক, কর্মচারী প্রশ্নপত্র গ্রহণ করবে তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর controller@dhakaeducationboard.gov.bd ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ রবিবার অফিস সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইলে এসব তথ্য পাঠাতে হবে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল। প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে। ৭ জুন থেকে শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা, যা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত।




জানা গেল ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলকদ মাস শুরু হতে যাচ্ছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রবিবার (১৯ এপ্রিল) শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে নতুন মাসের গণনা শুরু হতে যাছে।

ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, জিলকদ মাসের পরের মাস হলো জিলহজ এবং মাসটির ১০ তারিখে উদযাপিত হয় পবিত্র ঈদুল আজহা।

২০ এপ্রিল থেকে আগামী মে মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত ২৯ দিন জিলকদ মাস। জিলহজ মাস শুরু হতে পারে ১৯ মে। সে হিসেবে জিলকদ মাস ২৯ দিনে শেষ হলে ২৮ মে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, জিলকদ মাস ৩০ দিনের হলে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ মে।

তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হবে জিলহজ মাসের শুরু এবং ঈদুল আজহার সঠিক দিন। এ বিষয়ে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে।




হরমুজে এখন আর টোল দিয়েও জাহাজ চলতে দেবে না ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ হরমুজ প্রণালীতে এখন আর টোল দিয়েও জাহাজ চলাচল করতে দেবে না ইরান। ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

এর আগে জাহাজ চলাচলের জন্য যে বিশেষ পথ বা করিডোর খোলা রাখা হয়েছিল, সেটিও এখন থেকে বন্ধ থাকবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ফি দিয়ে জাহাজ চলাচলের যে সুযোগ ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।

আইআরজিসির নৌবাহিনী শাখা সতর্ক করে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যেকোনও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তেহরানের মতে, ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। সূত্র: মিডল ইস্ট আই




ই-ভ্যালি–কিউকমের পর আবারও ফাঁদ? বিতর্কিতদের ঘিরে ‘বাইক স্ক্যাম’ ঘিরে আবারও আলোচনায় বাজাজ মামুন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশের ই-কমার্স খাতে একের পর এক কেলেঙ্কারির পর যখন ভুক্তভোগীরা এখনো ক্ষত সামলাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় নতুন করে আরেকটি সম্ভাব্য প্রতারণা চক্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—পুরনো বিতর্কিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতায় আবারও সক্রিয় হতে পারে “বাইক স্ক্যাম”।

বিভিন্ন সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এসকে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচিত আল মামুন, যিনি “বাজাজ মামুন” নামেও পরিচিত, নতুন করে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মোটরসাইকেল বিক্রির নামে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনায় যুক্ত থাকতে পারেন।

পুরনো অভিযোগ, নতুন আশঙ্কা : অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ই-ভ্যালি, আলেশা মার্ট ও কিউকমের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে বাইক সরবরাহের নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা—একই ধরনের মডেল ব্যবহার করে নতুন ওয়েবসাইট খুলে আবারও অর্ডার নেওয়া হতে পারে, যেখানে পণ্য সরবরাহ বিলম্বিত বা অনিশ্চিত হতে পারে।

সিআইডির নজরে পুরনো নেটওয়ার্ক : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, অতীতের ই-কমার্স জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অর্থ পাচার ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোও রয়েছে, যেগুলো সিআইডির ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট খতিয়ে দেখছে। একটি মামলার তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগসাজশের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি, তবে তদন্ত সংস্থাগুলো বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

‘চেক ডেলিভারি’ কৌশল—পুরনো ছকের পুনরাবৃত্তি ?
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতীতে বাইক সরবরাহের আড়ালে ‘চেক ডেলিভারি’ নামের একটি আর্থিক কৌশল ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে বাইক না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের স্কিমে সাধারণত দ্রুত লাভের লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অর্থপাচার ও সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ : তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতের এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব তথ্য এখনো বিচারাধীন, তবুও সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস ও লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে তরুণ ক্রেতারা :
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকার বা তরুণ উদ্যোক্তারা সহজ কিস্তি বা কম দামে বাইক পাওয়ার আশায় এমন স্কিমে বেশি ঝুঁকে পড়েন। ফলে তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন।

সতর্কতার বার্তা : অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, অবাস্তব ছাড় বা অফার দেখলে সতর্ক থাকতে হবে, অপরিচিত ওয়েবসাইটে বড় অঙ্কের অগ্রিম পরিশোধ এড়িয়ে চলা উচিত, কোম্পানির লাইসেন্স, ডেলিভারি রেকর্ড ও পূর্ব ইতিহাস যাচাই করা জরুরি।




ভারত থেকে এলো আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।

ভারত থেকে আসা এ ডিজেল পদ্মা অয়েল পিএলসি’র পার্বতীপুর ডিপোতে শনিবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পৌঁছেছে।

শনিবার মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয় এবং আজ বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পুরো ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ডিপোতে পৌঁছে।

তিনি আরও জানান, ভারত থেকে ডিজেল আমদানি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ডিপোতে বর্তমানে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে। বিতরণ কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের একটি চালান পাম্পিং শুরু হবে।

উল্লেখ্য, চলতি এপ্রিলে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ এপ্রিল ৮ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করা হয়েছে।

এ নিয়ে এ মাসে দুই দফায় মোট ১৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে।