শরীফ ওসমান হাদির উপর গুলির প্রতিবাদে লালমনিরহাটে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ বিএনপি নেতা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে লালমনিরহাটে জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিশনমোড় বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এসে মিছিলটি শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে। শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, এই হামলা গণতন্ত্রের ওপর হামলা, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং দাবি করছি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এসব বর্বর হামলার বিচার অবিলম্বে হোক।

প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা বিএনপি, উপজেলা বিএনপিসহ সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।




গণপূর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার: নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলমকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়ম ভাঙা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। সরকারি দপ্তরকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহার করে তিনি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্ব ও শৃঙ্খলার প্রতি তার এই অবহেলা দেখে অনেক সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।

একসময় নিয়াজ মো. তানভীর আলম বঙ্গভবনে এসডিই হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি আজিমপুর এলাকায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে টানা পাঁচ বছরের বেশি সময় দায়িত্বে ছিলেন। সেখান থেকে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তাকে সচিবালয়ে বদলি করা হলেও তিনি নির্ধারিত নিয়ম মানেননি। অভিযোগ রয়েছে, বদলির পর এক মাসেরও বেশি সময় তিনি একসঙ্গে দুটি ডিভিশনের দায়িত্ব পালন করেন, যা স্পষ্টভাবে সরকারি আদেশের লঙ্ঘন। এমনকি দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ না করে ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকার বিল ছাড় করেন এবং এর মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্যে জড়ান।

আরও অভিযোগ রয়েছে, তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। বরং একই সময়ে দুই জায়গায় অফিস চালিয়েছেন, ব্যবহার করেছেন দুটি সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি সুবিধা। বিভিন্ন বিল-ভাউচারের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা ঘিরে সরকারি দপ্তরে প্রশ্ন উঠেছে—কোন শক্তির জোরে তিনি বারবার আইন ও নিয়ম ভেঙে পার পেয়ে যাচ্ছেন?

আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে নির্মাণাধীন বহুতল মেকানিক্যাল কার পার্কিং শেড নিয়েও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রকল্পে প্রায় ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ডিপিপিতে যেখানে ২৮৮টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল, সেখানে অনুমোদন ছাড়াই তা কমিয়ে ২৪০টিতে নামিয়ে আনা হয়। এতে প্রায় ১১ কোটি টাকা সাশ্রয় হলেও সেই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে আত্মসাতের পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই কাজের জন্য আলাদা আলাদা দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টাকা ভাগাভাগি করার চেষ্টা করেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

এই অনিয়মের তদন্তে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পওবিপ্র) শফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সদস্য সচিব ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখর চন্দ্র বিশ্বাস এবং সদস্য ছিলেন আশেক আহমেদ শিবলী। তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া পার্কিংয়ের ধারণক্ষমতা কমানো স্থপতির এখতিয়ার বহির্ভূত এবং এটি প্রকল্প পরিচালনা কমিটির অনুমোদন ছাড়া করা ঠিক হয়নি। তবুও এসব অনিয়মের পরও প্রকৌশলী তানভীর আলম কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান।

লিফট স্থাপনের টেন্ডারেও গুরুতর কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। মতিঝিল ও আজিমপুর সরকারি কলোনিতে মোট ৬৮টি লিফট স্থাপনের কাজ দেওয়া হয় রওশন এলিভেটরসকে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী লিফট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ২০ বছরের উৎপাদন অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সার্টিফিকেশন থাকার কথা ছিল। কিন্তু রওশন এলিভেটরসের ইতালীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘মোভিলিফট’ এসব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবুও যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাদের দরপত্রকে বৈধ ঘোষণা করা হয়, যা সরকারি ক্রয়বিধির সরাসরি লঙ্ঘন।

এ ছাড়া আজিমপুর নতুন কলোনিতে রক্ষণাবেক্ষণের নামে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। অথচ বেশিরভাগ ভবন নতুন হওয়ায় সেখানে বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজনই ছিল না। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক ভবনের নামে যে বৈদ্যুতিক কাজের বিল দেখানো হয়েছে, সেসব ভবনের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। এমনকি যেসব বাসার নামে বিল করা হয়েছে, সেই বাসার বাসিন্দারাও কোনো কাজ হওয়ার কথা জানেন না। এতে করে ধারণা করা হচ্ছে, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এই পুরো সময়ে আজিমপুর ইএম বিভাগ-৩-এর দায়িত্বে ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলম। তার সঙ্গে ছিলেন এ কে এম গোলাম মোস্তফা। অভিযোগ রয়েছে, এই দুই প্রভাবশালী প্রকৌশলী রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ের ব্যবস্থা করেছেন, যার বড় একটি অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তিনি দুই জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এ বিষয়ে তার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।




বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা, সুদানকে জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

ডেস্ক নিউজঃ সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গুতেরেস বলেন, ‘সুদানের কাদুগ্লিতে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং এ ধরনের তৎপরতা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’ তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জাতিসংঘের কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এ ঘটনায় অবশ্যই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

একই বার্তায় নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান জাতিসংঘের মহাসচিব।

এই হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসও নিন্দা জানিয়ে একে ‘বৈশ্বিক শান্তি ও মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শনিবার সুদানের আবেই অঞ্চলের কাদুগ্লিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর বাংলাদেশি কন্টিনজেন্টের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। নিহতরা হলেন কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, সৈনিক শামীম রেজা, সৈনিক শান্ত মণ্ডল, মেস ওয়েটার জাহাঙ্গীর আলম এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।

ঘটনার পর গৃহযুদ্ধে জর্জরিত সুদানের সেনা–সরকার এক বিবৃতিতে হামলার জন্য দেশটির আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)-কে দায়ী করেছে। বিবৃতিতে সুদানের সেনাপ্রধান ও সরকারপ্রধান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এ হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আরএসএফের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিলে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে উত্তর–পূর্ব আফ্রিকার সোনা ও জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ দেশ সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়। আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও সে সংঘাত থামেনি। এ সময়ে রাজধানী খার্তুম ও দারফুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও মধ্যস্থতার উদ্যোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতির দ্রুত অবসানের কোনো ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে থাই রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে নবনিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিথিপর্ন চিরাসাওয়াদি রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাতে উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সামুদ্রিক যোগাযোগ, অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং জনগণ-থেকে-জনগণ পর্যায়ের বিনিময়সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস থাইল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বকালীন সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আসিয়ানে (আসিয়ান) বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জনে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ১১ সদস্য বিশিষ্ট এই আঞ্চলিক জোটটি বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ বিষয়ে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের সদস্যপদ প্রার্থনায় সমর্থন দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এটি দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে।’

থাই রাষ্ট্রদূত জানান, ব্যাংকক বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। তাঁর মতে, এ চুক্তি বাংলাদেশে থাই বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, থাইল্যান্ডের রানং বন্দর ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সরাসরি নৌপথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের শিপিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে মার্চে এই সেবা চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরও বেশি ভিসা ইস্যুর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশিদের যাতায়াত ক্রমেই বাড়ছে।

সাক্ষাতে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।




দুপুরে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে হাদিকে

ডেস্ক নিউজঃ মাথায় গুলিবিদ্ধ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে আজ সোমবার দুপুরে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং গতকাল রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রেস উইং জানায়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে রবিবার সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর ও ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির মধ্যে এক জরুরি টেলিফোন কনফারেন্সে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেছিল।

রবিবার এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, বর্তমানে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।

সোমবার দুপুরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে জানিয়ে প্রেস উইং বলেছে, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট ইমার্জেন্সি বিভাগে তার চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওসমান হাদির চিকিৎসার সব খরচ রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, তার চিকিৎসাপ্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।




নির্বাহী প্রকৌশলীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভিন্ন একাউন্টে ১৫টি চেক নগদায়ন, বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাৎয়ের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে (PWD) সরকারি বিল পরিশোধের নিরাপদ ও নির্ধারিত প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম। অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারের বিলের চেকগুলো নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অন্তত ১৫টি চেক ভিন্ন একাউন্টের মাধ্যমে নগদায়ন করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখা আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে এবং নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান KE-OG-DESH (JV)-এর সঙ্গে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের প্রায় ১৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কাজ বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখা থেকে ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে ঋণ গ্রহণ করে। সরকারি প্রকল্পে এ ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে একটি বাধ্যতামূলক শর্ত হলো—কাজের বিপরীতে ইস্যুকৃত প্রতিটি বিলের চেক সরাসরি ব্যাংকের নির্ধারিত ঋণ একাউন্টে জমা দিতে হবে, যাতে ঠিকাদার অন্য কোনোভাবে অর্থ উত্তোলন করতে না পারেন।

এই শর্ত পূরণে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি লিখিতভাবে ব্যাংককে জানায় যে, হাতিয়া মডেল মসজিদ প্রকল্পের বিপরীতে ইস্যুকৃত সব চেক পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার অধীন KE-OG-DESH (JV)-এর নির্দিষ্ট একাউন্ট নম্বরের বরাবর ইস্যু করা হবে। এমনকি প্রতিটি চেকের গায়ে ওই একাউন্ট নম্বর, ব্যাংকের নাম ও শাখার নাম উল্লেখ করার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়। এই লিখিত নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই ব্যাংক ঠিকাদারের অনুকূলে প্রায় ৭৪ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি এবং ৩ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এই নিশ্চয়তার পরও বাস্তবে ঘটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখা ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা নবায়নের জন্য গণপূর্ত বিভাগে একটি চিঠি পাঠায় এবং নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ও বিল সংক্রান্ত চেকের বিস্তারিত তথ্য জানতে চায়। এই চিঠির পরই সামনে আসে ভয়াবহ আর্থিক অসঙ্গতি।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তখন পর্যন্ত ইস্যুকৃত ১৩টি চেকের মধ্যে প্রথম সাতটি ও শেষ একটি—মোট আটটি চেক নির্ধারিত ঋণ একাউন্টে জমা দেওয়া হলেও মাঝের পাঁচটি চেক ওই একাউন্টে ইস্যু করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ধরা পড়ার পর বিভাগীয় হিসাবরক্ষক মো. ইমরান হোসেন ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ঘটনা প্রকাশ পেলে তার চাকরি থাকবে না।

তবে এখানেই শেষ নয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এর পরবর্তী সময়ে একই প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১০টি চেক ইস্যু করা হলেও একটিও নির্ধারিত ঋণ একাউন্টে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে মোট ২৩টি চেকের মধ্যে মাত্র আটটি সঠিক একাউন্টে জমা হয় এবং বাকি ১৫টি চেক ভিন্ন একাউন্টের মাধ্যমে নগদায়ন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত একাউন্টে জমা হওয়া আটটি চেকের মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কিন্তু বাকি ১৫টি চেকের অর্থ ভিন্ন পথে চলে যাওয়ায় ঠিকাদারের বিপরীতে পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই অনিয়মের কারণে ব্যাংকটি আরেকটি বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণের মুখে পড়েছে।

এই চেক জালিয়াতির পেছনে গণপূর্ত বিভাগের ভেতরের লোকজনের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে বিভাগীয় হিসাবরক্ষক মো. ইমরান হোসেন ও ক্যাশিয়ারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ইমরান হোসেন নোয়াখালীর বাসিন্দা হওয়ায় স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাহী প্রকৌশলীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই ইমরান হোসেন পদোন্নতি পেয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের তদবিরে নিজ জেলা নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে পদায়ন নিশ্চিত করেন। একই কর্মস্থলে তিনি সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ক্যাশিয়ারও ২০০৪ সাল থেকে একই বিভাগে কর্মরত থাকায় স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে হিসাবরক্ষক ও ক্যাশিয়ারের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে ঠিকাদারদের ঋণ থাকে এবং চেক প্রস্তুতের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের। তারা চেক সইয়ের জন্য তার কাছে নিয়ে আসে এবং বলে যে একাউন্ট নম্বর রেজিস্টার দেখে চেকের গায়ে লিখে দেওয়া হবে। এরপর যদি তারা চেকের গায়ে নির্ধারিত একাউন্ট নম্বর না লিখে ঠিকাদারের হাতে তুলে দেয়, তাহলে তা তার জানার কথা নয় বলে তিনি দাবি করেন।




‘‘মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে, ৭১ কে বাদ দিয়ে কোন চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না’’- বলেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারিী।

এসএম বদরুল আলমঃ আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে ফুলেল শ্রদ্ধা জানালো জাতীয় পার্টি।

শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি বলেন, একটি জাতির বুদ্ধিভিত্তিক সত্তাকে বিনষ্ট করার জন্য আমাদের মহান বিজয়ের মাত্র ২ দিন আগে এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লিস্ট করে করে আমাদের বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করেছে । আমরা সেই সব বুদ্ধিজীবিদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই পাশাপাশি আমরা আশা করি যে বৈষম্যের বাংলাদেশের জন্য তাঁরা জীবন দিয়েছে অচিরেই তা দূর হোক, অচিরেই দেশে একটি সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হোক- বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাড়াক- এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।

এক প্রশ্নের জবাবে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে, ৭১ কে বাদ দিয়ে কোন চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। এই প্রজন্মের তরুনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি তোমরা তোমাদের দেশকে ভালোবাসতে চাও তাহলে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসতে হবে, ৭১ কে ভালবাসতে হবে এবং অবশ্যই ৭১ এর চেতনাকে লালন করতে হবে, ধারন করতে হবে। ৭১ বা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কোন শক্তি বাংলাদেশের জন্য কখনোই মঙ্গল বয়ে আনতে পারবে না।




শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা: মিরপুর প্রেসক্লাবের পুষ্পস্তবক অর্পণ

এসএম বদরুল আলমঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে মিরপুর প্রেসক্লাব। মঙ্গলবার সকালে মিরপুরে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক পাঞ্জেরী পত্রিকার সম্পাদক তালুকদার রুমী, সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ও দৈনিক সবুজ বিপ্লব পত্রিকার সম্পাদক এস এম বদরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিনসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তালুকদার রুমী বলেন,
“১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরিকল্পিতভাবে জাতির মেধাবী সন্তানদের হত্যা করেছিল। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন আমাদের জাতির বিবেক। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা আজ স্বাধীন দেশে মুক্তভাবে কথা বলতে পারছি। সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব হলো তাদের আদর্শ ধারণ করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকা।”

সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এস এম বদরুল আলম বলেন,
“শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আজও আমাদের পথ দেখায়। মিরপুর প্রেসক্লাব শহীদদের চেতনাকে ধারণ করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমে অটল থাকবে।”

সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন,
“শহীদ বুদ্ধিজীবীরা শুধু ইতিহাসের অংশ নন, তারা আমাদের চলার পথের প্রেরণা। তাদের স্মরণ মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সাংবাদিকদের উচিত সত্য, মানবতা ও দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা।”

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও ডিএসটিভির সম্পাদক সায়মন, সহ-সভাপতি খাইরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক এমএ গাফ্ফার, সহ অর্থ সম্পাদক এম এ মালেক, সহ সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লাসহ মিরপুর প্রেসক্লাবের অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।

শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।




মেসিকে ভারতে আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু আটক

ক্রীড়া ডেস্কঃ তিন দিনের সফরে এখন ভারতে আছেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। সফরের প্রথম দিনেই কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে চরম অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন গ্যালারিভর্তি দর্শক।

মেসিকে ঠিক মতো দেখতেই পাননি কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালিয়েছেন। ফুটবলভক্তদের ক্ষোভের মুখে অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল জায়েদ শামিম বলেন, ‘এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে, এক্ষেত্রে কোন ধারা দেওয়া হবে তা আমরা বিবেচনা করছি। বিশৃঙ্খলার ঘটনা সল্ট লেকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি এবং এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কারা দায়ী তা চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। এতে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধান উদ্যোক্তাকে আটক করা হয়েছে ইতোমধ্যে।’

সমর্থকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার যৌক্তিকতাও আছে বলে মনে করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ভক্তরা খুবই বাজে আচরণের শিকার হয়েছেন। এখানে কোথায় কী দুর্বলতা ছিল এবং তাতে কারা দায়ী তা খুঁজে বের করতে হবে। পুরো ঘটনাটিই ভালোভাবে তদন্ত করা হবে।’

এর আগে চরম অব্যবস্থাপনার জন্য মেসির কাছে ক্ষমা চান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এক্সে দেওয়া তিনি লেখেন, ‘আজ সল্টলেক স্টেডিয়ামে যে অব্যবস্থাপনা হয়েছে, তাতে আমি গভীরভাবে বিচলিত ও মর্মাহত। আমি নিজেও হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমীর সঙ্গে প্রিয় ফুটবলার মেসিকে দেখতে অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ছিলাম।’

মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য আমি আন্তরিকভাবে লিওনেল মেসি এবং সব ক্রীড়াপ্রেমী ও তার ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইছি।’  মমতা জানান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব থাকবেন।

মমতা ব্যানার্জি লেখেন, ‘কমিটি এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে, দায় ঠিক করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সুপারিশ দেবে। আবারও সব ক্রীড়াপ্রেমীর কাছে আমার আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থনা।’




হাদির হামলাকারীদের ধরিয়ে দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

শনিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনা জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য ঘটানো হয়েছে।