বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫২ জনের বিএনপিতে যোগদান সম্পন্ন

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী ও কলেজ শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৫২ বিশিষ্ট ব্যক্তি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

বুধবার বেলা ১১টায় শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর হাতে ফুল দিয়ে তারা বিএনপিতে যোগদান করেন।

৫২ জনের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আছেন- হাজী আফতাব উদ্দিন, মো. আলাউদ্দিন, আফাজ উদ্দিন সরকার, কফিল উদ্দিন, মফিজ উদ্দিন আহমেদ, হাবিবুর রহমান ও আমিনুল হক। অন্যদের মধ্যে আছেন ব্যবসায়ী হুমায়ুন সরকার, শ্রীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক সেলিম মোল্লা, অধ্যাপক আব্দুল হান্নান শেখ।

তাদের যোগদান উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির সরকারের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুল মোতালেব, সদস্য সচিব খায়রুল কবির মন্ডল আজাদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আহসান কবিরসহ অন্যরা।




এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সুখবর—আজ মিলছে মূল নম্বরপত্র

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ঢাকা বোর্ডের মূল নম্বরপত্র বিতরণ শুরু হচ্ছে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) থেকে যা চলবে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের মূল নম্বরপত্র গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র বা ছাত্রীদের মূল নম্বরপত্র নিম্নে বর্ণিত সময় ও তারিখ অনুযায়ী বোর্ডের সনদ শাখা থেকে গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। এসব মূল নম্বরপত্র ১০ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে সনদপত্র শাখার ৪নং ভবনের ৫ তলা থেকে সংগ্রহ করত হবে।

অফিস আদেশে জানানো হয়, টাঙ্গাইল ও ঢাকা জেলার মূল নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ১০ ডিসেম্বর, নরসিংদী, ফরিদপুর জেলার মূল নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ১১ ডিসেম্বর, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার মূল নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ১৪ ডিসেম্বর, কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার মূল নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ১৫ ডিসেম্বর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার মূল নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ১৭ ডিসেম্বর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ জেলার মূল নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ১৮ ডিসেম্বর, গাজীপুর জেলার মূল নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ২১ ডিসেম্বর এবং ঢাকা মহানগরের মূল নম্বরপত্র পাওয়া যাবে ২২ ডিসেম্বর।

অফিস আদেশে আরো বলা হয়, আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল নম্বরপত্র গ্রহণ করার জন্য বিভাগওয়ারী কতজন ছাত্র বা ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে তার বিবরণসহ নিজে অথবা দায়িত্বশীল প্রতিনিধিকে প্রাধিকার পত্র দিয়ে তিনটি নমুনা স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ মূল নম্বরপত্র গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।




দ্বিনের সঠিক জ্ঞান পেতে আলেমদের শরণে যেতে হবে

ইসলামিক ডেস্কঃ মুসলিম সমাজ আলেমদের দ্বারা নানাভাবে উপকৃত হয়। তাদের দ্বারা সমাজের চারিত্রিক, আত্মিক, ধর্মীয় ও জ্ঞানগত চাহিদা পূর্ণ হয়। তাদের দ্বারা ইসলামী বিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ, ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক বন্ধন, ইসলামী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য টিকে থাকে। এ জন্য যে মুসলিম সমাজে আলেম ও ইমামদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়, সে সমাজের মানুষ আত্মিক ও আধ্যাত্মিক শক্তিতে, ভালো কাজের উদ্দীপনায়, সুপথ অনুসরণে এগিয়ে যায়।

আলেমদের কাছে আছে কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞান। তাদের সংস্পর্শে মানুষ খুঁজে পায় নিজের আসল পরিচয়। শিখতে পারে আল্লাহর বিধি-বিধান। জানতে পারে হালাল-হারাম। তাদের সংস্পর্শে এসেই অন্ধকারজগতের মানুষ সন্ধান পায় আলোকিত জীবনের। মৃত হৃদয়গুলো হয় পুনরুজ্জীবিত। দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে উন্মত্ত মানুষ আখিরাতমুখী জীবন ধারণ করে। তারা পৃথিবীর জন্য রহমত।

তারা উম্মতের জন্য বরকত। পরমহিতৈষী ও মঙ্গলকামী। তাদের কাছে ইসলাম সবার আগে।

আলেম ও জাহেলের মধ্যে পার্থক্য : ইলম আল্লাহ প্রদত্ত এক অফুরন্ত নিয়ামত, যা জ্ঞানী ও মূর্খদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন! যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৯)

তিনি অন্যত্র বলেন, ‘বলুন! অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? আলো ও অন্ধকার কি এক হতে পারে?’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ১৬)

আলেমরা আল্লাহর একত্ববাদের রাজসাক্ষী : আল্লাহ তাআলা আলেমদের বানিয়েছেন নিজ একত্ববাদের অন্যতম সাক্ষী হিসেবে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। ফেরেশতারা এবং ন্যায়নিষ্ঠ আলেমরাও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৮)

আলেমরাই কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা বুঝতে সক্ষম : মহান আল্লাহ মানবতার হেদায়েতের জন্য কোরআন নাজিল করেছেন। কিন্তু এই কোরআন সবাই অনুধাবন করতে পারে না। শুধু আলেমরাই সঠিকভাবে কোরআন অনুধাবন করতে সক্ষম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই তোমার প্রতি এই কিতাব নাজিল করেছেন। যার মধ্যে কিছু আয়াত আছে মুহকাম বা সুস্পষ্ট অর্থবোধক। আর এগুলো হলো কিতাবের মূল। আর কিছু আয়াত রয়েছে মুতাশাবিহ বা অস্পষ্ট অর্থবোধক। অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা আছে, তারা অস্পষ্ট আয়াতগুলোর পেছনে পড়ে ফিতনা সৃষ্টির জন্য এবং তাদের মনমতো ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য। অথচ এগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আর গভীর জ্ঞানীরা বলে, আমরা এগুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। সব কিছু আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এসেছে। প্রকৃতপক্ষে জ্ঞানীরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৭)

দ্বিন শেখানো আলেমের দায়িত্ব : মানুষকে দ্বিন শেখানো আলেমদের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব আল্লাহ আলেমদের ওপরই ন্যস্ত করেছেন। সাধারণ মানুষ আলেমদের কাছ থেকে দ্বিন শিখে তা মানুষের মধ্যে প্রচার করবে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিনদের সবাই একসঙ্গে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়, তাদের প্রত্যেক দলের এক অংশ বের হয় না কেন, যাতে তারা দ্বিন সম্পর্কে জ্ঞানানুশীলন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে যাতে তারা সতর্ক হয়।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১২২)

দ্বিনি বিষয়ে আলেমদের অনুসরণ করতে হবে : কোরআনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের সঙ্গেই আলেমদের আনুগত্য করার  নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য করো, অনুসরণ করো রাসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বসম্পন্ন (ন্যায়পরায়ণ শাসক ও আলেম) তাদের।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৯)

দ্বিনি বিষয়ে আলেমদের দ্বারস্থ হতে হবে : পৃথিবীর মানুষকে কখনো না কখনো আলেমের মুখাপেক্ষী হতে হয়। আমল বাস্তবায়নের জন্য আলেমদের থেকে জ্ঞান লাভ করা জরুরি। যেকোনো শরয়ি সমস্যা নিরসনে তাঁদের দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা নিজেই।

তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘অতএব, জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো, যদি তোমাদের জানা না থাকে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪৩)

আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী : আলেমদের অস্তিত্ব ছাড়া কোনো মুসলিম সমাজের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। প্রতিটি মুসলিম সমাজে দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ও আলেমরা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। তাদের সংগ্রাম ও সান্নিধ্যে বদলে যায় জীবন। যেমন বদলে যেত নবী-রাসুলদের সান্নিধ্যে।

এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী। তাঁরা কোনো স্বর্ণমুদ্রা বা রৌপ্যমুদ্রার উত্তরাধিকার রেখে যান না, তাঁরা রেখে যান জ্ঞানের উত্তরাধিকার।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩৬৪১)

আলেম ব্যক্তিই সালাতের ইমাম হবেন : সালাতে ইমাম হওয়া একটি সম্মানের বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)সহ সাহাবিদের যোগ্য ব্যক্তিরা ইমামতি করেছেন। আর ইমাম হওয়ার জন্য দ্বিনি জ্ঞানে পারদর্শীরাই বেশি হকদার।

আবু মাসউদ আনসারি (রা.)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াতে বেশি পারদর্শী সে লোকদের ইমামতি করবে। যদি কোরআন পাঠে সবাই সমান হয়, তাহলে যে ব্যক্তি বেশি হাদিস জানে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫৮২; তিরমিজি, হাদিস : ২৩৫)

আলেমরাই বিবেকসম্পন্ন হয়ে থাকেন : আল্লাহ বলেন, ‘এসব দৃষ্টান্ত আমরা বর্ণনা করি মানুষের জন্য। অথচ তা কেউ অনুধাবন করে না, জ্ঞানীরা ছাড়া।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৩)

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে তাদের আলেম বলেছেন, যারা আল্লাহ ও রাসুল বর্ণিত দৃষ্টান্ত বোঝে। আমর ইবনে মুররা বলেন, আমি যখন এমন কোনো আয়াতে পৌঁছি, যা আমার বোধগম্য নয়, তখন মনে খুব দুঃখ পাই। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘এসব উদাহরণ আমি মানুষের জন্য দিই, শুধু জ্ঞানীরাই তা বোঝে।’




আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ১০ নেক আমল

ইসলামিক ডেস্কঃ মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাই একজন মুমিনের প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজই হওয়া উচিত সেই মহান সন্তুষ্টির সন্ধানে নিবেদিত। কিন্তু কোন কোন কাজ আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়—এ প্রশ্নটি যুগে যুগে প্রত্যেক ঈমানদারের হৃদয়ে অনুরণিত হয়েছে। যার মাধ্যমে একজন বান্দা সহজ, সুন্দর ও শুদ্ধভাবে তার রবের নৈকট্য অর্জন করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার আলোক পথে অগ্রসর হতে পারে।

১. নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা
নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও উত্তম আমল। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম : কোন আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি জবাব দিলেন—নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম : তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তারপর মাতা-পিতার সঙ্গে সদয় আচরণ করা। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তারপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৯৫)

২. পিতামাতার প্রতি সদয় হওয়া
আল্লাহ তাআলা মাতা-পিতার প্রতি সদয়তার নির্দেশকে তাঁর একত্ববাদের (তাওহিদ) পরপরই উল্লেখ করেছেন। তিনি মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতাকে নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। আল্লাহ বলেন : ‘আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না; আর মাতা-পিতার সঙ্গে সদয় হও।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)
তিনি আরো বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাঁর বাইরে কারো ইবাদত করবে না এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদয় থাকবে।
তাদের একজন বা উভয়েই যদি বার্ধক্যে তোমার কাছে পৌঁছে যায়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বোলো না, তাদের ধমক দিয়ো না, বরং তাদের সঙ্গে সম্মান ও কোমলভাবে কথা বোলো।’
(সুরা : ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)

৩. সৎকর্মে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
ছোট আমল হলেও যদি তা নিয়মিতভাবে করা হয়, তবে তার মূল্য আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেই আমল, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।’
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৮৩)
তাই একজন মুসলমানের জন্য সৎকর্মে স্থির থাকা এবং তা নিয়মিতভাবে করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. কোরআন তিলাওয়াত করা
কোরআন তিলাওয়াত করা, মুখস্থ করা, গভীরভাবে এর অর্থ ও মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা করা এবং জীবনে বাস্তবায়ন করা—এসবের মাধ্যমে একজন মুসলিম দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে।
আনাস ইবন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মানুষদের মধ্যে কিছু বিশেষ মানুষ আছে, যারা আল্লাহর নিকটবর্তী।’ সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা?’ তিনি বলেন, ‘তারা হলো কোরআনের লোকেরা—আল্লাহর লোক এবং আল্লাহর বিশেষ মনোনীত বান্দা।’
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৯)

৫. রাস্তা থেকে ক্ষতিকারক জিনিস অপসারণ করা
সমাজ ও মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ করা ইসলামে অত্যন্ত মহৎ আমল। তার মধ্যে অন্যতম হলো রাস্তা থেকে ক্ষতিকারক বা বিরক্তিকর জিনিস দূর করা। এটি জান্নাতে প্রবেশের কারণ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে আনন্দ করতে দেখলাম, কারণ সে রাস্তা থেকে একটি কাঁটাযুক্ত ডাল বা গাছ অপসারণ করেছিল, যা মানুষের ক্ষতি করছিল।’
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৪)

৬. আল্লাহর পথে দাওয়াত
আল্লাহর দিকে মানুষকে আহবান করা, ইসলামের বার্তা প্রচার করা এবং ছড়িয়ে দেওয়া—আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সম্মানজনক ও প্রিয় আমলগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর কথায় তার চেয়ে উত্তম কে হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎকর্ম করে এবং ঘোষণা করে ‘নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৩৩)

৭. বিপদগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেওয়া
যে ব্যক্তি আর্থিক কষ্টে আছে, যে ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম, তার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা ইসলামে অত্যন্ত মহৎ গুণ। নবী করিম (সা.) বিপদগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন আবি কাতাদাহ (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি—‘যে ব্যক্তি চায় যে আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিনের বিপদ ও কষ্ট থেকে রক্ষা করুন, সে যেন কোনো বিপদগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় অথবা তার ঋণ মাফ করে দেয়।’
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৫৫৯)

৮. মানুষের উপকার করা
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন যে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় তারা, যারা মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো কোনো মুসলিমকে আনন্দ দেওয়া, তার কষ্ট দূর করা, তার ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া অথবা ক্ষুধার সময় তাকে আহার করানো।’
(তবারানি, হাদিস : ৬০২৬)

৯. আল্লাহর স্মরণ (জিকির) করা
আল্লাহর স্মরণ পাপ মোচনের পথ, হৃদয়ের প্রশান্তি, তাকওয়া বৃদ্ধি এবং মর্যাদা উন্নীত করার অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা পুরুষ, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং যারা নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে—আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।’
(সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩৫)
মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে কোন আমলটি সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বলেন, ‘এভাবে মৃত্যুবরণ করা যে তোমার জিহ্বা আল্লাহর স্মরণে সিক্ত থাকবে।’
(সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ৫১৬)

১০. রাতে ইবাদত করা ও নফল রোজা রাখা
রাতের বেলা ইবাদত করা এবং নফল রোজা রাখা—উভয়ই আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে বললেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রোজা হলো দাউদ (আ.)-এর রোজা; তিনি এক দিন রোজা রাখতেন এবং পরদিন রোজা ভাঙতেন। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সালাত হলো দাউদ (আ.)-এর নামাজ; তিনি রাতের অর্ধেক অংশ ঘুমাতেন, এরপর এক-তৃতীয়াংশ সময় তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং শেষ এক-ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৩১) এ দুটি মহৎ অভ্যাস—রোজা ও রাতের ইবাদত বান্দাকে তার প্রভুর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে।




দ্বিতীয়বার টানা সেরা খেলোয়াড় মেসি

খেলাধুলা ডেস্কঃ লিওনেল মেসি যেন থামতেই জানেন না। আবারও ইতিহাস গড়ে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সেরা খেলোয়াড়ের (এমভিপি) মুকুট জিতলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। টানা দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জিতে এমএলএস ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অনন্য রেকর্ড গড়লেন ৩৮ বছর বয়সী ফুটবল জাদুকর।

ইন্টার মায়ামির হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়েছেন মেসি। লিগে সর্বোচ্চ ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করে দলকে এমএলএস কাপ জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এমএলএস-এ এক মৌসুমে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও।

পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত মেসি বলেন, “এই পুরস্কার পেয়ে আমি সত্যিই খুশি। টানা দুই বছর জিতে এমএলএস ইতিহাসে প্রথম হতে পেরে গর্বিত। এই সম্মান আমি আমার সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি। তাদের ছাড়া কিছুই সম্ভব হতো না।”

এর আগে, এমএলএস ইতিহাসে দুইবার এমভিপি জেতার রেকর্ড ছিল কেবল প্রেকির-১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে।

ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন মেসি। ২০২৪ মৌসুমে ১৯ ম্যাচে ২০ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করে জিতেছিলেন আগের এমভিপি। ২০২৩ সালে পিএসজি থেকে মায়ামিতে যোগ দিয়েই প্রথম মৌসুমে দলকে এনে দেন লিগস কাপ। পরে আরেক মৌসুমে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে সাপোর্টার্স শিল্ড জিতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা।

টানা দুই বছর শীর্ষে থেকে মেসি আবারও প্রমাণ করলেন এখনও তিনি ফুটবলের সেরাদের সেরা। আরও দেখার বাকি আছে মেসি জাদু!




বিগ ব্যাশে রিশাদ হোসেনের ম্যাচসূচি প্রকাশ

খেলাধুলা ডেস্কঃ সাকিব আল হাসানের পরে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ বিগ ব্যাশে খেলতে যাচ্ছেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে এবারই প্রথম মাঠে নামবেন তিনি। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন এই তরুণ স্পিনার।

গত মৌসুমেও হোবার্ট হারিকেন্স রিশাদকে দলে ভিড়িয়েছিল; তবে বিসিবির অনুমতি (এনওসি) না পাওয়ায় খেলতে পারেননি তিনি। সেই মৌসুমেই শিরোপা জিতেছিল হোবার্ট। এবার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে দলে যুক্ত হলো বাংলাদেশের উদীয়মান এই লেগস্পিনার।

২০২৪-২৫ মৌসুমে হোবার্ট হারিকেন্স তাদের অভিযান শুরু করবে ১৬ ডিসেম্বর সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে।

ডিসেম্বর মাসে গ্রুপপর্বে আরও চারটি ম্যাচ খেলবে হোবার্ট। জানুয়ারিতে বাকি পাঁচটি ম্যাচ মাঠে গড়াবে। আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিগ ব্যাশের ফাইনাল।

হোবার্ট হারিকেন্সের পূর্ণ সূচি (বাংলাদেশ সময়)

১৬ ডিসেম্বর হোবার্ট হারিকেন্স – সিডনি থান্ডার দুপুর ২টা ১৫
১৮ ডিসেম্বর হোবার্ট হারিকেন্স – মেলবোর্ন স্টার্স দুপুর ২টা ১৫
২১ ডিসেম্বর হোবার্ট হারিকেন্স – মেলবোর্ন রেনেগেডস দুপুর ২টা ১৫
২৬ ডিসেম্বর হোবার্ট হারিকেন্স – পার্থ স্কোরচার্স বিকাল ৪টা ১৫
২৯ ডিসেম্বর হোবার্ট হারিকেন্স – মেলবোর্ন রেনেগেডস দুপুর ২টা ১৫
১ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্স – পার্থ স্কোরচার্স দুপুর ২টা ১৫
৩ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্স – সিডনি থান্ডার দুপুর ২টা ১৫
৯ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্স – অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স দুপুর ২টা ১৫
১১ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্স – সিডনি সিক্সার্স সকাল ৯টা ৫
১৪ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্স – ব্রিসবেন হিট দুপুর ২টা ১৫




পুরানের অভিনব কৌশল‘নন-স্টাম্পিং’ দেখে অবাক ক্রিকেট বিশ্ব

খেলাধুলা ডেস্কঃ আবুধাবিতে আইএলটি২০’র ম্যাচে ১ রানের ব্যবধানে এমআই এমিরেটসেকে হারিয়েছে ভাইপার্স। তবে ক্রিকেট বিশ্ব আলোচনায় এসেছে নিকোলাস পুরানের এক অদ্ভুত সিদ্ধান্তকে ঘিরে।

ম্যাচের ১৬তম ওভারে, রশিদ খানের বলে ম্যাক্স হোল্ডেন মারতে গিয়ে পুরোপুরি মিস করেন। স্পষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ম্যাক্স হোল্ডেনকে স্টাম্প না করা—এটাই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। পরে ভাইপার্স তাকে রিটায়ার্ড আউট ঘোষণা করলে বিষয়টি আরও আগুন ধরায় ক্রিকেটমহলে।

টি-টোয়েন্টিতে কৌশলগত কারণে ব্যাটারকে রিটায়ার্ড আউট করা বৈধ। একইভাবে ব্যাটার বের হলে স্টাম্পিং বাধ্যতামূলক নয়। ফলে পুরানের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আইনি।

এদিকে, ভাইপার্স শেষ ৪ ওভারে ৪১ রান তুলে ১৫৯/৪ এ পৌঁছায়। এমআই এমিরেটস ১৫৮/৯ এ থামে। সামাজিক মাধ্যমে কিছু সমর্থক ‘ফিক্সিং’–এর অভিযোগ তুললেও, ক্রিকেটবিশ্বে এটিকে ‘ট্যাকটিকাল নন-স্টাম্পিং’ হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছে।

পুরানের কৌশল একটি উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছে, কীভাবে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কৌশলগত সিদ্ধান্ত ম্যাচ ঘোরাতে পারে।




বার্নাব্যুতে মহারণ: আজ রাতেই রিয়াল–সিটির মর্যাদার লড়াই

খেলাধুলা ডেস্কঃ চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম ম্যানচেস্টার সিটি, এ ম্যাচ এখন প্রায় ঋতুভিত্তিক এক উৎসবের নাম। ২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথম সাক্ষাতের পর থেকে ইউরোপিয়ান ফুটবলের আর কোনো দুই দল এতবার মুখোমুখি হয়নি। আজ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হতে যাচ্ছে তাদের ১৫তম দ্বৈরথ।

তবে এবারের লড়াইটিকে বিশেষ করে তুলেছে আরও কয়েকটি কারণ। প্রথমবারের মতো একে-অপরের বিপক্ষে ডাগআউটে দাঁড়াবেন ম্যানচেস্টার সিটির পেপ গার্দিওলা ও রিয়াল মাদ্রিদের জাবি আলোনসো। বায়ার্ন মিউনিখে গার্দিওলার অধীনে খেলা আলোনসোর কাছে এই সাক্ষাৎ তাই নিঃসন্দেহে অন্যরকম অনুভূতির।

আজকের ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম আর্লিং হলান্ডের লড়াই। বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দুই ফরোয়ার্ডের এটি চ্যাম্পিয়নস লিগে তৃতীয় মুখোমুখি।

২০২০ সালে প্রথম দেখা হয়েছিল ডর্টমুন্ড-পিএসজি ম্যাচে; সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন হলান্ড। গত মৌসুমে আবারও মুখোমুখি হন দুজন, তখন এমবাপ্পে দুই লেগ মিলিয়ে ৪ গোল করলেও হলান্ড করেছিলেন ২ গোল।

মজার ব্যাপার হলো, এ লড়াই এখানেই শেষ নয়। আগামী ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোতে বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও নরওয়ে। ফলে আজকের লড়াই যেন সেই বড় ম্যাচেরই এক ঝলক।

এ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এমবাপ্পে। ৫ ম্যাচে তাঁর গোল ৯টি। গত মাসে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে করেছিলেন একাই ৪ গোল।

অন্যদিকে হলান্ডের গোল ৫ ম্যাচে ৫টি। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সিটির হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ইতিমধ্যে ২০। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে তাঁর চেয়ে বেশি গোল কেবল হ্যারি কেইন (২৮) ও এমবাপ্পের (২৫)।




ছবি পোস্ট করতেই বিতর্ক ফের ঘনীভূত, চর্চায় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী

বিনোদন ডেস্কঃ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই সমালোচনায় খোরাক হন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। এবার আরও একবার কটাক্ষের শিকার হলেন নায়িকা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে বাথটাবে লাস্যময়ী ভঙ্গিমার একটি ছবি পোস্ট করে ফের নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।

শ্রাবন্তী তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ছবিটি শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে দেখা যাচ্ছে সাবানের ফেনাভর্তি বাথটাবে। ছবিতে সোনালি রঙের বিকিনিতে আবৃত নায়িকার মুখে লেগে রয়েছে চেনা হাসি। চোখে আবেশের রেশ, যা তার অনুরাগী মহলে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে শ্রাবন্তী লিখেছেন, নিজেকে সিক্ত করতে থাকুন।

ছবিটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অসংখ্য অনুরাগী ভালোবাসা প্রকাশ করে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, অসাধারণ দুটি চোখের চাহনি। আরেকজন মন্তব্য করেন, ওয়াও, দারুণ! তবে প্রশংসার পাশাপাশি তীব্র কটাক্ষের শিকারও হয়েছেন অভিনেত্রী।

খোঁচা মেরে একজনের মন্তব্য, বুড়ি হয়ে আর কত রং দেখাবে। ঠাট্টার সুরে আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, ঠান্ডায় কত স্নান করো তা দেখাতে চাইছো? অন্যদিকে, অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেকে সহানুভূতি জানালেও, কেউ কেউ তির্যক মন্তব্য করতে ছাড়েননি।

যদিও এসব বিষয় নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামান না শ্রাবন্তী। বরং ব্যক্তিজীবনের সমালোচনা এড়িয়ে পেশাগত জীবনে বেশ সফলই বলা চলে তাকে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের দুর্গাপূজায় মুক্তি পেয়েছে শ্রাবন্তী অভিনীত আলোচিত ছবি ‘দেবী চৌধুরানী’। ছবিটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দর্শনা বণিক, অর্জুন চক্রবর্তী, কিঞ্জল নন্দা ও সব্যসাচী চক্রবর্তী প্রমুখ।




‘দ্য তাজ স্টোরি’ কি রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা? তাজমহলকে ঘিরে নতুন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

বিনোদন ডেস্কঃ মুঘল সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজের প্রেমের স্মৃতি তাজমহলকে ঘিরে হঠাৎ নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বলিউড পরিচালক তুষার গোয়েল নির্মিত দ্য তাজ স্টোরি সিনেমাটিই সেই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। সিনেমাটিতে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত প্রেমের স্মৃতিস্তম্ভের সরকারিভাবে স্বীকৃত ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

একটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে, তাজমহল আসলে মুসলিম সমাধি নয়, বরং একটি হিন্দু প্রাসাদ যা পরে মুঘল শাসকেরা দখল করে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছিলেন। যদিও এই দাবির কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই এবং অতীতেও ইতিহাসবিদরা এমন তত্ত্বকে একাধিকবার খণ্ডন করেছেন।

সিনেমায় তাজমহলের ট্যুর গাইড চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিশু দাস অর্থাৎ পরেশ রাওয়াল। সিনেমাটিতে তার মুখ দিয়ে বলা হয়েছে, এতদিন যেকোনো পর্যটককে তাজমহলের যে গল্প শোনানো হয়েছে, তা নাকি মিথ্যে হতে পারে এবং তাজমহলের ডিএনএ পরীক্ষা করা উচিত। দৃশ্যটি শেষ হয় এই সিদ্ধান্তে যে তারা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বলিউডে এর আগে দ্য কাশ্মির ফাইলস এবং দ্য কেরালা স্টোরি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল এবং কয়েকটি রাজ্যে সিনেমা দুটো নিষিদ্ধও করা হয়।

সমালোচকদের অভিযোগ, দ্য তাজ স্টোরি সিনেমার উদ্দেশ্য ভারতের প্রায় ২০ কোটি মুসলিমকে হেয় করা এবং মুসলিমদের ইতিহাসকে বিকৃত করে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের আধিপত্যপূর্ণ অতীত রচনার প্রচেষ্টা। তাদের দাবি, এসব চলচ্চিত্র ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মতাদর্শের সঙ্গে মিলে যায়।

এই দলটির বিরুদ্ধে ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পরেশ রাওয়াল নিজেও বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। যদিও পরিচালক তুষার গোয়েল দাবি করেছেন, সিনেমাটি কোনো রাজনৈতিক অর্থায়নে নির্মিত হয়নি।

ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের বহু গবেষণা বলছে, সিনেমাটির কাহিনি ইতিহাসসম্মত নয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সিনেমাটিকে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের কোলাজ বলে মন্তব্য করেছে। অন্যদিকে দ্য উইক লিখেছে, এটি না ভালো সিনেমা, না ঠিকঠাক প্রোপাগান্ডা। সিনেমাটি শুরু হয় দুই মিনিটের ডিসক্লেইমার দিয়ে যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। যদিও পোস্টারে তাজমহলের ভেতর থেকে শিবের ছবি উঠে আসতে দেখা যায়, যা আরও বিতর্ক তৈরি করেছে।

১৩ লাখ ডলার বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি বক্স অফিসে খুব বেশি সাড়া ফেলতে পারেনি এবং প্রায় ২০ লাখ ডলার আয় করেছে। তবে বিজেপির কিছু নেতার কাছ থেকে সিনেমাটি সমর্থন পেয়েছে। তারা বলছেন সত্য আর চাপা রাখা যাবে না। দর্শকদের একাংশও দাবি করেছেন তাদের এতদিন ভুল ইতিহাস শেখানো হয়েছে।

তাজমহলকে কেন্দ্র করে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকারের একটি পর্যটন বুকলেটে তাজমহলকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে বিজেপির এক রাজনীতিবিদ আদালতে আবেদন করেন তাজমহলের ভেতরের সিল করা ২২টি কক্ষ খুলে দেখতে। তিনি দাবি করেন সেখানে হিন্দু মন্দিরের প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে। এই দাবি ছিল পিএন ওকের প্রচারিত ১৯৮০ দশকের তেজো মহালয়া তত্ত্বের পুনরাবৃত্তি, যার কোনো প্রমাণ নেই এবং যা প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ বহু বছরের গবেষণায় খণ্ডন করেছে।

সমালোচকদের মতে বলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। তারা মনে করেন দ্য কাশ্মির ফাইলস ও দ্য কেরালা স্টোরির মতো সিনেমায় মুসলিমদের ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ইতিহাস বিকৃত করে উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ডানপন্থী গোষ্ঠীরা হিন্দু ধর্মকে অশ্রদ্ধা করা হয়েছে দাবি তুলে অন্নপূরাণী ও পদ্মাবতসহ একাধিক সিনেমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।

ইতিহাসবিদরা বলছেন, ভারতের বহুত্ববাদী অতীতকে দুর্বল করার বড় প্রচারণার অংশ এই ধরনের সিনেমা। তাদের মতে অনেক মানুষের ইতিহাস জ্ঞান আসে সিনেমা দেখে, যেখানে কল্পকাহিনিকেই তারা সত্য মনে করে নেয়।

অথচ যমুনা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা মার্বেলের তাজমহল এখনো একই আছে, কিন্তু এর সাথে জুড়ে থাকা ইতিহাস ক্রমেই রাজনৈতিক তর্কে জড়িয়ে পড়ছে। সমালোচকদের মতে দ্য তাজ স্টোরি সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।