জলবায়ু প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রকৌশলী ইনামুল কবীরকে ঘিরে তদন্তের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সিলেটে জলবায়ু প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নানা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্প পরিচালনার সময় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং কাজের মান বজায় রাখাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গরমিল পাওয়া গেছে। নথিটি জারি করেন এলজিইডি সিলেট বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুল সামাদ।

অভিযোগগুলোর মধ্যে বলা হয়েছে—২০২০ সালের বেশ কিছু প্রকল্পে কাজের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, বিল–ভাউচার প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে নিয়ম ঠিকভাবে মানা হয়নি, এমনকি কিছু জায়গায় কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার কথা থাকলেও, USA, Canada, Australia, Japan এবং ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কাজ হয়নি। বিশেষভাবে TUV ও DNV–এর স্বীকৃত মান না থাকায় প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

রক্ষণাবেক্ষণ বা Gob Maintenance খাতে ব্যয়ের হিসাব নিয়েও নথিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে যে কাজ বাস্তবে হয়েছে তার সঙ্গে খরচের অংক মিলে না। দুই অর্থবছর—২০২০–২১ এবং ২০২১–২২—এ ব্যয় বরাদ্দের মধ্যেও বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও বরাদ্দের তুলনায় বেশি খরচ, আবার কোথাও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কাজ এগোয়নি—এসব বিষয় তদন্তের দাবি বাড়িয়ে তুলেছে।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইনামুল কবীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে অফিস পরিবর্তন করে অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করেছিলেন, যেখানে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের প্রবেশ করা বেশ কঠিন ছিল। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পিডির সঙ্গে দেখা করতে হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।

সরকারি দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযোগগুলো প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এজন্যই বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের নজরে পাঠানো হয়েছে, এবং এলজিইডির পক্ষ থেকেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে ইনামুল কবীর সংক্ষেপে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।




ইউনেস্কোর ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেল ‘টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প’

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের ‘টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প’ ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে ইউনেস্কো ২০০৩ কনভেনশনের চলমান ২০-তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দলনেতা এবং ইউনেস্কো সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা এ স্বীকৃতিকে বাংলাদেশের জন্য ‘অসামান্য গৌরব’ উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ দুই শতকের অধিক সময় ধরে টাঙ্গাইলের তাঁতিদের অনবদ্য শিল্পকর্মের বৈশ্বিক স্বীকৃতি এটি। টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশের সব নারীর নিত্য পরিধেয় যা এই শাড়ি বুনন শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। নথি প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞ জনবল তৈরি করে ভবিষ্যতে আরও অনেক ঐতিহ্যের ইউনেসকো স্বীকৃতি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।’

চলতি বছরের এপ্রিলে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস ইউনেস্কো সদরদপ্তরে ২০০৩ কনভেনশনের নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী টাঙ্গাইলের শাড়ি বুনন শিল্পকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বাউল গান, ২০১৩ সালে জামদানি বুনন শিল্প, ২০১৬ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, ২০১৭ সালে শীতলপাটি বুনন শিল্প এবং ২০২৩ সালে ‘ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র’ ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়।




মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ফ্ল্যাটে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বরিশালের নলছিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মীকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে এই জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্মী আয়েশাকে শনাক্ত করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তরুণীর পরিচয় শনাক্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রেপ্তারের পর প্রকাশ করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা।

গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই জোড়া হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সোমবার সকাল ৭টার দিকে আজিজুল ইসলাম স্কুলে যাওয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রী ও মেয়ের লাশ দেখতে পান। এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে।

ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হত্যার পর এক নারী স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। চার দিন আগে আয়েশা পরিচয় দিয়ে গৃহকর্মীর কাজ নেওয়া প্রায় ২০ বছর বয়সী এই তরুণীকে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছেন স্বজনেরা।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, আয়েশা সেইদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে পালিয়ে যান।

তদন্তসূত্র বলছে, গৃহকর্মী নিজের আসল নাম ও ঠিকানা গোপন করেছিলেন এবং বাসার কাজে যোগ দেওয়ার সময় সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না। পরে যে ফোনটি নিয়ে গেছেন, সেটি বাসা থেকে বেরিয়েই বন্ধ করেন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল থাকায় তাকে শনাক্ত করতে ম্যানুয়ালভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়েছে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে মা-মেয়ের মরদেহ নাটোরে পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছায় নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।




ইউনিমাস হোল্ডিংসের সফলতার ১৬ বছর উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল আবাসন প্রতিষ্ঠান ইউনিমাস হোল্ডিংস লিমিটেড সম্প্রতি তাদের সফলতার ১৬তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক ও অংশীদারদের আস্থা অর্জন করে চলেছে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ এই দিনে ইউনিমাস হোল্ডিংস লিমিটেড তাদের সকল নিবেদিত কর্মী, সম্মানিত গ্রাহক, সরবরাহকারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তাদের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া এই দীর্ঘ পথচলা সম্ভব হতো না। গুণগত মান, পেশাদারিত্ব ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের আবাসন খাতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে।
এ উপলক্ষে ইউনিমাস হোল্ডিংস লিমিটেডের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত যে, ১৬ বছর ধরে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন নয়, বরং দেশের টেকসই অগ্রগতিতে অবদান রাখা। আগামী দিনেও আমরা উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে এগিয়ে যেতে এবং গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”



আশুলিয়ায় দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ঝুট ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ ; নগদ টাকা লুট

মোঃ বশির উদ্দিন  আশুলিয়া (ঢাকা): শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আমিনুল ইসলাম নামের এক ঝুট ব্যবসায়ীকে প্রজাশ্যে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষরা। এসময় তার সাথে থাকা ঝুট বিক্রি ৪লাখ ৯০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) বিকেলে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ওসি রকিবুল হাওলাদার। এরআগে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া দি রোজ ড্রেসেজ লিমিটেড কারখানার সামনে হামলার শিকার হন তিনি।
ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম আশুলিয়ার মধ্য গাজীরচট এলাকার মৃত আলমাস হোসেনের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার জামগড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন দি রোস এন্ড ড্রেসেস লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা করে আসছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- আশুলিয়ার জামগড়া মোল্লাবাড়ি এলাকার মৃত আতোয়ার রহমানের ছেলে  আতিকুর রহমান উজ্জ্বল (৪৯), মো: আরিফ (৩৮), মো: এরশাদ (৩৭), আব্দুস সাত্তার (৫২), সামাদ ভূইয়া (৪৮), তৈয়বপুর এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান রনি (৩৬) এবং মোস্তাফিজুর রহমান লিটন (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন।
ভুক্তভোগী ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আশুলিয়ার জানগড়া এলাকায় ঝুটের ব্যবসা করে আসছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে আসে। সোমবার বিকেলে জামগড়া দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেড কারখানা থেকে ঝুট বের করে গেটের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। এসময় উজ্জ্বল, আরিফ, এরশাদ, সাত্তার, সামাদ, মোস্তাফিজ, লিটন সহ আরো কয়েকজন এসে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে অস্বীকার করার সাথে সাথেই আমার উপর হামলা চালায় এবং পিটিয়ে হাত ভেংগে ফেলে, মাথায় ও অন্য হাতে সহ পুরো শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। পরে তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ীস্থ হাবীব ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
এদিকে, “কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম কারখানার মূল ফটকে  দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেল যোগে এসেই হামলাকারীরা তার সাথে কথা বলতে দেখা যায়। পরক্ষণেই তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটাতে দেখা যায়। পরে জীবন রক্ষার্থে ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে আসলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত অয়ালিয়ে যায়।”
আশুলিয়া থানার ওসি রকিবুল হাওলাদার জানান, ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ববস্থা নেয়া হবে।



লালমনিরহাটে অবৈধ ইটভাটার ভয়াবহ দাপট; হুমকির মুখে ফসলি জমি ও পরিবেশ

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই ভয়াবহ বেড়ে চলছে অবৈধ ইটভাটার সংখা। আইন ও নীতিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে জেলার ৫টি উপজেলায় ফসলি জমি দখল করে একের পর এক ইটভাটা নির্মাণ চলছে, যার ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষি উর্বর জমির উপরের “টপ সয়েল” পাশাপাশি ব্যাপক পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

লালমনিরহাট সদর, কুলাঘাট-মোগলহাট ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী, ভেলাবাড়ী ও কমলাবাড়ী, কালীগঞ্জ, শিঙিমারীসহ কয়েকটি ইউনিয়ন, এবং হাতীবান্ধার পাটগ্রাম এলাকায় অসংখ্য ইটভাটা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী স্হানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায়  এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছে। কৃষি জমির উর্বর “টপ সয়েল” তুলে তা ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করায় জমি গুলো পরবর্তী ১০-১৫ বছর ফসল উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ছে।

ইটভাটা আইন ২০১৩ অনুযায়ী স্থানীয় চেয়ারম্যান, এরপর জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা স্হাপন বা পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা পরিচালনায় দোষী প্রমাণিত হলে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা আছে। সেখানে দায়িত্বশীলদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবী ও প্রতিবাদ, এলাকাবাসী, কৃষক,  পরিবেশবাদী, মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা বারংবার এই সমস্যা তুলে ধরলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্হা দেখা যাচ্ছে না।

তার দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

উপসংহারঃ লালমনিরহাটের এই সংকট শুধু স্হানীয় নয়, এটি জাতীয় কৃষি নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। অবিলম্বে প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।




জাতীয় পতাকার মর্যাদাহানিতে লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। গতকাল ছিল ৯ ডিসেম্বর-সরকারি পূর্ণ কর্মদিবস। অথচ লালমনিরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে গতকালও উত্তোলন করা হয়নি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

দুপুর ২টায় সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, পতাকা উত্তোলনের স্ট্যান্ডটি ফাঁকা পড়ে আছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পরে ওই কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মোজাম্মেল নামের একজনকে দ্রুত পতাকা উত্তোলন করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

বাংলাদেশের ‘জাতীয় পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ (সংশোধিত-২০২৩)’ অনুযায়ী, সকল সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার নিয়ম আছে। তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস লালমনিরহাটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় পতাকা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও সম্মান পাওয়ার কথা।

অথচ আমাদের অফিসগুলোতেই এই অবহেলা দেখা যাচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের পর থেকে পাসপোর্ট কার্যালয়ে নিয়মিত পতাকা না তোলার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তারা।

পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের যুবক শফিউল্লাহ বলেন, লালমনিরহাটের সব সরকারি অফিসেই জাতীয় পতাকা উড়তে দেখি।

পাসপোর্ট অফিসে গত ১৫ দিনে দু’বার এসেছি কিন্তু পতাকা উত্তলিত অবস্থায় দেখিনি।

দেশের ৩০ লাখ শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে পাওয়া লাল সবুজের পতাকা তুলতে সমস্যা কী তাদের..?

এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী। তিনি বলেন, বিজয়ের মাসে পূর্ণ কর্মদিবসে পতাকা না তোলা দুঃখজনক। এটি অবহেলা নয়, বরং জাতীয় মর্যাদার প্রতি চরম অশ্রদ্ধা। এটি দায়িত্বহীনতা ছাড়া কিছুই নয়। সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা।

তবে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ ভিন্ন মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, পতাকা উত্তোলন সরকার ঘোষিত দিবসগুলোতে বাধ্যতামূলক। সব দিন উত্তোলনের প্রয়োজন নেই। চাইলে টাঙাতে পারে, তবে প্রতিদিন টাঙানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি দপ্তর হিসেবে জাতীয় পতাকা সম্মানের সঙ্গে উত্তোলন করা পাসপোর্ট কার্যালয়ের নৈতিক ও দায়িত্বশীল কর্তব্য। তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।




টাঙ্গাইল বন বিভাগে অনিয়মের গুঞ্জন: দুই রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ টাঙ্গাইল বন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমনই জানাচ্ছে স্থানীয় কিছু সংবাদ সূত্র। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন বিভাগের অনেক সফল উদ্যোগ থাকলেও টাঙ্গাইল অঞ্চলে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণ সেই ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কয়েকটি রেঞ্জে পোস্টিং পাওয়ার জন্য নাকি বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করা হয়।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের অধীনে মোট নয়টি রেঞ্জ এবং একটি চেক স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশতৈল রেঞ্জ, হতেয়া রেঞ্জ ও করটিয়া চেক স্টেশনকে সবচেয়ে ‘লোভনীয়’ বলে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, এসব জায়গায় পোস্টিং নিতে অনেকেই নানা উপায়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।

তাদের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দুই কর্মকর্তা—হতেয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম আব্দুর রশীদ এবং বাঁশতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান। অভিযোগে বলা হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নানা দুর্নীতির সুযোগ নিয়েছেন।

এসএম আব্দুর রশীদকে নিয়ে অভিযোগ আরও পুরোনো। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে তিনি নাকি এক বছরের জায়গায় টানা আট বছর দায়িত্বে ছিলেন। সংবাদ সূত্রের দাবি, তিনি তখন প্রভাবশালী একজন সাবেক এমপির ‘ডিও লেটার’ দেখিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং সেই সুবিধা নিয়েই আর্থিকভাবে উপকৃত হন। তার বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখলে প্রভাবশালীদের সহায়তার অভিযোগও রয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।

২০২১ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সার্কেলে বদলি নেন এবং পরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে টাঙ্গাইল বন বিভাগে নিজের পছন্দের পোস্টিং নেন—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। বর্তমানে তিনি হতেয়া রেঞ্জে থাকলেও তার লক্ষ্য নাকি বাঁশতৈল রেঞ্জের দায়িত্ব নেওয়া। খবর এসেছে যে তিনি ইতোমধ্যে সেখানে একটি বিটে পোস্টিংও নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে শাহীনুর রহমান, যিনি প্রায় ২ বছর ৮ মাস ধরে বাঁশতৈল রেঞ্জের দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধেও কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি তিনি নাকি করটিয়া চেক স্টেশনে চলার চেষ্টা করছেন এবং সেই পোস্টিংও প্রায় নিশ্চিত বলে গুঞ্জন চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ—এই দুই কর্মকর্তা টাঙ্গাইল জেলার হওয়ায় তারা এলাকায় নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন এবং অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। যদিও বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী নিজের এলাকায় চাকরি করার সুযোগ থাকার কথা নয়। সংবাদকর্মীরা এসএম আব্দুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগের স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। আর শাহীনুর রহমানকে অফিসে পাওয়া যায়নি।

সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।




মিরপুর প্রেসক্লাবের সংবর্ধনায় তালুকদার রুমী: নতুন দায়িত্বে বদলে যাবে মিরপুর প্রেসক্লাবের আগামীর আঙ্গিক—নেতৃবৃন্দের প্রতিশ্রুতি

এসএম বদরুল আলমঃ মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আজ অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পাঞ্জেরী পত্রিকার সম্পাদক ও ডিইউজের কার্যনির্বাহী সদস্য তালুকদার রুমী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম বদরুল আলম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন।

সংবর্ধনার মূল উদ্দেশ্য ছিল—

*মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তালুকদার রুমীর দায়িত্ব গ্রহণ।

*দৈনিক পাঞ্জেরীর নির্বাহী সম্পাদক থেকে সম্পাদক পদে উন্নীত হওয়ায় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।

*ডিইউজে পুনরায় কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সম্মাননা।

*একই সাথে মিরপুর প্রেসক্লাবের নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে এস এম বদরুল আলমকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম ইসলাম উকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম নিপু, ‘দ্য মেসেজ টুডে’-এর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল সিকদার, প্রচার সম্পাদক মনজুর আলম, সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক এমএ গাফফার, সহ-অর্থ সম্পাদক এমএ মালেক, যুগ্ম সম্পাদক আসিফ মল্লিক, অবশ্য আরিফুজ্জামান, সদস্য সুরুজ্জামান, আখতারুজ্জামান, খলিলুর রহমান সহ প্রেসক্লাবের অসংখ্য সদস্য ও নেতৃবৃন্দ।

প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে তালুকদার রুমীর বক্তব্য:

“মিরপুর প্রেসক্লাব সাংবাদিকতার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আমার প্রথম লক্ষ্য হবে—এই প্রেসক্লাবকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও পেশাদার রূপে গড়ে তোলা। তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে আমি কাজ করে যাবো।”

এস এম বদরুল আলম (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) এর বক্তব্য:

“আমাদের প্রেসক্লাব আগামী দিনে এমনভাবে গড়ে উঠবে, যেখানে প্রতিটি সদস্য নিজেকে গর্বিত মনে করবেন। সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বই হবে আমাদের মূল শক্তি। সকলের সহযোগিতায় আমরা মিরপুর প্রেসক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।”

এস এম ইসলাম উকিল (সিনিয়র সহ-সভাপতি) এর বক্তব্য:

“মিরপুর প্রেসক্লাব এখন পরিবর্তনের পথে। নতুন কমিটি, নতুন দায়িত্ব আর যোগ্য নেতৃত্ব মিলে যে রূপকাঠামো তৈরি হচ্ছে, তা আগামী দিনে মিরপুরের সাংবাদিক সমাজকে একটি শক্ত অবস্থানে দাঁড় করাবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বড় অর্জন সম্ভব।”

মোঃ শিহাব উদ্দিন (সাধারণ সম্পাদক) এর বক্তব্য:

“এই প্রেসক্লাব হবে সাংবাদিকদের নিরাপদ, প্রগতিশীল ও পেশাদার কর্মক্ষেত্র। আমরা প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় আরও দৃঢ় ভূমিকা পালন করব। মিরপুর প্রেসক্লাবকে নতুন আঙ্গিকে সামনে এগিয়ে নিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

একই সাথে সামনের দিনগুলোতে মিরপুর প্রেসক্লাবকে আরো উন্নত করার লক্ষ্যে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। পদক্ষেপগুলো হলো—

*আধুনিক ও ডিজিটাল প্রেসক্লাব গঠন।

*সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ।

*সদস্যদের জন্য সম্পূর্ণ সেবা-সহায়ক কাঠামো তৈরি।

*স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও সক্রিয় সংগঠন পরিচালনা।

*সমাজ ও গণমাধ্যমে মিরপুর প্রেসক্লাবের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি।




জাপানে ভূমিকম্পে আহত অন্তত ৩০, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জাপানের উত্তরাঞ্চলে সোমবারের ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জানিয়েছে। ভূমিকম্পে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তীব্র শীতের মধ্যে বহু মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। খবর জাপান টাইমসের।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫, এর আগে ৭ দশমিক ৬ বলা হয়েছিল। সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক দিনে একই রকম বা আরও বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে।

সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার হলেও জাপানের বাসিন্দাদের আগামী এক সপ্তাহ সতর্ক ও ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, আওমোরি অঞ্চলের উপকূলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এতে সাগরে সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হয়েছিল। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় হোক্কাইডো থেকে সানরিকু উপকূলের অদূরবর্তী অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা এখন বেশি।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আওমরি উপকূলের অদূরে। এর পরপরই হোক্কাইডো ও আওমোরির পূর্ব উপকূলজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাঁচটি অঞ্চলের সোয়া ১ লাখ বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশও উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পে পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের কারণে আওমোরি ও ইওয়াতে প্রায় ৪৮০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা আওমরির হাচিনোহে শহরে জাপানি শিন্ডো স্কেলে আপার-৬ রেকর্ড করা হয়। এটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছিল।

প্রথমে তিন মিটার পর্যন্ত সুনামির সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ৭০ সেন্টিমিটার। কয়েক ঘণ্টা পরে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

কিছু এলাকায় বুলেট ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়, যেন প্রকৌশলীরা রেললাইনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে পারেন।

২০১১ সালে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে যে সুনামি আঘাত হানে, তাতে ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।

জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ারের পশ্চিম প্রান্তে চারটি বড় টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি।