সোমবার থেকে সারা দেশে একযোগে হামের টিকা পাবে শিশুরা

ডেস্ক নিউজঃ প্রতিদিনই বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আনুপাতিক হারে বাড়ছ মৃত্যুও। তাই হামের প্রাদুর্ভাব রোধে আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী,  চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ হাজার। আর হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ২১৩ শিশুর।

গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ১২ এপ্রিল ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দেয়া শুরু করে সরকার।

গত শুক্রবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ম্যাসিভভাবে হামের টিকার কার্যক্রম শুরু হবে। দেশে কোনো টিকার ঘাটতি নেই, তাই অপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দেয়া যাবে না।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু হামের কারণে মৃত্যুর রেকর্ড নেই, যে শিশুরা মারা যাচ্ছে তাদের হামের সঙ্গে রয়েছে শরীরের অনান্য জটিলতা।

হাম হলে ভয় বা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। দেশব্যাপী প্রাদুর্ভাব কমাতে ঘরে ঘরে টিকা কার্যক্রম সফল করার তাগিদ দেন তারা।

চিকিৎসকরা বলেন, এর জন্য সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। শিশুকে টিকা দেয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে পুষ্টিকর খাবারের।




দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর ৬০ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রথম দুই মাসেই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো-

১. ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়নে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তার কার্ড দেওয়া।
২. কৃষক কার্ড: প্রান্তিক কৃষকদের ১০টি সুবিধা সংবলিত কার্ড বিতরণ শুরু।
৩. ঋণ মওকুফ: ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ।
৪. সংসদীয় গণতন্ত্র: রেকর্ড সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি এবং গুম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান।
৫. নদী খনন: ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও জলাশয় খননের কাজ শুরু।
৬. জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ভর্তুকি বৃদ্ধি।
৭. সৌরশক্তি: জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য।
৮. ফুয়েল কার্ড: জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ফুয়েল কার্ডের পাইলটিং শুরু।
৯. দ্রব্যমূল্য: প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রমজান ও পরবর্তী সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।
১০. ধর্মীয় সম্প্রীতি: ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী দেওয়া এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ।
১১. জাকাত আধুনিকায়ন: দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক আধুনিকায়ন।
১২. প্রবাসী কার্ড: প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ।
১৩. হজ খরচ হ্রাস: হজযাত্রার খরচ ১২ হাজার টাকা কমানো ও নুসুক হজ কার্ড দেওয়া।
১৪. নিয়োগ পরিকল্পনা: সরকারি অফিসের ৪ লাখ ৬৮ হাজার শূন্যপদ পূরণে ৩ মেয়াদি পরিকল্পনা।
১৫. বন্ধ কারখানা: চিনিকল, রেশম ও পাটকলসহ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ।
১৬. ইন্ডাস্ট্রি ইকোসিস্টেম: হাই-টেক পার্ক ও ইপিজেডে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি।
১৭. ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।
১৮. জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা: ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার কৌশল।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ: বিনিয়োগ সহজীকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা শিথিল।
২০. শ্রমিক অধিকার: মালিক-শ্রমিক সমন্বয়ে ঈদুল ফিতরে শতভাগ বেতন-বোনাস নিশ্চিতকরণ।
২১. মালয়েশিয়া শ্রমবাজার: অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু।
২২. ইউরোপে শ্রমবাজার: সার্বিয়া, গ্রিস ও রোমানিয়াসহ ৭টি দেশের সঙ্গে শ্রম চুক্তি।
২৩. দক্ষতা বৃদ্ধি: বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে টিটিসি ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন।
২৪. উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন: উত্তরবঙ্গকে ‘অ্যাগ্রো প্রসেসিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ।
২৫. পে-পাল: বাংলাদেশে পে-পাল ও গ্লোবাল পেমেন্ট গেটওয়ে আনার কাজ শুরু।
২৬. স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা, যেখানে ৮০ শতাংশই নারী।
২৭. ই-হেলথ কার্ড: ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় ই-হেলথ কার্ড ও হাসপাতালের নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
২৮. শিক্ষা ফি বাতিল: প্রতিবছর পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়া বাতিল ও বৃত্তি দ্বিগুণ করা।
২৯. উচ্চশিক্ষায় ঋণ: বিদেশে পড়তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।
৩০. শিক্ষক নিয়োগ: মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্তরে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ।
৩১. বাধ্যতামূলক খেলাধুলা: চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক ও নতুন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ।
৩২. নতুন কুঁড়ি: শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণে আবারও ‘নতুন কুঁড়ি’র যাত্রা শুরু।
৩৩. স্কুল কিট: ২ লাখ শিশুর মাঝে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণ এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’।
৩৪. মাদরাসা আধুনিকায়ন: মাদরাসায় স্মার্ট ক্লাসরুম ও কারিগরি কোর্স চালু।
৩৫. স্পোর্টস কার্ড: ক্রীড়াবিদদের জন্য স্পোর্টস কার্ড ও মাসিক ভাতা চালুর উদ্যোগ।
৩৬. সবুজ বনায়ন: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু।
৩৭. মিতব্যয়িতা: যমুনার বদলে প্রধানমন্ত্রীর নিজের বাড়িতে অবস্থান ও নিজের গাড়ি ব্যবহার।
৩৮. প্রটোকল সংস্কার: ট্রাফিক জট এড়াতে ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিতকরণ ও শনিবারও অফিস।
৩৯. ডিজিটাল ভূমি সেবা: ই-নামজারি ও অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর বাধ্যতামূলক করা।
৪০. পদ্মা ব্যারেজ: উত্তরবঙ্গকে মরুকরণ থেকে বাঁচাতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ।
৪১. মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি বাতিল: এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
৪২. পাটের ব্যবহার: সরকারি-বেসরকারি খাতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলককরণ।
৪৩. ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার।
৪৪. টিকাদান কর্মসূচি: বন্ধ থাকা হামের টিকা পুনরায় সারাদেশে চালু।
৪৫. চাঁদাবাজিবিরোধী অভিযান: চাঁদাবাজি বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশের সংস্কার।
৪৬. ইলেকট্রিক বাস: ঢাকায় পরিবেশবান্ধব বাস ও নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস।
৪৭. নদী রক্ষা আইন: নদী দখলকারীদের ৫ বছরের জেল ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান।
৪৮. জ্বালানি সাশ্রয়: সরকারি অফিসে এসি ও লাইট ব্যবহারে কঠোর ১১ নির্দেশনা।
৪৯. মেধাভিত্তিক নিয়োগ: এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ।
৫০. জ্বালানি নিরাপত্তা: ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ।
৫১. ফুটপাত পুনর্বাসন: ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের কাজ।
৫২. বাকস্বাধীনতা: প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনার পরও কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া।
৫৩. থার্ড টার্মিনাল: শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর পদক্ষেপ।
৫৪. ফ্রি ইন্টারনেট: দেশের বড় সব বিমানবন্দরে যাত্রীসেবায় ফ্রি ওয়াই-ফাই।
৫৫. ট্রেনে ইন্টারনেট: চলন্ত ট্রেন ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ইন্টারনেট সংযোগ।
৫৬. অর্থনৈতিক কূটনীতি: বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি ও বিনিয়োগ আকর্ষণকে দূতাবাসের অগ্রাধিকার।
৫৭. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: প্রতিবেশী ও বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে পানি ও সীমান্ত সমস্যা সমাধানে জোর।
৫৮. অর্থ পাচার রোধ: ১০টি দেশের সঙ্গে পাচারকৃত অর্থ শনাক্ত ও ফেরত আনার চুক্তি।
৫৯. উপকূল রক্ষা: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
৬০. মানবাধিকার রক্ষা: গত দুই মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো নজির না থাকা ও আইনি সুরক্ষা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম আজ থেকে কার্যকর

ডেস্ক নিউজঃ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অকটেনের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এই দাম আজ রবিবার থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল শনিবার পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে দেশের বাজারেও এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হবে।

একইসঙ্গে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কেরোসিনের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

মূল্যবৃদ্ধির আগে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা ও পেট্রোলের মূল্য ১১৬ টাকা ছিল।




যে অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ সিলেট অঞ্চলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

তাই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




লিবিয়া উপকূলে বাংলাদেশিসহ ১৭ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লিবিয়ার পশ্চিম উপকূলে বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৭ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের সবাই অভিবাসনপ্রত্যাশী বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

শনিবার ত্রিপোলিভিত্তিক চিকিৎসকদের একটি দল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে জুওয়ারা উপকূল থেকে গত কয়েক দিনে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার হওয়া ১৭ মরদেহের মধ্যে ১৪ জনকে যথাযথ নিয়মে দাফন করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ ত্রিপোলিতে অবস্থানরত তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুই মরদেহের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

সেন্টারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা মরদেহগুলো সাদা প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন।

২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহে তৎকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে।

আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে লিবিয়া হয়ে বিপজ্জনক মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

সূত্র: রয়টার্স




আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় : কাদের গনি চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ : দেশের ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রথমেই শিক্ষাখাতে মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি অসম্ভব।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স হলে অ্যাসোসিয়েশন ফর ম্যাস অ্যাডভান্সমেন্ট নেটওয়ার্ক-আমান আয়োজিত ছাত্রবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে কাদের গনি চৌধুরী এসব বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষায় সফলতার জন্য যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্বটুকু সম্পর্কে যত্নবান হতে হবে। নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জন সম্ভব।

আমান’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কারিগরি ও শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, ইকো ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জামান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মানারাত ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সারা বিশ্বে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, এর কারণ শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া সভ্যতা আসে না। শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। শিক্ষায় সফলতার জন্য যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্বটুকু সম্পর্কে যত্নবান হওয়া উচিত বলে মনে করেন কাদের গনি চৌধুরী।

তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে আমি একটি কথা বলি, যার যার দায়িত্ব আমরা ঠিকঠাক পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা অসামান্য সাফল্য অর্জন করতে পারি। এখানে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পড়ালেখা করা। পাঠে মনোযোগী হওয়া। হোমওয়ার্ক নিয়মিত করা। শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পাঠদান করা। সততার শিক্ষা দেওয়া। আর পরিবারের দায়িত্ব সন্তানকে শিক্ষালয়ে পাঠানো। হোমওয়ার্ক করছে কিনা দেখা। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে নজর রাখা।

অভিভাবকদের দায়িত্ব বেশি হলেও অনেক অভিভাবক সন্তানকে স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে মনে করেন দায়িত্ব শেষ- এটা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় পরিবারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, পরিবার হলো একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে পরিবারের সদস্যরা প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও মায়া-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। পরিবারকে বলা হয় ‘জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার’। পরিবার হলো ‘শাশ্বত বিদ্যালয়’, ‘চিরন্তন মাতৃসদন’। মানুষ তার সামগ্রিক জীবনে যত জ্ঞান, শিক্ষা, ঐশ্বর্য অর্জন করে তার সূচনাই হয় পরিবার থেকে। মায়ের কোলে হয় শিশুশিক্ষার হাতেখড়ি। তাই সন্তানের মূল্যবোধ, চরিত্র, চেতনা ও বিশ্বাস জন্ম নেয় পরিবার থেকেই।




গাজায় লাশের মিছিল, নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়ালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ৫৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭২ হাজার ২৭৪ জন।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও আটটি মরদেহ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সাতজন সদ্য পরিচালিত হামলায় নিহত হয়েছেন এবং একজনকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ২৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৭৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ১৭১ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এই সময়ের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ৭৬১টি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।




পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের আকাশে আজ কোথাও ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে পবিত্র শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) শাওয়াল মাসের সমাপ্তি ঘটবে। সে হিসেবে আগামী ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।

সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদ দেখা না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এই ঘোষণা দেয়।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক মো. শাহীন হোসেন, প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. খোরশেদ আলম খান, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ওয়ারেছ আনসারী, চরমোনাই আহছানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ও জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার উপাধ্যক্ষ আবদুল গাফফারসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




প্রধানমন্ত্রী দেশের সেবা করতেই সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসেছেন: আতিকুর রহমান রুমন

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সেবা করতেই সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসেছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে মুগ্ধকর স্বভাবসুলভ আচরণ, তার ড্রেস আপ সবকিছুই অতি সাধারণ। তিনি আসলে দেশ সেবা করার জন্যই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি চান দেশের সব ভালো কাজগুলো হোক।’

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর থেকে আমাদের সাফল্যগুলোর মধ্যে একটি জিনিসই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা হলো- একটি যুদ্ধের কারণে তেলের দামসহ কিছু জিনিসের দাম বৃদ্ধির দিকে। এটা ছাড়া অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ বা দুষ্টু লোকেরা যে খারাপ কাজগুলো করছিল, এগুলো তুলনামূলক অনেক কমে গেছে।




জনরোষে পদত্যাগ করলেন শ্রীলংকার জ্বালানিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা আমদানি নিয়ে তীব্র জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলংকার জ্বালানিমন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি। এ ছাড়া এ মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালাও পদত্যাগ করেছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিম্নমানের কয়লা আমদানির অভিযোগের তদন্তের পথ সুগম করতে মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। শ

জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ বলেন, যথাযথ ক্রয়প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং জ্বালানিমন্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততায় কোনো জালিয়াতি বা দুর্নীতি ঘটেনি।

তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং জনগণের আস্থা জোরদার হয়। জয়াকোডি দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করা প্রথম উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য। এর আগে তার বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তা পাস হয়নি।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট দিসানায়েক ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য হওয়া সব কয়লা আমদানির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এর আগে স্বীকার করেছিলেন, নিম্নমানের কয়লা সরবরাহ রাষ্ট্রায়ত্ত লাকভিজয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করতে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে গত মাসে জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করা হয়েছে।