সুন্দরবনে অভিযান: অস্ত্র ও জিম্মি জেলে উদ্ধার, শিকারী আটক

মোংলা প্রতিনিধিঃ সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ জিম্মি জেলে উদ্ধার ও হরিণের মাংসসহ চোরা শিকারী আটক হয়েছে।

কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত দুলাভাই বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের কয়রা নদীর নাগজোড়া খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে- এ তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাত ৮ টার দিকে কোস্টগার্ড কয়রা সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালায়। ওই সময় অভিযানকারীরা ওই এলাকা হতে ১ টি একনালা বন্দুক, ১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১ রাউন্ড ফাঁকা গুলিসহ ডাকাত দুলাভাই বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ৪ জেলেকে উদ্ধার করে। সে সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ায় কেউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত অস্ত্র ও গুলি জব্দের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অপরদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাত ২টার দিকে কোস্টগার্ড সদস্যরা সুন্দরবনের কয়রা নদীর ময়দাপেশা খাল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকারীরা ওই এলাকায় তল্লাশি করে ৭২ কেজি হরিণের মাংস, ২টি মাথা, ৩০০ মিটার হরিণ শিকারের ফাঁদসহ ৪ হরিণ শিকারিকে আটক করে। জব্দকৃত হরিণের মাংস, মাথা, শিকারের ফাঁদ এবং আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এবং বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এধরণের অভিযান অব্যাহত রাখবে।




বাগেরহাটে ক্রমেই হারাচ্ছে কৃষিজমি

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে এখন মাঠের পর মাঠ নেই অতীতের সেই সোনালি ধানের শিষ, মাঠে এখন ঢেউ তুলছে লবণাক্ত পানিতে চিংড়ি চাষের ঘের। গত এক দশকে উপকূলীয় এই জেলায় যে বদল এসেছে তা কয়েক কয়েক হাজার মানুষের এনে দিয়েছে বিপুল সমৃদ্ধি, তবে, লাখ লাখ কৃষকের জীবনে বয়ে এনেছে অস্থিরতা ও ক্ষতি।

জেলার রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, কচুয়া  থেকে শুরু করে বাগেরহাট সদরে লবণাক্ততার কারনে হাজার হাজার হেক্টর চাষযোগ্য জমি রূপান্তরিত হয়েছে চিংড়ি চাষের ঘেরে। বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য এ পরিবর্তন বৈদেশিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়ালেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লাখ লাখ কৃষক। বহু পরিবার জমি হারিয়ে, দেনার বোঝা বাড়িয়ে এবং চাষাবাদের অনুপযোগী মাটি নিয়ে এখন দিশেহারা।

মোরেলগঞ্জের হরতকিতলা গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, আগে তাঁর সব জমিতেই ধান হতো। এখনমাত্র আড়াই একর ধান চাষ করেন, বাকি ৫ একরে প্রভাবশালীরা বাগদা চিংড়ির ঘের করছে। মোংলার চিলা গ্রামের কৃষক রতন হাওলাদার জানান, তাঁর পুরো ৫ একর জমিই এখন চিংড়ি চাষে ব্যবহৃত হয়, ধান চাষ আর করেন না। এই চিংড়ি ঘেরে লবণাক্ত পানি ঢুকানোর ফলে পাশের কৃষকের জমিতে আর ধান হচ্ছেনা। ধানের ফলন কমে যাওয়ায় অনেককে কম দামে জমি লিজ দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
গত বছর খুলনার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এবং বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ জরিপে দেখাগেছে, বাগেরহাট  জেলাটির বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা গত এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পশুর, দড়াটানা, পনগুছি ঘষিয়াখালী নদীর লবণাক্ততা শুষ্ক মৌসুমে  প্রায় ২০ ডিসিএম পর্যায়ে উঠে যায়, যা ধানসহ অধিকাংশ ফসলের সহনক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি।
বাগেরহাট ২০২০ সালে জেলার মোট কৃষিজমি ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪১ হেক্টর। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৬১ হেক্টরে। যদিও ফসল চক্রের অনুপাত জেলায় শতকরা ৬১ শতাংশ  এক ফসলি, ২৭ শতাংশ দুই ফসলি, ১১ শতাংশ তিন ফসলি জমি। পানিতে লবণাক্ততা বাড়য় কৃষি  জমিগুলো সহজেই চিংড়ি ঘরে পরিণত হচ্ছে।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা খুলনা বিভাগের সমন্বয়কারী শেখ নূর আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাগেরহাট জেলায় লবণাক্ততা বাড়ায় কৃষিতে ধস নামেছে। ৮০ দশকে চালু হওয়া চিংড়ি চাষ কৃষির পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। ধান ছাড়াও সবজি, কলা সবই লবণাক্ততায় আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি জনস্বাস্থ্যের ওপরও এর ক্ষতি পড়ছে। চিংড়ি রপ্তানি বছরে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা আয় করলেও কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে এর ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তাই পরিকল্পনা ছাড়া চিংড়ি চাষ বন্ধে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাগেরহাটে চিংড়ি চাষের জমি বেড়েছে। বাগদা চিংড়ি চাষ হচ্ছে ৫২ হাহার ৫৫১ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন ২০ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন। আর গলদা চাষ হচ্ছে ১৯ হাহার ৭৭৩.৩ হেক্টর জমিতে। বাগদা উৎপাদন ১৯ হয়েছে ৭১৬.৩  মেট্রিক টন। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরে চিংড়ি থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। যা দেশের মোট চিংড়ি রপ্তানী আয়ের (গত অর্থবছরে ৪,০০০ কোটি টাকা) চেয়ে কিছুটা কম।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতাহার হোসেন জানান, শিল্পায়ন, শহরায়ণ এবং নদীর লবণাক্ততা বৃদ্ধিই বাগেরহাট জেলায় চাষযোগ্য জমি কমে যাওয়ার মূল কারণ। নভেম্বর থেকেই নদীর পানিতে তীব্র লবণাক্ততা শুরু হয়, যা আগে জানুয়ারি মাসে হতো। মার্চ- এপ্রিল নাগাদ জমির ফসল লবনাক্ততায় মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে লবণ-সহনশীল ধান বীজের প্রচলন ও এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি ব্যবস্থায় আনতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এরমধ্যে প্রভাবশালীরা অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জমি চিংড়ি ঘেরের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে, যা সাময়িক লাভ দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা কৃষিসহ পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে। যা বাগেরহাটে এখনই দেখা যাচ্ছে।




বাইউস্টে শিক্ষার্থীদের পোস্টার প্রেজেন্টেশনের চমক

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বাইউস্ট) তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের প্লাজা এলাকায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ছয়টি বিভাগ থেকে নির্বাচিত ২০টি গবেষণা পোস্টার অংশ নেয়।

সকালে প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে বিচারকমণ্ডলী পোস্টারগুলো পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করেন। শিক্ষার্থীদের গবেষণা উপস্থাপনা ও প্রশ্নোত্তর দক্ষতা বিচারকদের মুগ্ধ করে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নূর হোসেন বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে উপস্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন এবং গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতিটি বিভাগের বিজয়ীদের হাতে সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য। তিনি বলেন, “বাইউস্টের শিক্ষার্থীরা শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, গবেষণাতেও নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করছে। ভবিষ্যতে এসব গবেষণা দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের মর্যাদা বাড়াবে।”

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ইফতেখারুল হক, রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার মাহমুদ হোসেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক লে. কর্নেল (অব.) শাব্বির আহমেদ সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।




ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সুশাসনের গুরুত্ব ও ফলাফল

ইসলামিক ডেস্কঃ একটি দেশে সুশাসন প্রবর্তন হওয়া ওই দেশের মানব সমাজের স্থিতি, শান্তি ও উন্নতির প্রধান ভিত্তি। আইনের শাসন, দায়িত্বশীল সরকার ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সুশাসন অতি জরুরি। দেশ ও সমাজের নেতৃত্বে ন্যায়, সততা ও জবাবদিহিতা অনুপস্থিত হলে কোনো সভ্যতাই টেকসই হতে পারে না। তাই ইসলাম সুশাসনকে কেবল রাজনৈতিক পরিভাষা হিসেবে নয়, বরং ধর্ম ও নৈতিকতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে সুশাসন হলো এমন এক নেতৃত্ব ব্যবস্থা, যা মানুষের ন্যায়নীতি রক্ষা করবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে এবং সমাজকে নৈতিকতার পথে পরিচালিত করবে।

কোরআনে করিমের নির্দেশনা : কোরআনে করিমে সুশাসনের প্রতি স্বচ্ছ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কোরআন সুশাসনের প্রথম ও অপরিহার্য শর্ত হিসেবে আমানত রক্ষার কথা উল্লেখ করেছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার প্রকৃত অধিকারীর কাছে পৌঁছে দেবে এবং যখন মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনা করবে, ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে।’ (নিসা-৫৮)

এই আয়াত সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় ক্ষমতা, নেতৃত্ব, দায়িত্ব- সবই আমানত। ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত সম্পদ বা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। নেতৃত্বের মূল তত্ত্ব হলো ন্যায়বিচার। ব্যক্তি বিশেষ, দল বা গোষ্ঠী ন্যায় বিচারের মাধ্যম নয়। বরং ন্যায়বিচার হলো সমগ্র সমাজের অধিকার। অন্যত্র উল্লেখ আছে, ‘কোনো জাতির প্রতি নিজেদের বিদ্বেষ তোমাদের ন্যায়পরায়ণতা থেকে বিরত রাখবে না; ন্যায় কর, এটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী।’ (মায়েদাহ-৮)

এ আয়াতে ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সবক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতার বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে- যা সুশাসনের মৌলিক শর্ত।

হাদিসের নির্দেশনা : রসুলুল্লাহ (সা.) অগণিত হাদিসে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা ও সুশাসনভিত্তিক নেতৃত্বের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। বর্ণনা করেছেন এর যথার্থ মর্যাদা। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্ববান এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সহিহ বুখারি, মুসলিম) এ ঘোষণায় ইসলাম নেতৃত্বকে জবাবদিহির অঙ্গনে স্থাপন করেছে। নেতৃত্ব মানে প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতায়ন নয়; বরং আমানত রক্ষা এবং মানুষের হক আদায়ের দায়িত্ব। ন্যায়পরায়ণ নেতাদের মর্যাদা সম্পর্কে রসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যারা ন্যায়ের সঙ্গে শাসন করে, আল্লাহর কাছে তারা নূরের মিম্বরে অবস্থান করবে।’ (সহিহ মুসলিম) হাদিসের এ বাণী প্রমাণ করে, ন্যায়ভিত্তিক সুশাসন দুনিয়ার শান্তি যেমন নিশ্চিত করে, তেমনি পরকালীন পুরস্কারের পথও উন্মুক্ত করে।

ইতিহাসে সুশাসনের বাস্তবতা : ইসলামি ইতিহাসে সুশাসনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনব্যবস্থা মানবসভ্যতার ইতিহাসে সুশাসনের অসাধারণ উদাহরণ। বিশেষত হজরত উমর (রা.)- যিনি তাঁর শাসনামলে ন্যায়, সত্য ও মানবিকতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি- ‘যদি মরুভূমির পথে একটি কুকুরও ক্ষুধায় মারা যায়, আল্লাহ উমরের কাছেই জিজ্ঞাসা করবেন।’ এ বক্তব্য কোনো রাজনৈতিক নীতি নয়; বরং সুশাসনের গভীরতম মানবিক দর্শন। এ ছাড়া হজরত আলী (রা.) তাঁর প্রশাসনিক চিঠিতে গভীরভাবে উল্লেখ করেছেন নেতৃত্বের মূলে আছে দয়া, ন্যায় ও জনকল্যাণ। অত্যাচার নয়, পক্ষপাত নয়।

সুশাসনের অভাবে করুণ পরিণতি : যখন দেশ ও সমাজে ন্যায়বিচার বিলীন হয়, বিচারব্যবস্থা পক্ষপাতদুষ্ট হয় এবং নেতারা জবাবদিহি হারান, তখন সমাজে অস্থিরতা, অবিচার ও দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘সতর্ক হও- একটি বিপর্যয় এলে তা শুধু অত্যাচারীদেরই নয়; বরং সবাইকে গ্রাস করবে।’ (আনফাল-২৫) সমাজে অন্যায় প্রতিষ্ঠিত হলে তার ক্ষতি সম্পূর্ণ জাতিকেই ভোগ করতে হয়- ইসলামের এ সতর্কবাণী আজও সত্য ও প্রযোজ্য। সুশাসনের ফল-সমৃদ্ধি, শান্তি ও নৈতিক উন্নতি। ইসলাম মানবসমাজকে ন্যায়ভিত্তিক সুশাসনের মাধ্যমে একত্র করে। এর ফলাফল তিনভাবে প্রকাশ পায়-

১. সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা : ন্যায়বিচার হলে মানুষ নিরাপদ বোধ করে, অপরাধ কমে, আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।

২. রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতি : গবেষণায় দেখা যায় যেসব দেশে নেতৃত্ব স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক, সেখানে অর্থনীতি দ্রুত উন্নত হয় এবং দুর্নীতি কমে।

৩. মানুষের নৈতিক উন্নতি : সুশাসন মানুষকে নৈতিকতার পথে পরিচালিত করে; অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে। ফলে সমাজে সহযোগিতা, দয়া, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি পায়।




টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার সংকটে আইসিসি বিপাকে

খেলাধুলা ডেস্কঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে দু’মাস বাকি। মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি দল নির্বাচন নিয়ে যখন উত্তেজনা চূড়ান্ত, ঠিক তখনই বড় বিপাকে পড়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ভারতীয় মিডিয়া পার্টনার জিও হটস্টার (JioHotstar) চুক্তি ভাঙতে চাইছে, ফলে টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় অনিশ্চয়তা।

২০২৪-২০২৭ মেয়াদে আইসিসিরর সম্প্রচার অংশীদার ছিল জিও হটস্টার। কিন্তু একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে চার বছরের এই চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে যেতে চায় তারা।

চুক্তির অংশ হিসেবে আইসিসি প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৭,০৩৪ কোটি রুপি।

২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে জিও হটস্টারের ক্ষতি ছিল প্রায় ১২,৩১৯ কোটি রুপি। পরের বছর সেটি দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ২৫,৭৬০ কোটি রুপি।

স্পোর্টস কনটেন্ট কেনার বিপুল ব্যয়, সঙ্গে ভারতজুড়ে অনলাইন বেটিং ও রিয়াল মানি গেমিং নিষিদ্ধ হওয়ায় বিজ্ঞাপন ও আয়ের বড় অংশ হারায় সংস্থাটি।

জিও হটস্টারের সম্ভাব্য সরে দাঁড়ানোর খবর পাওয়ার পরই নতুন মিডিয়া পার্টনার খুঁজতে তৎপর আইসিসি। ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির চেষ্টা চলছে। নেটফ্লিক্স, সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক ও অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর সঙ্গে যোগাযোগও করেছে সংস্থা।

কিন্তু রিপোর্ট বলছে, মাত্র দুই বছরের চুক্তির জন্য আইসিসি প্রস্তাব করেছে ২.৪ বিলিয়ন ডলার।




হাঁটুর সমস্যায় বিরতি—বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নেইমার

খেলাধুলা ডেস্কঃ নেইমারের মাঠে ফেরার পর যেন বদলে গেল সান্তোস। টানা তিন ম্যাচে জ্বলে উঠলেন তিনি। আগের দুই ম্যাচে গোল, একটিতে হ্যাটট্রিক; শেষ ম্যাচে গোল না পেলেও খেলার ছন্দ পুরো নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ব্রাজিলিয়ার সেরি আতে মৌসুমের শেষ ম্যাচে ক্রুজেইরোকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় সান্তোস। দুর্দান্ত জয়ে লিগ শেষ করল দল। টানা তিন ম্যাচে চোট নিয়ে খেলে দলকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করার পর এই তারকা নিশ্চিত করলেন, অস্ত্রোপচনা হবে তার হাঁটুতে।

নেইমার বলেন, “আমি এখানে এসেছিলাম এটার জন্যই, দলকে সম্ভাব্য সেরা উপায়ে সহায়তা করতে। আমার জন্য সপ্তাহগুলি ছিল খুবই কঠিন। আমাকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করে গেছেন যারা, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তারা না থাকলে এমন চোট নিয়ে, হাঁটুর এত সমস্যা নিয়ে ম্যাচগুলি খেলতে পারতাম না। এখন আমার কিছুটা বিশ্রাম প্রয়োজন, এরপর হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করাব।”

হাঁটুর চোটের ধরন বা কোন ধরনের অস্ত্রোপচার হবে তার, বিস্তারিত সেসব জানা যায়নি। তবে বিশ্বকাপের ছয় মাস আগে অস্ত্রোপচার মানে বিশ্ব আসরে তার খেলার সম্ভাবনায় আরেকটি বড় আঘাত অবশ্যই। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি জাতীয় দলে নেই। গত মে মাসে কার্লো আনচেলত্তি কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কবারই বলেছেন, কেবল পুরো ফিট হলেই নেইমারকে নেওয়া হবে জাতীয় দলে।

নেইমার নিজে অবশ্য চোট পাওয়ার পরও বলেছেন, বিশ্বকাপে খেলতে তিনি আশাবাদী। সেখান থেকে ধারণা করা যায়, তার হাঁটুর চোট হয়তো গুরুতর নয়। তার পরও শঙ্কা থাকছে প্রবলভাবেই।

ক্রুজেইরোর বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে নেইমারের জন্য ছিল ছোট একটি সম্মাননা অনুষ্ঠান। শৈশবের ক্লাবটির হয়ে ১৫০ ম্যাচ পূর্ণ করায় তাকে দেওয়া হয় বিশেষ স্মারক। পাশে ছিলেন তার স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা। এরপর মাঠেও খেললেন প্রাণবন্ত ফুটবল, দলের জয়ে রাখেন বড় ভূমিকা। তিন ম্যাচ আগেও অবনমনের ভয় ছিল সান্তোসের সামনে। ঠিক সেই সময় হাঁটুর ব্যথা নিয়েই ম্যাচে নেমেছিলেন নেইমার। প্রতিটি ম্যাচে দলকে বাঁচাতে অবদান রাখেন তিনি। আগের ম্যাচে করেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, তার আগের ম্যাচেও গোল। শেষ ম্যাচে গোল না পেলেও আক্রমণ সাজানো ও সুযোগ তৈরি করে দলের ৩-০ ব্যবধানে জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।




ভেন্যু না পাওয়ায় বদল সূচি—৯ দিন দেরিতে জাতীয় টেবিল টেনিস

খেলাধুলা ডেস্কঃ ভেন্যু সংকটের কারণে জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা ২০২৫ পিছিয়ে যাচ্ছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা। সাত দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার ভেন্যু ছিল পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়াম।

সেখানে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা থাকায় টেবিল টেনিসের প্রস্তুতি ও অনুশীলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় টুর্নামেন্টটি ৯ দিন পিছিয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতা শুরু হবে ৯ জানুয়ারি।

শুরুর দুই দিন ৯ ও ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বয়সভিত্তিক বালক-বালিকাদের অনূর্ধ্ব ৯, ১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ সিঙ্গেলস র‌্যাংকিং প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯-এর নিচে আর কোনো জাতীয় র‌্যাংকিং নেই। এরপর ১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে মূল পর্ব, যেখানে অনূর্ধ্ব-১৯ এবং সিনিয়র বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৪টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।

সিনিয়রদের জন্য পুরুষ দলগত, পুরুষ একক, পুরুষ দ্বৈত, মহিলা দলগত, মহিলা একক, মহিলা দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত-এই সাতটি ইভেন্ট থাকবে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগেও একই সাতটি ইভেন্টে লড়বে বালক-বালিকারা। বিশেষ সুবিধা হিসেবে বালক বিভাগের র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট খেলোয়াড় সিনিয়র বিভাগেও খেলতে পারবেন। বালিকা বিভাগে বয়স বা র‌্যাংকিংয়ের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।

এবার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা পাবেন যাতায়াত ভাতা ও ফেডারেশন নির্ধারিত দৈনিক ভাতা। অংশ নিতে পারবে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেনাবাহিনী, আনসার, পুলিশ, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন সরকারি সার্ভিসেস দল।




অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন মাঠে ইতিহাস গড়তে নামবে বাংলাদেশ

খেলাধুলা ডেস্কঃ ২৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আগামী ২০২৬ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে টাইগাররা। আর এই সিরিজের অন্তত একটি ম্যাচ হতে পারে অজিদের একেবারে নতুন টেস্ট ভেন্যু ম্যাকাইয়ের ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনা’তে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের এই নতুন ভেন্যুটিকে অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট মাঠ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন স্টেডিয়ামটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখিয়েছে।

রাজ্য সরকারের অর্থায়নে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ হাজার আসনের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড, আধুনিক সম্প্রচার এলাকা ও উন্নতমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা।

২০২৬ সালের আগস্টে সিরিজটি হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধান টেস্ট ভেন্যুগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই সারা বছর উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের মাঠগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে সিএ।

ম্যাকাইয়ের পাশাপাশি কেয়ার্নস, ডারউইন ও টাউনসভিলও সম্ভাব্য ভেন্যুর তালিকায় রয়েছে। কেয়ার্নস ও ডারউইনে আগে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ।

ক্রিকেট নর্দার্ন টেরিটরির প্রধান নির্বাহী গ্যাভিন ডোভি জানান, ডারউইন কমপক্ষে একটি ম্যাচ আয়োজন করতে পারবে বলে তারা আশাবাদী।




বছরের শেষ বাজিমাত করতে আসছে ‘অ্যাভাটার ৩’

বিনোদন ডেস্কঃ ১৬ বছর পর ফের দর্শকদের মুগ্ধ করতে চলতি মাসে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘অ্যাভাটার’ সিরিজের তৃতীয় সিনেমা। এবারও সিরিজটিতে থাকছে পরিবেশ ও প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে ভিজ্যুয়ালের চমক। আশা করা হচ্ছে, ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ আয় করা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির মধ্যে একটির সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। এ

জেমস ক্যামেরনের পরিচালিত ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ সিনেমাটি আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পাবে। ২০০৯ সালে সিরিজের প্রথম সিনেমা ‘অ্যাভাটার’ বিশ্বব্যাপী ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে।

২০২২ সালে মুক্তি পায় সিরিজের দ্বিতীয় সিনেমা ‘দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। দ্য হলিউড রিপোর্টার-এর তথ্যমতে, এটি করোনা পরবর্তী সময়েও প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে। চলতি সপ্তাহে নতুন সিনেমার প্রিমিয়ার শো হয়েছে হলিউড ও প্যারিসে।

এবারের সিরিজে দর্শকরা দেখতে পাবেন নায়ক জ্যাক (স্যাম ওয়ার্থিংটন) এখন ‘টোরুক ম্যাকটো’, প্যান্ডোরার কিংবদন্তি যোদ্ধা। তার স্ত্রী নেটিরি (জো সালদানা)। তারা তাদের বড় ছেলে নেটেয়ামের মৃত্যুর শোক সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তারা তাদের তিন সন্তান নিয়ে নতুন করে জীবন গড়ার চেষ্টা করছেন। যাদের মধ্যে রয়েছে কিরি, একজন দত্তক নেওয়া নাভি কিশোরী, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিগার্নি উইভার এবং আরেকজন মানব স্পাইডার (জ্যাক চ্যাম্পিয়ন), যাকে নেটিরি ছাড়া সবাই পরিবারের অংশ হিসেবে গণ্য করে।

ক্যামেরন গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) প্যারিসে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দর্শকরা দেখবেন, সন্তানরা বড় হয়ে নিজেদের পরিচয় খুঁজছে। কারণ তাদের মা পুরোপুরি নাভি প্রজাতির। আর বাবা অন্য গ্রহ থেকে আসা। এই সংকর জীবন তাদের হাসি-আনন্দের সঙ্গে এক ঝাঁক চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসে।

৭১ বছর বয়সী কানাডিয়ান পরিচালক আরও বলেন, আমরা মূলত শরণার্থী বা বাস্তুচ্যুত অভিবাসীদের পারিবারিক অবস্থাকে দেখানোর চেষ্টা করেছি। মানুষ এটি দেখে সহজেই বাস্তবতার সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।

ভ্রমণের পথে নায়করা মুখোমুখি হন মাংকওয়ান বা অ্যাশ পিপল-এর সঙ্গে। এটি একটি নাভি সম্প্রদায়, যার এলাকা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন তারা জীবনধারণের জন্য লুটপাট করে।

মাংকওয়ানদের নেতৃত্ব দেন ভ্যারাং। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিশ্বখ্যাত কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের নাতনি উনা চ্যাপলিন। তিনি নাভির অন্ধকার দিক দেখান, যা আগে শুধুই কল্যাণময় ও প্রকৃতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে চিত্রিত হয়েছিল। এর বিপরীতে মানুষ লুটপাটে আসক্ত এবং প্রকৃতির সম্পদ শোষণ করতে চাইছে।

তিনি নাভি সম্প্রদায়ের অন্ধকার দিক দেখান। আগে তারা শুধুই শান্তিপ্রিয় ও প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করত। এবার তাদের আরও জটিল ও ভিন্ন দিক দেখা যাবে। মানুষের লুটপাটের লোভ আবারও প্রকৃতির সঙ্গে সংঘর্ষের গল্পে নতুন মোড় নিয়ে আসবে।

প্যান্ডোরার বাসিন্দাদের ফের লড়তে হবে ‘স্কাই পিপল’ বা রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মানুষদের বিরুদ্ধে। তারা তুলকুন নামের সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করতে চাইছে। লক্ষ্য তাদের মস্তিষ্ক থেকে ‘অ্যামরিটা’ সংগ্রহ।

তুলকুন হল প্যান্ডোরা গ্রহের বিশাল ও বুদ্ধিমান সামুদ্রিক প্রাণী, যাদের মস্তিষ্ক থেকে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণে মূল্যবান পদার্থ পাওয়া যায়। মূল ‘অ্যাভাটার’ গল্প ১৯৯৫ সালে ক্যামেরন নিজেই লিখেছিলেন। পরিচালকের মতে, সেটিতে পরিবেশ বিষয়ক বার্তা অনেক বেশি স্পষ্ট ছিল।




মঞ্চে ঝড় তুলে আলোচনায় নেহা

বিনোদন ডেস্কঃ সম্প্রতি একটি কনসার্টে মঞ্চ মাতান ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নেহা কক্কর। আর এতে গায়িকার একটি কাণ্ড ঘিরে অন্তর্জালে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ এটিকে ‘সাহসী’ বললেও কেউ আবার ‘সস্তা জনপ্রিয়তা’ পাওয়ার চেষ্টা অ্যাখ্যা দিয়ে সমালোচনায় মেতেছেন।

সেই কনসার্টের ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লেপার্ড-প্রিন্টের একটি আঁটসাঁট পোশাকে মঞ্চে গান গাইছেন নেহা। পরিবেশনার একপর্যায়ে তিনি একটি পানির বোতল তুলে নেন এবং নিজের শরীরের উপরিভাগে ঢেলে দেন।

এই দৃশ্যটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নেহার এই বিশেষ কোরিওগ্রাফি ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ইতোমধ্যে ভিডিওটি ১ কোটির বেশি মানুষ দেখেছেন।

নেহার এমন কাণ্ডে নেটিজেনদের একাংশ গায়িকাকে রীতিমতো ধুয়ে দিচ্ছেন। তাদের মতে, একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে গানের চেয়ে শরীরী প্রদর্শনীতেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একজন লিখেছেন, সুরের রানি থেকে এমন পর্যায়ে নেমে আসা দুঃখজনক। আরেকজনের মন্তব্য, ভাইরাল হওয়ার নেশায় নিজের ব্যক্তিত্ব নষ্ট করছেন নেহা।

তবে নেহার ভক্তরা বরাবরের মতোই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মতে, এটি কেবলই মঞ্চের উন্মাদনা এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশনার অংশ।

এবারই প্রথম নয়, এর আগে মঞ্চে বেলি ড্যান্স করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নেহা। তবে সমালোচনা খুব একটা পাতে নেন না নেহা।