আমাকে একা ফেলে গেলে”—হেমার হৃদয়ভাঙা আক্ষেপ

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র বেঁচে থাকলে আজ ৮ ডিসেম্বর পা দিতেন ৯০ বছরে। কিন্তু দিনটি উৎসবের নয়—শোকের। প্রায় দুই সপ্তাহ হলো বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ভক্তদের, পরিবারকে ও ভালোবাসার মানুষদের ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। স্বামীর প্রয়াণের ঠিক পরেই জন্মদিন—এই শূন্যতা আরও গভীরভাবে অনুভব করছেন অভিনেত্রী হেমা মালিনী।

দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য নারীর স্বপ্নপুরুষ ছিলেন ধর্মেন্দ্র। সেই মানুষটিই জীবনের এক পর্যায়ে প্রেমে পড়েছিলেন ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনীর। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরকে তালাক না দিয়ে, ধর্ম পরিবর্তন করেই হেমাকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সম্পর্ক সবসময় ছিল ভালোবাসা, টানাপোড়েন ও জটিল আবেগের এক সূক্ষ্ম মিশ্রণ।

স্বামীর প্রয়াণ এবং প্রথম জন্মদিন দুইয়ে মিলে আজ স্বভাবতই মন খারাপ হেমা মালিনীর। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে এক আবেগঘন পোস্ট লেখেন। হেমা লেখেন, ‘তুমি নেই তাও সপ্তাহখানেক হলো। আমাকে একা ছেড়ে চলে গেলে। নিজের ভাঙা হৃদয়ের টুকরোগুলো জোড়ার চেষ্টা করছি।’

তার কথায়, ‘আমি জানি তোমার আত্মা সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে। তুমি আমাকে সুন্দর দুই সন্তান দিয়েছ। তেমনই সুন্দর সময় কাটিয়েছি আমরা। তোমার দেওয়া সুখ-স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই কাটিয়ে দেব বাকি জীবন। শুভ জন্মদিন আমার ভালবাসা।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম সংসারের দুই তারকা-পুত্র সানি দেওল ও ববি দেওলও পোস্ট দিয়েছে। বিশেষ করে সানি দেওল বাবাকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। অন্যদিকে, দুই কন্যা ঈশা দেওল এবং অহনা দেওলও তাদের পিতাকে প্রতিটা দিন মিস করার কথা জানিয়েছেন।




শুধু লালগালিচায় হাঁটা নয়, জেদ্দায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন আনা-ঐশ্বরিয়ারা

বিনোদন ডেস্কঃ নায়িকারা শুধু লালগালিচায় হাঁটবেন, অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়াবেন—এমনটাই ছিল প্রচলিত ধারণা। কিন্তু এবার এটির ব্যতিক্রম দেখা গেছে সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পঞ্চম আসরে। যেখানে অভিনেত্রীরা শুধু অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়ানোয় নয়, বরং রীতিমতো নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে তাদের।

ফেস্টিভ্যালের তৃতীয় দিনের শুরুতে দর্শকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মঞ্চে আসেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। মাতৃত্ব ও ক্যারিয়ার সামলানোর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বিশ্বসুন্দরী খেতাব নিয়ে তার ভাবনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন তিনি। ঐশ্বরিয়ার মতে, নিরাপত্তাহীনতা কখনো তার চালিকাশক্তি ছিল না, বরং সততা ও দৃঢ়তাই তাকে পথ দেখিয়েছে।

অন্যদিকে হলিউড অভিনেত্রী আনা দে আরমাস ছিলেন পুরোপুরি বাস্তববাদী। হাভানা থেকে মাদ্রিদ হয়ে হলিউডে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার যাত্রা, ভাষার বাধা, কঠিন সময় নিয়ে কথা বলেন তিনি। চরিত্রের প্রস্তুতি, পর্যবেক্ষণ ও পরিশ্রম নিয়ে তার শিল্পভিত্তিক আলোচনা শিক্ষার্থী ও তরুণ নির্মাতাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী কুইন লতিফা উৎসবে যোগ করেন প্রতিনিধিত্ব ও শিল্পে নারী নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি কথা বলেন সহযোগিতা এবং শিল্পে নারীর কণ্ঠ শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তার বক্তব্যে উঠে আসে একজন নারীর সাফল্য মানে অন্য নারীর জন্য নতুন দরজা খুলে দেওয়া।

প্রসঙ্গত, গত ৪ ডিসেম্বর জেদ্দায় বসেছে রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পঞ্চম আসর। চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের আয়োজনে ‘সিনেমার প্রতি ভালোবাসা’ স্লোগানে প্রদর্শিত হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১১১ সিনেমা।




আগামী নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনের মানুষের সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ

মোঃ শফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন  কায়কোবাদ ১৯৭০ সালে ২৯ শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামের পুরাতন স্টেশন এলাকায় এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আব্দুল কুদ্দুস কুড়িগ্রাম জজকোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী ছিলেন।
মাতা সাবিনা খাতুন কুড়িগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন।
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদে অন্তর্ভুক্ত হন। অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে সুদক্ষ নেতৃত্বে জনপ্রিয়তা অর্জন করে ১৯৯২ সালে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদল কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক মনোনীত হন। ২০০৩ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাউন্সিলের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত দুই দফায় কাউন্সিলের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির ১ নং যুগ্ন সম্পাদক নির্বাচিত হন।
কুড়িগ্রাম জেলায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় থেকে জেলা উপজেলা পর্যায়ে অনেক খ্যাতিমান ও স্বনামধন্য সিনিয়র লিডার পার্সন আছেন। সেই সকল ব্যক্তিত্বের হৃদয়ে  সোহেল হোসানাইন কায়কোবাদ জায়গা করে নিয়েছেন।
তিনি বহুগুণে গুণান্বিত এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মূল দলের আশীর্বাদ পুষ্ট, যুবদলের অহংকার ছাত্রদলের অলংকার। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে মানবিকতা,সততা, স্বচ্ছতা দক্ষতা প্রতিটি মুহূর্তে প্রতীয়মান। যার ফলশ্রুতিতে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কুড়িগ্রাম ২ আসনের  যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, বিগত ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি দলীয়  মনোনয়ন লাভ করেছিলেন। তৎকালীন বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক শরিক দল  যুক্তফ্রন্টকে এই আসনটি ছেড়ে দিতে হয়।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বিভিন্ন ভাবে অসংখ্য মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। এতো কিছুর পরেও তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেতনা ও আদর্শ থেকে একচুলও বিচলিত হননি। তিনি নিজেকে সবসময় শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক ও কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে নিজেকে বিলিয়ে দিতে সদা প্রস্তুত ছিলেন।
বিএনপির রাজনীতিতে জেলা উপজেলা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এখন একটাই নাম সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। আসছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২  আসনে
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিন উপজেলায় তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জনমত জরীপে দেখা গেছে কুড়িগ্রাম সদর,রাজারহাট, ফুলবাড়ী উপজেলায় সাধারণ মানুষ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ এর মতো পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।
নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দলমত নির্বিশেষে কুড়িগ্রাম-২ আসনের (সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী)  উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ আগামী ত্রোয়োদশ নির্বাচনে সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ কে এমপি হিসেবে দেখতে চান। তিনি নির্বাচিত হলে অতীতের সকল  রেকর্ড ভেঙ্গে কুড়িগ্রাম-২ আসনের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অর্থ সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে তিনি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।



লালমনিরহাটে দ্বিতীয় দফায় হরিজনদের মানববন্ধন, নিয়োগ বাতিলের দাবিতে উত্তাল রাজপথ

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটে ডিসি অফিসের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলায় বসবাসরত হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের ২টি সুইপার কলোনির প্রায় ২ শতাধিক মানুষ হরিজন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মিছিল নিয়ে প্রথমে মিশন মোড়ে মানববন্ধন, পরে ডিসি অফিসে সমবেত হয়। পরে সেখানে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ ও হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন’ জেলা শাখার ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন তারা।

এর আগে গতকাল একই দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন তারা। বক্তারা বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সংস্থাপন শাখায় ৭টি পদের অনুকুলে ৩৯ জনকে নিয়োগের জন্য গত ১৩ এপ্রিল ২০২৫ ইং  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত শুক্রবার ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

যার মৌখিক পরীক্ষা রবিবার (৭ ডিসেম্বর) রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিজ্ঞাপ্তিতে ৬ জন পরিচ্ছন্নকর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়। কোন স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ড থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

তারা অভিযোগ করে বলেন, লালমনিরহাট ডিসি অফিসে ওই ৩৯ জন স্টাফ নিয়োগে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এ এচই এম রকিব হায়দার তাদের সঙ্গে বৈষম্য করেছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্নপত্র কঠিন করে কৌশলে তাদের বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তারা বলেন, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এ এইচ এম রকিব হায়দার যোগসাজশে ওই দিন রাত ৩ টায় লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছেন।

এ ফলাফলে প্রকৃত চাকরিপ্রার্থীদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা আহবানের দাবি জানান।




হত্যা বন্ধে আমার কাছে কোনো রকম ম্যাজিক নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, হত্যা বন্ধে আমার কাছে কোনো ম্যাজিক বা সুইচ অন-অফের মতো কিছু নেই। এ রকম কিছু থাকলে সব বন্ধ করে দিতাম। 

সোমবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।

রংপুরে নিজ বাসায় মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক জানতে চান, নির্বাচনের আগে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে তিনি কীভাবে দেখেন। উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন বলে নয়, নির্বাচনের আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এগুলো সব বন্ধ হয়ে যাবে তা-ও আমি বলতে পারি না। যদি আমার কাছে কোনো ম্যাজিক থাকত বা সুইচ লাইট অন–অফের মতো কিছু থাকত, আমি বন্ধ করে দিতাম। যে লাইট অফ এখন আর কোনো কিলিং হবে না। আমার কাছে এ রকম কোনো ম্যাজিক নেই।’

উপদেষ্টা বলেন, রংপুরে যে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের এক সন্তান পুলিশে আরেকজন র‍্যাবে কর্মরত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। যদি কোথাও বিদ্যুৎ না থাকে, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে বলেন তিনি।

নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি ভালো। সব বাহিনী প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের প্রশিক্ষণের মান দেখতে যাব। জানুয়ারির মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অবাধ উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য যত ধরনের প্রস্তুতি দরকার তাই নিচ্ছি।’

নির্বাচন নিয়ে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা দূর করতে পারছি না শুধু আপনাদের (গণমাধ্যম) জন্য। আপনারা খালি বলবেন যে এই নির্বাচন হবে। আপনারা প্রচার করে থাকবেন’। উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য বডি ক্যামেরা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে বডি ক্যামেরা থাকবে।’




নতুন বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, এবার লাখো কণ্ঠে কোরআন পাঠের ঘোষণা হুমায়ুনের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে নতুন বাবরি মসজিদের কাজ শুরু হওয়ার পর এবার লাখো কণ্ঠে কোরআন পাঠের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন ভরতপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, মুসলিমদের অধিক সংখ্যায় বিধানসভায় জয়ী করতে তিনি কোরআন পাঠের আয়োজন করবেন। মুর্শিদাবাদের কোনো স্থানে প্যান্ডেল তৈরি করে লাখো মুসলিমকে নিয়ে কোরআন পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মাংস ও ভাতের ভোজের আয়োজন করা হবে। তিনি জানিয়েছেন, কোরআন পাঠের পর নতুন বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হবে।

এর আগে, গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ২ নম্বর ব্লকের ছেতিয়ানি এলাকায় নতুন বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, এই কাজের মাধ্যমে তিনি কোনো অসাংবিধানিক কার্যকলাপ করেননি এবং হাইকোর্টও এ বিষয়ে কোনো অসাংবিধানিকতার অভিযোগ স্বীকার করেনি।

তৃণমূল কংগ্রেসের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হুমায়ুন কবিরকে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া বিধায়ক বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ করেছেন, কিন্তু এর বিরুদ্ধে ভারতের মুসলিম সমাজ কোনো প্রতিবাদ করেনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাবরি মসজিদ আবারও তৈরি হবে এবং কোনো শক্তি এটিকে আটকে রাখতে পারবে না।

উল্লেখ্য, কোরআন পাঠের ঘোষণা হুমায়ুন কবিরের পক্ষ থেকে নতুন বাবরি মসজিদ নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উদ্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের মুসলিম সমাজের ভোটরদের প্রতি প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। একই সময়ে কলকাতার ব্রিগেড পারেড গ্রাউন্ডে সনাতন সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে ‘পঞ্চ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ’ অনুষ্ঠিত হয়, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে আয়োজন করা হয়। এই দুই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম ও রাজনীতির সংযোগের প্রভাব নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা পেয়েছে।




অভিযোগের পাহাড়: ঘুষ–দুর্নীতির নেপথ্যে জনস্বাস্থ্যের ক্যাশিয়ার আমিনুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জামালপুরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত ক্যাশিয়ার আমিনুল ইসলামকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অভিযোগ ঘুরছে। অফিসের অনেকেই দাবি করেন, তিনি নাকি ঘুষ, চাঁদাবাজি আর ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিয়ে নিজের জন্য এক ধরনের “অদৃশ্য ক্ষমতা” গড়ে তুলেছিলেন। এসব অভিযোগ সত্য কিনা তা এখনো তদন্তসাপেক্ষ, তবে অভিযোগকারীরা বলছেন—গত ১২ বছরে নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে আমিনুল নাকি শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার মতো বিপুল সম্পদ জমিয়েছেন।

২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি জামালপুর অফিসে যোগ দেন।এরপর থেকেই বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করে যে কোনো প্রকল্পে ফান্ড এলে তাদের নামে চেক ইস্যু করা হলেও আমিনুলের নির্ধারিত ‘কমিশন’ না দিলে চেক নাকি ক্যাশ হতো না। কেউ কেউ বলছেন—কাজ পেতে আগাম টাকা, কাজ চলাকালে মাসিক টাকা, আর বিল তুলতে গেলেও নাকি আবার নতুন করে ঘুষ দিতে হতো। অভিযোগকারীদের দাবি—এসব হিসাব রাখার জন্য তার নাকি আলাদা গোপন ডায়েরিও ছিল।

শুধু ঘুষ নেওয়ার অভিযোগই নয়, অভিযোগ আছে—আমিনুল নিজেই বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদার হয়ে প্রকল্পের কাজ ভাগ করে নিতেন। জামালপুরে রূপসা এন্টারপ্রাইজ, রিপন এন্টারপ্রাইজ, আর শেরপুরে লুৎফর ও আকরাম হোসেন এন্টারপ্রাইজ—এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার নাকি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশীদারিত্ব ছিল। তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার শেরপুর অফিসে চাকরি করায়, সেখানেও তিনি প্রভাব খাটাতে পারতেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগ আরও আছে—দুর্নীতির মাধ্যমে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নানা জায়গায় জমি, বাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স আর স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করেছেন। কিছু সম্পদ তার নিজের নামে, আর কিছু নাকি স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি দেড় কোটি টাকায় জামালপুর শহরের মুকন্দবাড়ীতে জমি ও আধাপাকা বাড়ি কিনেছেন—এ তথ্যও অভিযোগকারীরা তুলে ধরেছেন।

অফিসের ভেতরে তার পরিচিতি হয়েছে “সুলতানের মাইম্যান”—মানে এমন একজন ব্যক্তি, যার পেছনে নাকি শক্তিশালী মহলের সাপোর্ট আছে। জনস্বাস্থ্য বিভাগের ভেতরের কিছু সূত্র বলছে, এসব অভিযোগ সত্য কি না সেটা যাচাই করতে যদি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে, তবে আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।




যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঘিরে তোলপাড়: পরিচালক এম এ আখের ও সহযোগী মাসুদ আলমকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির ঝড়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসন পরিচালক এম এ আখের এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাসুদ আলমকে নিয়ে নানা ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে আছে দুর্নীতি, অর্থ লেনদেনে অনিয়ম, নিয়োগে পক্ষপাত, এমনকি বিদেশে অর্থ পাচারের মতো বিষয়ও। অভিযোগগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত না হলেও অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে স্পষ্ট অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি—এম এ আখের দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজের হাতে আটকে রেখেছেন। শুধু প্রশাসন পরিচালক হিসেবেই থেমে থাকেননি, একই সময়ে দুইটি ভিন্ন প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টরের দায়িত্বও ধরে রেখেছিলেন, যা অনেকের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কীভাবে একজন ব্যক্তি এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদে একসঙ্গে থাকতে পারেন?

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি হচ্ছে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন। ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ প্রকল্পে দুই দফায় মোট ৪৮ কোটি টাকা মাসুদ আলমের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তোলা হয়েছে—এমন দাবি করছে অভ্যন্তরীণ সূত্র। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুর্নীতির সন্দেহে মাসুদ আলম, তার স্ত্রী ও পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই দুদক ও বিএফআইইউ দ্বারা ফ্রিজ করা ছিল। তবুও সেই হিসাব থেকে কোটি টাকা কীভাবে তোলা হলো—এই প্রশ্নে অনেকেই বিস্মিত।

প্রকল্পের কর্মীরা জানিয়েছেন, ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের সহযোগিতা ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয়। তাদের ভাষায়, “হিসাব ফ্রিজ থাকা অবস্থায় টাকা তোলার ঘটনা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।”

এছাড়া তোলা টাকা কার কাছে গেছে—এই নিয়ে আরও বড় ধরনের অভিযোগ ঘোরাফেরা করছে। কিছু সূত্র বলছে, এই অর্থের একটি অংশ নাকি পলাতক সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং কারাগারে থাকা সাবেক সচিব মেজবাহ উদ্দিনের কাছে পৌঁছেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগ এখনো কোনো তদন্তে সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি।

ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও অভিযোগ আছে। এম এ আখের কখনো সরকারের এক নেতার নাম, কখনো আবার বিএনপি মহাসচিবের নাম ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন—এমন কথাও বহু কর্মকর্তা বলেছেন। এতে অধিদপ্তরের ভেতরে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।

নিয়োগ, বদলি, চুক্তিভিত্তিক চাকরি—এসব ক্ষেত্রেও নাকি অনিয়ম চলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ আর টাকার লেনদেনই সবকিছু নির্ধারণ করে। অধিদপ্তর নাকি তরুণদের উন্নয়নের জায়গা না হয়ে কয়েকজনের জন্য ‘টাকা আয় করার ক্ষেত্র’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবশেষে বলা হয়, এই বিষয়ে এম এ আখের বা মাসুদ আলমের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজি করলে চাকরি থাকবে না: উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজিতে কৃষি কর্মকর্তাদের যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। 

তিনি বলেন, যারা কারসাজি করবেন তাদের চাকরি থাকবে না। আমার আমলে যত শাস্তি হয়েছে, এর আগে কখনও এতটা হয়নি। কৃষি কর্মকর্তাদের যদি কোনও যোগসাজশ থাকে, তাহলে তারা ধরা খাবেন।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গতকাল হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এ কারসাজি যারা করছেন, সেই চক্রটিকে খুঁজে বের করতে হবে। অনেকেই পেঁয়াজ আমদানি করতে পাগল হয়ে গেছেন। কিন্তু আমাদের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ প্রায় ওঠানো হয়ে গেছে। মুড়িঘাটা পেঁয়াজও উঠানো শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে পেঁয়াজের কোনও সংকটও নেই। বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ আছে। কিন্তু দাম বেড়ে গেছে। ভোক্তাদের কষ্ট পেতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতেই আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর কারসাজিতে কৃষি কর্মকর্তাদের যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসপিদের মতো কৃষি কর্মকর্তাদেরও লটারিতে বদলী করা হবে বলে জানান তিনি।

আলুচাষিরা খুবই ভোগান্তি পেয়েছে জানিয়ে তাদের ভর্তুকি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আলু রপ্তানি হয়। কিন্তু আলুর মান ভালো না। কাজেই যে আলুতে চিপস হয়, সেটা আমাদের এখানে কম উৎপাদন হয়। কাজেই এখন গবেষণা করে আলুর জাত উন্নত করতে হবে। যাতে এটা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে হবে।




মোবাইল ব্যবসায়ীদের আন্দোলন: বিটিআরসি ঘেরাও, অবরুদ্ধ চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তারা

ডেস্ক নিউজঃ ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সংস্কারসহ কয়েকটি দাবিতে কঠোর কর্মসূচিতে নেমেছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’-র ব্যানারে শত শত ব্যবসায়ী আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। 

অবস্থান কর্মসূচির কারণে সড়কের এক পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি ঘেরাও করে চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আগারগাঁও মোড় থেকে বিটিআরসি ভবন পর্যন্ত অন্তত চারটি স্থানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ জানান মোবাইল ব্যবসায়ীরা।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)-এর সেক্রেটারি আবু সায়ীদ পিয়াস বলেন, আমরা বহুবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু একবারও আমাদের ডাকা হয়নি। আলোচনার সুযোগ পেলে সমাধান সম্ভব ছিল। এখন পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। সারা দেশের খুচরা ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখেছেন।

ব্যবসায়ীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে— এনইআইআর সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল এবং মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা। তাদের অভিযোগ, এনইআইআর পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে লাখো খুচরা ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন নিয়মে একটি বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে এবং অতিরিক্ত করের চাপ গ্রাহকের ওপর পড়বে, ফলে মোবাইল ফোনের দামও বেড়ে যাবে।

এমবিসিবির যমুনা ফিউচার পার্ক শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, এনইআইআর পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়িত হলে লক্ষাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। নতুন এই ব্যবস্থায় বিশেষ একটি গোষ্ঠী লাভবান হবে, আর বাড়তি কর ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল ফোনের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের (শেরে-বাংলা নগর জোন) সহকারী কমিশনার (এসি) জাকির হোসেন বলেন, বিটিআরসি ভবনের সামনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা ডাইভারশন দিয়ে অন্য রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। আগারগাঁও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এটি বন্ধ থাকায় অন্য রাস্তায় ব্যাপক চাপ পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর সকাল ১০টায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোকান বন্ধ রেখে রাজধানীর কারওয়ান বাজার-পান্থপথ এলাকায় জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেছিলেন বিভিন্ন শপিং মলের মোবাইল ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।

উল্লেখ্য, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধ করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীন আমদানি করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। এর ঠিক আগেই বড় ধরনের আন্দোলনে নামলেন ব্যবসায়ীরা।