নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে জানালেন সিইসি

ডেস্ক নিউজঃ আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কমিশনারগণ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নির্বাচন আয়োজনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সিইসি নাসির উদ্দিন জানান, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রস্তুতি সঠিক ও সুন্দরভাবে এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

প্রস্তুতিকালে ইসিকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা। নির্বাচনের প্রস্তুতিকালে সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নাগরিকরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন, যা দেশে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করেছে।

এ সময় নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার। জাতির জন্য প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে আপনারা (ইসি) চালকের আসনে আছেন। আমাদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতিকে আমরা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার প্রত‍্যয়ে এগিয়ে চলছি।




খাদ্যদূষণ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগ, মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, খাদ্যদূষণ মোকাবিলায় আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। 

রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘খাদ্যে বিভিন্ন দূষণের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা জানি; এটাকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সেই ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। আমাদের সন্তান, বাবা-মা, আপনজন সবাই এর ভুক্তভোগী। নিজেদের স্বার্থেই আমাদের সকলকে একসঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। বাস্তবায়নের দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোনটি এখনই শুরু করা জরুরি। এ বিষয়ে জরুরি উদ্যোগগুলো আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নেব।’

এসময় সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খাদ্যে দূষণ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা লিখিত আকারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু তথ্য, উপাত্ত তুলে ধরা হয়। তারা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী বছরে খাদ্যবাহিত রোগে প্রতি বছর ১০ জনের মধ্যে এক জন শিশু বছরে অন্তত একবার অসুস্থ হয়। খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত ৩ ভাগের ১ ভাগ শিশু মৃত্যুবরণ করে। খাদ্যবাহিত রোগে প্রতিবছর বিশ্বে ৬০ কোটি এবং বাংলাদেশে ৩ কোটি শিশু আক্রান্ত হয়।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, খাবারে চার ধরনের দূষক থাকতে পারে। ভারী ধাতু, কীটনাশক-জীবনাশক এর অবশিষ্টাংশ, তেজস্ক্রিয়তা ও জৈবদূষক। গত অর্থবছর ১৭১৩টি এবং এ বছর এ পর্যন্ত ৮১৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গেছে সীসা/সীসা ক্রোমেট। মোট ১৮০ নমুনার মধ্যে ২২টিতে সীসা শনাক্ত হয়েছে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএমইএ সুইডেন এর যৌথ গবেষণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৮৭টি পানি ও ২৩ মাছ এর নমুনা সংগ্রহ করে ৩০০ ধরনের ঔষধ, ২০০ ধরনের কীটনাশক, ১৬ ধরনের পিএফএএস শনাক্ত করা হয়।

ইউনিসেফের এক জরিপে জানা গেছে, বাংলাদেশে সাড়ে তিন কোটি শিশু সীসার সংক্রমণে আক্রান্ত। এ তথ্য তুলে ধরে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, ‘সীসা মানবদেহে প্রবেশ করে মস্তিষ্ক, যকৃৎ, কিডনি, হাড় এবং দাঁতে জমা হয়। শিশুদের হাড় নরম হওয়ায় সীসা সরাসরি মস্তিস্কে চলে যায়। ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।’

এছাড়া, গবেষণায় ৫ শতাংশ গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও সীসার সংক্রমণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। সীসার সংক্রমণ কমিয়ে আনতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান জানান, বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব আছে। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের পরীক্ষা করার ক্যাপাসিটিও রয়েছে। খাদ্যে সীসার পরিমাণ নিয়ে একটি সমন্বিত গবেষণা করে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

বৈঠকে খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা হাঁস-মুরগি, দুগ্ধজাত খাদ্য ও মাছের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশকারী ক্ষতিকারক পদার্থ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তারা জানান, হাঁস-মুরগির খামারগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ প্রয়োগ হয়। মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে তা ৭ থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত থেকে যায়। ২৮ দিন পার হওয়ার আগেই মুরগিকে বাজারজাত করা হলে সেই মুরগির মাংসের মাধ্যমে মানবদেহে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ঢুকতে পারে।

তারা জানান, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন হলেও কিছু চোরাগোপ্তা কোম্পানি কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে গোপনে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনা করছে।

পোল্ট্রি ফার্মগুলোকে নজরদারিতে আনা এবং কৃষিতে অবৈধ কীটনাশকের ব্যবহার রোধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আরও কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য নিশ্চিত করতে গিয়ে কখনো কখনো যা খাচ্ছি তা নিরাপদ কি না সে দিকটি উপেক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমগুলো ভূমিকা রাখতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা একটি জরুরি বিষয়। পাঠ্যপুস্তকে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ছিলেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম প্রমুখ।




কুমিল্লায় বৃদ্ধা ধর্ষণ মামলায় এক যুবক আটক

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে ফয়সাল (২০) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়নপুর (ছয়গুরা) গ্রামে ভিক্টিমের বাড়িতে।

ফয়সাল উপজেলার দক্ষিণ নারায়ণপুর গ্রামের মো. জিয়ার ছেলে। সে পেশায় একজন ট্রাক হেলপার। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ডিসেম্বর রাতে ভিক্টিমের ঘরে একা থাকার সুযোগে ফয়সাল সেখানে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তের পরিবার নানা প্রলোভন দেখায় ও চাপ সৃষ্টি করে। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এ নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত ফয়সালকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। রাত ৯টায় দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই অভিযুক্ত যুবককে থানায় নিয়ে আসে। ভিক্টিমের ছেলে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

দেবিদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মঈনুদ্দীন বলেন, “সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।




শাকসু নির্বাচনে রেকর্ড অংশগ্রহণ: মনোনয়ন জমা ১৯১ জনের

শিক্ষা ডেস্কঃ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনে প্রার্থী হতে ১৯১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ১০৬টি এবং ছয়টি আবাসিক হল সংসদে ৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম বলেন, শাকসু ও হল সংসদে প্রার্থী হতে মোট ২৫১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে জমা পড়েছে ১৯১টি। কেন্দ্রীয় সংসদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ১৪৫ জন, জমা দিয়েছেন ১০৬ জন। অপর দিকে হল সংসদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ১০৬ জন, জমা দিয়েছেন ৮৫ জন।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হয়। এ সময় সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।




বিএড শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে সিলেবাস পুনর্গঠনের তাগিদ

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ছাত্র-ছাত্রীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ শিক্ষাকে কর্মমুখী করতে বিদ্যমান সিলেবাস সংস্কারের পাশাপাশি স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে আইসিটি ও ইংরেজি কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসাথে দেশ বিদেশের খ্যাতনামা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করা হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও উন্নত উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন উচ্চ শিক্ষায় যে গুণগত মান পরিবর্তনের চেষ্টা করছে তার সফলতা নির্ভর করছে সংস্কার করা সিলেবাস ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সহজভাবে তুলে ধরার উপর। এজন্য ব্যাচেলর অব এডুকেশন-বিএড এর সিলেবাস সংস্কার করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। একারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন এন্ড রিসার্চ-আইইআর এর সহায়তা চেয়েছেনে তিনি।

রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর এর শহীদ শাদাত আলী কনফারেন্স রুমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক বছর মেয়াদী বিএড শিক্ষাক্রম সংশোধন ও পরিমার্জন বিষয়ক কর্মশালা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রফেসর আমানুল্লাহ বলেন, সারাদেশের প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে যে আধুনিক গুণগতমান সম্পন্ন কর্মমুখী উচ্চশিক্ষা প্রদানের স্বপ্ন দেখছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তা বাস্তবায়নের মূল কারিগর বিএড ও এমএড ডিগ্রিধারীরা। তারা নতুন সিলেবাস সহজভাবে শেখানোর কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি বলেন, আইইআর থেকে বিএড এর সিলেবাস সংশোধন ও পরিমার্জন করে দিলেই তা কার্যকর করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন এন্ড রিসার্চ-আইইআর এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী কর্মশালায় ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন এন্ড রিসার্চ-আইইআর এর শিক্ষক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি, বিভিন্ন টিচার্স ট্রেইনিং কলেজের শিক্ষক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অংশগ্রহণ করেন।




অসুস্থ সাদ (রা.)-এর খোঁজখবর নিতে গিয়ে মহানবী (সা.)-এর নসিহত

ইসলামিক ডেস্কঃ ইসলামের ইতিহাসে কাফিরদের দিকে সর্বপ্রথম তীর নিক্ষেপকারী, আশারায়ে মুবাশ্শারার মধ্যে সর্বশেষ ইন্তেকালকারী সাহাবি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)। তাঁর উপনাম আবু ইসহাক। পিতার মূল নাম মালিক ইবনে উহাইব; তবে প্রসিদ্ধ আবু ওয়াক্কাস। মা হামনাহ বিনতে সুফয়ান ইবনে উমাইয়া ইবনে আবদে শামস।

মক্কার বিখ্যাত ‘কুরাইশ’ গোত্রের ‘বনু জুহরা’ শাখার সন্তান। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৩/১০১)

তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবির একজন এবং তৃতীয় খলিফা নির্বাচনের জন্য ওমর (রা.) কর্তৃক গঠিত ৬ সদস্যবিশিষ্ট শূরা-কমিটির অন্যতম সদস্য। তিনি একজন বীর যোদ্ধা, অশ্বচালক। শীর্ষস্থানীয় অনুসৃত ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

মুসতাজাবুদ দাওয়াত (যার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়)। মাদাইন-বিজেতা। কূফা নগরীর রূপকার এবং সে-নগরীর পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় খলীফার নিযুক্ত গভর্নর। অবশ্য, উভয় খলীফা তাঁকে (তাঁর দোষে নয়, ভিন্ন কারণে) বরখাস্ত করেন। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/৭২)

মহানবী (সা.)-এর প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও ভালোবাসা ছিল অত্যন্ত গভীর। একদা রাতের বেলা রাসুল (সা.) কোনো এক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনকালে এমন এক জায়গায় অবস্থান করলেন, যেখানে শত্রুপক্ষের আক্রমণের আশঙ্কা ছিল প্রবল। তাই প্রিয় নবী (সা.) দীর্ঘ সময় নিদ্রাহীন জেগে থাকলেন। অবশেষে ইরশাদ করলেন, যদি আমার সঙ্গীদের মধ্যে কোনো সৌভাগ্যবান এই রজনীতে পাহারাদারির জন্য প্রস্তুত থাকত (তবে খুব ভালো হত)! আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এ কথা শেষ করতে না করতেই অস্ত্রের ঝনঝনানি কানে ভেসে এল। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, কে? সাদ (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আজ রাত আমি আপনার পাহাদারির জন্য প্রস্তুত।

অতপর রাসুল (সা.) ঘুমিয়ে পড়লেন। সাদ (রা.) প্রিয় নবীকে পাহারা দিলেন। রাসুল (সা.) তাঁর জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করলেন। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৮/৭৩)

মহানবী (সা.)-ও তাঁকে ভালোবাসতেন। একবার সাদ (রা.) হুনাইন যুদ্ধের সময় মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাসুল (সা.) জিইররানা থেকে ওমরাহর ইহরাম করার পর তাঁকে দেখতে যান। তখন তিনি রাসুল (সা.)-কে বললেন, হে আল্লাহর! যে-দেশ থেকে আমি হিজরত করেছি, তাতে আমি মৃত্যুর আশঙ্কা করছি। আপনি আমার জন্য দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন। রাসুল (সা.) তাঁর সুস্থতার জন্য তিন বার দোয়া করলেন। অতপর তিনি রাসুল (সা.)-কে ওসিয়ত করে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার অনেক সম্পদ আছে। ওয়ারিস বলতে আমার কেউ নেই একটি মাত্র মেয়ে ছাড়া। আমি কি তার দুই তৃতীয়াংশ সদকার অসিয়ত করতে পারি? ইরশাদ করলেন, না। বলেন, তাহলে অর্ধেকের? ইরশাদ করলেন, না। বলেন, তাহলে এক তৃতীয়াংশের? ইরশাদ করলেন, তৃতীয়াংশ! তাও তো অনেক। তবে মনে রেখো! তুমি তোমার সন্তানকে মানুষের কাছে হাত পাতার মতো হতদরিদ্র অবস্থায় রেখে যাওয়া অপেক্ষা তাদের স্বনির্ভর রেখে যাওয়াই উত্তম। এরপর রাসুল (সা.) এর দোয়ায় তিনি সুস্থ হন এবং আরও ৪৭ বছর হায়াত লাভ করেন। (আত-ত্বাবাকাতুল কুবরা : ৩/১০৭—১০৮; সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/৮২)




জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে মুসলমানদের অগ্রগণ্য ভূমিকা

ইসলামিক ডেস্কঃ ইসলামের প্রথম বাণী ‘ইকরা’ বা পড়ো। ৬১০ খ্রিস্টাব্দে মক্কার হেরা গুহায় জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে অনুরণিত হয়েছিল এ বাণী। সে ঐশী ধ্বনিই মুসলিমদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রথম অনুপ্রেরণা। কাল-কালান্তরে এই একটিমাত্র শব্দতরঙ্গ জ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞান গবেষণায় মুসলিমদের উতলা করে তুলেছে।

ইসলাম জ্ঞানচর্চায় যেটুকু গুরুত্বারোপ করেছে পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্ম ও মতবাদ এতটা গুরুত্বারোপ করেনি। ইলম বা জ্ঞানের গুরুত্বে ও মাহাত্ম্যে কোরআন ও হাদিসে প্রচুর উদ্ধৃতি রয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয়তম রাসুল (সা.)-কে শিখিয়েছেন জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আপনি বলুন—হে আমার প্রভু, আপনি আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।’(সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১১৪)

প্রতিটি মুসলিম নর-নারীকে জ্ঞানার্জনে উদ্বেলিত করতে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইলম তথা জ্ঞানার্জন প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৪)

রাসুল (সা.) জ্ঞানার্জনের চেতনা মুসলিমদের মধ্যে এমনভাবে জাগিয়ে তুলেছিলেন যে তরুণ, বৃদ্ধ ও নর-নারী সবাইকে জ্ঞানচর্চার চেতনায় উজ্জীবিত করে দিয়েছিল। ফলে তাঁরা শুধু একটি হাদিসের জন্য এক মাসের পথ পাড়ি দিয়ে মদিনা থেকে সুদূর সিরিয়ায় গমন করতেও পিছপা হতেন না। জ্ঞানের জন্য তাঁরা আন্দালুস বা স্পেন থেকে খোরাসান পর্যন্ত চষে বেড়াতেন।

রাসুল (সা.) থেকে জ্ঞানাহরণের জন্য পালাক্রমে একজন সাহাবি সাংসারিক কাজকর্ম করতেন, আরেকজন রাসুল (সা.) থেকে জ্ঞান আহরণ করে অপরজনকে জানাতেন। আবু হুরায়রা (রা.) খেয়ে না খেয়ে রাসুল (সা.) থেকে জ্ঞানাহরণের জন্য মসজিদে নববীর একপাশে দিনাতিপাত করতেন। এভাবে ইলমচর্চার ফলে জাহিলিয়াতের নিকষ অন্ধকারে নিমজ্জিত একটি জাতিকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমগ্র বিশ্বের অনুকরণীয় এক বিস্ময় জাতিতে পরিণত করেছিল।

মুসলিমরা কোরআনের তাফসির, হাদিস ও তার ব্যাখ্যা, সাহিত্য ও অলংকারশাস্ত্র, ভাষাবিজ্ঞান, ফিক্বাহ শাস্ত্রসহ অন্যান্য ধর্মদর্শনে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি জাগতিক সব বিদ্যায় বিস্ময়কর অবদান রেখেছেন ও রাখছেন। আবহাওয়াবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আইনবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ববিজ্ঞান, রসায়নবিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, দর্শনশাস্ত্র, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিল্প ও সাহিত্য সব ক্ষেত্রে মুসলিমদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় তাদের পদচারণ ছিলো সরব ও সফল।

অস্ত্রোপচার বিদ্যায় আবুল কাসেম জাহরাভির ‘আত-তাসরিফ’, চোখের ব্যাধি ও তার উপশমে আবুল কাসেম মাওসিলির ‘আল মুন্তাখাব ফি ইলাজিল উয়ুন’, রসায়নে জাবের বিন হায়্যানের ‘কিতাবুর রহমাত’, ‘কিতাবুত-তাজমি’, ‘সুন্দুকুল হিকমা’ ও ‘রিসালাহ ফিল কিমিয়া’, বিজ্ঞানী রাজীর ‘কিতাবুল হাজার’, ‘কিতাবুল আকসীর’, ‘কিতাবুদ-তাদবীর’, ইবনে আব্দুল মালেক আল-খাওয়ারেজমি আল-কাসির ‘আয়নুস-সানাহ’, জ্যোতির্বিদ্যায় আল-বাত্তানির ‘কিতাবুল জিজ’, আবু মাশার আল জাফরের ‘জিজ আবি মাশার’, মহাবিজ্ঞানী আল-বিরুনীর ‘কানুনে মাসউদি’, বীজগণিতে উমর খৈয়ামের ‘কিতাবুল জাবর’, আল-কারখির ‘আল-কাফি ফিল হিসাব’, অ্যালজেব্রাখ্যাত মুসা আল-খাওয়ারিজমীর ‘হিসাবুল জাবরি ওয়াল মুকাবালাহ’, চিকিৎসাবিদ্যায় আবু আলী ইবনে সিনার ‘আল কানুন ফিত-তিব’, আলী ইবনে রাব্বানের ‘ফিরদাউসুল হিকমাহ’, বিজ্ঞানী রাজীর ‘আল-কিতাবুল মানসুরি’, ‘আল কিতবুল হাভি’, ‘আল জুদারী ওয়াল হাসবাহ’, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ফারাবির ‘সিয়াসাত’ ‘আরা’, ইবনে খালদুনের ‘মুকাদ্দামা’, ইতিহাসশাস্ত্রে কালবীর ‘জামহারাতুন-নাসাব’, ওয়াকেদির ‘আল-মাগাজি’, বালাচজুরির ‘ফুতুহুল বুলদান’, ইমাম তাবারির ‘তারিখুল রুসুল ওয়াল-মুলুক’, আরবের হিরোডাটাসখ্যাত আল-মাসউদির ‘মিরআতুয-জামান’, ইমাম জাহাবির ‘তারিখুল ইসলাম’, ইমাম ইবনে আসাকিরের ‘তারিখে মদিনাতে দিমাশক’, স্পেনীয় মনীষী ইবনে খালদুনের ‘তারিখে ইবনে খালদুন’সহ মুসলিমদের শতসহস্র জ্ঞানগ্রন্থ জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিমদের উজ্জ্বল স্মারক বহন করে চলছে। হিরকখণ্ডতুল্য এসব গ্রন্থ আধুনিক সভ্যতার দিকপালে পরিণত হয়েছে।

এসব জ্ঞানগ্রন্থ আরবি থেকে লাতিন ও ইংরেজিতে অনূদিত হওয়ার পর জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। (বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান, মুহাম্মাদ নুরুল আমীন)

সুতরাং মুসলিমরাই বিশ্বসভ্যতার প্রথম ও প্রকৃত দীপাধার। আজকের আধুনিক বিশ্বের উন্নতি ও চোখ-ধাঁধানো উৎকর্ষের নেপথ্যে রয়েছে মুসলিম মনীষীদের অদম্য জ্ঞানসাধনা ও নিরলস বিদ্যাচর্চা। এ কথা পাশ্চাত্য ও ইউরোপের বহু গবেষক অকপটে স্বীকার করেছেন। যেমন—বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ কার্লাইল লেখেন, ‘আরবরা ছিল মরুচারী বেদুইন। যুগ যুগ ধরে তারা ছিল অবহেলিত। এরপর যখন তাদের মধ্যে একজন নবীর আবির্ভাব ঘটল, তখন তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হলো। স্বল্পতার পর আধিক্যতা লাভ করল। অবহেলিত হওয়ার পর বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ আসন অর্জন করল। এক শতাব্দী পার হতে না হতেই তারা তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমগ্র জাহান আলোকিত করে ছাড়ল।’




মেসির বিশ্বাস—এই শিরোপার যোগ্য দল ছিলাম আমরা

খেলাধুলা ডেস্কঃ ২০২৩ সালে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন লিওনেল মেসি। প্রায় তিন বছর পর ক্লাবটির হয়ে প্রথমবার এমএলএস কাপ জিতলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

শনিবার রাতে ঘরের মাঠ চেজ স্টেডিয়ামে ফাইনালে মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে ভ্যাঙকুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করার পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়নদের কাতারে নাম লেখালো ডেভিড বেকহামের মালিকানাধীন ক্লাবটির।

ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে মেসি স্বীকার করেছেন যে ট্রফিটি ছিল তার এবং দলের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর চূড়ান্ত পরিণতি।

তিনি বলেন, ‌‘তিন বছর আগে, আমি এমএলএসে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এবং আজ আমরা চ্যাম্পিয়ন। দলের সবার অক্লান্ত প্রচেষ্টা ছিল। এটি একটি দীর্ঘ বছর, অনেক ম্যাচ ছিল। আমরা পুরো মৌসুম ধরে পরিশ্রম করেছি, চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। এই মুহূর্তটির জন্যই আমি অপেক্ষা করছিলাম, এবং আমরা একটি দল হিসাবে যার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এটি আমাদের সকলের জন্য সুন্দর মুহূর্ত। আমরা এই শিরোপার যোগ্য ছিলাম।’

ঘরের মাঠে ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। মেসি ও রদ্রিগো ডি পলের চমৎকার বিল্ড-আপের পর তাদেও আলেন্দের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে ভ্যাঙ্কুভারের ডিফেন্ডার এদিয়ের ওকাম্পোর গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে পড়ে। ৬০ মিনিটে কানাডিয়ান তারকা আলী আহমেদের জোরালো শটে সমতায় ফিরে আসে ভ্যাঙ্কুভার। তবে মেসির সামনে প্রতিপক্ষের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টিকতে পারে না।

৭১তম মিনিটে প্রতিপক্ষের টার্নওভার থেকে বল কাড়েন মেসি এবং নিখুঁত পাসে আর্জেন্টাইন সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলকে দিয়ে গোল করান। যোগ করা সময়ের ৯৬তম মিনিটে আবারও মেসির বাঁ পায়ের জাদু। একটি অসাধারণ থ্রু-পাসে আলেন্দেকে গোলের সুযোগ করে দেন। নিচু শটে ফিনিশিং করে আলেন্দে নিশ্চিত করেন মায়ামির শিরোপা।




পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজের নিয়ন্ত্রণ নিল বাংলাদেশ

খেলাধুলা ডেস্কঃ হার দিয়ে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সহজ জয় তুলে নিল তারা। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সফরকারীদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গেল জুনিয়র টাইগ্রেসরা। এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের শুরুতেই কোনো বল না খেলেই রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার রাভাইল ফারহান। এরপর বাংলাদেশি বোলারদের তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা।

মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট এবং ৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে কোনোমতে ৮৬ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে ইমান নাসির ২৩ ও মেমুনা খালিদ ১৯ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে হাবিবা ও অতশী ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

৮৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশেরও। দলীয় ৮ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল স্বাগতিকরা। তবে তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন জান্নাত ইমান্তা ও সাদিয়া ইসলাম। সাদিয়া ২৮ বলে ৩৫ রান করে ফিরলেও ইমান্তা ২৫ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

অধিনায়ক সাদিয়ার হাতে ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। একই মাঠে আগামী বুধবার (১০) সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।




অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন নচিকেতা

বিনোদন ডেস্কঃ দুই বাংলার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা দেখা দেওয়ায় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল আছেন।

গায়কের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরেই নচিকেতার শরীর ভালো যাচ্ছিল না। অসুস্থতার কারণে তিনি আসানসোলে নির্ধারিত একটি শো বাতিল করতে বাধ্য হন। আজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর) আরও একটি শোতে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সেটিও স্থগিত করা হয়েছে। আপাতত আগামী দিনের সকল শো বাতিল রাখা হয়েছে।

এর আগে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতেও নচিকেতা অসুস্থতার কারণে একটি শো বাতিল করেছিলেন। তখন পরিবার জানিয়েছিল, তিনি সারভাইকাল স্পন্ডিলাইটিসে ভুগছেন—যা শীতের সময় বাড়ে এবং টানা শো করার কারণে আরো জটিল হয়। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন; এবার তিনি হৃদ্‌যন্ত্র–সংক্রান্ত সমস্যায় চিকিৎসাধীন।

নচিকেতার পরিবার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে গায়কের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।