বড় পর্দায় আলো ছড়াতে আসছেন সিফাত নুসরাত

বিনোদন ডেস্কঃ তরুণ মডেল ও নারী উদ্যোক্তা সিফাত নুসরাত। তিনি বর্তমানে নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত ও সৃজনশীল মুখগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়ায় বহুমুখী কাজ করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি।

এদিকে চমকপ্রদ একটি কাজে যুক্ত হয়েছেন সিফাত নুসরাত। তিনি এবার অভিনয় জগতে নাম লিখিয়েছেন। তাও আবার নিজের লেখা গল্প নিয়ে। নুসরাত যে গল্পে অভিনয় করছেন সেটি একটি সুপার ন্যাচারাল ঘরানার প্লট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই গল্পের একটি মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। তার সঙ্গে আরও কাজ করছেন ডিরেক্টর কিশোর নিল, জিলান, এবং এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার সাহেল রনি।

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে এমন দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়— যেখানে একজন নারী শিল্পী নিজের লেখা গল্পে নিজেই অভিনয় করছেন। তাই অনেকেই বলছেন, এটি দেশের শিল্পী-পরিমণ্ডলে নতুন দিশা দেখাবে।

নুসরাতের আগের কাজগুলো সবসময়ই প্রশংসিত হয়েছে। এবার তিনি যে নতুন এক ঘরান সুপার ন্যাচারাল গল্প নিয়ে দর্শকদের সামনে আসছেন, তা আরও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।




গুলশানের ‘চেয়ারম্যান বাংলো’ সংস্কার: ৩০ লাখের কাজ কীভাবে উঠলো ২ কোটির ওপরে—তদন্তে বেরিয়ে এলো লুকানো অনিয়মের স্তর

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকার গুলশান-৬ নম্বর সড়কে রাজউক চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন, যেটি ‘চেয়ারম্যান বাংলো’ নামে পরিচিত—সেই ভবনের সংস্কারকাজ নিয়ে অবিশ্বাস্য সব অনিয়ম বেরিয়ে এসেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্তে। শুরুতে এই সংস্কারের ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র ৩০ লাখ টাকা; কিন্তু কোনো ঘোষণা-পর্ব বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সেই খরচ একসময় গিয়ে দাঁড়ায় দুই কোটি ১৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ অনুমান করা টাকার প্রায় সাত গুণ বেশি। বিস্ময়ের বিষয় হলো—এতো বড় ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও রাজউকের নিজস্ব তদন্ত কমিটি নাকি অনিয়মের ছায়াও খুঁজে পায়নি।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে—চেয়ারম্যান বাংলোর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করা হয়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র ছাড়া সরকারি কাজ শুরু করা যায় না। কিন্তু এখানে পুরো উল্টোটা হয়েছে। যেন কাজ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকতার অভিনয় করা হয়েছে। নকশা ছিল না, প্রাক্কলন অনুমোদন ছিল না, ঠিকাদার নির্বাচনের নিয়ম মানা হয়নি, তারপরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) এবং মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স খুব স্বাভাবিকভাবেই কাজ চালিয়ে গেছে। এনডিই নিজেই মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে যে তারা এই বাংলোয় শ্রমিক পাঠিয়েছে—যা রাজউকের তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

তদন্তে অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. ছিদ্দিকুর রহমান (সম্প্রতি মারা গেছেন), প্রধান নগর স্থপতি মোস্তাক আহমেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাহাত মুসলেমীন। তদন্ত কমিটির মতে, এদের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এভাবে নিয়ম লঙ্ঘনের পর নিয়ম সাজিয়ে নেওয়া সম্ভবই ছিল না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—যখন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাইছার অনিয়মগুলো লিখিতভাবে জানান, তখনই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। অভিযোগ ওঠে যে সাবেক চেয়ারম্যান তাঁর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেন, এবং শেষ পর্যন্ত কাইছারকে সেই চিঠি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করা হয়। একজন সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যখন নিয়মভঙ্গের কথা বলায় চাপে পড়ে মুখ বন্ধ করেন, তখন বুঝে নেওয়া কঠিন নয় যে ভেতরে কী ধরনের ক্ষমতার প্রভাব কাজ করেছে।

রাজউকের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন ছিল সাত দিনের একটি চটজলদি প্রক্রিয়া, যেখানে বলা হয়—সবকিছু নাকি নিয়ম মেনেই হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন তদন্ত টানা দুই মাস সময় নিয়ে বিপরীত ছবি তুলে ধরে: কাজ শুরু হয়েছে অনুমতি ছাড়া, নকশা ছাড়াই দর দরপত্রের আগেই ঠিকাদারকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরে প্রাক্কলন বানিয়ে অনুমোদনের নাটক করা হয়েছে। এমনকি প্রথমে প্রাক্কলন বানানো হয় দুই কোটি ৮৫ লাখ টাকায়, পরে চাপের মুখে তা কমিয়ে দুই কোটি ১৬ লাখ টাকায় নামানো হয়—যাতে কাগজে-কলমে দেখানো যায় যে প্রক্রিয়া বুঝি ঠিক ছিল।

সবশেষে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শাস্তিমূলক কোনো ব্যাবস্থা না দেখে অভিযোগকারীরা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যা অনেকের কাছে ‘দায়ী বাঁচানোর কৌশল’ হিসেবেই মনে হয়েছে। রাজউকও কেবল দু’জন কর্মকর্তাকে শোকজ করে দায় সেরে ফেলেছে।

এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম খান বলেন—তারা যা পেয়েছেন, রিপোর্টে দিয়েছেন, ব্যবস্থা নেওয়া মন্ত্রণালয় ও রাজউকের কাজ। অন্যদিকে রাজউকের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের সদস্য ড. মো. আলম মোস্তফা দাবি করেন—তারা নাকি এখনো কোনো নির্দেশনা পাননি। সচিব মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গেও যোগাযোগ করা গেলেও তিনি কোনো মন্তব্য দেননি।

পুরো ঘটনা মিলিয়ে রাজউক চেয়ারম্যানের বাংলো সংস্কার এখন ঢাকা প্রশাসনিক অঙ্গনে বড় আলোচনায়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন খুব সহজ—একটি সরকারি বাড়ির সংস্কারেই যদি এতো অস্বচ্ছতা থাকে, তাহলে আরও বড় প্রকল্পগুলোর হিসাব-নিকাশ কতটা স্বচ্ছ তা কি কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে?




চলতি সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি সানাউল্লাহ

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। রোববার (৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনা সভা শেষে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সানাউল্লাহ জানান, তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এ বিষয়ে সোমবার বিটিভিকে রেকর্ডিংয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। তফসিল ঘোষণার দিন সন্ধ্যায় মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রতিটি উপজেলায় দুইজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের পাঁচ দিন আগে ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার সকল ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনী কাজে সরকারি, আধা-সরকারি এবং সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তবে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এবার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব নির্বাচনী পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হবে, না মানলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

তিনি আরও জানান, প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট ছাপানোও শুরু হয়েছে।




কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃত ডিগ্রিধারী নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে: আসিফ নজরুল

ডেস্ক নিউজঃ এখন থেকে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃত ডিগ্রিধারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। 

রোববার (৭ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন,‘এখন থেকে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃত ডিগ্রিধারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হতে পারবেন। আগে এই সুযোগ আলিম সনদধারী ব্যক্তিদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিলো। আইন মন্ত্রণালয় এই সুযোগ বাড়ানোর জন্য আইন সংশোধন করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ থেকে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃত বোর্ড হতে দাওরায়ে হাদিস সনদধারী ব্যক্তিরাও এই পদে আবেদন করতে পারবেন।’




গণপূর্তে সিন্ডিকেট আর সম্পদের অভিযোগ — প্রকৌশলী উজির আলী ও প্রকৌশলী কাজী মাশফিক প্রশ্নবিদ্ধ

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরকে বহুদিন ধরেই অভিযোগ আর অবিশ্বাসের চোখে দেখা হচ্ছে। সরকারি প্রকল্প করাবেই না, তা নয়—অভিযোগ করছে অনেকে, এখানে বড় ধরনের ঠিকাদার সিন্ডিকেট, কমিশন-ব্যবহার আর ক্ষমতার অপব্যবহারেই কাজ চলছে। গতকালের রাজনৈতিক ছায়ায় এই দপ্তরটি এমন এক সংকীর্ণ গ্রুপের হাতে চলে গেছে বলেই অনেকের দাবী। সেই তালিকার দুই নাম—তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. উজির আলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মাশফিক আহমেদ—সবসময় সামনে আসে। এখন তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পুনরায় আলোচনায় এসেছে এবং জনগনের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে যে, ঠিকাদারি কাজ কি সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না, নাকি কমিশন আর সিন্ডিকেটই প্রধান?

উজির আলী সম্পর্কে অভিযোগগুলো গুরুতর। বলা হয়, গত সতেরো বছরে তিনি ঢাকায় খুব বেশি ছিলেন এবং আজিমপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরীয় দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে ধরে রেখেছেন; সূত্র বলছে ঢাকার বাইরে মাত্র চার মাস ছিলেন। আজিমপুর জোনে দায়িত্বে থাকার সময় তার নিকটস্থ ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, কমিশন-লেনদেন ও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে—নামভাবে নুরানী কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও বিভিন্ন প্রকল্পে অস্বচ্ছতা ভুক্তভোগীদের কণ্ঠে শোনা যায়। ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল জাজেস কমপ্লেক্সে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রতি দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগও উঠে। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রকল্পে গোপন একটি তদন্তেও ৩৭ কর্মকর্তার তালিকায় তার নাম ওঠার কথাও সূত্র বলেছে। অতিরিক্ত বিল কেলেঙ্কারিতে (জি কে শামিম কেস) তদন্ত কমিটিতেও তার উপস্থিতি ছিল—অভিযোগ আছে যে ওই কেলেঙ্কারিতে বা ফলস স্বীকারোক্তির মধ্যে তার সম্পর্ক ছিল; উজির আলী এসব কথা অস্বীকার করেন এবং বলেন তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। আরেকটি বড় অভিযোগ হলো রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের AAP কাজগুলো একেবারে OTM (ওভার দ্য ট্যাবল) পদ্ধতিতে নেয়া; ২০২৩–২৪ অর্থবছরে শতভাগ AAP কাজ OTM করার অনুমতিতেই তার বিরুদ্ধে “তিনগুণ কমিশন” নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যক্তিগত সম্পদের বিষয়েও বড় ধরনের সন্দেহের কথা বলা হচ্ছে—উত্তরা সেক্টর ১২-এ ছয়তলা বাড়ি, বসুন্ধরা ডি-ব্লকে ফ্ল্যাট, ধানমন্ডির স্টার কাবাব গলিতে ফ্ল্যাট, গাজীপুরে ৫ একর জমি (স্ত্রীর নামে) এবং ব্যাংক লেনদেন-ভিত্তিক “অস্বাভাবিক” রেকর্ড—এসবের কথা বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে। এগুলো সম্পর্কে উজির আলীর নিজের বক্তব্য ছিলো, “আমি কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই পালন করেছি।”

অন্য দিকে কাজী মাশফিক আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও ততটাই মারাত্মক। তেজগাঁও বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘদিনের অবস্থানকে নিয়ে ঠিকাদারদের অভিযোগ—তিনি রাজনৈতিক প্রভাবে একটি অনিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। ঠিকাদারদের দাবি, কমিশন না দিলে বিল আটকে রেখে ভবিষ্যৎ কাজ বাতিলের হুমকি দেয়া, কোটেশন জালিয়াতি ও প্রকল্পে ভুয়া মেজারমেন্ট করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা—এসবই তাদের অভিযোগের তালিকার শীর্ষে। সাংবাদিক বা অভ্যন্তরীণ সূত্রে বলা হয়, তিনি ঠিকাদার নিয়োগে গোপন নিয়ন্ত্রণকারী, কমিশন রেট নির্ধারক এবং প্রতিটি বিল পাসে ‘কাট’ নির্ধারণের ক্ষমতাও প্রয়োগ করেছেন—ফলত: কাজ না করেও ভুয়া বিল পাশ হয়ে গেছে এমন অভিযোগও আছে। আর ব্যক্তিগত সম্পদের দিক থেকেও তাকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—রাজধানীতে একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি, বিভিন্ন জেলায় জমি এবং ব্যাংক লেনদেনে কোটি কোটি টাকার অস্তিত্বের কথাও শোনা যায়; এমনকি বিদেশ ভ্রমণে অবৈধ অর্থ ব্যবহার নিয়ে কথাও উঠেছে। অনেক কর্মকর্তা বলছেন, “মাশফিক সিন্ডিকেট থামানো না গেলে গণপূর্তের সুনাম ফেরানো মুশকিল।”

গণপূর্তের ভেতরে কাজ করা সৎ কর্মকর্তা ও বাইরের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দিনের পর দিন বাড়ছে। তারা বলছেন—এখানে ‘কাজ’ গুরুত্বখন্ডিত হয়ে ‘কমিশন’ প্রধান হয়ে গেছে। ঠিকাদাররা ভুক্তভোগী হিসেবে অভিযোগ করেন যে যদি তারা সিন্ডিকেটের নিয়ম মেনে না চলে, তাদের প্রকল্প আটকে দেয়া হয় বা ভবিষ্যৎ কাজ বাতিলের হুমকি দেয়া হয়। ফলে প্রকল্পের মান ও নিরাপত্তা খামতি পায়; উদাহরণ হিসেবে জাজেস কমপ্লেক্সে শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাটি তোলা হচ্ছে, যেখানে নিরাপত্তার সরঞ্জাম না দেয়ার অভিযোগও আছে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও গোপন সূত্রে থাকা রিপোর্টগুলোর কথা বিবেচনায় নিয়ে অনেকে মনে করেন এখন বড় কোনো স্বাধীন ও সার্বিক তদন্তের প্রয়োজন — না হলে গণপূর্তের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রতিষ্ঠানগত ভাবমূর্তি ফেরানো সম্ভব হবে না।

সবশেষে, যে কেউ বিশ্বাসঘাতকতা বা দুর্নীতির দায়ে দোষী প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত—তবে এই প্রতিবেদনে যা তুলে ধরা হয়েছে তা হলো অভিযোগ ও সূত্রের ভিত্তিক বক্তব্য; অভিযুক্তরা এসব অনেক অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই জনগণ ও নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—স্বচ্ছতা আনা, রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাব থেকে মুক্ত করে গণপূর্তকে প্রকৃত অর্থে প্রকৌশলগত কাজ ও জনসেবায় ফেরানো।




রায়েরবাজার থেকে ১১৪ জুলাই শহিদের মরদেহ উত্তোলন করছে সিআইডি

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ১১৪ জনের পরিচয় শনাক্তে রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন শুরু করেছে সিআইডি। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে মরদেহ উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। মরদেহগুলো তোলার পর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা নিয়ে আবার যথাযথ প্রক্রিয়ায় দাফন করা হবে।

জানা যায়, যে স্থানে শহিদদের দাফন করা হয়েছে সেই জায়গা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিশেষভাবে মার্বেল পাথর ও টাইলস দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে।

সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘মরদেহ উত্তোলনের জন্য আমরা অনেক দিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এজন্য আমাদের ক্রাইম সিন ইউনিট মাঝেমধ্যেই সেখানে গেছে।’

এর আগে, গত ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ১১৪টি মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত বছর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত ১১৪ জন শহিদকে অজ্ঞাত পরিচয়ে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়।




কোথায় থাকবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে একীভূত করে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে রূপ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। যদিও এই কমিটি শুরুতে বলেছিল, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোবাড়িকে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু এই দুটি প্রস্তাবের মধ্যে এখনো কোনোটির বিষয়েই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে পরবর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে এমন আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সর্বশেষ আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। সেদিন বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এর এক মাস পর গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত হয়। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম-খুন-আয়নাঘর, ভোট ডাকাতিসহ শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের সব গল্পই ঐতিহাসিক তথ্য আকারে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে উপস্থাপন করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রসঙ্গত, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা।

সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত ৭ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, সে নিয়ে আলোচনায় শুরু হয়। শুরুতে যমুনা এবং হেয়ার রোডের কিছু বাংলো ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংসদ চত্বরের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঐ কমিটির সদস্যরা গত সেপ্টেম্বর মাসে ভবন দুইটি পরিদর্শনও করেন। কিন্তু নানামুখী জটিলতায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগ থেকে সরকার সরে এসেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরি করা হলে লুই আই কানের নকশার লঙ্ঘন হবে। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাড়ি দুটিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করা হলে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কোথায় থাকবেন, সেই প্রশ্ন ওঠে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন। এরপর ঐ মাস কিংবা মার্চ মাসে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনের প্রয়োজন হবে। কিন্তু এই স্বল্প সময়ে সেই ব্যবস্থা করা কঠিন হবে। শুধু তা-ই নয়, নতুন বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী থাকলেই শুধু হবে না, তার দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীরা কোথায় থাকবেন, সে প্রশ্নও আসে। তাদের জন্যও নতুন করে বাড়ি বানাতে হবে। এমন জায়গা কোথায় পাওয়া যাবে, সেটাও বড় প্রশ্ন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসভবন নির্মাণ করতে হলে এ সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণ করতে হয়। এই প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বা সংসদ সচিবালয়কে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে। বরাদ্দ নিশ্চিত করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সরকারের নেওয়া মূল এডিপিতে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) এ ধরনের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। অন্যদিকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নেওয়া এডিপিতেও এ ধরনের কোনো প্রকল্প পাওয়া যায়নি। আবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে নেওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতেও এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প নেই। ফলে আপাতত সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, সেটি ঠিক করবে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আসা নতুন সরকার। বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দেখভাল করছেন।




টানা ৩ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

ডেস্ক নিউজঃ চলতি মাসে সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন টানা তিন দিনের ছুটি। এ বছর চাকরিজীবীদের জন্য বাকি রয়েছে দুটি সাধারণ ছুটি। এর মধ্যে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ (মঙ্গলবার) বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন বা বড়দিনের ছুটি নির্ধারিত আছে।

বড়দিনের ছুটি বৃহস্পতিবার পড়ায় এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার যুক্ত হয়ে সরকারি কর্মজীবীরা উপভোগ করতে পারবেন টানা তিন দিনের ছুটি।

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। গত ৬ অক্টোবর বিকালে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রেস সচিব জানান, আগামী বছরের সরকারি ছুটির তালিকায় মোট ছুটি ২৮ দিন থাকলেও এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র ও শনিবারের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় কার্যত মূল ছুটি থাকবে ১৯ দিন।

তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ছুটিগুলোর মধ্যে নির্বাহী আদেশে এবং সাধারণ ছুটি মিলিয়ে মোট ২৮ দিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা উপদেষ্টা পরিষদ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে।




ঢাকা–১৮-এ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের উদ্যোগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সম্মিলিত দোয়া মাহফিল

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশের অভিভাবক, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় ঢাকা–১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন-এর উদ্যোগে এক বিশাল সম্মিলিত দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ঢাকা–১৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল হক। দোয়া মাহফিলে কয়েক হাজার ওলামা-মাশায়েখ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পুরো এলাকা হয়ে ওঠে আধ্যাত্মিক আবহে মোড়ানো এক মানবিক সমাবেশ।

দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন—
“দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে আজীবন লড়ে গেছেন। তিনি শুধু বিএনপির নয়—এই জাতির আশা, সাহস ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। তাঁর সুস্থতা আজ বাংলাদেশের কোটি মানুষের দোয়া। আমরা আল্লাহর দরবারে মাথা নত করে প্রার্থনা করছি—তিনি যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করে আবারও দেশ ও মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।”

প্রধান অতিথি আমিনুল হক বলেন—
“খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁর অসুস্থতা জাতিকে উদ্বেগে ফেলেছে, কিন্তু তাঁর জন্য দেশের মানুষের দোয়া কখনো থেমে নেই। আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহর রহমতে খুব শিগগিরই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। দেশের মানুষের অধিকার ও ভোটের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে তাঁর নেতৃত্ব এখনো দেশের প্রয়োজন।”

✦ ওলামা-মাশায়েখদের বিশেষ দোয়া

অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন শীর্ষ ওলামা মাশায়েখ দোয়া পরিচালনা করেন। তিনি মোনাজাতে বলেন—
“হে আল্লাহ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পূর্ণ সুস্থতা দান করুন। তাঁর ওপর আপনার রহমত বর্ষিত হোক। তাঁকে শক্তি, ধৈর্য ও সুস্থ জীবন দান করুন, যাতে তিনি পুনরায় দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারেন। আমিন।”

হাজারো মানুষের আমিন আমিন ধ্বনিতে সমগ্র দোয়া মাহফিল প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় দেশনেত্রীর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও প্রার্থনার এক বিরল সমাবেশে।




বরিশালে ট্রাক চাপায় একজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: স্ত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটা থেকে ফেরার পথে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক চাপায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী মোটরসাইকেল চালক স্বামী নিহত হয়েছে। এ সময় তার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার আউলিয়াপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নবীন হালদার (৩৫) বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পীরের পাড় এলাকার নিগম হালদারের ছেলে। নবীন ঢাকায় স্বর্ন ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালীর লেবুখালী মহাসড়ক পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. শাহাদাত।
তিনি জানান, মোটর সাইকেলে স্ত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে যায় নবীন হালদার। সেখান থেকে নিজ বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলার আউলিয়াপুর দত্তপাড়া এলাকায় পৌছুলে কুয়াকাটাগামী একটি ট্রাক মোটর সাইকেল চাপা দেয়। এতে স্বামী ও স্ত্রী দুইজন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দুইজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক নবীনকে মৃত ঘোষনা করেছেন। আহত স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এসআই শাহাদাত আরো বলেন, ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়েছে। পরিবার সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে। তারা এলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।