নসম্পদ ব্যবহারে ইসলামের নির্দেশনা ও করণীয়

ইসলামিক ডেস্কঃ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ধনসম্পদ ও সম্মানের অধিকারী করেন। ইচ্ছা হলেই যে কারোর সম্পদ ও সম্মান কেড়ে নেন। এ বিশ্বজগতের রাজা মহারাজা পরাক্রমশালী সম্রাটদের জীবনেরও অবসান ঘটেছে আল্লাহর ইশারায়।

দৃশ্যত যারা মহাশক্তিমান তারাও প্রভাব-প্রতিপত্তি হারিয়ে অস্তিত্বহীন হয়েছে। যারা আল্লাহতায়ালার দেওয়া নিয়ামত, সম্মান, আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালনা করেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাদের নাম-যশ তাঁর ইচ্ছায় অম্লান অমর হয়ে রয়েছে। এ জগতে যারা কৃতজ্ঞ চিত্তে আল্লাহর নিয়ামত ভোগ করে, আল্লাহর নির্দেশিত পথে মানবতার সেবা করে গেছেন তাদের অবদান অক্ষয়-চিরন্তন হয়ে আছে।

এ পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত নবী-রসুল আগমন করেছেন তাঁরা চাইলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হতে পারতেন। কিন্তু তাঁরা বিলাসবহুল জীবনের বদলে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা ও মানবতার সেবায় উদ্ভাসিত হয়েছেন। তাঁরা মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে গেছেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের ধনসম্পদ, মান-মর্যাদা ইজ্জত দান করে পরীক্ষানিরীক্ষা করেন।

আমাদের কর্তব্য- সর্বাবস্থায় তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আল্লাহর এই বিশাল জগতের সৃষ্টিকুলকে অনিবার্য মৃত্যুর স্বাদ বিনা দ্বিধায় ভোগ করতে হবে। সবাইকে এক সময় মৃত্যুর দিকে যাওয়ার পরিণতি মেনে নিতে হবে। মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট সীমা-পরিসীমা নেই। আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবেই বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিতে হয়। দুনিয়ায় অর্জিত সব ধনসম্পদের মায়া একদিন আমাদের পরিত্যাগ করে একেবারেই শূন্য হাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে।

এ বিশ্বজগৎ সম্পূর্ণভাবেই একটি অতি অপ্রশস্ত খেলার মাঠ। এ মাঠে কিছুদিন খেলাধুলা করে এক অজানা নিরুদ্দেশ গন্তব্যের দিকে যেতে হবে। সেখানে অনন্তকালের জন্য চিরস্থায়ীভাবে থাকতে হবে। এ বিশ্ব চরাচরে পড়ে থাকবে আমাদের অতি কষ্টে অর্জিত সব অমূল্য ধনসম্পদ। যা সঙ্গে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থাই আমরা করে যেতে পারি না। এ জন্য নিয়তি আমাদের কোনো সময়ই দেয় না। আমাদের জীবন অবসানের পর রেখে যাওয়া এ সম্পদের কী অবস্থা হবে, কীভাবে ব্যয় হবে তাও আমরা বলতে পারি না।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহতায়ালা মহাগ্রন্থ আল কোরআনের আলোকে আমাদের প্রিয় নবী মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে সুসংবাদ প্রেরণ করেছেন যে, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষের মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া তিনটি অবদান এ দুনিয়ায় বিরাজ করবে এবং পরকালেও নাজাত তথা জান্নাত লাভে সহায়তা করবে।

যেমন- ১. তোমার সন্তানকে যদি সুসন্তান করে রেখে যেতে পার তবে তারা মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দুই হাত তুলে প্রাণভরে তোমাদের জন্য দোয়া করবে- রব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি ছগিরা। হে পরম দয়ালু আল্লাহ, আমার পিতা-মাতাকে সস্নেহে লালনপালন ও প্রতিপালন কর।

২. আল্লাহর রাস্তায় ফিসাবিলিল্লাহ হিসেবে কোনো বস্তু বা ধনসম্পদ দান করে যাওয়া যা এতিম নিঃস্ব হতদরিদ্র গরিব মিশকিন পঙ্গুদের জন্য ব্যয় হবে।

৩. মানবতার সেবাসহ সৃষ্টিকুলের জন্য কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান তৈরি বা স্থাপন করে যাওয়া, যাতে অব্যাহতভাবে পরোপকার হতে থাকবে। ইসলামের দৃষ্টিতে সৎভাবে ধনসম্পদ অর্জন বা ধনী হওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ নেই। তবে অর্জিত সম্পদ সৎভাবে সঠিক পথে ব্যয় করতে হবে।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাদের সমাজে দেখা যায়, আমরা বেপরোয়াভাবে হিংসা-বিদ্বেষ, জোরজবরদস্তি, লুটপাট, অন্যায়ভাবে সম্পদ আহরণ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলি। এ সম্পদ জমানোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় দেখা যায় নিজের জমানো সম্পদ মানুষ নিজেই ভোগ করে যেতে পারে না। একান্তভাবে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাব, হাজার হাজার কোটি টাকার ধনসম্পদ থাকলেও তার মালিক শান্তিতে ঘুমাতে পারে না তার জমানো টাকার চিন্তায় এবং লোভ-লালসার প্ররোচনায়। ইচ্ছা থাকলেও পেটভরে খেতে পারে না মুখে রুচি না থাকার কারণে।

এর কারণ হলো- আমরা ধনসম্পদের প্রতি এত বেশি লোভী হয়ে পড়ি যে, লোভের বশবর্তী হয়ে খুনাখুনি করে হলেও ধনসম্পদ অর্জন করে থাকি। অন্যায়ভাবে ধনসম্পদ জমিয়ে কার জন্য রেখে যাব- তা আমরা ঘুণাক্ষরেও ভাবি না। ধনসম্পদের লোভে মানইজ্জত বিসর্জন দিতে হলেও আমরা কুণ্ঠাবোধ করি না। মৃত্যুর পর আমাদের খালি হাতেই অজানার পথে যাত্রা করতে হবে।

মূলত এ জীবনটা বড় বেশি ক্ষণস্থায়ী। এক মুহূর্তের জন্যও বেঁচে থাকার আশা করতে পারি না। তাই আমাদের সবাইকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে, আমরা অন্যায়ভাবে অবৈধ পথে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলব না। যেহেতু দিন দুনিয়ার মালিক আল্লাহ সেহেতু তাঁর ওপর আশা-ভরসা রাখতে হবে।




বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের যোগ্যতা প্রমাণে মুখিয়ে মার্তিনেস

খেলাধুলা ডেস্কঃ ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপে ফের আলো ছড়াতে চান এমিলিয়ানো মার্তিনেসের। আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক বলেছেন, গতবারের চেয়ে এবার আরও বেশি রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ বিশ্বকাপের বাকি এখনও ৬ মাস। তবে বাছাই পর্ব প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৪২টি দল চূড়ান্ত হয়েছে এর মধ‍্যে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় হবে ড্র। এর আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ‍্যাসোসিয়েশনের একটা অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় ৩৩ বছর মার্তিনেস বললেন, চূড়ান্ত পর্বের জন‍্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন তিনি।

অ‍্যাস্টন ভিলার মার্তিনেস এখনও আর্জেন্টিনার পোস্টে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনার তিনটি বড় শিরোপা জয়েই আছে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে দলকে জেতানোর আগে-পরে দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালেও দুর্দান্ত সব সেভ করে দলের শিরোপা জয়ের রাখেন অবদান।

২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে শিরোপা ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। সেই ম‍্যাচে পাঁচটি সেভ করেন তিনি। ক্লাব ফুটবলেও নিয়মিত দুর্দান্ত সব সেভ করেন মার্তিনেস, তবে জাতীয় দলে তিনি যেন প্রায় অপরাজেয়।

এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ আটে নেদারল‍্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে বীরত্ব দেখান মার্তিনেস। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালেও করেন এর পুনরাবৃত্তি। সেই ম‍্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে রান্দাল কোলো মুয়ানির শট ঠেকিয়ে দলকে ম‍্যাচে রাখেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপালেই যেন পাল্টে যান মার্তিনেস। তিনি জানান, যখন জাতীয় দলে খেলি, আমার মনে হয় যে, বল জালে যাবে না। আমার পেছনে থাকে পুরো দেশ এবং আমার পরিবার।

অ‍্যাস্টন ভিলার হয়ে চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১১ ম‍্যাচের চারটিতে জাল অক্ষত রেখেছেন মার্তিনেস। সব মিলিয়ে ভীষণ ব‍্যস্ত সূচি হলেও বিশেষ শারীরিক সুবিধা থাকায় বিশ্বকাপে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।




অস্ট্রেলিয়ায় ১২ বছর পর সেঞ্চুরি করে দাপট দেখালেন জো রুট

খেলাধুলা ডেস্কঃ অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো জো রুটের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১২ বছর ও ৩০ প্রচেষ্টার অপেক্ষা শেষে প্রথমবারের মতো পেলেন কাঙ্ক্ষিত টেস্ট সেঞ্চুরি।

বৃহস্পতিবার গাব্বায় অনুষ্ঠিত দিবা-রাত্রির টেস্টে ১৮১ বল খেলে পৌঁছান তিন অঙ্কে। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪০তম এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪৯তম সেঞ্চুরি।

এমন গুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি পেতে তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন সতীর্থ জ্যাক ক্রলি। যার সঙ্গে রুট গড়েছেন ১১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজের এই সিরিজে রুটের ওপর ছিল অনেক চাপ। গত কয়েক বছর ধরে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতায় রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙছেন তিনি। আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা টেস্ট ব্যাটার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় সেঞ্চুরি। তা যেন ভাগ্য এড়িয়ে চলছিল। ১৬টি টেস্ট খেলে একবারও তিন অঙ্কে না পৌঁছানো, রুটের মতো মানের ব্যাটারের জন্য ছিল কিছুটা হতাশাজনকও।

আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে ইংল্যান্ড। সেই অবস্থায় ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছিল ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ককে। মিচেল স্টার্ক আবারও দুর্দান্ত শুরুর আঘাত হেনে ফেরান বেন ডাকেট ও অলি পোপকে শূন্য রানে। সেখান থেকে ক্রলিকে সঙ্গে নিয়ে ১১৭ রানের জুটি গড়ে দলকে খেলায় ফেরান রুট। ক্রলি যখন ৭৬ রানে আউট হয়ে যান, তারপরও রুট হ্যারি ব্রুক ও বেন স্টোকসকে সঙ্গে নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন এবং একাই হয়ে ওঠেন ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ।

অবশেষে, রুটের নামের পাশে যুক্ত হলো অস্ট্রেলিয়াতেও এক সেঞ্চুরি। আর সেই সঙ্গে ইতিহাসে আরেকটি রেকর্ডও। ১২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে যে মাইলফলক তিনি স্পর্শ করলেন, তা নিঃসন্দেহে তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিশেষ অধ্যায়ের একটি হয়ে থাকবে।




অক্ষয়-প্রিয়াঙ্কার প্রেমের সেই গুঞ্জন উস্কে দিলেন পরিচালক

বিনোদন ডেস্কঃ ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউডের ‘বারসাত’ সিনেমার কথা মনে আছে? যে সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন ববি দেওল, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং বিপাশা বসু। ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনি বক্স অফিসে বেশ হিটও করেছিল। কিন্তু জানেন কি এই সিনেমায় ববি নয়, প্রথমে অভিনয় করার কথা ছিল অভিনেতা অক্ষয় কুমারের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি সরে আসেন।

সিনেমা মুক্তির ২০ বছর পরে ছবির নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা গোপন কথা ফাঁস করলেন ছবির পরিচালক সুনীল দর্শন। তিনি জানিয়েছেন প্রথমে ববির অভিনয় করারই কথা ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্‍কারে সবটা ফাঁস করলেন পরিচালক। সাক্ষাত্‍কারে সুনীল বলেন, অক্ষয় এবং প্রিয়াঙ্কার অভিনয় করার কথা ছিল। পাঁচ দিন শুটিং করার পর অক্ষয় আমায় ফোন করেন একটা মিটিংয়ের জন্য। সেখানেই সমস্যার কথা জানতে পারি।

পরিচালক জানান, সেই সময় ববিব ম্যানেজারও অনুরোধ করেছিলেন যাতে তিনি অভিনেতাকে নিয়ে একটা ছবি তৈরি করেন। তখন তিনি ববিকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। দর্শন বলেন, অক্ষয় কোনও গন্ডগোল করে ফেলেছিল তাই ছবি থেকে বেরিয়ে যায়।

সুনীল দর্শন বলেন, প্রিয়াঙ্কা ও অক্ষয়ের মধ্যে একসময় কাজের কোনও অস্বস্তি ছিল না। তারা একসঙ্গে একের পর এক সফল ছবি করেছেন। তারা দুইজনই খুব স্বচ্ছন্দ ছিল একে অপরের সঙ্গে। এমনকি ‘অ্যাইত্রাজ’ ছবিতেও একসঙ্গে কাজ করেছেন। প্রিয়াঙ্কা প্রথমে এই ছবিটি করতে চাইছিল না, কারণ সেখানে তাকে নেতিবাচক চরিত্রে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে আমি স্ক্রিপ্ট দেখে বুঝি, ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটিই আসলে তার। সঙ্গে সঙ্গে তাকে অফিসে ডেকে এনে ছবিটি সই করাই।’

তবে সমস্যা শুরু হয় ২০০৫ সালের ‘বারসাত’ ছবির শুটিং চলাকালে। এই ছবিতে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও ক্যাটরিনা কাইফ অভিনয় করার কথা ছিল। প্রযোজক জানান, ‘আমরা টাইটেল ট্র্যাক পর্যন্ত শুট করে ফেলেছিলাম অক্ষয় ও প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে। কিন্তু তারপর পর্দার আড়ালে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যখন আমি বুঝে যাই- একসঙ্গে দু’জনকে নিয়ে এই ছবি আর এগোনো সম্ভব নয়। আমাকে যেকোনও একজনকে বেছে নিতে হবে।

কঠিন সেই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সুনীল দর্শনের স্পষ্ট বক্তব্য, ভুল যদি কেউ করে থাকে, তাহলে তার জন্য কেন একজন নারী শিল্পীকে ভুগতে হবে? আমার যুক্তি ছিল খুব পরিষ্কার- আমি প্রিয়াঙ্কার সঙ্গেই যাব। সিদ্ধান্তটা আমার জন্যও খুব কষ্টের ছিল। অনেক শুট ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছিল, সবটাই বাতিল করতে হয়। এরপর আমার এক বন্ধুর পরামর্শে ছবিতে অক্ষয়ের জায়গায় নেওয়া হয় ববি দেওলকে।

পরবর্তীতে এই প্রকল্প থেকে সরে যান ক্যাটরিনা কাইফও। তার জায়গায় অভিনয়ের সুযোগ পান বিপাশা বসু। এই ঘটনার পর আর কখনও একসঙ্গে কাজ করেননি অক্ষয় কুমার ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এর আগে তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন ‘মুঝছে সাদি করোগি’, ‘ওয়াক্ত’, ‘আন্দাজ’, ‘অ্যাইতরাজ’র মতো জনপ্রিয় সিনেমাতে।
সুনীল দর্শনের এই মন্তব্যে পুরনো সেই গুঞ্জন আবার নতুন করে আলোচনায় ফিরে এলো বলিউডে।




বিয়ে প্রসঙ্গে এবার সরাসরি জানালেন রাশমিকা

বিনোদন ডেস্কঃ দক্ষিণের জনপ্রিয় দুই তারকা বিজয় দেবারকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার প্রেমের গুঞ্জন চলছে অনেক দিন ধরেই। বাগদান সেরে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বিয়ে—এমন খবরও ঘুরে বেড়াচ্ছিল ভারতীয় গণমাধ্যমে। তবে এত দিন ব্যক্তিজীবন নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন রাশমিকা। অবশেষে দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রথমবার সরাসরি এ প্রশ্নের জবাব দিলেন তিনি।

চলতি বছর ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন অভিনেত্রী। বছরের শুরুতে ‘ছাবা’ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’—রাশমিকার মুক্তিপাওয়া পাঁচটি সিনেমা ২০২৫ সালে বক্স অফিসে আয় করেছে ১ হাজার ৩০০ কোটি রুপির বেশি। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে এ বছরটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজ করতে চেয়েছিলাম, সেটা এই বছরই বাস্তব হয়েছে।”

সম্প্রতি শোনা যায়, গত অক্টোবরেই হায়দরাবাদে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে নাকি বাগদান সারেন রাশমিকা ও বিজয়। এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায়, বাগদান সত্যি এবং বিয়ে হতে পারে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি কেউই।

সাক্ষাৎকারে সঞ্চালক অনুপমা চোপড়া সরাসরি জিজ্ঞেস করেন- বিয়ের খবর তিনি স্বীকার করবেন, নাকি এটিকে গুজব বলবেন? কিছুক্ষণ ভেবে রাশমিকা হেসে বলেন, “আমি কোনোটাই করব না।” এরপর যোগ করেন, “সময় হলে আমরাই জানাব।”

ভক্তরা মনে করছেন, রাশমিকার এই উত্তরই তাঁদের সম্পর্কের ইঙ্গিত। তবে অভিনেত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ব্যক্তিগত কিছু শেয়ার করার আগে তিনি একটু সময় নিতে চান।

উল্লেখ্য, ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’ -এ একসঙ্গে অভিনয়ের পর থেকেই রাশমিকা-বিজয়ের প্রেমের খবর আলোচনায়। সাম্প্রতিক নিউইয়র্ক ইন্ডিয়া ডে প্যারেডের মতো নানা অনুষ্ঠানেও তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। ২০২৪ সালে দুজনেই জানিয়েছিলেন—তারা ‘সিঙ্গেল নন’, তবে সঙ্গীর নাম প্রকাশ করেননি।




যত্রতত্র পানের পিক, রেগে আগুন নায়িকা

বিনোদন ডেস্কঃ টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক অসংগতি নিয়েও বেশ সরব এ নায়িকা। এবার আওয়াজ তুললেন যত্রতত্র পানের পিক ফেলা নিয়ে।

বুধবার মিমি তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায় মা ফ্লাইওভারের ছবি। আর ফ্লাইওভারের দেয়ালের গায়ে লেগে আছে রাশি রাশি লাল পিক।

এরকম দুটি ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘কেন কেন কেন? প্রশাসনের ওপর সবকিছু চাপিয়ে দেওয়া এত সহজ। কিন্তু আপনি কি মনে করেন না যে একটু নাগরিকত্বের জ্ঞান থাকলেই সবকিছু বদলে যাবে। আমরা এখানে রকেট সায়েন্সের কথা বলছি না। আমাদের সিটি অব জয় আমাদের গর্ব, তাহলে কেন তার যত্ন নেব না? ছোট ছোট পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর মুক্তি পেয়েছে মিমি অভিনীত ‘রক্তবীজ ২’ ছবিটি। এতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। ছবিতে মিমি ছাড়া আরও রয়েছেন বনি সেনগুপ্ত, স্বস্তিকা দত্ত, সোহম মজুমদার, অনামিকা সাহা, মানসী সিনহা, কাঞ্চন মল্লিকসহ আরও অনেকে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অরিত্র মুখোপাধ্যায়।




শুটিং সেটে অগ্নিদগ্ধ আরিফিন শুভ

বিনোদন ডেস্কঃ ‘মালিক’ ছবির শুটিং সেটে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন অভিনেতা আরিফিন শুভ। ছবির একটি অ্যাকশন দৃশ্যে অংশ নেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শুটিং ইউনিটের একাধিক সূত্র জানায়, দৃশ্যটি ধারণের সময় শুভর শরীরের নিচের অংশে নিয়ন্ত্রিত আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। শুরুতে সব ঠিকঠাক থাকলেও ক্যামেরা চালুর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হঠাৎ তার পায়ে আগুন ধরে যায় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শিখা ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুন লাগার পর শুভ নিজেই তা নেভানোর চেষ্টা করলেও তীব্র তাপে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

দুর্ঘটনার পর পরিচালক সাইফ চন্দন শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেও শুভ তা মানেননি। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। এ বিষয়ে জানতে পরিচালক সাইফ চন্দনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেতে পারে ছবিটি ‘মালিক’। এতে আরিফিন শুভর বিপরীতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। এ ছবিতে শুভর নতুন লুক ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।




‘খালেদা জিয়াকে মধ্যরাতের পরে অথবা ভোরে লন্ডনে নেওয়া হবে’

ডেস্কঃ সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর বা শুক্রবার ভোরে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার উন্নত চিকিৎসার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার আগে এভারকেয়ার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেন।

গত ১২ দিন ধরে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে বলে পরিবারসূত্রে জানা গেছে। এ অবস্থায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

হাসপাতালসূত্র জানায়, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা পরিচালনা করছে।

বিএনপির একটি সূত্র বলছে, ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটি কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা এখনো রয়ে গেছে। অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও তেমন পরিবর্তন হয়নি।

গতকাল রাতে চীন থেকে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় এসে মেডিকেল বোর্ডে যোগ দেন। এর আগে দুপুরে যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় পৌঁছান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বেলে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। চিকিৎসকেরা সর্বশেষ সব রিপোর্টও পর্যালোচনা করেছেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য এ বছরের জানুয়ারিতেও লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানকার একটি হাসপাতালে ও পরে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নেন। প্রায় চার মাস পর গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে তাঁকে ভর্তি করা হয়। গত রোববার ভোরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।




খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেনের মা সিসিইউতে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্যতম এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মা বেগম জেবুন নেসা গুরুতরভাবে অসুস্থ। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বেগম জেবুন নেসা বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তার বয়স প্রায় ৮২ বছর। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ২৪ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগের দিন ২৩ নভেম্বর রাতে খালেদা জিয়াকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বিএনপির চেয়ারপারসনের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবে তিনি চিকিৎসার সমন্বয় করেন। পর দিন একই হাসপাতালে তার মাকে ভর্তি করানো হয়।

এক দিকে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া, আরেক দিকে মা—দু’জনেই সিসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় আছেন। খালেদা জিয়া এবং মায়ের এই সংকটকালে তিনি সবার দোয়া চেয়েছেন।




লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, লাশ নিয়ে গেছে ভারতীয় বাহিনী

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে সবুজ (২৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত সবুজ উপজেলার পঁচাভান্ডার এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোরে, ৮৬৪ ও ৮৬৫ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের মাঝামাঝি ভারতের অভ্যন্তরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সবুজসহ কয়েকজন গরু আনতে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের দিকে গেলে, ভারতীয় ১৬৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চেনাকাটা ক্যাম্প থেকে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে সবুজ ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরে বিএসএফ সদস্যরা তার লাশ ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়।

৬১ বিজিবির শমসেরনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কামাল উদ্দিন জানান, বিকেলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে নিহত যুবকের লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি।

সীমান্তে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা।