৬৫০০ কোটি টাকার জলবায়ু‑সহনশীল প্রকল্পে পিডি মো. এনামুল কবিরকে ঘিরে জমেছে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার আর অর্থ লোপাটের অভিযোগ।

এসএম বদরুল আলমঃ এই মুহূর্তে আলোচনায় রয়েছে ৬,৫০০ কোটি টাকার জলবায়ু সহনীয়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ক্ষুদ্র পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক (পিডি) মো. এনামুল কবির দীর্ঘ সময় ধরেই ব্যক্তিগতভাবেই এই প্রকল্পকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। প্রায় ৫০০ জন আউটসোর্সিং কর্মী ও কনসালট্যান্ট নিয়োগ, বিলাসবহুল অফিস, ভুয়া বিল — সবকিছু মিলিয়ে এই প্রকল্প এক ধরনের “ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য”তে পরিণত হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়োগের জন্য যারা নেয়া হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই এনামুল কবিরের আত্মীয়-স্বজন বা ঘনিষ্ঠ। প্রতিটি পদে নিয়োগের সময় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক স্বজন–নিয়োগ, প্রতিযোগিতা ছাড়াই কাজ পাওয়ার ঘটনা, মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে — প্রশ্ন, এই টাকা কোথা থেকে এল?

অধিক উদ্বেগজনক হলো — অফিসের দৃষ্টিকোণ থেকে। অফিসকে সাজানো হয়েছে রাজকীয় স্টাইলে; বিলাসবহুল ফার্নিচার, প্রিপেইড বিল, ডেকোরেশনের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোনো নথি জনসমক্ষে দেখা যায় না। বিল দেখানোর প্রয়োজন হলে ভুয়া বিল বা ভাউচার দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

এলজিইডির নিজস্ব বড় ভবন থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন অফিস ভাড়া নেওয়া হয়েছে — সেটাও প্রশ্নের মুখে। ভাড়া নেওয়া হয়েছে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায়, আগোরা ভবনে, যা “কমার্শিয়াল স্পেস” হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু অফিস ভাড়া ও পরিচালনার জন্য কেন অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সব সাজানো হয়েছে — তারও সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এনামুল বা সংশ্লিষ্ট কেউ।

তবে অভিযোগ শুধু অর্থ লোপাট এবং স্বজন চিনে চাকরি দানে সীমাবদ্ধ নয়। বলা হচ্ছে, এনামুল কবিরের বড় ভাইয়ের নামে করা হয়েছে অর্থ লেনদেন। দুই ভাই মিলে কিনেছেন শত শত বিঘা জমি; গ্রামের বাড়ি থেকে শুরু করে নতুন করে তৈরি হয়েছে রাজকীয় একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। এমন ভাবা হচ্ছে, স্বাভাবিক বেতনের চেয়ে অনেক গুণ বেশি সম্পদ গড়েছেন তারা — কিন্তু তার উৎস কি?

অফিজিয়াল অভিযোগ হলো, অফিস পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছে পিএল এমন এক ব্যক্তি, ফরিদ — যিনি প্রকল্প বা সরকারের কোনো অফিসার নন। তারপরও অফিস ব্যবস্থাপনা, কেনাকাটা, রক্ষণাবেক্ষণ — সব দায়িত্ব তার হাতে। সন্ধ্যার পর অফিসে অতিথি, রাতভর আড্ডা; পৃথক একটি কক্ষ রয়েছে তার জন্য। এমনকি বেশ কিছু দিন হয়, সমাজের সচেতন মানুষ বা সাংবাদিকরা চেষ্টা করে অফিসে যাওয়ার — কিন্তু হয় না। অফিসে আছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ফটক, এবং প্রবেশাধিকার পাওয়া যায় শুধুই এনামুল কবিরের অনুমতিতে। নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ এমন — “মাস্তানসুলভ” — যে, কোনো সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ সেখানে যাওয়ার সাহস পান না। অনেকেই বলছেন, প্রকল্প অফিসে ঢুকতে পারা এমন যেন কোনো মন্ত্রণালয়ের সচিব বা মন্ত্রীর অফিসে ঢোকার সমান ঝামেলার।

এই অভিযোগগুলো শুধু গঞ্জন নয়। ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে, মোহাম্মদ শামীম বেপারী স্বাক্ষরিত চিঠি (নং ৪৬.০০.০০০০.০৬৮.৯৯.০৭১.২৪‑১০৮৭) জারির মাধ্যমে ৩ দিনের মধ্যে তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই নিয়ে শুধু সাম্প্রতিক নয় — আগেও এনামুল কবিরকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যখন তিনি পূর্বে সিলেটে নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন, সেসময়েও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। পরবর্তীতে LGED‑র প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান‑র অধীনে স্টাফ অফিসার ছিলেন এনামুল — তৎকালীন সময়েও ভুয়া বিল এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকত।

কিন্তু ২০২৩–২৪ অর্থবছরে শুরু হওয়া এই জলবায়ু‑প্রকল্পে পিডি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আমূল বদলে গেছে পরিস্থিতি। প্রকল্পকে বলা হচ্ছে এখন পিডির ‘ব্যক্তিগত দলে’ পরিণত — নিয়োগ, অর্থের লেনদেন, অফিস পরিচালনা, আর অফিসের হালচাল সবকিছু তার নিজের নিয়ন্ত্রণে।

সংবাদচেষ্টায় গিয়ে যখন এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এনামুল কবিরকে পাওয়া যায়নি। বরং, তিনি সাংবাদিককে জানিয়েছিলেন — “আমি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নই”। এবং দেওয়া হয়েছে — “দেখে নেওয়ার” হুমকি। এমন আচরণ সামাজিকভাবে আবারও প্রমাণ করলো — শুধু অনিয়ম নয়, ভয়ভীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার তাঁর সাধারণ হাতিয়ার।

এখন প্রশ্ন হলো — একজন সাধারণ ফরিয়া‑ব্যবসায়ীর ঘর থেকে উঠে আসা মানুষ কীভাবে গড়েছেন এমন বিশাল সম্পদ? কীভাবে নিয়োগ দিয়েছেন স্বজনকে, নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা ঘুষ, সাজিয়েছেন বিলাসবহুল অফিস, নিয়েছেন হেলিকপ্টারে যাতায়াত, এবং গড়েছেন নিজের ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য?

সরকার ইতোমধ্যেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, এবং অফিস ডেকোরেশন, জনবল নিয়োগসহ অন্যmany অনিয়মের বিষয়ে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন কোন তথ্য পাওয়া গেলে, বিষয়টি হয়তো আদালত বা তদন্ত কমিটিতে যেতে পারে।

এই মুহূর্তে, প্রকল্পের সঠিক হিসাব, নিয়োগ‑ভেন্ডরদের তালিকা, বিল ও ভাউচার — এগুলো জনসমক্ষে না আসা পর্যন্ত, অনেক প্রশ্নই থেকে যাবে। আর গ্রামের সেই সাধারণ একজন ফরিয়া‑ব্যবসায়ীর সন্তান থেকে “নতুন জমিদার” হওয়া — এ ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা, আর দায়বদ্ধতার বিরুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জ।




ডিপিডিসির তিন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়, তদন্তে নেমেছে দুদক

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি—ডিপিডিসিকে ঘিরে এবার বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্তত তিনটি বড় প্রকল্পে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা অনিয়ম ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ উঠতেই ডিপিডিসিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেকে নাকি চাকরি হারানো বা শাস্তির ভয়েই দিনরাত দুশ্চিন্তায় আছেন। এমনকি কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও ডিপিডিসির ভেতরের সূত্র জানিয়েছে।

দুদক তিন সদস্যের একটি দলকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। গত ৫ মে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ডিপিডিসিকে চিঠি দিয়ে তিনটি প্রকল্পের সব নথি—দরপত্র, বিল, চুক্তিপত্র, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, চালানসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ১৪ মে-র মধ্যে জমা দিতে বলে। পরে ডিপিডিসি সাত দিনের অতিরিক্ত সময় চায়, যা শেষ হওয়ার কথা ২১ মে।

যে তিনটি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই হৈচৈ—
১) পিডিএসডি প্রকল্প (বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন)
২) স্মার্ট মিটার ও উন্নত মিটারিং অবকাঠামো
৩) জিটুজি প্রকল্প (বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ)

দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, জিটুজি প্রকল্পের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেসা, আরও কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু–এর সহায়তায় প্রকল্পে নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করা হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউরোপ থেকে যন্ত্রপাতি আনার কথা থাকলেও আসলে সেসব পণ্য আনা হয় চীন থেকে, অনেক কমদামে। অথচ কাগজপত্রে দেখানো হয় উচ্চমূল্য। এতে প্রকল্পের অর্থ বিদেশে পাচারের সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

ডিপিডিসির একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ একজন ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিতে ইউরোপের নাম ব্যবহার করে দরপত্র দেওয়া হলেও যন্ত্রপাতি চীন থেকেই আনা হয়। তারা আরো বলেন, প্রকল্পগুলোর মধ্যে কিছু ছিল এমন, যেগুলোর বাস্তব প্রয়োজনই ছিল না; শুধু কমিশন ও ব্যক্তিগত সুবিধার আশায় এসব নেওয়া হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া নাকি অনেক ক্ষেত্রেই ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। টার্নকি ভিত্তিতে কাজ দেওয়ার পরও বাস্তবে নানান ত্রুটি ছিল।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় ডিপিডিসি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা—যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস ও আবুল কালাম আজাদ, ডিপিডিসির সাবেক দুই এমডি, জিটুজি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমানসহ কিছু প্রভাবশালী প্রকৌশলী—এই অনিয়মে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ডিপিডিসির কয়েকজন সাধারণ প্রকৌশলী জানান, জিটুজি প্রকল্প আসলে ডেসকোতে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সে সময়কার প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বেশ চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বলেও তাদের দাবি। কিন্তু ডেসকো গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত এটি ডিপিডিসির উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। প্রকৌশলীরা বলেন, কাগজে-কলমে এই প্রকল্পের অনেক কাজকে জনস্বার্থের বলে দেখানো হলেও বাস্তবে তেমন প্রয়োজন ছিল না। একটি দরিদ্র দেশের জন্য এই ধরনের ব্যয়বহুল প্রকল্প অযৌক্তিক বলেই তারা মনে করেন।

তাদের অভিযোগ—প্রকল্পটি মূলত নেওয়া হয়েছিল নানা ধরনের লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল, আমলা এবং প্রকল্পে যুক্ত কিছু কর্মকর্তা নাকি এই সুযোগে মোটা অঙ্কের টাকা বানিয়েছেন।

দুদক জানিয়েছে, অভিযুক্ত বর্তমান ও সাবেক অনেক কর্মকর্তা এখন গোয়েন্দাদের নজরদারিতে রয়েছেন।

ডিপিডিসির পক্ষ থেকে তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ না দিলে এ বিষয়ে আমরা মন্তব্য করতে পারি না।”

এই অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, বিশ্লেষকদের মতে এটি বিদ্যুৎ খাতের আরেকটি বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে ধরা পড়বে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জিটুজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।




গণপূর্তের প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে সম্পদ ও প্রকল্প–অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সার্কেল–৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন—তার জীবনযাপন, সম্পত্তি আর আর্থিক লেনদেন তার সরকারি বেতন–ভাতার সঙ্গে কোনোভাবেই মিলছে না। তাদের মতে, তিনি যত সম্পদের মালিক হয়েছেন, তার অনেকটাই “স্বাভাবিক আয়ের উৎস দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।”

অভিযোগে বলা হয়, ঢাকার মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে প্রায় ৩৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, পশ্চিম আগারগাঁওয়ের ৬০–ফিট রোডের মাথায় চারতলা একটি ভবন, এবং বনশ্রী আমুলিয়া এলাকায় জমি—এসব সম্পত্তির মালিকানা তার নামে বা তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষায়, একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিয়মিত বেতনে এত বড় সম্পদ গড়ে তোলা “বাস্তবে সম্ভব নয়।”

শুধু সম্পদই নয়, প্রকল্প সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ই/এম সার্কেল–৩ এর কিছু প্রকল্পে বিল পরিশোধ, সরঞ্জাম কেনা, কাজের মান যাচাই আর টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। তাদের একজন উল্লেখ করেন যে, একটি প্রকল্পে ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি বিল প্রক্রিয়ায় অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে তাদের নথিতে দেখা যায়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কিছু অভ্যন্তরীণ সূত্রের কথায়ও একই ধরনের অভিযোগ শোনা যায়। তাদের দাবি—মাহবুবুর রহমান কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতেন, কোন ঠিকাদার কাজ পাবেন বা বাজেট কীভাবে সমন্বয় হবে—এসব বিষয়ে তিনি অস্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ রাখতেন। এমনকি সরকারি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের টাকা ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে।

একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—এ ধরনের অভিযোগ খুবই গুরুতর, এবং প্রাথমিক তথ্য মিলে গেলে অবশ্যই তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহার বা আর্থিক কারসাজি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, কোনো সরকারি কর্মচারীর আয়–ব্যয়ের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তারা প্রথমে প্রাথমিকভাবে যাচাই করেন, এরপর প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মাহবুবুর রহমানের সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে, প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডার বণ্টন, বিল প্রক্রিয়াকরণ—এসব জায়গায় তিনি প্রভাব খাটান। অনেকে ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে কিছু বলেন না, তবে গোপনে তথ্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

সর্বশেষ প্রশ্নটি এখনো সবার মুখে—তার সম্পদের প্রকৃত উৎস কী? অভিযোগকারীদের মতে, তার সম্পত্তির পরিমাণ এখন “শত কোটি টাকার কাছাকাছি” হতে পারে, যার কোনো স্বচ্ছ উৎস তাদের কাছে পরিষ্কার নয়।

এই অভিযোগগুলো এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগগুলো সত্য কিনা, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। মাহবুবুর রহমানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।




শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঢাকার সকাল

আবহাওয়া ডেস্কঃ সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকায়ও শীতের আমেজ বাড়ছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।  

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক। অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকবে।

এই সময় উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৬২ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ২৭ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।

অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এছাড়া ভোরের দিকে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে।




খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে তিন বাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধানগণ। 

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে একে একে সেখানে পৌঁছান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। তবে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়। এরপর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।




শৈত্যপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন বার্তা

আবহাওয়া ডেস্কঃ ডিসেম্বর মানেই কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, মোলায়েম রোদ আর রাতের তীব্র শীত। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা কম থাকলেও চলতি মাসে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

সোমবার (১ ডিসেম্বর) এক মাস মেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, ডিসেম্বরে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ সময় দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১-২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এরমধ্যে ১টি নিম্নচাপ/ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে জানানো হয়, চলতি মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে। আর মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে ১-২টি মৃদু (৮-১০° সে.) থেকে মাঝারি (৬-৮° সে.) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এছাড়া দেশের নদী অববাহিকায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিসেম্বরে দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহ থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়।




নভেম্বরে নারী-শিশুসহ নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার ১৮১ জন

ডেস্ক নিউজঃ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নারী ও শিশুসহ মোট ১৮১ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জন কন্যাশিশু ও ১৬ জন নারীসহ মোট ৪৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৫টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান উঠে আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার এসব নারী ও কন্যাদের মধ্যে ১৯ জন কন্যাসহ ২৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ৯ জন কন্যাসহ ১৪ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার হয়েছে ১ জন কন্যাসহ ৩ জন। এছাড়াও ৫ জন কন্যাসহ ৭ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

বিভিন্ন কারণে ৭ জন কন্যা ও ৪৬ জন নারীসহ মোট ৫৩ জন হত্যার শিকার হয়েছে, এরমধ্যে ৪ জন কন্যা ও ২১ জন নারীসহ ২৫ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ৯ জন কন্যা ও ৫ জন নারীসহ ১৪ জন আত্মহত্যার শিকার হয়েছে, এরমধ্যে আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার হয়েছে ২ জন কন্যাসহ ৩ জন। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে ৮ জন কন্যা ও ৩ জন নারীসহ মোট ১১ জন, এরমধ্যে ৭ জন কন্যাসহ ৯ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, ১ জন কন্যাসহ ২ জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছে।

এসিডদগ্ধের শিকার হয়েছে ১ জন কন্যাসহ ২ জন। অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছে ৩ জন নারী। ৬ জন কন্যাসহ ৭ জন অপহরণের ঘটনার শিকার হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছে ৬ জন কন্যাসহ ১২ জন।

শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩ জন কন্যাসহ ১৩ জন। ফতোয়া ঘটনার শিকার হয়েছে ১ জন। বাল্যবিবাহের চেষ্টা করা হয়েছে ১ জন কন্যার। যৌতুকের কারণে হত্যার শিকার হয়েছে ৪ জন নারী। এছাড়াও ৫ জন কন্যাসহ ৮ জন  বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।




জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ

এসএম বদরুল আলমঃ জাতীয় ছাত্র সমাজের সদস্য সচিব মো. আরিফ আলী অভিযোগ করেছেন যে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে প্রচারের যে অপচেষ্টা চলছে—তা “স্পষ্ট মিথ্যাচার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার”।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই জাতীয় ছাত্র সমাজ ও জাতীয় পার্টি রাজপথে সক্রিয় ছিল। অথচ এ সত্যটি গোপন করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা তিনি “নিন্দনীয় ও ধিক্কারযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে তিনি জানান, আন্দোলনের সময়ে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা মেরাজুল ইসলাম এবং জাতীয় অটো শ্রমিক পার্টির নেতা মানিক মিয়া শহিদ হন। ১৩ জুলাই জাতীয় ছাত্র সমাজ আন্দোলনে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায় এবং ১৬ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পর দেশের প্রথম সংগঠিত বিক্ষোভ রংপুরে জাপার ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়—যেখানে পুলিশি হামলায় বহু নেতা-কর্মী আহত হন।

আরিফ আলী বলেন, ১৭ জুলাই আবু সাইদের গায়েবানা জানাজা থেকে শুরু করে ২১ জুলাই তাকে এবং জাতীয় যুব সংহতির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আহম্মেদসহ সাতজনকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়। পরে ১১টি “মিথ্যা মামলা” দিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার এবং ৩৩ জন নেতা-কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়, যা জাতীয় গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জিএম কাদেরের নির্দেশে সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে জাতীয় পার্টির তিন শতাধিক কর্মী টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন।

তার দাবি, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একদফা আন্দোলনে জাতীয় পার্টির প্রকাশ্য একাত্মতা এবং ৫ আগস্ট সরকার পতন পর্যন্ত দলের অবিচল উপস্থিতি—এসব প্রমাণ করে জাপা আন্দোলনের অংশীদার ছিল। “এমন ইতিহাস থাকার পরও যারা জাপাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলছে, তারা জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্তকে অপমান করছে,”—বলেন তিনি।

বিবৃতিতে আরিফ আলী বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সংসদ, জনসভা ও গণমাধ্যমে শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।
তার ভাষায়, তাদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার “রাজনৈতিক হীন স্বার্থের বহিঃপ্রকাশ”।

বিবৃতির শেষে তিনি এ ধরনের “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের” তীব্র প্রতিবাদ জানান।




দুই বছরে শত কোটি টাকার সম্পদ–বিস্তার! তেজগাঁও গণপূর্তের ‘অঘোষিত সম্রাট’ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে টেন্ডার ও বিল–বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ তেজগাঁও গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (ইএম) জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে আসছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য—সরকারি দপ্তরের দায়িত্বে মাত্র দুই বছরেই তিনি নাকি গড়ে তুলেছেন “শত কোটি টাকার অঘোষিত সাম্রাজ্য।” নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন—এমন দাবি করেছে একাধিক সূত্র। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।

জিগাতলা প্রকল্প, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ার এবং রায়েরবাজার বদ্ধভূমি প্রকল্প—এসব কাজকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, জিগাতলায় ১,০০০ বর্গফুটের দুটি ভবনের প্রায় ৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ঠিকাদার মাহবুব কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে নাকি হয় আঁতাত। প্রকৃত কাজ অর্ধেকেরও কম সম্পন্ন হলেও বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে পুরোপুরি, এমনকি কোথাও কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই বিল উত্তোলনের অভিযোগও শোনা গেছে। প্রকল্পের কিছু বিল–নথিতে “অদৃশ্য” বা “অনুপস্থিত” স্বাক্ষর দেখা গেছে—যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নজিরবিহীন বলে দাবি করেছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ারেও উঠে এসেছে আরেকটি বিতর্ক। অভিযোগকারীরা জানান—এনার্জি গ্লাস কোম্পানির সহযোগিতায় বিশেষ লাইটের দাম বাজারদরের তিনগুণ দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল তোলা হয়। শুধু এই প্রকল্পেই প্রায় ৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেছেন, বাজারে যে জিনিসের দাম ১, প্রকল্পের কাগজে তার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩—এবং অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ নাকি গেছে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের পকেটে।

তবে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়াই বিল প্রক্রিয়া করা, একই ব্যক্তির হাতে প্রাকলন প্রস্তুত ও প্রাকলন যাচাই—এসবকেও বড় ধরনের অনিয়ম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জিগাতলা ও রায়েরবাজার প্রকল্প—দুই জায়গাতেই নাকি স্বাক্ষরবিহীন বিলের ঘটনা ঘটেছে। এক প্রকৌশলীর ভাষায়—“স্বাক্ষর আমাদের, টাকা অন্যের।”

নিয়োগ–বাণিজ্য এবং এলাকা–কেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। সূত্রের দাবি, ই/এম বিভাগের উপ–বিভাগ ৩ ও ৪–এ রাজশাহীর একটি নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, যেখানে আত্মীয়–স্বজন বা ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অর্থের বিনিময়ে। একাধিক কর্মী নাকি কাজ না করেও অতিরিক্ত বেতন পেয়ে আসছিলেন। এমনকি কোথাও কোথাও হিসাবসহকারী বা ‘বড়বাবু’র জায়গায় ঠিকাদারের লোকজন দিয়ে কাজ করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনের কাজেও নিন্মমান, দেরিতে সরবরাহ এবং ভুল মালামাল দেওয়ার কারণে উচ্চপর্যায়ের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়—এমনটাও দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের মতে, এর ফলেই শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলমকে বদলি করা হয়।

এছাড়া ২০১২–১৬ সালে বিআইডব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত ডিউটিতে না গিয়েও বেতন নেওয়ার অভিযোগও আবার সামনে এসেছে। একই সময় তার সম্পদ দ্রুত বাড়তে থাকে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবার–ঘনিষ্ঠদের সম্ভাব্য সম্পদ। অভিযোগ অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরে আলিশান বাড়ি, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারে রিসোর্ট বা ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে বহু বিঘা জমি, মিরপুরে ৬ তলা বাড়ি, বসুন্ধরা আবাসিকে ৫ কাঠার ৩টি প্লট, পশ্চিম মনিপুরের মোল্লাপাড়ায় বাড়ি (বাসা নং–৮৯), উত্তরা সেক্টর–১৩–তে স্ত্রী–নামে ফ্ল্যাট (২য় ও ৩য় তলা), স্ত্রীর নামে কোটি টাকার এফডিআর, শাশুড়ীর নামে সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন এবং একটি ব্র্যান্ড–নিউ লেক্সাস হ্যারিয়ার গাড়ির মালিকানা সম্পর্কিত অভিযোগ ইতোমধ্যে দুদকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। অভিযোগকারীরা বলছেন, গত জুলাইয়ে রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে মিছিলও করে।

দুদক সূত্র জানায়, সব অভিযোগ যাচাই করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদ, সম্পদ জব্দ এবং মানি–ট্রেইল অনুসন্ধানসহ সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সচেতন মহল বলছে—এতসব গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।সব মিলিয়ে, জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে যে বিস্তৃত অভিযোগের চিত্র উঠে এসেছে—তা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি বড় সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ককেও ইঙ্গিত করছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে নানা মহলে।




নতুন স্বর্ণভাণ্ডার আবিষ্কারের ঘোষণা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান তাদের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণখনিতে বিশাল নতুন স্বর্ণভাণ্ডার আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) স্থানীয় গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশ হয়েছে। 

পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে অবস্থিত বেসরকারি মালিকানাধীন শাদান স্বর্ণখনিতে নতুন এই শিরা কাঠামো পাওয়া গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি একে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মজুদগুলো শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শাদান স্বর্ণখনির প্রমাণিত মজুদ বিশাল স্বর্ণশিরা আবিষ্কারের পর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেখানে রয়েছে ৭.৯৫ মিলিয়ন টন অক্সাইড স্বর্ণ আকরিক এবং ৫৩.১ মিলিয়ন টন সালফাইড স্বর্ণ আকরিক। অক্সাইড আকরিক সাধারণত উত্তোলন করা তুলনামূলকভাবে সহজ ও কম ব্যয়বহুল।

ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তার জাতীয় স্বর্ণের মজুদের পরিমাণ প্রকাশ করেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বর্ণ কেনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে বলে দাবি করে তারা। গত সেপ্টেম্বর ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদর রেজা ফারজিন বলেন, ২০২৩-২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বে সর্বাধিক স্বর্ণক্রয়কারী পাঁচ ব্যাংকের একটি ছিল।

স্থানীয় গণমাধ্যম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ইয়েকতা আশরাফির উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে স্বর্ণের মজুদ বাড়ানো সহায়ক হবে।

ইরানে মোট ১৫টি স্বর্ণখনি রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জারশোরান খনি। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে পরমাণু কর্মসূচির সামরিকীকরণের অভিযোগ আনার পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়াও, ইসরাইলের নজিরবিহীন হামলার পর শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইসরাইলের সাথে ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করায় দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। অত্যধিক মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের অবমূল্যায়নের কারণে ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক ইরানির কাছে স্বর্ণ একটি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ডলার অনানুষ্ঠানিক বাজারে প্রায় ১১.৭ লাখ রিয়াল এবং ইউরো প্রায় ১৩.৬ লাখ রিয়ালে লেনদেন হয়েছে বলে বিনিময় হার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বোনবাস্ট ও আলানচান্ড তথ্য দিয়েছে।