ঈশ্বরদীতে ৮টি কুকুর ছানাকে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, শহরজুড়ে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মা কুকুরের অজ্ঞাতে জন্ম নেওয়া ৮টি ছানাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।  

সোমবার (১ ডিসেম্বর) নৃশংস ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফেসবুকজুড়ে চলছে নিন্দা, সমালোচনা আর দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরের আবাসিক এলাকায় গেজেটেড ভবনে থাকা এক মা কুকুর সম্প্রতি আটটি ছানা প্রসব করে। রোববার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর হঠাৎ ছানাগুলোকে খুঁজে না পেয়ে মা কুকুরটি এদিক–ওদিক ছুটোছুটি করতে থাকে, পাশাপাশি প্রচণ্ড আর্তচিৎকার করতে থাকে। সারারাত তাকে আবাসিক এলাকা, অফিসার্স ক্লাব ও বিভিন্ন বাড়ির সামনে ঘুরতে দেখা যায়। খাবার দিলেও সে মুখ দেয়নি। তখনও কেউ বুঝতে পারেননি—ছানাগুলোর কী হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনের কেয়ারটেকার জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘‘সোমবার সকালে নয়ন স্যার মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। আমি ছানাগুলোর কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন কিছু জানেন না। তখন তার ছেলে বলে—‘আম্মু নাকি ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।’ এরপর আমরা দ্রুত পুকুরে গিয়ে দেখতে পাই মুখ বাঁধা একটি বস্তা ভাসছে। তুলে এনে খোলার পর ৮টি ছানাকেই মৃত পাওয়া যায়।”

ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাবেক ইউএনও সুবির কুমার দাশ তার মন্তব্যে লিখেছেন, “এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

আরও অনেকেই লিখেছেন, “মানুষ নামের কলঙ্ক”, “ঘৃণিত কাজের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত”, “প্রকৃতি কাউকে ছাড় দেয় না”, “দোষীর তদন্ত হোক” এ রকম অসংখ্য মন্তব্য।

অভিযুক্ত নিশি বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্বামী ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়ন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।’

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘এটা অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা। মা কুকুর ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে; তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইউএনও স্যার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। আমি মামলা করতে পারি কিনা যাচাই করছি—সম্ভব হলে অবশ্যই করব।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পরিষদ চত্বরে সংঘটিত এ ঘটনায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। সকালে আমরা অফিসারদের নিয়ে জরুরি সভা করেছি। তদন্ত চলছে। দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মায়ের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং অতীতের নির্মম স্মৃতি- ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না কেন? তিনি কি নিজের দেশকে ভালোবাসেন না? সত্যটা অনেক গভীর। এর ভিতরে আছে মায়ের জন্য সন্তানের হৃদয়ভাঙা অপেক্ষা, আছে নিরাপত্তার অজানা শঙ্কা, আর আছে ইতিহাসের নির্মমতা।

তারেক রহমান বহুবার বলেছেন যে, বাংলাদেশই তাঁর হৃদয়। বাংলাদেশই তাঁর বাড়ি, তাঁর শেকড়। তাঁর মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যাঁর জন্য তিনি সবসময় ব্যাকুল। মায়ের অসুস্থতার প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর জন্য অসহনীয় কষ্টের। একজন সন্তানের কাছে এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে? প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তাঁর একটাই ভাবনা – কবে আমি মায়ের পাশে দাঁড়াতে পারব?

কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বেগম জিয়ার জরুরি উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। যে কোনো সময় তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে স্থানান্তর করতে হতে পারে। সেই প্রস্তুতি নিয়েই তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান লন্ডনে প্রতিটি দিন কাটাচ্ছেন – বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্বসেরা চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে, চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে, শুধু নির্দেশের অপেক্ষায়। লন্ডন তাদের জন্য এখন বিশ্রামের নিবাস নয়; লন্ডন এখন মায়ের জীবন বাঁচানোর অপেক্ষার ঘর।

এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশে তারেক রহমানের ওপর এখনো গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। অতীতের স্মৃতি তাঁর পরিবার এবং দলের কাছে এখনো তাজা। ফখরুদ্দিন-মইন মদদপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের নামে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। আইনের ন্যূনতম সুরক্ষা পাননি। সমাজের বিবেক – মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটি – তখন নীরব ছিল। তখন ওনার উপর যে ভয়াবহ নির্মমতা হয়েছিল, তা ছিল মানবাধিকারের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। রাষ্ট্র যখন নিজেই প্রতিশোধে মেতে ওঠে, সুরক্ষা ছাড়া দেশে ফেরা বীরত্ব নয় – এটি ফাঁদ।

আজও সেই অজানা ভয়, সেই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সম্ভাবনা একেবারে চলে যায়নি। তাই তাঁর ফিরে আসা শুধু আবেগ নয়, এটি রাজনৈতিক হিসাব, ভবিষ্যতের দায়িত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।

তবু দূরে থেকেও তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণতন্ত্রের অধিকারের জন্য, মানুষের ভোটের মর্যাদার জন্য, দেশকে নতুন ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য যার মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে কৃষি, স্বাস্থ্য, সহ নারী ও তরুণ-যুবাদের জীবন ও জীবিকার উন্নতি। দূরত্ব তাঁর নেতৃত্বকে কমিয়ে দেয়নি; বরং আরও প্রখর করেছে।

যারা প্রশ্ন করেন “এখনই কেন ফিরছেন না?” – তাদের মনে রাখতে হবে: একজন দায়িত্ববান নেতা শুধু আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন না; সঠিক সময়ের অপেক্ষা করেন।

আজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব—মাকে বাঁচানো। আর দেশের জন্য তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি, একদিন ফিরে এসে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার করা।

তারেক রহমানের দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর ফেরা হবে। কিন্তু, তা হবে শক্তভাবে, নিরাপদে এবং দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে। সেই প্রত্যাবর্তন হবে বাংলাদেশের নতুন সূচনার দিন।

লেখকঃ বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ।




ঘুষ, নিম্নমানের সরঞ্জাম আর গোপন ব্যবসা—গণপূর্তের কর্মকর্তা মালিক খসরুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল শাখার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মালিক খসরুকে ঘিরে অনেক দিন ধরেই নানা অভিযোগ ঘুরছে অফিসের ভেতরে। সহকর্মীরা ব্যঙ্গ করে তাকে “মালের খসরু” বলে ডাকেন। কারণ, অভিযোগ আছে—তিনি সরকারি পদে থেকেও টাকা-পয়সার দিকে অতিরিক্ত ঝোঁক দেখান এবং সুযোগ পেলেই সুবিধা নেন।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, মালিক খসরু বহু বছর ধরে ঢাকাতেই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কাজ করছেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী একজন কর্মকর্তাকে বারবার একই এলাকায় রাখার নিয়ম নেই। কিন্তু তার ক্ষেত্রে নাকি অনেক নিয়মই আলাদা ভাবে কাজ করেছে। অভিযোগ আছে—একজন প্রভাবশালী সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ “মুরীদ” হওয়ায় তিনি এমন সুবিধা পেতেন।

অধিদপ্তরের ভেতরের লোকজন বলেন, শামীম আখতারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে খসরু নিজের পদোন্নতি, পদায়নসহ নানা সুবিধা নিতেন। শোনা যায়, এমন সম্পর্কের কারণেই তিনি ই/এম শাখার লোভনীয় পদগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে থেকে গেছেন।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে ঢাকা আজিমপুর সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের বহুতল ভবন ও কার পার্কিং প্রকল্প নিয়ে। খসরু এখানে ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ আছে—প্রকল্প চলাকালীন সময় ঠিকাদারদের কাছে বিভিন্ন অজুহাতে কমিশন দাবি করতেন। যেমন—ফাইল আটকে রাখা, রিপোর্টে সাইন না করা বা সাইট ভিজিট প্রয়োজন—এসব দেখিয়ে নাকি তাদের চাপ দিতেন। কিছু ঠিকাদারের ভাষায়, “টাকা ছাড়া তিনি কোনো কাগজ সই করতেন না।”

আরও অভিযোগ আছে—আজিমপুরের কয়েকটি ভবনে যেসব সাবস্টেশন, জেনারেটর, ফায়ার সেফটি বা ইলেকট্রিকাল সরঞ্জাম বসানো হয়েছে, সেগুলোর মান অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বল। ঠিকাদারদের দাবি, মালিক খসরু ইচ্ছে করেই কম দামের ব্র্যান্ড অনুমোদন করতেন, কারণ সেখান থেকেই নাকি কমিশন পাওয়া সহজ ছিল। এ কারণে ভবনগুলোর কিছু জায়গায় এখন বিদ্যুৎ সমস্যা, ফায়ার অ্যালার্ম না বাজা বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।

অর্থবছর ২০২৪–২৫ এ ছোটো কিছু মেরামত কাজের পাশাপাশি প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের সাবস্টেশন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের বড় কাজও ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, এই বড় কাজ থেকেই তিনি ঠিকাদারের সঙ্গে গোপন লেনদেন করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন।

আরেকটি বড় অভিযোগ হলো—মালিক খসরুর নামে ও তার পরিবার-আত্মীয়দের নামে নাকি বেশ কিছু ব্যাংক হিসাব রয়েছে। গোপন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—ঘুষ নেওয়ার টাকাগুলো এসব হিসাব ব্যবহার করে লেনদেন করা হত। এমনকি, কিছু টাকা বিদেশেও পাঠানো হতো বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। খিলগাঁওয়ে অ্যাপার্টমেন্ট, টাঙ্গাইলে জমি, ডেভেলপার ব্যবসায় সম্পৃক্ততা—এসব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কিছু ঠিকাদার অভিযোগ করেন, খসরুর সঙ্গে কাজ করতে গেলে তাদের ব্যক্তিগত আপ্যায়ন পর্যন্ত করতে হত—হোটেলে খাওয়ানো থেকে শুরু করে বাইরে ঘোরানো পর্যন্ত। তবুও নাকি তিনি সাইটে গিয়ে নানা কারণে হয়রানি করতেন।

অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন—বেশি প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ খুব কম আসে। অভিযোগ এলেও তদন্ত অনেক সময় এগোয় না। কারণ, অভিযোগ এসেছে—উচ্চ পর্যায় থেকে ফোন যায় মামলা বা তদন্ত থামানোর জন্য।

এখন দুদক ও অর্থনৈতিক গোয়েন্দা ইউনিট তার সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব ও লেনদেন নিয়ে নজরদারিতে রেখেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর পক্ষে এত সম্পদ অর্জন স্বাভাবিক নয়। তাই প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।




প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর সন্তুষ্ট ৭০ শতাংশ মানুষ: আইআরআই জরিপ

ডেস্ক নিউজঃ মার্কিন ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে রিপাবলিকান পার্টি-ঘনিষ্ঠ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে জানিয়েছে যে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ ব্যাপক আস্থা প্রকাশ করেছেন।  

এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৯ শতাংশ বলেছেন যে, ড. ইউনূস ভালো কাজ করছেন এবং ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট।

আইআরআই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র পরিচালক জোহান্না কাও বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে মানুষ অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন। তার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের এই আস্থা স্থিতিশীলতা, জবাবদিহি ও সংস্কারের ব্যাপক প্রত্যাশা তুলে ধরে।’

এই জরিপটি ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চের পক্ষে একটি স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সিএপিআই (কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউয়িং) পদ্ধতিতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

জরিপে ৪ হাজার ৯৮৫ জন অংশগ্রহণ করেন, যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশের আটটি বিভাগের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তবে রাঙামাটি জেলা থেকে কোনো নমুনা বাছাই করা হয়নি। জরিপকারীদের দাবি, এই জরিপের আস্থার পরিমাণ ৯৫ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৪ শতাংশ এদিক-সেদিক হতে পারে।

জরিপে দেখা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আগ্রহও অনেক। ভোট দিতে খুবই আগ্রহী বলে জানিয়েছে ৬৬ শতাংশ ভোটার, আর ২৩ শতাংশ কিছুটা আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে বিশ্বাস করেন জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ লোক।

পরিচালক কাও আরও বলেন, ‘বাংলাদেশিদের এই উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রমাণ করে সংস্কার প্রক্রিয়া ধরে রাখা এবং নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ আইআরআই নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে জনমত জরিপ পরিচালনা করে থাকে এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল ও ইস্যুভিত্তিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ করছে।




জেলা ট্রাক ট্যাংলরী ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সভাপতি জালাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, রেল শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল মতিন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উমর ফারুক বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

দোয়া মাহফিল শেষে নেতারা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে থাকার আহ্বান জানান।




হাইওয়েতে বসছে ১৪০০ ক্যামেরা, ডিজিটাল জরিমানা যাবে মালিকের মোবাইলে

ডেস্ক নিউজঃ হাইওয়ে পুলিশের নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বড় পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন হাইওয়েতে ১৪০০ আধুনিক ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। যার মাধ্যমে এখন থেকে শুধু গতি নয় বরং সড়কের প্রতিটি অনিয়ম ধরা পড়বে রিয়েল–টাইমে। এমনকি ওভারস্পিড থেকে শুরু করে যেকোনো সড়ক লঙ্ঘনের জরিমানা ডিজিটালি ফাইল করা হবে, আর সেই তথ্য সরাসরি গাড়ির মালিকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নে সড়ক নিরাপত্তা আইন: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব তথ্য জানান।

হাবিবুর রহমান বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে ওভার স্পিডসহ যেকোনো আইন লঙ্ঘনের জরিমানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির মালিকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে। আদালতে ব্যবহারের জন্য ডিজিটাল প্রমাণও সংরক্ষণ করা হবে, যা সড়ক নিরাপত্তায় নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে চলেছে।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি জানান, মূল মহাসড়কে নজরদারি বাড়াতে ঢাকা–চট্টগ্রাম বৃত্তের বাইরে পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল মনিটরিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪০০ ক্যামেরা সক্রিয় আছে, যা তার ভাষায় “হাইওয়ের প্রায় প্রতি ইঞ্চি কভার করছে।”

ডিজিটাল জরিমানার নতুন পদ্ধতি প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, হাইওয়ে পুলিশ আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে জরিমানার পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল করার লক্ষ্য নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায়— ক্যামেরা ওভার স্পিড, সিগন্যাল ভায়োলেশন বা যেকোনো সড়ক অপরাধ শনাক্ত করবে। সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বরের সঙ্গে যুক্ত মালিকের মোবাইলে যাবে। বার্তায় জানানো হবে কোথায়, কী কারণে এবং কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এমনকি নির্দিষ্ট ব্যাংকে অনলাইনে জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

হাবিবুর রহমান বলেন, এখন আর পুলিশের হাতে ধরে ফাইন দেওয়ার দিন শেষ। পুরো প্রক্রিয়াটাই ডিজিটালভাবে চলবে।

গতি নয়, সন্দেহজনক আচরণও নজরদারিতে থাকবে উল্লেখ করে তিনি জানান, নতুন ক্যামেরাগুলোর কার্যক্ষমতা শুধু যানবাহনের গতি শনাক্ত করার মধ্যে সীমিত নয়। সেগুলো মুভমেন্ট অ্যানালাইসিস, ক্রাউড ডিটেকশন ও সন্দেহজনক আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

এ সময় তিনি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ও টাইম-স্ট্যাম্পড ডেটা আদালতে স্বীকৃত ডিজিটাল এভিডেন্স হিসেবে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান। ডিআইজি বলেন, আদালতে এখন থেকে মানুষের মুখের কথার চেয়ে ডিজিটাল প্রমাণের শক্তি বেশি হবে। এতে মামলা জেতা কঠিন হবে না।




খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মোদির গভীর উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজঃ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মোদি লেখেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা জেনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বহু বছর ধরে তিনি বাংলাদেশের জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, তার (খালেদা জিয়া) দ্রুত আরোগ্যের জন্য আমাদের আন্তরিক প্রার্থনা ও শুভকামনা রইল। ভারত যেকোনোভাবে, যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

6fb5085dd7ce87f2da4a4f9d71a84d0f-692dc59eb8658

গত রোববার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। বুধবার তার অবস্থা সংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়। তবে সবশেষ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র,সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর ও চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত বোর্ডের চিকিৎসায় তিনি সাড়া দিচ্ছেন বলে জানা যায়।

সোমবার দুপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান গণমাধ্যমকে জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। খুবই ডিপ কন্ডিশনে। এটাকে আপনারা ‘ভেন্টিলেশন’ বলতে পারেন।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।




খালেদা জিয়াকে ‘ভিভিআইপি’ ঘোষণা, নিরাপত্তায় পাবেন এসএসএফ

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। 

আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হলো। ইহা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রসঙ্গত, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় গত কয়েক দিন থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।




দুর্যোগ কবলিত শ্রীলঙ্কায় ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজঃ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা কবলিত শ্রীলঙ্কার জনগণের জন্য বাংলাদেশ সরকার আগামী ৩ ডিসেম্বর (আবহাওয়া অনুকূল থাকলে) মানবিক সহায়তা হিসেবে ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকারী দল পাঠাবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দু’টি বিশেষ বিমানে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল দেশটিতে পাঠানো হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিএমইএ, এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেড এ উদ্দেশ্যে একযোগে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া’র প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধ্বসে আজ সোমবার পর্যন্ত ৩৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং কমপক্ষে ৩৬৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় এবারের বন্যায় ২০ হাজারের অধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে দেশটির সরকার।




পর্তুগালে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীদের ঐক্যের নতুন অধ্যায়- ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি অব পর্তুগালের নতুন কমিটি ঘোষণা**

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা, সংগ্রাম আর নিজের শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা—এই তিন অনুভূতিকে একসূত্রে গেঁথে পর্তুগালে বসবাসরত ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছেন। সেই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় প্রবাসীদের কল্যাণ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটির ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি অব পর্তুগাল–এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পর্তুগালপ্রবাসী সুপরিচিত কমিউনিটি সংগঠক কাজী আনোয়ার হোসেন কায়েফ।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ সমাজকর্মী সোহাগ হাসান, আর সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সাব্বির মাহমুদ।

উপদেষ্টা পরিষদে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ কমিউনিটি নেতারা

ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীদের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, সেসব অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এতে রয়েছেন— শাহাদাত হোসেন শাহিন, নাছির হোসেন, রেজাউল করিম আবেদ, ফারুক হোসেন, খোকা মিয়া, জাবেদ মিয়া, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুজিবুর রহমান, আব্দুস সাত্তার, আকরামুল ইসলাম, শাহেদ সোহেল, জহিরুল ইসলাম ও তুহিন মিয়া।

নতুন কমিটির ঘোষণাকে ঘিরে কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— শেখ সুমন, কাজী আসলাম, মনির হোসেন, মাহাদী জয়, শাহেদ মোল্লা, এরশাদ মিয়া, ফেরদৌস মিয়া, বাবু শিকদার ও আতিক আল মামুন।

কমিউনিটির সুনাম রক্ষায় অঙ্গীকার

নবনির্বাচিত সভাপতি কাজী আনোয়ার হোসেন কায়েফ বলেন,
“প্রবাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুনাম ধরে রাখা ও কমিউনিটির ঐক্য সুদৃঢ় করতে কাজ করব। প্রবাসীদের কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা শুধু দেশের অর্থনীতির সহায়ক নন; তাঁরা দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। তাই কমিউনিটির প্রতিটি সদস্যকে সম্মান, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করাই হবে নতুন নেতৃত্বের মূল দায়িত্ব।

সবার প্রত্যাশা—প্রবাসীদের স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা

নবগঠিত কমিটি নিয়ে কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের মতে, সুশৃঙ্খল একটি কমিটি প্রবাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীদের ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সহায়তা, মানবিক সহযোগিতা এবং নতুন প্রবাসীদের দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন— “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পরিশ্রমী, ঐক্যবদ্ধ এবং মানবিক কাজের প্রতি আগ্রহী। পর্তুগালে এই কমিউনিটি সেই ভাবমূর্তি ধরে রাখবে। নতুন কমিটির মাধ্যমে প্রবাসীরা আবারও এক নতুন শক্তিতে সংগঠিত হবে।”

কমিউনিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নতুন কমিটি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • প্রবাসীদের জরুরি সহায়তা সেল।
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের জন্য তথ্য–উপাত্তভিত্তিক ডাটাবেজ।
  • নতুন প্রবাসীদের সহায়তা ও দিকনির্দেশ।
  • ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন।
  • মৃত্যু ও দুর্ঘটনায় সহযোগিতা তহবিল।
  • স্থানীয় পর্তুগিজ সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন।

কমিউনিটির সদস্যদের বিশ্বাস, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু প্রবাসীদের উপকারেই নয়, দেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সবার শুভেচ্ছা, সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি অব পর্তুগালের নতুন কমিটি তাদের যাত্রা শুরু করল। প্রবাসের মাটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ঐক্য, সুনাম ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাবে—এমনই প্রত্যাশা সকলের।