নিয়ম ভেঙে রাজউকে গণপূর্তের তিন প্রকৌশলীর পদায়ন, ক্ষোভে ফুঁসছে কর্মকর্তারা

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে তিন সহকারী প্রকৌশলী—রকিবুল হাসান, মেহেদী রায়হান নাদিম এবং হাসানুর রেজাকে—রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ‘অথরাইজড অফিসার’ হিসেবে প্রেষণে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এ পদায়ন ঘিরে রাজউকের ভেতরে বেশ অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এ ধরনের দায়িত্ব সাধারণত পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী প্রকৌশলী বা সমমানের কাউকে দেওয়া হয়। অথচ যাদের পাঠানো হয়েছে, তারা সবাই ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী।

রাজউকের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, অথরাইজড অফিসার হতে হলে কমপক্ষে পঞ্চম গ্রেডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) বা সহকারী প্রধান স্থপতি, উপস্থপতি, উপনগর পরিকল্পনাবিদ হতে হয়। নিচের পদের কেউ এ দায়িত্ব নিতে পারেন না। অথচ এই তিনজনের পদবি সহকারী প্রকৌশলী, যা নিয়মের সঙ্গেই যায় না। অভিযোগ আরও আছে, রাজউকের নিজস্ব ১১ জন অথরাইজড অফিসার থাকলেও তাদের কাজ দেওয়া হচ্ছে না, বরং তাদের পাশ কাটিয়ে গণপূর্ত থেকে নতুন লোক আনা হচ্ছে—যা স্বাভাবিক নয় এবং প্রশ্ন তোলে পদায়নের উদ্দেশ্য নিয়ে।

আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৯ সালে দুই সহকারী প্রকৌশলীকে একইভাবে রাজউকে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তখন যোগ্যতার অভাবে তারা রাজউকে যোগ দিতে পারেননি, এবং পরে মন্ত্রণালয় সেই আদেশ বাতিল করে। এবারও অনেকে মনে করছেন, একই নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত আবার পুনরাবৃত্তি হল।

এই প্রেষণ আদেশে স্বাক্ষর করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাসমিন ফারহানা। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই তিনজন যদিও সহকারী প্রকৌশলী, তবে তারা গণপূর্তে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব সামলেছেন। আর তারা রাজউকে গেলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর বেতন পাবেন না—সহকারী প্রকৌশলীর বেতনই পাবেন। তাঁর মতে, তাই এটিকে বড় ধরনের নিয়মভঙ্গ বলা যাবে না। তবে তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে বিষয়টিতে বিতর্কের জায়গা আছে।

অন্যদিকে রাজউকের বোর্ড সদস্য (প্রশাসন) গিয়াস উদ্দিনের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি দেশের বাইরে আছেন এবং এখনো এ ধরনের কোনো আদেশের খবর পাননি। দেশে ফিরে অফিসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।

সব মিলিয়ে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও গণপূর্তের তিন প্রকৌশলীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো নিয়ে রাজউকের ভেতরে ব্যাপক ক্ষোভ, প্রশ্ন আর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।




আজিমপুর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: মালিক খসরুকে ঘিরে প্রশ্নে সরগরম গণপূর্ত

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল শাখার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মালিক খসরু দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। সহকর্মীদের একাংশ তাকে কটাক্ষ করে ডাকেন “মালের খসরু”—নামটি নাকি এসেছে তার বিরুদ্ধে বছরের পর বছর জমতে থাকা টাকার লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগ থেকে। অভিযোগের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সরকারি চাকরিতে থেকেও টাকার প্রতি অস্বাভাবিক আগ্রহ দেখিয়ে অফিসের ভেতরে ভীতি ও প্রভাব তৈরির পরিবেশ বানিয়ে ফেলেছেন।

সাধারণ নিয়মে সরকারি কর্মকর্তাদের তিন বছর পর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও মালিক খসরু ঢাকাতেই ৩, ৫ ও ৭ নম্বর ডিভিশনের “আকর্ষণীয়” পোস্টে টানা এক দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। অধিদপ্তরের বিভিন্ন সূত্র দাবি করে, এক সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর “আধ্যাত্মিক ঘনিষ্ঠতা” তাকে সব সময় ঢাকায় রাখার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল। একই অফিসে থেকেই তার পদোন্নতি হওয়াও অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আজিমপুরে সরকারি আবাসিক ভবন ও কার পার্কিং প্রকল্পে তার দায়িত্ব পালনকে ঘিরে। বিভিন্ন ঠিকাদার এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র অভিযোগ করছে—মালিক খসরু নাকি ফাইল আটকে রেখে কমিশন আদায় করতেন, সাইট ভিজিট বা রিপোর্ট সই করার আগে টাকা দাবি করতেন, এমনকি কারও বিল দেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা অজুহাতে চাপ তৈরি করতেন। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছে, “টাকা না দিলে কাগজে সই পাওয়া যেত না,” এবং “হোটেলে আপ্যায়ন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সুবিধা—সবকিছুর দাবি ছিল।”

ইলেকট্রিক্যাল সাবস্টেশন, জেনারেটর, সোলার প্যানেল, ফায়ার সেফটি সহ নানা যন্ত্রপাতিতে নিম্নমানের ব্র্যান্ড অনুমোদনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, কম দামের পণ্য পাস করাতেই নাকি তার কমিশন বেশি উঠত। এর ফল হিসেবে আজিমপুরের ভবনগুলোতে বারবার বিদ্যুৎ সমস্যার সৃষ্টি, ফায়ার সিস্টেম অকার্যকর হওয়া, যান্ত্রিক যন্ত্রপাতির দ্রুত নষ্ট হওয়া—এগুলো দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। এতে বাসিন্দারা ঝুঁকিতে পড়ছেন এবং ভবিষ্যতে সরকারের বাড়তি খরচের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—মালিক খসরুর পরিবারের সদস্যদের নামে ২৫টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। পাশাপাশি খিলগাঁওয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিশাল জমি, এমনকি ঠিকাদারদের সঙ্গে যৌথ ব্যবসা করার অভিযোগও শোনা যায়। কিছু সূত্র দাবি করেছে, নামে-বেনামে তার সম্পদের পরিমাণ নাকি ২০ কোটি টাকারও বেশি, যার একাংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো এবং পরে দেশে ফেরত আনার অভিযোগও আলোচনা হয়।

অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, পরিবারের নামে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান—যেমন ব্রাদার্স ইলেকট্রিক—গণপূর্তের প্রকল্পে অংশ নিয়েছে বলেও অভিযোগ আছে, যা স্পষ্টভাবে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে। ঠিকাদারদের কেউ কেউ বলছেন, “কাজ না দিলে হুমকি, আর কাজ দিলে কমিশন না দিলে বিল আটকে রাখা—এটাই ছিল নিয়ম।”

তবে অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগ আছে ঠিকই, কিন্তু লিখিত অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।” আবার অন্য সূত্রের দাবি—অভিযোগ উঠলেই নাকি “উচ্চ পর্যায় থেকে ফোন এসে ফাইল থামিয়ে দেওয়া হয়,” আর সেখানে তদন্ত এগোয় না।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কীভাবে এত সম্পত্তি গড়লেন? তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিদেশ যাতায়াত বা অর্থ লেনদেন—এসব কি কখনও খতিয়ে দেখা হয়েছে?

আজিমপুর প্রকল্পের এই বিতর্ক এখন আরও বড় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে—গণপূর্তের ভেতরে স্বচ্ছতা কি আদৌ সম্ভব, যদি এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়?




নবম পে স্কেলের ‘বাস্তবসম্মত সুপারিশ’ চূড়ান্ত পর্যায়ে

ডেস্ক নিউজঃ নবম পে স্কেল প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মতামত সংগ্রহে কমিশন ব্যস্ত সময় পার করছে। সব মন্ত্রণালয়ের ৭০-এর বেশি সচিবের সঙ্গে চার দফায় বৈঠক করে তাদের প্রস্তাবিত মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সচিবরা আকাশচুম্বী বা অপ্রত্যাশিত সুপারিশ না করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রস্তাব দিয়েছেন।

পে কমিশন সূত্রে জানা যায়, অনলাইনের মাধ্যমে মতামত গ্রহণের পাশাপাশি এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। সবশেষ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের মূল্যবান মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে, যা সুপারিশ প্রণয়নে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সচিবদের মতামত সংগ্রহ করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই ধাপে ধাপে সভা আয়োজন করা হয়। তাদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ মতামতগুলো বর্তমানে পর্যালোচনা হচ্ছে। আশা করা যায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিশন সুপারিশ জমা দিতে পারবে।’

কমিশনের সদস্যরা জানান, সুপারিশ চূড়ান্ত করতে পূর্ণোদ্যমে কাজ চলছে। এ পর্যন্ত কাজের অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো এবং গ্রেড পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।




তাপমাত্রা নিয়ে নতুন বার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস

আবহাওয়া ডেস্কঃ আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (১ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। ভোরের দিকে দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে এবং সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারাদেশে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। ভোরের দিকে উত্তরপূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই অবস্থা বজায় থাকার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভোরের দিকে উত্তরপূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে এবং সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




স্বপ্ন ও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে আসছে অপো এ৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ও’ ফ্যানস ফেস্টিভালে নিজেদের আসন্ন ফোনটি নিয়ে আসতে যাচ্ছে অপো। নতুন প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে এটি নিয়ে আসা হচ্ছে। যারা কৌতুহলি, আশাবাদী ও প্রত্যাশায় ভরপুর জীবনে সামনে এগিয়ে যেতে চায়, তাদের জন্য এই স্মার্টফোনটি নিয়ে আসা হচ্ছে। এই ফোনটি এমন এক প্রজন্মের জন্য, যাদের কৌতূহল নিয়ে ঘুম ভাঙে, প্রতিটি সকালেই যারা নতুন আশায় বাইরে পা রাখে, এবং সামনে পথটা মসৃণ না হলেও থেমে না গিয়ে এগিয়ে চলে।
ডিভাইসটির মূল আকর্ষণ হলো এর রঙ, যা শান্ত সোনালী আবরণের মধ্যে অরোরার মতো। এর ম্যাট ফিনিশিং টেকনিক, লেয়ারড ইউভি ইনার প্যাটার্ন, উন্নত কোটিং প্রসেস ও মাল্টি-লেভেল ইঙ্ক অ্যাপ্লিকেশনের ডিজাইন আলো ধরার সাথে সাথে সূক্ষ্মভাবে পরিবর্তিত হয়। এর স্মুথ ও স্কিন-ফ্রেন্ডলি ফিল তরুণদের ভেতর থেকে আত্মবিশ্বাস জোগায়। ঠিক যেভাবে তরুণ স্বপ্নবাজরা ভিন্ন ভিন্ন মুহূর্তে ভিন্নভাবে জ্বলে ওঠে, খুঁজে দেখে, চেষ্টা করে, ব্যর্থ হয়, আবার বড় হয়।
গভীরতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সমন্বয়ে ডিভাইসটির দ্বিতীয় রঙটি নিয়ে আসা হয়েছে। এতে রয়েছে ম্যাট টেক্সচার, যা স্ক্র্যাচের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করে দীর্ঘসময় টিকে থাকতে সক্ষম; শত প্রতিকূলতার মাঝেও যা নিরবে টিকে থাকে। এটি যেন তাদের সেই মানসিকতা যারা থামে, পর্যবেক্ষণ করে, আলাদা করে ভাবে, তারপর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যায়।
এই ডিভাইসটি তৈরি হয়েছে সেই তরুণদের ছন্দ অনুযায়ী, যারা সুযোগের অপেক্ষা করে না, তারা সুযোগ তৈরি করে। তাদের সবসময় হয়তো কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে না, কিন্তু লক্ষ্য থাকে। তারা সূর্যাস্তের ছবি তোলে নতুন কল্পনা শুরু করে, বন্ধুদের সাথে হঠাৎ হাঁটতে বের হয়, ক্লাসের মাঝে নোট লিখে রাখে, এবং থেমে না থেকে এগিয়ে চলে। নিজেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য নয়, বরং তাদের বিকশিত পরিচয়কে পরিপূর্ণ করতে; এটি সূর্যোদয়ের মতো, কিন্তু সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ।
উপকরণ ও নির্মাণপ্রক্রিয়া অপোর এই ডিজাইন ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। ম্যাট ফিনিশ ঝলক কমিয়ে দেখায় আরামদায়ক, আর ভিতরের স্তরযুক্ত প্যাটার্ন ডিভাইসের বাহ্যিকতায় গভীরতা যোগ করে। একাধিক কোটিং এটিকে দীর্ঘদিন পরিষ্কার ও স্থিতিশীল রাখে। প্রিমিয়াম ফ্রস্টেড-গ্লাস ধরনের স্পর্শ ব্যবহারকারীর হাতে আনে নিশ্চিত ও আরামদায়ক অনুভূতি।
প্রাকৃতিক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে এর উপাদান ও কারিগরি দিকগুলো বাছাই করা হয়েছে। যেখানে এর একাধিক আবরণ দীর্ঘস্থায়ী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। প্রিমিয়াম ফ্রস্টেড গ্লাসের মতো ডিভাইসটি স্বস্তিদায়ক অনুভূতি নিশ্চিত করে। ডিভাইসটি নিয়ে আসার পেছনে মূল কারণ হিসেবে রয়েছে ‘পাওয়ার টু গো বিয়ন্ড’ ধারণা।
ভোরের অভিযান থেকে রাতের নীরব মুহূর্ত, বন্ধুদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া থেকে শুরু করে দিনশেষের আকস্মিক চিন্তা পর্যন্ত—এই ডিভাইসটি তরুণ ব্যবহারকারীদের জীবনধারার সাথে স্বাভাবিকভাবে অভিযোজিত হতে তৈরি করা হয়েছে। শক্তিশালী ডিজাইন ও নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স ব্যবহারকারীদের প্রতিটি পদক্ষেপে সঙ্গ দেয়, যা ব্যস্ত ও সক্রিয় দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলে।
সকালের অ্যাডভেঞ্চার থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা, যাই হোক না কেন, ডিভাইসটি তরুণদের যথার্থ সঙ্গী হতে প্রস্তুত। ও’ ফ্যানস ফেস্টিভালকে সামনে রেখে এই অনবদ্য ডিভাইসটি নিয়ে আসতে যাচ্ছে অপো, যা বিদ্যমান প্রযুক্তিকে ছাড়িয়ে যেতে প্রস্তুত।
বিস্তারিত জানতে অপো বাংলাদেশের ওয়েবসাইট https://www.oppo.com/bd/ বা অপোর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/OPPOBangladesh ভিজিট করুন।



আজ থেকে বিজয়ের মাস শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ডিসেম্বরের প্রথম দিন আজ। শুরু হলো আমাদের বিজয়ের মাস। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে এ মাসেই জাতির চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ধরা দেয় হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে এ জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবের অধ্যায় রচিত হয়। বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়। এ মাসেই পূরণ হয় বাঙালি জাতির হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্নসাধ। বছর ঘুরে আবার এসেছে সেই বিজয়ের মাস।

বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় আসে এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূখণ্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।

বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হওয়ার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এ অর্জন হওয়ায় বেদনাবিধুর এক শোকগাঁথার মাসও এ ডিসেম্বর।

এ মাসেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাদের সহযোগীদের নিয়ে দেশের মেধাবী, শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেওয়ার এ ধরনের ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের দ্বিতীয় কোনো নজির বিশ্বে নেই।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর জল, স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে।

১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।




সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু, ১১০০ পর্যটক নিয়ে কক্সবাজার ছাড়লো তিন জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় চালু হয়েছে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। মৌসুমের প্রথম দিন সোমবার সকাল ৭টায় নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে ১,১০০ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয় এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও কেয়ারি সিন্দাবাদ।

জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ট্যুরিস্ট পুলিশের কঠোর তদারকিতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণ ও প্লাস্টিক ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সচেতনতার অংশ হিসেবে প্রথম দিন যাত্রীদের হাতে অ্যালুমিনিয়ামের পানির বোতল তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান।

সকালে ঘাটে এসে পর্যটকদের স্বাগত জানান জেলা প্রশাসকসহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম, কক্সবাজার সদরের ইউএনও নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। তারা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন তদারকি করেন।

সরকার ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা মেনে সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম দিনের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়েছিল এবং তিনটি জাহাজে মোট ১,১০০ যাত্রী দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন।

‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, মৌসুমের প্রথম যাত্রার সব প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে যাত্রা শুরু করা গেছে। আগামী মৌসুমে কমপক্ষে চার মাস রাত্রিযাপনের সুযোগ মিললে জাহাজ মালিকরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশ উন্মুক্ত হলেও রাত্রিযাপন নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে এতদিন কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। এবারও নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে চারটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন।

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছাড়বে এবং পরদিন দুপুর ৩টায় কক্সবাজারে ফিরবে। টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে, যা ছাড়া কোনো টিকিট বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না। জেটিঘাটে টিকিট যাচাইয়ে ২০ জন ভলান্টিয়ার দায়িত্ব পালন করছেন; একইভাবে ভলান্টিয়ার থাকবেন সেন্টমার্টিনেও।

দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের আগমনে সেন্টমার্টিনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তবে জেটিঘাটের নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি আলী হায়দার জানান।

দ্বীপের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, গত এক দশক ধরে পর্যটনই স্থানীয়দের প্রধান জীবিকা। যেকোনো সংকট সত্ত্বেও পর্যটকদের আতিথেয়তায় ঘাটতি রাখা হবে না।

সেন্টমার্টিনের নাজুক প্রতিবেশ ব্যবস্থা রক্ষায় ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো নিষেধ, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান-বারবিকিউ নিষিদ্ধ, কেয়াবনে প্রবেশ বা কেয়াফল সংগ্রহ নিষিদ্ধ, কাছিম–পাখি–রাজকাঁকড়া–প্রবালসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন সকল কার্যক্রম বন্ধ, মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ এবং প্লাস্টিকমুক্ত দ্বীপ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত। পরিবেশ অধিদপ্তর পর্যটকদের বিনামূল্যে অ্যালুমিনিয়াম বোতল সরবরাহ করছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, প্লাস্টিক দূষণ কমাতে অ্যালুমিনিয়াম বোতল ব্যবহারে কঠোরতা আনা হয়েছে। এটি সফলভাবে কার্যকর হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, “সেন্টমার্টিন আমাদের জাতীয় সম্পদ। পরিবেশ রক্ষা ও দায়িত্বশীল পর্যটনের স্বার্থে নির্দেশনা মেনে চলা সবার দায়িত্ব।” প্রশাসন, জাহাজ মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত তদারকির মধ্য দিয়ে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।




মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে গোপন টেন্ডারে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ!

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহসিন উদ্দিন ফকিরের অনিয়ম দুর্নীতি লিখে শেষ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্নীতির নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ২০২৪ সালের জুন মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বর্জ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও অপসারণ খাতে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ পান। সেই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় ড্রাম ও পলিথিন ক্রয় করার জন্য। কিন্তু তিনি ঐ টাকা আত্মসাৎ করার জন্য পত্রিকায় ঘুপচি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে অতি গোপনে ফরিদপুরে একজন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করেন। ঐ ঠিকাদার নাকি তার নিকট আত্মীয়। এই টেন্ডারের বিষয়টি মাগুরার কোন ঠিকাদার জানতে পারেন নি।

গোপনে খাতা কলমে পেপার ওয়ার্ক ঠিক রেখে তিনি সামান্য ৫/১০ লাখ টাকার ড্রাম ও পলিথিন কিনে বাকি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি কেউ জানতে না পারলেও একজন ঠিকাদার এজি অফিস সুত্রে জানতে পারেন যে, সুপার ডাঃ মোহসিন উদ্দিন ফকির এই খাতে বরাদ্দকৃত ৫০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। পরবর্তীতে স্টার কীপার গৌতম কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।

অভিযোগকারীদের মতে ২০২৪ সালের জুন মাসে যদি ৫০ লাখ টাকার ড্রাম ও পলিথিন ক্রয় করা হয় তবে তা এখনো স্টোরে জমা থাকার কথা। কিন্তু সেটাতো খাতা পত্রে ছাড়া বাস্তবে পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে সেগুলো গেল কোথায়?

এ বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও দুদকের তদন্তের দাবী জানানো হয়েছে।




লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট পৌরসভার তিনদিঘী এলাকায় আলোচিত আব্দুল জলিল হত্যা মামলায় স্ত্রী মমিনা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আনোয়ার হোসেন মিঠু।

দণ্ডপ্রাপ্ত মমিনা বেগম (২৭) জেলা শহরের মাঝাপাড়া এলাকার রহমত আলী মোল্লার মেয়ে। তার প্রেমিকা গোলাম রব্বানী সদর উপজেলার কিসমত ঢঢগাছ (পাঙ্গাটারি) এলাকার রমজান মুন্সির ছেলে।

মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, ২০২১ সালের ২১ জুলাই রাতে পরকীয়ার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পরিকল্পনা করে জলিলকে হত্যা করা হয়। প্রথমে তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়, পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন জলিলের ভাই আব্দুর রশিদ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মাহমুদুন নবী আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে আদালত এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আনোয়ার হোসেন মিঠু বলেন, চার বছরের শুনানি শেষে প্রমাণিত হয়েছে যে জলিলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। তাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর নিহতের ভাই আব্দুর রশিদ বলেন, আসামিদের ফাঁসি হলে আমাদের মনটা আরও শান্ত হতো। তারা পরিকল্পিতভাবেই আমার ভাইকে হত্যা করেছে, এবং আমরা আদালতে সেটি প্রমাণ করতে পেরেছি।




বিটিভিতে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বর্তমানে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নানা সূত্রে জানা গেছে, বিটিভির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সংগঠিতভাবে কোটি কোটি টাকা লুটপাট, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পরিচালক (অর্থ) মোঃ জহিরুল ইসলাম মিয়া, পরিচালক (পরিকল্পনা ও অনুষ্ঠান) মোঃ আজগর আলী এবং সহকারী পরিচালক নাজিম উদ্দিন।

অভিযোগে বলা হচ্ছে, প্রায় ৭৮ বছর বয়সী ডিজি ও অন্যান্য কর্মকর্তাকে উপেক্ষা করে আজগর আলী পুরো প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছেন। ২০১৩ সালে কন্ট্রোলার পদে যোগ দেওয়ার পর অস্বাভাবিক গতিতে পদোন্নতি পেয়ে ২০২৫ সালের ২ আগস্ট তিনি পরিচালক (পরিকল্পনা) পদে বসেন। তার এই অস্বাভাবিক উত্থানের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু ও উপসচিব ইব্রাহিম মিনির প্রভাব থাকার কথাও বলা হচ্ছে।

বিটিভির আলোচিত আরেক নাম নুর আনোয়ার হোসেন রঞ্জু। সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের নির্দেশে তিনি বিরাট অঙ্কের অর্থ লুট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে বিটিভির ১৪ কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সিন্ডিকেটের সদস্যরা—জহিরুল ইসলাম মিয়া, আজগর আলী ও নাজিম উদ্দিন—তার অনিয়ম আড়াল করতে প্রশাসনকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছেন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার সংক্রান্ত দুর্নীতি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিটিভির এটি বিনামূল্যে সম্প্রচার করার কথা থাকলেও পরিচালক (অর্থ) জহিরুল ইসলাম মিয়া পরিকল্পিতভাবে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয় “খেলায় জয়” হিসেবে দেখিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতি হয়নি, সরকারি গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাও কমে গেছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও সিন্ডিকেটের প্রভাব স্পষ্ট। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নিয়োগে প্রার্থীপ্রতি ১৫–২৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। জহিরুল ইসলাম মিয়া, আজগর আলী ও উপসচিব ইব্রাহিম নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যবহার করে নিয়োগ বোর্ড এবং টেন্ডার কমিটিকে প্রভাবিত করছেন। এর মাধ্যমে পদোন্নতি, বদলি ও আর্থিক লেনদেনে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া ‘দেশব্যাপী ডিজিটাল টেরেস্ট্রিয়াল সম্প্রচার প্রবর্তন (১ম পর্ব)’ এবং ‘বিটিভি কেন্দ্রীয় সম্প্রচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন’ প্রকল্পেও প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরে এসেছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে কমিশনভিত্তিক অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভ্যন্তরীণ অডিট, অর্থ বিভাগ, অনুষ্ঠান শাখা ও প্রকল্পগুলোতে চলমান অনিয়মের পরও কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি। ফলে বিটিভির সাধারণ কর্মকর্তারা আতঙ্কে কর্মজীবন চালাচ্ছেন। সিন্ডিকেটের দীর্ঘদিনের দাপটে সরকারি গণমাধ্যমের সুনাম, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের কাছে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কেউ মন্তব্য দিতে রাজি হননি।