দুই দশকের ক্ষমতার ছায়া: এলজিইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ঝড়

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের গ্রামীণ উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এলজিইডি—যেখানে সারা দেশে সড়ক, সেতু, কালভার্ট, স্কুল ভবন, আশ্রয়কেন্দ্র, বাজার উন্নয়নসহ প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলে। সেই বিশাল প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে আছেন জাবেদ করিম। আর তাঁকে ঘিরেই এখন নানা স্তরে বিস্তর প্রশ্ন, অভিযোগ আর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগের তালিকা এতটাই বড় যে শুধুই একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নয়—এটি পুরো প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও সততা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, জাবেদ করিমের পুরো পথচলাই ছিল নানা বিতর্কে ঘেরা। শুরু নিয়োগ অনিয়ম দিয়ে। অভিযোগ রয়েছে—কুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই তিনি নাকি এলজিইডির জিওবি খাতে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পান। তখন প্রচলিত নিয়ম ছিল, বিএসসি পাস ছাড়া নিয়োগ নয়। কিন্তু ফল প্রকাশের আগেই নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় অনেকে এটিকে বড় ধরনের অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করেন। এলজিইডির ভেতরকার কিছু কর্মকর্তার মতে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তারিখ, কুয়েটের ফল প্রকাশ, নির্বাচিত তালিকা ও যোগদানের সময় মিলিয়ে দেখলে অসংগতিটা চোখে পড়ে স্পষ্টভাবেই।

এরপর শুরু হয় তাঁর দ্রুত উত্থান। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জিয়া উল হক জিয়ার ঘনিষ্ঠতা পাওয়া যায় তাঁর নামে। অভিযোগ রয়েছে—একজন জুনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হয়েও তিনি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। এমনকি যিনি আগেই দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে জাবেদ করিমকে বসানো হয়। তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল হাসান এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন বলে শোনা যায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক চাপ কাজ করায় নিয়মও টিকতে পারেনি। সবচেয়ে অস্বাভাবিক বিষয়—এই অতিরিক্ত দায়িত্ব ছয় মাস নয়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে টিকে ছিল। প্রবীণ কর্মকর্তারা বলেন, এখান থেকেই এলজিইডির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভাঙতে শুরু হয়।

এ সময়টাকে অনেকে ‘কমিশন বাণিজ্যের স্বর্ণযুগ’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। অভিযোগ—কার্যাদেশ পেতে ৮–১০% কমিশন দিতে হতো ঠিকাদারদের। একই রাস্তার নামে একাধিকবার বরাদ্দ আদায়, মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ, হাতের লেখা টেন্ডারের মাধ্যমে সবকিছু একক আধিপত্যে চালানো—এমন অভিযোগ বহু বছর ধরে শোনা যাচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এই সময় লক্ষ্মীপুরেই নাকি শত কোটি টাকার বেশি অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে।

২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতি দমন অভিযানের সময় জাবেদ করিমের নাম নাকি গ্রেফতার তালিকায় ছিল। একই অভিযোগে বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রানা গ্রেফতারও হন। কিন্তু জাবেদ করিমের ক্ষেত্রে ঘটনাটা নাকি ভিন্ন। অভিযোগ—তাকে দ্রুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়, যাতে গ্রেফতার এড়ানো যায়। খুব অল্প সময়ে ফাইল-নোটিং, অনুমোদন, ভিসা সব সম্পন্ন হয়। পরে দেশে ফিরে আবারও তিনি এলজিইডির ক্ষমতাকেন্দ্রে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

আবার আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের সময়েও তাঁর প্রভাব ছিল বলেই বিভিন্ন সূত্র দাবি করে। অভিযোগ ওঠে—গণভবনে অবাধ যাতায়াত, দলীয় তহবিলে বড় অঙ্কের অনুদান, বড় প্রকল্পে অপরিসীম কর্তৃত্ব, এমনকি নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর তিনি নাকি ভিন্ন পরিচয় তুলে ধরে নিজেকে জাতীয়তাবাদী ধারায় অবস্থান করছেন—শুধু ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে।

দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি উঠে আসে। দেশের সবচেয়ে বড় মানবিক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এসব আশ্রয়কেন্দ্রে নাকি ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। মান কম, কাজ কম করে পুরো বিল নেওয়া, রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ের লোকদের (বিশেষ করে কিছু এপিএসের) মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ—এসব অভিযোগ শোনা যায়। শুধু এই প্রকল্প থেকেই নাকি শত কোটি টাকার বেশি লোপাট হয়েছে। আরও বড় অভিযোগ—তিনি নাকি দেশে-বিদেশে পাচার করেছেন হাজার কোটি টাকা এবং কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এছাড়া সড়ক-সেতুর রক্ষণাবেক্ষণেও ছিল নানা অনিয়মের অভিযোগ। দায়িত্বে থাকার সময় বাস্তবে রাস্তাঘাটের তেমন কোনো সংস্কার হয়নি, কিন্তু কাগজ-কলমে সব ঠিকঠাক দেখিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষায়—এই সময়টা ছিল “রক্ষণাবেক্ষণহীন রক্ষণাবেক্ষণের অধ্যায়”, যেখানে দুর্নীতি পদ্ধতিগত হয়ে ওঠে।

এলজিইডির ভেতরে আরও গুঞ্জন রয়েছে—বড় প্রকল্পের পরিচালক হতে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হতো। বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নেও নাকি বড় অঙ্কের টাকা লেগেছে। অনেকেই দাবি করেন—এই পুরো সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন জাবেদ করিম। তাঁদের প্রশ্ন—যদি অভিযোগগুলো মিথ্যা হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানজুড়ে এত ক্ষোভের কারণ কী?

সরকারি চাকরিজীবীর মাসিক বেতন যেখানে ৮০–১২০ হাজার টাকার মধ্যে, সেখানে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ—এ অভিযোগ সকলকে অবাক করে। দেশে-বিদেশে সম্পদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বাড়ি, প্লট—সবকিছুর মধ্যেই নাকি অস্বাভাবিক আয়ের প্রমাণ রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি—দুদক নীরব, মন্ত্রণালয়ও উদাসীন।

প্রশ্ন উঠছে—এলজিইডির মতো দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সংস্থার অভ্যন্তরে যদি এভাবে নিয়োগ অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্প লুট, পোস্টিং-বাণিজ্য আর অর্থপাচারের অভিযোগ পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ে—তাহলে দেশের গ্রামীণ উন্নয়নের ভবিষ্যৎ কোথায়?

এই সব অভিযোগের বিষয়ে জাবেদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




আমি আশ্বাসের রাজনীতিতে মোটেই বিশ্বাস করি না: জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজঃ আমি আশ্বাসের রাজনীতিতে মোটেই বিশ্বাস করি না, আমি বিশ্বাস করি অ্যাকশনের রাজনীতি-এমনটাই মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ‘প্রন্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।  

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আশ্বাস এবং ওয়াদা নয় বরং কাজের মাধ্যমে প্রমাণ হবে হোয়াট উই আর ফর এন্ড হোয়াট ফর আই। বাংলায় একটা কথা আছে। ও গাছ তোমার পরিচয় কি? গাছ বলতেসে আমার ফলের দিকে তাকাইয়া আমার পরিচয়টা জেনে নাও। আমাদের প্রয়োজন এখন ফল। এই ফলের ফসলের চাষটা আমাদের সবাইকে মিলে করতে হবে।’

দেশের মানুষকে ভালো উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘তবে খারাপ রাজনীতিবিদদের কারণে দেশে কিছুই হয় না। কিন্তু আমরা মূল ধরে টান দিবো।’

দেশে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নেই জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মা বাবা নয়, সন্তান কী নিয়ে পড়াশোনা করবে তা নির্ধারণ করবে শিক্ষক। আমাদের টার্গেট সব শিশুকে গড়ে তোলা। আগামীতে বোঝা নয়, সম্পদ হয়ে উঠবে তারা।’

এখন জাস্টিস পয়সা দিয়ে কিনতে হয় মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এর পরিবর্তন করতে হবে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারে গেলে কোনো দাবি নিয়ে দপ্তরে দপ্তরে ধরনা দিতে হবে না, আন্দোলন করতে হবে না। সরকার তার দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে।’

সরকারে না গেলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে ১০০ ক্লিনিকে সোলার প্যানেল লাগানোর কথা জানান ডা. শফিকুর রহমান।




আজ থেকে স্বর্ণের বাজারে নতুন দর, প্রতিভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা

ডেস্ক নিউজঃ স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের বাজারে মূল্যবান এ ধাতুটির দাম বাড়ানো হয়েছে। আজ থেকেই নতুন দর কার্যকর হবে।

সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪০৩ টাকা। ফলে এখন এক ভরির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা।

রোববার (৩০ নভেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ২০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম হয় ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা।

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৪০৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৩১০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ এক হাজার ৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ৯৭১ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম এক লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ৬৭৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ টাকা।




আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভেনেজুয়েলার তীব্র নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভেনেজুয়েলা তার আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণভাবে’ বন্ধ করার মার্কিন ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং উল্লেখ করেছে, এটি ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ ও অযৌক্তিক আগ্রাসন। 

আগের দিন শুক্রবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছিলেন, সকল বিমান সংস্থা, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী ও মানবপাচারকারীরা ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ও আশেপাশের আকাশসীমা বন্ধ রাখার কথা বিবেচনা করুন। এই ঘোষণার আগে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা বাড়িয়েছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মাদকপাচারের অভিযোগের আড়ালে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমানবাহী জাহাজ মোতায়েন করেছে এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযানে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যা জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন।

মাদুরো গত বৃহস্পতিবার জাতীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করেন, জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না। ভেনেজুয়েলার রাজনীতি ও ইতিহাসের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতি ও নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর এবং এটি ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। এরপর দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ বিমান সংস্থা ভেনেজুয়েলায় ফ্লাইট স্থগিত করে, যা কারাকাসের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিতে মাদুরোকে অপসারণের মূল উদ্দেশ্য, তবে এটি ভেনেজুয়েলার জনগণকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অর্থনৈতিক জটিলতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং অভিবাসনের সমস্যায় ভুগছে দেশটি, যা এই পদক্ষেপে আরও তীব্র হবে।




খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়ার আহ্বান হেফাজতের

ডেস্ক নিউজঃ হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দেশবাসীকে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা দোয়া করছি, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে দ্রুত সুস্থ করে জাতির এই দুর্দিনে আবারও দেশের হাল ধরার তাওফিক দান করুন, আমিন। ২০১৩ সালে শাহবাগের ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়ে ইসলাম, দেশ ও জাতির স্বার্থের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

‘ভারতপন্থি সেকুলার প্রগতিশীলদের চক্রান্ত উপেক্ষা করে হেফাজতের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন। হেফাজতের পাশে থাকতে তার দলের নেতাকর্মীদেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি একজন দেশপ্রেমিক ও সাহসী ঈমানদার নারী। তার কাছ থেকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের শিক্ষা নেওয়া সময়ের অপরিহার্য দাবি।’

হেফাজত নেতারা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রীই নন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানেরও সহধর্মিনী। শহীদ জিয়া আলেম-ওলামাকে ভালোবাসতেন। স্বামীর আদর্শ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে লড়াই করে গেছেন। মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন। নানা প্রোপাগান্ডার শিকার হয়েছেন। ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার সুদীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রাম দেশপ্রেমিক জনগণের জন্য অনুপ্রেরণা।




তিন দিন পর কথা বললেও ঝুঁকিমুক্ত নন খালেদা জিয়া

ডেস্ক নিউজঃ এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাঁচ দিন ধরে সিসিইউতে থাকা গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া গত বুধবার থেকে প্রায় সাড়াহীন ছিলেন। তিন দিন পর গতকাল শনিবার সকালে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেছেন—এ তথ্য নিশ্চিত করেছে চিকিৎসক ও পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র।

সামান্য উন্নতি, তবে সংকট কাটেনি

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত তিন দিনের তুলনায় তাঁর অবস্থায় সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও সামগ্রিক সংকট এখনো কাটেনি। বিশেষ করে কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় তাঁকে চার দিন ধরে টানা ডায়ালাইসিসে রাখা হয়েছে। শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে শ্বাসকষ্ট বাড়ায় তাঁর অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে। সচেতন থাকলেও তিনি সাড়া দিচ্ছিলেন না বলে জানানো হয়।

শুক্রবার রাত থেকে সামান্য অগ্রগতি দেখা গেলে গতকাল সকালে পুত্রবধূ শামিলা রহমানের সঙ্গে কয়েকটি কথা বলেন তিনি। এটিকে চিকিৎসকেরা ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য আবারও বিদেশে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিমানযাত্রার ধকল সহ্য করার মতো শারীরিক সক্ষমতা আছে কি না—এটি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, সম্ভব হলে তাঁকে লন্ডন ক্লিনিকে নেওয়া হবে। তা সম্ভব না হলে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল হতে পারে বিকল্প। এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেওয়ার মতো নয়।

ডায়ালাইসিস চলছে, পর্যবেক্ষণে মেডিকেল বোর্ড

একটানা ডায়ালাইসিস দেওয়ার পরও শরীরের পানি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। কয়েক দিনের ডায়ালাইসিস শেষে অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নতুন চিকিৎসা পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনো যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অবস্থান

শুক্রবার রাতে আড়াই ঘণ্টার আলোচনায় মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছিল, তাঁর বিদেশে চিকিৎসা জরুরি। পরিবারের পক্ষ থেকেও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে বিএনপি মহাসচিবের ভাষায়—“সব প্রস্তুতি থাকলেও তাঁর শরীর এখন সে ধকল নেওয়ার মতো নয়।”

রাষ্ট্রপতির দোয়ার আহ্বান

গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টাও একই আহ্বান জানান।

হাসপাতালের সামনে ভিড়, ফখরুলের অনুরোধ

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ কেউ ব্যানার নিয়ে দোয়া মাহফিলও করেন, যা যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের মাধ্যমে অনুরোধ জানান—
“দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। এতে চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিব্রত হচ্ছেন।”

বিএনপি, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের নেতা–কর্মীরা গতকাল হাসপাতালে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে তারেক রহমান সবার দোয়া ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।




এক্সক্লুসিভ ফাইন্ড এন৫ উন্মোচনসহ বাংলাদেশে অপোর প্রথম অফিসিয়াল ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো বাংলাদেশে তাদের প্রথম অফিসিয়াল ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালু করেছে। নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় বিবি রোড ২০৭-এ এই স্টোরটি চালু করা হয়। অপোর জন্য এটি দেশে একটি অন্যতম মাইলফলক, যেখানে এক ছাদের নিচে পণ্যের অভিজ্ঞতা, সুবিধা ও বিশেষজ্ঞ সেবা একত্রিত করে প্রিমিয়াম স্মার্টফোন রিটেইলের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্বোধনের মাধ্যমে ‘ও ফ্যানস ফেস্টিভাল ২০২৫’-এরও সূচনা হয়, যা অপো ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় কার্যক্রম, পণ্য প্রদর্শনী ও এনগেজমেন্টের সুযোগ নিয়ে এসেছে।
মানুষ ও তাদের লাইফস্টাইলের কথা বিবেচনায় নিয়ে ডিজাইন করা নতুন এই স্টোরটি ঐতিহ্যবাহী রিটেইল মডেলকে অতিক্রম করে গেছে। এখানে দর্শনার্থীরা অপোর প্রিমিয়াম প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন। আধুনিক ও খোলা লেআউটে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারবেন, ডিভাইস দেখা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারবেন। যা পণ্যের খোঁজ নেওয়া থেকে শুরু করে, পণ্যে কেনা ও বিক্রয়-পরবর্তী সেবা পর্যন্ত অনবদ্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
এই উদ্বোধনের মূল আকর্ষণ হলো ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন অপো ফাইন্ড এন৫-এর এক্সক্লুসিভ উন্মোচন ও হ্যান্ডস-অন অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশে এই প্রথমবার ক্রেতারা অপো ফাইন্ড এন৫-এর উন্নত ফোল্ডেবল ডিজাইন, কার্যকর ফিচার ও অত্যাধুনিক ইমেজিং সক্ষমতা দেখতে পাবেন। এটি ক্রেতাদের কাছে উদ্ভাবন পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে অপোর প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ।
ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি ফাইন্ড এন৫-এর পাশাপাশি, অপোর বর্তমান স্মার্টফোন ও এর বিস্তৃত ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ডিভাইস নিয়ে এসেছে। এখান থেকে ক্রেতারা অপো প্যাড এসই, অপো ওয়াচ এক্স ২ মিনি, অপো এনকো এয়ার৪ ও অপো এনকো বাডস ৩ প্রো-এর মতো পণ্যগুলো দেখে কেনার সুযোগ পাবেন। যা নিরবচ্ছিন্ন ও স্মার্ট লাইফস্টাইল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অপর ভিশনকেই তুলে ধরে।
ক্রেতাদের সাথে অর্থপূর্ণ উপায়ে সংযুক্ত হওয়ার উপযোগী করে স্টোরটি ডিজাইন করা হয়েছে। এর ডেডিকেটেড এক্সপেরিয়েন্স জোনে ক্রেতারা স্মার্টফোনের ফটোগ্রাফি সক্ষমতা, পারফরম্যান্স ফিচার ও রিয়েল-টাইম ডেমোনস্ট্রেশন নিরীক্ষা করতে পারবেন। স্টোরটি পেশাদার বিক্রয়-পরবর্তী সহায়তা নিশ্চিত করবে। ফলে, ক্রেতারা আলাদা কোনো জায়গায় না গিয়েও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অ্যাক্সেস করার সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেমন ইয়াং বলেন, “বাংলাদেশে আমাদের প্রথম অফিসিয়াল ফ্ল্যাগশিপ স্টোরের উদ্বোধন ক্রেতাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। নতুন এই জায়গাটি পণ্যের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা, প্রিমিয়াম ডিজাইন ও সুবিধাজনক সেবা একত্র করে ক্রেতাদের জন্য একটি সত্যিকারের আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করবে। ফাইন্ড এন৫-এর এক্সক্লুসিভ উন্মোচন এবং ‘ও ফ্যানস ফেস্টিভাল ২০২৫’ শুরু করার পাশাপাশি, আমরা ব্যবহারকারীদের উদ্ভাবনের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা ও তাদের সাথে অর্থপূর্ণ সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
এই উদ্বোধনের মাধ্যমে অপো ব্যবহারকারীদের জন্য দেশজুড়ে ‘ও ফ্যানস ফেস্টিভাল ২০২৫’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করলো। উৎসবের সময় জুড়ে, ক্রেতারা আকর্ষণীয় ইন-স্টোর অভিজ্ঞতা, এক্সক্লুসিভ সারপ্রাইজ, ইন্টারেক্টিভ সেশন ও অতিরিক্ত প্রিমিয়াম এনগেজমেন্ট আশা করতে পারেন। এই উৎসবটি অপোকে ব্র্যান্ড হিসেবে এর কমিউনিটির সাথে আরও সমৃক্ত করবে এবং একইসাথে, ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় বিবি রোড ২০৭-এ অবস্থিত অপো ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। স্টোরটি পরিদর্শন করার জন্য ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে; যেন তারা অপোর উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সরাসরি অভিজ্ঞতা নিতে পারেন, ও’ ফ্যানস ফেস্টিভালে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি, নেক্সট-লেভেল রিটেইল অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।



খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় লালমনিরহাটে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় লালমনিরহাটে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে জেলা বিএনপির আয়োজনে সদর উপজেলার মিশনমোড়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামার বাড়ীতে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক ও ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন-সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা শেষে দেশনেত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নেতারা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক। তাঁর মুক্তি ও সুস্থতা আজ দেশের আপামর জনতার প্রাণের দাবি।”

দোয়া মাহফিলে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।




বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আমরা- সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এখনই সিদ্ধান্ত না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড আয়োজিত এক সেমিনারে এমন মতামত দিয়েছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। সেমিনারে দেশি-বিদেশি ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, স্থপতি, প্রকৌশলী, রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সেমিনারে উল্লেখ করা হয়, গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে ২০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে ৷ ২০২৪ সালের পর থেকে কম্পনের হার আরও বেড়েছে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় থাকা ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোনে গত ৮০০-১০০০ বছরের সঞ্চিত শক্তি এখনো মুক্ত হয়নি—যা বিশেষজ্ঞদের মতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক সতর্কসংকেত।

 




পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকুরিজীবী কল্যাণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকুরিজীবী কল্যাণ পরিষদ (১১–২০ গ্রেড) এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আলাউদ্দিন ভূঞা জনী। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা। সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাদ্দাম হোসেন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মতিউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃ দাঃ) এস এম আল আমীন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মোঃ জহিরুল হক, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম তানভীর আহমেদ, সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ তরিকুল ইসলাম।
সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি চাকুরিজীবীদের পেশাগত উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে এই পরিষদের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ও ভবিষ্যতেও রাখবে।