লালমনিরহাটে মহাসড়ক বন্ধঃ জনদুর্ভোগে ক্ষুব্ধ জনতা, অবস্থান কর্মসূচি পালিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের মহেন্দ্রনগর এলাকার বিশ্ব সার গোডাউন সংলগ্ন সড়কটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এই দুর্ভোগের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় লালমনিরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড়ে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

বক্তারা জানান, গত ২৪ নভেম্বর নির্মাণাধীন সড়কসেতুর পাশে একটি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে গেলে পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে যায়। এরপর থেকে ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

তারা দ্রুত বিকল্প রাস্তা চালুর দাবি জানান এবং বলেন, “প্রশাসনের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে আরও বড় আন্দোলনে যাওয়া হবে।”

কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীগণ অংশগ্রহণ করেন।




সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

এসএম বদরুল আলমঃ আজ রাতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে পার্টির নেতৃবৃন্দ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন—
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, আব্দুর রশিদ সরকার, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, আজমল হোসেন লেবু, আলহাজ্ব আবু তাহের, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ খলিলুর রহমান খলিল, জাহিদ হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান আহাদ ইউ. চৌধুরী শাহিন, এম. এ. সোবহান, আক্তার হোসেন দেওয়ান, যুগ্ম মহাসচিব আমির হোসেন ভূঁইয়া, আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন, কাজী আবুল খায়ের, আজহার সরকার, মিজানুর রহমান মিরু, আব্দুল হান্নান, আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল ওয়াহাব, আল-আমীন সরকার, আরিফুল ইসলাম রুবেল, জহিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান শিপন, আব্দুর রহিম, আব্দুল জলিল, মাহমুদুল হক মনি, হাবিব মিয়া, মাহমুদ হাসান অয়ন, মনির হোসেন, ময়নুল ইসলাম প্রামাণিক প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দো’আ করেন।




উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তেজগাঁওয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। 

ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

সভায় প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বন্দী থাকা অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দুই-তিন দিনের মধ্যেই তারা দেশে ফিরবেন।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তার রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। আজ দুপুরে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের গণমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে, শুক্রবার বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি নিয়মিতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের এ সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য ভীষণ রকম অনুপ্রেরণা। তার সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা ও সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

বেগম খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। এরপর করোনাকালে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। এরপর ছয় মাস পরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার। যদিও চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি।

গত বছরের ৫ আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে।

সবশেষ গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপাসনকে ভর্তি করা হয়।




তিতাস–হোমনায় রাজউকের ইঞ্জিনিয়ার টিপুর অস্বাভাবিক সম্পদ নিয়ে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ তিতাস আর হোমনায় হঠাৎ করেই এক নাম নিয়ে পুরো এলাকা সরগরম—রাজউকের ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম টিপু। সরকারি চাকরির একজন কর্মকর্তা হয়েও তিনি শ্বশুরবাড়ির গ্রাম দাশকান্দিতে যে বিশাল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, তা দেখে স্থানীয়দের মনে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সবাই এক ভাষায় জানতে চাইছে—“টিপুর এত টাকা আসে কোথা থেকে?”

হোমনা উপজেলার মনিপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা (অব.) সিরাজুল ইসলাম মোল্লার ছেলে টিপুর শ্বশুরবাড়ি তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দাশকান্দি গ্রামে। শ্বশুর আব্দুল মান্নানের পরিবারে ঘরজামাই হয়েও তিনি কয়েক বছরের মধ্যেই এমন অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ে ফেলেছেন যে, এলাকায় এখন তা প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে। কেউ আর আড়াল করে বলছে না—টিপুর সম্পদ বৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো অস্বাভাবিক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বড় বড় নেতাদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি রাজউক থেকেই নাকি শত কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন। সেই টাকার জোরেই শ্বশুরবাড়ির এলাকায় জমি ক্রয় থেকে শুরু করে দখল—সবকিছুই করেছেন দাপটের সঙ্গে। অভিযোগ আছে, তার স্ত্রী লাকি আক্তারের নামে তিনি প্রায় ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমি কিনেছেন। আবার শ্বশুর আব্দুল মান্নানের কাছ থেকেও নাকি কয়েক বিঘা জমি দখলে নিয়েছেন। এসব জমি বালু ভরাট করে এখন তিনি একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করছেন, যার খরচ সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।

নির্মাণ শ্রমিকদের ভাষায়, শুধু মিস্ত্রিদের বিলই প্রায় আটাশ লাখ টাকার মতো দাঁড়িয়েছে। দুইতলা ভবনের নিচে যে অঢেল টাকা ঢালা হচ্ছে, তার হিসাব করা তো দূরের কথা—তা শুনলেও সাধারণ মানুষের মাথা ঘুরে যায়। এলাকাবাসীর অনেকে বলছে, “রাজউকের এক ইঞ্জিনিয়ার কি এমন বাড়ি তুলতে পারে?” আবার অনেকে মনে করে, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টিপুর রাজত্ব ছিল। মান্নানের মেয়ের জামাই টিপু এখন গ্রামের গডফাদার।”

টিপুর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে—তিনি সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে রাজউকে স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। এমনকি নিজের ছোট ভাই সাইদুর আলম অপুকে নৌকার প্রার্থী বানিয়ে ঘারমোড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজনৈতিক মাঠেও নামিয়েছিলেন তিনি। সেলিমা আহমাদ মেরির রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়ানোই ছিল তার উদ্দেশ্য—এমনটাই বলছে স্থানীয়রা।

এই সব অভিযোগ নিয়ে বদিউল আলম টিপুর বক্তব্য জানতে ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান জানা যায়নি।

চায়ের দোকান, বাজার, রাস্তা—এলাকার যেখানেই যান না কেন, এখন একটাই আলোচনা—রাজউকের সরকারি চাকরি করে বদিউল আলম টিপু কীভাবে এমন সম্পদের মালিক হলেন? সন্দেহ, ক্ষোভ আর আতঙ্ক মিলিয়ে বিস্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার এই রহস্যময় সম্পদ বিস্তার।




লালমনিরহাটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার তুষভান্ডার সুপার মার্কেট এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মকে মাদক ও জুয়ার ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে চাই। সম্প্রতি এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়া ও মাদক সেবনের প্রবণতা বেড়ে গেছে, যা সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।” অনলাইন ক্যাসিনো জুয়াসহ সকল ধরণের জুয়া বর্তমানে সামাজিক অবক্ষয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জুয়ায় আসক্ত একজন মানুষ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আজ এই জুয়ার কারণেই শত শত সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। এখনই যদি এই অনলাইন জুয়া ও মাদক বন্ধে সরকার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করেন তবে সামনের দিনে আরও চরম খারাপ পরিস্থিতির শিকার হবে যুব সমাজ।

এসময় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, যুব সমাজকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের দ্রুত গ্রেফতার করে মাদক ও জুয়া নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।  আমরা চাই যুব সমাজ বাঁচুক মাদক ও জুয়ার কবল থেকে, মাদক মুক্ত এবং সচেতন হোক যুব সমাজ। অবিলম্বে মাদক ও জুয়া বন্ধ না হলে আরো কঠিন কর্মসূচির ডাক দেয়ার  হুঁশিয়ারি দেন মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা।




লালমনিরহাটে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে নতুন বিওপি ক্যাম্প উদ্বোধন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংরা ইউনিয়নে সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) ক্যাম্প “চতুরবাড়ী বিওপি” এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনে এ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিজিবি দেশের সীমান্তরক্ষায় আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক। সীমান্ত দিয়ে মাদক, চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৬১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোঃ মুসাহিদ মাসুমসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা। এই বিওপি স্থাপনের ফলে সীমান্ত এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




লালমনিরহাটে “টপ সয়েল” কেটে নেওয়ার হিরিকঃ নিঃশেষ হচ্ছে উর্বর মাটি, প্রশাসন নিরব

জহুরুল হক জনি,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ​উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ফসলি জমির প্রাণ হিসেবে পরিচিত উপরিভাগের মাটি বা ‘টপ সয়েল’ কাটার মহোৎসব চলছে।

আমন ধান ঘরে তোলার পরপরই শুরু হয়েছে এই মাটি লুটের যজ্ঞ। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উর্বর কৃষিজমি থেকে দেদারসে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে। এতে আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদি জমি, নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা। প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও থামছে না ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।

​২০২৪ সালের সরকারি তালিকা অনুযায়ী, লালমনিরহাটে নিবন্ধিত ইটভাটার সংখ্যা ২০টির কিছু বেশি। অথচ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে অন্তত ৩৪টি ভাটা। প্রশাসনের অভিযানে মাঝেমধ্যে এসব ভাটা বন্ধ বা জরিমানা করা হলেও, নানা অজুহাতে কিছুদিন পরই তা পুনরায় চালু হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের চোখের সামনেই ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাকে করে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে, অথচ কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে।

​ইটভাটার মালিকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফসলি জমি রক্ষায় কেবল সচেতনতা নয়, অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।ভাটা মালিকদের প্রলোভন আর পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে কৃষকরা তাদের জমির মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বানবাসা মোড় এলাকার কৃষক মাহাফুজ রহমান জানান, আবাদি জমির পাশেই ভাটা তৈরি হওয়ায় এবং পাশের জমির মালিকরা মাটি বিক্রি করে দেওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। পাশের জমি নিচু হয়ে যাওয়ায় আমার জমি উঁচু হয়ে আছে, ফলে জমিতে সেচের পানি (মটরের পানি) উঠছে না। তাই ক্ষতি হবে জেনেও বাধ্য হয়ে ভাটা কর্তৃপক্ষের কাছে মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে।

​একই পরিস্থিতির শিকার সাপটিবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক নয়ন ইসলাম। তিনি বলেন, এখনও জমির ফসল ঘরে তুলতে পারিনি, অথচ পাশের জমির মাটি বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আমি মাটি বিক্রি না করলে আমার জমি উঁচু হয়ে থাকবে, সেখানে আর ফসল হবে না। আবার মাটি কাটলে সেই জমিতে নতুন করে ফসল ফলাতেও অনেক কষ্ট হবে। আমরা চাই ইটভাটাগুলো যেন কৃষিজমি থেকে মাটি না কেনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির উপরিভাগের ৮-১০ ইঞ্চি স্তর বা টপ সয়েলে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান সবচেয়ে বেশি থাকে। কৃষি বিভাগের মতে, এই স্তর কেটে নিলে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং তা পুনরায় ফিরে আসতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়।

টপ সয়েল সরে গেলে মাটির নিচের শক্ত ও পাথুরে স্তর বেরিয়ে আসে, যেখানে পানি ধারণক্ষমতা থাকে না বললেই চলে। এতে জমি ধীরে ধীরে অনাবাদি হয়ে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কৃষি প্রধান এই জেলায় আবাদি জমি কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও প্রবল হচ্ছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (কৃষিবিদ) মো. মতিউর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এই জেলার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। কিন্তু ইটভাটার কারণে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি যেন তারা টপ সয়েল বিক্রি না করেন। রাসায়নিক ও জৈব সারের সমন্বয়ে যে উর্বর স্তর তৈরি হয়, তা একবার নষ্ট হলে পূরণ করা কঠিন।

​তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বালু ও সিমেন্ট দিয়ে পরিবেশবান্ধব ‘ইকো ব্রিকস’ বা ব্লক ইট তৈরি হচ্ছে। সমাজের মানুষকে এই ইটের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। মাটির ইটের চাহিদা কমলে ফসলি জমির টপ সয়েল রক্ষা পাবে।




খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইলেন তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এমন অবস্থায় রাজনীতি, দল-মত, মতাদর্শ, সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তার জন্য সবার দোয়া কাছে দোয়া চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে তিনি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে সবার কাছে দোয়া চান।

তাসনিম জারা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। রাজনীতি, দল–মত, মতাদর্শ, সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তার জন্য সবার দোয়া কামনা করি।

এক সপ্তাহ আগে এক অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে খুব অল্প সময়ের দেখা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “দেশে থাকো, দেশের জন্য কাজ করো।”

অসংখ্য মানুষ একই উপদেশ দেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া যখন এই কথা বলেন তার গভীরতা, ইতিহাস, আর সত্যতা অন্যরকম। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতেও তিনি দেশ ও দেশের মানুষের পাশ থেকে সরে দাঁড়াননি। বেদনা, অপমান ও সীমাহীন প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান এবং বিশ্বাস থেকে আপোষ করেননি।

বছরের পর বছর ধরে তিনি যে ধৈর্য ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন, তা আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন বেগম খালেদা জিয়াকে রহমত, আরোগ্য ও শান্তি দান করেন।’




খালেদা জিয়ার অসুস্থতা: তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন দ্রুতই

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় দ্রুতই দেশে ফিরতে পারেন লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, পরিকল্পনা বদলে তার ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।

বর্তমানে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার গুরুতর অসুস্থতার খবর দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। লন্ডনে থাকা তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছেন। জুবাইদা রহমান মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য হিসেবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত আপডেটও পাচ্ছেন। পরিবার থেকে ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান এবং খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারও হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি রাতে আবারও হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও সেখানে ভিড় জমান। এ পরিস্থিতিতে তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে।

আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে ফেরার সময় হিসেবে আগে থেকেই আলোচনা হচ্ছিল। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, তিনি দেশে ফিরে ভোটার হবেন এবং নির্বাচনী প্রচারেও যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, ১৭ বছর পর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন ঘিরে তার নিরাপত্তা, বাসভবন সংস্কার, অফিস সজ্জা—সব ধরনের প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা ছিল ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে লন্ডনে ফিরে সেখান থেকেই সরাসরি ঢাকায় আসবেন তিনি।

কিন্তু খালেদা জিয়ার হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতা পুরো পরিকল্পনাই বদলে দিতে পারে। শীর্ষ নেতাদের মতে, পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমানকে আগেই দেশে ফিরতে হতে পারে।




ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ২০০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ায় তীব্র বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম সুমাত্রার আঞ্চলিক দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র ইলহাম ওয়াহাব জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত এবং ৯০ জন নিখোঁজ। 

সংস্থার তথ্যমতে, উত্তর সুমাত্রায় মৃতের সংখ্যা ১১৬ এবং আচেহ প্রদেশে কমপক্ষে ৩৫। প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও ভারি বৃষ্টিপাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বর্ষাকালে ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা, ভূমিধস এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। সম্প্রতি কয়েক দিনের মধ্যে একটি শক্তিশালী মৌসুমি ঝড় পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষাকাল দীর্ঘ হচ্ছে, বৃষ্টিপাত বাড়ছে এবং আকস্মিক বন্যার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মাসেই মধ্য জাভায় ভারি বৃষ্টিজনিত ভূমিধসে ৩৮ জন নিহত এবং ১৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন।