পিএলএসডি কোর্সে দক্ষতা প্রদর্শনে ব্যাচ ২২২-এর শিক্ষার্থীরা

ইরিন তৃষ্ণা আক্তার মুন প্রতিবেদকঃ গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো মক ভাইভা ও প্রেজেন্টেশন সেশন
গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো PLSD (Professional Life Skill Development) কোর্সের আওতায় ব্যাচ ২২২-এর শিক্ষার্থীদের মক ভাইভা ও প্রেজেন্টেশন সেশন। এই সেশনে শিক্ষার্থীরা তাদের পেশাগত দক্ষতা, উপস্থাপন কৌশল এবং যোগাযোগ সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পান।
পিএলএসডি শুধুমাত্র একটি কোর্স নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের সফল পেশাজীবনে রূপান্তরের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। উক্ত সেশনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের উপস্থাপনা প্রদান করেন এবং বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, এই ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল, প্রফেশনাল আচরণ এবং ইন্টারভিউ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করেছে।
ব্যাচ ২২২-এর এই সফল আয়োজন প্রমাণ করে যে, শিক্ষার্থীরা এখন পেশাগত জগতে প্রবেশের জন্য আরও আত্মনির্ভরশীল ও প্রস্তুত।



আইসিসিএলে ফ্রি ফায়ার ওয়ার্ল্ড সিরিজের ন্যাশনাল ওয়াচ পার্টি অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এবার বহুল প্রতীক্ষিত ফ্রি ফায়ার ওয়ার্ল্ড সিরিজের গ্লোবাল ফাইনাল ২০২৫-এর চরম উত্তেজনা সরাসরি উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের গেমপ্রেমীরা। দেশের ই-স্পোর্টস প্রেমীদের জন্য ন্যাশনাল ওয়াচ পার্টির অনন্য এই আয়োজনটি সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার লিমিটেডে (আইসিসিএল) অনুষ্ঠিত হয়।
এটি কেবল ওয়াচ পার্টি নয়, বরং গেমিং কমিউনিটির জন্য সুবিশাল মিলনমেলা, যেখানে শত শত ফ্রি ফায়ার গেমের ফ্যানরা একত্রিত হয়ে বিশ্বমঞ্চের রোমাঞ্চকর গ্র্যান্ড ফাইনাল বড় পর্দায় একসাথে উপভোগ করেন। ন্যাশনাল ওয়াচ পার্টির মাধ্যমে ফ্যানরা গেমিং-এর ডিজিটাল জগতের উত্তেজনাকে বাস্তবে অনুভব করার সুযোগ পান। বন্ধুদের সাথে নিয়ে একই ছাদের নিচে বড় পর্দায় ফাইনালের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা, চিৎকার করে নিজেদের প্রিয় দলকে সমর্থন জানানো এবং সম্মিলিত গেমিং উদ্দীপনার অংশ হওয়ার অনন্য এই সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে আইসিসিএল।
আইসিসিএলের বিশ্বমানের এলইডি স্ক্রিন ফ্রি ফায়ার গেমের এই শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিযোগিতাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইভেন্টটিতে ফাইনালের লাইভ স্ট্রিমিং ছাড়াও গেমিং ফ্যানদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইন্টারেক্টিভ অ্যাক্টিভিটি, গিফট হ্যাম্পার ও বিশেষ সারপ্রাইজের ব্যবস্থা ছিলো।
এ বিষয়ে আইসিসিএলের চিফ অপারেটিং অফিসার শামিম বিল্লা বলেন, “আইসিসিএলে গেমিং ফ্যানদের জন্য উদযাপনের সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। আমাদের অত্যাধুনিক এলইডি স্ক্রিন, কর্মীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা ও নিরলস প্রচেষ্টা আমাদের ভোক্তাদের জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করছে বলে আমরা কৃতজ্ঞ।”
দেশের গেমিং কমিউনিটিকে একত্রিত করে এই ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল ই-স্পোর্টস সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফ্রি ফায়ার ওয়ার্ল্ড সিরিজের গ্লোবাল ফাইনালসের জমজমাট এই ন্যাশনাল ওয়াচ পার্টি দেশের ই-স্পোর্টস ফ্যানদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে।



রাজধানী ঢাকায় ফের ৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্পন অনুভূত

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানী ঢাকায় আবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির।

রুবাইয়াত কবির বলেন, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। এটা স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশালে।

গত শুক্র (২১ নভেম্বর) ও পরদিন শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারবার ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। শুক্রবারের ভূমিকম্পে ১০ জন নিহত হয়। আহত হয় ছয়শ’র বেশি মানুষ।




লালমনিরহাটে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০২৫ এর উদ্বোধনঃ সেবা ও সচেতনতায় নতুন দিগন্ত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য—“দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তিঃ প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি।”

উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, সচেতনতা ও সেবা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল।

সকালে কালেক্টরেট মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসক, এইচ এম রকিব হায়দার ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, ডাঃ শায়খুল আরিফিন, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল হাকিম ও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ বেলাল হোসেন।

সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে স্থানীয় খামারিদের ৩০টি স্টল অংশ নেয়।

বক্তারা প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর খামার গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং খামারিদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দুপুর ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।




প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকার পূর্বাচলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির আলাদা তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাত বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা  করেন।

পৃথক তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৭। তবে ব্যক্তি হিসাবে এই সংখ্যা ২৩। শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়া অপর ২০ আসামি হলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফি উল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, রাজউকের সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপপরিচালক হাবিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন। আসামিদের মধ্যে একমাত্র মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গ্রেফতার আছেন।
৯১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে আসে, রাজধানীতে জমি থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করে সরকারি প্লট নেন শেখ হাসিনা ও তার ছেলে-মেয়ে।

অবৈধভাবে রাজউকের ৩০ কাঠা প্লট নেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করে দুদক। আদালতে আসামিদের উপস্থিত হতে সমন, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও অনুপস্থিত থাকেন তারা। এতে পলাতক অবস্থায়ই শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চলে বিচারকাজ।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজউকের আবাসন নীতি লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে ছেলে-মেয়েসহ নিজের নামে সরকারি জমি নেন শেখ হাসিনা। দাখিল করেন মিথ্যা হলফনামাও।

মূলত গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ শাসনামলের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।

জানা গেছে, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে’ রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।

ছয় মামলাতেই হাসিনাকে আসামি করা হয়েছে। তার পরিবারের তিনটি মামলার বিচার চলছে একসঙ্গে; আলাদা আদালতে রেহানা পরিবারের তিন মামলারও বিচার চলছে একসঙ্গে।

গত ৩১ জুলাই এসব মামলায় হাসিনা ও রেহেনা পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে (একই ব্যক্তি একাধিক মামলায় অভিযুক্ত) অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আর গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে হাসিনা পরিবারের মামলার রায়ের দিন ঠিক করা হয়। এছাড়া ২৫ নভেম্বর রেহানার পরিবারের এক মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১ ডিসেম্বর রায়ের দিন রেখেছেন আদালত।




মধ্যরাতে বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্প

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যরাতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ভূমিকম্পে হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ৩টা ২৯ মিনিটে টেকনাফ থেকে প্রায় ১১৮ কিলোমিটার দূরে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।

ভূকম্পনবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ভলকানো ডিসকভারি’ জানিয়েছে, টেকনাফে কম্পনের ঝাঁকুনি খুবই অল্প ছিল, ফলে অধিকাংশ মানুষ তা টের পাননি। যদিও উৎপত্তিস্থলের গভীরতা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ইএমএসসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী সেই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বহু মানুষ ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। নরসিংদীতে উৎপত্তি হওয়া ওই ভূমিকম্পে সারাদেশে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু এবং কয়েকশ মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।




রাজউকের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় ঢাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়েছে

এসএম বদরুল আলমঃ নরসিংদীতে হওয়া ভূমিকম্পে কয়েক সেকেন্ডের ঝাঁকুনিতেই পুরো ঢাকা কেঁপে ওঠে। শুধু একবার নয়, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও তিনবার কম্পন হয়। এতে আবারও পরিষ্কার হলো—ঢাকা শহর ভীষণ ভঙ্গুর, আর বড় কোনও ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

সরকারি হিসাব বলছে, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের কম্পনটি ছিল ৫.৭ মাত্রার। এতে ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী মিলিয়ে অন্তত ১০ জন মারা যান এবং ৩০০-রও বেশি মানুষ আহত হন। বহু ভবনে ফাটল ধরে, কিছু ভবন হেলে পড়ে—যা রাজধানীর বিপজ্জনক অবস্থার প্রমাণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও ঢাকার ঝুঁকি বড় হয়েছে মানুষের অবহেলা এবং দুর্নীতির কারণে। আর সবচেয়ে বেশি দায় রাজউক—যারা রাজধানীর ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করার কথা।

বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় ভূমিকম্প ঝুঁকি আগেই ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর রাজউকের দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়ম না মানা এবং অনুমোদন বাণিজ্য ঢাকাকে প্রকৃতির চেয়েও বেশি বিপদে ঠেলে দিয়েছে।

রাজউকের নিজের আইন—বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) এবং ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ডিএপি)—সবগুলোতেই কঠোর নিয়ম আছে। ভবন তৈরির আগে মাটি পরীক্ষা, সঠিক লোড ডিজাইন, নির্দিষ্ট সীমার বাইরে না যাওয়া, মানসম্পন্ন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা—সবই লেখা আছে। কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়ম খুব কমই মানা হয়।

রাজউকের এক জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী নাম না প্রকাশের শর্তে স্বীকার করেছেন, “এখন আর প্রকৌশল নয়—সবকিছু দরকষাকষিতে ঠিক হয়। ফাইল কত দ্রুত এগোবে, সেটা ঠিক করে টাকা।”

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ঢাকার অন্তত ৭০ শতাংশ ভবনে বড় ধরনের নিয়মভঙ্গ হয়েছে। অনুমোদনের চেয়ে বেশি তলা করা, ভিত্তির নকশা বদলে দেওয়া, নিম্নমানের রড-কংক্রিট ব্যবহার—সবই সাধারণ ব্যাপার। এসব ভবন মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকবে কি না, তা নিয়ে বড় সন্দেহ রয়েছে।

একজন নির্মাতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কাগজপত্র ঠিক থাকলেও দালাল ছাড়া ফাইল এগোয় না। কমিশন দিলে এক সপ্তাহে অনুমোদন, না হলে মাসের পর মাস লাগে।”

বিশ্বব্যাংক ও রাজউকের যৌথ গবেষণা বলছে, ৬.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০ শতাংশ ভবন—অর্থাৎ প্রায় ৮ লাখ ৬৪ হাজার ভবন—ধসে পড়তে পারে। এতে দিনে ভূমিকম্প হলে কমপক্ষে ২ লাখ ১০ হাজার এবং রাতে হলে ৩ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, “ঢাকার ভবনগুলোর বড় সমস্যা—নিম্নমানের রড, দুর্বল কংক্রিট, মাটির রিপোর্ট না মানা, আর ভুল লোড ডিজাইন। ঢাকা এখন পুরোপুরি লাল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, “প্রতিটি বিপর্যয়ের পর রিপোর্ট হয়, তদন্ত হয়, কিন্তু রাজউক কখনোই সেগুলো থেকে শিক্ষা নেয় না। ভুলে যায়। আর সেই সুযোগে আবারও অনিরাপদ ভবন গড়ে ওঠে।”

বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত করা ঝুঁকির মানচিত্রে পুরান ঢাকা, আফতাবনগর, বাড্ডা, রামপুরা, বসুন্ধরা—সবগুলোকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলা হয়েছে। মাটি ঢিলা হওয়ায় বড় ভূমিকম্পে এসব এলাকায় ভবন ডুবে যাওয়া, হেলে যাওয়া বা সম্পূর্ণ ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, ঢাকার প্রায় এক কোটি মানুষ শুক্রবারের কম্পন খুব তীব্রভাবে অনুভব করেছেন। ৭ কোটির বেশি মানুষ মৃদু কম্পন টের পেয়েছেন। এই ভূমিকম্পকে তারা “কমলা ঝুঁকি” হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মানে—মারাত্মক ক্ষতি এবং প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও সময় আছে। চাইলে বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে—

  • অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা,

  • দালাল চক্র ভেঙে দেওয়া,

  • বিএনবিসি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন,

  • ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো রেট্রোফিটিং করা,

  • রাজউকের নিয়োগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে রাজনীতিমুক্ত করা।

অধ্যাপক আনসারীর বক্তব্যই যেন সবকিছু পরিষ্কার করে দেয়— “মানুষকে ভূমিকম্প মারে না। মারে দুর্নীতি, অবহেলা আর দুর্বল ভবন।”




পতেঙ্গা টার্মিনালে তেলচুরির সাম্রাজ্য ও ৪৮১ কোটি টাকার লেনদেন; সবকিছুর নেপথ্যে আছেন ডিএম সাঈদুল রহমান

এসএম ব্দরুল আলমঃ জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে যে অদৃশ্য ক্ষমতার জাল নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল, সেই জালের মাঝখানের মানুষ হিসেবে এবার সামনে আসছে রিভার অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার (অপারেশন) সাঈদুল রহমানের নাম। তার শ্যালক আজিম উদ্দিন, যিনি নিষিদ্ধ সংগঠন সমুদ্র যুব ঐক্য পরিষদ–এর সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে ভারতে পলাতক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—আজিম উদ্দিন দেশ ছাড়া হলেও তার “অর্থ আর প্রভাবের রুট” এখনও সক্রিয়, আর সেই রুটের বাংলাদেশ অংশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছেন সাঈদুল।

রিভার অয়েলের পতেঙ্গা টার্মিনালকে বলা হয় দেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জ্বালানি লোডিং-পয়েন্টগুলোর একটি। প্রতিদিন এখানে ৭,০০০–৮,২০০ মেট্রিক টন ডিজেল, অকটেন আর পেট্রল ওঠানামা করে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে—এখানকার মাপে মাত্র ১% কম দেখালেই দিনে ৮–১০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় ক্ষতি হয়। বছরজুড়ে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ৩,০০০ কোটি টাকার বেশি। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটির নিয়ন্ত্রণ তিন দশক ধরে একচ্ছত্রভাবে ধরে রেখেছেন সাঈদুল রহমান। ১৯৯৭ সালে স্থায়ী হওয়ার পর কাগজে কলমে তার বদলির আদেশ বহুবার হলেও, অফিসে সবাই বলে—“সাঈদুলের বদলি পাঁচ মিনিটও টেকে না।”

পতেঙ্গা টার্মিনালকে কেন্দ্র করে যে তেলচুরির সিন্ডিকেট সক্রিয়, তা ৮ ধাপে পরিচালিত হয়—এমন তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। ভুয়া লোডশিট বানানো, ট্যাংকারে গোপন চেম্বার রাখা, মিটার কম দেখানোর মাধ্যমে তেল লুকানো, ল্যাবে গ্রেড কম দেখিয়ে তেলের অংশ সরিয়ে ফেলা, রাতের শিফটে ট্যাংকারের গন্তব্য বদলানো, মাঝপথে আনলোড, পুলিশ ‘ম্যানেজ’, শেষে নথি সামঞ্জস্য করা—সব মিলিয়ে বিশাল এক নেটওয়ার্ক। আর এই পুরো অপারেশন পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন—ডিএম সাঈদুল। রিভার অয়েলের এক ডেপুটি কন্ট্রোলার পর্যন্ত মন্তব্য করেছেন— “টার্মিনালে কোন লাইনের মিটার কখন নষ্ট হলো, কে নষ্ট করল, কেন করল—অন্যেরা জানুক বা না জানুক, সাঈদুল জানতেন।”

এত বড় নেটওয়ার্ক চালাতে মানুষের যোগ্যতার চেয়ে বেশি লাগে প্রভাব। আর সেই প্রভাবের পরিচয় মিলেছে সাঈদুল ও তার স্ত্রীর নামের ৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়া ৪৮১ কোটি ৬০ লাখ টাকার রহস্যজনক লেনদেনে। সিটি ক্রেডিট ব্যাংকে ৮৭ কোটি, গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ ব্যাংকে ৬২ কোটি, ইস্ট ওয়েস্ট ট্রাস্টে ৫৫ কোটি, সাউথ এশিয়া ফিন্যান্সে ৭৬ কোটি, হিল ভিউ ব্যাংকে ৪৩ কোটি, সিকিউরিটি ট্রেড ব্যাংকে ৯৭ কোটি এবং ইউনিয়ন প্রাইম ব্যাংকে ৬১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার—এই লেনদেনের ৬৫%ই ক্যাশ উত্তোলন, যা ব্যাংক আইনে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আরও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৮ কোটি টাকা সিঙ্গাপুর হয়ে কানাডায় গেছে, তার ছেলে-মেয়েদের নামে।

সাঈদুলের নিয়ন্ত্রণ শুধু টার্মিনালেই নয়—তার শ্যালক আজিম উদ্দিনের লুকোনো বাহিনীকেও তিনি আশ্রয় দিচ্ছেন। কাসালগঞ্জের ৭৭৫/৮৮৫ নম্বরের “আরিজ হাউজ” নামের ভবনে অন্তত ৯ জন পলাতক কর্মী, ৩ জন অস্ত্রধারী এবং বিদেশফেরত আরও কয়েকজন সদস্যের অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফ্ল্যাট বরাদ্দ থেকে শুরু করে মাসে মাসে রহস্যজনক গাড়ি আসা–যাওয়া—সবই পরিচালনা করেন সাঈদুল। স্থানীয়রা জানান—“মাসে একবার দুটো গাড়ি আসে, ব্যাগ বদলায়। কেউ কিছু বলেনা।”

সরকারি চাকরিতে থাকা একজন মানুষের পক্ষে এত সম্পদ অর্জন কিভাবে সম্ভব—এটাই এখন বড় প্রশ্ন। কাসালগঞ্জে তার ৫ তলা বাড়ি ‘আরিজ হাউজ’-এর বাজারমূল্য ১০–১২ কোটি টাকা। পাশাপাশি ৮ শতাংশ জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণাধীন, প্রকল্প মূল্য ৩০–৩৫ কোটি। গ্রামের পাঁচ ভাইয়ের জন্য আলাদা পাঁচটি বাড়ি—প্রায় ১৫ কোটি টাকার প্রকল্প। বিদেশে তিনটি ফ্ল্যাট—কানাডা, মালয়েশিয়া ও ভারতে—যার মূল্য ৫০–৬০ কোটি। গাড়ির বহর, অফিসিয়াল গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহারসহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮০–৫২০ কোটি টাকায়।

এত বড় কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পরও তিনটি সংস্থা—জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, রিভার পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)—চুপ করে আছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, দুদকের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে “লেনদেন” হয়ে গেছে। তদন্ত শুরুর চেষ্টা হলেই কিছু কর্মকর্তা তড়িঘড়ি করে বদলি করা হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ আমলা পর্যন্ত বলেছেন—“তিনটা সংস্থা নীরব মানেই বোঝা যায়, কেউ একজন খুব শক্তিশালী তাকে রক্ষা করছে।”

রিভার অয়েলের ভেতরে এখন আতঙ্ক আর নীরবতা। যে কথা বলবে, তার বদলির অর্ডার নাকি পরদিনই আসে। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দুইবার দেওয়া হলেও “অজ্ঞাত কারণে” বাতিল হয়েছে। সেখানে কাজ করা কর্মকর্তাদের মতে—“এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও বাস্তবে এটি সাঈদুলের ব্যক্তিগত রাজ্য।”

হাজার হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ বছরের পর বছর অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখলে মনে হয়, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভেতরে এমন একটি বলয় তৈরি হয়েছে যা সহজে ভাঙা সম্ভব হয়নি। তিন দশক ধরে একজন ব্যক্তি কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়টিও ইঙ্গিত করে যে পুরনো রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনের ভেতরের যোগসাজশ এবং বিপুল অর্থের প্রভাব মিলেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার বাইরে রাষ্ট্র নিজেও কার্যত সীমাবদ্ধ।

ডিএম সাঈদুল রহমানকে ঘিরে অভিযোগ যতই জমতে থাকুক, তদন্ত এখনো শুরু হয়নি—এ বিষয়টি দেখায় যে জনগণের সম্পদের হিসাব আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব ও জবাবদিহিতে বড় ধরনের শূন্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।




বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

এসএম বদরুল আলমঃ বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি, দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

আজ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাঁর স্বাস্থের কিছুটা অবনতি ঘটলে বর্তমানে তাকে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। তাঁর অসুস্থতার সংবাদে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের দরবারে অন্তরের অন্তরস্থল থেকে তাঁর সুস্থতা কামনা করে আশা প্রকাশ করছি যে, তিনি যেন শীঘ্রই সুস্থ হয়ে পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে আসেন।




ভুয়া রপ্তানির ফাঁদ: মানিলন্ডারিং ও প্রণোদনা আত্মসাতে কাস্টমস কর্মকর্তা-ব্যাংকারসহ ২৬ জন অভিযুক্ত

এসএম বদরুল আলমঃ রপ্তানি না করেই কাগজে-কলমে পণ্য পাঠানোর গল্প তৈরি করে সাড়ে ১৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং ও আরও ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকার রপ্তানি প্রণোদনা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ১১ জন কাস্টমস কর্মকর্তাও রয়েছেন। দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন ঢাকায় সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দো এম্পেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. জিয়া হায়দার মিঠু এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলোক সেনগুপ্তকে। তাদের সহায়তা করেন বিভিন্ন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট — কেএইচএল এক্সাম লিমিটেডের এমডি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম রাসেল, এ কে এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল কাসেম খান, প্যান বেঙ্গল এজেন্সিস লিমিটেডের এমডি মো. সেলিম। আরও জড়িত ছিলেন জি আর ট্রেডিং করপোরেশন সি অ্যান্ড লিমিটেডের পরিচালক বেগম রাসিদা পারভীন রুনু, এ অ্যান্ড জে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. আলতাফ হোসেন ও মো. আব্দুল জলিল আকন।

এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি অডিট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ পাওয়া গেছে। দুদকের মামলায় নাম আছে— এ কাসেম অ্যান্ড কো.-এর মালিক মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন ও জিয়াউর রহমান জিয়া, এমএবিএস অ্যান্ড জে পার্টনারের দায়িত্বে থাকা জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাস, মুহাম্মদ সাজিদুল হক তালুকদার, নাসির উদ্দিন আহমেদ।

সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল কাস্টমস বিভাগের কিছু কর্মকর্তার। মামলায় থাকছে ১১ জনের নাম— সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির, মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার জয়নাল আবেদীন, রাজস্ব কর্মকর্তা জমির হোসেন, এ এইচ এম নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার, মো. মঞ্জুরুল হক, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পালক। একই সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের এক্সপোর্ট বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ আনোয়ার জাহানকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা মিলেমিশে আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য রপ্তানি হয়েছে—এমন নথি তৈরি করে ব্যাংকে টাকা আনার ব্যবস্থা করে। এভাবে দো এম্পেক্স লিমিটেডের নামে দেশে এসেছে ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭.৪৪ মার্কিন ডলার, যার বাংলাদেশি মূল্য ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি। অথচ এসব রপ্তানির বেশিরভাগই ছিল ভুয়া—ব্যবহার করা হয়েছিল শুধু কাগুজে চালান।

২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট জমা দেয়। এর মধ্যে মাত্র ৭টির রপ্তানির সত্যতা পাওয়া গেলেও বাকি ৩৪টি চালান সম্পূর্ণ ভুয়া ছিল। কিন্তু এই ভুয়া রপ্তানির ওপর ভিত্তি করেই তারা সরকার থেকে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকার নগদ প্রণোদনা তুলে নেয় এবং আত্মসাৎ করে।

দুদকের মতে, রপ্তানি না করেই রপ্তানি হয়েছে এমন নথি বানিয়ে ব্যাংক ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহায়তায় বিদেশ থেকে টাকা আনা এবং সরকারি প্রণোদনা নেওয়া—এটাই ছিল পুরো চক্রের মূল কৌশল। এই প্রতারণার মধ্য দিয়ে তারা রাষ্ট্রকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে।