টাস্কফোর্স গঠন করে ‘সুগার ড্যাডি’ চক্র দমনে আইনি নোটিশ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে সম্প্রতি তরুণী ও নারীদের শোষণ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে যুক্ত সুগার ড্যাডি চক্র দেশব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতির কারণে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং পুলিশ প্রধানকে আইনি নোটিশ পাঠান।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে— কিছু ধনী, প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি তরুণী ও নারীদের অবৈধ আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক শোষণ করছে। অপরাধীদের দেওয়া নগদ অর্থ, গাড়ি, ব্র্যান্ডেড পোশাক, গহনা ও বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ অবৈধ উৎস থেকে আসছে, যা কর প্রশাসন ও অর্থনীতির জন্য হুমকি।

অনেক ক্ষেত্রে তরুণীদের অশ্লীল ছবি-ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে বিপদে ফেলছে। সুগার ড্যাডির কারণে পরিবারে অস্থিরতা, বিবাহবিচ্ছেদ, মানসিক চাপ ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

মাহমুদুল হাসান নোটিশে দাবি করেছেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও এনবিআরের সমন্বয়ে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হোক। অস্বাভাবিক অর্থের উৎস তদন্ত, ব্ল্যাকমেইল ভিডিও-ছবি শনাক্ত ও অপসারণ, এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।




বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছিল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে গত অক্টোবরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) কমিটির সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেন।

পরে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “তদন্ত প্রতিবেদনে নাশকতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আগুনের উৎস ছিল বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট।”

গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজের আমদানি অংশে আগুন লাগে এবং টানা ১৭ ঘণ্টা ধরে সেটি জ্বলে। এতে প্রায় সব আমদানি মালামাল পুড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর এর কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে স্বরাষ্ট্রসচিবকে প্রধান করে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়। মঙ্গলবার সেই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।




এলজিইডিতে অনিয়মের অভিযোগ: ভুল রায় ও ঘুষে ওহাব গ্রুপের পদোন্নতি, সরকারের ক্ষতি কোটি টাকায়

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-র কিছু কর্মচারীর পদোন্নতি ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন, আদালতের ভুল রায়কে কাজে লাগানো এবং ঘুষের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অনিয়মের ফলে প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমসহ কয়েকজন ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও সরকারের ক্ষতি হবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, এলজিইডির বিভিন্ন পদের ২৪ জন কর্মচারী নিজেদের উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতির দাবিতে ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। মামলার প্রথম ও শেষ শুনানির তারিখের মধ্যে অসংগতি থাকায় রায়ের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। রায়ে বলা হয়েছিল তাদের চাকরি রেভিনিউ খাতে নিতে হবে, অথচ অধিকাংশের চাকরিই শুরু থেকেই রেভিনিউ খাতে ছিল।

ওই গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুল ওহাব। ২৪ জনের মধ্যে কেউ অবসরে গেছেন, কেউ মারা গেছেন—তবে বেঁচে থাকা ১২ জন এই রায়ের অপব্যবহার করে পদোন্নতির জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। ২০১২ সাল থেকে ১৬ জন প্রধান প্রকৌশলী এলজিইডিতে দায়িত্ব নিলেও কেউ এই বিতর্কিত রায় বাস্তবায়ন করেননি। কিন্তু চলতি বছরে ওহাব গ্রুপ বড় অঙ্কের ঘুষের তহবিল গড়ে পদোন্নতির জন্য জোরালো তদবির শুরু করে।

সূত্র দাবি করে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রশীদ মিয়াকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। তিনি ফাইল মুভ করলেও প্রশাসন শাখার কিছু কর্মকর্তা ভুল রায় বাস্তবায়নের ফাইলে স্বাক্ষর না করায় প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের সময়ও প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্ব নেওয়ার পর ওহাব গ্রুপ নতুনভাবে তৎপর হয়। সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (প্রশাসন) শফিকুর রহমানের সঙ্গে আব্দুল ওহাবের কথিত দেড় কোটি টাকার চুক্তি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘুষের এক কোটি টাকা দেওয়া হয় প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমকে, ৩০ লাখ নেন শফিকুর রহমান এবং ২০ লাখ নেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুল কবির।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, ১২ জন সদস্য ২০০৬ সাল থেকে উপসহকারী প্রকৌশলীর বেতন স্কেলে বকেয়া সুবিধা পাবেন। যদিও আদালতের রায়ে ‘ইফেকটিভ ডেট’ সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা ছিল না। এই বেতন–বকেয়ার কারণে সরকারের বাড়তি ক্ষতি হবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে অন্যদের মতো তাদেরও অতীত থেকে বকেয়া বেতন অনুমোদন করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এলজিইডির ২০০৯ সালের নিয়োগ বিধিতে স্পষ্ট বলা আছে—সার্ভেয়ারদের ১৫ বছর এবং কার্য সহকারীদের ২০ বছর চাকরি পূর্ণ হলে বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সাপেক্ষে তারা পদোন্নতি পেতে পারে। কিন্তু কমিউনিটি অর্গানাইজার বা স্টোর কিপার কখনোই টেকনিক্যাল পদে (উপসহকারী প্রকৌশলী) উন্নীত হতে পারে না। কোনো কোর্ট, কমিটি বা কর্তৃপক্ষের বিধি অমান্য করার এখতিয়ার নেই।

এলজিইডির সাবেক দুই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং বর্তমান কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, এই পদোন্নতি সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং নিয়োগবিধি পরিপন্থী। তাই প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম, শফিকুর রহমান, সাইফুল কবিরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।




এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, নীরব দায়িত্বশীলরা

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আইনগত উদ্যোগ নেয়নি। অভিযোগ প্রকাশের পরও এলজিইডি, স্থানীয় সরকার বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না আসায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়, আইআরআইডিপি-০৩ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিন খান তার স্ত্রী পারভীন আক্তার শিউলীর নামে ৩১ লাখ টাকার বেশি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন এবং লালমাটিয়ার বুলবুলিকা ভবনে প্রায় ৬ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাটসহ ঢাকার গুলশান, বনানী, উত্তরা ও বরিশালে একাধিক সম্পত্তি সংগ্রহ করেছেন। এসব সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে না পারা এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগই এখন তদন্তের দাবি তুলছে।

আইন অনুযায়ী এমন অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের কোনো ধারা কার্যকর করা হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অন্তত সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা উচিত ছিল। বিশেষ করে যখন দুদক ইতিমধ্যে এলজিইডির বেশ কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত করছে।

তবে অভিযোগ প্রকাশের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মহাপরিচালক, সচিব বা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেননি এবং তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগও নেননি। এমনকি প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে রুহুল আমিন খানকে পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্তও হয়নি।

জনস্বার্থে এই অভিযোগগুলো তদন্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞরা। জনগণের করের টাকা দিয়ে পরিচালিত প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উপেক্ষা করা হলে তা দুর্নীতিবাজদের আরও উৎসাহিত করবে বলে তারা মনে করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রুহুল আমিন খান বা তদন্ত গ্রহণকারী কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রকাশনায় জানানো হবে।




১২ হাজার বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরিতে আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইথিওপিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি ঘুমিয়ে থাকা বা সুপ্ত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। এর ফলে আকাশে ১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার (২৩ নভেম্বর) উত্তর-পূর্বে ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে অবস্থিত হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরিতে কয়েক ঘণ্টা ধরে অগ্নুৎপাত হয়।

প্রায় ৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরিটি রিফ্ট ভ্যালির মধ্যে অবস্থিত। এখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়ে তীব্র ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ দেখা যায়।

দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরি থেকে ছাইয়ের মেঘ ইয়েমেন, ওমান, ভারত এবং উত্তর পাকিস্তানের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে সাদা ধোঁয়ার ঘন স্তম্ভ উঠতে দেখা গেছে।

স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল আগ্নেয়গিরি প্রোগ্রাম বলেছে, হলোসিন উপযুগের সময় হেইলি গুব্বির কোনো অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেনি। এই যুগ প্রায় ১২ হাজার বছর আগে শেষ বরফ যুগের শেষে শুরু হয়েছিল।

মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির একজন আগ্নেয়গিরিবিদ এবং অধ্যাপক সাইমন কার্ন ব্লুস্কিতে নিশ্চিত করেছেন, এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের কোনো পূর্ব রেকর্ড নেই।




সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারকালে টেকনাফে নারী ও শিশুসহ উদ্ধার ২৮

ডেস্ক নিউজঃ কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় কোস্টগার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া ঘাট সংলগ্ন বিচ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ড জানায়- গোপন সূত্রে খবর আসে, সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য নারী ও শিশুসহ বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে কচ্ছপিয়া ঘাট সংলগ্ন বিচ এলাকায় অবস্থান করছে পাচারকারীরা। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে কোস্টগার্ড আউটপোস্ট বাহারছড়া ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিচে অবস্থানরত ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে উদ্ধারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নেওয়ার প্রলোভনে সাগরপথে যাত্রার পরিকল্পনা করছিল। তবে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, মানবপাচার রোধে কোস্টগার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নারী-শিশুসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও পাচারকারীরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান চলছে।




ত্রিদেশীয় সিরিজ: বাংলাদেশ ঘোষণা করল ২৩ সদস্যের স্কোয়াড

খেলাধুলা ডেস্কঃ ত্রিদেশীয় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের জাতীয় দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আগের মতোই দলের নেতৃত্বে থাকছেন আফঈদা খন্দকার। সিরিজে বাংলাদেশ ২৬ নভেম্বর মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়ার এবং ২ ডিসেম্বর খেলবে আজারবাইজানের বিপক্ষে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানকে নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য তিন জাতি সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেন প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার। প্রত্যাশা থাকলেও আলোচিত পাঁচ সিনিয়র সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা ইসলাম, সুমাইয়া মাতসুশিমা ও মাসুরা পারভীন জায়গা পাননি স্কোয়াডে। সাফ ২০২৪ শেষে তারা এখনো জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন।

আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চে এবারই প্রথমবার অংশ নিতে যাচ্ছে আফঈদারা।

সর্বশেষ অক্টোবরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ নারী দল। সেই স্কোয়াডের ২৩ জনই জায়গা পেয়েছেন এই দলের মূল তালিকায়। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মামনি চাকমা, যিনি মূল স্কোয়াডে আছেন, এবং তনিমা বিশ্বাস, যিনি স্ট্যান্ডবাই তালিকায় রয়েছেন। তার সঙ্গে রুমা আক্তারও স্ট্যান্ডবাই হিসেবে স্কোয়াডে নাম লিখিয়েছেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য বাংলাদেশের দল:
রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী, নবীরন খাতুন, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মামনি চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা আক্তার, জয়নব বিবি, শিউলি আজিম, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার, স্বপ্না রানী, উমহেলা মারমা, শাহেদা আক্তার, মোসাম্মত সুলতানা, মোসাম্মত সাগরিকা, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা চাকমা, সিনহা জাহান, রুমা আক্তার ও তনিমা বিশ্বাস।




ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চাইলো সরকার

ডেস্ক নিউজঃ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাইস্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জরুরি ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। 

রোববার (২৩ নভেম্বর) শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানতে জেলা পর্যায়ের অফিসগুলোকে নির্দেশ পাঠায়।

প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও একাধিক ছবি সংযুক্ত করে আজকের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীদের।

এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও মাঠপর্যায়ে চিঠি দিয়েছে। অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক মিরাজুল ইসলাম উকিল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিভাগীয় উপপরিচালকদের ২৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

মূলত, গত শুক্রবার ও শনিবার পরপর চার দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশে। এরপর নিরাপত্তার বিবেচনায় গত রোববার কয়েকটি স্কুল-কলেজ ক্লাস বন্ধ রাখলেও সোমবার থেকে শিক্ষাক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।




কোয়ার্টার ফাইনালে ইইইকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জেএমসি

খেলাধুলা ডেস্কঃ গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ক্লেমন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-এ সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন (জেএমসি) বিভাগ। কোয়ার্টার ফাইনালে ইইই বিভাগের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে জেএমসি দল।

২৫ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. অনুষ্ঠিত এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে জেএমসি দলের খেলোয়াড়রা শুরু থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক। ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। শেষ পর্যন্ত ইইই বিভাগকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করে জেএমসি।

জয়ের পর জেএমসি বিভাগের শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস। বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা দলটির এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতেও ধারাবাহিক সাফল্যের প্রত্যাশা করেন।

জেএমসি দলের এই অগ্রযাত্রা বিভাগীয় ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকলের প্রত্যাশা, সেমিফাইনাল পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিও উঠবে জেএমসি বিভাগের হাতেই।

জেএমসি দলের জন্য রইল শুভকামনা। বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হোক—এই কামনাই সবার।




ভণ্ড হাকিম আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতারণার অভিযোগ; ভুয়া চিকিৎসায় সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ রোগীরা

এসএম বদরুল আলমঃ মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বহুদিন ধরে নিজেকে হাকিম পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছেন আব্দুল কাদের। বাহিরে থেকে দেখতে তার চেম্বারটা খুব জমজমাট মনে হলেও, ভেতরে লুকিয়ে আছে নানা অভিযোগ আর প্রতারণার অভিযোগ। রোগীদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি নানাভাবে টাকা আদায় করেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। তার রয়েছে দামি গাড়ি, বাড়ি ও বিপুল সম্পদ, আর এসবের পেছনে কত মানুষের কষ্টের টাকা লুকানো আছে, সেটাই এখন প্রশ্ন।

হাকিম আব্দুল কাদেরের চেম্বারে সব সময়ই ঘিরে থাকে বিশজনেরও বেশি দালালের একটি বড় দল। এই দালালরা কথার জাদু দেখিয়ে রোগীদের তার কাছে নিয়ে আসে। কমিশনের লোভে তারা রোগীদের ভুল তথ্য দেয়, ভয় দেখায়, এমনকি চিকিৎসার নাম করে মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দেয়। রোগীরা যখন ভরসা করে তার কাছে যান, তখন শুরু হয় টাকা নেওয়ার পালা।

তিনি দাবি করেন যে লিভার, জন্ডিস, হাঁপানি, বাতসহ চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্টিক, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, নাকের পলিপাস—প্রায় সব ধরনের রোগই তিনি নাকি সারাতে পারেন। এমনকি তিনি বলেন পৃথিবীর সব রোগের চিকিৎসা তার কাছে আছে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক রোগী তার চিকিৎসা নিতে নিতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে বাধ্য হয়ে তারা ডাক্তার দেখানোর পর সুস্থ হন। তাদের অভিযোগ—এমন ভণ্ড চিকিৎসককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।

জন্ডিসের রোগীদের তিনি ‘ডাব পরে’ নামের একটি পদ্ধতি দেখান। রোগীরা বলে, টেবিলের নিচে থেকে তিনি কিছু একটা দেন, তারা জানেন না সেটা কী। কাদের দাবি করেন তিনি খাবার সোডা দেন, যা চিকিৎসকদের মতে শরীরের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। ডাব বিক্রির মাধ্যমেই তিনি প্রতিদিন প্রচুর টাকা আয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও গুরুতর বিষয় হলো—তিনি বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া নিজে ট্যাবলেট বানান, ওষুধ তৈরি করেন এবং এসব রোগীদের খেতে দেন। এটি আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। অথচ তিনি নিজেকে “বাংলাদেশ বোর্ড অফ ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক”-এর নিবন্ধন বহি নং ২১২৫ দেখিয়ে পরিচয় দেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—এ ধরনের কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর তাদের নেই।

তার কাছে লাইসেন্স সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন তার নাকি আয়ুর্বেদিক কোম্পানি আছে, কিন্তু লাইসেন্স নম্বর বলতে পারেন না। পরে চাপ দিলে বলেন ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স আছে, কিন্তু সেগুলোর কোনো কাগজও দেখাতে পারেন না। বরং কথার মারপ্যাঁচে রোগীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি বহু বছর ধরে কবিরাজি করছেন এবং তার হাত খুবই “যশস্বী”।

অভিযোগকারীরা বলেন—তার কোনো বৈধ সনদ, প্রশিক্ষণ বা চিকিৎসা করার যোগ্যতা নেই। অথচ তিনি বিভিন্ন গুরুতর রোগের চিকিৎসা করার নামে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে টাকা নেন। অনেক রোগী ধীরে ধীরে মারাত্মক অবস্থায় চলে যান, অথচ তিনি তা বুঝেও কিছু করেন না। তারা মনে করেন, এমন বিপজ্জনক প্রতারণা বন্ধ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।