ভূমিকম্পে আতংকিত না হয়ে সচেতনতার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

ডেস্ক নিউজঃ সাম্প্রতিক কয়েক দফা ভূমিকম্পে দেশে আতঙ্ক বাড়লেও এ নিয়ে ভয় না পেয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তারা এ সুপারিশ করেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞদের দ্রুত লিখিত সুপারিশ পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চাই না, আবার অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তও নেব না। আপনারা যা প্রয়োজন মনে করেন, তা লিখিত দিন; সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে প্রস্তুত।” তিনি জানান, ভূমিকম্প–সংক্রান্ত করণীয় নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ কমিটি ও টাস্কফোর্স গঠনের কাজ চলছে।

গুজব নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের ওপর ভরসা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪৮ ঘণ্টা, ১০ দিন বা ১ মাসের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে—এ ধরনের অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের মতে, ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট দিন–তারিখ অনুমান করা সম্ভব নয়। তবে পূর্বের তথ্য দেখে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান জানান, বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে স্বল্প ভূমিকম্প–প্রবণ এলাকা হলেও প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি।
অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার তরুণদের অংশগ্রহণে চার স্তরে (ইনডোর–আউটডোর–ব্যক্তিগত–প্রাতিষ্ঠানিক) করণীয় পরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দেন।

চুয়েটের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ–গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মূল্যায়নের ওপর জোর দেন।
এমআইএসটি’র অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন বলেন, জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে—খোলা জায়গার তালিকা, মহড়া, বাসা–বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ—এসব কার্যক্রম জরুরি।

ফাটল ধরা ভবনের মূল্যায়ন শুরু

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান জানান, সফটওয়্যারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি সংগ্রহ ও মূল্যায়ন চলছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ভবন পরিদর্শনে দেখা গেছে—বেশিরভাগ ক্ষতি পার্টিশন দেয়ালে।

টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের লিখিত সুপারিশ পাওয়ার পর দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এতে সরকারি–বেসরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।




ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের বঞ্চনার গল্প; দায়িত্ব বেশি, সম্মানী কম

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ বর্তমান সময়ে সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক দায়িত্ব পালন করছেন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণ। তবে তাদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক বাস্তবতা যেন এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

একদিকে তারা মুসল্লিদের সঠিক পথ দেখাতে, নামাজ আদায় করাতে, ইসলামি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে রাতদিন পরিশ্রম করছেন। অন্যদিকে বেশিরভাগ মসজিদে তাদের মাসিক সম্মানী অপ্রতুল ও অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিতও না। অনেক জায়গায় একজন ইমামকে মাসে ৩-৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়।

মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের অবস্থা আরও করুণ। বিশেষত গ্রামীণ মসজিদগুলোতে এই অবস্থা আরও উদ্বেগজনক।

একজন ইমামকে শুধু নামাজ পড়ানোই নয়- বিয়ে, দোয়া মাহফিল, জানাজা, ইসলামি শিক্ষা, এমনকি সমাজিক বিরোধ মীমাংসার মতো দায়িত্বও পালন করতে হয়। কিন্তু সেই দায়িত্বের মূল্যায়ন হয় না সম্মানীর দিক থেকে।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনেকেই মনে করছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের যথাযথ সম্মানী নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। এখন প্রয়োজন সম্মানীর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ। শুধু দোয়া নয়, চাই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সম্মান।

ইসলামের এই খেদমতকারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো হুমকির মুখে পড়তে পারে। সময় এসেছে শুধু দোয়া নয়, বাস্তব সহায়তা দেয়ার।




লালমনিরহাটে স্বামীর জীবন বাঁচাতে স্ত্রীর কিডনি দান; ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে ঘটেছে ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। আব্দুল হক (৫০) নামে এক ব্যক্তির দুটি কিডনি বিকল হয়ে পড়লে তার স্ত্রী বিজলি বেগম (৪৫) নিজের একটি কিডনি দান করে নজির স্থাপন করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন আব্দুল হক। চিকিৎসকেরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিলে পরিবার পড়েছিল দুশ্চিন্তায়। সেই সময় পাশে দাঁড়ান তার প্রিয়তমা স্ত্রী বিজলি বেগম, যিনি নিজের একটি কিডনি স্বামীর জন্য দিতে রাজি হন।

সব ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, স্ত্রীর কিডনি স্বামীর শরীরের জন্য উপযোগী। এরপর ঢাকায় ২৪ নভেম্বর দুপুরে সফল অস্ত্রোপচার হয়।

স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই সুস্থ আছেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রশংসার ঝড় বইছে। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা বলছেন, বিজলি বেগম শুধু একজন স্ত্রী নন, তিনি একজন প্রকৃত জীবনসঙ্গী এবং ভালোবাসার প্রতীক।

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, ভালোবাসা এখনো বেঁচে আছে, ত্যাগের মধ্যেই ভালোবাসার প্রকৃত রূপ খুঁজে পাওয়া যায়।




ডিপিএইচই প্রকল্প নিয়ে অভিযোগের ঝড়: জনস্বাস্থ্যের তবিবুর রহমানকে ঘিরে অনিয়ম–দুর্নীতির নানা তথ্য

এসএম বদরুল আলমঃ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)-এর বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত প্রকল্প “মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প” নিয়ে সম্প্রতি বড় ধরনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির পরিচালক মোঃ তবিবুর রহমান তালুকদারকে ঘিরেই এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিভিন্ন সূত্রের দাবি—প্রকল্পের বিপুল অর্থ ব্যয়ের হিসাব, কাজের মান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি সব দিক থেকেই গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। সূত্রের দাবি, তবিবুর রহমান ঘুষের মাধ্যমে এলজিআরডি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার বিশেষ সহকারী মাহফুজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে নিজের সুবিধা নেন।

তবিবুর রহমানের জীবন শুরু হয়েছিল সিরাজগঞ্জের এক দরিদ্র পরিবার থেকে। ছোটবেলায় তাঁর ডাকনাম ছিল “শুক্কুর”। পড়ালেখায় অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় এলাকাবাসী তাঁকে সহযোগিতা করত। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি, এসএসসি–এইচএসসিতে ভালো ফল এবং পরে বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া—সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল উজ্জ্বল। এরপর তিনি ডিপিএইচইতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি পান এবং ধীরে ধীরে উচ্চপদে পৌঁছান।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ—চাকরির শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার কারচুপি, ঘুষ লেনদেন ও নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেন। বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পোস্টিং থাকার সময়ে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় বাড়ি–ফ্ল্যাট কেনেন এবং নিজ এলাকায় কিনেন একশ্রেণীর জমি। এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রায় ১ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে তবিবুর রহমান প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি—এই পদে আসার পেছনেও নানারকম যোগসাজশ ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। কিছু সূত্র বলছে, সেই সময়ের এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এবং তাঁর এপিএস জাহিদ চৌধুরীর মাধ্যমে পদ পেতে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। এসব অভিযোগ অবশ্য এখন পর্যন্ত আদালতে প্রমাণিত নয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প মনিটরিং কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির অগ্রগতি এখনো মাত্র ৪৬ শতাংশ, অথচ শেষ হতে বাকি আর দেড় মাস। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি কাজই অসম্পূর্ণ। মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট বলছে—অনেক টয়লেট ব্যবহারযোগ্য নয়, কমিউনিটি ক্লিনিকের টয়লেট দূরে হওয়ায় কাজে লাগছে না, আর পাইপ লাইনের জন্য ব্যবহৃত বেশিরভাগ পাইপই নিম্নমানের হওয়ায় দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ৩০ জেলার ৯৮টি উপজেলায় কাজ হলেও অভিযোগ—মানের দিক থেকে বেশিরভাগই ত্রুটিপূর্ণ।

সূত্র জানায় টেন্ডার মেনিপুলেশন, ঠিকাদারের সাথে ১০-২০% চুক্তিতে কার্যাদেশ, নিম্নমানের কাজে ঘুষ নিয়ে বিল প্রদান, প্রকল্পের কেনাকাটায় ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ, কনসালটেন্ট ফার্ম নিয়োগে মোটা অংকের ঘুষ। সূত্র আরো জানায় এই প্রকল্পে নানান ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক মোঃ তবিবুর রহমান কামিয়েছেন প্রায় ২০০ কোটি টাকা। সূত্র জানায় প্রকল্পের শেষ দিকে এই দুর্নীতির মাত্রা আরো বেড়ে যাবে।

টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ঠিকাদার নিয়োগ, ভুয়া বিল–ভাউচার, নিম্নমানের কাজের বিল অনুমোদন—সবকিছুতেই অনিয়ম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, এসব মাধ্যমে তবিবুর রহমান নাকি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন—যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রকল্প দপ্তরের ভেতরেও অসন্তোষ রয়েছে।

তবিবুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরেও নানা আলোচনা আছে অফিসে ও এলাকায়। সহকর্মীদের অনেকেই তাঁকে ডাকেন “বিয়ে পাগলা তবিবুর” নামে। অভিযোগ আছে—তিনি যেখানেই পোস্টিং পেতেন, সেখানে বিয়ে করতেন। তাঁর বিবাহ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গুঞ্জন রয়েছে, এবং সূত্রের দাবি—এখন পর্যন্ত তাঁর কমপক্ষে চারটি বিয়ের খোঁজ মিলেছে। কেউ কেউ বলেন, তিনি সাধারণত অফিসের কম আয়ের কর্মচারী বা এলাকার স্বল্প আয়ের পরিবার থেকে বিয়ে করতেন, পরে তাঁদের নানা সুবিধা দিয়ে সাবলম্বী করে দিতেন। এছাড়া ঢাকাতেও নাকি তাঁর দুই স্ত্রী আলাদা দুই ফ্ল্যাটে থাকেন।

সবকিছুর মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—প্রকল্পের টাকার অপচয়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজ। সূত্রের দাবি—প্রকল্পের শেষ দিকেই এসব অনিয়ম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। যদিও এসব অভিযোগের অনেকটাই এখনো তদন্তাধীন এবং প্রমাণীকরণ বাকি।




ব্যবসায়ী অশোক কুমার শাস্ত্রী পরলোক গমন করেছেন

অভয় নগর প্রতিনিধিঃ অভয় নগরের মহাকাল এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অশোক কুমার শাস্ত্রী পরলোক গমন করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

অশোক কুমার শাস্ত্রী’র শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে মহাকাল মহাশ্মশানে।




যশোর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম মাসুদ আহমেদের গণসংযোগ

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম মাসুদ আহমেদ অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়া, বসুন্দিয়া ও সুন্দলী এলাকায় দিনব্যাপী গণসংযোগ করেছেন। সোমবার সকালে তিনি এসব এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, অভাব-অভিযোগ শোনা এবং স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবীণ ভোটার, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতায় এম মাসুদ আহমেদ বলেন, “৩৬ বছরের দীর্ঘ সামরিক জীবনে আমি দেশের অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করেছি। এখন জীবনের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নই—নির্বিশেষে সকল মানুষের সেবা করতে এবং একটি সুশাসনভিত্তিক জন-উদ্যোগ গড়ে তুলতে চাই। এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে আমি বিশেষভাবে আগ্রহী।




ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ সম্প্রতি কয়েক দফা ভূমিকম্পে সারা দেশে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় ভূমিকম্প প্রস্তুতি–সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে এ বৈঠক শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

সরকারি সূত্র জানায়, শুক্রবার ও শনিবার (২১–২২ নভেম্বর) দুই দিনে চার দফা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। এ বৈঠকে রাজধানীসহ সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, উদ্ধার সক্ষমতা, জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার সকালে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হানে বাংলাদেশে। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, যা ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এই ভূমিকম্পে তিন জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। ঢাকার বহু ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে। এরপর শনিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার তিন দফা ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্ক আরও বাড়ে।

প্রধান উপদেষ্টা ভূমিকম্প–পরবর্তী ঝুঁকি মূল্যায়ন, ভবন নিরাপত্তা, জনসচেতনতা, জরুরি সাড়া–দানের সক্ষমতা ও সমন্বিত প্রস্তুতি–পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।




বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

আবহাওয়া ডেস্কঃ ‘দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি, আর এর মধ্যেই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।’— বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে পড়বে এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ গুরুতর বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে। উপকূলে পানি ও মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স উইল বি প্রাইভেট সেক্টর লেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মূল চাপ এখন পরিবারের ওপর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর গিয়ে পড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে কোনো না কোনো ধরনের আবহাওয়াজনিত ধাক্কার আশঙ্কা করছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ পরিবার ও ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জলবায়ু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ নিলেও এগুলোর বড় অংশই সাধারণ ও কম খরচের সমাধান।

বাংলাদেশের উপকূলের ২৫০টি গ্রাম নিয়ে করা এক জরিপ বলছে, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এখানকার সবচেয়ে বড় অপূর্ণ চাহিদা। দীর্ঘমেয়াদে ৫৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, দুর্যোগ–সুরক্ষা অবকাঠামোর ঘাটতি তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর ৫৬ শতাংশ পরিবার বলেছে, অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতাই তাদের নেই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই সংকট শুধু পরিবেশগত নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত; বিশেষ করে দরিদ্র ও কৃষিভিত্তিক পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টারসহ সরকারি বিনিয়োগ মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখায়—সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও হালনাগাদ তথ্যের সমন্বয়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব। তবে রাজস্ব সংকটের কারণে সরকারের সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় বেসরকারি খাতের অভিযোজনকে সহজ করতে নীতিগত প্যাকেজ জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা প্রতিনিয়ত নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জে পরীক্ষার মুখে পড়ছে। অভিযোজন ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ঘটছে, কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি দ্রুত বাড়ায় আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজন আছে।’ তিনি আরও বলেন, দেশের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু–স্মার্ট কৃষি, অভিযোজন অর্থায়ন ও নগর এলাকার লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বহুস্তরীয় ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন জরুরি। আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা, আনুষ্ঠানিক ঋণ ও বীমা ছড়িয়ে দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় স্থানে বিনিয়োগ স্থানান্তর করতে পারলে জলবায়ু–সম্পর্কিত ক্ষতির এক-তৃতীয়াংশ এড়ানো সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়। সীমিত বাজেটেও পরিবহন ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক উন্নত করা এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা জোরদারের মাধ্যমে সরকার এ প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে।

এ ছাড়া নতুন প্রযুক্তি–নির্ভর অভিযোজন এবং সড়ক বা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মতো মূল সরকারি পণ্য সরবরাহের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনের সহ–লেখক সিদ্ধার্থ শর্মা বলেন, ‘জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা যেমন শিক্ষণীয়, তেমনি একটি বড় পরীক্ষা। মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অভিযোজন করছে, কিন্তু সংকটের জটিলতা ও ব্যাপকতা মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের জরুরি, সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

বিশ্বব্যাংক বলছে, সামনে বাংলাদেশ স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলার বড় সুযোগ পাচ্ছে। আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও সাইক্লোন শেল্টারে বিনিয়োগ বড় দুর্যোগেও প্রাণহানি কমাতে সফল হয়েছে—যা প্রমাণ করে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অভিযোজনকে বড় পরিসরে রূপ দিতে পারে। সরকার, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটির সমন্বিত অংশীদারিত্ব জোরদার করতে পারলে জলবায়ু–স্মার্ট সমাধান দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে শুধু দুর্বলতা কমবে না, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত হবে।




মিরপুর প্রেস ক্লাবের জরুরি নির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত

এসএম বদরুল আলমঃ আজ ২৪শে নভেম্বর ২০২৫ ইং সোমবার, ঢাকা মিরপুর প্রেসক্লাবের জরুরি কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম বদরুল আলম। এতে সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিনসহ নির্বাহী কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মিরপুর প্রেস ক্লাবকে একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও আন্তর্জাতিক মানের প্রেস ক্লাবে রূপান্তর করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অফিস পরিচালনা, বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম এবং সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

সভাপতি এস এম বদরুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন—
“মিরপুর প্রেসক্লাব শুধু সাংবাদিকদের সংগঠন নয়, এটি মিরপুরের মানুষের আওয়াজ তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা প্রেসক্লাবকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে কাজ করছি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সক্রিয়তা বাড়াতে প্রতিটি কমিটি যেন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

তিনি আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি সংযোজন, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন—

“আমাদের প্রেস ক্লাব দ্রুতই একটি ডিজিটাল ও প্রফেশনাল মিডিয়া সেন্টারে রূপান্তরিত হবে। আমরা নতুন আর্কাইভ সিস্টেম, অনলাইন মিডিয়া মনিটরিং, এবং সদস্য সাংবাদিকদের জন্য রেগুলার স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং প্রেস ক্লাবের ভাবমূর্তি রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বক্তব্য,

সভায় উপস্থিত সহ সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সহ সভাপতি ওয়ারেস আহমেদ ভূঁইয়া, অর্থ সম্পাদক জি এস জয়, দুলাল হোসেন, মনজুর আহমেদ, মোহাম্মদ মালেক, রশিদ ই মাহবুব, খলিলুর রহমান, মোঃ সোহরাব হোসেন, এম এ গাফফার, এ এম এম নওশাদ ইহসান, শফিকুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে—

* প্রেস ক্লাবের সদস্যদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা

* নতুন সদস্য সংগ্রহে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রবর্তন

* প্রেস ক্লাবে আধুনিক স্টুডিও, নিউজরুম ও সেমিনার হল উন্নয়ন

* সাংবাদিকদের কল্যাণ তহবিল বৃদ্ধি

* মিরপুর অঞ্চলের সংবাদ পরিবেশনকে আরও মানসম্মত করা

* সার্বিকভাবে সভাটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং প্রেসক্লাবের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।




প্রয়াত শ্রমিকনেতা দিদারুল হকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীতে যশোরে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

এসএম বদরুল আলমঃ সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা দালালপুঁজি বিরোধী লড়াইয়ে অগ্রণী সৈনিক, জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী আন্দোলনের নেতা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সহ-কোষাধক্ষ্য, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলার সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের অন্যতম নেতা, নওয়াপাড়া শাখার সাবেক কর্মকর্তা ও কার্পেটিং জুটমিল সিবিএ’র সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শ্রমিকনেতা দিদারুল হকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী (২৪ নভেম্বর) সোমবার পালনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৩টায় নওয়াপাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ব্রাইট ঘাটে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শ্রমিকনেতা বাহারুল ইসলাম (বাহার)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিকনেতা শাহ আলম ভূঁইয়া। বিশেষ বক্তা ছিলেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা প্রকাশ দত্ত। অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক কৃষকনেতা অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষকনেতা কামরুল হক লিকু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা সভাপতি শ্রমিকনেতা আশুতোষ বিশ্বাস, নড়াইল জেলা সাধারণ সম্পাদক কৃষকনেতা হুমায়ুন কবির, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ‌তি ও খুলনা জেলা সভাপতি খাদিজা পারভিন, জাতীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছাত্রনেতা দিলিপ বিশ্বাস, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন খুলনা শাখার সভাপতি শ্রমিকনেতা হাসান মুন্সি মাস্টার, সহ-সভাপতি লিটন মাস্টার, নাসির মাস্টার, বেল্লাল মাস্টার, ইমরুল ড্রাইভার, কার্যকরী সভাপতি ফারুক মাস্টার, রাশেদ মাস্টার, হাসমত মাস্টার, মঞ্জু মাস্টার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। সভাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ অভয়নগর থানার সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা নাজমুল হুসাইন।

বক্তারা বলেন, আজ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সমস্যা-সংকটের মধ্যদিয়ে চলছে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের জীবন। এ সংকট চলমান বিশ্বব্যবস্হার সংকট। পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্হায় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট গভীর থেকে গভীরতর হয়ে চলেছে।

২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক মন্দা ১৮ বছর চলে বিশ্বযুদ্ধের বিপদ এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করে চলেছে। এ সংকটের অধীন বাংলাদেশের জাতীয় পরিস্থিতি হওয়ায় সাম্রাজ্যবাদীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত বৃদ্ধি ও তাদের প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এবং সাম্রাজ্যবাদী লুটেরা অর্থনীতির লুটপাটে দেশে বিরাজ করছে গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ সামগ্রিক সংকট।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনায় দেশে খুনি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে মার্কিনের বিশ্বস্ত দালাল ডঃ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী NDA(Non Discloser Agreement) চুক্তি, চট্টগ্রাম বন্দর মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত কোম্পানি (ডিপি ওয়ার্ড)-এর হাতে তুলে দেওয়ার মতো নগ্ন ভূমিকা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে বিভিন্ন সংস্কারের নামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও পশ্চিমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে।

অপরদিকে মার্কিনের প্রধান প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া দেশে স্বীয় অবস্থান শক্ত করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিনের পক্ষে সম্পৃক্ত করতে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের স্বরূপ উন্মোচন করে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। সাথে সাথে সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় দেশে জাতীয় নির্বাচনে এক সাম্রাজ্যবাদের দালালের পরিবর্তে আরেক দালাল রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে প্রতিবারের মতো শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের কোনো লাভ হবে না।

তাই শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত মুক্তি অর্জন করতে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দালালদের (তথাকথিত ভোট) রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে এবং শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়নে জন‌্য জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সা‌থে সা‌থে প্রধান অ‌তি‌থি নওয়াপাড়া বন্দরের শ্রমিক‌দের উত্থা‌পিত সমস্যা সমাধা‌নে কর্তৃপ‌ক্ষের দৃ‌ষ্টি আকর্ষণ ক‌রেন।