এক বছরে সর্বাধিক ম্যাচ খেলে নতুন রেকর্ড গড়লেন সালমান

খেলাধুলা ডেস্কঃ ২০২৫ সাল পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে হয়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তান দল ইতিমধ্যেই খেলেছে ৫৪টি ম্যাচ, যা চলতি বছরে বিশ্বের অন্য কোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি। দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আঘা অংশ নিয়েছেন সবকটিতে, যা তাকে ইতিহাস গড়ার সুযোগ দিয়েছে।

রবিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আগা এই রেকর্ড গড়েন। এই ম্যাচে তিনি এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডে পৌঁছান ৫৪ ম্যাচে। এই রেকর্ডের আগে এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল ৫৩ ম্যাচ। তা দখল করেছিলেন রাহুল দ্রাবিড় (ভারত, ১৯৯৯), মোহাম্মদ ইউসুফ (পাকিস্তান, ২০০০) এবং এমএস ধোনি (ভারত/এশিয়া একাদশ, ২০০৭)। ১৯৯৭ সালে শচীন টেন্ডুলকার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫০টির বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের নায়ক ছিলেন বাবর আজম, খেলেন দৃষ্টিনন্দন ৭৪ রান (৫২ বল)। সালমান আঘা ৬ নম্বরে নেমে করেন মাত্র ১ রান। অন্যদিকে, ফখর জামান মাত্র ১০ বলে ২৭ রান করে ঝড় তোলেন।

জবাবে জিম্বাবুয়ে ১২৬ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের বড় জয়ে অবদান রাখেন তরুণ স্পিনার উসমান তারিক, তিনি মাত্র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন এবং হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন।




অভিনেত্রীর জন্য পাত্র দরকার—রাস্তাজুড়ে ঝুলছে পোস্টার

বিনোদন ডেস্কঃ কলকাতা শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে ঝুলছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রের ছবিসহ ‘পাত্র চাই’ লেখা পোস্টার। সাদাকালো সেই পোস্টারে পাত্রের যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণও দেওয়া আছে। হঠাৎ এমন পোস্টার দেখে পথচারীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়।

প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, রুক্মিণীর ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়ে এটি কোনো ঘোষণা। কিন্তু পোস্টারের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দীপক চক্রবর্তীর নাম! প্রশ্ন ওঠে, কে এই দীপক চক্রবর্তী? পরে জানা যায়, অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীর চরিত্রের নাম এটি!

এতে খানিকটা ধোঁয়াশা কাটে। জানা যায়, এটি রুক্মিণী অভিনীত আসন্ন সিনেমা ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’র প্রচারণার অংশ।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, সেই সিনেমায় রুক্মিণীর বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন চিরঞ্জিৎ। তার চরিত্রই পর্দায় মেয়ের জন্য ‘পাত্র খুঁজছেন’, এ ধারণা থেকেই এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা।

‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ টিম জানিয়েছে, প্রচারের ধরন বদলে যাওয়ায় এখন দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণে নতুন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয়। সেই কারণে শহরজুড়ে লাগানো হয়েছে এমন পোস্টার, যা দেখে অনেকে থমকে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ কেউ আবার মোবাইলে খুঁজে দেখছেন, রুক্মিণীর বিয়ে কবে? এমনকি কেউ কেউ বিভ্রান্তও হচ্ছেন।

দর্শক প্রতিক্রিয়া থেকেই টিম ধারণা করছে, প্রচারণা সফল হয়েছে।

ছবির প্রচারে আগে এমন ব্যতিক্রমী কৌশল দেখা গেলেও সব সময় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এবার প্রচারণা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।

বাবা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অর্ণব মিদ্যা।




অনলাইন-অফলাইনের বাজে মন্তব্যকারীদের সমান শাস্তির দাবি হুমার

বিনোদন ডেস্কঃ অভিনেত্রীদের কমেন্ট বক্সে অশালীন মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নতুন নয়। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি। তার মতে, বাস্তবে নারীদের হয়রানি করলে যে শাস্তি হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজে মন্তব্য করলেও একই শাস্তি হওয়া উচিত।

সম্প্রতি দ্য মেল ফেমিনিস্ট-এর সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন অভিনেত্রী।

হুমা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ বিকিনি পরা ছবি পোস্ট করতে বলেন। আবার পোস্ট করলে লেখেন, এগুলো কী করছেন? এই দ্বিচারিতা যেমন বিরক্তিকর, তেমনই দুঃখজনক। রাস্তায় নারীদের বাজে মন্তব্য করলে যেমন শাস্তি হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় একই কাজ করলে একই ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত। কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়।

তার কথায়, যদি কেউ আমার মেসেজে অশ্লীল ছবি বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তবে তারও শাস্তি হওয়া উচিত। আমি শুধু এইটুকুই বলতে চাই, নারীরা কী পোশাক পরছেন, তাদের মেকআপ, জীবনশৈলী, কাজ বা রাতে কখন বাড়ি ফিরছেন—এসব নিয়ে সমালোচনা করা বন্ধ করুন।

অভিনেত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অনেকে। তাদের কথায়, বাজে মন্তব্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

বর্তমানে বেশ ভালো সময় কাটছে হুমার। ‘দিল্লি ক্রাইম ৩’ এবং ‘মহারানি ৪’ সিরিজ দুটি বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে দর্শক মহলে।

রচিত সিংয়ের সঙ্গে প্রেম করছেন হুমা—সম্প্রতি এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি অভিনেত্রী। তবে সোনাক্ষীর রিসেপশনে রচিতের সঙ্গে একই রঙের পোশাক পরে আসতে দেখা যায় পর্দার মহারানিকে।




ড্রেন খননে বেরিয়ে এলো পরিত্যক্ত গ্রেনেড, লালমনিরহাটে চাঞ্চল্য

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ফসলি জমিতে ড্রেন খননের সময় একটি পরিত্যক্ত গ্রেনেড উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

‎বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বড় কমলাবাড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে এটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান আদিতমারী থানার ওসি আলী আকবর।

‎‎পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাড়ির পাশে ড্রেন খননের সময় গ্রেনেডটি দেখতে পায় স্থানীয় বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক মোঃ আব্দুল আজিজ।

পরে তিনি বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। সন্দেহ হলে স্থানীয়রা আদিতমারী থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

‎আজিজ বলেন, মাটি খোঁড়ার সময় প্রথমে বস্তুটি দেখে সন্দেহ হয়। পরে বুঝতে পারি এটি গ্রেনেড। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আশপাশের এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিয়েছিলেন। সম্ভবত এটি সেই সময় ফেলে যাওয়া গ্রেনেড হতে পারে।

‎‎ওসি আলী আকবর বলেন, গ্রেনেডটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এটি নিরাপদে থানায় রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নিষ্ক্রিয় করা হবে।

এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান তিনি।




এখন সাশ্রয়ী নতুন দামে পাওয়া যাচ্ছে আলটিমেট ডিউরেবিলিটি চ্যাম্পিয়ন অপো এ৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শীর্ষস্থানীয় গ্লোবাল টেকনোলজি ব্র্যান্ড অপো তাদের ডিউরেবিলিটি পাওয়ারহাউজ অপো এ৫ (৬ জিবি + ১২৮ জিবি) এখন আকর্ষণীয় নতুন দাম মাত্র ১৭,৯৯০ টাকায় নিয়ে এসেছে। ডিভাইসটির আগের দাম ছিল ১৯,৯৯০ টাকা। শক্তি, সক্ষমতা ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সমন্বয় এই ফোনটি এখন দেশজুড়ে সকল অথোরাইজড অপো স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে।
অপো এ৫-এ ইন্ডাস্ট্রির সেরা ডিউরেবিলিটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফোনটিতে রয়েছে আইপি৬৫ ওয়াটার অ্যান্ড ডাস্ট রেজিজট্যান্স যা পানি, ছিটা বা ধুলাবালি থেকে ডিভাইসকে সুরক্ষিত রেখে আপনার লাইফস্টাইলের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সঙ্গী হতে পারে। ফোনটির ১৪-স্টার মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিসট্যান্স, হঠাৎ পড়ে গিয়ে নষ্ট হওয়া থেকে ডিভাইসটিকে সুরক্ষিত রাখে। আর এর এসজিএস গোল্ড সার্টিফিকেশন যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ফোনটিকে সচল রাখার মতো সুরক্ষা নিশ্চিত করে। কেবল কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকাই নয়, বরং যেকোনো আঘাতেও নিখুঁতভাবে কাজ করার জন্য প্রস্তুত এই ডিভাইসটি।
ডিভাইসটিতে ৬,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সুবিশাল ব্যাটারি নিয়ে আসা হয়েছে, যা পাওয়ার ডিগ্রেডেশন ছাড়া টানা ৫ বছর পর্যন্ত কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম। পাশাপাশি, এর ৪৫ ওয়াট সুপারভুক ফ্ল্যাশ চার্জের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মাত্র ১৯ মিনিটে ৩০% চার্জ ও ৩৬ মিনিটে ৫০% চার্জ করতে পারবেন। ফলে, ডাউনটাইম কমে আসে এবং গেমিং, স্ট্রিমিং বা চলার পথে জরুরি কাজের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন থাকার সময় বৃদ্ধি পায়।
অপো এ৫-এর শক্তিশালী এআই ক্যামেরা সিস্টেম ব্যবহারকারীকে আরও সক্ষম করে তোলে। এর শক্তিশালী ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা নিখুঁত ও ঝকঝকে ছবি নিশ্চিত করে; একইসাথে, এর ২ মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সর পোর্ট্রেইটের ক্ষেত্রে প্রফেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার মুহূর্তেই তৈরি করে। অন্যদিকে, ডিভাইসটির ৫ মেগাপিক্সেল এআই সেলফি ক্যামেরা প্রতিটি সেলফিকে আরও ব্যালেন্সড ও শার্প করে তোলে। ফোনটিতে ফটো এডিটিংয়ের জন্য রয়েছে এআই ইরেজার ২.০ যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো ছবি থেকে সরিয়ে ফেলে।
মিলিটারি-গ্রেড প্রতিরোধ সক্ষমতা থাকার পরেও অপো এ৫ এর স্লিক ও এলিগ্যান্ট লুক ধরে রেখেছে। এর আলট্রা-ব্রাইট ১,০০০-নিট ডিসপ্লে যেকোনো পরিবেশে দারুণ ও প্রাণবন্ত ভিজ্যুয়াল নিশ্চিত করে; এমনকি প্রচণ্ড রোদেও নিখুঁতভাবে ডিসপ্লে ফুটিয়ে তোলে। মিস্ট হোয়াইট ও অরোরা গ্রীন দুইটি আকর্ষণীয় রঙে পাওয়া যাচ্ছে অপো এ৫। এটি হাতে ধরতে একদম হালকা ও আরামদায়ক, যা শহুরে ব্যস্ততা থেকে শুরু করে আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার, সবখানেই আপনাকে দিবে নিরবচ্ছিন্ন প্রশান্তি।
নিখুঁত ডিজাইনের পাশাপাশি, অপো এ৫ ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ; যা স্মুথ মাল্টিটাস্কিং ও সকল কনটেন্টের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করে। অপোর অপ্টিমাইজড সিস্টেম সফটওয়্যারের মাধ্যমে এটি তার অনবদ্য ডিউরেবল কাঠামোর মতোই নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।
এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “অপোতে আমাদের ক্রেতাদের প্রয়োজনই হলো আমাদের জন্য সেরা প্রেরণা। অপো এ৫-এর এই কৌশলগত মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করছি যে, বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা পারফরম্যান্স বা গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনোপ্রকার আপস না করেই আমাদের সবচেয়ে টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন। অবিশ্বাস্য মূল্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটিই আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।”
অপো এ৫ কেবল একটি স্মার্টফোন নয়; এটি দৃঢ়তা, সহনশীলতা ও প্রতিদিনের মার্জিত রুচির বহিঃপ্রকাশ। আপনি অ্যাডভেঞ্চারার, পেশাজীবী বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর যাই হোন না কেন, ডিভাইসটি আপনার চলার পথের প্রতিটি পদক্ষেপে আপনার গতির সাথে তালমিলিয়ে চলার জন্য তৈরি।
দেশজুড়ে স্মার্টফোনটি এখন মাত্র ১৭,৯৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আরও বিস্তারিত জানতে অপো বাংলাদেশের ওয়েবসাইট https://www.oppo.com/bd/smartphones/series-a/a5/ বা অপোর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/OPPOBangladesh ভিজিট করুন।



ওয়াটার-রেজিজট্যান্সে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস করল রিয়েলমি সি৮৫ সিরিজ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তরুণদের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি সম্প্রতি বাংলাদেশে সি৮৫ সিরিজের সবচেয়ে ওয়াটার রেজিজট্যান্ট স্মার্টফোন রিয়েলমি সি৮৫ প্রো উন্মোচন করেছে। ইন্ডাস্ট্রির সেরা আইপি৬৯ প্রো রেটিংসহ রিয়েলমি সি-সিরিজের এই স্মার্টফোনটি ‘মোস্ট পিপল পারফর্মিং আ মোবাইল ফোন ওয়াটার-রেজিজট্যান্স টেস্ট সিমুলটেনাসলি’ শীর্ষক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অর্জন করে।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় সিলান্ডক স্পোর্টস সেন্টারে এ অসাধারণ রেকর্ড গড়া হয়। রিয়েলমি সি৮৫ সিরিজের উদ্ভাবনী ওয়াটারপ্রুফিং প্রযুক্তি ও ব্যবহারকারীদের জন্য ডিউরেবল প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে ব্র্যান্ডটির প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এ মাইলফলক অর্জন করে রিয়েলমি।
রেকর্ড গড়ার এই চ্যালেঞ্জে ২৮০ জন অংশগ্রহণকারীর প্রত্যেকে রিয়েলমি সি৮৫ সিরিজের স্মার্টফোন নেন। পুলের ধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সকল অংশগ্রহণকারী সমন্বিত ডোমিনো-স্টাইলে একসাথে তাদের ডিভাইস পানিতে ডুবিয়ে দেন। প্রতিটি ফোন দুই মিনিট পানির নিচে রাখার পর সেগুলো তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে দেখা যায়, সবগুলো ডিভাইসই স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল; আর এর মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
এই রেকর্ড অর্জনের মূলে ছিলো রিয়েলমি সি৮৫ সিরিজের একদম নতুন আইপি৬৯ প্রো ওয়াটার-রেজিজট্যান্স টেকনোলাজি। এটি রিয়েলমির এখন পর্যন্ত নিয়ে আসা সবচেয়ে আধুনিক প্রোটেকশন সিস্টেম, যা আইপি৬৯কে, আইপি৬৯, আইপি৬৮ ও আইপি৬৬, এই চারটি ওয়াটার-রেজিজট্যান্স স্ট্যান্ডার্ডকে অতিক্রম করে। ডিভাইসটি ৬ মিটার পানির গভীরে ৩০ মিনিট ও ০.৫ মিটার পানির গভীরে টানা ৬০ দিনের কঠিন পরীক্ষার পরও সম্পূর্ণ সচল থেকে এই প্রযুক্তির ডিউরেবিলিটি প্রমাণ করেছে। পাশাপাশি, সিরিজটিতে ব্যবহৃত ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি ডিভাইসটির ডিউরেবিলিটি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য সকল পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
রিয়েলমি সি৮৫ সিরিজের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস প্রমাণ করে যে, রিয়েলমি বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এমন টেকসই ও মানসম্পন্ন স্মার্টফোন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও দৈনন্দিন নির্ভরযোগ্যতার নিখুঁত সমন্বয় নিশ্চিত করে।
সম্প্রতি উন্মোচিত রিয়েলমি সি৮৫ প্রো ডিভাইসটি তিনটি ভ্যারিয়েন্টে দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এর ৬ জিবি + ১২৮ জিবির দাম মাত্র ২০,৯৯৯ টাকা, ৮ জিবি + ১২৮ জিবির দাম মাত্র ২২,৯৯৯ টাকা ও ৮ জিবি + ২৫৬ জিবির দাম মাত্র ২৪,৯৯৯ টাকা।



অভিযোগের পাহাড়ে ডুবলেন ইউপি সদস্য রুপালী খাতুন, মন্ত্রণালয়ের আদেশে বরখাস্ত

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুপালী খাতুনকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে মারধর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো, এমনকি ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (১০ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোঃ সামিউল মাসুদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে রুপালী খাতুনকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে আদেশটি কার্যকর করার জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক এবং দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ৪৬.০০.৮১০০.০০০.০১৭.২৭.০০০৪.২৫-৮৮৫/১(৭) নং স্মারকে চিঠি পাঠানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ার পর রুপালী খাতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন–এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, তিনি দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। এছাড়া ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা, বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে-বেনামে বানানো অভিযোগ দেওয়া এবং ভিডাব্লিউবি’র চাল বিতরণ কাজে বাধা সৃষ্টি করার মতো ঘটনা একাধিকবার ঘটান। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা পায় এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন–২০০৯-এর ৩৪(৪)(খ) ও ৩৪(৪)(ঘ) ধারায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, রুপালী খাতুনের কর্মকাণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব, আইন ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।

স্থানীয় সূত্র মতে, অতীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়কার প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা সুবিধা ভোগ করেছিলেন। ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর তিনি নতুন এক প্রভাবশালী নেতার ছায়ায় থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে মারধর, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মসহ অসংখ্য অভিযোগ জমতে থাকে। গ্রামবাসীর দাবি, কারা তাকে এত ক্ষমতা দিয়েছে এবং কারা তাকে উসকানি দিচ্ছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বরখাস্তের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং তারা রুপালীর পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করলে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন সংবাদটি নিশ্চিত করেন।




টাঙ্গাইলে বহুতল ভবন নিয়ে জমির মালিকানা বিতর্ক ও কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ ও জেলা পরিষদ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে, যা এলাকায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকার পাশের প্রায় এক একর ৫২ শতাংশ জায়গায় ২০১৫ সালে ‘বিবর্তন’ নামে একটি বহুমুখী বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ শুরু করে জেলা পরিষদ। সে সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক প্রকল্পটির উদ্যোগ নেন।

কিন্তু এই জমির বড় অংশ—প্রায় ৭৫ শতাংশ—গণপূর্ত বিভাগের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। গণপূর্ত বিভাগের অভিযোগ, তাদের জায়গা দখল করেই জেলা পরিষদ বিশাল ভবনটি নির্মাণ করেছে। বারবার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তখনকার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক তা মানেননি এবং নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন, ভবনে যেই জমি দখল হয়েছে তার মূল্য ৩০ কোটি টাকারও বেশি। তারা এই জায়গার অধিকার ছাড়বেন না। ভবিষ্যতে এই ভবন গণপূর্তের অধীনে নিতে হবে অথবা পুরো নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। তবে দুই মন্ত্রণালয় যদি যৌথভাবে সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগ থাকতে পারে।

অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না জানান, গণপূর্তের দাবি কতটা সঠিক, তা আগে যাচাই করা হবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা সরেজমিন পরিদর্শনে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পরিষদ প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছে।

এদিকে ভবনটি নির্মাণের সময়ে দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ আরও পরিস্থিতি জটিল করেছে। অভিযোগ রয়েছে—গণপূর্তের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের আড়ালে কয়েক কোটি টাকা গায়েব করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দোকান বরাদ্দ নেওয়া প্রায় আড়াইশ ব্যবসায়ী। তারা ১০ বছর আগে টাকা জমা দিয়ে দোকান ইজারা নিলেও এখনো কাউকে দোকানের পজিশন বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ভবনটি আদৌ শেষ হবে কি না তা নিয়েও অনেকে সন্দিহান। ফলে হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

টাঙ্গাইলের মানুষের মধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে জমির মালিকানা নিয়ে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের বিরোধ, অন্যদিকে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে।




ওবায়দুল কাদেরের পরিচয়দাতা আসাদুজ্জামান হিরুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে নামল দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ‘পালিত পুত্র’ পরিচয়ে চলাফেরা করা আসাদুজ্জামান ওরফে হিরুর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদক জানায়, হিরুর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে চোরাচালান, হুন্ডি ব্যবসা, শুল্ক ফাঁকি, চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ সংগ্রহের অভিযোগ এসেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বর্তমানে আসাদুজ্জামান হিরু ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের (এনডিই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেটের সভাপতি। শুধু তাই নয়—প্যারাগন, লন্ডন টাচ, প্যারিস গ্রুপ ও ওয়েস্ট ফিল্ড নামের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরও মালিক। দুদকের ধারণা, এসব ব্যবসার আড়ালেই তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হিরু এবং তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মিলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ট্যাক্স জালিয়াতি ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে দুদক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নেমেছে। তদন্তের জন্য দুদক দুই সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে—দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপ-সহকারী পরিচালক আবু তালহা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসাদুজ্জামান হিরুকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় সংঘটিত এক হত্যা মামলায় তাকেও অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ জানায়, হিরু নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে ওবায়দুল কাদেরের ‘পালিত পুত্র’ বলে পরিচয় দিয়ে নানা সুবিধা নিতেন এবং এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়েই তিনি বড় ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন।

দুদকের অনুসন্ধান এখন সেই সমস্ত অভিযোগ যাচাই করে দেখবে—ঠিক কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে এবং কার সহায়তায় তিনি এত বড় অঙ্কের সম্পদ সংগ্রহ করেছেন।




মিরপুরে লাজফার্মার ভুল ওষুধে জীবন-মৃত্যুর লড়াই রিনার; প্রতিশ্রুতি ভেঙে উল্টো পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরে লাজফার্মার অবহেলার কারণে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছেন কামাল হাউজিংয়ের বাসিন্দা খালেদা আক্তার রিনা (৪৫)। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে থাকা Methoflex 500 mg-এর পরিবর্তে ফার্মেসি থেকে তাকে তুলে দেওয়া হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ও অত্যন্ত শক্তিশালী কেমোথেরাপি-জাতীয় ওষুধ Methotrexate 10 mg—এক পুরো পাতায় মোট ১০টি ট্যাবলেট। ভুল ওষুধ সেবনের পর থেকেই রিনার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। লিভার ও কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাথা ও ভ্রুর চুল পড়ে যেতে শুরু করে।

২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মিরপুরের রাইনখোলা মোড়ে শাহ আলী থানার কাছাকাছি লাজফার্মা থেকে ওষুধ কেনেন রিনা। শরীর খারাপ হতে থাকলে প্রথমে তাকে ১ নভেম্বর মিরপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় সেখান থেকে দ্রুত ধানমন্ডীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

রিনা আইসিইউতে থাকা অবস্থায় লাজফার্মার ম্যানেজার মো. ওবায়দুল কয়েকবার হাসপাতালে যান। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রক্ষায় তিনি পরিবারকে বলেন যে চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় লাজফার্মা বহন করবে। শুরুতে তিনি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সাহায্যও দেন। কিন্তু ৫ নভেম্বর রিনাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেয়ার পর তাদের আচরণ পুরোপুরি বদলে যায়।

১১ নভেম্বর রিনার পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে কথা বলতে লাজফার্মায় গেলে ম্যানেজার ওবায়দুল এবং পরিচালক বেলালের ভাই জিলাল তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, হুমকি দেন এবং আর কোনো খরচ বহন করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার পর পরিচালক আকবর ও বেলাল চার লাখ টাকা দেয়ার আশ্বাস দেন।

১২ নভেম্বর ফেয়ারপ্লাজার ১০ম তলায় এক ডেভেলপারের অফিসে রিনার পরিবার ও লাজফার্মা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সাদা কাগজে লিখিত সমঝোতাও হয়—সেখানে চার লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই টাকা দেয়নি তারা। বরং লাজফার্মার ম্যানেজার ওবায়দুল উল্টো রিনার পরিবারের বিরুদ্ধে “চাঁদাবাজি” অভিযোগে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন। এ মামলার তদন্ত করছেন এসআই রুবেল।

স্থানীয়দের দাবি, রাইনখোলা মোড়ের লাভজনক এই লাজফার্মার সাইনবোর্ডটি কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ–সম্পৃক্ত নেতার কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ফলে মাসে লাখ টাকার বেশি মালিক লুৎফর রহমানকে দিতে হয়—যার কারণে ওষুধের মান, ভোক্তার নিরাপত্তা বা নৈতিকতার চেয়ে এখন মুনাফাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এমনকি আগে লাজফার্মার অন্য একটি শাখায় নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও হয়েছিল।

গ্রাহকদের অভিযোগ—লাজফার্মার অনেক কর্মীই নিয়মিত দুর্ব্যবহার করেন, ভুল ওষুধ দেন এবং নানা প্রতারণা করেন, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খালেদা আক্তার রিনা এখনো গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পরিবার বলছে—লাজফার্মার অবহেলা, ভুল ওষুধ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণেই রিনার জীবন আজ ঝুঁকির মধ্যে।