ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এবি পার্টির শেখ জামাল

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোঃ মমিন উদ্দিন এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এবি শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ পার্টির ঝালকাঠি জেলা আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক জামাল হোসেন হাওলাদার, সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম বশির, এবি শ্রমিক পার্টির জেলা আহ্বায়ক শেখ মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এসময় জেলা প্রশাসক এর সাথে আন্তরিক পরিবেশে ঝালকাঠির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ঝালকাঠি -২ আসনের এবি পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ জামাল হোসেন তার দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানান।




আজ শ্রমিক নেতা দিদারুল হকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী

এসএম বদরুল আলমঃ আজ (২৩শে নভেম্বর) শ্রমিক নেতা দিদারুল হকের দশম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তার কবরে পুষ্পর্পণ করেন, গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট,বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি যশোর জেলা ও অভয়নগর থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। পুষ্পর্পণ শেষে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট শোক নীরবতা পালন ও শপথ পাঠ করা হয়।

এছাড়া আগামীকাল দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এক বিশাল শোক সভা আগামীকাল বিকাল তিনটায় নোয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। সভাটি সভাপতিত্ব করবেন বাহারুল ইসলাম (বাহার), সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ শাহ আলম ভূঁইয়া, প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন চৌধুরী আশিকুল আলম এবং বক্তা হিসেবে থাকবেন প্রকাশ দত্ত। আশা করি আপনারা সকলে দলে দলে যোগ দিয়ে শোক সভাকে সফল্যমুন্ডিত করে তুলবেন।

মরহুম দিদারুল হক ছিলেন বারবার নির্বাচিত কার্পেটিং জুট মিলের নেতা, গণতান্ত্রিক ফন্টের যশোর জেলা সাবেক সভাপতি, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ, নৌযান ফেডারেশনের অন্যতম নেতা। তিনি নোয়াপাড়া নৌ বন্দরের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি নোয়াপাড়া বাজার কমিটির ও একজন সদস্য ছিলেন। তিনি তার সকল দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে পালন করে গিয়েছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে আজ কোরআন খতম ও মসজিদে-মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেশবাসীর কাছে দিদারুল হকের জন্য দোয়া চেয়েছেন ।

এছাড়া পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় দোয়া ও মিলাদ-মাহফিলের সাথে সাথে অসহায় দরিদ্রের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

 




ঢাকা-১৫ আসনে ভোটার জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে মিল্টন

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা-১৫ আসনে ভোটারদের সাম্প্রতিক মতামত জরিপে বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে এগিয়ে দেখা গেছে। এলাকার ২০০ জন ভোটারকে নিয়ে করা এই জরিপে প্রায় ৭৮ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা মিল্টনকে ভোট দিতে চান। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ড. শফিকুর রহমানের পক্ষে এসেছে প্রায় ২২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১৫ সবসময়ই প্রতিযোগিতামূলক একটি আসন হিসেবে পরিচিত। এবারও দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠে থাকলেও জরিপে লড়াইটা আপাতত একতরফা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান এলাকায় মোটামুটি গ্রহণযোগ্য অবস্থায় থাকলেও জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের প্রতি উল্লেখযোগ্য সমর্থন পাওয়া যায়নি।

এ এলাকার ভোটাররা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন স্থবিরতা, স্থানীয় সমস্যার জট, এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিই তাদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে, প্রচারণা, মাঠের কার্যক্রম এবং সামগ্রিক জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভোটারদের মনোভাবে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই শেষ পর্যন্ত ফল কী হবে, তা নির্ভর করছে আসন্ন সপ্তাহগুলোর রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটার উপস্থিতির ওপর।




ইসিবি চত্বরে জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে নাজিমুদ্দিনকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন ইসিবি চত্বরে জমি ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন ও তার প্রতিষ্ঠান নিউ গিনি প্রপার্টিজকে ঘিরে বেশ কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। ক্রেতা থেকে শুরু করে জমির মালিক—অনেকেই বলছেন, জমি দখল, প্লট আটকে রাখা, প্রতারণা, অতিরিক্ত টাকার দাবি, এমনকি ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, যারা জীবনের সঞ্চয় লাগিয়ে নিরাপদ একটি জায়গা করতে চেয়েছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেউ ৫০ লাখ, কেউ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত দিলেও এখনো কোনো প্লট পাননি। অনেকে আবার টাকা দেওয়ার পরও কোনো কাগজপত্র পর্যন্ত হাতে পাননি। টাকা ফেরত চাইলে নাজিমুদ্দিনের লোকজন নাকি মামলা করার ভয় দেখায়। ভুক্তভোগী আমির বলেন, “শেষ সম্বল দিয়ে জমি কিনলাম, আর আজ আমাদেরই ভয় দেখাচ্ছে।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে হোসেন মোস্তফা বলেন, “প্লট দেখায়ে টাকা নিলো। অপেক্ষা করতে বললো। দুই বছর হলো—প্লট নাই, টাকা নাই, বরং উল্টো ভয় দেখায়।”

জমির মালিক মুকুল ও সিরাজ জানান, তাদের জমি নাজিমুদ্দিন টাকা পরিশোধ না করেই দখল করে রেখেছেন। দাবি করলে নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়। আরেকটি গুরুতর অভিযোগ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, তার ৩৫ কাঠা জমির চারপাশে টিনের বাউন্ডারি তুলে দিয়েছেন নাজিমুদ্দিনের লোকজন, এমনকি জমিতে প্রবেশের পথটাও দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, “এলাকায় একটি চক্র সক্রিয়। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি দেওয়া হয়।”

এ ছাড়া ক্রেতারা আরও অভিযোগ করেছেন, আশপাশের ব্লকের কাজ পর্যন্ত নাজিমুদ্দিন জোর করে বন্ধ করে দেন। স্কয়ারফুটের রেট ২২০০ টাকা হওয়া সত্ত্বেও ২৫০০ টাকা না দিলে নাকি কাজই করা যায় না। অনেকেই দাবি করেছেন, টাকা নেওয়ার পর তাদের প্লট অন্য আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, আর টাকা ফেরত চাইলে মামলা ঠুকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, জীবনের পরিশ্রমের অর্থ দিয়ে অবসরে শান্তিতে থাকার জন্য জমি কিনেছিলেন। এখন উল্টো হুমকি আর হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন এবং নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




কক্সবাজারে এলজিইডি প্রকৌশলী মামুন খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম–হুমকি–তদবিরের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ কক্সবাজারে যোগদানের পর থেকেই এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খানকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, মামুন খান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অসঙ্গতি নিয়মে পরিণত হয়েছে। ঢাকায় ফ্ল্যাট, পটুয়াখালীতে আধুনিক বাড়ি, ধানি জমি, ঢাকার অদূরে বাগানবাড়ি আর দামি গাড়ি—সব মিলিয়ে তার বিত্তবৈভব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৩–২৪ অর্থবছরের সম্পন্ন ও চলমান কাজের বিস্তারিত তথ্য চাইলে মামুন খান সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, একজন সেনা সদস্যের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং পরে গুলিস্তান আর্মি ক্যাম্পের কর্নেল আফজালুর রহমান পরিচয়ে একটি দলের সদস্যরা এসে এক পত্রিকার রিপোর্টার এম শাহীন আলমকে খুঁজে হয়রানি করেন। পত্রিকার সম্পাদক জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে মোবাইলে ক্যাম্পে গিয়ে দেখা করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, অথচ কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে জানানো উচিত ছিল। তার দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান নিজের অনিয়ম ঢাকতেই সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাপ তৈরির চেষ্টা করেছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, সেন্টমার্টিনে বঙ্গবন্ধু সড়কের উন্নয়নকাজে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার ইউনিব্লক বসানোর কথা থাকলেও সেখানে নিম্নমানের ইটের কণা ও সাগরের বালু মিশিয়ে তৈরি ব্লক বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে প্রকৌশলী মামুন খান নিম্নমানের কাজ করিয়ে অর্থ লুটপাট করেছেন এবং প্রকৃত কাজের তুলনায় অধিকাংশ অর্থ ইতোমধ্যে তোলা হয়েছে। কাজের গরমিল ধামাচাপা দিতে এখন নানা অজুহাত খোঁজা হচ্ছে।

উখিয়া, কুতুবদিয়া, চকরিয়া—সব জায়গায়ই রাস্তা, ছোট সেতু, কালভার্ট ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উখিয়ায় রাস্তার তিন লেয়ারের বদলে দুই লেয়ার কাজ করেই ঠিকাদাররা বিল পেয়েছেন, যার পেছনে উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া মামুন খান নিয়ম ভেঙে বারবার কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাতায়াত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির একজন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন—মাসিক বেতন ভাতা দিয়ে কীভাবে সপ্তাহে কয়েকবার বিমান ভ্রমণ সম্ভব? কক্সবাজার বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজেই এসব যাতায়াতের প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সকল কাজ বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নাধীন এবং সরেজমিনে গেলে প্রকৃত অবস্থা দেখা যাবে। অন্যান্য অভিযোগকে তিনি মনগড়া বলে দাবি করেন।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, সম্প্রতি মামুন খানকে বদলি করে প্রধান কার্যালয়ে এমনভাবে রাখা হয়েছে যেখানে তার নিজস্ব কোনো চেয়ার–টেবিলও নেই। পাশাপাশি তিনি ক্ষমতাশালী মহলের মাধ্যমে নিজের পছন্দের স্থানে বদলি পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন।




নারীবাদের আসল অর্থ হারিয়ে ফেলছে সমাজ

বিনোদন ডেস্কঃ নিজের ছবি ‘ধাক ধাক’ নিয়ে কথা বলছিলেন বলিউডের অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ। অভিনেত্রী জানান, এই ছবির কিছু দৃশ্য এমন, দেখে মনে হবে পরিচালক নিশ্চয়ই কোনও নারী।

অভিনেত্রী বলেন, “ভেবেছিলাম ছবির পরিচালক কোনও নারীই এমন দৃশ্য রাখতে পারেন। কিন্তু পরে দেখলাম, এ তো পুরুষ! উনি খুবই নারীবাদী পুরুষ। এর মানে এই নয় যে উনি পুরুষবিরোধী।”

ফাতিমা বলেছেন, “পুরুষদের যদি প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কি নারীবাদী?’ ওরা রেগে গিয়ে জবাব দেয়, ‘না না, আমি নারীবাদী নই। ’ যেন নারীবাদী কথাটা খুব খারাপ। আসলে এরা নারীবাদী কথার অর্থই জানে না। ভাবে নারীবাদী হওয়া খুব খারাপ।”

নারীরা নাকি নারীদের শত্রু হয়। নারীরা ঘ্যানঘ্যানে হয়। এই সব ধারণা পুরুষতন্ত্র তৈরি করেছে বলে মনে করেন ফাতিমা। কিন্তু ‘ধাক ধাক’ ছবির পরিচালককে দেখে অন্য ভাবনা তৈরি হয়েছে ফাতিমার।

সম্প্রতি বিজয় বর্মার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছে ফাতিমার। তামন্না ভাটিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে নাকি ফাতিমার সঙ্গেই সম্পর্কে বিজয়।

ফাতিমা ও বিজয় ‘গুস্তাখ ইশ্‌ক’ ছবিতে জুটি বাঁধছেন। অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিজয় সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমার সত্যিই ওর সঙ্গে কাজ করতে ভাল লাগে। ও খুবই খাঁটি মানুষ এবং ভাল অভিনেত্রী। পাশাপাশি ও কিন্তু খুবই রসিক। সব সময় আনন্দ করতে ভালবাসে। তবে কাজে কোনও ফাঁকি নেই ওর। প্রত্যেকটি দৃশ্যে নিজের ১০০ শতাংশ দেয়।”




ডিড প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: প্রতিমন্ত্রী পলক জেলে, আর পিডি বালিগুর রহমান উচ্চপদে বহাল!

এসএম বদরুল আলমঃ আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত “ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড)” প্রকল্পে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) সদস্য (যুগ্ম সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে, একই প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে।

বালিগুর রহমান ১৫তম বিসিএস তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৯৫ সালে। বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও স্টেশনের স্টেশন প্রকৌশলী, মনিটরিং পরিদপ্তরে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে—তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের তদবিরে তিনি ২০১৮ সালে ২৫ শতাংশ কোটা থেকে উপসচিব পদে উন্নীত হন। বালিগুর ও পলকের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে; অভিযোগ রয়েছে এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই তিনি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বারবার পদায়িত হন এবং নিয়মকানুন অমান্য করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেন।

উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বেশিরভাগ সময় আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পেয়েছেন। বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪–এর পর বগুড়ার পরিচিত মহলের তদবিরে তিনি আরও একটি পদোন্নতি অর্জন করেন। অথচ একই সময়ে তার প্রত্যক্ষ বস ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকলেও বালিগুর রহমান দিব্যি যুগ্ম সচিব হিসেবে চাকরি করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন—যেখানে তাকে অনেকেই ‘সুপার পাওয়ার’ কর্মকর্তা হিসেবে দেখছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা অনেক বড়। আইসিটি মন্ত্রণালয় ও “ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড)” প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির বহু অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিড প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল, আর প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে সেই অর্থের টেন্ডার, বাজেট ব্যবহার এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অনেকেই বলেন, প্রতিমন্ত্রী পলক ও তার স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় বালিগুর রহমান কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করতেন না। সুযোগ পেলেই নিয়মকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া এবং দেশে–বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্তে জানা গেছে, পলক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন বালিগুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে—তিনি বিভিন্ন আইসিটি প্রকল্প থেকে নিয়মিতই ৫% কমিশন আদায় করতেন, যা পরিচালিত হতো তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বালিগুর নিজেই, এবং ডিড প্রকল্পেও সেই সিন্ডিকেটের প্রভাব ছিল ব্যাপক। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন বালিগুর রহমান ও তার সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে “৫% কমিশন” নিতেন। বিদেশে টাকা পাচার ও ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও রয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সব মিথ্যা।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বালিগুর রহমানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড় জমলেও, পলকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পেত না। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে বর্ণনা করেছেন একজন সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার দোসর হিসেবে।

ডিড প্রকল্পে বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ—টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, বাজেটের অর্থ স্থানান্তর, প্রকল্পের অর্থ ব্যয় না করেও বিল উত্তোলন, এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া।

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়—৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত সংস্করণে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। একইভাবে ১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকার ১২ জেলায় আইটি ও হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত সংস্করণেও আর্থিক অস্বচ্ছতা পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও ৫৩৩ কোটি টাকার শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প, ৪৩১ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি–২-এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন, এবং ৩৫৩ কোটি টাকার ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয়ের অসংগতি পাওয়া গেছে।

তালিকায় আরও রয়েছে ৭৪ কোটি টাকার বাংলাদেশ–ভারত ডিজিটাল সেবা ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ (বিডিসেট) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প। পাশাপাশি ১ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকার শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এবং ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ১৪টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের প্রকল্পেও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যেই সমস্ত প্রকল্পের ফাইল জব্দ করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকলেও, একই প্রকল্পের আরেক কেন্দ্রীয় ব্যক্তি—ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড) প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান—এখনও উচ্চপদে বহাল। বরং তিনি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং পরবর্তীতে আরও আকর্ষণীয় পদ—বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সদস্য—হিসেবে নিয়োগ পান।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরে যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অনেক কেনাকাটা ই-জিপির মাধ্যমে না করে ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করেন, যাতে নিজের সিন্ডিকেটের ঠিকাদাররা সুবিধা পায় এবং তিনি বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োজিত প্রকল্প পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সহায়তায় ঠিকাদারদের ওপর তদন্ত কমিটি, মন্ত্রণালয় অথবা দুদকের নাম দেখিয়ে ভয় দেখাতেন—এভাবেই হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা।

অভিযোগ আরও রয়েছে, পিডি আবুল বাশার এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিবের সাথে বালিগুর রহমান মিলেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে অডিট ও এজি অফিসের নামে ৪% করে টাকা তুলতেন। কিন্তু ঠিকাদাররা যখন সরাসরি এসব দপ্তরে যোগাযোগ করেন, তারা জানতে পারেন—সেসব অফিসে এমন কোনো অর্থ যায়নি। অর্থাৎ এই তিনজনের সিন্ডিকেটই পুরো টাকাটা ভাগ করে নিত। এমনকি শতভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও ঠিকাদারদের নিরাপত্তা টাকা (পিজি) বা এজি অফিসের কর্তনকৃত ১০% ফেরত পেতে চাইলে, ওই অর্থের অর্ধেক দাবি করা হতো। বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আটকে রেখে ঘুষ আদায় ছিল সিন্ডিকেটের নিয়মকৃত পদ্ধতি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে—যেসব ঠিকাদার সিন্ডিকেটের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারতেন, তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করে হয়রানি করা হতো। প্রকল্পে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরও পদায়ন ও স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভয়ানক চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বলা হয়, পিডি আবুল বাশার ও সহকারী পরিচালক শাহাদাত জনপ্রতি প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত দাবি করতেন। টাকা না দিতে পারলে মাত্র তিন ঘণ্টার নোটিশে তাদের প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হতো। একইভাবে বালিগুর রহমান ও শাহাদাত মিলে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পোস্টিংয়ের বদলে বারবার মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন।

এত অভিযোগের পরও বালিগুর রহমানকে নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাকে আরও উচ্চপদে, বিসিএসআইআরে সদস্য হিসেবে পদায়ন করা প্রশাসনে ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক যখন দুর্নীতির দায়ে কারাগারে, তখন একই প্রকল্পের মূল ব্যক্তি বালিগুর রহমান কীভাবে এখনো অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো জবাবদিহিতা ছাড়া ক্ষমতাধর অবস্থানে থাকতে পারেন?

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়, ঢাকায় আমার এক ছটাক জমিও নেই।” তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—ঢাকার অভিজাত এলাকায় তার ৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, রাজশাহী ও বগুড়ায়ও তার নামে-বেনামে জমি ও সম্পত্তি আছে। অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিদেশেও তিনি অর্থ পাচার করেছেন।

অনুসন্ধানকারীরা বলছেন—বালিগুর রহমান যে প্রকল্পগুলোতে ২০১৮ সাল থেকে যুক্ত ছিলেন, সেসব ফাইল দুদক গভীরভাবে পরীক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তৃত প্রমাণ পাওয়া যাবে—এটা নিশ্চিত।




সুফিবাদের দর্শন কীভাবে গড়েছে এ. আর. রহমানের জীবন ও সংগীত

বিনোদন ডেস্কঃ ভারতের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী ও সুরকার এ আর রহমানের জন্ম হিন্দু বাড়িতে। বাবা-মা নাম রেখেছিলেন দিলীপ কুমার। নামটা বিশেষ পছন্দ ছিল না তার। এক হিন্দু জ্যোতিষীর পরমার্শেই নাকি নিজের নাম রাখেন রহমান। মুসলিম নাম গ্রহণ করলেও তিনি বিশ্বাসী সুফিবাদে। বাকি ধর্ম সম্পর্কে কী ধারণা অস্কারজয়ী সুরকারের?

তখন তার বয়স মাত্র ২৩। এ আর রহমানের বাবা দীর্ঘ দিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার শেষের দিনগুলিতে সাহায্য করেছিলেন একজন সুফি রোগনিরাময়কারী। এ আর রহমানের জীবনে তার বিরাট প্রভাব ছিল। ওই ব্যক্তির পরামর্শ মেনে চলতেন শিল্পী। সেখান থেকেই ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন রহমান। এক হিন্দু জ্যোতিষীর পরামর্শে শিল্পী বেছে নেন ‘আবদুল রহমান’ নামটি। পরে নামের সঙ্গে ‘আল্লাহ্‌ রাখা’ যোগ করেন তার মা।

যদিও রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘হিন্দু, ইসলাম ও খ্রিস্টান— সব ধর্ম নিয়েই পড়েছি। প্রতিটা ধর্মকেই ভালবাসি। তবে ধর্মের নামে মানুষ মারায় আপত্তি আছে। তবে সুফিবাদ যেন মৃত্যুর আগেই পুর্নজন্মের কথা বলে। নিজের অন্তরাত্মার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যায়। এখানে মানুষের মনের ক্ষোভ, হিংসা, রাগ সব শেষ হয়ে যায়। মানুষ ঈশ্বরের মতো শুদ্ধ হয়ে যায় তখন।’’

রহমান একা নন, তার মা-ও সুফিবাদের রাস্তায় হেঁটে যেন শান্তি পেয়েছেন।




মিস ইউনিভার্স ফাতিমা বশ কী কী পাচ্ছেন

বিনোদন ডেস্কঃ জাঁকজমক আয়োজন আর বিশ্বসুন্দরীদের জমকালো প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো মিস ইউনিভার্সের ৭৪তম আসর। সারা বিশ্বের ১২০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এবারের মুকুট জিতে নিয়েছেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ। শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের গ্র্যান্ড ফিনালেতে তার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস আর করতালি।

মাত্র ২৫ বছর বয়সেই সর্বোচ্চ সৌন্দর্য খেতাব নিজের করে নিলেন ফাতিমা। গত বছরের বিজয়ী ভিক্টোরিয়া কিয়ের থিলভিগ নিজ হাতে মুকুট পরিয়ে দেন তাকে।

কে এই ফাতিমা বশ

মেক্সিকোর তাবাস্কো অঙ্গরাজ্যের সান্তিয়াগো দে তেয়াপায় জন্ম তার। ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশন আর ডিজাইনের প্রতি আগ্রহী ফাতিমা ফ্যাশন ডিজাইন নিয়েই উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘মিস ইউনিভার্স মেক্সিকো’ জিতে আলোচনায় আসেন তিনি। দ্রুতই বাড়তে থাকে তার জনপ্রিয়তা—ইনস্টাগ্রামে এখন তার অনুসারী ৯ লাখ ৯০ হাজারের বেশি, টিকটকেও রয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজারের ওপর ফ্যান।

কী কী পাচ্ছেন ফাতিমা 

বিশ্বসুন্দরীর এই শিরোপা জিতে এক নতুন যাত্রা শুরু করলেন ফাতিমা।  যদিও এবারের প্রাইজমানি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, কিন্তু প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মিস ইউনিভার্স বিজয়ী পান ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ কোটি।

এ ছাড়া ফাতিমা আরও পাচ্ছেন—প্রতি মাসে ৫০ হাজার ডলার ভাতা (প্রায় ৬০ লাখ টাকা) যা ভ্রমণ ও কাজের ব্যয় হিসেবে ব্যবহার করবেন। মূল্যবান ৫০ লাখ ডলারের মুকুট যার মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬১ কোটি। নিউইয়র্ক সিটিতে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট যেখানে মিস ইউনিভার্স হিসেবে থাকবেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ, বিশ্বভ্রমণ ও একাধিক গ্লোবাল ইভেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ।




ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদী তীর রক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম: নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে ক্ষোভ

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এই বড় প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ১৩ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় চলমান কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বালু, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ। মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ত্রুটি পাওয়ায় ইতোমধ্যে প্রকল্প থেকে এসও তানভীর শাহরিয়ারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষায় নেওয়া এই প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। মোট ১৩.২১৫ কিলোমিটারের এই কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, আর শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। পুরো প্রকল্পে ৩৪টি প্যাকেজ থাকলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি অর্ধেকের বেশি—মাত্র ১৭টি প্যাকেজে কাজ চলছে।

ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট পংকজ কুমার সরকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী ১.৫০ এফএম মানের বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমভিবি ও এমটিআই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) মাত্র ১.৩৭ এওএম মানের বালু ব্যবহার করছিল। মান ঠিক না থাকায় টাস্কফোর্স সেই বালু বাতিল করে দেয়। এমনকি একমাস কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি আরও ধীর হয়ে গেছে।

ভাঙনপ্রবণ চর ভাটারাকান্দা এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, যেখানে নদীর পানি বেশি গভীর, সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। আবার যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর বালুর পরিমাণও কম। এর আগেও টাস্কফোর্স ৪০০টি জিও ব্যাগ বাতিল করেছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, লোকবল সংকটের কারণে সব কাজ নিয়মিত মনিটর করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় তদারকি দুর্বল থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, এই অনিয়ম নিয়ে তিনি আগে জানতেন না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

৬৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকায় সাধারণ মানুষ মনে করছে, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য বিফল হতে পারে।