শুটিং সেটে আঘাত পেলেন শ্রদ্ধা, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রার্থনার ঢল

বিনোদন ডেস্কঃ সময়টা ভালো যাচ্ছে না শ্রদ্ধা কাপুরের। তার ভাই সিদ্ধান্ত কাপুরের বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ে ২৫২ কোটি টাকার মামলা হয়েছে। এ বার বিপাকে পড়লেন তিনি। শনিবার (২২ নভেম্বর) শুটিং সেটে আহত হয়েছেন অভিনেত্রী।

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান টাইমস’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের মহারাষ্ট্রের বরেণ্য তামাশা শিল্পী বীথাবাঈ ভাউ মাং নারায়ণগাঁওকারের জীবনভিত্তিক সিনেমা ‘এথা’র শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন শ্রদ্ধা কাপুর। চরিত্রের প্রস্তুতিতে মাসখানেক কঠোর অনুশীলনও করেছিলেন তিনি।

গত সপ্তাহে পরিচালক লক্ষ্মণ উতরেকর ‘এথা’র শুটিং শুরু করেন। কয়েক দিন সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও এক নাচের দৃশ্যেই বিপত্তি ঘটে। বীথাবাঈয়ের বিখ্যাত লোকনৃত্য ‘লাবণী’র স্টেপ অনুশীলন করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান শ্রদ্ধা। এতে তার বাঁ পায়ের আঙুল ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হয় শুটিং।

শুটিংয়ে লাবণী নৃত্যের সাজপোশাকে প্রস্তুত ছিলেন শ্রদ্ধা। লাবণী এমনিতেই দ্রুত লয়ের নাচ। সেই সঙ্গে ভারী শাড়ি, প্রচুর পরিমাণে গয়না ছিল গায়ে। সঙ্গে ছিলে ভারী কোমরবন্ধনী। সব মিলিয়ে ওজন প্রায় ১৫ কেজি। নাচতে নাচতে কোমরবন্ধনী খুলে পড়ে যায় এবং তাতেই শ্রদ্ধার পায়ে চোট লাগে।

এই ঘটনার পর তড়িঘড়ি মুম্বােই ফিরে আসেন অভিনেত্রী। যদিও প্রযোজকের টাকা ‘নষ্ট’ করতে নারাজ তিনি। তাই মুম্বাই ফিরেই যত ‘ক্লোজ শট’ রয়েছে সেটার শুটিং চালিয়ে যাচ্ছেন।




মাহফুজ আলম ও এনসিপি নেতাদের দুর্নীতির প্রমাণ ফাঁস করব : মুনতাসির

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং এনসিপি নেতাদের দুর্নীতির প্রমাণ ফাঁস করার হুমকি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে (এনসিপি) স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘একটু চুপ আছি। কষ্ট হচ্ছে, মেনে নিয়েছি। অনেকদিন পর ৫ ঘণ্টা ঘুমালাম। খুব মজা করে পরোটা-ডাল খাইলাম। ধৈর্য ধরে আছি। আমার কোনো ব্যাকআপ নেই, কেউ নাই সাথে। জামাত-শিবিরের পক্ষে পোস্ট দেখে ভাবতে পারেন, সেদিক থেকে সমর্থন পাচ্ছি। আমি নিশ্চিত করছি, জামাত শিবির থেকেও আমি কোনো সাপোর্ট পাচ্ছি না। জামাত সাপোর্ট দিলে রেড ক্রিসেন্টে আমার এই অবস্থা হতো না, তাদের সাহায্য আমি চেয়েছিলাম।’

দুর্নীতি ফাঁস করবেন জানিয়ে মুনতাসির বলেন, ‘সময় নিয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং এনসিপি নেতাদের দুর্নীতির প্রমাণ ফাঁস করব আমি। যা আমি বলি, তা আমি করি। প্রমাণের অভাব নাই, কিন্ত এগুলা গুছিয়ে আনা লাগে। আমার কোনো টিম নাই, ভিডিও আমি করি, এডিটও আমি করি। লাইভ করি, ইউটিউবে আপলোড করি, সেটার থাম্বনেইলও আমাকে বানাতে হয়। আমার দুর্নীতির টাকা নাই।’ 

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা নাই। একাধিক উপদেষ্টা আমার বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করছেন। সুযোগ পাইলেই আমার ক্ষতি করবে। আমার ফেসবুক সর্বোচ্চ রেস্ট্রিকটেড করে রাখা হয়েছে। যেখানে সেদিন ৭০০০ লোক একসঙ্গে লাইভ দেখেছে, সেখানে এখন ৫০ জনও একসঙ্গে লাইভ দেখে না। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার। আমি হতাশ নই তবে বেশ কষ্টে আছি। মেনে নিয়েছি, আমি জানি, আমি জিতবো, এটা আল্লাহর ওয়াদা।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই কেন্দ্রীয় সংগঠক বলেন, ‘যারা আমাকে এই সংক্রান্ত কাজগুলোতে সহযোগিতা করতে পারবেন, তারা যোগাযোগ কইরেন। দয়া করে কেউ হাই হ্যালো কইরেন না, যথাযথ কারণসহ মেসেজ দিয়েন। আমি এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য ভালো একটা মাইক্রোফোন কিনতে চাই, অভিজ্ঞরা সাজেস্ট কইরেন। যারা নির্বাচনী ব্যানার ফেস্টুনের কাজে সহযোগিতা করতে চান, কইরেন। টাকার অভাবে কাজটা শেষ করতে পারছি না!  সর্বোপরি, আমার জন্য দোয়া কইরেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সততা এবং দুর্নীতি ছাড়াও রাজনীতি হয়, সেটা আমি দেখিয়ে দেব। এত এত ঘৃণার ভিড়েও কিছু মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, আমি জানি। আমিও তাদের ভালোবাসি, ভালোবাসি বাংলাদেশ।’ 

 




রমজান সামনে রেখে ছয় নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, মটর ডাল ও খেজুরের চাহিদা রমজানে বেশি থাকে। এজন্য বেশি পরিমাণে আমদানি করতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে খঋণপত্র (এলসি) খোলা অনেকটাই বেড়েছে।

আমদানির তথ্য বলছে, এ সময় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সয়াবিন তেল আমদানি ৩৬ শতাংশ, চিনি ১১ শতাংশ, মসুর ডাল ৮৭ শতাংশ, ছোলা ২৭ শতাংশ, মটর ডাল ২৯৪ শতাংশ ও খেজুরের আমদানি ২৩১ শতাংশ বেড়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান মাস শুরু হতে পারে।

রমজানে তেল ও চিনির চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। তাই শীর্ষ গ্রুপগুলো সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এ দুই মাসেই তেল ও চিনির এলসি খোলাও বাড়িয়েছে। তাছাড়া আগে থেকেই রমজানের প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য প্রচুর পরিমাণে ত্রয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধারা নভেম্বর-ডিসেম্বরেও থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বেশির ভাগ পণ্য আগে আনা হলেও অবশিষ্ট যা বাকি রয়েছে, তা রোজা শুরু হওয়ার এক মাস আগপর্যন্ত আসতে থাকবে। তবে সেপ্টেম্বরেই রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলা হয়েছে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মোট ৬.২৯ বিলিয়ন ডলার ও অক্টোবরে ৫.৬৪ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। এ বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৫ টন সয়াবিন তেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ টন।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৭২ টনের চিনি আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৬ টন। অন্যান্য নিত্যপণ্যের আমদানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। চলতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৫০ হাজার ৩৫৫ টনের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৬,৯১২ টন। ছোলার এলসি ৪২ হাজার ৮৯১ টন থেকে বেড়ে ৫৪ হাজার ৫১৬ টনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর এ দুই মাসে ১০ হাজার ১৬৫ টন খেজুরের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৬৩ টন। চলতি বছর ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১০ টন মটর আমদানির এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪১ হাজার ৮১৫ টন।

আমদানিকারকরা বলেন, ব্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট না থাকায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে এক ধরনের ডলার সংকট দেখা দেয়। ফলে আমদানি সীমিত হয়ে গিয়েছিল। তবে সেই সমস্যা এখন সমাধান হয়েছে। তাছাড়া এলসি খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিন রাখারও বাধ্যবাধকতা নেই। রমজানে ভোগ্য পণ্য আমদানি নির্বিঘ্ন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এলসি মার্জিনে ছাড় দিয়ে থাকে।




এত আলেম, মসজিদ-মাদ্রাসা থাকতে দেশে অন্যায়-দুর্নীতি কেন: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে অগণিত মুসলমান, মাদ্রাসা, মসজিদ, ইমাম-উলামা থাকা সত্ত্বেও কেন এত অন্যায়, দুর্নীতি, চুরি ও অর্থপাচার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘একটা মসজিদ তৈরি করতে মানুষ যে আগ্রহ দেখায়, সেই আগ্রহ ভালো মানুষ তৈরিতে কোথায় হারিয়ে যায়, বুঝি না।’ 

শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষার কেয়ারটেকারদের আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ধর্ম ও নৈতিকতা সমাজে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে দেশে আরও গভীর আলোচনা ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে বলেন, ‘সেখানে সরকার যেই হোক—কমিউনিস্ট বা ইসলামী—গণতান্ত্রিক অ্যাসোসিয়েশন অব উলামা নামের শক্তিশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই।

বিএনপিকে ‘উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র না থাকলে কোনো শ্রেণি বা ধর্মের অধিকারই প্রতিষ্ঠিত হয় না। তার অভিযোগ, গত ১৫–১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে মানুষের ভোটাধিকার থেকে শুরু করে ধর্ম পালনের অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

সমালোচনার সুরে তিনি আরও বলেন, কিছু আলেম–ওলামা শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দিয়েছেন—যা বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়। তার দাবি, আওয়ামী লীগের দলীয়করণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইসলামী ফাউন্ডেশনকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে এবং রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই অসংখ্য অপকর্মের খবর চোখে পড়ে। কিন্তু নৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে দেশে হত্যা, রাহাজানি ও অপরাধ অনেকটাই কমে আসত। নৈতিকতার উৎস মাদ্রাসা, স্কুল, শিক্ষক ও পরিবার—এসব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।

তিনি সভায় আহ্বান জানান, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। তার মতে, এমন নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট গঠন সম্ভব হবে, যেখানে জাতীয় সমস্যাগুলো উত্থাপন ও সমাধান করা যাবে এবং তা-ই হবে জনগণের প্রকৃত সিদ্ধান্ত।




আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা–৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইশরাক অভিযোগ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা গুপ্ত সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।’

নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভেদ আমাদের দুর্বল করবে। জুলাই আন্দোলনের সব দল একত্রিত না থাকতে পারলে বহিঃশত্রু আমাদের করদ রাষ্ট্রে পরিণত করবে।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘দেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া যাবে না। দেশের জন্য সব বিভেদ ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’




স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে শনিবার (২২ নভেম্বর) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। 

পরে তিনি দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর এবং একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

শনিবার (২২ নভেম্বর) ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ড্রুকএয়ারের বিমানটি সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।




ঢাকায় এসেই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে আজ রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন। বিমানবন্দরে নামার পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন তিনি। এ সময় গতকাল শুক্রবারের ভূমিকম্পে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিষয়ে জানতে চান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টায় ড্রুকএয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় লাল গালিচায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস তাকে স্বাগত জানান।

এরপর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়।

বৈঠকে তোবগে ভূমিকম্পে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিষয়ে জানতে চান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। বৈঠক শেষে তোবগেকে ১৯ বন্দুক স্যালুট এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রওনা হন। তিনি স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন এবং স্মারক বইতে স্বাক্ষর করবেন।

জানা গেছে, দুপুরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ভুটানের এই নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্ত বৈঠক হবে। সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সরকারি নৈশভোজেও যোগ দেবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।

গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব মো. আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকের পর দুদেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পর্যটন, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, শিল্পসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হবে।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, দুদেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ কর্তৃক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভুটানকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি, পর্যটন ও ক্রীড়া বিষয়ক কয়েকটি সহযোগিতার প্রস্তাব দিতে পারে এবং ভুটানে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পানি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পেশাদারদের নিয়োগে ভুটান সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়েও আলোচনা হবে বলে আশা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, বৈঠক শেষে ভুটানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, ভুটানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং কৃষি সহযোগিতা বিষয়ক তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরদিন ২৩ নভেম্বরে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে।




বুড়িচং পিআরও জোবায়ের হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বুড়িচং উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআরও) জোবায়ের হাসানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি—২০২৪–২৫ অর্থবছর ও চলতি বাজেটের বেশ কিছু প্রকল্পে তিনি তথ্য গোপন করেছেন এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন জানান—নানা প্রকল্পের তালিকা এবং ব্যয়ের হিসাব চেয়ে আবেদন করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোনো তথ্য দেননি। বরং তিনি তাঁর পরিচিত একজন গণমাধ্যম কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সরকারি তথ্যের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি যখন তথ্যই দেন না, তখন সেটা কি তথ্য অধিকার আইন ২০০৯–এর লঙ্ঘন নয়?

উপজেলার কয়েকজন ঠিকাদারসহ কিছু জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন—প্রকল্প অনুমোদন, বিল–ভাউচার ছাড়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে শত শত কমিশন নেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি, তবে স্থানীয়রা মনে করছেন—যদি সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়, তাহলে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে।

সচেতন নাগরিকদের মতে—সরকার মানুষের কল্যাণে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য যে বাজেট দেয়, তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত না হলে উন্নয়ন থেমে যায়। তাই একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ ওঠা সত্যিই হতাশার।

এদিকে জোবায়ের হাসানের নামে বেনামে সম্পদ গড়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করছে। তাদের মতে, এসব তথ্য প্রকাশ হলে অভিযোগের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

স্থানীয় জনগণ, ঠিকাদার, সাংবাদিক—সবার একই দাবি: অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত, যাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সৎ, স্বচ্ছ এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক থাকে।




২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের ভূমিকম্পে কাঁপলো গাজীপুর

ডেস্ক নিউজঃ আজ সকাল ১০:৩৬ মিনিটে গাজীপুরের বাইপাইল এলাকায় ৩.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। 

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল দেশের বিভিন্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ঢাকাও রয়েছে।

বিএমডি জানিয়েছে, গতকাল ১০:৩৮ মিনিটে রেকর্ড করা সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, যা ঢাকার আগারগাঁও সিসমিক সেন্টারের প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এর কোঅর্ডিনেট ছিল উত্তর অক্ষাংশ ২৩.৭৭° এবং পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ৯০.৫১°।




ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেছে এক কোটিরও বেশি মানুষ

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলাজুড়ে গতকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত তীব্র ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নরসিংদীর মাধবদী উপজেলাকে কেন্দ্র করে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এ কম্পনে আহত হয়েছেন আরও ছয় শতাধিক মানুষ। সবচেয়ে বেশি পাঁচজন মারা গেছেন নরসিংদীতে, ঢাকায় চারজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে, ঢাকা থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস অবশ্য মাত্রা ৫.৫ বলে উল্লেখ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার এত কাছে এর আগে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়নি, তাই কম্পনের তীব্রতাও ছিল নজিরবিহীন।

দেয়াল ধস, ভবনে ফাটল ও আতঙ্ক
ভূমিকম্পের ফলে ঢাকা ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ও ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। বহু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও কোথাও জমি দেবে গেছে। ভয় পেয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে।

রাজধানীর নিকেতন এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, ‘সেলুনে বসে ছিলাম। চেয়ার এত কাঁপছিল, মনে হচ্ছিল পড়ে যাব। দৌড় দিয়ে বাইরে আসি। এই শহরে কোথাও নিরাপদ মনে হয় না।’

৭ কোটি মানুষের কম্পন অনুভব
ইউএসজিএসের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৭ কোটির বেশি মানুষ মৃদু কম্পন এবং আরও প্রায় পৌনে ৭ কোটি মানুষ হালকা কম্পন অনুভব করেছেন। ঢাকায় শক্তিশালী কম্পন টের পেয়েছেন এক কোটির বেশি মানুষ। নরসিংদীতে উচ্চ তীব্রতায় কম্পন অনুভব করেছেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ।

সংস্থাটি ভূমিকম্পটিকে প্রাণহানির ঝুঁকিতে ‘কমলা’ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকিতে ‘হলুদ’ শ্রেণিতে রেখেছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বুয়েটের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ‘ঢাকার এত কাছে এর আগে বড় কম্পন হয়নি। ১৫০ বছর পরপর বড় ভূমিকম্প ফিরে আসে। তাই সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি জানান, ২০২৩ সালে রামগঞ্জে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, কিন্তু সেটি ছিল ঢাকার প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। এবার উৎপত্তিস্থল ছিল মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে, ফলে কম্পন ছিল অনেক বেশি তীব্র।

ঢাকার ভবনঝুঁকি বেশি নিম্নাঞ্চলে
২০২৪ সালে রাজউকের ‘আরবান রেজিলিয়েন্স’ গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকায় ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৮ লাখ ৬৪ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। এমন ঘটনায় ২ লাখ ২০ হাজার এবং রাতে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, ঢাকার নিম্নাঞ্চল- যেমন হাজারীবাগ, শ্যামলী, ঢাকা উদ্যান, বছিলা, পূর্বাচল, উত্তরাসহ বালু নদ ও প্রগতি সরণি এলাকা; উঁচু এলাকার তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। নব্বইয়ের দশকের পর এসব নিম্নভূমি ভরাট করে গড়ে ওঠা আবাসিক-বাণিজ্যিক এলাকা বড় ভূমিকম্পে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।